কালোবউ পর্ব-২৯+৩০

0
1539

🖤#কালোবউ🖤
লেখিকাঃ Tahmina Toma
পর্বঃ২৯

মেঘলাঃ এটা আপনার সাজেক??

আকাশঃ নাহ্ ,,,,,,,, এখানে একটু বসি তারপর রওনা দেবো।

মেঘলাঃ ওহ্ ,,, কিন্তু বাড়ির সবাই তো চিন্তা করবে।

আকাশঃ করলে করবে,,,, সমস্যা কী??

মেঘলাঃ(চোখ ছোটছোট করে তাকালাম উনার দিকে)

আকাশঃ ওকে ডিয়ার,,,,, সকালে কল দিয়ে বলে দিবো তুমি আমার সাথে আছো। এখন চলো রওনা দেওয়া যাক।

মেঘলাঃ হুম,,,,

আকাশঃ (বন্ধুদের সাথে দেশের প্রায় সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে অনেকবার যাওয়া হয়েছে। সাজেকও অনেকবার গিয়েছি। তাই পাহাড়ি রাস্তায়ও ড্রাইভ করতে পারি। যেতে শুরু করলাম সাজেকের দিকে। মেঘলা একটু পরই ঘুমিয়ে পড়েছে। সারারাত ড্রাইভ করে সকালে খাগড়াছড়ি শহরে পৌছালাম। সারারাত ড্রাইভ করে আমার অবস্থা খারাপ। এভাবে সাজেক পৌঁছাতে পারবো না। অন্যবার ফ্রেন্ডদের সাথে এলে পালাক্রমে চেঞ্জ করে ড্রাইভ করেছি তাই কষ্ট হয়নি।) মেঘপরী উঠো,,,,, (আস্তে করে ডাক দিলাম)

মেঘলাঃ এসে পড়েছি,,,,,??

আকাশঃ নাহ্ এখনো অনেক দেরি। এখন উঠো ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে নেই।

মেঘলাঃওহ্ ,,,,,,,,,,

,,,,,,,,,,

রুবিঃ কী ব্যাপার,,, মেঘলাতো প্রতিদিন ওঠে নামাজ পড়ে কিচেনে আসে আজ এলো না কেন?? মেয়েটা আবার অসুস্থ হলো নাকি? আমেনা,,,,,,,,

আমেনা(সার্ভেন্ট) জী খালাম্মা,,,,

রুবিঃ মেঘলা এখনো ওঠলো না,,,, দেখতো আবার অসুস্থ হলো নাকি???

আমেনাঃ আচ্ছা খালাম্মা,,,,,

রুবিঃ মেয়েটা ভার্সিটি যাবে না নাকি??

আমেনাঃ খালাম্মা মেঘলা আপা এখনো দরজা খুলেনি। অনেকক্ষণ ডাকলাম কোন সাড়াশব্দ নেই।

রুবিঃ কী বলছিস,,,,,,,,

আমেনাঃ জী খালাম্মা,,,,,,,

রুবিঃ রিয়াদ,,,,,,,,,,

রিয়াদঃ হা মামণি কী হয়েছে??

রুবিঃ মেঘলা এখনো ওঠেনি,,,,, আমেনা অনেকবার ডেকেছে কোন সাড়াশব্দও নাকি নেই।

রিয়াদঃ( আর না দাঁড়িয়ে মেঘলার রুমের সামনে দৌড়ে এলাম।) মেঘলা,,,,,, দরজা খোল,,,,,, মেঘলা,,,,,,

রুবিঃ দরজা ভেঙে ফেল রিয়াদ। মেয়েটা আবার কিছু করে বসলে ওর বাবা মাকে কী জবাব দেবো??

রিয়াদঃ তুমি শান্ত হও মামণি আমি দেখছি। (কয়েকটা ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে ফেললাম। মেঘলা কোথায়?? সারা রুম খোঁজেও মেঘলাকে পেলাম না।) মামণি মেঘলা কোথায়??

রুবিঃ আমি কিছুই বুঝতে পরছি না।

রিয়াদঃ (বেলকনিতে গিয়ে মই দেখে বুঝতে পারলাম মেঘলা পালিয়ে গেছে। কিন্তু পালিয়ে যাবে কেন?? কোথাও যাওয়ার হলে বলতে পারতো নিজে নিয়ে যেতাম। আকাশ নয়তো,,,,,,,???? মেঘলার ফোনে কল দিলে রুমেই বেজে ওঠলো।)

রুপঃ কী হয়েছে মা??

