#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২১
২১.
তরু সকালে যেই না বিছানা ছেড়ে উঠতে যাবে ওমনি প্রিয় তরুর হাতটা ধরে ফেলল। তরুর বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করতে লাগলো।এই একটা মানুষের স্পর্শ কেন এমন লাগে। যেন এই ছোয়ার মধ্যে রয়েছে হাজারো ভালোবাসার নিযার্স। যে নিযার্সের রয়েছে এক ভালো লাগার সন্ধিক্ষণ। তরু প্রিয় হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বলতে লাগলো,
কিছু বলবে?
প্রিয় ঘুম ঝড়ানো কন্ঠে বলতে লাগলো,
আযান দিয়েছে?
হুম।
তাহলে শাওয়ার নিয়ে নামায পড়ে রুম থেকে বের হবি।
শাওয়ারের কথা শুনে তরুর শরীর এখনই কাপতে লাগলো।এই শীতের সকালে শাওয়ার কেন। তাদের মাঝে তো ফিজিক্যাল কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। তরু কিছু বলতে যাবে তখনই প্রিয় বিছানা ছেড়ে উঠলো। উঠে তরুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
আমি জানি তরু তর মনের ভেতর এই মুহূর্তে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু তুই নিজেই ভেবে দেখ।আমি আর তুই শুধু জানি যে আমাদের ভেতর কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়নি। কিন্তু বাবা নাতাশা ওরা কি তা জানে।
তরু ভাবতে লাগলো আসলেই তো। তরু মুখটাকে কাচুমাচু করে প্রিয় দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট সুরে বলতে লাগলো,
ঠিক আছে।
এই তো গুড গার্ল।
কিছুক্ষণ পর তরু শাওয়ার নিয়ে ওয়াস রুম থেকে বের হলো। প্রিয় নামায সেরে মাত্র বিছানার উপর বসলো। হঠাৎ তরুর দিকে নজর যেতেই প্রিয় চোখ দুটো ঝল ঝল করে উঠলো। কারন তরু একটা হলুদ রঙের সুতি শাড়ি পড়েছে। সাদা ব্লাউজের সাথে। ভেজা চুল গুলো পড়ে আছে কমোড় পেরিয়ে যেগুলো বেয়ে টুপ টুপ পানি ঝড়ে পরছে ফ্লোরে। মেয়েটাকে কখনো এমন ভেজা চুল অবস্থায় দেখেনি সে। দেখলেও সেভাবে খেয়াল করেনি। কিন্তু আজ মেয়েটাকে যা অপরূপ বলে মনে হচ্ছে। যদি কোনো কবি হতো তাহলে নির্গাত এতক্ষণে খাতা কলম নিয়ে পাশে বসে বসে কবিতা লিখতো।
তরু গিয়ে ডেসিন টেবিলের সামনে বসলো।আয়নার দিকে তাকিয়ে পিঠের উপর পরে থাকা চুলগুলোকে আলগা করে সামনের দিকে ফেরালো।কারন ভেজা চুলের পানি গুলো জমাট বেধে ব্লাউজের পুরো ভিজে একাকার হয়ে আছে। পিঠ থেকে চুল সরিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছতে নিলো।প্রিয় নিজের চোখ জোড়া সেখানেই আটকে ফেলে। সাদা ব্লাউজ ভিজে শরীরের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। প্রিয় না চাইতেও বার বার সেদিকেই চোখ জোড়া আটকে যাচ্ছে। এক ঘোর লাগা কাজ করছে তার ভেতর। যে ঘোর থেকে সে বের হওয়াটা খুবই মুশকিল। প্রিয় এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে তরুর পিঠের দিকে। তরু আয়নার প্রিয়কে এভাবে দেখতে পেয়ে লজ্জায় তারাতাড়ি করে চুলগুলো পিঠের উপর ছাড়লো। চুলগুলো ছাড়তেই প্রিয়র ধ্যান ভেঙ্গে সেই ঘোর লাগা থেকে বের হয়। প্রিয় হালকা কাশ দিয়ে বেলকনিতে চলে যায়।তরু অযু করে নামায পড়ে রুম থেকে বের হয় সবার জন্য সকালের নাস্তা রেডি করতে।
