কাব্যের আঁধার পর্ব-০১

0
1340

#কাব্যের_আঁধার
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-১

‘ আমি তোমাকে কখনো স্ত্রী হিসেবে মেনে নিবো না।সে যাই করো না কেন থাকবে তো তুমি একজন অনাথই।আমার মা বাবা তোমার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে তোমাকে নিজের বাড়ীর বউ কম মেয়ে বানিয়েছে বেশি তবে তুমি আমার জন্য একটা অনাথ মেয়েই থাকবে।তোমার পরিচয় আমার কাছে কখনো বদলাবে না। ‘ আঁধারকে চর মেরে বলে উঠে কাব্য।

কাব্য এতক্ষণ যাকে এই কথাগুলো বলছিলেন সে হলো কাব্যের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আঁধার চৌধুরী বর্ষা। সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে তিন কবুল বলেই বিয়ে হয়েছে তাদের তবে বিয়েতে মত ছিলনা কাব্যের।তাকে তার বাবা মা জোর করে বিয়ে দিয়েছে আঁধারের সাথে।

নাম কাব্য আহমেদ খান। এবছর সব মেডিক্যালের থার্ড ইয়ারে পরছে।দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম হওয়ায় কলেজ লাইফে এমন কি মেডিক্যাল লাইফেও অনেক প্রপোজাল পেয়েছে তবে কাব্য কোনোদিনই সেসব নিয়ে সিরিয়াস ছিল না কারণ তার এখন একটাই লক্ষ্য ডক্টর হওয়া আর সে সেদিকেই ফোকাস করছে।বাবা শমসের আহমেদ খান আর মা নাদিরা রহমান।মা বাবার একমাত্র আদরের ছেলে।

আঁধার চৌধুরী বর্ষা হলো মা বাবা মরা অনাথ মেয়ে। বয়স ১৬ বছর। ছোটো থেকেই বড় হয়েছে কাব্যদের অনাথ আশ্রম এ।। শমসের আহমেদ খান আর নাদিরা রহমান নিজের মেয়ের মতোই দেখেন। সব বাচ্চাদের ভালোবাসলেও আঁধারের প্রতি তাদের এক আলাদা মায়া। আর সেই মায়া থেকেই আঁধার কে বাড়ীর বউ করে এনেছেন তারা। পড়াশুনায় আঁধার অনেক ব্রিলিয়ান্ট। তবে রূপ বলতে পারেন কিছুই নেই। গায়ের রং শ্যামলা আর চুলগুলো লম্বা লাল লাল। সে এবার এসএসসি দিয়ে গোল্ডেন পেয়েছে। বয়সের তুলনায় বেশি ম্যাচিউর। তাই সবই বুঝে। আঁধারের তেমন কিছুই নেই অনাথ হওয়ায় তবে আছে যথেষ্ট আত্মসম্মান।

তবে ভাগ্যের ফেরে তার এমন একজন মানুষের সাথে বিয়ে হয়েছে যে তাকে চিনেও না, বুঝেও না আর বুঝতে চায়ও না। আঁধার কে তাচ্ছিল্য করে কাব্য বলে উঠে,

কাব্য, কি দেখে যে বাবা-মা তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিলো?? একেতো বয়সে ছোটো পিচ্ছি তার উপর না আছে রূপ না আছে গুন।আমার বাবা মাকে কি বশ করলে নাকি তুমি?? কিন্তু যাই করো আমাকে বশ করতে পারবে না। এই কাব্য আহমেদ খানকে বশ করা এত সহজ না।

আঁধারের কাব্যের কথা শুনে চোখে জল চলে আসে কিন্তু সেগুলো গড়িয়ে পড়তে দে না আঁধার। কাব্যের আড়ালে মুছে নে আর গম্ভীর ভাবে বলে,

আঁধার, বিয়েটা যেমন আপনার মতে হয়নি তেমনি আমার মতেও হয়নি। কিন্তু বাঙালী মেয়েদের বিয়ে একবারই হয় তাই না চাইতেও আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য। আপনি আমার সাথে যাই করুন না কেন বাইরে কিছু করবেন না কারণ বাবা মা কষ্ট পাবে তাহলে।

আধারের কথা শুনে কাব্য রেগে গিয়ে আঁধারের চুলের মুঠি ধরে বলে,

কাব্য, তোর কাছ থেকে স্বামীর পরিচয় পেতে আমি একফোঁটাও ইচ্ছুক নই তাই তোর এসব মেলোড্রামা বন্ধ রাখো। আমি ভালো করে জানি তুই আমার মা বাবাকে পটিয়ে আমাকে বিয়ে করেছিস কারণ আমাকে বিয়ে করলে আমার মা-বাবার সব সম্পত্তি পাবি। তখন তোর লাইফ আরামসে কেটে যাবে। কিন্তু তুই ভুলে গেছিস আমিও কাব্য আহমেদ খান আর আমাকে বশ করা এত সহজ নয়। তাই তুই যতই ড্রামা করস না কেন আমার কাছ থেকে স্ত্রী এর পরিচয় কখনো পাবি না ।

আঁধার আস্তে করে কাব্যের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,

আঁধার, দেখুন আমি অনাথ হতে পারি কিন্তু লোভী নয়। আমি গরিব হতে পারি কিন্তু আত্মসম্মানহীন নয়। আর আপনার বাবা মায়ের সম্পত্তি আমার চাই না কারণ নিজেকে চালানোর মত ক্ষমতা আমার আছে। আর পরবর্তী সময় থেকে আমাকে তুই তোকারি করবেন না কারণ আধার তুই-তোকারি পছন্দ করেনা। আশা করি এতোটুকু সম্মান আমি আপনার কাছ থেকে আশা করতে পারি। নাকি সেটাও দিতে পারবেন না।