রিয়াদঃ(রুপের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। আগের থেকে অনেক শুকিয়ে গেছে)

রুবিঃ মেঘলা রুমে নেই,,,,,,, বেলকনিতে মই রাখা,,,। ফোনটাও রুমে রাখা।

রুপঃ(আকাশের নাম্বারে কল দিলাম)

ক্রিংক্রিংক্রিং

আকাশঃ হ্যালো,,,,,,,

রুপঃ মেঘমনি কোথায়??

আকাশঃ oh Misses Mirja,,, congratulation,,,,

রুপঃ মেঘমনি কোথায়???

আকাশঃ আমার সাথে,,,,

রুপঃ তুমি কোথায়,,,,,??

আকাশঃ খাগড়াছড়ি শহরে,,,,,

রুপঃ whatt,,,,,,,,,তুমি মেঘমনিকে ওখানে নিয়ে গিয়ছো কেন??

আকাশঃ হানিমুনে যাওয়ার জন্য,,,,,

রুপঃ Whatt,,,,,,,, মেঘমনি কোথায়???

আকাশঃ ফ্রেস হতে গেছে,,,,

রুপঃ এখনই মেঘমনির কাছে ফোন দাও।

আকাশঃ ওহ্ বিশ্বাস হচ্ছে না আমার কথা,,,,ওকে,,, মেঘপরী,,,,,,

মেঘলাঃ হুম কী হয়েছে??

আকাশঃ তোমার আপু কথা বলবে নাও,,,,,

মেঘলাঃ হ্যাঁ আপু,,,,,,,

রুপঃ তুই আকাশের সাথে কী করছিস??

মেঘলাঃ উনি রাতে নিয়ে এসেছে।

রুপঃ নিয়ে গেলো আর তুই চলে গেলি।

মেঘলাঃ আমি ইচ্ছে করে এসেছি নাকি,,, ব্লাক মেইল করে নিয়ে এসেছে।

আকাশঃ (এই মেয়েতো ফাঁসিয়ে দিলো)

রুপঃ বিকেলের আগে তোকে যেন বাসায় দেখতে পাই।

মেঘলাঃ মানে,,,,,,,???

রুপঃ বিকেলের আগে যদি তোকে বাসায় না দেখি খবর আছে। কাউকে না বলে চলে গেছিস। তোর বাবা-মাকে কী বলবো আমরা?? তাদের অনুমতি ছাড়া কীভাবে গেলি তুই?? আমরা ফুপা-ফুপিকে আসতে বলছি তারপর তাদের অনুমতি নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যাস।

মেঘলাঃ আপু,,,,,,যাহ্ রেখে দিলো,,,,

আকাশঃ কী হয়েছে,,,,??

মেঘলাঃ বিকেলের আগে বাসায় পৌঁছাতে বলেছে। আব্বা-মাকে না জানিয়ে আসা সত্যি উচিত হয়নি। আমি আপনাকে মাফ করে দিলেও আব্বা মা আপনাকে মাফ করেনি তাই এভাবে আসা ঠিক হয়নি।

আকাশঃ হুম,,,,,, চলো

মেঘলাঃ কোথায়,,,,,,,,,,,,,,,,??

আকাশঃ বাসায় চলো,,,(মেঘলার হাত ধরে গাড়িতে নিয়ে বসালাম) কী হলো মন খারাপ কেন??

মেঘলাঃ সাজেকের এতো কাছে এসেও না দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে।

আকাশঃ মন খারাপ করো না মেঘপরী আবার নিয়ে আসবো কয়দিনের মধ্যে। সত্যি এভাবে সমস্যার সমাধান না করে আশা ঠিক হয়নি,, আমার আগে বুঝা উচিত ছিলো। তবুও তুমি চাইলে বাসায় না গিয়ে সাজেক যাবো। বলো কোথায় যাবে??

