
#এক_টুকরো_মেঘ ☁️
#ইফা_আমহৃদ
পর্ব::৩০(অন্তিম)
— মাম্মা তুমি অলেক পতা ।।সবাল মাম্মা তো সবাল সাথে থাকে ।।তুমি কেন আমাদেল সাথে থাকো না।।জানো মাম্মা তুপি যখন ফুহুকে আদল করে,, ভালোবাসে,,খাইয়ে দেয়।।আমাল তোমাল কতা খুব মনে পলে।।তুমি কেন সবসময় আমাদেল সাথে থাকো না মাম্মা।কেন শুধুমাত্র পাপা আমাকে খাইয়ে দেয়,,,অন্যদের মতো তুমি কেল দাও না।।(কাঁদতে কাঁদতে মা বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বললো তুর)
তুরের কথা শুনে গাল বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো অরিশের ।। সবসময় নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করে মায়ের আদর পূরন করার।। কিন্তু সেটা যে পূরন করতে পারে না অরিশ মেয়েকে দেখে স্পষ্ট অনুভব করলো সে।।এমন সময় তার কাঁধে হাত রাখলো আরশি।।ভাইকে তার দিকে ফিরিয়ে চোখের অশ্রু মুছিয়ে দিলো।।
— ভাই তুই তুরকে সত্যি টা কেন বলছিস না।।ওর তো জানার অধিকার আছে ওর মাম্মা সবসময় কেন ওদের সাথে থাকে না।।তুই তুরকে বল বল দেখবি তুর সবটা বুঝতে পারবে ,, এভাবে যখন তখন তুর কাঁদবে না।।(তুরের দিকে তাকিয়ে আরশি)
— এইটুকু একটা বাচ্চা নিতে পারবে না,, তার মাম্মা সবসময় কেন তার সাথে থাকে না।।যদি পারতাম তাহলে দৌড়ে গিয়ে তরীকে এনে ওর পাশে দাঁড় করাতাম ।।আজ তুরের কষ্টের জন্য সবদিক থেকে আমি দায়ি।। আমার জন্য আজ মা মেয়ে অনেকটা আলাদা ।।(আশ্রুশিক্ত নয়নে অরিশ)
— সরি মাম্মা আসতে অনেক দেরী হয়ে গেল।।বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে ,, রাস্তায় পানি তাই গাড়িটা হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেল।।(ইনোসেন্স ফেইস করে আমি)
একনজর আমার দিকে তুর দৌড়ে আমার কাছে এসে ঝাপটে ধরে কেঁদে দিলো।।তুরের কান্না দেখে আমার খুব কান্না পেল ।।আমি আস্তে করে তুরকে আমার থেকে ছাড়িয়ে ,,, ওর কপালে ঠোঁট জোড়া ছুঁইয়ে দিয়ে ,, শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।।তুর আমাকে জরিয়ে ধরে আছে আর মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে।।বুঝতে পারছি অনেকক্ষন ধরে কাঁদছে।।
— কি হয়েছে মাম্মা এভাবে কাঁদছো কেন?? দেখো আমি তোমার কাছে চলে এসেছি ?? প্লিজ কেঁদো না সোনা ।।আমি তোমার জন্য অনেক চকলেট ,, জামাকাপড় ,, টেডি নিয়ে এসেছি।।(চোখের অশ্রু মুছিয়ে দিতে দিতে আমি)
— তুমি একদম আমাল সাথে কতা বলবে না।।তুমি অলেক পতা।। দুদিনের জন্য আসো আবার চলে যাও।।তোমাকে আর কখনো আমার কাছে আসতে হবে না, চলে যাও এখন থেকে।।লাগবে না তোমার তকনেট,,তেতি,,জামা কাপড়।।(নাক টেনে বেডে বসে তুর)
