#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট_____________১৪
।
।
।
।
কুহু দরজার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল,উনি কি চলে গেছে কিন্তু উনি আমার সাথে হঠাৎ এমন করলেন কেন কি করেছি আমি। কুহু উঠে শাড়ি চেঞ্জ করে নিল,ফ্রেশ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো, কিন্তু দু চোখে তার ঘুমের ছিটেফোঁটা ও নেই এপাশ তো ওপাশ হচ্ছে শুধু।
অন্যদিকে বেচারা বিভোরও অপরাধ বোধের জন্য ঘুমাতে পারছে না, বিভোর নিজের কান্ডে নিজেই অবাক এতটা কেন রেগে গেল বিভোর, কুহুর সাথে যা করেছে একদম ঠিক করে নিই।
দূর মসজিদে ফজরের আযানের ধ্বনি ভেসে আসছে, বিভোরের চোখ খুললো,উঠতে ইচ্ছে করছে না ঘুম থেকে তাও নিজের অলসতাকে দূরে সরিয়ে উঠে ফ্রেশ হয় ওজু করে নিলো,তারপর মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।নামাজ শেষ করে পায়ে হেটে বাড়ি ফিরলো এখনো ভোরের আলো তেমন ফুটে নিই, বিভোর কিচেনে গিয়ে নিজের জন্য কফি বানিয়ে উপরে নিজের রুমে চলে গেল, কফি নিয়ে বারান্দায় বসলো, আস্তে আস্তে মেঘের আড়াল থেকে সূর্য বেড়িয়ে এসে নিজের আলো ছড়িয়ে দিতে লাগল সম্পূর্ণ আকাশে।সকালের সতেজ হাওয়া মন ফুরফুরে করে তোলার জন্য যথেষ্ট।
ব্যালকুনিতে বিভোর এক মনে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগল, বিভোর বাগানের দিকে তাকিয়ে আছে নানান দেশ বিদেশি ফুল গুলো ফুটে আছে, হঠাৎ বিভোরের চোখ স্থির হয়ে গেল, এক অদ্ভুত ভালো লাগা শুরু হলো বিভোরের, বিভোরের চোখ কুহুর দিকে, মেয়েটা মনে হয় প্রকৃতির মাঝে মিশে গেছে, মৃদু বাতাস ছুড়ে যাচ্ছে কুহুকে আর কুহুর চুল গুলো বাতাসের তালের সাথে নেচে চলেছে।কুহু আনমনে হেটে চলেছে।
কুহু বিভোরের কথা ভাবছে আর হাটছে, এমন ভোরে কুহুর হাটতে খুব ভালো লাগছে সাথে বিভোর থাকলে হয় তো কুহুর আরও ভালো লাগতো,হঠাৎ কুহুর চোখের সামনে একটা নীল প্রজাপ্রতি উড়ে চললো, প্রজাপ্রতি টাকে দেখে কুহুর ঠোটে হাসি ফুটলো, কুহু হাত বাড়িয়ে প্রজাপ্রতিটাকে ধরতে ইচ্ছে করছে, কুহু প্রজাপ্রতিটার পিছন পিছন ছুটতে লগাল,প্রজাপতি টা হঠাৎ একটা ফুলে বসলো আর কুহু খুব কাছে গিয়ে দেখতে লাগল প্রজাপতি টা।
দু তলায় বসে বিভোর এক দৃষ্টিতে এই দৃশ্য উপভোগ করছে, বিভোর উঠে নিচে গেল, কুহু পিছনে ঘুরে দেখে বিভোর দাড়িয়ে আছে, বিভোরকে দেখে কুহু উল্টো ঘুরে চলে যেতে লাগল,তখনি বিভোর বলল,কুহু দাড়াও।কুহু থেমে বিভোরের দিকে ঘুরলো, বিভোর ধির পায়ে কুহুর সামনে এসে অপরাধী কন্ঠে বলল,কথা ছিল।কুহু বলল,হুম।বিভোর বলল,কাল রাতের জন্য সরি তুমি তো জানো রাগলে আমি নিজেকে কন্ট্রোল এতে রাখতে পারি না, আই এম রিয়েলি সরি। কুহু কিছু বলল না চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলো, বিভোর এবার আবার বলল,সরি বললাম তো তাও রেগে আছো ওকে এই যে কানে ধরলাম সরি।কুহু বলল,থাক আর কান ধরতে হবে না।