মেঘলাঃ না বাসায় চলুন,,,,

আকাশঃ ওকে বাট মন খারাপ করে থাকতে পারবে না।

মেঘলাঃ ওকে (হাসার চেষ্টা করে। আসলে আমার অনেক দিনের শখ সাজেক যাওয়ার। এতো কাছে এসেও না দেখে যেতে হচ্ছে খারাপ লাগছে।)

আকাশঃ বললাম তো নিয়ে আসবো। এখন মন খারাপ করে থাকতে কিন্তু সাজেকই যাবো। সবাই যা ইচ্ছে করুক।

মেঘলাঃ না না বাসায় চলুন। আমি মন খারাপ করছি না।

আকাশঃ ওকে আগে হাসো,,,,,,

মেঘলাঃ এমন-ই এমন-ই হাসা যায় নাকি।

আকাশঃ(একটু ভেঙানোর চেষ্টা করলাম যাতে মেঘলা হাসে। ওর মুখ ভার দেখতে ভালো লাগছে না)

মেঘলাঃ হাহাহাহা,,,,, আপনাকে দেখতে কেমন লাগছে,,,,,,

আকাশঃ এইতো গুড গার্ল,,,,,,,,, তোমাকে হাসানোর জন্য জোকারও সাজতে রাজি। এখন যাওয়া যাক,,,

মেঘলাঃ(অবাক হয়ে দেখছি আকাশকে। এটা কী সত্যি সেই আকাশ?? সেই আকাশের সাথে কোন মিল খোঁজে পাচ্ছি না। সত্যি গায়ের রঙটাই শুধু ফুপির মতো পাইনি আজ মনে হচ্ছে কপালটাও ফুপির থেকে কম না। এত সুখ সইবে তো কপালে??)

আকাশঃ চিন্তা করো না এর থেকেও বেশি সুখ অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। যত অপমান অবহেলা সয্য করেছো তার থেকে হাজার গুন ভালোবাসায় ভরিয়ে দিবো কথা দিলাম।

মেঘলাঃ (চোখে পানি টলমল করছে। না না কষ্টের পানি নয় এটা সুখের পানি। পানি গড়িয়ে পড়ার আগেই আকাশ পানির ফোঁটা হাতে নিয়ে নিলো)

আকাশঃ উহুম,,,, তোমার চোখে আমি পানি দেখতে চাই না। না কষ্টের আর না সুখের। শুধু তোমার ঠোঁটের কোণে হাসি দেখতে চাই।

মেঘলাঃ (আকাশের কথা শুনে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফোটে ওঠলো)

চাঁদঃ রুপ আপুদের বাসার ড্রয়িংরুমে বসে আছি। সবাই আছে,,, মা, রুপ আপু, রিয়াদ ভাইয়া, রুপ আপু আর ভাবির বাবা-মা, আর আমার ঠিক সামনে সোজাসুজি বসে আছে মাহিন ভাইয়া। মনে হচ্ছে ফ্লোর থেকে কোন অপ্সরা বের হবে উনার জন্য,,,, ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে তার অপেক্ষা করছে। কোনদিকে তাকাচ্ছে না। একজন যে তার দিকে কখন থেকে তাকিয়ে আছে সেদিকে খেয়ালই নেই। ইচ্ছে করছে মাথা ফাটিয়ে দেই।

আবিদঃ রুপ,,, কখন আসবে ওরা??

রুপঃ চলে আসবে এখনই,,,,,,,,(কলিংবেল বেজে ওঠলো।) হয়তো এসে পড়েছে।

রিয়াদঃ আমি দেখছি,,,,

মেঘলাঃ(এখানে দেখি সবাই আছে। আমারতো এখন নিজেকে খুনের আসামি মনে হচ্ছে। সবাই কেমন করে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে এখনই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। কী রে ভাই অন্যকারো সাথেতো যাইনি নিজের বিয়ে করা বরের সাথে গিয়েছি। আকাশের হাত ধরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি।)

আকাশঃ(আজিব এভাবে দেখার কী আছে??)

(সবার চোখ মেঘলা আর আকাশের হাতের দিকে। আমে দুধে মিশে গেছে তাই কেউ আর আটি হতে চায় না)

আবিদঃ বেয়াইন,,,, তো বৌমা কবে নিবেন??

আকাশের মাঃ আপনারা যখন দিবেন??