প্রিয় বেলকনিতে দাড়িয়ে ভাবতে লাগলো।মেয়েটা তাকে এত করে চাইছে কেন। কি আছে মেয়েটার মাঝে যা ক্রমশই তাকে তার কাছে টানে। কিন্তু মেয়েটাকে তো সে কখনো আপন করে নিতে পারবেনা। কারন তার হাত পা যে বাঁধা।কিন্তু মেয়েটাকে বড্ড ভালো লাগে তার কাছে। যেটা সে কখনো প্রকাশ করতে পারবেনা। ভালো লাগাটা কি তাহলে ভালো লাগা হয়েই রয়ে যাবে। কখনো কি সেটা তার কাছে গিয়ে বলতে পারবেনা যে, তরু তকে আমার খুব ভালো লাগে। তুই সব সময় এভাবে সাজবি ওভাবে থাকবি। বলেই প্রিয় একটু মুচকি হাসলো। মেয়েটাকে সে ভালোবেসে ফেলেছে। এটা ঠিক ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। মেয়েটার বাচ্চা বাচ্চা কথা বলা সব কিছুকেই সে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু মেয়েটাও তো তাকে খুব ভালোবাসে। তাহলে কি সব কিছু ভুলে তাকে আপন করে নেওয়াটাই বেটার হবে।
প্রিয় এসব ভাবতে ভাবতেই নিচে থেকে ডাক পড়লো নাস্তা করার জন্য। ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল ৭টা বেজে গেছে। তার মানে ভোর ৫টা থেকে শুরু করে ৭টা পর্যন্ত সে তরুকে নিয়েই ভেবে গেছে। নিজের অজান্তেই হাসি চলে আসলো ঠোঁটের কোনে।
তরু নাস্তা সব কিছু রেডি করে সবাইকে ডাকতে লাগলো।নাতাশার এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। শরীরটা হয়তো ক্লান্তি লাগছে যা দগল গেছে তার উপর দিয়ে। তাই তরু প্রিয় আর আফজাল চৌধুরি মিলে নাস্তা করে চলে গেল। প্রিয় রুমে গিয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে লাগলো।তখন তরু রুমে ডুুকে প্রিয়কে বলতে লাগলো,,
প্রিয় ভাইয়া একটা কথা ছিল?
তরুর মুখে আজকাল ভাই ডাকটা শুনতে এত তিতা বলে মনে হয় সেটা প্রিয় বলে বোঝাতে পারবে না। তাই বিরক্তিকর হয়ে তরুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
এই কথায় কথায় আমাকে ভাই বলার মানে কি?
কেন তোমাকে তো ভাইয়া বলেই এতদিন সম্বোধন করে এসছি।এখন আবার কি হল।
না কিছুনা। কি বলবি বল?
তরু সোজা গিয়ে প্রিয়কে জরিয়ে ধরলো। প্রিয় এমন হুটহাট জরিয়ে ধরাটা কেমন যেন অস্বাভাবিক বলে মনে হল।তাই তরুকে সামনে দাড় করিয়ে বলতে লাগলো,
কি বলবি বল না?
তুমি আমাকে ভালোবাস তো?
তরুর কথা শুনে প্রিয় থতমত খেয়ে বলতে লাগলো,
হঠাৎ এমন প্রশ্ন?
তরু একটু ম্লানমুখে এক রোখা হাসি টেনে বলতে লাগলো,
না এমনেই। খুব করে মন চাইছিলো তোমার মুখ থেকে শুনার। যে তুমি আমাকে ভালোবাস।
প্রিয় কিছুই বললনা। বলতে তো অনেক ইচ্ছা করে। কিন্তু বিবেক যে বার বার বাধা দেয়। শুধু মাত্র বয়সের ডিফারেন্স মেক করে। প্রিয় অফিসের কাজে বেরিয়ে গেল।তরু আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো। তারপর এক রোখা হাসি টেনে বলতে লাগলো,