— এই তো কান-নাক ধরছি ,, এভাবে রেগে থেকো না সোনা।। আমি আর কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবো না।প্রমিস ।।(কানে হাত দিয়ে আমি)
— তত্যি মাম্মা তুমি আল যাবে না।।(আমার গলা জরিয়ে ধরে তুর)
— সত্যি সোনা আমি আর কখনো আমার তুরকে ছেড়ে যাবো না।।(মাথায় একটা চুমু দিয়ে)এসো আমি তোমাকে গোসল করিয়ে দিচ্ছি ,, তারপর খাইয়ে দেবো ।। কেমন।।
— মাম্মা আমি গোছল কততে পাববো ,, তুমি তোমাল জামা কাপড় বদলে নাও ,, একদম ভিজে গেছো ,, নাহলে টান্ডা লেখে যাবে!! (টেডি স্মাইল দিয়ে তুর)
— মামনি তুমি এসেছো ,, আমার জন্য কি কি এনেছো।।আর আমাকেও খাইয়ে দিবে ।।(দৌড়ে এসে ফুহাত)
— তুকে কেল আমাল মাম্মা খাইয়ে দিবে ।আর মাম্মা আমাল জন্য তকনেট ,, তেতি জামা কাপড় এনেছে ।।তোল জন্য নয় বুঝছিস ।।যা এখাল থেকে ।। (ফুহাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে)
সাথে সাথে ফুহাদ ভ্যাঁ ভ্যাঁ ভ্যাঁ কেদে উঠলো।।
— তুর এটা কোন ধরনের অসভ্যেতামি ।।কেউ তার বড় ভাইকে ফেলে দেয় ।।(চোখ গরম করে আমি)
— তুমি অলেক পতা মাম্মা ।। শুধু শুধু আমাতে বকো।।তুপি আমালে তকনেট কিনে দিসে আর ও নিয়ে গেছে।।আল কি বলেতে জানো ,, বলেছে তুমি নাকি আতবে কোনোদিন আতবে ,, আমালে আদল কববে না।।(নাক টেনে ওয়াসরুমে ঢুকে যেতে যেতে তুর)
— ফুহাদ তুই তুরকে বলেছিস ওর মাম্মা আর কোনোদিন আসবে না।। (চোখ গরম করে আরশি)
— হ্যা বলেছি ,, আমার ইচ্ছে হয়েছে বলেছি ।।তুমি তুরকে চকলেট কিনে দিছো,, আমাকে কেন দিলে না।।
(ভেংচি কেটে ফুহাদ)
৫ বছরে বদলে গেছে সবকিছু ।।অরিশ আর আমার ছোট একটা মেয়ে হয়েছে ।।৩ বছর বয়স তার ,, কিন্তু এমন কথা বলে মনে হয় পাকা বুড়ি।। প্রোগ্রাম ,, রেকডিং হেন তেন বিভিন্ন কাজে গত এক বছরের অধিকাংশ সময়ই আমাকে দেশের বাহিরে থাকতে হয়েছিল।।তুর আর অরিশকে ছেড়ে যেতে চাই নি ।।। অরিশ আর তুর এক আত্মা এক প্রান ।।তাই আমি হাজার চেয়েও ওদের আলাদা করতে পারি নি।। অনেকবার বলেছিলাম ,,আমি ওদের ছেড়ে কোথাও যাবো না,, কিন্তু অরিশ জোড় করে আমাকে পাঠাতো।। কিন্তু এবার আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি ।।আর কখনো তুরকে ছেড়ে একপাও ফেলবো না।।এদিকে ফারহান আর আরশিরও একটা ছেলে হয়েছে,, তার নাম ফুহাদ।।খুব দুরন্ত সে ।।বয়স সাড়ে ৩ বছর।।
মেয়ের মুখে এমন পাকা পাকা করা শুনে বুকটা আনন্দে ভরে উঠলো আমার।। সেদিন যদি অরিশের পাগলামিতে সায় না দিতাম তাহলে আজ তুর আমার অন্ধকার জীবনে আলোড়ন নিয়ে আসতো না।।সামনে থাকা অরিশ আর আরশির দিকে একবার তাকিয়ে বেলকেনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম ।।ভাবতে লাগলাম সেদিনের কথা…….!!!!
