অনুবদ্ধ প্রণয় পর্ব-২০+২১

0
691

#অনুবদ্ধ প্রণয় 💛
#ইবনাত_আয়াত
পর্ব: ২০ ও ২১ (রহস্য উন্মোচন)

ঘরে প্রবেশ করতেই কেউ একজন ঝাঁ’পিয়ে পড়ল তাহমিদের বুকে। দু’জনই চমকে গেলাম। পরক্ষণেই থমকে গেলাম আমি। অবন্তী!! এখানে? তাও তাহমিদকে জড়িয়ে ধরে আছে? তাহলে কী তাহমিদ জেনে যাবে অবন্তী বেঁচে আছে? তাহলে কী সে অবন্তীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে? আমায় কী ভুলে যাবে? তাহমিদ থ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর ঘটনা টা বুঝতে পেরে দ্রুত ধা’ক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় অবন্তী কে। সে অবন্তী কে দেখেনি। পর’নারী তাকে ধরেছে ভেবেই দূরে সরিয়ে দিলে অবন্তীর অশ্রুমাখা মুখ টা নজরে আসতেই তিনি থমকে গেলেন। অবন্তী ভাঙা গলায় বলল, – ‘তা-তাহমিদ! এটা আমি! তোমার.. তোমার অবন্তীকা!’

তাহমিদ এখনো বিস্ময় নিয়ে চেয়ে আছেন তার দিকে। প্রায় দুই মিনিট এভাবে চেয়ে থাকার পর তিনি বিস্ময়ের সাথে বললেন, ‘অ-অবন্তী… ত-তুমি.. বেঁ’চে আছো? স-সত্যি বেঁচে.. আছো?’

অবন্তী আবারো তাহমিদ কে জড়িয়ে ধরলো। তার বুকে মুখ গুঁজে বলল, ‘হ্যাঁ আমি বেঁচে আছি তাহমিদ। আমি বেঁচে আছি। আর আমি তোমার কাছে ফিরে এসেছি।’

এসব দেখে আমার ভেতরটা ভে’ঙে চুর’মার হয়ে যাচ্ছিল। এক দৌড়ে রুমে এসে কাঁদতে লাগলাম। কেন আমার সঙ্গেই এমন হতে হলো? কেন কেন কেন? কেন আমার আর তার মাঝে সবসময়ই কোন না কোন বাঁ’ধা সৃষ্টি হয়? এখন তো সবচেয়ে বড় বাঁ’ধা, বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে অবন্তী৷ কী করব আমি এখন? তাহমিদ তো আমায় ভুলে যাবেন নিজের প্রথম স্ত্রী, প্রথম ভালোবাসা কে পেয়ে।

কিছুক্ষণ পর কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। চলে যাব এখান থেকে। বহুদূর চলে যাব। যেখানে আমায় কেউ খুঁজে পাবে না। ব্যাগ গুছিয়ে যেভাবে ছিলাম সেভাবেই নিচে নেমে এলাম। ব্যাপার কী? তাহমিদ আর অবন্তী কোথায়? তবে কী সত্যিই.. তাহমিদ অবন্তী কে আবারো আপন করে নিয়েছে? গলা আটকে বুক ফেঁটে কান্না এলো। অশ্রুমাখা চোখ নিয়েই দ্রুত বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে। এই মুহুর্তে আমরা ছাড়া কেউ ঘরে নেই। যার দরুন এমন অবস্থা।

শেষবারের মতো দেখে নিলাম ঘর টাকে। এখানেই যে তাহমিদের সঙ্গে বাঁধতে চেয়েছিলাম মনের ঘর। সেই তো কথা দিয়েছিল আমাকে, আমায় প্রণয়ে বাঁধবে। মাঝে কোন অনুবদ্ধ প্রণয় থাকবে না। তবে কেন?
কাঁদ’তে কাঁ’দতে হাঁটতে লাগলাম। উদ্দেশ্যবিহীন পায়ে হেঁটে চলেছি। কোথায় যাচ্ছি তা জানি না। কিন্তু যাচ্ছি। নি’র্জন একটা রাস্তায় এসে পড়েছি।

হয়তো আজই তাহমিদের সঙ্গে আমার কাঁ’টানো শেষ মুহুর্ত ছিল। আজই তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা। আমি জানি অবন্তীকে পেলে সে অবশ্যই আ’বেগে আপ্লুত হবে, প্রথম ভালোবাসা কে পেয়ে আমার প্রতি তার কোন খেয়াল থাকবে না। কী লাভ সেখানে থেকে?
….

