#কাব্যের_আঁধার
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-২
পরেরদিন সকালে,
আঁধার আগেই ঘুম থেকে উঠে কাব্যের মাকে সাহায্য করার জন্য কিন্তু মিসেস নাদিরা বাধা দিচ্ছেন। নাদিরা বলেন,
নাদিরা, আরে আঁধার তুই এখানে??
আঁধার নিজের কোমরে শাড়ি গুজে বলে,
আঁধার, হ্যাঁ মা আসলে তোমাকে সাহায্য করতে এসেছি। বিয়ের পরে তো সবাই কেই একটু সংসারের কাজে হাত লাগাতে হয় তাই তোমার থেকে রান্না করাটা শিখে নিচ্ছি।
নাদিরা, এই এই ভুলেও যেন তোকে রান্নাঘরের আশেপাশে না দেখি তাহলে কিন্তু ঠ্যাং ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে দিবো বলেই খুন্তি নিয়ে তেরে যান মিসেস নাদিরা আর আঁধার ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।
তখনই পিছন থেকে অট্টহাসির আওয়াজ শুনে নাদিরা আর আঁধার পিছনে ফিরে দেখে যে মিস্টার শমসের হাসছেন দুই মা মেয়ের কাণ্ড দেখে।আঁধার বলে,
আঁধার, বাবা তুমি হাসছো আর মাকে দেখো কেমন তেড়ে তেড়ে আসছে।তুমি কিছু বলো না বাবা?? আমাকে রান্না করতে দিচ্ছে না। তুমিই বলো বিয়ের পর তো নিয়ম বাড়ীর বউ কে কিছু না কিছু রান্না করতেই হয় তাহলে সেখানে আমার চাওয়া কি অন্যায়??
শমসের,অবশ্যই অন্যায় কারণ তোমার সেই বয়স হয়নি যে তুমি রান্নাবান্না করবে ঘরের কাজ করবে। আগে বয়স হোক তারপর দেখা যাবে।এখন তোমার জন্য একটা জিনিষ এনেছি। সরি ভুল বললাম একটা না অনেকগুলো জিনিস এনেছি।
আঁধার, কী বাবা?? তুমি আবার অন্য কিছু আনতে গেলে কেন এই সাত সকালে?? তোমার যে নিজের খেয়াল রাখা উচিত সেটা কি আমার বারবার তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে?? নিজের খেয়াল কেন রাখো না বলতো?? তুমি কি জানো তোমার এসবের জন্য আমার আর মায়ের কত চিন্তা হয়??
শমসের, আমাকে নিজের খেয়াল রাখতে হবে না আমার মা আছে তো আমার খেয়াল রাখার জন্য।
শমসের এর কথায় আঁধার ভ্রু কুচকে তাকালে শমসের বলে,
শমসের, কেন আমার আধার মা আছে না?? আধার তো আমার মেয়ে আর মেয়ে তো মাই হয় তাই না?? লোকে বলে মেয়েরা মায়ের জাত তাহলে আমার আর চিন্তা কিসের?? আমার জন্য তো আমার মা আছে।
শমসেরের কথায় আঁধার বলে উঠে,
আঁধার, এমন বুড়ো ছেলের দরকার নেই যে নিজের খেয়াল রাখতে জানে না।আমার এমন ছেলে চাই না।
আঁধারের কথা শুনে শমসের আহমেদ আঁধার কে জড়িয়ে ধরে হেসে বলে,
আঁধার, আচ্ছা ঠিকাছে বাবা আর অনিয়ম করবো না কিন্তু এখন তো আমাকে জিনিসগুলো দেখাতে দে। এত সকালে গিয়ে কিনে এনেছি তোর জন্য আর তুই দেখবি না ।তাহলে কিন্তু মন খারাপ করবো।
আঁধার, আচ্ছা বাবা সরি এবার তো দেখাও নাহলে কিন্তু এবার কেদে দিবো আমি।
শমসের, এই না না আমার মা টা কাদলে আমি তো কষ্ট পাবো। কাদিস না।তুই যখন ছোটো থাকতে কাদতি তখন খুব খারাপ লাগতো।আমরা তো তোকে ছোটো থাকতেই এই বাড়িতে আনতে চেয়েছিলাম কিন্তু কাব্যই তো জেদ করেছিল যে ওর জায়গায় কেউ আসবে না এই বাড়িতে তাই পারিনি।
আঁধার, এখন কী আগের কথা বলে আমার মুডটা নষ্ট করবে?? দেখাও না কি এনেছ।
নাদিরা, সেই তো।কখন থেকে উল্টাপাল্টা কথা বলে যাচ্ছ। দেখাও না মেয়েটা কে কি এনেছ।
কাব্য বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছিল কিন্তু শমসের, নাদিরা আর আঁধারের কথা শুনে উঠে যায়। কাব্য বলে,
কাব্য, উফফ এরা কি ঘুমাতেও দিবে না এখন?? একেতেই বিয়ে দিয়ে জীবন নষ্ট করেছে তার উপর এখন ঘুমটাও নষ্ট করলো। যাই গিয়ে দেখি কি এত কথা বলে বলেই কাব্য উঠে গিয়ে মুখ ধুয়ে বেরিয়ে এসে সিড়ির কাছে দাড়িয়ে দেখতে থাকে মা বাবা আর মেয়েকে।
শমসের দেখাচ্ছি দেখাচ্ছি বলে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ নিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে রেখে বলে,
শমসের, খুলে দেখ ( আঁধার কে উদ্দেশ্য করে )
ততক্ষণে আঁধার আর নাদিরা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে। আঁধার শমসের এর কথামত ব্যাগ গুলো খুলে দেখতে থাকে। আর সব দেখে চেঁচিয়ে উঠে কারণ সব কালো রঙের।
নাদিরা, কই গো এসব কি এনেছ?? বউ মানুষ কী সব কালো পড়বে নাকি??