আবিদাঃ(উঠে আকাশের সামনে দাড়ালাম।) দেখো বাবা মেয়েটাকে সবাই অবহেলা করলেও আমরা রাজকন্যার মতোই বড় করেছি। অনেক আদরে ভালোবাসায় আগলে রেখেছি । ভালোবাসা না দিতে পারলেও কষ্ট দিয়ো না দয়া করে।

আকাশঃ(উনার দুহাত হাতের মুঠোয় নিলাম) একবার ভুল করেছি আপনারা মাফ করেছেন তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশ্বাস রাখুন আপনাদের থেকে বেশী ভালো রাখতে না পারলেও কমপ্লেন করার সুযোগ দিবো না কথা দিলাম।

আবিদাঃ (আকাশ আর মেঘলার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে এলাম। আমার বিশ্বাস আকাশ আর কখনো মেঘলাকে কষ্ট দিবে না।)

মাহিদঃ তাহলে রিয়াদ আর মাহিনের বিয়ের পরই মেঘলা যাবে।

মাহিনঃ মানে,,,,,?? কিসের বিয়ে??

মাহিদঃ মানে তোমার আর রিয়াদের বিয়ে একসাথে দেওয়া হবে,,,,,

মাহিনঃ আব্বা আমার এখনো বিয়ের বয়স হয়নি,,,, এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে।

আবিদঃ আমরা ঠিক করেছি তোমাদের বিয়ে একসাথে দেবো। বিয়ের পরও সব করতে পারবে। তোমার মার ইচ্ছে তোমাকে বিয়ে করাবে,,, মেয়েও ঠিক করে রেখেছে হাহাহা,,,,

চাঁদঃ(কী হচ্ছে এসব?? কিসের বিয়ে আর কোন মেয়ে??)

মাহিনঃ মা,,,,,???

আবিদাঃ হুম,,,,, মেঘলা বাড়ি থেকে আসার পর আমার একা থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। বিয়ের পরও সব করতে পারবে। আর তানহা তোমাকে ভালোবাসে।

চাঁদঃ(ত,,,,,তানহা,,,,??? তানহা কে??)

মাহিনঃ দেখো মা তাহনা আমার চাচাতো বোন আমি ওকে সেই চোখেই দেখি। আর আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।

মাহিদঃ মাহিন এখানে সবাই বড়রা আছে কীভাবে কথা বলছো?? তোমার মামা জানার পর সেই ঠিক করেছে রিয়াদ আর তোমার বিয়ে একসাথে এই বাড়ি থেকেই হবে। বড়রা যা ঠিক করেছে তাই হবে। এ নিয়ে আর কথা হবে না। আগামীকাল রিয়াদের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়া হবে আর পরশু সবাই যাবে তানহাদের বাড়ি।

মাহিনঃ কিন্তু আব্বা,,,,,?

মাহিদঃ বললাম তো আর কোন কথা হবে না।

মাহিনঃ(চাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখি টলমল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চাঁদের থেকে দূরে যাওয়ার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। মেঘটার সংসার কেবল একটা কিনারা হয়েছে আমার জন্য আবার ভেসে যাক তা চাই না। আকাশ ভাইয়া কিছু জানার আগেই সব মিটে যাবে।) ঠিক আছে তোমরা যা ইচ্ছে করো।

চাঁদঃ(চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে সারা পৃথিবী ঘুরছে) মা আমার ভালো লাগছে না বাসায় চলো।

আকাশের মাঃ কী হয়েছে অসুস্থ লাগছে??

চাঁদঃ না মা বাসায় চলো।

আকাশঃ কী হয়েছে চাঁদ?? অসুস্থ লাগছে,,,, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো??

চাঁদঃ না ভাইয়া বাসায় গিয়ে ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে চলো।

আকাশের মাঃ ঠিক আছে আকাশ তুই পরে আয় আমরা যাচ্ছি।

চাঁদঃ(এভাবে আপনাকে হারাতে হবে ভাবতেই পারিনি। আপনার কাছে হয়তো আমার ভালোবাসা আবেগ মনে হয়েছে কিন্তু আমি পারবো না আপনাকে ছাড়া বাঁচতে। চোখের সামনে আপনাকে অন্যকারো হতে দেখতে পারবো না।)

চলবে,,,,,,,,

🖤#কালোবউ🖤
লেখিকাঃ Tahmina Toma
পর্বঃ৩০

চাঁদঃ(আপনাকে চোখের সামনে অন্যকারো হতে কীভাবে দেখবো আমি?? পারবো না,,,কিছুতেই পারবো না)

মাঃ কী হয়েছে চাঁদ?? বেশি খারাপ লাগছে??