হাটতে হাটতে অনেক দূর এসে পড়েছি। দাঁড়িয়ে পড়লাম এক জায়গায়। চোখ ফুলিয়ে লাল করে ফেলেছি।
এখন শূণ্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছি সামনে। অনেক হাঁটার ফলে ক্লান্ত আমি। বেশ দূর্বলও লাগছে। হঠাৎ হাতে টান পড়ল। কেউ পেছন ঘুরিয়ে দিতেই ঠা’স করে গালে চ’ড় পড়ল। মাথা ঘুরে উঠ’তেই মাটিতে প’ড়ে গেলাম। অশ্রুসিক্ত ঝাপসা নয়নে এক পরিচিত অবয়ব দেখতে পেলাম। অজান্তেই প্রশান্ত অনুভব হলো। সে ঘে’মে একাকার! যেন মনে হচ্ছে অনেক দূর দৌড়ে এসেছে। সে রেগে চেঁচিয়ে বলল,

— হাউ ডেয়ার ইউ? হাউ ডেয়ার ইউ ইয়ানাত? তুমি কোন সাহ’সে ঘর থেকে বের হলে আমার অনুম’তি ছাড়া? জানো আমার জান প্রায় বেরিয়েই যাচ্ছিল। কোথায় যাচ্ছিলে তুমি? এভাবে আমায় না জানিয়ে ঘর থেকে বের হলে কেন? তোমার কী কমন সেন্স নেই? তুমি এই সন্ধ্যায় এই নি’র্জন জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলে? পথিমধ্যে যদি কিছু হয়ে যেত?

উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,

— হ্যাঁ কিছু হলে তাতে আপনার কী? আপনার তো কিছু যায় আসে না। যান অবন্তীর কাছে যান, সে তো ফিরে এসেছে আপনার জীবনে তবে আমাকে কী প্রয়োজন আপনার? আমার তো আর কোন কাজ নেই আপনাদের মাঝে দে’য়াল হয়ে থাকার!

সে অবাক হয়ে চেয়ে রইল আমার দিকে। এগিয়ে এসে আমার মাথা তার বুকে চেঁ’পে ধরল,

— প্লীজ ডোন’ট সে লাইক দ্যাট ইয়ানাত! ভুল ভ্রা’ন্তি নিয়ে তুমি আমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছিলে? কেন? আমি কী বলেছি তোমাকে চলে যেতে?

— বলেন নি তাতে কী? চেয়েছিলেন তো, আমি যাতে আপনাদের মাঝে দেয়াল হয়ে না থাকি!

— শাট-আপ জাস্ট শাট-আপ ইয়ানাত! আমি চেয়েছি? তাও.. তুমি বলছো এটা? তোমার কী মনে হয় তাকে পেয়ে আমি তোমাকে ছেড়ে দেব, যে আমায় মিথ্যের উপর রেখেছিল এতদিন? তোমার কী মনে হয়, তার জন্য আমি আমার জীবনকে দূরে ঠেলে দেব যে আমায় মিথ্যের উপর বাঁচিয়ে রেখেছিল? তোমার কী মনে হয় এমন? তোমায় ভালোবাসি ইয়ানাত! আমার জীবন জুড়ে তুমিই আছো। আর থাকবে। আর তুমি আমায় ছেড়ে যেতে চাচ্ছ? কেন? আমি কী খুব খা’রাপ?

অবাক হলাম। তবে সে আমায় ভুলে নি? আমায় নিতে এসেছে? আমার খোঁজে এসেছে এখানে? ভাবতেই দেহে প্রাণ ফিরে পেলাম যেন। বললাম,

— ‘তবে আপনি.. আমায় ভুলে যান নি তাকে পেয়ে?’

— কেন ভুলে যাব হৃদপ্রিয়া? কেন ভুলব তোমাকে? তোমাকে কী ভুলে যাওয়ার জন্য হৃদয়ে জায়গা দিয়েছি? তবে তুমি কেন আমায় চুরমার করে দিয়ে চলে যাচ্ছিলে বলো? কেন? আমায় আহত ফেলে চলে যাচ্ছিলে? তোমাকে আমার প্রয়োজন ইয়ানাত! আমার ভালো থাকতে, আমায় ভালোবাসতে তোমাকে প্রয়োজন!

