কাব্যের আঁধার পর্ব-০৩

0
936

#কাব্যের_আঁধার
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-৩

কাব্য, যেমন দেখতে তেমনি কাজে।কোনো গুন নেই।তোমরা যে কি করে একে এবাড়ির বউ করলে?? আমার বউ হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই ওর।তাই আমি ওকে মানিও…

শমসের, কথাটা যতোটুকু বলেছো অতটুকুই মূখে রেখে দাও আর ভুল করেও সাহস করে বাকিটা বলো না কারণ বাকিটা বললে হয়তো তুমি কথা বলার পরিস্থিতিতে থাকবে না। কারণটা জিজ্ঞেশ কর না আমি বলতে পারবো না। আর লন্ডন যাওয়ার চিন্তা ভুলে যাও।কারণ তুমি যে কিসের জন্য যাচ্ছ তা আমার জানা আছে।

আঁধার, বাবা উনাকে যেতে দাও। আঁধার ভালোবেসে আকড়ে রাখতে জানে, জোর করে আটকে রাখতে নয়। আর আমি উনাকে আটকে রাখতে চাই না। পাখি কে যেমন দীর্ঘদিন আটকে রাখলে পোষ মানে তেমনই মানুষকে আটকে রাখলে সেও পোষ মানে তবে ভালোবেসে নয় বাধ্য হয়ে।আর আঁধার চৌধুরী বর্ষা কাউকে বাধ্য করে না।

আপনি জান কেউ আপনাকে আটকাবে না।

শমসের, আঁধার তুই এসব কি বলছিস?? তুই কি জানিস মানুষ বিদেশ গেলে বিগড়ে জায়।দেখা গেলো ও বিদেশ গিয়ে কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল তখন কিন্তু ও তোকে মনে রাখবে না।তখন কি হবে তোর আঁধার??

আঁধার, বললামই তো বাবা। উনি যদি কারো সাথে সম্পর্ক করে আমাকে ছাড়তে চান তাহলে আমি বাধ্য দিবো না কারণ ঐযে আঁধার চৌধুরী বর্ষা আটকে রাখে না।উনি যদি চান তাহলে উনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো।

কাব্য,( বাহ্ বেশ চালু মেয়েতো।আমার মনের কথা কিভাবে বুঝে গেলো আর বলেও দিল?? আমি তো ভাবতে পারছি না যে এ এত সহজে আমি বিদেশ যাওয়াতে রাজি হয়ে যাবে। আমি তো ভেবেছিলাম আর পাঁচটা মেয়ের মত হয়তো স্বামী স্বামী করে কাদবে কিন্তু এতো পুরো উল্টো কেস )

আঁধার, আঁধার চৌধুরী বর্ষা আর পাঁচটা মেয়ের মত নয় যে আপনি বিদেশ যাবেন বলে আমি কান্নাকাটি করবো আর আপনাকে যাওয়া থেকে আটকাবো।তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। যেটা আঁধার চৌধুরী বর্ষার সেটা সে ঠিকই ধরে রাখে আর যেটা তার না সেটা সে ছেরে দেয় তেমনই আপনিও আমার না তাই ছেরে দিলাম। যখন মনে হবে আমাকে ছেড়ে দিতে চান তখন বলবেন। সোজা ডিভোর্স পেপারে সাইন করে আপনাকে মুক্ত করে দিবো।

কাব্য, ( হচ্ছে টা কি?? মেয়েটা কি অন্তর্যামী নাকি?? আমি কি ভাবছি সেটা ও কী করে বুঝতে পারছে?? এটাতো সম্ভব নয়। তাহলে ও কি করে বুঝলো আমি কি ভাবছি ?? )

আঁধার, হিউম্যান সাইকোলজি বুঝি আমি তাই বলতে পারছি আপনি কি ভাবছেন আর এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।এমন অনেকেই আছে যারা লোকের মনের কথা বুঝতে পারে তেমনই তাদের মধ্যে একজন আমি। চিন্তা করবেন না আমি একজন সাধারণ মানুষই কোনো ভূত বা জাদুকর নই।

কাব্য, সব যখন জানোই তাহলে একটা কথা বলে রাখি যে আমি দেশে ফিরেই তোমায় ডিভোর্স দিবো। আর তার জন্য তুমি রেডি থাকো।

শমসের, খবরদার যদি ওকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা মাথায় আনিস তাহলে মেরে হাত-পা গুড়ো করে দেব। তুই যদি ওকে ডিভোর্স দিতে চাস তাহলে তোর একদিন কি আমার একদিন।

কাব্য, আরে আজব তো। ওই তো প্রথমে ডিভোর্সের কথা বলল আমি কোথায় বললাম?? ও বললে কোন দোষ নেই আর আমি বললেই দোষ তাই না?? এই তোমরা কি আমার মা-বাবা নাকি ওর মা-বাবা??