___________ফ্ল্যাসব্যাক _________
নিচের দিকে তাকিয়ে আছে অরিশ।।আজ তার ইচ্ছে করছে প্রিয় মানুষটির আগেই এই পৃথিবী ছাড়তে ,, কিন্তু সে যে অপারক।। হাজার চেয়েও শিকলের থেকে মুক্তি মিললো না তার ।।ঠাস কোনো আওয়াজ পেয়ে মাথা তুলে তাকালো সে।। গলায় পেঁচানো বিয়ের ওরনাটা ছিঁড়ে পড়ে আছে তরিন।।মাথা থেকে ফিকনি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।। একবার তাকিয়ে ভালোভাবে পরখ করে নিলো ।। সে বুঝতে পারলো মাথায় আঘাত পাওয়াতে তরিন জ্ঞান হারিয়েছে।।যেটা দেখে শান্তির নিশ্বাস নিলো সে ।। হঠাৎ খেয়াল করলো ,, পায়ের কাছে তরিনের ফোনটা পড়ে আছে।।হয়তো পড়ে যাওয়ার সময় ছিটকে তার পায়ের কাছে এসে পড়েছে। হাত বন্ধ থাকায় পায়ের আঙ্গুল দিয়ে অনেক কষ্ট রাফিকে টেক্সট করলো সে।। প্রায় ঘন্টাখানেক পর সেখানে এসে উপস্থিত হলো তার পরিবার।।আরশি গিয়েই নিচে পড়ে থাকা ছেঁড়া শাড়িটা তুলে তরিনকে পেঁচিয়ে দিলো।। এদিকে অনেকক্ষনের চেষ্টায় অরিশকে শিকল থেকে মুক্ত করে রাফি আর ফারহান।।মুক্ত করার সাথে সাথে অরিশ দৌড়ে তরিনের কাছে গিয়ে তার মাথাটা নিজের বুকে রেখে চিৎকার করে কেঁদে উঠে সে।। হসপিটালের এডমিট করার পর সারাক্ষণ তরিনকে বুকের মধ্যে রেখেছে ।। তার পাগলামিতে হসপিটালের সকল ডাক্তার ,, নার্স এক প্রকার বিরক্ত হয়েছে।। সাথে অবাকও হয়েছে এই ভেবে ,, মানুষ তার ভালোবাসার জন্য কতো কিছু করতে পারে।।।
বর্তমানে______
কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলে তাকালাম আমি।।না চাইতেও গাল বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো।।আরশিকে দেখে তাকে ঝাপটে ধরে কেঁদে দিলাম।।এটা আমার বাজে অভ্যাস কেউ সান্তনা দিলে,, আরো কেঁদে ভাসিয়ে দেই।।আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।।আরশিও আমার চোখে অশ্রু দেখে কেঁদে দিলো।।
হঠাৎ ৩ য় কোনো ছোট বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেতেই চোখ তুলে পেছনে তাকালাম।।তুর আমাদের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে কেঁদে চলেছে।।আমি আর আরশি একবার নিজেদের দিকে তাকাচ্ছি তো আরেকবার ছোট তুরের দিকে।।হয়তো মা আর ফুফুকে এভাবে কাঁদতে দেখে সেই কাঁদছে।।আমি এগিয়ে গিয়ে তুরকে কোলে নেবো ,,তার আগেই অরিশ তুরকে কোলে নিয়ে দিলো এক ধমক….!!!!