স্বস্তি পেলাম। তার বুক থেকে মাথা সরিয়ে তার দিকে তাকালাম। সে বলল,

— চলো, ফিরে চলো। আজ সব জানব আমি তার থেকে। তোমাকে সামনে রেখেই জানব।

___________
কিছু প্রহর পূর্বে,

ইয়ানাত দৌড়ে রুমে চলে যাওয়ার পর তাহমিদ অবাক হয়ে অবন্তীর দিকে তাকিয়ে বলল,

‘অ-অবন্তী! তুমি সত্যিই বেঁচে আছো? মানে সত্যি? তাহলে.. ওই অ্যাক্সিডেন্ট! লাশ টা কার ছিল? তুমি কী করে বেঁচে গেলে? আর বেঁচে গেলে, তাহলে আমার কাছে কেন ফিরে আসলে না? কোথায় ছিলে এতদিন? বলো! কেন আসলে না?’

‘শান্ত হও তাহমিদ শান্ত হও। আগে বলো ওই মেয়েটা কে? ও তোমার সাথে কী করছে?’

তাহমিদ চেঁচিয়ে বলল, ‘তার আগে বলো তুমি এতদিন কোথায় ছিলে? কেন ফিরে এলে না আমার কাছে? কেন ভাঙা অবস্থায় ফেলে রেখে লুকিয়ে ছিলে এতদিন? তোমার কী খেয়াল আছে? আমি কতটা অসহায় ছিলাম তোমায় ছাড়া এতদিন? বেঁচে গিয়েছ? তো ফিরে এলে না কেন? কেন এলে না?’

‘দেখো তাহমিদ, আমি বলছি..’

‘হ্যাঁ বলো বলো, কেন এতদিন অগোছালো করে রেখেছিলে আমাকে? আর ফিরে এলে এখন? তো কেন এলে? আসতে না, মিথ্যের উপরই আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে।’

‘তাহমিদ প্লীজ, আমায় বুঝার চেষ্টা করো, হ্যাঁ আমি অপরাধ করেছি তাই বলে এত বড় শাস্তি দিও না, মাফ করে দাও প্লীজ। আবারো আগের মতো আপন করে নাও।’

‘মানে? কী অপরাধ করেছ তুমি?’

‘ত-তাহমিদ…’

তাহমিদের হঠাৎ খেয়াল হলো ইয়ানাত কোথাও নেই। সে দৌড়ে রুমে গেলে দেখতে পেল কাপড়-চোপড় সব এলোমেলো৷ সে বুঝতে পারল অবন্তী আর তাকে দেখেই সে চলে গেছে। দ্রুত ছুটে নিচে এলো। অবন্তী কে সেখানে রেখেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো তার খোঁজে। কয়েকজনের সাহায্যে জানতে পারল সে এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছে। আর তাকে এভাবে ব্যাগ নিয়ে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর তাকে না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে বেশ রেগে গেল। আর গিয়েই রাগ নিবারণ করতে ঠাস করে থা’প্পড় লাগিয়ে দিল।
___________
ঘরে প্রবেশ করতেই চিন্তামুখো অবন্তীকে দেখতে পেলাম। তাহমিদ আমায় সোফায় বসালেন। সাথে নিজেও বসলেন। তা দেখে অবন্তী হতভম্ব হলো, তার ভাবনায় আমি তাহমিদের কে। সে অবাক হয়ে বলল, ‘তাহমিদ তুমি…’

তাহমিদ থামিয়ে বললেন,
‘তোমাকে এত কিছু ভাবতে হবে বা অবন্তী। তুমি এই দু’বছর আমাকে কী পরিমাণ কষ্টে রেখেছ তা-কি আমি ভুলে যাব মনে করেছ? তুমি জানো তোমাকে ছাড়া একটা মুহুর্তও আমি থাকতে পারি না। তবুও কেন এমন করলে?’

অবন্তী কেঁদে ফেলল, ‘প্লীজ তাহমিদ আমায় মাফ করে দাও, প-প্লীজ আমায় মাফ করো। হ্যাঁ আমি অনেক বড় ভুল করেছি, আমি তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ফিরে এসেছি, আমায় আপন করে নাও প্লীজ। আমি আর থাকতে পারছি না।’

‘কী? তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে? মানে?’

‘আ-আসলে.. তাহমিদ আমি মা’রা যাই নি..’

‘হ্যাঁ আমি জানি তুমি মা’রা যাও নি আমার সামনেই বসে আছো স্ব-শরীরে। কিন্তু কীভাবে? আমি যাকে কবর দিয়েছি সেটা কে?’

