এক মুঠো রোদ পর্ব-০৯

0
503

গল্প :- #এক_মুঠো_রোদ (০৯)
লেখক :- #A_Al_Mamun
.

–বাড়িতে পুলিশ এসেছে।
–কিহ? কেনো?
–জানি না। ওরা আমার সামনেই বসে আছে, মিষ্টিকে খুজতেছে।
–মিষ্টিকে খুজতেছে? কি করেছে মিষ্টি?
–ওর নামে নাকি থানায় মামলা আছে।
–মামলা? কিসের মামলা?
–জানি না। ওরা মিষ্টিকে চাচ্ছে। তুই তাড়াতাড়ি বাসায় এসে ওদের সাথে কথা বল।
–আমি এক্ষুণি আসছি।
–তাড়াতাড়ি আয় বাবা।
মিষ্টি আর রিয়াকে সাথে নিয়ে মামুন দ্রুত বাসায় ফেরে।
ড্রয়িংরুমে তখনো ২ জন পুরুষ আর একজন মহিলা পুলিশ বসে আছে।
মামুনকে রুমে প্রবেশ করতে দেখে একজন পুলিশ সামনে এগিয়ে আসে।
–এনাদের মধ্যে মিষ্টি কে?
–কি হয়েছে স্যার? মিষ্টি কি করেছে?
–ওনার নামে মার্ডার কেইস আছে।
–কিহ? মার্ডার? কি বলছেন এসব?
–আমি ঠিকই বলছি।
–কবে করেছে খুন?
–৬ মাস আগে, এরপর থেকেই উনি পলাতক। আজ গোপন সুত্রের ভিত্তিতে ওনার খবর পেয়েছি আমরা। ভালোয় ভালোয় ওনাকে আমাদের হাতে তুলে দিন। নাহলে আপনাকেও বিপদে পড়তে হবে।
–আপনি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন?
–মনে করেন হুমকি…। আপনি খুনের আসামিকে সাহায্য করছেন।
–কি প্রমান আছে যে মিষ্টি খুনি। যদি আপনি প্রমান দিতে পারেন, তাহলে আমি নিজেই মিষ্টিকে আপনার হাতে তুলে দিবো।
–প্রমান আদালত করবে, আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন।
–অন্তত এটা তো বলতে পারেন যে কাকে খুন করেছে বা কোথায় খুন করেছে।
মিষ্টি আর রিয়া দুজন পুলিশের ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে একটু দুরে দাড়িয়ে আছে।
–৬ মাস আগে উনি ওনার বিয়ের রাতে তার স্বামীর বাড়ির এক লোককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঠিক তার পরদিন রাতে সেই লোকটাকে তার স্বামী ঢাকা নিয়ে যাচ্ছিলো চিকিৎসার জন্য। মিষ্টি সেখানে এসে ওনার স্বামীকে গাড়ির সামনে ধাক্কা দিয়ে খুন করে। মিষ্টি যাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে সেই লোকটাই এর সাক্ষী এবং তিনিই মামলা করেন। মিষ্টির পরিবারকে সবসময় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হতো। আজ তারাই আমাদের মিষ্টির ঠিকানা দিয়েছেন।
–স্যার, আপনি যা বলছেন সবই আমি বুঝেছি, এখানে সম্পূর্ণ কাহিনীটা ভুল ভাবে আপনাদের উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি আপনাদের সবটা খুলে বলছি।
–দেখুন ভাই, কাহিনী শুনা আমাদের কাজ না, আপনাদের যা বলার কোর্টে এসে বলবেন বা প্রমান করবেন। আমরা তদন্ত করে দুটো ঘটনার সাথেই মিষ্টির সম্পৃক্তা পেয়েছি।
–স্যার, কি বলছেন এসব? আগামী সপ্তাহে আমাদের বিয়ে, এখন যদি ওকে আপনারা নিয়ে যান, তাহলে একটা সুন্দর জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন।
–আগামী সপ্তাহে আমরা ওনাকে কোর্টে চালান দিবো, এর আগে যদি কিছু করতে পারেন তাহলে তো ভালোই, নাহলে ঝামেলা অনেক বাড়বে।
.