বিভোর এক গাল হেসে বলল,তোমার রাগ ভেঙ্গেছে।কুহু বলল,হুম।বিভোর বলল,এভাবে গম্ভীর ভাব নিয়ে বলছো কেন তোমাকে সিরিয়াস মুডে ভালো লাগে না হেসে বল।বিভোরের কথা শুনে এবার কুহু হেসে উঠলো। কুহুর হাসি দেখে বিভোর বলল,এই তো এই কুহুটাকে আমার খুব ভালো লাগে।
বিভোরের কথা শুনে কুহু অবাক হয়ে বিভোর এর দিকে তাকালো। বিভোর বলল,প্রজাপ্রতি ধরতে ইচ্ছে করছে। কুহু বলল,হুম।বিভোর বলল ওয়েট।বিভোর কুহুর কাছে এসে কুহুর হাতটা নিজের হাতে নিলো।কুহু অবাক হয়ে তাকালো বিভোরের দিকে।কুহু বলল,কি করছেন।
বিভোর বলল,চুপ দেখ।বিভোর কুহুর হাত নিজের হাতে নিয়ে উচু করলো হঠাৎ নীল প্রজাপ্রতিটা এসে কুহুর হাতে বসলো, খুশিতে কুহুর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, ঠোটে এক রাজ্য হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রজাপতির দিকে,আর বিভোর মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে আনন্দে উজ্জ্বল হওয়া কুহুর মুখের দিকে।
সবাই অধির আগ্রহের সাথে বিভার মুখে কবুল শোনার জন্য তাকিয়ে আছে,সব অপেক্ষার ইতি টেনে, বিভা কবুল বলে উঠল, আর চারপাশে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠল, কুহু রুমের বাহির থেকে কুহু শুনে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো, হঠাৎ বিভোর সামনে আসলো কুহু খুশিতে তাকিয়ে বলল কবুল, বিভোর আনমনে মুচকি হেসে বলল কবুল।কুহু অবাক হয়ে বলল,কবুল মানে।বিভোরের খেয়াল হতেই বিভোর নিজেই চমকে উঠলো নিজের কথায় তারপর নিজেকে সাভাবিক করে বলল,না তুমি বললে না কবুল আমার কথার মানে ছিল কবুল বললে কেন।কুহু হেসে বলল, কবুল মানে ছিল বিভা আপু কবুল বলে দিয়েছে।বিভোর বলল,ওহ।
রাতের আকাশে এক টুকরো চাদ তার আলো দিয়ে আধার কাটিয়ে দিচ্ছে, আকাশে তারার আসর জমেছে, বাতাসে নিরবতা কাজ করছে, জানালার কাছে দাড়িয়ে রাএি টা উপভোগ করছে কুহু,কুহুর ভাবনায় শুধু বিভোর বিরাজ করে, তা কেন? কুহু কি দূর্বল হয়ে পড়ছে বিভোরের প্রতি, হওয়াটা কি সাভাবিক না, প্রথম কারও এতটা কাছে থাকা,সব কিছু শেয়ার করা, মন খুলে কথা বলা, কারও কাছ থেকে এতটা কেয়ার পাওয়া, যা ধিরে ধিরে কুহুর মনে
ভালো লাগা জন্ম দিচ্ছে কিন্তু এইসব অনুভূতির কোন মূল্য নেই, সময় ফুরিয়ে তো আসছেই খুব দ্রুতই তো ডিভোর্স হয়ে যাবে তখন, বিভোরের থেকে আলাদা হওয়ার কথা ভাবতেই কুহুর মনের ভিতর থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে।
