#কাব্যের_আঁধার
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-৪
প্রিন্সিপাল, জি অবশ্যই।আপনি চিন্তা করবেন না ও অবশ্যই ভালো রেজাল্ট করবে, আমরা সেই চেষ্টাই করব।
শমসের, শুধু চেষ্টা করলেই হবে না। সেটার ফল যেন ভালো হয় সেটা assure হতে হবে আমার।আমি যেন ভালো ফল পাই।
প্রিন্সিপাল, জি জি অবশ্যই। আচ্ছা যাবতীয় যা ফর্মালিটিজ আছে পূরণ করে দিন আমি ওকে অ্যাডমিশন দিয়ে দিচ্ছি।
শমসের, জি।
তারপর প্রিন্সিপাল আঁধারের কাছে ফরম দেয়। আঁধার নিজের যতোটুকু পূরণ করার কথা করে বাকীটা শমসের এর কাছে দিয়ে দেয়। শমসেরও পূরণ করে গার্ডিয়ানের সিগনেচার করে দিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে সেটা জমা দেয়। প্রিন্সিপাল তো দেখে অবাক হয়ে শমসেরকে বলে,
প্রিন্সিপাল, মেয়েটা আপনার কি হয়??
শমসের, সম্পর্কিত আমার বউমা হয় তবে মনের দিক থেকে আমার মেয়ে। কেন??
প্রিন্সিপাল, আসলে আজকাল এমন আর দেখা যায় না তো তাই। এখন তো সকলেই চায় যে নিজেদের বাড়ির বউরা পড়াশোনা না করুক, সারাদিন ঘর সংসার করে বাচ্চা কাচ্চা সামলাক। আজ প্রথম এমন দেখলাম যে কোন শশুর তার বউ এর এডমিশন করাতে নিজে কলেজে এসেছে। সত্যি আধার খুব লাকি যে আপনার মত শশুর পেয়েছে।
শমসের, হ্যাঁ হয়তো অন্যরা নিজেদের বাড়ির বউদের পড়াশোনা করাতে না চাইতেই পারে। কিন্তু আমি চাই কারণ আঁধার আমার বাড়ির বউ না আমার মেয়ে। আর নিজের মেয়েকে শিক্ষিত করে তোলা আমার দায়িত্ব আর অধিকার। আমি চাই আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাড়াক যাতে দ্বিতীয় বার তাকে বাড়ির বউ বলে কথা শুনতে না হয়। আর আমি তার শ্বশুর বলে যে তাকে পড়াচ্ছি তা কিন্তু না এমনটা প্রত্যেক শশুরের করা উচিত কারণ প্রত্যেক বউই তার শ্বশুর শাশুড়ির মেয়ে হয়। আর এটাই আমি মানি।
আর সত্যি কথা বলতে আধার লাকি নয় । লাকি আমরা কারন ওর মত একটা মেয়ে পেয়েছি যে বাড়ির বউ হওয়ার সাথে সাথে আমার মেয়েও। আধার আমাদের যে পরিমান ভালোবাসে তার 100 ভাগের এক ভাগ ভালোবাসাও আমার ছেলে আমাকে ভালোবাসে না তাই আমি আঁধারের মতো ছেলের বউ পেয়ে সত্যি আপ্লুত। আর একটা কথা মনে রাখবেন পড়াশোনা বাড়ির বউদের অধিকার। তাই শেষবার যেন এ কথা না শুনতে হয় আমাকে।
প্রিন্সিপাল, জ্বি জ্ব অবশ্যই আপনাদেরকে আরে এ কথা শুনতে হবে না।
শমসের, ওর এডমিশন হয়ে গেছে তো??
প্রিন্সিপাল, ওর এডমিশন না হয় আর যায় কোথায়। এসএসসি তে A+ পেয়ে এডমিশন পাবে না তা কি হয়। আপনি চিন্তা করবেন না ওর এডমিশন হয়ে গেছে।
শমসের, তাহলে কবে থেকে কলেজে আসবে??