চাঁদঃ না মা ঠিক আছি আমি,,,(গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম)

মাঃ এই মেয়ের আবার কী হলো??

চাঁদঃ(কী করবো আমি?? মাহিনকে ফোন দিলাম,,,, কয়েকবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করে)

মাহিনঃ কী হয়েছে বারবার কল দিচ্ছো কেন??(সরি চাঁদ তোমার সাথে বাজে বিহেভ করলে হয়তো আমার ওপর তোমার ঘৃণা তৈরি হবে)

চাঁদঃ প্লিজ মাহিন বিয়েটা করবেন না। আমি সত্যি আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। আপনাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না।

মাহিনঃ দেখো চাঁদ ছেলেমানুষীর করার একটা লিমিট আছে। মানছি তুমি এখনো ছোট কিন্তু এতটাও ছোট না বাস্তবতা বুঝতে পারবে না। এগুলো সব তোমার আবেগ দুদিন পর সব ভুলে যাবে। বুঝার চেষ্টা করো,,, দেখো এখন বিয়েও ঠিক হয়ে গেছে। আর কোন ঝামেলা করো না প্লিজ। ফোন দিয়ো না আর,,, আমি চাইনা তোমার ছেলেমানুষীর জন্য আমার বোনের সংসারে অশান্তি হোক (কেটে দিলাম,,, ওর কান্না জড়ানো কণ্ঠ আমি সয্য করতে পারবো না। কিন্তু নিজের বোনের জীবন কীভাবে নষ্ট করবো আমি?? ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই আজ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। একদিকে ভালোবাসা অন্যদিকে নিজের বোনের সংসার)

চাঁদঃ (আবার কল দিলাম রিসিভ করছে না। আরো অনেকবার দিলাম রিসিভ করছে না। এবার অফ বলছে) এখন কী করবো আমি?? দম বন্ধ হয়ে আসছে। খোলা বাতাসের প্রয়োজন,,, ছাদে চলে এলাম। আলো ভালো লাগছে না তাই ছাদের সব লাইট অফ করে এক কর্নারে দাড়িয়ে আকাশ দেখতে লাগলাম। কিন্তু কিছুতেই শান্তি হচ্ছে না,,,, কী করবো,,,,???

,,,,,,,,,,,

আকাশঃ কী হয়েছে আমার মেঘপরীর??(মেঘলা বেলকনিতে মন খারাপ করে দাড়িয়ে ছিলো তাই পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম)

মেঘলাঃ আপনি এখন চলে যাবেন??

আকাশঃ হুম যেতে হবে,,, চাঁদের হঠাৎ করে কী হলো বুঝতে পারছি না। গিয়ে দেখি আবার অসুস্থ হলো নাকি।

মেঘলাঃ আচ্ছা,,,,,

আকাশঃ(মেঘলাকে আমার দিকে ঘুরিয়ে কপালে একটা কিস করলাম।) এবার আসছি গিয়ে কল দেবো।

মেঘলাঃ আল্লাহ হাফেজ,,,

আকাশঃ আল্লাহ হাফেজ ,,,, (সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে। সবাইকে বলে বের হয়ে আসলাম। তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে হবে। চাঁদ অসুস্থ হয়ে গেলে মা একা কী করবে?? দ্রুত বাসায় পৌঁছালাম) মা,,,,,,,,

মাঃ হ্যা বল কী হয়েছে???

আকাশঃ চাঁদ কোথায়,,,, ঠিক আছে এখন??

মাঃ জানি না বাসায় আসতেই দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ডাকলাম বললো ঘুমাবে তাই আমিও রুমে চলে এসেছি।