‘ওটা.. মর্গ থেকে আনা একটা লাশ ছিল।’

তাহমিদ আর আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। তাহমিদের চোখে পানি দেখা গেল। সে মানতে পারছে না, যে অবন্তী ভেবে যাকে কবর দিয়েছে সে আদোও অবন্তী নয়, মর্গ থেকে আনা অন্য কারো লাশ?

‘মানেহ? কি বলছো এসব তুমি? তুমি এত বড় কাজ টা কেন করলে? কেন করলে আমার সাথে এমন? বলো কেন করলে?’

শেষের কথা টা চিৎকার করেই বললেন তিনি। তার এই আহত গলাটা বরাবরই আমাকে আ’ঘাত করছে। অবন্তী কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমি জানি আমি অনেক বড় ভুল করেছি তাহমিদ, আ-মায় মাফ করে দাও।’

‘বলো, বলো কেন করেছিলে এমন? আর যদি নাই বলো তাহলে বেরিয়ে যাও আমার ঘর থেকে। বেরিয়ে যাও!!!’

‘আ-আমি বলছি তাহমিদ, ব-বলছি,
আসলে.. আমি তখন তোমাকে.. ভালোবাসতাম না তাহমিদ!’

তাহমিদ আরেকদফা চমকে গেলেন। সাথে তার অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘মানে? কী বলছো এসব? যে মানুষ টা তোমাকে বিয়ে করার জন্য ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গিয়েছিল, যে তোমাকে তার সমস্ত টা দিয়ে ভালোবেসেছিল, তাকেই তুমি ভালোবাসো নি?’

অবন্তী কান্নামিশ্রিত গলায় বলল, ‘আমি বুঝতে পারিনি তখন, আমি অন্য কাউকে ভালোবাসতাম।’

তাহমিদ এসবের মাঝে মূর্তির মতো তার দিকে চেয়ে রইলেন। যা সত্যিই আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। অবন্তী বলল,

‘আমাদের সম্পর্ক ছিল প্রায় ছয় বছরের। আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম। এর মাঝে তাহমিদ আমাদের জীবনে আসে। সে আমায় খুব ভালোবাসতো, প্রতিদিন আমার সাথে কথা বলতো। আমিও বলতাম। এসব দেখে আমার আব্বু আম্মু ভেবেই নিয়েছিল আমি তাকে ভালোবাসি। তাই আমাদের বিয়ে করিয়ে দেয়, কিন্তু আমি বাবা কে খুব ভয় পেতাম। তাই দ্বিমত করতে পারি নি।
এর মাঝে আমাদের প্রায়ই কথা হতো। কিন্তু সে আমায় বার বার বলছিল তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে। কিন্তু আমি তাহমিদের বিশ্বাস জিতে নিয়েছিলাম। তাই বলতে পারছিলাম না। তাই প্লান করে আমার অ্যাক্সিডেন্টের নাটক করি। আর ওর সঙ্গে পালিয়ে যাই!কিন্তু.. সে সম্পর্ক আর বেশিদিন টিকেনি। সে আমার সব গহনা-টাকা নিয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে পালিয়ে যায়।’

হতভম্ব আমি। মানুষ এতটাও খা’রাপ হতে পারে? যে এভাবে.. একজনকে ধোঁকা দিল? বছরের পর বছর কষ্ট দিল? যে প্রতিটা মুহুর্ত তার জিনিস, তার ছবি গুলো বুকে জড়িয়ে স্মৃতিচারণ করতো? ছিঃ!

তাহমিদ যেন নির্জীব। আমি বললাম, ‘তাহলে ওই বাচ্চা মেয়ে টা কে? যাকে তোমার সঙ্গে দেখেছিলাম?’

‘স-সে.. আমার মেয়ে।’

‘কী? তোমার মেয়ে মানে? তোমার আর তাহমিদের? কিন্তু তোমাদের বিয়ে তো হয়েছিল দু’বছর আগে। তাহলে.. তোমার বাচ্চা এত বড় কী করে হতে পারে?’

অবন্তী মাথা নিচু করে বলে, ‘ও আমার।বাচ্চা ঠিক’ই। কিন্তু আমার আর তাহমিদের না।’

‘তাহলে কার?’