আর কোনো কথা না শুনে মিষ্টিকে চিহ্নিত করে পুলিশ সাথে করে নিয়ে হাটা দেয়।
মিষ্টি দুচোখের পানি ফেলতে ফেলতে পেছন ফিরে তাকায়… মামুন দৌড়ে মিষ্টি কাছে আসে।
–একদম চিন্তা করবে না। তোমার কিচ্ছু হবে না। আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনবোই… এখনো এক সপ্তাহ সময় আছে। এর আগেই আমি তোমায় নিয়ে আসবো…
মিষ্টির সাথে কথা বলতে বলতে মামুন রাস্তায় চলে আসে। ততক্ষণে মিষ্টিকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
যাওয়ার আগ পর্যন্ত মিষ্টি আর কোনো কথা বলেনি।
ঘরে এসে ঠাস করে সোফায় এসে বসে মামুন।
মা আর রিয়াও পাশে বসে আছে।
–সব আমার দোষ, আমার জন্যই মিষ্টিকে আজ জেলে যেতে হলো।
–কি করেছিস তুই?
–বিকেলে মিষ্টির বাবা মায়ের কাছে গিয়েছিলাম। মিষ্টি আমায় বার বার নিষেধ করেছিলো যে ওরা মানুষ ভালো না, তবুও চলে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম মানুষতো পরিবর্তন হয়, হয়তো তারাও হয়েছে। ওরা আমায় কেঁদে কেঁদে বলেছিলো যেনো ঠিকানাটা দেই, বিয়ের দিন লুকিয়ে লুকিয়ে এসে একবার মিষ্টিকে দেখে যাবে। বিশ্বাস করে ঠিকানাটা দিয়েছিলাম।
–যারা মেয়েটার জীবনটা নরক বানিয়ে দিয়েছিলো, তুই তাদের কাছে কোন ভরসায় গিয়েছিলি? এতটা বোকা কি করে হলি তুই?
–বুঝতে পারিনি মা, অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি আমি।
–যেভাবেই হোক ওকে বের করে নিয়ে আয়।
–হুম, ওকে আমি নিয়ে আসবো। সব প্রমান আমি জোগাড় করবো।
বলেই মামুন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে।
.
সোজায় থানায় এসে মিষ্টির মুখোমুখি দাড়ায় মামুন।
–আমায় ক্ষমা করে দিও, তোমার কথা না শুনে তোমায় বিপদে ফেলে দিলাম।
–কি করেছেন আপনি?
–তোমার মায়ের কাছে গিয়েছিলাম। পুলিশ ওখান থেকেই ঠিকানাটা পেয়েছে।
মুচকি হেসে মিষ্টি জবাব দেয়।
–আপনি একটা পাগল, কথা বলবেন না বলে ঠিকানাটা নিয়েছিলেন। যাই হোক, আল্লাহ ভাগ্যে যা রেখেছেন তাই হবে।
–কিচ্ছু হবে না, আমি আছি কি করতে? একদম চিন্তা করবে না।
–আপনাদের খুব মনে পড়বে। রিয়া তো আমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারে না। ওকে বলবেন কয়েকদিন কষ্ট হবে, পরে ঠিক হয়ে যাবে।
–তোমার মৃত স্বামীর ঠিকানাটা দিবে?
–আমিতো ভিতরে, এবার কি নিজের বিপদ বাড়ানোর চিন্তা করছেন? বাসায় যান।
–ঠিকানাটা দাও।
–কি করবেন ঠিকানা দিয়ে?
–যে তোমার নামে এই মিথ্যে মামলা করেছে তাকে খুজে বের করে মামলা তুলে নিতে বলবো।
–দিবো না।
–দিতে বলেছি।
–না। আপনি চলে যান।
–না দিলে আমি আর বাসায় ফিরবো না।
–কেনো এমন করছেন? ওর ভালো মানুষ না, আপনার ক্ষতি করে ফেলবে।
–যদি তুমি না দাও তাহলে কি আমি ওকে খুজে বের করতে পারবো না?
–প্লিজ এমন করবেন না, বাসায় ফিরে যান।
–চিন্তা করো না, তোমাকে নিয়েই আমি বাসায় ফিরবো। এর আগে না।
.
মিষ্টিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মামুন বেরিয়ে পড়ে। জোরে জোরে চিৎকার করে মিষ্টি মামুনকে ডাকছে, কিন্তু সেই আওয়াজ আর মামুনের কান পর্যন্ত পোঁছাচ্ছে না।
–আম্মু… রাতের প্রায় ৩ টা। ভাইয়া এখনো ফিরলো না।
–হ্যা রে মা, অনেক্ষন যাবত ওকে ফোন দিচ্ছি। ফোনটাও বন্ধ বলছে। আমারতো খুব চিন্তা হচ্ছে।
–ভাইয়া কি মিষ্টির জন্য থানায় বসে আছে। চলো আমরা গিয়ে দেখি।
–এত রাতে বাহিরে বের হওয়া ঠিক হবে না। সকাল পর্যন্ত দেখি, এরপর যাবো।
পরদিন সকাল সকাল সানু বেগম রিয়াকে সাথে নিয়ে থানায় যায়।
–আমার (———) মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি।
–ওনারতো জামিন হয়ে গেছে।
–জামিন হয়ে গেছে? কখন?