শমসের, ও যা বলবে তুই তাই করবি নাকি । সব কথা তো শুনিস না তাহলে এটা কেন শুনতে গেলি?? তুই কি ওর এতই বাধ্য বর?? আর মা-বাবা আমরা দুজনেরই তাই দুজনের ভালো কথাই বলছি যে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নে।

আঁধার, বাবা একটা সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য দুটো জিনিস প্রয়োজন একটা বিশ্বাস আর একটা ভালোবাসা। যার দুটোর একটাও নেই আমাদের সম্পর্কে তাই এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোন মানে হয়না। তুমি প্লিজ উনাকে আর জোর করোনা উনাকে যেতে দাও। আপনি কবে যাচ্ছেন তাহলে??

কাব্য, আমি আজ রাতেই যাচ্ছি। তোমার সাথে এখানে এক ঘরে থাকা ইম্পসিবল তাই আজ রাতেই টিকিট করে ফেলেছি যাতে আজ চলে যেতে পারি আর তোমার মুখ আমাকে আর দেখতে না হয়।

আঁধার, আপনার স্বপ্ন খুব তাড়াতাড়ি পূরণ হতে চলেছে। আপনি খুব তাড়াতাড়ি দেশ ছেড়ে আর আমাকে দেখা ছেড়ে চলে যেতে পারবেন অন্য দেশে। যেখানে আপনার আমাকে দেখতে হবে না।

কাব্য, সে তো ঠিকই কিন্তু এত কালো রঙ পছন্দ করার কারণটা কি?? সবকিছুরই একটা না একটা কারণ থাকে তাহলে তোমার কালো রং পছন্দ করার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে, কি সেই কারণ??

আঁধার, যার জীবনটাই কালো সেখানে তার কালো রং পছন্দ করা নিয়ে কোনো কারণ থাকতে পারে না। তাই আশা করি এ প্রশ্নটা আর দ্বিতীয়বার করবেন না।

কাব্য,হুম।

আঁধার, বাবা আমার সঙ্গে কলেজ যেতে পারবে??

শমসের, হ্যাঁ যাবো তো।

আঁধার, তাহলে তাড়াতাড়ি খেয়ে রেডি হয়ে নাও কারণ আজ কলেজে আমার এডমিশন আছে। সময়মতো পৌছাতে না পারলে আমি এডমিশন নিতে পারব না। না হলে পুরো আমার এক বছর টাইম বাদ যাবে। বাবা প্লিজ তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। তুমি খেতে বস আমি সব বেড়ে দিচ্ছি । তাড়াতাড়ি করে খেয়ে নাও তো । তারপর আধার শমসের খানকে খাবার বেড়ে দিতে শুরু করে। দুটো রুটি আর সবজি দিয়ে সাজিয়ে প্লেটটা শমসের খানকে দিয়ে বলে,

আঁধার, বাবা তুমি খেয়ে নাও আমিও খাব ।খেয়ে তারপর রেডি হয়ে আসবো। তুমি একটু অপেক্ষা করো আমার জন্য বলেই তড়িত্গতিতে নিজের পেটে থাকা খাবার গুলো খেয়ে দৌড় দেয় আধার আর তাকে এভাবে যেতে দেখে সকলে অবাক হয়ে যায় কারণ মিনিটের মধ্যেই আধার নিজের মুড চেঞ্জ করে। কি করে পারে মেয়েটা এসব?? আঁধারকে কাব্য যত দেখছে তত অবাক হচ্ছে। মেয়েটার মধ্যে আলাদা কিছু একটা আছে যেটা কাব্য দেখতে পারছে না।

প্রায় আধা ঘন্টা খানেক পর শমসের খান খেয়েদেয়ে রেডি হয়ে নিজের গাড়িতে আধারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কারণ আঁধার বলেছে এখনই চলে আসবে। কিছুক্ষণ পর আঁধার চলে আসে আর শমসের খানের পাশে বসেন।

আঁধারকে শমসের খান অবাক চোখে দেখছে কারণ আঁধারকে এমন ভাবে আগে কখনো দেখেননি তিনি। আধারের পরনে একটা কালো রঙের শাড়ি সাথে হাতে গলায় আর কানে গয়নাগাটি তো আছেই তবে সেগুলো সোনার নয় রুপোর। আঁধারকে এমন রুপে খুব সুন্দর লাগছে যেটা শমসের খান নিজের মুখে বুঝিয়ে বলতে পারবেন না।

প্রায় মিনিট খানেকের মধ্যে ওরা পৌছে যায় একটা বড় কলেজের সামনে। আধার প্রথমে নিজের নামে তারপর শমসের খানকেও নামতে সাহায্য করে। আধার শমসের খানকে ধরে নিয়ে অফিস রুমে নিয়ে যায়।

In office room,

আধার দাঁড়িয়ে আছে আর ওর পাশের চেয়ারে শমসের খান আর তার সামনে চেয়ারে বসে আছে কলেজ প্রিন্সিপাল। শমসের খান বলেন,

শমসের, আমি আমার মেয়েকে এই কলেজে এডমিশন করাতে চাই কারণ আমি শুনেছি কলেজ হচ্ছে ওয়ান অফ দা বেস্ট কলেজ। তবে বলে রাখছি আমার মেয়ে যদি ভালো রেজাল্ট না করে তাহলে আমি কলেজ কেই দায়ী করবো কারন আমার মেয়ে খারাপ রেজাল্ট করবে এমন মেয়ে ও না। তাই ভেবে চিন্তে সব করবেন।

To be continued….