‘আ-আমার.. আর ফাহাদের।’

মাথায় বাজ পড়ল যেন। ছিঃ! অবন্তীর সঙ্গে কারো আগে থেকেই অন্য সম্পর্ক ছিল? তাদেরই ফল? আর ফাহাদ? সে তো.. ইফা আপুর প্রাক্তন প্রেমিক? সব যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। এবার বুঝলাম। এই ফাহাদ, প্রথমে অবন্তীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে, আর তার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীন ইফা আপুর সঙ্গে জড়িয়েছে। আর তারপর দু’জনকেই ছেড়ে অন্য কারো সঙ্গে পালিয়েছে।

তাহমিদ এবার উঠে দাঁড়ালেন। অবন্তীর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তুমি আমার সব আশা, তোমার প্রতি সব সম্মান, সব ভালোবাসা নিমিষেই ভেঙে গুড়গুড় করে দিয়েছ। আর হা জানতে চাইছিলে না এই মেয়েটা কে? ও আমার ভালোবাসা, আমার পৃথিবী, আমার জীবন। আমার স্ত্রী! যাও! বেরিয়ে যাও আমার ঘর থেকে। বেরিয়ে যাও বলছি!!!’

‘প্লীজ তাহমিদ আমায় মাফ করে দাও। প্লীজ আমায় মাফ করো। আমি মানছি আমি ভুল করেছি। তবু প্লীজ.. আমায় ক্ষমা করো।’

তাহমিদ তাকে টেনে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন আর বললেন, ‘তুমি যদি আর এখানে আসো, পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো আমি। ঘৃণা করি আমি তোমাকে। ধোঁ’কা’বা’জ! ধোঁকা দিয়েছ তুমি আমাকে। আমি কখনোই তোমাকে ক্ষমা করব না!’

[চলবে.. ইন শা আল্লাহ]

#অনুবদ্ধ_প্রণয় 💛
#ইবনাত_আয়াত
পর্ব: ২১

ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন তাহমিদ। চোখে অশ্রু। শূণ্য দৃষ্টিতে মেঝের দিকে চেয়ে আছেন তিনি। তার কাঁধে হাত রাখতেই আচমকা আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। কান্নামিশ্রিত ব্যাথিত স্বরে বললেন,

— আমার সাথেই কেন, আমার সাথেই কেন এমন হতে হলো ইয়ানাত? কী ক্ষতি করেছি আমি ওর? যে আমায় এভাবে ধোঁকা দিল? সে আমায় বললেই পারতো, তাহলে কী আমি ওকে যেতে দিতাম না? বলো দিতাম না? তবে এখন কেন ফিরে এসেছে সে? আমায় আবারো কষ্ট দিতে?

তার চুলে হাত বুলিয়ে বললাম,
— শান্ত হোন তাহমিদ। আমি আছি না আপনার সাথে? ভেঙে পড়ছেন কেন? তার জন্য কেন কাঁদছেন যে আপনাকে ধোঁকা দিয়েছে?

— তুমিও তো আমার ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছ। কেন চাইছিলে না? তাই তো চলে গিয়েছিলে।

— দেখুন আমি যাই নি। আছি আপনার পাশে। তাহমিদ প্লীজ কাঁদবেন না। আপনার কান্না আমি একদম সহ্য করতে পারছি না। প্লীজ কাঁদবেন না।

তিনি কান্নার বেগ কমালেন। বললাম,
— চলুন। ফ্রেশ হয়ে নিন। সেই যে ওখান থেকে এলাম কিছুই তো খাই নি।

…..

কেটেছে প্রায় দু’দিন..

পেছন থেকে সেই চিরপরিচিত স্বরে নাম ধরে ডাকতেই থমকে দাঁড়াল তাহমিদ। কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার জন্য গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন’ই কেউ যেন ডাক দেয়। কণ্ঠ টা খুব’ই চেনা। তাহমিদ থম মে’রে দাঁড়িয়ে রইল। অবন্তী দৌড়ে তাহমিদের সামনে এলো।

— তাহমিদ! দেখো, আমি আবারো এসেছি তোমার কাছে। শুধুমাত্র তোমার ক্ষমা পাওয়ার জন্য। প্লীজ.. প্লীজ আমায় মাফ করে দাও। একটা বার মাফ করে দাও। আমি আর আসবো না তোমার সামনে। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি। এখন অপরাধবোধ আমায় থাকতে দিচ্ছে না তাহমিদ। তোমার ক্ষমা না পাওয়া অবদি আমি থাকতে পারব না তাহমিদ৷ প্লীজ আমায়.. আমায় ক্ষমা করো।

তাহমিদ শক্তমুখে বলল,
— আমার কারো উপর রাগ নেই অবন্তী। না তোমার উপর, আর না বিধাতার উপর।

অবন্তী কান্নামিশ্রিত গলায় বলল,
— কেন এমন করছো? প্লীজ মাফ করে দাও না! আমায় কেন এত কষ্ট দিচ্ছ?