–কাল রাতেই ওনার স্বামী এসে ওনাকে নিয়ে গেছে।
–স্বামী?
–জ্বি…
পুলিশের কথার আগা মাথা কিছু বুঝতে না পেরে থানার বাহিরে এসে বসে সানু বেগম।
–আম্মু, মিষ্টির স্বামী কে? (রিয়া)
–জানি না রে মা, আমিও তো প্রথম শুনলাম। তোর ভাইও তো ফোন ধরতেছে না। কি যে করি আমি? আমার প্রেশার বেড়ে যাচ্ছে।
–চলো বাসায় চলো।
–বাসায় গিয়ে কি করবো? মিষ্টি কোথায় চলে গেলো? তোর ভাইয়েরও কোনো খবর নেই।
একটু পর মামুনের ফোন থেকে সানু বেগমের কাছে কল আসে।
–মা, কই তোমরা?
–তুই কই বাবা? তোকে কত খুজতেছি।
–আমি তো বাসায় আসলাম। তোমরা কই গেছো?
–আমরা থানায়।
–থানায় কেনো? জলদি বাসায় এসো।
–আচ্ছা আসতেছি।।
.
–কে আম্মু? ভাইয়া কল দিছে?
–হ্যা।
–কই সে?
–বাসায় বললো। চল…
–হ্যা চলো।
রিয়া আর সানু বেগম বাসায় এসে দেখে মামুন ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখতেছে।
–কই ছিলি তুই সারা রাত?
–কোথাও যাইনি তো।
–তাহলে বাসায় কেনো আসলি না?
–একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে গিয়েছিলাম। তোমরা থানায় কেনো গেলে?
–তুই ফিরে আসছিলি না। তাই ভাবলাম মিষ্টির জন্য হয়তো থানায় বসে আছি। কিন্তু গিয়ে দেখি মিষ্টিও থানায় নেই। ওর স্বামী নাকি ওকে জামিন করিয়ে নিয়ে গেছে। আর তুই এখন রুমে এসে টিভি দেখছিস। কোথায় থেকে এলো মিষ্টির স্বামী?
–শুনবে?
–কি শুনবো?
–কাল রাতে কি হয়েছে শুনবে?
–কি?
–বসো এখানে।
–হুম।
–মিষ্টিকে বাঁচানোর কোনো উপায় না পেয়ে পুরো পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার প্রয়োজন ছিলো সেই লোকটাকে যে মিষ্টির নামে মামলা করেছিলো। কিন্তু তার ঠিকানা আমি জানতাম না। তাই রাতেই মিষ্টির মায়ের কাছে গিয়েছিলাম। ওরা আমার দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। হতাস হয়ে ওদের বাড়ি থেকে ফিরে আসছিলাম। সামনেই একটা লোকের সাথে ধাক্কা লাগলো। আমার সাথে ধাক্কা লেগেই লোকটা পড়ে যায়। ওই লোকটাকে দেখে বেশ অবাক হলাম। এত রাতেও লোকটা সানগ্লাস পড়ে ছিলো। আমার সাথে ধাক্কা খাওয়ায় তার সানগ্লাসটা পড়ে যায়, খেয়াল করে দেখলাম তার এক চোখ নষ্ট। তড়িঘড়ি করে লোকটা সানগ্লাস পড়ে সামনের দিকে হাটা দেয়। পেছন ফিরে দেখি সে মিষ্টির মায়ের ঘরের দিকেই যাচ্ছে। তখনই মিষ্টির কথা মনে পড়ে গেলো। যেই লোকটা মামলা করেছিলো তার তো এক চোখ নষ্ট ছিলো। যা মিষ্টিই নষ্ট করেছিলো।
লোকটার পিছু নিয়ে দেখি সে মিষ্টির মায়ের ঘরেই প্রবেশ করে।
মিষ্টির মায়ের ঘরটা বেড়ার ঘর হওয়ায় আমার জন্য বেশ সুবিধা হয়।
তাদের ঘরের পেছনে গিয়ে বেড়ার ফাঁকে উকি দিয়ে কিছু কথা শুনলাম।
–এই নিন ৫০ হাজার, বাকি ৫০ ওকে আমার হাতে তুলে দিলেই পেয়ে যাবেন।
লোকটার দেওয়া টাকাটা হাতে নিয়েই মিষ্টির মা খুশিতে গজগজ করতে থাকে।
বেশ অবাক হলাম ওদের কর্মকান্ডে। তাই ফোনটা বের করে বেড়ার ফাঁকে দিয়ে ভিডিও শুরু করি।
–মিষ্টিকে আজই তুমি পেয়ে যাবে। শুনেছি পুলিশ ওকে থানায় নিয়ে গেছে। এখনই ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো। তুমি টাকাটা রেডি রাখো।
–টাকা রেডি আছে। ওকে শুধু আমার কাছে এনে দাও।
–একটু আগে মিষ্টিকে যেই লোকটা আশ্রয় দিয়েছিলো সেই লোকটা এসেছে। তোমার ঠিকানা চেয়েছে। তাকে আমি তাড়িয়ে দিয়েছি।
