#অনুভবে_তুমি
#পর্ব_৮
#লেখনীতে_মুগ্ধ_ইসলাম_স্পর্শ
উপমা আমার বুকে মাথা রেখে অঝোর ধারায় চোখের পানি ফেলছে। বড্ড বেশিই ভয় পেয়েছিল মেয়েটা। আর এক মুহূর্ত দেরি করলেই আজ উপমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেতো। গাড়িটা যখন উপমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল ঠিক তখনই আমি উপমাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিই।
কাঁদতে কাঁদতে একসময় উপমা হেঁচকি টানতে শুরু করল। আমি এতক্ষণ গাড়ির নাম্বার নোট করায় ব্যস্ত ছিলাম।
উপমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
‘- আরে পাগলি এভাবে বাচ্চাদের মতো কাঁদছো কেন? দেখো কিছু হয়নি তোমার। আমি তোমার পাশে আছি। আমি থাকতে তোমার কি কোনো ক্ষতি হতে পারে! কিচ্ছু হতে দেব না আমার বউ রাণীটার।
উপমা আমার গালে হাত বুলিয়ে বলল,
‘- জানো মুগ্ধ! আমি এক মুহূর্তের জন্য ভেবেছিলাম তোমার জীবনটাকে আবারও আঁধারে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছি৷
মেয়েটার কথা শুনে অবাক না হয়ে পারি না। নিজের বিপদের সময় সে চিন্তা করছে আমার কথা। অথচ নিজের চিন্তা মাথাতেই নেই।
‘- আমাকে রেখে কোথাও যেতে দিলে তো তুমি যাবে? কোথাও যেতে দিচ্ছি না বউ রাণী। তুমি আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস অবধি থেকে যাবে আমার পাশে। এখন প্লিজ কান্না থামাও। দেখো আমাদের কারোর কিছুই হয়নি! অযথা চোখের পানিগুলো নষ্ট করছো তুমি। অন্য কোন সময় যখন তোমাকে পেটাবো তখন চোখের পানিগুলো ফেলো। এখন চোখের পানিগুলো জমিয়ে রাখো।
উপমা আমার বুকে হালকা আঘাত করে বলে,
‘- আমাকে মারবে এত বড় সাহস? তোমাকে টানতে টানতে হাজতে ভরে দেব। তুমি জানো আমি কে? এই অপরাধের জন্য তোমাকে আমি কতবড় শাস্তি দিতে পারি?
‘- তুমি কে?
‘- আমি হচ্ছি এই শহরের সাব ইন্সপেক্টর। তার থেকে বড় পরিচয় হচ্ছে আমি ওসি সাহেবের বউ।
আমি দুই হাত দূরে সরে গেলাম। আকুতির সুরে বললাম,
‘- ভুল হয়ে গেছে ম্যাডাম৷ আর এমন হবে না। আপনি আমায় ক্ষমা করে দিন। আর কখনো এই সাহস দেখাবো না৷
উপমা আমার অভিনয় দেখে ফিক করে হেঁসে দেয়। খিলখিল করে হাসছে আমার বউ রাণীটা। কী যে ভালো লাগছে তার হাসিটা দেখতে।
‘- হয়েছে। এখন আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় চলো৷ তাহলেই আর শাস্তি পেতে হবে না।
অগত্যা বউকে আবার কোলে নিয়ে হাঁটা ধরি বাসার পথে।
বাসায় এসে দু’জনে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসলাম।
পকেট থেকে ফোনটা বের করে কনস্টেবল’কে কল করি৷
‘- আসসালামু আলাইকুম স্যার? স্যার এই সময় আমাকে কল দিলেন?