— দুজনকেই এমন একটা ঠাডিয়ে দিবো যে,, জানালার গ্ৰিল ভেঙে নিচে পড়ে যাবি ডাফারগুলি।।এখানে কি কেউ মারা গেছে যে ,, মরা কান্না জুড়ে দিয়েছিস।। ইচ্ছে করছে ,, দু’টোকেই চান্দে পাঠিয়ে দেই।।যদি কাঁদতেই ইচ্ছে করে তাহলে এখান থেকে বাহিরে গিয়ে কাদ।।নিজেরা কাঁদছে তো কাঁদছে সাথে আমার সোনাকেও কাঁদাচ্ছে।।
ইচ্ছে করছে অরিশের মাথায় আলু 🥔 ভাঙি ।। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।। কাবাড থেকে একটা শাড়ি বের করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম।।।
________________________
আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে তুর ।। একটু আগে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়ে আমায় ।। তারপর আমার বুকে মাথা রেখেছে ।।আমিও ওর মাথায় হাত বুলিয়ে,, গান গাইয়ে ওকে ঘুম পারিয়েছি।।আস্তে করে আমার বুক থেকে তুরকে নামিয়ে বালিশে শুইয়ে দিয়ে ,,কপালে চুমু একে দিয়ে ।।নিজে কাত হয়ে শুয়ে তুরকে বুকের সাথে মিশিয়ে চোখজোড়া বন্ধ করে নিলাম।।ঠকঠক কোনো শব্দ চোখ খুলে তাকালাম আমি।।অরিশ এসেছে ।। আসার পর থেকে একটা কথা অবধি বলিনি।।রুমে ঢুকে তুরকে অন্যপাশে শুইয়ে দিলো ,, আমার হাতের উপর হাত রাখলো ।। অনুভব করতেই তুরকে ওভাবে রেখে অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম।।অরিশ তুরের কপালে চুমু খেয়ে তুরকে আলতো হাতে বেডের অন্যপাশে শুইয়ে দিয়ে আমার গায়ে গেশে শুয়ে পড়লো ।।অনুভব করলাম কেউ আমার পেটে তার ঠান্ডা হাত স্লাইড করছে ,, আমি জানি সেটা অরিশ ছাড়া আর কেউ নয়।। চুপ করেই রইলাম।। তিনি আস্তে করে আমার কাঁধ ধরে টেনে তার দিকে ফিরিয়ে বুকে মাথা রাখলো ।। অনেকবার সরানোর চেষ্টা করেও সরাতে পারলাম না।। কিছুক্ষণ পর তার সাড়া শব্দ না পেয়ে বুঝতে পারলাম ঘুমিয়ে গেছে ।।তাই অরিশের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম।। কিছুক্ষণ পর তিনি মুখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে গলায় থাকা কালো কুচকুচে তীলে একটা ডিপলি কিস করলেন ।। সাথে সাথে সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল আমার।।বেডশিটটা আঁকড়ে ধরলাম আমি।। কিন্তু মুখে কোনো কথা বললাম না।। হঠাৎ গলায় জোরে কামড়ের অনুভব করতেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসলাম আমি।। মৃদু চিৎকার করার আগেই মুখ চেপে ধরলো ।।অরিশ ইশারায় ঘুমন্ত তুরকে দেখালো ।। বুজতে পারলাম,, চিৎকার করলে তুর উঠে যাবে তাই মূখ চেপে ধরলো ।।
— তুমি একটা রাক্ষস,,খোক্ষস।।তোমার বংশে কে কুকুর ছিলো বলো তো।। এভাবে কামরানো কে শিখিয়েছে তোমায়।।(চোখ রাঙিয়ে আস্তে কথা বলে)
— এটাকে কামরানো বলে না তরী রানী ।।এটাকে বলে লাভ বাইট।।(একটু থেমে আবার) অরিশ ইউ আর দা গ্ৰেড।।নিজে আগে কথা না বলে বউকে দিয়ে কিভাবে কথা বলাতে হয় তুই জানিস।।
অরিশের কথায় রাগে পিওি জ্বলে যাচ্ছে আমার।।মুখ ভাড় করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম ।। পেছন থেকে আমার কাঁধে হাত রেখে বললো…