আকাশঃ ঠিক আছে,,, তুমি শুয়ে পড়ো আমি দেখছি।

মাঃ এদের ভাইবোনের কখন কী হয় আল্লাহ জানে।

আকাশঃ(চাঁদের রুমের সামনে গিয়ে দেখি দরজা খোলা।) চাঁদ,,,,,, তুই কী রুমে আছিস চাঁদ?? ভেতরে আসবো??(কোন সাড়াশব্দ নেই,,, রুমে এসে দেখি চাঁদ নেই। রুমের সব জায়গা, ওয়াশরুম, বেলকনি কোথাও নেই। গেলো কোথায়,,, ও তো অন্ধকারে ভয় পায় কোথায় যাবে?? সারা বাড়ি খোঁজেও পেলাম না। ছাদে যায়নি তো?? কিন্তু ও যে ভীতু এই রাতের বেলায় ছাদে যাবে?? দেখে আছি তাও। দৌড়ে ছাদে এলাম,,,,কিন্তু ছাদ অন্ধকার কেন?? সন্ধ্যার পরেই ছাদে লাইট দেওয়া হয় তাহলে অন্ধকার কেন?? সব লাইট জ্বালিয়ে সামনে তাকাতেই ভয়ে আত্মা উড়ে গেছে। চাঁদ ছাদের রেলিং এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটু এদিক ওদিক হলেই সোজা নিচে গিয়ে পরবে। পরে গেলে ওকে আর বাঁচানো যাবে না।)

চাঁদঃ আপনার পাশে অন্যকাউকে দেখার আগে মরে যাওয়াই ভালো। দেখো না পাপা তোমার প্রিন্সেস কত কষ্ট পাচ্ছে। তুমি থাকলে পেতে দিতে তোমার প্রিন্সেসকে এতো কষ্ট। কেউ ভালোবাসে না আমাকে,,,,তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই না পাপা। তাই তোমার কাছেই চলে যাবো আমি,,,,, ওয়েট পাপা আমি আসছি,,,

আকাশঃ(এসব কী বলছে চাঁদ???) চাঁদ,,,,,,,

চাঁদঃ (পেছনে তাকিয়ে দেখি ভাইয়া দাড়িয়ে আছে) আমার কাছে আসবে না,,,,,

আকাশঃ কী হয়েছে বোন আমাকে বল?? আগে তুই নিচে নাম তারপর আমি সব শুনবো প্লিজ নিচে নেমে আয়।

চাঁদঃ না,,,, নামবো না আমি(কান্নার জন্য কথাও বলতে পারছে না) কেউ ভালোবাসে না আমাকে। আমি পাপার কাছে চলে যাবো। আমি এই দম বন্ধ করা কষ্ট সয্য করতে পারছি না। এর থেকে মুক্তি চাই আমার।

আকাশঃ(ওকে কথার তালে রেখে আস্তে আস্তে ওর দিকে আগাচ্ছি) কী হয়েছে বল আমাকে?? কে কষ্ট দিয়েছে তোকে?? না বললে বুঝবো কীভাবে?? একবার তার নাম বল এখনই তোর সামনে হাজির করবো?? তারপর তোর যা শাস্তি দিতে মনে চাই তাই দিবি। আগে তুই নিচে নাম। পা পিছলে গেলে পড়ে যাবি বোন,,,প্লিজ নাম,,,,

চাঁদঃ তুমি তাকে কিছুই বলবে না আমি জানি,,, তার থেকে আমি মরে যাই সব ঠিক হয়ে যাবে,,,,

আকাশঃ তুই জানিস বোন আমি তোকে কত ভালোবাসি। তুই একবার তার নাম বলে দেখ। তোর যা চাই তাই এনে দিবো তুই নেমে আয় আগে।

চাঁদঃ না,,,,,তুমি কিছুই করবে না আমি জানি,,,, আমি এখনই লাফ দিবো,,,,,

আকাশঃ(লাফ দেওয়ার আগেই হাত ধরে টান দিয়ে নিচে নামিয়ে আনলাম) ঠাসসসসসস,,,, কী করছিলি এখনই। এখান থেকে পড়লে তোকে বাঁচাতে পারবো????

চাঁদঃ বাঁচতে চায় কে??? আমি চাই না বাঁচাতে,,,,,

আকাশঃ (চাঁদকে বুকে জড়িয়ে নিলাম) কী হয়েছে বোন?? কেন এমন করছিস বল আমাকে??

চাঁদঃ আমি চোখের সামনে উনার বিয়ে দেখতে পারবো না। উনার পাশে অন্যকাউকে সয্য করতে পারবো না। উনার পাশে অন্যকাউকে দেখার আগে মরে যাওয়াই ভালো।

আকাশঃ কে,,,,,,,???