‘- ওয়ালাইকুমুস সালাম৷ তোমার একটা কাজ আছে। তোমাকে একটা গাড়ির নাম্বার দিচ্ছি। খোঁজ করে দেখো কার গাড়ি। আর দেখা পেলেই থানায় নিয়ে আসবে।
ওকে নাম্বার টা দিলাম।
‘- ঠিক আছে স্যার আমি দেখছি।
ফোনটা পাশে রেখে উপমার হাতটা আমার হাতের মুঠোয় নিয়ে ওর দিকে তাকালাম। মেয়েটির মুখে এখনো ভয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ওর মুখে হাত বুলিয়ে বলি,
‘- এখনো ভয় পাচ্ছো? এতটা ভয় পেলে চলবে? তুমি তো একজন সাহসী পুলিশ অফিসার। তোমাকে এভাবে ভয় পাওয়া মানায় না।
উপমা আবারও দুফোঁটা পানি ফেলল৷
‘- ভয় কী আর নিজের জন্য হচ্ছে। ভয় হয় তোমায় নিয়ে। একবার তো সামলে নিয়েছ। তখন তো আমি সাহায্য করেছিলাম। কিন্তু এবার যদি আমি হারিয়ে যাই তাহলে তোমার কি হবে?
উপমার চোখের পানি মুছে দিলাম।
‘- তুমি শুধু শুধু এসব ফালতু চিন্তা করছো। তোমার কি হবে হ্যাঁ? কিচ্ছু হবে না তোমার। আমার মনে হয় এটা একটা ইচ্ছেকৃত স্বরযন্ত্র।
‘- কিভাবে বুঝলে?
‘- আমি প্রথমে ভেবেছিলাম গাড়িটা ব্রেক ফেইল করেছে। কিন্তু পরে যখন দেখলাম গাড়িটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না এটা তোমাকে মারার একটা পরিকল্পনা।
‘- আমি কার কী ক্ষতি করেছি যে আমায় মারবে? পুলিশে জয়েন করার পরে তো কোনো অপরাধীকেও ধরিনি। তাহলে আমাকে মারার মতো কে থাকবে?
‘- আমি যেটা আন্দাজ করছি যদি সেটা হয় তাহলে একদম শেষ করে ফেলবো তাকে।
‘- কাকে শেষ করবা তুমি?
‘- বাদ দাও। এখন ঘুমাবে চলো।
উপমা আহ্লাদী কণ্ঠে বলল,
‘- আজকের রাতে কেউ ঘুমায়? আমাকে আদর করবা না?
উপমার কপাল থেকে কয়েকটা চুল সরিয়ে দিয়ে বললাম,
‘- আজ তোমার উপর অনেক ধকল গেছে। এখন একটু বিশ্রাম করো। আদর তো সারাজীবনই করতে পারবো।
উপমা ভেংচি কেটে বলল,
‘- বিয়ের আগে কত চাপাবাজী। আমাকে দেখলে রোমাঞ্চ করতে ইচ্ছে করে। এটা করতে ইচ্ছে করে, ওটা করতে ইচ্ছে করে। হুহ এখন নেতিয়ে পরেছে।
বাপ্রে, মেয়ে তো দেখি সাংঘাতিক। আমার পুরুষত্বের দিকে আঙুল তুলেছে৷ এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।
মুহুর্তের মধ্যেই উপমাকে বিছানায় চেপে ধরে ঠোঁটে মুখে ইচ্ছেমত আদর করতে লাগলাম।
তারপর দীর্ঘ সময় নিয়ে একটা ওয়ানডে ম্যাচ খেললাম। যা ডোজ দিয়েছি, তাতে মনে হয় না উপমা বিছানা থেকে উঠে হাঁটতে পারবে৷
এদিকে উপমা শুধু ফুঁসছে। বেচারি কিছু বলতেও পারছে না 🤣। বেশি ভাব নিতে গিয়ে ফাটা বাঁশের চিপায় পরছে।
‘- শয়তান, খবিশ, হনুমান, গন্ডার, জিরাফ, লেজকাটা বানর। আদর করতে বলেছি বলে এভাবে 😭। এখন আমি হাঁটবো কিভাবে? তোমার ঘাড়ে চেপে সারা দুনিয়া ঘুরবো বলে দিলাম৷
‘- হাহাহা ছেলেদের পুরুষত্বের দিকে আঙুল তুললে ছেলেরা এতটাই ক্ষেপে যায়।
‘- তোমাকে আমি পুলিশে দেবো।
এই মেয়ে কথায় কথায় শুধু পুলিশের ভয় দেখায়। ওর মাথার তার কী ঢিলে হয়ে গেছে?
