#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা
#সুপ্তি_আনাম
পর্বঃ ২৪
বৃষ্টিসিক্ত অপরাহ্নে ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরছে আনজানা। সকাল থেকেই আবহাওয়াটা বেশ ভালো রৌদ্রস্নাত ছিলো। তাই আনজানা আর ছাতা নেয় নি। চারিদিকে মুষলধারে জমানো মেঘগুলো হয়ে নেমে আসছে। বৃষ্টির গতি বেড়েই চলছে। অর্ধসিক্ত কাপড়ে, দোকানের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে ইয়ানা। চারপাশে তেমন কোনো সিএনজির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। চারিদিকে বিরাজিত হচ্ছে অন্ধকার। ভয়ে তটস্থ হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এক দোকানের ছাদের নিচের সামান্য অংশে দাড়িয়ে থাকে আনজানা। চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে কিছু আসছে নাকি। নাহ, কোনো কিছুর দেখা পাওয়া গেলো না। উবার কল করবে ভেবে ফোনটা হাতে নিলেই, কই থেকে যেনো একটা ধবধবে সাদা গাড়ি তার সামনে এসে দাড়ায়। আনজানা কিছু বলতে নিবে তখনই একজনের কথায় গাড়ি থেকে নেমে আসে কিছু যুবক। আনজানাকে টেনে গাড়িতে নিয়ে যেয়ে বসায়। হার্টবিট ফাস্ট হয়ে যায় ইয়ানার৷ বুকের ভেতরে ভয়েরা রীতিমতো আন্দলোন শুরু করে দিয়েছে। আতঙ্কে জান শুকিয়ে যাচ্ছে তার। আনজানা ছটফটানি করতে নিলেই একজন কালো কাপড় দিয়ে তার মুখ ও হাত বেধে দেয়। তবে আনজানার দিকে তাকাচ্ছে না কেউ। ভয়কাতুরে দৃষ্টিতে সবাইকে পরখ করে নেয় আনজানা। ছেলেগুলোকে দেখে বেশ ভালো মনে হচ্ছে। মোটেও কোনো মাফিয়া টাইপ বা গুন্ডা টাইপ মনে হচ্ছেনা৷ কিন্তু এরা আনজানাকে কিডন্যাপ কেন করছে? আনজানা ছটফটাতে নিলেই একজন তারদিকে তাকিয়ে বলে,
–‘দোহাই লাগে, এমন করবেন না। আমরা আপনার কোনো ক্ষতি করব না।’
লোকার এহেন কথায় থ বনে যায় আনজানা। চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে লোকটার দিকে, নিষ্পলক সে দৃষ্টি। তবে, লোকটা তার দিকে না তাকিয়ে অন্য পানে তাকিয়ে আছে। মুখ বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও কথা বলার চেষ্টা করে আনজানা। সে জানতে চাইছে, প্রবলভাবে জানতে চাইছে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারদিকে লোকটা তাকিয়ে তার হাসফাস অবস্থা দেখে বলে,
–‘কি হলো, জানতে চাইছেন কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? আগে চলুন তারপর না-হয় বলবো’
ছটফটানি বাড়িয়ে দেয় আনজানা। অস্বস্তি লাগছে তার এভাবে বেঁধে থেকে। তবে, ভয়টা যেন কাটতেই চাইছে না। লোকটা যে মিথ্যা বলবে না, তার গ্যারান্টি কি? বারবার শুকনো ঢোক গিলেই চলছে। কথাগুলো বারবার যেনো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। হাতটা ছটফটিয়ে রশির বাঁধন থেকে মুক্ত হতে চাইছে সে।
–‘দেখুন, এভাবে বাচ্চা ছাগলের মতো লাফালাফি করলে এখনই ঘুমের ওষুধ শরীরে পুশ করতে পিছপা হবো না!’
ছটফটানি থেমে যায় আনজানার। বারবার বিষ্ময়ের সাথে তাকাচ্ছে লোকটার মুখ পানে। সবার দিকে পরখ করে নেয় সে। সবার মুখটা কেমন অন্ধকার হয়ে আছে। সবার বিষন্ন চাহনি, আর ফ্যাকাশে মুখ। ছেলেগুলোর বাহিরের রূপ দেখে কে বলবে, এরা কিডন্যাপকারী?
