অন্তরালে কুয়াশার ধোঁয়া পর্ব-১২

0
889

#অন্তরালে_কুয়াশার_ধোঁয়া
#পর্ব_12(#ধামাকা_পার্ট_2)
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida


ম্যাম,,আপনি এখন কোথায় যাবেন?(আরিফ গাড়ি চালাতে চালাতে)

বান্দরবান।(আমি গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে)

কেনো?সেখানে কি আমি শিওর অভ্রকে পাবেন?(আরিফ)

জানি না।ইচ্ছে করছে যেতে তাই যাচ্ছি।(আমি)

গাড়ির মধ্যে নিরবতা।
কিছুক্ষণ পর এই নিরবতা ভেঙ্গে আরিফ প্রশ্ন করলো।

ম্যাম কিছু খাবেন?(আরিফ)

আমি খেয়াল করে দেখলাম এখন সকাল হতে চলেছে কাল রাত থেকে আমি কিছু খাইনি।আমার খাওয়ার ইচ্ছেটাই নেই।কিন্তু তবুও আমাকে খেতে হবে কারণ আমার গর্ভের সন্তানের জন্য।আমি কোনো দিন আমার সন্তানের ক্ষতি করতে পারি না।না ঝুমের আর না আমার অনাগত সন্তানের।

আরিফ, আশে পাশে কোনো হোটেল থাকলে সেখান থেকে আমার জন্য কিছু খাবার কিনো তো!(আমি)

ওকে ম্যাম।
বলেই আরিফ আশে পাশে তাকিয়ে ড্রাইভ করতে লাগলো।

আর আমি মনোযোগ দিয়ে আশেপাশের পরিবেশের সাথে নিজেকে মিলিয়ে ফেলতে চাইছি।কি হয়ে গেলো আমার সাথে?এমন জীবন তো আমি চাইনি।আমি তো শুধু ভালোবেসে ছিলাম।কিন্তু বিনিময়ে এই ধোঁকা কি আমার প্রাপ্য ছিল?
অভ্র তুমি কি সত্যি ঝুমের জন্য আমার কাছে এসেছিলে?আমাকে কি তুমি কোনোদিন মন থেকে ভালোবাসো নি!কোনো দিন না?আমাদের বিয়ে,ভালোবাসা,এই আট মাসের সংসার এই সব কি মিথ্যা ছিলো? অবশ্য এইসব আমার জন্য মিথ্যা তোমার জন্য তো তোমার প্রতিশোধের একটা অংশ।আমায় নিয়ে খেলেছো তুমি অভ্র!

এইসব কথা ভাবতেই আরিফ বলতে শুরু করলো।

ম্যাম এইযে আপনার জন্য পরোটা আর বাজি এনেছি।
বলেই আরিফ আমাকে একটা প্যাকেট দিলো।

প্যাকেটে হাতে ভাবলাম,আমি আমার ভাবনায় এতটাই মশগুল ছিলাম যে আরিফ কখন গাড়ি থামিয়ে খাবার আনতে গেলো টেরই পেলাম না।

আমি খেতে লাগলাম।আর আরিফ ড্রাইভ করতে লাগলো।

আরিফ তুমি খাবে না?(আমি খেতে খেতে)

নাহ।আপনি খান।আমি পরে খেয়ে নেবো।(আরিফ)

আরিফ, জয় কি তোমাকে কিছু বলেছে?(আমি)

ওহ হা। ও বলেছে অভ্রর লোক আসার আগেই নাকি ও ঝুমকে নিয়ে চলে গেছে।এখন অভ্রর লোক ঝুমকে খুঁজছে।(আরিফ)

যাক একটা তো ভালো খবর পেলাম।
বলেই একটা সস্থির নিশ্বাস নিলাম।


আমাদের সেখানে যেতে যেতে রাত হয়ে গেলো।
মাঝ রাস্তায় নেমে আমি আর আরিফ লাঞ্চ করেছি।রেস্ট নিয়েছি।আমার শরীর এমনি অনেক দুর্বল এই সময়ে আমাকে সাবধান থাকতে হবে।তাই খুব ঠান্ডা মাথায় আমি পা ফেলছি।


অন্যদিকে রাত বারোটায়
অভ্র চিন্তিত হয়ে গাড়িতে বসে আছে।
ঝুম কোথায় যেতে পারে?ঝুমুর তো নেই তাহলে ঝুমকে কে নিয়ে যেতে পারে?যে করেই হোক আমাকে ঝুমকে খুঁজতে হবে।ঝুম বাবা এতো বছর পর তোমাকে পেয়েছি আর তোমাকে হারাতে দেবো না।তোমাকে বলতে তো পারবো না যে আমি তোমার আব্বু।কিন্তু সারা জীবন তোমাকে পাশে রাখবো।আমার বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে রাখবো।