— আচ্ছা? তুমি যে কষ্ট দিয়েছ তা কিছু নয়?

— তা-তাহমিদ.. আমার হাতে যে বেশি সময় নেই। তোমার মাফ না পাওয়া অবদি যে আমি শান্তি পাচ্ছি না। একটু আমায় দয়া করো, আমি যে ম’রেও শান্তি পাব না। আমায় কী একটু ক্ষমা করা যায় না?

— বেশি সময় নেই? মানে?

— প্লীজ আমায় এত প্রশ্ন করো না, আমায় এভাবে অনুশোচনায় ভুগতে দিও না। প্লীজ..

তাহমিদ বুকে পাথর বেঁধে তাকে সেখানে রেখেই গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। হঠাৎ অবন্তীর চাঁপা আর্তনাদ কানে এলো তাহমিদের। দ্রুত ঘাড় ঘুরাতেই অবন্তীকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করল সে। অস্থির, উৎকণ্ঠা হয়ে দৌড়ে গেল তার কাছে। নাক আর মুখ দিয়ে গলগল করে র’ক্ত পড়ছে। তাহমিদ অস্থির হয়ে তার মাথা কোলে নিল।

— অবন্তী! এই অবন্তী! কী হলো তোমার? উঠো প্লীজ উঠো৷ এই! দেখ আমি! আমি.. তোমার কাছে এসেছি না? প্লীজ উঠো! চোখ খুলো অবন্তী প্লীজ!!!

অবন্তীর এই অবস্থা দেখে তাহমিদের মাথা কাজ করছিল না। একবার এভাবে পুড়তে দেখেছে, সে যাইহোক, অবন্তীকেই তো ভেবেছিল। আবারো তাকে এই অবস্থায় দেখছে? হৃদয় যেন ভে’ঙে চুর’মার হয়ে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় অফিসের গার্ড এগিয়ে এলো।

— স্যার স্যার! এভাবে বসে থাকবেন না। উনাকে হসপিটালে নিয়ে চলুন।

গার্ডের সহায়তায় তাকে হসপিটালে নিয়ে যায় তাহমিদ।

__
এক দৃষ্টিতে ফ্রেমে বাঁধা ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছি। ছবিতে অবন্তীর হাসিমাখা মুখ শোভা পাচ্ছে। এই রমণীকে খুব চেনা মনে হয়, যেন.. তাকে কোথাও দেখেছি। বিশেষ করে ওই নীল চোখ দু’টো, এ যে খুব চেনা। কিন্তু.. কোথায় দেখেছি? মনে পড়ছে না। বিরক্তিতে ‘চ’ শব্দ করলাম।

আচমকা কেঁপে উঠলাম। ফোনের রিং বাজছে। এর শব্দেই চমকে গিয়েছিলাম। ফোন টা চোখের সামনে আনতেই তাহমিদের নাম স্ক্রিনে দেখতে পেয়ে ফোন উঠালাম,

‘হ্যালো!’

হঠাৎ তাহমিদের কান্নামিশ্রিত ভাঙা গলা শুনতে পেলাম, ‘ই-ইয়ানাত!’

বুক ধক করে উঠল, ‘হ-হ্যাঁ?’

সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘ইয়ানাত.. অ-অবন্তী..’

‘কী হয়েছে অবন্তীর?’

‘ও-ওকে হসপিটালে নিয়ে.. এসেছি। তুই এই ** হসপিটালে চলে আসো।’

‘হসপিটালে মানে? কেন?’

‘তুমি এসো প্লীজ..’

‘আচ্ছা আমি আসছি।’

অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠল। অবন্তীর আবার কী হলো? দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম।
___
তাহমিদের বলা মতো তৃতীয় ফ্লোরে পৌছাতেই সে আমায় জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভে’ঙে পড়ল। তাকে স্বান্তনা দিয়ে বললাম, ‘কী হয়েছে তাহমিদ?’

‘ইয়ানাত.. অবন্তীর.. ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে!!’

‘কীহহ?’