খটকা লাগে আনজানার। চুপচাপ তাদের সাথে চলতে থাকে সে। বুকের ভেতরে দ্রিম দ্রিম শব্দটা ক্রমশই বেড়ে চলছে। না জানি কি অপেক্ষা করছে তার জন্য….!
———————-
নিশ্চিন্তে ঘুমোতে ব্যস্ত ইয়ানা। দুপুরে খুব একটা ঘুমোয় না সে। তবে আজ কেনো জানি রাজ্যের ঘুম লাগছে। সে দুপুর থেকে সন্ধ্যা অব্দি ঘুমাচ্ছে।আজ তারাতাড়ি ফিরেছে আনাজ। তেমন কোনো পেশেন্ট ছিলো না, বৃষ্টি বলে। দেড়শোজন পেশেন্ট দেখেই বাসায় চলে আসে সে। এসেই জানতে পারে আনজানা এখনো ফিরেনি। আয়নার মুখটা ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে। তখনতো আনজানা বললো সে ভার্সিটিতে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে ফিরবে। কিন্তু আসার কোনো নামগন্ধ নেই। বারবার ফোন করলেও নম্বর বন্ধ আসছে। বাসায় এসে এখবর শোনার সাথে সাথে আনাজ স্টাফদের পাঠিয়ে দেয় ভার্সিটির আসেপাশে খোঁজ করার জন্য, হতে পারে বৃষ্টির জন্য আনজানা কোথাও আটকা পরেছে। তবে তার স্টাফরা জানায় সব জায়গায় সার্চ করেছে বাট কোথাও পায় নি। ভরকে যায় আনাজ। নিজেই রেডি হয় আনজার খোঁজ করতে।রুমে এসে রেডি হতেই দেখে ইয়ানা ঘুমে বিভোর। চটজলদি ওয়াশরুম থেকে মুঠোয় করে পানি নিয়ে যেয়ে ইয়ানার মুখে ছিটিয়ে দেয় আনাজ। ইয়ানা চেহারায় একরাশ বিরক্তির আভাসে ছেয়ে যায়। চোখদুটো টেনে টেনে খুলে কিছু বলতে যাবে তখনই আনাজ বলে,
-‘দেখো চিল্লাচিল্লি করার সময় এখন নেই। আনাজানা ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে নি। কলে ট্রাই করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তোমাকে কিছু বলেছে? ‘
আনাজের কথায় ঘুমটা কর্পূরের ন্যায় উড়ে যায় ইয়ানার। মাত্রই সে ঠিক শুনলো? চোখদুটো রসগোল্লার আাকার ধারণ করে।
–‘হোয়াট? আনজু বাসায় ফিরে নি? ‘
—‘না, তোমার এন্সার পরে করবো, এখনই আমাকে যেতে হবে। দেখো মা কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে পরছে, যেয়ে একটু বুঝ দাও’
আর কথা না বাড়িয়ে আয়নার কাছে ছুটে যায় ইয়ানা। মুখ আঁচল দিয়ে ঢেকে কেঁদেই চলছেন তিনি। ইয়ানাকে দেখে কান্নার বেগটা বেড়ে যায় তার। ইয়ানা ছুটে এসে আয়নাকে সন্তপর্ণে জড়িয়ে ধরে। আয়না ইয়ানার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে থাকেন।
–‘মা, এভাবে কাঁদিয়েন না। আনজানার কিছু হয় নি তো।হয়তো ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরাঘুরি করছে। এতোদিন দিদার বাসায় ছিলো…
–‘তাহলে ফোন বন্ধ কেনো? ‘
ক্রন্দনরত কন্ঠে বলেন আয়না। স্তব্ধ হয়ে পরে ইয়ানা। আসলেই আনজানার কিছু হয় নি তো? আয়নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ইয়ানা।
–‘মা এভাবে কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে পড়লে, নিঃসন্দেহে আপনার শরীর খারাপ করবে। আপনি শান্ত হন। আনজানা একদম ঠিক আছে দেখবেন।’
ইয়ানার কথায় কর্ণপাত না করে আবারো হেঁচকি তুলে কাঁদতে লাগেন আয়না। হঠাৎ ইয়ানার মনে পড়ে…..