আমি জানি প্রিয় তুমি আমাকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাস। কিন্তু মুখে সেটা মেনে নিতে পারছো না। শুধু মাত্র বয়সের খাতিরে। কিন্তু আমার যে তোমাকে কাছে পেতে বড্ড ইচ্ছে করে। রাগের মাথায় তোমাকে বলেছিলাম একদিন ঠিকই তুমি আমার পেছন ঘুরবে।আমি আর তোমাকে পিছু ডাকবো না চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। কিন্তু দেখ তুমি ঠিকই তোমার জায়গায়ই রয়ে গেছ। শুধু আমিই পারিনি তোমার সাথে সেই অভিমানি কষ্টের চ্যালেঞ্জটাকে নিজের ভেতর চাপা রাখতে। সেই পিছু পিছু করে ঘুরেই যাচ্ছি তোমার পেছন কেবল একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। তবে দেখবে প্রিয় তুমি আমাকে ভালোবাসার কথাটা প্রকাশ করবে ঠিকই। কিন্তু তখন হয়তো আমার জীবনে দেরি হয়ে যাবে৷ তোমার সেই ডাকে হয়তো সাড়া দেওয়ার সময়টা পাব না। বিজি হয়ে যাব অনেক।
তরু কথাগুলো বলে আয়নার সামনে হাসার ছলে কাঁদতে লাগলো। ভেতরটা কেন যে ছাই হয়ে যাচ্ছে এক নিন্দিত ভালোবাসার আক্ষেপের পরিচর্যায়। চোখের পানিগুলোও বাদ মানছে না। বার বার গড়িয়ে পড়ছে।
ওফ কান্না করা এত বিরক্তিকর। যেটা আমার ভাগ্যেই আল্লাহ তায়ালা বেশি করে দিয়ে রেখেছে। হে খোদা তুমি আমাকে আর কয়টা দিন ধৈর্য্য দাও,জলদি দাও, এখনই দাও কুইক।
#চলবে
#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২২
কল্প আজ হসপিটালে যায়নি। সারাটাদিন নাতাশার সাথে কাটাতে চায়। কাটাতে চাইবেই না বা কেন দীর্ঘ ১০-১২বছর মেয়েটাকে এক তরফাভাবেই ভালোবেসে গেছে। যদিও তুলির সাথে সম্পর্কে জরিয়ে ছিলো।কিন্তু কথায় আছে না প্রথম কাউকে ভালোবাসার পর হাজারো মেয়ে কিংবা ছেলে যদি লাইফে আসে সেই প্রথমটার শূন্যতাই ভুলা যায়না। কারন সে যে এক আসক্তির ছোয়া।
নাতাশা টেবিলের উপর বসে বসে গল্পের বই পড়ছে। তরু রুমে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে তাই বসে বসে অমলেট আর রুটি খাচ্ছে। কিছুটা খাওয়ার পর নাতাশা দৌড়ে ওয়াস রুমে চলে যায়। কারন অমলেট তো ডিমের তৈরি। ডিমের গন্ধটাও কেমন যেন লাগছে। নাতাশা ওয়াস রুমের ভেতর গিয়ে বমি করতে লাগলো।কল্প এতক্ষণ যাবত বিছানার উপর বসে ছিল।নাতাশার এমন দৌড় দেয়া দেখে কল্প বিছানা ছেড়ে ওঠে দৌড়ে ওয়াস রুমে গেল।নাতাশা বমি করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে যেতে নিল।কল্প গিয়ে সোজা জরিয়ে ধরে মাথায় কিছুটা পানি দিয়ে বিছানার উপর এনে বসালো। তারপর তেজী গলায় বলতে লাগলো,
তোমাকে ওয়াসরুমে যাইতে বলতে কে?
কল্প আমার বমি পাইছিলো।
কল্প নাতাশার দিকে তাকিয়ে আদুরে মাখা কন্ঠে বলতে লাগলো,
খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা।
নাতাশা ধরাগ্রস্ত কন্ঠে বলল,
তোমার কষ্টের কাছে আমার কষ্ট তো কিছুই না।
কল্প বিছানা ছেড়ে ফ্লোরে নাতাশার সামনে বসে নাতাশার একটা হাত সামনে এনে বলতে লাগলো,।
নাতাশা তোমার যখনই যেখানে বমি পাবে সেখানেই বমি করে দিও।তোমাকে কষ্ট করে দৌড়ে ওয়াস রুম যেতে হবেনা।
নাতাশা তখন মুখটাকে বাকা করে বরতে লাগলো,,
পরিষ্কার করবেটা কে শুনি?