স্যার আমরা বাগান বাড়িতে এসে পড়েছি।(ড্রাইভার)

ড্রাইভারের গলা শুনে অভ্রর ঘোর কাটলো।
পরেই অভ্র গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে গেলো।যাওয়ার আগে একজনকে ফোন দিয়ে বললো ঝুমকে খুজে বের করার জন্য।


ভিতরে ঢুকে অভ্র অনেক অবাক হয়ে গেলো।চারপাশ মোমবাতির আলোয় আলোকিত।আর তার মধ্যে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।তার পরনে পাতলা নীল শাড়ি,,চুল গুলো ছাড়া, ছাড়া চুলের মধ্যে বেলী ফুলের মালা, হাতে সাদা চুড়ি,গলায় মুক্তার মালা।(এইসব কিছু আরিফকে দিয়ে পাশের এক মার্কেট থেকে কিনে এনেছে)
মেয়েটা খুবই মোহনীয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভ্র দিকে। আশে পাশের হালকা আলোয় মেয়েটার মোহনীয় চেহারাটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছে অভ্র।

ঝুমুর?(অভ্র অবাক হয়ে)

বেচেঁ আছি বলে অবাক হচ্ছো?(আমি মুচকি হাসি দিয়ে)

অভ্র রাগে ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে আছে।

এই প্রথম তোমার চোখে মুখে নিজের জন্য রাগ দেখেছি।হয়তো এইটাই তোমার আসল রূপ ছিলো।যা আমি আজ দেখতে পেলাম।(আমি তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে)

এখানে কি করছো?(অভ্র রাগে)

বোম ব্লাস্টে মারা গেলে তো তোমার বদলা অসম্পূর্ণ থেকে যেতো।তাই তোমার সামনে চলে আসলাম তোমার হাতে মরবো বলে।(আমি আবারও মুচকি হাসি দিয়ে টেবিলে বসলাম)

টেবিলে খুব সুন্দর করে খাবার সাজানো হয়েছে।আর খাবার গুলো আমি নিজের হাতে বানিয়েছি।

টেবিলে বসো।আমাকে মারবেই তো।মারার আগে তোমার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করি।কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই।আর সাথে শেষ ক্যান্ডেল লাইট ডিনারও করবো।(আমি অভ্রকে টেবিল দেখিয়ে)

অভ্র কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
ও সত্যিই অনেক অবাক আমার এই রূপ দেখে।
কি আশ্চর্য ব্যাপার তাই না!এই লোকটা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে,এই লোকটা আমাকে মারতে চায় আর আমিই এই লোকটার চোখের ভাষা পড়তে পারছি।কারণ আমি সত্যিই ওকে ভালোবেসেছি।

আমি নিজের ভাগ্যের উপর হেসে বললাম
কি হলো?বসো?

অভ্র কি যেনো ভেবে বসে পড়লো।হয়তো ও ভাবছে মরবে যখন সব কিছু জেনেই মরুক।

কি জানতে চাও বলো?(অভ্র)

বলবো!আগে আমি কষ্ট করে রান্না করেছি কিছু খেয়ে নাও।(আমি ওকে প্লেট এগিয়ে দিয়ে)

ও আমার হাত থেকে প্লেট ছুঁড়ে মারল।

আমার সাথে খেলতে আসবে না।জানে মেরে দেবো বললাম।(অভ্র আমার গালে কষে থাপ্পড় মেরে)

আমি মুচকি হেসে বললাম
আমাকে তো মেরেই ফেলবে।মরার আগে মিথ্যাই ঠিক।একটু তো ভালো বাসতেই পারো।একটু তো ভালো ব্যবহার করতেই পারো।

কি চাও তুমি?(অভ্র আমার গাল চেপে ধরলো)

আচ্ছা খাবার খেতে হবে না।বসে একটু কফি খাই।কফি খেতে খেতে কথা বলি।আর এর জন্য না হয় আমাকে আরেকটা থাপ্পড় মারো।(আমি ছলছল চোখে)

অভ্র দাত চেপে চেপে বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে বললো
এখন বলো তুমি কি জানতে চাও!