চলবে,,,
#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা
#সুপ্তি_আনাম
পর্বঃ ২৫
অন্ধকারাচ্ছন্ন নিরিবিলি একটা গোডাউনের মতো জায়গায় চেয়ারে বসে আছে আনজানা। চেয়ারের সাথে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে তার। শ্বাস নিতে পারছে না সে। এতো চিৎকার চেচামেচি করলেও কাউকে পাচ্ছে না। গলা শুকিয়ে এসেছে। খুব শক্ত দড়ি দিয়ে এক্রোসলি বেঁধে দেওয়া হয়েছে যার দরুন ছটফট করলে বা চেষ্টা চালালেও ছিড়ে ফেলা সম্ভব নয়। কিছুক্ষণ আগে তাকে গাড়ি থেকে ছেলেগুলো নামিয়ে দেয়। আনজানাকে টেনে হিচড়ে গোডাউনের ভেতরে ঢোকানো হয়। তারা বারংবার আনজানাকে আশ্বাস দিচ্ছিলো আনজানার কোনো ক্ষতি করবে না। খানিক বাদেই একটা লোক গোডাউনে প্রবেশ করে। ভয়ে কাঠ হয়ে যায় আনজানা। মূর্তির মতো বসে আছে সে। ভেতরে ভেতরে অক্কা পাওয়ার উপক্রমণিকায় আছে!
লোকটা ভেতরে হনহনিয়ে প্রবেশ করে। আবছা কৃত্রিম আলোয় আনজানা তার মুখশ্রী দেখতে পায়। লোকটাকে চিনতে দেরি হলো না,, এই লোকটাই তো তাকে কিডন্যাপ করে এনেছে। লোকটার মুখ একঝাঁক আতঙ্কে গ্রাস করছে।
আনজানার কাছে এসে লোকটি তার পায়ের কাছে বসে যায়। তার এহেন কান্ডে ভরকে যায় আনজানা। চিল্লাতেও পারছে না, তার মুখ যে বাঁধা!
লোকটি তার দু’পায়ে হাত দিয়ে মুহূর্তেই ডুকরে কেদে দেয়! ভেবাচেকা খেয়ে যায় আনজানা। কি হচ্ছে বোধগম্য হচ্ছে না তার।
—‘আপনার রিকোয়েস্ট লাগে, আপনি আমার বন্ধুকে বাঁচান। পাগল হয়ে যাচ্ছে সে। আমরা আর নিতে পারছি না (কান্নার বেগ বেড়ে যায়) আমার বন্ধুকে কষ্টগুলো কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আমরা কি এভাবে তাকে থাকতে দিতে পারি বলেন?’
কথার কোনো মানে বুঝতে পারে না আনজানা। আর না কিছু বলতে পারছে। লোকটার দিকে তাকিয়ে মুখের বাঁধন এর দিকে ইশারা করতেই লোকটা মুখের বাঁধনটা খুলে দেয়। জোড়ে জোড়ে শ্বাস ফেলতে শুরু করে আনজানা। ঠোঁট যুগল প্রসারিত করে সে।
–‘কি হয়েছে আপনার বন্ধুর? আর আমাকে এখানে এনেছেন কেন?’ (থমথমে কন্ঠে)
–‘আদ্র! আদ্র কে মনে আছে আপনার? ওই যে সেদিন প্রপোজ করেছিলো? মনে পড়ছে?
ছেলেটা ভিষণ ভালোবাসে আপনাকে। আপনার পাগল ও! এই কয়দিন আপনি ছিলেন না। আপনাকে দেখতে না পেয়ে কি কিই না করেছে। আপনাকে দেখতে না পেয়ে নিজেকে কষ্ট দিতে শুরু করে সে। বারবার নিজেকে ছুরিকাঘাত করে, ড্রাগস এডিক্টেড হয়ে পড়ে। সারাদিন নেশায় বুদ হয়ে থাকে। সব ভেঙে ফেলতে চায়। ও….ও নিজেকে শে*ষ করে ফেলতে চাচ্ছে। তার উন্মাদনা কারোই সহ্য হচ্ছে না। আপনিই পারেন আদ্রকে বাঁচাতে পারবেন না আনজানা? বলেন?
আনজানার পা ধরে রীতিমতো কাঁদতে শুরু করে লোকটা। আনজানা ঘোরের মধ্যে আছে। নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছে না।
–‘আপনি আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছেন? ‘
আবার আনজানার পা ধরে কাদতে শুরু করে লোকটা।
–‘আপনিই ও তো মানুষ তাই না? মানুষের আবেগ বুঝেন নিশ্চয়ই? তাহলে কেনো আমার বন্ধুর জিবনটাকে জাহান্নাম বানাচ্ছেন? কেনো বুঝছেন না সে আপনাকে ভালোবাসে?’