‘- হয়েছে এবার ঘুমাও, অনেক রাত হয়েছে। আসো তোমাকে বুকে ঘুমাবো।
‘- না আমি তোমার বুকে ঘুমাবো না।
বলেই উল্টোপাশ হয়ে শুয়ে পড়ে।
ওকে ভয় না দেখালে হবে না।
‘- বলি মনে কী ভয়ডর বলতে কিছু নেই? ওয়ানডে ম্যাচ খেললাম! এবার কিন্তু টেস্ট ম্যাচ খেলবো।
বলতে দেরি কিন্তু বুকে মুখ লুকাতে দেরি হলো না। হাহাহা পাগলিটার পাগলামি দেখতেই ভালো লাগে।
একটু পর বুকে পিঁপড়ে কামড়ানোর মতো ব্যাথা পাচ্ছি। তাকিয়ে দেখি উপমা আমার বুকে কামড় বসিয়েছে।
ওকে মুখ বরাবর তুললাম। খানিকটা সময় দু’জন দু’জনার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর উপমার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালাম। কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম,
‘- এখন আর দুষ্টুমি নয় বউ রাণী। এবার ঘুমাও নাহলে আমি রেগে যাবো।
বলে কপালে আরও একটা আদর দিলাম।
এবার আমার বউ রাণীটা একটু শান্ত হলো। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করি। এরপর আস্তে আস্তে দু’জনেই হারিয়ে গেলাম ঘুম রাজ্যের অতল গহ্বরে 🥱।
অতীতকে অতীতই থাকতে দিন। একে মনে করে নিজের জীবনটাকে বিষাক্ত করবেন না। নিজের অতীত বর্তমান জীবনসঙ্গীকে বলবেন না। সে যদি আপনার জন্য পারফেক্ট না হয়, সে যদি আপনাকে বুঝতে না পারে, তাহলে দেখবেন কোনো একদিন সে আপনার অতীত তুলে খোঁটা দিতে ভুলবে না।
কী দরকার নিজের অতীতকে টেনে আনার? অতীত টা লুকিয়ে যদি জীবন টা সুখের হয় তাহলে ক্ষতি কী? সবাই তো আর উপমা নয় যে আপনাকে আপনার মতো করে বুঝবে? আর একটা কথা! সবসময় আফসোস করে এমন মেয়ে কখনো বিয়ে করবেন না। তাহলে জীবনে সুখী তো হতেই পারবেন না উল্টো জীবনটা জাহান্নামে পরিণত হবে।
আমাদের বিয়ে উপলক্ষে ছুটি দিয়েছে। তাই কয়েকদিন ডিউটিতে যাব না।
বিয়ের দু’দিন পরে সকালে নাশতা করছিলাম তখনই কনস্টেবলের কল।
‘- স্যার সবকিছু জানা গেছে, কে এসবের মূলে রয়েছে। আর সেই গাড়ির ড্রাইভার এখন হাজতে। ও টাকা নিয়ে মানুষ খুন করে।
‘- কার কাজ এটা?
‘-,,,,,,,,,,,,,,,
ওর কথা শুনে আমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল৷
একটা মানুষ এতটা নিকৃষ্ট কিভাবে হতে পারে? আমিও থানায় গিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিলাম। তারপর বাসায় এসে উপমার হাত ধরে নিয়ে এসে গাড়িতে বসিয়ে চালাতে শুরু করলাম।
সে হাজারবার জিজ্ঞেস করছে ‘- আমরা কোথায় যাচ্ছি?
কোনো কথার জবাব না দিয়ে চুপ রইলাম।
চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,