শমসের, তুমি কি ভুলে গেছো নাদিরা আমাদের মেয়ের সব কালো পছন্দ। আশ্রমে থাকতেও সব কালো পড়ত।তখন তো কিছু বলো নি তাহলে এখন বউ বলে কি নিজের শখ আহ্লাদ সব ছেড়ে দিবে নাকি?? ও সমসের আহমেদ খানের মেয়ে আঁধার চৌধুরী বর্ষা। ও যা চাইবে তাই হবে।
‘ নিজের নাম যেমন পছন্দও তেমন। নামও আঁধার, পছন্দও আঁধার ‘
গম্ভীর কণ্ঠ শুনে ওরা সকলে পিছনে ফিরে দেখে কাব্য সিড়ি দিয়ে নেমে এসে চেয়ারে বসেছে। শমসের বলে,
শমসের, তোমার মত নিরামিষ তো আর না এটাই বেশি।
কাব্য, তোমাদের বিয়ে করে আনা বউকে যে ঘরে জায়গা দিয়েছি এটাই বেশি শুধুমাত্র তোমাদের কথা ভেবে। আমার তো ইচ্ছা করছিল কাল রাতেই ওকে ঘর থেকে বের করে দিতে। কিন্তু ঐ পায়ে ধরলো তারপর বললো যে এখন যদি ওকে বের করে দেই তাহলে তোমাদের খারাপ লাগবে আর আমিও এত দাজ্জাল সন্তান নয় যে নিজের মা-বাবাকে কষ্ট দেবো। তাই আর ওকে বের করলাম না। তবে তার মানে এই না যে আমি ওকে মেনে নিয়েছি তাই তোমরা তোমাদের ইলিউশন নিয়েই থাকো কারণ এখন ইলিউশন তোমাদের শান্তি দিতে পারে। আমি তো আর ওকে মেনে নিচ্ছি না।
নাদিরা, ওকে না মেনে নেওয়ার পিছনের কারণটা জানতে?? ওর কি নেই?? সবই তো পারে তার ওপর ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। তাহলে প্রবলেমটা কোথায় ওকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে??
কাব্য, প্রবলেম আছে অনেক গুলো। একেতো পিচ্চি বাচ্চা তার উপর না আছে রূপ না আছে গুণ। আর ও একটা অনাথ মেয়ে। ওর তো আমার পায়ের নখেরও যোগ্যতা নেই। সেখানে ওকে বিয়ে করার পর কি স্ত্রীর অধিকার দেওয়া টা নিছক কল্পনা নয় কি?? আর চিন্তা করো না তোমাদেরকে এসব বেশি আর দেখতে হবে না কারণ আমি আজ রাতের মধ্যেই লন্ডন যাচ্ছি।
ওর সাথে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
নাদিরা, এটা তুমি করতে পারোনা কাব্য। অন্তত আঁধারের কথা তো ভাবো। আমরা তো তোমার মা বাবা তুমিতো আমাদের কথা ভাববে না আমাদেরকেই তোমার কথা ভাবতে হবে।কিন্তু মেয়েটার কথা একবার ভাবো। তুমি চলে গেলে মেয়েটা কি নিয়ে থাকবে আর আমি ভালো করে জানি তুমি পড়াশোনার জন্য লন্ডন যাচ্ছ না কারণ তোমার ইচ্ছা ছিল তুমি বাংলাদেশ থেকেই পড়াশোনা করবে। তুমি যদি পড়াশোনার মিথ্যে বাহানা দিয়ে লন্ডন যেতে চাও তাহলে তোমাকে যেতে দেওয়া হবে না।
কাব্য, কে বলেছে তোমাকে আমি পড়াশোনা মিথ্যা বাহানা দিয়ে লন্ডন যাব?? কেউ যদি বলে থাকে তাহলে তুমি ভুল ভাবছো কারণ আমি মিথ্যা বাহানা দিয়ে যাব না। কাব্য আহমেদ খান যা করে সামনে থেকে করে আর আমি সেটাই করছি। হ্যাঁ তোমরা ঠিক ধরেছো আমি লন্ডন যাচ্ছি এই মেয়েটার হাত থেকে বাঁচার জন্য। আমাকে বশ করতে পারবে না । আর ওর সাথে থাকলে আমি নির্ঘাৎ পাগল হয়ে যাব। তাই আমার মনে হয় কি ওর সাথে থেকে পাগল হওয়ার চেয়ে লন্ডন চলে যাওয়া ভালো। ও তোমাদের বশ করেছে কি দিয়ে আমি সেটাই বুঝতে পারছি না। ওর তো কোন রূপ নেই যে রূপ দিয়ে বশ করবে।
To be continued…..
দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করবেন সেটাই আশা করছি ।