চাঁদঃ মাহিন,,,,,,,,,

আকাশঃ মাহিন(অবাক হয়ে),,, ভালোবাসিস,,,,,???

চাঁদঃ নিজের থেকেও বেশি,,,

আকাশঃ(এখন কী করবো আমি?? বাবা যে ওর বিয়ে অনেক আগেই ঠিক করে গেছে। মাহিনের সাথে ওর বিয়ে দিলে বাবার কথার খেলাপ হবে। এ কোন পরিক্ষায় ফেললে খোদা?? একদিকে বোনের জীবন অন্যদিকে মৃত বাবার শেষ ইচ্ছে আর তার দেওয়া ওয়াদা। কী করবো এখন আমি??)
,,,,,,,,,,

রুপঃ আজ দুদিন হয়ে গেলো এবাড়িতে এসেছি। একটা ফোন মেসেজ কিছুই করেনি। ওর মনে কী আমার জন্য একটুও জায়গা নেই? বাড়িতে একটা কুকুর পুষলেও তার জন্য মায়া হয়। আর আমি একজন মানুষ আমার সাথে ৩ বছর সংসার করে একবিন্দু মায়া তৈরী হয়নি তোমার মনে রবিন?? এমন যেন না হয় রবিন,,, যে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো আজ তাকিয়ে আছি,, সেই ভালোবাসার ডালি সাজিয়ে বসে থাকলে আর দেখার জন্য আমিই থাকলাম না।

রবিনঃ(অনেকক্ষণ ধরে হাতে ফোন নিয়ে বসে আছি। রুপকে কল দিবো কী দিবো না বুঝতে পারছি না। কখনো ওর সাথে ভালো করে কথা বলে দেখিনি। কী বলবো কল দিয়ে?? আজ বুঝতে পারছি অনেক অন্যায় করে ফেলেছি। আমাদের সম্পর্কটাকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছি এখন ওর সাথে ভালো করে কথা বলতে আমার আনইজি ফিল হচ্ছে। আমার অন্যায় পাহাড় সমান হয়ে গেছে। রুপ কী আমাকে মাফ করবে?? কোন মুখ নিয়ে ক্ষমা চাইবো ওর কাছে। নিজের সাথে যুদ্ধ করে ফোন দিলাম রুপকে)

রুপঃ(ফোনের দিকে তাকিয়ে আছি। স্বপ্ন দেখছি নাতো ?? রবিন কল দিয়েছে। বাজতে বাজতে কেটে গেলো। আবার বাজতেই রিসিভ করলাম। দুজনের চুপ করে আছি)

রবিনঃ কেমন আছো ???

রুপঃ(চোখ বন্ধ করতেই এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে। ৩ বছরের সংসার জীবনে এই কথাটা প্রথম শুনলাম)

রবিনঃ বললে না যে কেমন আছো?? আর আমাদের বেবি কেমন আছে??

রুপঃ সেটা কী তুমি জানা প্রয়োজন মনে করো??(কোথায় যেন অভিমান জমে আছে পাহাড় সমান। ভালোভাবে উত্তরটা দিতে পারলাম না।)

রবিনঃ রেগে আছো আমার ওপর???

রুপঃ কেন রাগ করবো?? ৩ বছর সংসার করার পর আজ তোমার মনে হলো জিজ্ঞেস করা উচিত আমি কেমন আছি?? তাই বললাম সেটা কী তুমি জানার প্রয়োজন মনে করো??

রবিনঃ(অভিমান আর অভিযোগের পাহাড় জমে আছে তোমার বুকে। থাকারই কথা,,, অপরাধ যখন করেছি তার ফল ভুগতে তো হবেই। তোমার দু’দিনের অনুপস্থিতি আমাকে বুঝিয়েছে তোমাকে ছাড়া আমি অচল। বাবা আর ইরা এদের আর কোন জায়গা নেই আমার জীবনে। দিনের পর দিন এরা আমাকে ভুল বুঝিয়েছে তোমার বিরুদ্ধে। নিজের বাবাকে কীভাবে অবিশ্বাস করতাম?? তোমার প্রতি রাগ এরা প্রতিশোধে পরিণত করেছে। কিন্তু সেদিন বাবা আর ইরা কথা বলার সময় রুমে আসছিলাম আমি সব শুনতে পেয়েছি। ইরাকে বন্ধু হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম কিন্তু সে তোমার জায়গা নিতে চাইছে।)

রুপঃ কথা শেষ তোমার?? শেষ হলে রেখে দাও চুপ করে আছো কেন??