আমার সাথে এমন নাটক করার মানে কি ছিল?(আমি অভ্রর দিকে তাকিয়ে)

যেহেতু বেচেঁ ফিরে এসেছো সেহেতু সব তো জানোই কেনো করেছি।(অভ্র কফি খেতে খেতে)

আমি ওই কথা বলছি না।আমি বলছি এই এক বছর আমার সাথে ভালো মানুষের ভান কেনো করলে?(আমি)

ঝুমের জন্য!(অভ্র)

আমি কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে রইলাম।

ঝুমের সাথে তোমার বন্ধন খুবই মুজবুত। ও তোমাকে খুব ভালোবাসে।তোমাকে যে হার্ট করবে ও তাকে ঘৃনা করবে।আর যে তোমাকে ভালোবাসবে তাকে ও মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসবে।আর আমি চাইনি আমার ছেলে আমাকে ঘৃণা করুক।আমার ছেলের ভালবাসা পাওয়ার জন্যই আমি তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছি।তোমাকে ভালোবাসার নাটক করেছি।তোমাকে বিয়ে করেছি।এখন তুমি মারা গেলেও ঝুম আমার থেকে আলাদা হবে না।আর ঝুম কোনো দিন আমাকে ঘৃণাও করবে না। বরং আরো ভালোবাসবে।(অভ্র)

তুমি তো ওকে বলে দিলেই পারতে তুমি ওর আসল বাবা।আর আমি ওর কেউই না।(আমি)

বলতে চেয়েছিলাম।কিন্তু যখন আমি ওকে ওর বাবার কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম ও চোখে অভিমান,রাগ,ঘৃনা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম।সেদিন যদি ও জানতো আমি ওর বাবা তাহলে ও কোনোদিন আমার সাথে মিশার চেষ্টা করতো না।ভালোবাসা তো দূরে থাক।(অভ্র)

এই জন্য তুমি এতো কিছু করলে?(আমি কান্না আটকানোর চেষ্টা করে)

এইসব হয়েছে শুধু তোমার জন্য।তুমি ওর মনে আমার জন্য ঘৃনা না তৈরি করতে তাহলে এইসব কিছুই হয়না।(অভ্র রাগে কফির কাপ মাটিতে আছার মেরে)

আমি ওর মনে ঘৃনা, রাগ কোনোদিন সৃষ্টি করেনি। হ্যাঁ, ও অভিমানী কিন্তু রাগ পুষে কষ্ট দেয়ার মতো মানুষ আমি আমার ছেলেকে তৈরি করিনি।(আমি)

আমার ছেলে ও।আমার আর ঝিনুকের ছেলে।তোমার সাথে ওর কোনো সম্পর্ক নেই।তোমার মামা যদি ঝিনুককে না মেরে ফেলতো তাহলে আমার ছেলে আমার আর ঝিনুকের কাছে বড়ো হতো বাবা মায়ের আদরে বড়ো হতো।ওকে অনাথ তোমরা বানিয়েছো।আর এখন এসেছো ওর মা হতে।তুমি কোনোদিন ওর মা হতে পারবে না। ঝুমের মা শুধু ঝিনুক।আর আমার ভালোবাসা আর স্ত্রী একমাত্র ঝিনুক।আর কেউ না।আর তোমার মামার রাগ ছিলো ঝিনুকের বাবা মার উপর তাহলে উনি কেনো ঝিনুককে মারতে গেলো বলো?কেনো উনি ঝিনুককে মারলো? কেনো উনি আমার ভালোবাসার মানুষকে মারলো?(অভ্র রাগে আমার বাহু ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে)

মামা,ঝিনুককে মারেনি। ইন ফ্যাক্ট মামা জহির খান এবং উনার স্ত্রীকেও মারেনি।উনাদের আমি মেরেছি।আমি ঝিনুক,জহির খান আর উনার স্ত্রীকে মেরেছি।(আমি আমার বাহু জোড়া থেকে ওর হাত দুটো সরিয়ে)

তুমি?তুমি মেরেছো মানে?তখন তো তোমার বয়স,,,(অভ্র অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে)

আমি তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে ওর থেকে দূরে সরে চেয়ারের উপর পায়ের উপর পা তুলে বসলাম,,,
তখন আমার বয়স মাত্র পনেরো বছর ছিলো।আর আমার পনেরো বছর বয়সে আমি আমার জন্মদাতা পিতা আর উনার প্রথম স্ত্রীকে খুন করেছি।আর শুধু তাদের না।তাদের মেয়ে ঝিনুককে আমিই খুন করেছি।আর এই সত্যিটা এক মাত্র আমি জানি আর জানো তুমি!!।