কেঁপে উঠলাম হঠাৎ। কেন যেন মানতে মন চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে জীবন থেকে বড় কিছু হারাতে চলেছি। কিন্তু কেন?

‘ব-ব্রেইন ক্যান্সার? ও.. এখন কোথায়?’

তাহমিদ আমায় একটা কেবিনে নিয়ে এলেন। অবন্তী নিশ্চুপ চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। যেন সে খুব’ই নিষ্পাপ! একদম নিষ্পাপ একটা বাচ্চা। না চাইতেও চোখের কোণে অশ্রু জমা হলো।
তার পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখতেই সে চোখ খুলল। মাস্কের মধ্য দিয়েই হেসে বলল,
— ত-তুই এসেছিস বোন?

চমকালাম,
— মানে?

— আ-আমি জানতাম তুই আসবি। সত্যি তুই এসেছিস?

কিছু বুঝতে পারলাম না। সে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলছে কেন? অবন্তী বলল,
— তুমি.. তুমি আমায় মাফ করেছ তাহমিদ? এখনো আমায় মাফ করবে না? সত্য টা তো জেনেই গেছো। তবু মাফ করবে না?

তাহমিদ ভা’ঙা গলায় বললেন,
— তোমাকে আমি অনেক আগেই মাফ করে দিয়েছি অবন্তী, তোমার উপর আমার কোন রাগ নেই। প্লীজ এভাবে বলো না।

সে হেসে বলল,
— আমি.. অনেক আগে থেকেই জানতাম আমার ক্যান্সার হয়েছিল। চেঁপে রেখেছিলাম। জানি কেউ তো নেই আমার, বলে কী লাভ?

কেন যেন কোথাও একটা ব্যাথা অনুভব হলো। সে বলল,
— আমি হয়তো.. আর বাঁচবো না। ত-তাই তোমাদের.. একটা কথা বলতে চাই। আমি চাই না.. মৃত্যুর পরেও কেউ আমায় ঘৃণা করুক।

তাহমিদ বললেন,
— মানে? কী বলছো এসব?

অবন্তী সামনে তাকিয়ে বলল,
— আমি.. বিবাহিত ছিলাম। তোমার সাথে বিয়ের আগেই। ফাহাদ আমার স্বামী ছিল। আর আমাদেরই মেয়ে অবনী।