বাকরুদ্ধ! আনজানা একদম বাকরুদ্ধ। লোকটার চোখের পানি পড়ে টিশার্টটা ভিজে গিয়েছে। হাত দিয়ে সিক্ত অংশ গুলোকে ভালোমতো মুছে নেয় সে। বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে শান্ত হয় সে। আনজানার দড়িগুলো খুলতে শুরু করে সে। খুলে দিয়েই আনজানাকে নিয়ে গোডাউন থেকে অন্য ঘরের মতো জায়গায় যায় সে। আনজানা লোকটার আদেশে তার পিছে পিছে চলতে শুরু করে। ভয়ার্ত চোখে এদিক ওদিক পরখ করে নেয়।
লোকটা আরেকটা অন্ধকার মতো ঘরে নিয়ে যায়।
ঘরের বাহিরে গেটের কাছে আনাজাকে লোকটা বলে,
–‘আমার ভাইটারে একটু দেখিয়েন’
চলে যায় লোকটা। আনজানাকে একা ফেলে। একরাশ ভয় ঝেকে ধরে আনজানাকে। হৃদ স্পন্দন বেড়ে গিয়ে রীতিমতো দৌড়াতে শুরু করে। দরজায় আস্তে করে একটু টোকা দেয় সে। মুহূর্তেই দরজাটা খুলে যায়। ভয়ে ভয়ে ঘরটায় প্রবেশ করে সে। অন্ধকারময়ী রুমটা হালকা সবুজ রঙের কৃত্রিম আলোয় টিমটিম করে জ্বলছে । হালকা আলতেই বোঝা যাচ্ছে চতুর্দিকটা। কাঁপতে কাঁপতে এগোতে শুরু করে আনজানা। দৃশ্যমান হয় সামনে থাকা হ্যান্ডসাম হান্ক আদ্রকে। একটা টেবিলের ওপর অনেক কিছু রাখা। ওপাশে তাকিয়ে আছে আদ্র। ওয়াইনের গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক চুমুকে পান করে ফেলে পানীয়জাত জিনিসটা। এক নিঃশ্বাসে খেয়েই কাচের গ্লাসটা স্বজড়ে ফ্লোরে ছুড়ে মারে। বিকট আওয়াজ হয়। আওয়াজে ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে আনজানা। আনজানার আওয়াজ কানে বাড়ি খেতেই চটজলদি তার দিকে তাকায় আদ্র। আশ্চর্য হয়ে যায় সে। ‘আনজানা’ বলে দৌড়ে ছুটে আসে তার কাছে।
.
.
.
চলবে,,,
#একমুঠো_সুপ্ত_বাসনা
#সুপ্তি_আনাম
পর্বঃ ২৬
আনজানার আওয়াজ কানে বাড়ি খেতেই তার কাছপ ছুটে আসে আদ্র। ভয় পেয়ে যায় আনজানা। ভয়ের ঠেলায় দু’কদম পিছিয়ে যায় সে। আদ্র তার দিকে এগিয়ে আসে। দেওয়ালের সাথে ঠেকে মিশে যায় আনজানার শরীর। রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেছে সে। আরো এগিয়ে আসে আদ্র। আনজানার কাছে এসে দু’হাত দিয়ে তার গাল স্পর্শ করে সে। ঠান্ডা শিহরণ বয়ে যায় আনজানার শরীরে। আদ্র কাছে আসতেই এক বাজখাঁই গন্ধ নাকে এসে লাগে আনজানার। মুখ পাঁচ এর মতো হয়ে যায়। আদ্রকে ধাক্কা দিয়েও সরিয়ে দিতে অক্ষম হয়। আদ্রর বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না। আনজানার থুতনিতে হাত দিয়ে মুখ তার দিকে ধরে আদ্র। চোখাচোখি হয় তাদের। আনজানার মুখ বিষাদে ছেয়ে যায় আদ্রর এমন অবস্থা দেখে। ফ্যাকাশে মুখে তার দিকে অবাকের চাহনিতে চেয়ে আছে সে। চুলগুলো উষ্কখুষ্ক হয়ে আছে। ঠোঁটযুগল শুখিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। রক্তিমলাল বর্ণের চোখজোড়া যেন স্বাক্ষী দিচ্ছে কতরাত নির্ঘুম পার করেছে! শার্টের বোতামগুলোও কেমন এলোমেলো করে লাগানো, উপরের বোতাম খোলা। এ যেন এক বিধ্বস্ত আদ্র।
–‘আমাকে ধ্বংস করে সিলেটের ট্রিপ খুব এনজয় করেছো হুম? ‘
আনজানার চোখের কোণে পানি এসে জড়ো হয় । বুঝতে পারে আদ্র তার শূন্যতায় কষ্টের পাহাড় জমাচ্ছিলো! চোখের পানি আদ্রর আড়াল করতে অন্যদিকে দৃষ্টি দেয় আনজানা। আদ্র দেখছে প্রাণ ভরে দেখছে তার প্রণয়িনী কে। আনজানার মুখে বোধ হয় কোনো নেশা মিশ্রিত আছে, যেই নেশার প্রতি গভীর আসক্তি রয়েছে আদ্রর!