শুনে অবাক হচ্ছো?।আচ্ছা তোমার সামনে যখন তোমার মাকে খুন করা হয় তখন তোমার কেমন লাগবে?
আচ্ছা তোমার কথা বাদ দিলাম।আমি বলছি আমার কেমন লেগেছে যখন জহির খান আর উনার স্ত্রী আমার চোখের সামনে আমার মাকে,আমার বাড়ির সুইমিং পুলের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছে।আমার খুব কষ্ট হয়েছে।নিজের বাবার হাতে নিজের মাকে হত্যা করতে দেখা।সেদিন পিলালের পেছনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সব কিছু আমি নিজের চোখে দেখেছি ওরা কেমন করে, কতোহিংস্র হয়ে আমার মাকে তিলে তিলে শেষ করেছে।জানো তখন আমার বয়স মাত্র আট বছর ছিলো। ঝুমের এখন যতটুকু বয়স সেই ততটুকু।আমার মধ্যে দিয়ে তখন চলে ছিলো তুমি বলতে পারো।দুই বছর আমার মুখ থেকে একটা কথাও বের হয়নি। তিলে তিলে আমিও যেনো শেষ হয়ে গেছি।অনেক মনবিজ্ঞানী দেখিয়ে আমাকে হিপ্নটিস করা হয়।আমাকে তাড়া ভুলে যেতে বাধ্য করে আমার পরিচয়।আমার মাকে,আমার মার খুনিকে সবাইকে।কিন্তু দুনিয়ার সামনে আমি সব ভুলে গেলেও ভিতরে ভিতরে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলাম।আমি কিছু ভুলি নি এইটা আরেকটা মানুষ জানতো আর সে আরিফ।
আমি আরিফকে বুঝাতে সক্ষম হই যে আমি কিছু না ভুললেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবো।তাই আরিফ আমার কথা কাউকে বলেনি।আরিফ জানে ওদের ট্রিটমেন্টের কারণে আমার অনেক কষ্ট হয়।আমার কষ্টের কথা চিন্তা করে ও সবার কাছ থেকে আমার কথা লুকিয়ে গেছে।
আমি জানতাম মামা ওদের কাছ থেকে বদলা নেবে।তাই আমি আরিফকে বলতাম ওরা কি করছে না করছে আমাকে সব আপডেট দিতে।
আরিফ খুব সাদাসিদে ছিলো,ও ভেবেছে যে ওরা যদি আমাকে বদলা নেয়ার কথা বলে তাহলে আমিও সব কিছু ছেড়ে নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে পারবো।কিন্তু ও জানতো না আমি ওদের প্ল্যান শুনে এদিকে নিজেই একটা প্ল্যান বানাচ্ছিলাম।

যেদিন ওরা জহির খান আর উনার স্ত্রীর কার অ্যাকসিডেন্ট করার প্ল্যান করে সেদিন আমি দেশে আসি।আমি সব কিছু আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিলাম।ওদের গাড়ি যখন গ্যারাজ থেকে চলতে শুরু করলো।তখন আমিও উনাদের পিছু পিছু সাইকেল দিয়ে যেতে লাগলাম।বিভিন্ন শর্ট কাট রাস্তা দিয়ে উনাদের গাড়ির পিছু নিতে লাগলাম।তারপর হটাৎ তাদের গাড়ি ব্রেক ফেল করে একটা গাছের গায়ে গিয়ে ধাক্কা খেল।কিন্তু তখন গাড়ির তেমন ডামেজ হয়নি। উনারাও জীবিত ছিলো।আমি গিয়ে উনাদের গাড়ির ট্যাংকিতে গ্যাস ম্যাশ দিয়ে বিস্ফোরণ করাই।যতক্ষণ পর্যন্ত উনাদের চিৎকার শুনতে পেয়েছি আর যতক্ষণ পর্যন্ত উনাদের গাড়ির দাউ দাউ করে জ্বলছিলো ততক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের বেচেঁ থাকার আর্তনাদ শুনতে ছিলাম।সারারাত সেখানে বসে বসে উনাদের গাড়ি পুড়তে দেখেছি।মনের মধ্যে দিয়ে যেনো কি এক শান্তি বয়ে গেছে কি বলবো তোমায়!

তুমি পাগল হয়ে গেছো?(অভ্র আমার কাছে এসে আমাকে ঝাঁকিয়ে বললো)

যেদিন ওরা আমার সামনে আমার মাকে মেরেছিল সেদিনই আমি নিজের মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি।(আমি বাকা হাসি দিয়ে)

জহির খান তোমার মাকে মেরেছে তাহলে তুমি কেনো ঝিনুক মেরেছো? ও তো ইনোসেন্ট ছিলো।(অভ্র)

এই প্রশ্ন যদি আমিও তোমাকে করি।ভুল আমি আর আমার মামা করেছি তাহলে তুমি মিতালীকে কেনো মেরেছো? ও তো ইনোসেন্ট ছিলো।(আমি অভ্রর দিকে তাকিয়ে)

ওইটা তো?(অভ্র আমার কাছ থেকে চোখ ফিরিয়ে)


চলবে,,,