আধারের এমন খোটা দেওয়া কথা শুনে কাব্য আরো রেগে গিয়ে আঁধারের গাল চেপে ধরে নিজের হাত দিয়ে আর আরেক হাত দিয়ে চুলের মুঠি ধরে বলে,

আঁধার, এখনও তুই কাব্য আহমেদ খানের আসল রূপ দেখিস নি। কিন্তু মনে হচ্ছে এখন আসল রুপ দেখাতে হবে। আমার আসল রূপ দেখিস নি বলে কি সাপের পাঁচ পা দেখেছিস ?? তাহলে বলে রাখি তুই আমাকে যা ভাবিস আমি তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। নেক্সট টাইম থেকে এই ভুলটা করবি না।

আঁধার, আপনি এখন আপনার লিমিট ক্রস করছে মিস্টার আহমেদ খান। এতক্ষণ আমাকেই বলছেন স্ত্রীর অধিকার দিবেন না তাহলে এখন কেন গায়ে হাত তুলছেন। গায়ে হাত স্বামীরা তুলে পরপুরুষ নয়।তাহলে গায়ে হাত কেন দিচ্ছেন??

কাব্য আঁধারের কথা শুনে আরও রেগে গিয়ে আঁধারের গাল আরও জোরে চেপে ধরে বলে,

কাব্য, কি আমি পরপুরুষ?? তুমি হয়তো ভুলে গেছো যে একটু আগেই সব নিয়মকানুন মেনে তিন কবুল বলে আমার আর তোমার বিয়ে হয়েছে তাহলে তুমি সেখানে আমাকে কি করে পরপর বলতে পারো?? আর তোমার গায়ে হাত দিচ্ছি কেন তাহলে বলে রাখি তোমার গায়ে হাত দেওয়ার 100% রাইট আছে আমার।

গালে ব্যাথা পাওয়া সত্ত্বেও আঁধার হেসে উঠে আর বলে,

আঁধার, এইমাত্র বললেন যে আমাকে স্ত্রীর অধিকার দিবেন না তাহলে এখন আবার কেন বলছেন যে আপনি আমার স্বামী। তাহলে এখন কেন বলছেন যে আপনি পর পুরুষ না?? আর স্বামী যদি হন তাহলে স্ত্রীকে মারছেন কেন নিজের পুরুষত্ব দেখাতে?? আমার মনে হয় কি হটাৎ বিয়ের শক টা আপনি নিতে পারেন নি তাই আপনার এই অবস্থা কিন্তু চিন্তা করবেন না আমি কাউকে কিছু বলব না।

আঁধারের কথা শুনে কাব্য ভ্রু কুচকে বলে,

কাব্য, কাউকে কিছু বলবে না মানে?? কি বলবে না??

আঁধার, এই যে বিয়ে করে আপনি পাগল হয়ে গেছেন।

কাব্য, ঠিকই বলেছ তোমার মত স্বার্থপর লোভী মেয়েকে বিয়ে করে আমি পাগলই হয়ে গেছি । তবে আমার সময়ও আসবে। আমি কালই চলে যাব লন্ডন। এখানে থেকে তোমার সাথে সহ্য করা মানে পাগলকে সহ্য করা। আর সেটা আমার দ্বারা সম্ভব না।

আঁধার, আমার সাথে থাকতে হবে সেই ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন??

কাব্য, কাব্য আহমেদ খান কোনো পরিস্থিতে পালায় না কিন্তু তোমার সঙ্গে এখানে থাকলে আমি নির্ঘাৎ পাগল হয়ে যাব। আর একজন সুস্থ মানুষ থাকে পাগল হওয়ার চাইতে এখান থেকে চলে যাওয়াই ভালো।

আঁধার, সে আপনি যাই করেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না কারণ আপনি তো আমাকে স্ত্রীর অধিকার দেন নি।

আঁধারে কথা শুনে কাব্য রেগে গিয়ে আঁধারের চুলের মুঠি ধরে বলে,

কাব্য, মুখে অনেক বুলি ফুটেছে তাই না। সাহসও বেড়েছে। আগেতো ভয়েতে আমার সামনে আসতে না আর এখন আমার সাথে মুখোমুখি তর্ক করছো এর ফল তোমাকে পেতে হবে।

আঁধার, বুলি এখন ফুটেনি অনেক আগেই ফুটেছে। আর আঁধার চৌধুরী বর্ষার সাহসটা চিরকালই বেশি সে আপনি যাই বলেন না কেন। আপনার কি করার আপনি করতে পারেন। যাইহোক আমি এখন সোফাতে শুয়ে পড়ছি আপনি বিছানায় শুয়ে পড়ো কারণ আপনার সঙ্গে এক বিছানায় আমি শুতে পারবোনা আর সেই অধিকারও আমার নেই।

কাব্য, বাহ্ এইটুকু কমন সেন্স ঠিকই আছে যাই হোক হোয়াটএভার। তোমার কথা মতোই না হয় আমি বিছানায় শুলাম আর তুমি সোফায় 😏😏😏

To be continued….

দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করবেন এই আশাই করছি!!!