আনজানার এলোমেলো চুলগুলোকে সযত্নে কানের পিঠে গুজে দেয় আদ্র। অন্যদিকে তাকিয়ে আছে আনজানা। মুখ থেকে আওয়াজ বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আদ্র চুল গুঁজে দিচ্ছে এমন সময় তাঁর গালে টুপ করে কোনো তরল পরা অনুভব করে আনজানা। তার নিজ গালে হাত দিয়ে দেখে লাল তরল, তার হাতটা রঞ্জিত হয়ে যায়। চটজলদি আদ্র র হাতের দিকে তাকাতেই দেখে রক্তের বন্যা বয়ে চলছে! আদ্রর হাতটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। রক্তের স্রোত বয়ে ফ্লোরে যেয়ে পরছে। ফ্লোরটাও রক্তে টইটম্বুর!
–‘আরে, রক্ত! আপনার হাতের একি অবস্থা হয়েছে? ‘
চিৎকার দিয়ে আনজানা বলে। ম্লান হাসি দেয় আদ্র।
–‘এভাবে কেউ নিজেকে আঘাত করে? পাগল মানুষ? থামেন’
আদ্রকে সরিয়ে দিয়ে রুমের বাহিরে যায় আনজানা। তার চিল্লাচিল্লিতে তাকে কিডন্যাপ করা লোকগুলো ছুটে আসে।
আতঙ্কিত হয়ে বলে,
–‘কি…কি হয়েছে? সব ঠিক আছে? আদ্র…
লোকটাকে বলতে না দিয়েই আনজানা বলে,
–‘নাহ, সব ঠিক নেই আদ্র নিজের হাতে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেছে । জলদি চলুন তাকে হসপিটালে নিতে হবে’
লোকটা আরো কয়জনকে নিয়ে ছুটে আসে আদ্রর কাছে। আনজানা আদ্রর কাছে যেতেই আদ্র টাল হয়ে তার কাছে আসে। এসেই জ্ঞান হারিয়ে আনজানার উপর ঢুলে পরে সে। আদ্রর বাহুদ্বয় শক্ত করে চেপে ধরে আনজানা।
—————-
বাসায় কেদে কেদে অস্থির আয়না। রাত হয়ে চলল তাও মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। আনাজ একদিক সেদিক ছোটাছুটি করলেও বারবার তা ব্যর্থ প্রচেষ্টা হচ্ছে! থানায় গিয়ে আইনকে ব্যক্ত করলে তারা জানিয়েছে চব্বিশ ঘণ্টার আগে তারা কোনো একশান নিতে পারবে না।
আনজানার সব বান্ধবীকে ফোন করা হয়েছে। আনজানার ফোনে এখনো ট্রাই করা হচ্ছে। রিং হচ্ছে তবে উঠছে না। নম্বর ট্র্যাক করে লোকেশান বের করার চেষ্টা চালায় আনাজ। তার আগেই আনজানার নম্বর থেকে কল আসে। চটজলদি রিসিভ করে নেয় আনাজ৷ সবার আগ্রহী চাহনি আনাজে আবদ্ধ। আনাজ অস্থির হয়ে ‘হ্যালো’ বলতেই অপরপাশ থেকে ভেসে আসে…..
চলবে,