কাব্যের আঁধার পর্ব-০৫

0
838

#কাব্যের_আঁধার
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-৫

ডক্টর, কাম ডাউন। এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু হয়নি মিস্টার। আপনি শুধু শুধু চিন্তা করছেন। জাস্ট একটু ছিলে গেছে বলছিতো।

কাব্য, হোয়াট এভার যেটাই হয়েছে আপনি ওর ট্রিটমেন্ট শুরু করুন আমি এক ঘন্টার মধ্যে আমার ওয়াইফের আঘাতগুলো মধ্যে অয়েন্টমেন্ট চাই। ওর যেন প্রপার ট্রিটমেন্ট হয়। তাহলে আপনাদের সবার চাকরি খেয়ে নিব আমি চাকরি খেয়ে নেওয়ার মতো ক্ষমতা নিশ্চয়ই আমি রাখি অন্তত আমার তাই ধারনা।

কাব্যর কথা শুনে ডক্টর আর নার্সরা ভয় পেয়ে যায় ডক্টর টা বলে,
ডক্টর, মানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন??
কাব্য, আপনি জানেন আমি কে?? আমি হলাম এই শহরের বেস্ট বিজনেস আইকন শমসের আহমেদ খানের একমাত্র ছেলে কাব্য আহমেদ খান। আর খান বংশের ওয়ারিশ হওয়ার সুবাদে আপনার আর এই হসপিটালের সকলের চাকরি কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে তাই যা বলছি তাড়াতাড়ি করুন।

ডক্টর, তার মানে আপনি বিজনেস আইকন মিস্টার খানের ছেলে?? আর উনি আপনার ওয়াইফ?? আমাকে ক্ষমা করবেন আমি এখনই উনার ট্রিটমেন্ট করছি বলেই ওয়ার্ড বয় কে ইশারা করে কেবিনে নিয়ে যেতে আধার কে।

এক ঘন্টা পর,

ডক্টর আঁধারকে চেক করে এসে কাব্যর কাছে গিয়ে কাব্য কে বলে,
ডক্টর, তেমন বেশি কিছু হয়নি মাইনর ইনজুরি। উনাকে জাস্ট এক সপ্তার মত বেড রেস্টে থাকতে হবে আর stress-free রাখতে হবে। কোনরকম স্ট্রেস উনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তাই উনাকে কোনরকম স্ট্রেস দেবেন না। আর হ্যা আপনাকে কিছু মেডিসিনের প্রেসক্রিপশন দিচ্ছি আপনি মেডিসিন গুলো নিয়ে আসুন কারন ওনাকে মেডিসিন গুলো নিয়মিত খাওয়াতে হবে তাহলে উনার সেরে উঠতে কোন সময় লাগবে না। আর হ্যা কয়কদিন উনাকে লিকুইড খাবার খাওয়াবেন। প্রেসক্রিপশনটা নিন আর ওষুধ গুলো কিনে আনুন।

ডাক্তারের কথাশুনে কাব্য প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে ওষুধগুলো কেনার জন্য ফার্মেসির দিকে হাটা দে। ফার্মেসি তে ঢুকে ফার্মাসিস্ট এর কাছে কাব্য প্রেসক্রিপশনটা দিয়ে বলে,

কাব্য, এখানে যে মেডিসিন গুলো দেওয়া আছে সবগুলো প্যাক করে দিন।

ফার্মাসিস্ট ওকে বলে প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে মেডিসিন গুলো নিতে যায় আর এদিক দিয়ে কাব্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা মহিলা আর একটা লোকের কথা শুনতে থাকে।

কাবিলা আর লোকটি সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী। তারা একে অপরকে বলছে,
স্ত্রী, তোমার কি মনে হয়?? কি হবে?? ছেলে নাকি মেয়ে??
স্বামী, আমার তো মনে হয় মেয়ে হবে। মেয়ে হলেই খুশি আমি।
স্ত্রী, না ছেলে হবে ছেলে হবে। আমি ছেলে চাই।
স্বামী, না মেয়ে।
স্ত্রী, ছেলে।
স্বামী, মেয়ে।
স্ত্রী, ছেলে।
স্বামী, মেয়ে।
স্ত্রী, আচ্ছা ধরো একদিন আমার ডেলিভারির সময় হল তখন আমাকে হসপিটালে নিয়ে গেলে অপারেশন থিয়েটারে আর কখনো যদি সেই অপারেশন থিয়েটার থেকে ফিরে না আসি তখন কী করবে তুমি?? আমাকে ভুলে গিয়ে কি আবার বিয়ে করবে??
স্বামী, এসব কি ধরনের কথা?? তোমার এসব কথা শোনার জন্যই কি পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার বাদ দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছি?? তাহলে শুনে রাখ নেক্সট যদি আর কোনদিন এসব কথা শুনেছি তখন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাব।তখন তুমি চাইলেও আর তুমি আমাকে খুঁজে পাবে না ।

স্ত্রী, আরে আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম। এরকম তো প্রায়ই দেখা যায়। মায়েদের অপারেশন করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় সেখান থেকে অনেক সময় মায়েরা ফিরে আসে না তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে আমি মরে গেলে তুমি কি করবে।

স্ত্রীর কথা শুনে স্বামী মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে আর সেটা দেখে স্ত্রী বলে,

স্ত্রী, আচ্ছা সরি সরি আর বলব না এবার আমাকে একটু জড়িয়ে ধরো তো।

স্বামীও স্ত্রীর আবদার রাখতে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে। ওই দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে ফার্মাসিস্ট কে বলে তাড়াতাড়ি দিতে।