–ভালো করেছো। কাউকে আমার ঠিকানা দিবে না। জলদি তোমার মেয়েকে আমায় এনে দাও। ও আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমার চোখ নষ্ট করেছে। ছুরির আঘাতে আমার চেহারাটা কুৎসিত বানিয়ে ফেলেছে। এর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমার শান্তি নেই। ওকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললেও আমার গায়ের জ্বালা মিটবে না। ওর জন্য আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। ওর মতো কত মেয়েকে রেপ করে বুক ফুলিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতাম। কিন্তু ওই মেয়ের জন্য এখন আমায় মাথা নিচু করে হাটতে হয়। আমার এই কুৎসিত চেহারার জন্য আমার দিকে কেউ তাকায়ও না। সেদিন ওকে রেপ করতে পারি নি, আমায় ছুরি মেরে পালিয়েছিলো। আর দেরি নয়। জলদি ওকে এনে দাও।
–চিন্তা করো না। তোমার করা মিথ্যে মামলায় সে ফেঁসে গেছে। তার পালানোর কোনো রাস্তা নেই। আমিই ওকে বের করে নিয়ে আসবো থানা থেকে। চলো আমার সাথে।
তারা তাদের কথা শেষ করেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে।
মিষ্টির মায়ের এমন মানসিকতা দেখে অবাক হওয়া ছাড়া আর কেনো উপায় নেই। নিজের মেয়ে না হলেও, ছোট থেকে তো নিজের মেয়ের মতো করেই মানুষ করেছিলো। তার মনে কি একটুও মায়া জন্মায়নি? কিভাবে সে টাকার জন্য মেয়েকে শেষ করে দিতে পারে?
মিষ্টির মতো আমার মনেও তার মায়ের জন্য প্রচন্ড ঘৃণা জন্মায়।
.
তাদের আগেই থানায় এসে পৌছাই, এবং ভিডিওটা পুলিশের হাতে তুলে দেই।
এর প্রায় ১ ঘন্টা পর মিষ্টির মা বাবা আর ওই লোকটা থানায় এসে পৌছায়।
আমি পেছনেই বসে ছিলাম।
মিষ্টির মা এসে পুলিশের কাছে বলে যে তারা যেই মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে সেটা আসল অপরাধী নয়, ঠিকানা সম্ভাবত ভুল ছিলো। তাই ওই মেয়েটাকে যেনো তারা ছেড়ে দেয়। মেয়েটা সম্পূর্ণ নিরপরাধ।
পুরো অফিস চারদিক থেকে পুলিশ ঘিরে ফেলে।
তাদের অবাক করে দিয়ে সবাইকে গ্রেপ্তার করে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি ওখানেই বসে ছিলাম।
ঘন্টা দুয়েক পর সেই পুলিশটা আমার সামনে আসে যে বাসা থেকে মিষ্টিকে নিয়ে এসেছিলো।
–আপনার দেওয়া ভিডিও দেখে ওদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবাই নিজেদের দোষ শিকার করেছে। তাই সবাইকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
–স্যার মিষ্টি?
–একটু অপেক্ষা করুন। কিছু কাগজপত্রের কাজ আছে। শেষ হলেই ওনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
–স্যার বাঁচালেন। সামনের সপ্তাহেই আমাদের বিয়ে। বুঝতেই পারছেন কি হতো।
–সরি ভাই, এটা আমাদের ডিউটি। নিজের মন মতো কিছু করার সুযোগ নেই।
–আমাদের বিয়েতে আপনার দাওয়াত রইলো। আসবেন কিন্তু।
–সময় নাইরে ভাই। এমন চাকরি করি যে ২ মাস হলো নিজের বউটারেই চোখে দেখি না। সামনের মাসে বাড়ি যামু। বউটা প্রতিদিন ফোন দিয়া আসতে বলে।
–তোর ফাও পেচ্যাল বন্ধ করে কাজের কথায় আয়। এরপর কি হলো?(রিয়া)
–এরপর আরকি, পুরো পুলিশ স্টেশনকে বিয়ের দাওয়াত দিলাম।
–রাখ তোর দাওয়াত? সারারাত কই ছিলি? মিষ্টি কোথায়?
.
.
চলবে?