প্রিন্সিপাল, কাল থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে। আপনি ওকে কালই পাঠিয়ে দিয়েন।
শমসের, জি তাহলে আজ আসি আবার কোনদিন দেখা হবে।
প্রিন্সিপাল, জি আসসালামুআলাইকুম।
শমসের, ওয়ালাইকুম আসসালাম। আল্লাহ হাফেজ।
প্রিন্সিপাল, আল্লাহ হাফেজ।
তারপর আঁধার আর শমসের বেরিয়ে আসে। শমসের আঁধারকে বলে,
শমসের, আধার মা চল আজ তোর কলেজে পড়ার জন্য ড্রেসের মাপ দিয়ে আসি। দর্জির কাছে বানাতে দিব।
আঁধার, বাবা তুমি আবার কষ্ট করে এখন দর্জির কাছে কেন যাবে আমি মাকে নিয়ে চলে যাব তোমার যেতে হবে না।
শমসের, এখন যখন বের হয়েছি তখন একবারে সব কাজ শেষ করেই যাই তাহলে আর তোকে বের হতে হবে না আর সত্যি কথা বলতে এত বার কি বের হওয়া যায় এই কাঠফাটা রোদের মধ্যে। একবার যখন বের হয়েছি কাজটা শেষ করে নেই। চল দর্জির কাছে।
আঁধার, তুমি তো আমার কথা শুনবে না। ঠিক আছে চলো।
তারপর ওরা টেইলারিং হাউসকে আঁধারের কলেজ যাওয়ার জন্য ড্রেসের মাপ দিয়ে আসে। ড্রেসটা মূলত দুই দিন পর দেবে কারণ একদিনে বানানো সম্ভব না তাই আপাতত আঁধারকে কলেজে শাড়ি পড়ে যেতে হবে। আধার বিয়ের আগে সেলোয়ার কামিজ পরতো না। পড়ত কুর্তি, কটি আর লেগিংস। তবে বিয়ের পর এগুলা এখন আর পড়তে ইচ্ছা করছে না তাই আধার ভেবেছে শাড়ি পড়েই যাবে।
ওরা রাস্তা পার করে আসছিল তখন ই শমসের বলে,
শমসের, আধার মা তুই এখানে দাঁড়া আমি টেইলরকে টাকা দিয়ে আসতে ভুলে গেছি এডভান্স দিতে হতো।
আঁধার, বাবা আমি দিয়ে আসি।
শমসের, আরে না আমি এই যাব আর আসব।
আঁধার, আচ্ছা।
তারপর আঁধার ওখানেই দাড়িয়ে থাকে আর শমসের চলে যান টাকা দিতে।
হঠাৎ আঁধারের চোখ যায় রাস্তার ওই পারে কারণ রাস্তা পার করে আসছে কাব্য ফোনে কথা বলতে বলতে আর অন্য দিক থেকে রিক্সা দ্রুতগতিতে আসছে। আঁধার ভেবে পাচ্ছে না কি করবে কারণ কাব্যকে এখনই সরাতে হবে না হলে খুব বেশী একটা ক্ষতি না হলেও অল্প হলেও কিছুটা ক্ষতি তো হবে।
আধার কূলকিনারা কিছু খুঁজে পাচ্ছে না কি করবে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে ও। মাথায় শুধু একটাই কথা করছে যে বাঁচাতে হবে কাব্যকে। তাই আধার ছুটে যায় কাব্যর দিকে আর এক ঝটকায় কাব্য কে সরিয়ে নিয় ছিটকে পড়ে। তবে কাব্য কে বাঁচাতে পারলেও নিজে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। রিক্সার সঙ্গে লেগে আঁধারের হাত পা ছিলে যায়। মারাত্মক রকমের ছিলে গেছে আঁধারের হাত-পা আর মাথায়ও কিছুটা চোট পেয়েছে। ঘটনাস্থলে তখনই সাথে সাথে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। আধার ব্যথা পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। কাব্য আঁধারকে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে ছুটে আঁধারের কাছে যায় আঁধারের মাথা নিজের পায়ের উপর রেখে বলে,
কাব্য, হে আধার লিসেন টু মি। তুমি কি করলে এটা?? আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে কষ্ট পেতে নিজে ব্যথা পেলে। এটা তুমি করতে পারোনা আধার। কাব্যর উপর ঋণ তুমি রাখতে পারো না। আমি তোমাকে কিছু হতে দেবো না। এখনই তোমাকে হসপিটালে নিয়ে যাবো বলেই আঁধার কে কোলে তুলে ছুটতে শুরু করে কাব্য। কাব্য বেশ খানিকটা গিয়ে একটা বড় গাড়ি দেখতে পায় আর অনেক বলে কয়ে গাড়ির মালিক কে রাজি করায় ওদের হসপিটাল পৌঁছে দিতে। কাব্য আঁধারকে নিয়ে গাড়িতে উঠে যায় আর আধরের মাথাটা নিচের পায়ে
রেখে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মিনিট 15 এর মধ্যে ওরা হসপিটাল পৌঁছে যায়।
আঁধারকে কোলে করে নিয়ে ছুটে হসপিটালের ভিতরে ঢুকে কাব্য। কাব্য চেঁচিয়ে নার্সদের ডাকতে থাকে সাথে ডক্টর দেরও,
কাব্য, নার্স…… নার্স…. ডক্টর….. কোথায় আপনারা??? তাড়াতাড়ি আসুন।
কাব্যর এহেন চেঁচামেচিতে ডক্টর আর নার্স দুজনই এসে হাজির হয়। ডক্টর বলে,
ডক্টর, কি হলো কি?? এভাবে চেঁচামেচি করছেন কেন?? আপনি কি জানেন না এটা?? এখানে আরো পেশেন্টরা আছে তাদের সমস্যা হবে তো আপনার চেঁচামেচিতে।
কাব্য, এখানে কারা আছে না আছে আমি জানতে চাই না?? আর কাদের সমস্যা হবে সেটাও জানতে চায় না। আমি এখন চাই আপনি আমার ওয়াইফের ট্রিটমেন্ট করুন কারণ আমার ওয়াইফের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।
ডক্টর, এজে ওয়ার্ড বয় এখানে একটা স্ট্রেচার নিয়ে আসো।
অতঃপর ওয়ার্ডবয় স্ট্রেচার নিয়ে এলে কাব্য আঁধারকে স্ট্রেচারে শুইয়ে দেয় আর ডক্টর আঁধারকে চেক করতে থাকে। চেক করে বলে,
ডক্টর, আপনি শুধু শুধু এত হাইপার হচ্ছে উনার জন্য। আপনি যেরকম মনে করেছেন উনার কিন্তু সেরকম সিরিয়াস কিছু হয় নি জাস্ট একটু ছিলে গেছে।
কাব্য, আরে আজব তো এত আঘাত লেগেছে তাও বলছেন যে কিছু হয়নি।
To be continued….