কাব্য ওষুধ গুলো নিয়ে ফার্মেসি থেকে বেরিয়ে আধরের কেবিনের দিকে হাঁটা দেয় তখনই শমসেরের ফোন আসে। কাব্য রিসিভ করে,
কাব্য, হ্যাঁ বাবা বল।
শমসের, কাব্য তুই কোথায় আছিস?? আমি আর আঁধার টেইলার থেকে ফিরছিলাম তখন টাকা না দেওয়ার কারণে আমি আবার টেইলারী ফিরে গিয়েছিলাম এসে দেখি আধার নেই। আধা ঘন্টা যাবত ওকে খুঁজে চলেছি কিন্তু খুঁজেই পাচ্ছিনা কোনোমতে।

কাব্য, তোমরা সিটি হসপিটাল চলে এসো। আসলে তুমি যাওয়ার পরপরই আধার দেখে যে আমি রাস্তা দিয়ে আসছিলাম কোন দিকে না তাকিয়ে। আর তখনই একটা রিকশা আমার সঙ্গে অ্যাক্সিডেন্ট করতে নে কিন্তু আঁধার এসে আমাকে বাঁচিয়ে দেয়। তবে আমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাই ওকে আমি হসপিটালে নিয়ে এসেছি। তোমরা তারাতারি চলে এসো ডক্টর ট্রিটমেন্ট করেছে আমি ওর কেবিনে যাচ্ছি।

শমসের, আচ্ছা তুই যা আমরা এক্ষুনি আসছি।
তারপর কল কেটে দিয়ে কাব্য আধারের কেবিনের দিকে এগিয়ে যায়। কেবিনে ঢুকে মেডিসিন গুলো নার্সের হাতে দিয়ে ডক্টর কে বলে,
কাব্য, ওকে আজই নিয়ে যেতে পারবো তো??
ডক্টর, আপনি আপনার ওয়াইফ কে খুব ভালোবাসেন তাই না??

কাব্য, এসব কি ধরনের কথা?? আর আপনি আমাদের পার্সোনাল ম্যাটারের ইন্টারফেয়ার কেন করছেন??
ডক্টর, দেখুন আমি আপনার থেকে অনেক বড় আর আমিও বিবাহিত। আপনাকে এভাবে বউকে ছুটাছুটি করতে দেখেই বুঝে গেছি আপনি আপনার ওয়াইফ কে নিয়ে খুব পসেসিভ আর ভালও বাসেন নাহলে এভাবে উনার জন্য এত হুমকি দিতেন না।আবার এটাও assure করেছেন যে উনি প্রপার ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন কিনা।তাহলে এখন যদি আপনি বলেন যে আপনি উনাকে ভালবাসেন না তাহলে আমি বিশ্বাসও করব না আর মোটেই অবাক হবো না কারণ বেশিরভাগ স্বামী তার স্ত্রী কে ভালোবাসলেও সেটা স্বীকার করে না।হুম একেকজনের ক্ষেত্রে একেক কারণ থাকে কোনটি সত্যি এটাই যে অনেকেই স্বীকার করেন না। যার কারণে পরে আপনাদেরই ভুক্তভোগী হতে হয়।তাই বলছি সময় থাকতে মনের কথা বলে দিন….

কাব্য হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয় আর বলে,
কাব্য, অনেক বলেছেন।আর বলতে হবে না। এই মেডিসিন গুলো জে এনেছি সেগুলো আপনি আঁধার কে না দিয়ে আমাকে প্রেম ভালোবাসা শিখাচ্ছেন। আপনার সাহস কম না।আপনি কি জানেন আমি আপনার চাকরি কেড়ে নিতে পারি। তাহলে এসব কোন বুদ্ধিতে করেছেন। আর নিজের চরকায় তেল দিন অন্যের চরকায় নয়। আমার চরকা আমি দেখে নিতে পারবো আপনাকে ভাবতে হবে না।

ডক্টর,( আজব তো। এর ভালোর জন্যই একে বললাম আর এ নিজেই আমাকে কথা শোনাচ্ছে। এ জন্যই লোকে বলে কারোর উপকার করতে নেই।কেউ তো উপকার স্বীকার করেই না উল্টো আরও অপকার করে। আমি চুপ থাকি নাহলে এই পাগল খান আবার রেগে যাবে )

কাব্য আঁধারের হাত ধরে বেডের পাশে থাকা টুলে বসে নিজের মনে মনে বলতে থাকে,
কাব্য, ভালো তো তোমাকে আমি বাসি।কিন্তু এই দুনিয়া যে বড়ই স্বার্থপর, তুমি যদি নিজের পায়ে না দাড়াও তাহলে যে কেউ তোমায় মূল্য দিবে না।আর তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য যদি আমাকে এই দেশ ছাড়তে হয় তাহলে আমি তাই করবো।ভালো আমি তোমাকে সেই ছোটো থেকে বাসি যখন তোমায় প্রথম আশ্রমে দেখেছিলাম।তোমার রূপ কোনদিনই আমার নজরে খারাপ লাগেনি কারণ ভালো আমি তোমাকে বেসেছি তোমার রূপকে নয়। এত বড় একটা ছেলে হয়েও তোমার মত পিচ্চি বাচ্চাকে ভালোবেসেছি আর এটার জন্যই খুব কষ্টও হয়েছে।

To be continued….