— এভাবে মুখ ভাড় করে রেখেছো কেন ।।আমি কি করেছি সেটাই তো এখনো বললে না ।।কথা দিচ্ছি তুমি যা বলবে তাই শুনবো ,, শুধু আমাকে একটু বলো কি হয়েছে।।
— অরিশ প্লিজ আমি তোমাদের ছেড়ে আর কোথাও যেতে চাই না।।তুরের চোখের অশ্রু আমাকে খুব কষ্ট দেয়।। আমি পৃথিবীতে ২ টা জিনিস একদম সহ্য করতে পারি না।।তোমার কষ্ট আর আমার তুরের চোখের অশ্রু।।প্লিজ অরিশ এই কথাটা রাখো।।
— আমিও সেটাই চাই ।। আমার বউ আর মেয়ে যাতে একসাথে থাকে ।কেউ যাতে একফোঁটা কষ্ট না পায় ।। (আমার চোখ মুছিয়ে দিয়ে)
— তত্যি জামাই ।।(তুরের মতো ফেইস করে আমি)
— তবে একটা শর্ত আছে।।
— কি শর্ত
— বিয়ের আগে তোমাকে যে শর্ত গুলো দিয়েছিলাম ,, তার একটা পূরন করতে হবে।।
— আজকে তো পূর্ণিমা নয় যে চন্দ্র বিলাপ করবো।।বাকি রইলো চা খাওয়া আর তোমার বুকে ঘুমানো ।।
অরিশ মুখে কোনো কথা না বলে কাউকে একটা টেক্সট করলো ।। তারপর আমাকে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা দিলো টং দোকানের উদ্দেশ্য।। আজকে আর বাইক নিলো না ,, হেঁটেই সেখানে পৌছে গেলাম।।তুরকে একা রেখে যেতে আমার মন একদম সায় দিলো না। অরিশ বললো ,, তুরকে আরশি এসে নিয়ে যাবে ,, তাকেই টেক্সট করেছে।।তাই আর কিছু বললাম না।।
অরিশ চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে ,,আমার দিকে এগিয়ে দিচ্ছি আর আমি কাপে চুমুক দিয়ে খাচ্ছি ।। তারপর আবার অরিশ একই কাপে চুমুক দিচ্ছি।। কারন ,, অরিশ এককাপ চা ই অর্ডার করেছে।।
হঠাৎ অনেক চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে আমি আর অরিশ সেদিকে পা বাড়ালাম।।একটা ছেলে একটা মেয়ের পায়ের কাছে হাত জোড় করে বসে আসে ,, আর একটা কথাই বলছে ।।।
— প্লিজ অনু এমন করো না ।।আমি বাঁচবো না।। আমি আমার পূর্ণতা দিয়ে তোমার অসম্পূর্ণতা ঢেকে দিবো।।
তবুও তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না।।
এতোক্ষণে বুঝতে পারলাম মেয়েটা আমার মতো পরিস্থিতির স্বীকার ।।ওদের এমন কথা শুনে আমার সেদিনের কথা খুব মনে পড়লো ।।যেদিন থেকে আমি মুভ অন করেছি ।।আমি ধীর পায়ে হেঁটে ছেলেটার কাছে গিয়ে তাকে টেনে তুলে মেয়েটার সামনে দাঁড় করালাম।।
— আমি জানি তুমি আমার মতো নোংরা পরিস্থিতির স্বীকার ।।তাই বলে তোমার এতো সুন্দর জীবনটাকে নষ্ট করো করো।। মুভ অন করো ।।দেখবে এই ছেলেটার স্বার্থপর ভালোবাসা তোমার জীবনটা একদম আলোকিত করে দেবে।।
এরকম অনেক কথা বলতেই মেয়েটা ছেলেটার সাথে সব মনমালিন্য দূর করে ,, একে অপরের হাত ধরে সামনে দিকে এগিয়ে গেল।। কিছুদূর যেতেই অন্ধকারের মিলিয়ে গেল তারা।। আর আমি মুখ গুজলাম অরিশের বুকে।।।আর অরিশের দিকে তাকিয়ে একটাই কথা বললাম….
— আমাদের মাঝে যতোই #এক_টুকরো_মেঘ ☁️ আসুন না কেন ।।আমরা একে অপরের হাতে হাত রেখে শুধু #এক_টুকরো_মেঘ ☁️ নয় বরং হাজার হাজার টুকরো মেঘ সরিয়ে ফেলবো ।। শুধুমাত্র ভালোবাসার জোড়ে।।।।।।।।।।
________________ সমাপ্ত______________