অবনী নাম টা শুনতেই হঠাৎ বুক টা ধক করে উঠল। নেত্রকোণে জমা হলো অশ্রু।
অবন্তী বলে যেতে লাগল,
— সাত বছর আগেই আমাদের.. বিয়ে হয়েছিল। জানো? আমি.. তোমাকে ধোঁকা দিতে চাই নি তাহমিদ। আমি তোমাকে ধোঁকা দিতে চাইনি। আমাদের মেয়ের বয়স যখন চার বছর, তখন’ই ফাহাদ আমায় ডি’ভোর্স দেয়। জানো? আমি.. কতটা নোং’রা একটা মেয়ে? জানো.. কত পুরুষ আমায় জোরপূর্বক ছুঁয়েছে? অবনী হওয়ার পর আমি.. একটা রাত শান্তিতে কাটাতে পারিনি। আর তাদের কাছে আমায় কে বিলিয়ে দিয়েছিল জানো? আমার.. আমার স্বামী! আমার স্বামীই তার স্ত্রীকে বিলিয়ে দিয়েছিল ন’র’প’শু’গুলোর হাতে। আমি অসহায় ছিলাম। ফাহাদ কতটা নি’র্ল’জ্জ ছেলে তার প্রমাণ আমি তখন’ই পেয়েছিলাম। সে.. তার কথা না মানলে.. অবনীকে মে’রে ফেলার হুমকি দিত সবসময়। দে’হ’ব্য’ব’সা করতো ও। আমায় ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ে করেছিল, আর অবনী হওয়ার পর থেকেই তার আসল রূপ বেরিয়ে এলো। সে.. আমায়.. তার ব্যবসার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। অবনীর মুখের দিকে চেয়ে সব মেনে নিতাম। কিন্তু.. দু’বছরের মাথায় একটা সময় আমি অবনীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাইলে ধরা খেয়ে যাই, আর.. আর.. সে আমায়.. খুব মা’র’ধ’র করে। প্রায় আধম’রা বানিয়ে ফেলার পর বুঝতে পারে সে ভুল করে ফেলেছে। ধরা খেয়ে যেতে পারে ভেবে তার আগের বানানো ডি’ভোর্স পেপারে টিপসই করিয়ে আমায় আর অবনীকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। তখন এক ভদ্রলোক আর তার স্ত্রী আমায় সাহায্য করে। অসহায় ছিলাম আমি। তাই তারা আমায় তাদের ঘরে আশ্রয় দেয়৷ তাদের মেয়ে ছিল না। তাই আমাকেই মেয়ে ভাবতে শুরু করে। তারা আমার ব্যাপারে সব জেনেও স্বান্তনা দেয়। আর আমার তাদের পরিচিত এক বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে তাহমিদের সঙ্গে দেখা হয়। সে আমায় পছন্দ করতে শুরু করে। কিন্তু আমি তাকে এভাবে মিথ্যে পরিচয় দিয়ে ধোঁকা দিতে চাইনি। কিন্তু আমার ভালো ভেবে আমার ডাক-বাবা-মা অবনীর বিষয় টা গোপন রেখে তার সঙ্গে বিয়ে দেয়। এর মাঝে অবনীর সঙ্গেও প্রায় সময় কাটাতাম তাহমিদের অগোচরে। আস্তে আস্তে আমিও তাহমিদের উপর দূর্বল হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু.. আমার কপালে যে সুখ কখনোই ছিল না। এক ঝড়! আমার সব শেষ করে দিল। দু’বছরের মাথায়, একদিন অবনীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। কোত্থেকে ফাহাদ এসে হাজির হলো আমার সামনে। সে আমায় এতদিন ফলো করতো। সে আমায় অবনীকে কিডন্যাপ করে মে’রে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে আবারো তার সঙ্গে যেতে। আমি তার পায়ে পড়ি। কিন্তু সে মানে না। তারপর আমি তাহমিদ আর আমার ব্যাপারে জানাই। কিন্তু.. সে আমায় যেকোন মূল্যে তার ব্যাবসার জন্য চায়। তাই সে সে’দিনই আমায় কিডন্যাপ করে আর গাড়ীর অ্যাক্সিডেন্টের সব প্লান সে নিজেই করেছিল।
এরপর? এরপর আর-কি? অসহনীয় অত্যাচার চলতে থাকে আমার উপর দু’টো বছর। এর মাঝে অবনীকে মে’রে ফেলার হুমকি দিয়ে আমায় আরেকটা কাজ দেয় ফাহাদ। যে তোমাকে আমি সেই কথাগুলো বলব, যে আমি তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি। আমি.. ফাহাদের সঙ্গে ইচ্ছে করে পালিয়ে গিয়েছিন জানো? তখন আমার বুক টা ফেঁটে যাচ্ছিল যখন তোমায় এসব বলছিলাম। এরপর আর না পেরে তাদের একজন দারোয়ান কে খু*ন করে অবনীকে নিয়ে পালিয়ে আসি। অবনীকে নিয়ে একটা গোপন এলাকায় থাকতে শুরু করি। আমার ডাক-বাবা-মাও ভেবেছিলেন আমি মা’রা গেছি। তাই তারা আমার আর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন নি। এভাবে আমার জীবন চলতে থাকে। কিন্তু একদিন জানতে পারি, আমার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। তাই আমি আর এই সত্য লুকিয়ে রাখতে পারিনি। আমায়.. ক্ষমা করে দিও তাহমিদ। আমায় ক্ষমা করে দিস ইনু।

কেঁদে ফেললাম আমি। তাহমিদ ডুকরে কাঁদতে লাগলেন৷ আমি ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাকে জড়িয়ে ধরলাম,
— এত কষ্ট তুমি সহ্য করলে? কেন? কেন বলো নি এতদিন সত্য টা? কেন বলোনি? কেন এতদিন ভুল ভ্রান্তির উপর রেখেছিলে আমাদের? আমিও তোমাকে ঘৃণা করেছিলাম। কিন্তু আমার ধারণা পুরো যে পাল্টে গেল। তুমি.. কেন এত অত্যাচার সহ্য করলে বলো?

— সব’ই নিয়তির খেলা রে ইনু। আমার ভাগ্যে কভু সুখ লেখা ছিল না।

আমার কান্না যেন কিছুতেই থামতে চাইছে না। যে অবন্তীকে এত ঘৃণা করতাম আজ তার জন্যই কাঁদছি আমি? এ কেমন দুনিয়া?

হঠাৎ অবন্তী বলে উঠল,
— আমায় এখনো চিনতে পারিস নি ইনুপাখি?

[চলবে.. ইন শা আল্লাহ]