কেন, আমি।
তুমি তো হসপিটালে থাকবে সারাদিন।
সেটাই তো।
কল্প গালে হাত দিয়ে গভীর মনযোগ দিয়ে কিছু একটা ভাবতে লাগলো। তার কিছুক্ষণ পর নাতাশার হাত ধরে বলতে লাগলো,
যে কয়দিন না আমার অনাগত সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখতে পাচ্ছে। সেই কয়টা দিন হসপিটাল যাব না।
নাতাশা কল্পের দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
এটা হয়না কল্প। তুমি একজন সার্জারি হার্ট সার্জারি ডাক্তার। যেখানে অনেক লোকে হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপদে পরে তোমার কাছে আসে। আমাদের সন্তান আসতে অনেক দেরি আছে। আমি চাই তুমি তুমি নিয়মিত হসপিটাল এটেন্ড করো।
কল্প কিছু বলতে যাবে। তার আগেই নাতাশা থামিয়ে দিয়ে আবারও বলতে লাগলো,
আমার জন্য কিছু চিন্তা করতে হবেনা তোমায়। কারন আমার চিন্তা করার জন্য তরু আছে। কি পাগল মেয়ে, জানো সে আজ কি করেছে,
কি,
সকালে আমি নাস্তা করার জন্য সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে যাবো তখনই তরু নিচে থেকে কর্কুশ কন্ঠে বলতে লাগলো,
সোনা আপু আজ থেকে তোমার নিচে নামা বন্ধ।তুমি এখন থেকে আমার ভাইটাকে সময় দাও। আর আমাদের বেবিটাকে। যদি নিচে নেমেছো তাহলে আমার থেকে আর কেউ খারাপ হবে না। আর যদি কিছু দরকার পড়ে নিচে আসার জন্য তখন আমাকে বলবে আমি উপরে গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবো
কল্প নাতাশার কথা শুনে একটা সস্তিক নিশ্বাস নেয়। তারপর নাতাশার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
তরু কিন্তু একটা কথা বলেছে?
কোনটা?
এই যে তার ভাইকে সময় দিতে।
সময় তো দিচ্ছিই।আর কি?
উমহু।
কি? (অবাক হয়ে)
এই সময় না।
নাতাশা বোকার মত কল্পের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
তাহলে কি সময়।
পরক্ষণেই বুঝতে পারলো নাতাশা। বুঝতে পেরে মুখটাকে লজ্জায় কল্পের বাহুডোরে লুকালো।
________________
রাত ৮টা বাজে প্রিয় মাত্র অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হতে ওয়াস রুমে গেল।তরু প্রিয়র জন্য একটা হলুদ টিশার্ট আর ব্লাক রঙের একটা হাফ প্যান্ট বের করে বিছানার উপর রেখে দিল। হলুদ রঙ বরাবরই তরুর পছন্দের একটা রঙ। তাই প্রিয়কে হলুদে কেমন লাগে সেটা দেখার জন্যই এই আয়োজন। যদিও প্রিয় ওয়াস রুমের ভেতর থেকে কিছু একটা পরে বের হবে। কিছুক্ষণ পর প্রিয় ওয়াস রুম থেকে বের হলো। । প্রিয় খালি গায়ে নিচে একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পড়ে বের হলো। তরু ড্যাব ড্যাব করে প্রিয়র দিকে নিক্ষেপ করে রইলো।ওফ ছেলেটাকে এই মুহূর্তে যা লাগছে না। একদম দূর্দান্ত সুন্দর। ভেজা চুলগুলো পড়ে আছে কপালের উপর ভাজে ভাজে যেগুলো থেকে টুপ টুপ পানি বেয়ে পড়ছে নাকের ডগায়। বুকের লোমশগুলো পানি জমাবদ্ধতা হয়ে উন্মুক্ত হয়ে আছে। একটা ছেলেকে খালি এতটা আকর্ষন লাগতে পারে। সেটা তরুর জানা ছিলনা। তরু এক ধ্যান ও মন দিয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়র লোমশ ভরা বুকের দিকে। এ বুকটার ভেতর কবে প্রিয় নিজ ইচ্ছেতে টেনে নিয়ে বলবে। যে তরু আজ থেকে এটা তোর নিরাপত্তার একমাত্র স্থান। যেখান থেকে কোনো কিছুই তকে আমার থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। কথা গুলো কবে বলবে প্রিয় । সে কথাগুলো কি আদোও শুনতে পাবে নাকি তার আগেই জীবনের নতুন কোনো শিরোনাম ঘটবে তরুর জীবনে। এসব ভেবেই তরু গিয়ে প্রিয়কে হুট করে জরিয়ে ধরলো। তরুর এমন হুটহাট জরিয়ে ধরাটা প্রিয়র কাছে কেমন যেন লাগছে। মেয়েটা কেন এত মায়া বাড়াচ্ছে তার প্রতি। সে কি বুঝেনা তার এমন স্পর্শ যে প্রিয় নিজেকে কন্ট্রোল করতে কষ্ট হয়।প্রিয় তরুকে সামনে দাড় করিয়ে বলতে লাগলো,