কুহু অফিসে ঢুকে লিফটে উঠলো,হঠাৎ দুই তলায় লিফট থামলো আর কয়েক জন উঠলো, লিফট আবার চলতে লাগল,এবার চার তলায় থামলো, কয়েক জন চলে গেল,এখন লিফটে কুহু আর তিনটা ছেলে আছে, ছেলে গুলো ঘুরে ঘুরে কুহুকে দেখছে ওর খুব অসস্তি হচ্ছে, হঠাৎ সাইদ নামের একটা ছেলে বলে উঠল, হ্যালো মিস। কুহু নিজেকে সাভাবিক রেখে বলল,হ্যালো।সাইদ বলে উঠল,কয়েক দিন আসেন নাই কেন। কুহু বলল,ছুটিতে ছিলাম।
শাকিব নামের আরেকটা ছেলে বলে উঠল, আমাদের সাথেও মাঝে মাঝে ছুটি কাটান ভালো লাগবে।বলেই হাসতে লাগল।কুহুর ইচ্ছে করছে লিফট ভেঙ্গে বেড়িয়ে যেতে। রাহিম নামের আরেকটা ছেলে বলে উঠল, আপনি তো দাওয়াত দেবেন না আমি দাওয়াত দিলাম আমার বাড়ীতে যাবেন কিন্তু আপপায়নে কোনো কমতি রাখবো না হাহাহা।লিফট থামতেই কুহু তাড়াতাড়ি নেমে পড়লো,কুহুর ভিশন খারাপ লাগছে আজ প্রথম না এই ছেলে গুলো প্রায় সময় উল্টাপাল্টা কথা বলে কুহুকে একা পেলে।
কুহু তাড়াতাড়ি হাটতে হাটতে একবার পিছনে তাকালো তারপর আবার সামনে তাকাতেই কার সাথে ধাক্কা খেল,তাকিয়ে দেখলো রেহান, রেহান কুহুকে বলল,কুহু কোন দিকে মন এভাবে হাটছো কেন।কুহু বলল,না তেমন কিছু না।তারপর ওদের সামনে দিয়ে সাইদ, রাহিম,শাকিব কুহুর দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে চলে গেল,রেহান ওদের এমন হাসা আর কুহুর বিচলিত হয়ে যাওয়া দেখে বলল,কুহু ওরা তোমাকে কিছু বলে নিই তো আমাকে বল ওদের একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার ওরা শুধু মেয়েদের হেরেস করে।কুহু বলল,এসব বাদ দাও ঝামেলা ভালো লাগে না।রেহান বলল,বাদ দাও মানে ওদের তো আমি।কুহু রেহানের হাত ধরে আটকে বলল,কোথায় যাচ্ছো প্লিজ কিছু বল না সিনক্রিয়েট হবে।রেহান বলল,কিন্তু কুহু…..কুহু বলল,চল তো আর আমাকে একটা কাজে হেল্প কর।রেহান বলল,ওকে।
গোধূলির লগ্নের দৃশ্যটা বরাবর বিভোরের বড্ড প্রিয়,বিভোর বাহিরের আকাশ দেখছে তখনি কুহু ডোরে নক করলো, বিভোর আসতে বলল,কুহু ভিতরে ঢুকে বলল,আমাকে ডেকে ছিলেন।বিভোর বলল,হুম বসো।কুহি চেয়ার টেনে বসলো, বিভোর বলল,তুমি তো জানো আকাশ কিছু দিন আসবে না।কুহু বলল,হ্যা জানি হানিমুনে গেছে কোথায় যেন জায়গাটা হ্যা সেন্টমার্টিন ওখা….বলার আগে বিভোর বলল,থাক তোমাকে কষ্ট করে আর বলতে হবে না আমি জানি তো তোমাকে এটা বলতে ডেকেছি যে যত দিন পযন্ত আকাশ না ফিরছে ততো দিন তোমার কাজ বেশী থাকবে।কুহু বলল,নো প্রবলেম। বিভোর বলল,পারবে তো।কুহু বলল,জ্বি স্যার পারব। বিভোর হেসে উঠলো।
বিভোর অফিস থেকে বাড়ীতে ফিরে কলিং বেল দিতেই কুহু এসে দরজা খুললো, বিভোর ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,কুহু খাবার সাজাও তো খুব খিদে পেয়েছে।বলেই সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গিয়ে অবাক হয়ে আবার নিচে নামলো সোফার দিকে তাকিয়ে চমকে অবাক হয়ে বলল, দাদু তুমি………
চলবে…………….
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