কি রে তর আবার কি হলো।
তরু এক রোখা হাসি টেনে বলতে লাগলো,
কিছুনা। তোমাকে একটু ছুয়ে দিতে ইচ্ছে করছিলো। তাই এভাবে জরিয়ে ধরলাম।
প্রিয় কিছুই বলল না। চলে যেতে নিতেই তরু প্রিয়র হাতটা ধরে বলতে লাগলো,
বিছানার উপরে ঐ টিশার্টটা রাখা আছে ওটা একটু পরে নাও। তোমাকে হলুদ রঙে দেখতে মন চাইছে ভীষন।
প্রিয় বিছানার উপর তাকিয়ে দেখতে পেল। একটা হলুদ রঙের টিশার্ট রাখা। বৌয়ের আবদার বলে কথা প্রিয় টিশার্টটা পড়ে নিল।টিশার্ট পরে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো। চুলগুলো স্পাইক করে একপাশে রেখে তরুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
নে দেখ, মন ভরে দেখ। পরে যেন আর কোনো রকম আফসোস না করিস যে হলুদ রঙ পরে তর সামনে সঙ সেজে বসে থাকতে।
প্রিয়র কথাটা তরুর মনের ভেতর এক প্রকার আঘাতের মত করে বাঁধতে লাগলো । কিন্তু কেন এমন লাগলো প্রিয়র কথাটা সেটা বুঝতে পারছেনা। তরু একটু ম্লানমুখে হাসি দিয়ে বলতে লাগলো,
আশা করছি এমন আবদার সামনের দিকে আর আসবেনা প্রিয় ভাইয়া। হয়তো তরুর আবদার এখানেই সমাপ্তি ঘটতে যাবে। কিন্তু একটা কথা না বলে পারছি না, হলুদ রঙে তোমাক একদম হলুদ হিমু লাগছে৷ যদিও হিমু তোমার মত তেমন সুন্দর না৷
তরুর কথাগুলো প্রিয় কিছুই বুঝতে পারলোনা। সমাপ্তি দিয়ে কি বুঝাতে চাইছে তরু। তরু প্রিয়র থেকে সরে গিয়ে দাড়াতে যাবে হঠাৎ শরীরটা জীমূত হয়ে আসতে লাগলো। তরু মাথায় ধরে সেখানেই দাড়িয়ে পড়লো৷ প্রিয় বিষয়টা বুঝতে পেরে এগিয়ে যেতে নেয়। তরু প্রিয়কে থামিয়ে দিয়ে বলতে লাগে,,
ভয় পেও না এটা আমার অভিনয় ছিলো তোমার স্পর্শ পাওয়ার। সো নিজেকে সামলাতে দাও। নয়তো খারাপ কিছু হয়ে যাবে৷
প্রিয় তবুও তরুর দিকে এগিয়ে গেল।যেতেই তরু প্রিয়কে জরিয়ে ধরে ঠোঁট জোড়া এগিয়ে নিয়ে প্রিয়র ঠোঁটের সাথে ডুবাল। আচমকা এমন হওয়ায় প্রিয়র রাগ চেপে বসলো মাথার উপর। বলা নেই কওয়া নেই এভাবে হুটহাট চুমু দেওয়ার মানে কি। প্রিয় নিজের উপর আর কন্ট্রোল রাখতে পারলোনা। তরুকে সামনের দিকে এনে থাপ্পর বসলো তার গালে৷ তরু থাপ্পরের তাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে গিয়ে ছিটকে পড়লো দেয়ালের সাথে লাগিয়ে। দেয়ালের সাথে লেগে তরুর মাথায় অনেকটা চোট পায়। যা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগে। প্রিয় এমন একটা কাজ করবে সেটা তরু ভাবতেই পারেনি। প্রিয় নিজেও নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। এটা কি করে বসলো সে। কিভাবে তরুর গালে থাপ্পর মারলো। প্রিয় এগিয়ে যেতেই তরু তাকে থামিয়ে বলতে লাগলো,,
তোমাকে এত কষ্ট করে আসতে হবে না। আমি নিজেই উঠতে পারবো। আর ধন্যবাদ আমার ভালোবাসার বিনিময়ে এমন একটা জিনিস উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য।
#চলবে