রবিনঃ আগামীকাল নিতে আসবো তোমায়,,, রেডি থেকো।

রুপঃ আমি যাবো না কোথাও??

রবিনঃ সে কাল দেখা যাবে। এখন ঘুমিয়ে পড়ো আমার বেবির কষ্ট হচ্ছে তো রাত জাগতে।

রুপঃ(ওহ্ আমার কদর নেই বেবির কথা শুনে দরদ উতলে পড়ছে। তাও ভালো নিজের সন্তানের কদর অন্তত করতে শিখেছে)

রবিনঃ গুড নাইট,,,,

রুপঃ,,,,,,,,,,(ফোন রেখে দিয়ে নানা চিন্তা করে ঘুমিয়ে পড়লাম)

,,,,,,,,,

আকাশঃ তুই রুমে যা আমি দেখছি কী করা যায়।

চাঁদঃ তুমি কিছু করবে না জানি তার থেকে আমাকে মরতে দাও,,,,

আকাশঃ চাঁদ,,,,,,, বললাম তো আমি দেখছি,,, রুমে যা,,,

চাঁদঃ(আর কিছু না বলে রুমে চলে এলাম। আমার কাজ শেষ। হুম এতোক্ষণ যা করেছি সব নাটক। আপনার বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত সবরকম চেষ্টা করবো আমি। যদি না পারি সত্যি সত্যি সুইসাইড করে নিবো। ফোনে মাহিনের ছবির দিকে তাকিয়ে আছি।)

আকাশঃ(কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। চাঁদ আমার প্রায় ১০ বছরের ছোট। আমার পরে আর কোন ভাইবোন হচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসা করেছে বাবা-মা কিন্তু কাজ হয়নি। বাবার বন্ধু ডক্টর আশফাক আঙ্কেলের থেকে চিকিৎসার পর চাঁদের জন্ম হয়। আশফাক আঙ্কেলই অপারেশন করেছিলো। সেদিন আমার সামনেই আশফাক আঙ্কেল বাবাকে বলেছিলো)

আশফাক আঙ্কেলঃ এই মেয়ের জন্য অনেক কষ্ট করিয়েছিস আমাকে। মেয়ে বড় হলে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিবি। তোর মেয়ের হাতে চা খেয়ে শোধ তুলবো।

বাবাঃ যা কথা দিলাম আমার মেয়ের সাথে তোর ছেলেরই বিয়ে দেবো। শুধু দোয়া কর মেয়েটা যেন সুস্থ থাকে।

আশফাক আঙ্কেলঃ অবশ্যই,,,,

আকাশঃ(বাবা নেই,,, তাই বলে কী তার কথার খেলাপ হবে?? এদিকে চাঁদ মাহিনকে না পেলে সুইসাইড করতে একবার ভাববে না। চাঁদকে খুব ভালোভাবে চিনি আমি। বাবা ওকে অতিরিক্ত আদরে বড় করেছে। যেটা চেয়েছে একবেলা যাওয়ার আগে পেয়ে গেছে। তাই ও জেদি তৈরি হয়েছে। যেটা ওর চাই সেটা পাওয়ার জন্য যা খুশি করতে পারে। বাবা চলে যাওয়ার পর আমিই ওর সব চাওয়া পূরণ করেছি। কিন্তু এই চাওয়া কীভাবে পূরণ করবো আমি?? কোনদিকে যাবো এখন?? বাবা কখনো নিজের কথার খেলাপ করেনি। ভাবতে পারছি না আমি মাথা ফেটে যাচ্ছে। ছাঁদের দোলনায় শুয়ে দূরে আকাশের তারা দেখছি। কী করবো আমি বাবা তুমি বলে দাও।)
,,,,,,,,,

মেঘলাঃ উনার ফোনের আশায় ফোন হাতে বসে আছি। বলে গিয়েছিলো কল দিবে। গেছে ২ ঘন্টার বেশি হয়ে গেছে। আমি দেবো,,,?? চাঁদের কিছু হলো না তো,,,,যদি ঘুমিয়ে গিয়ে থাকে?? আবার কল দিলে যদি রাগ করে?? থাক দেখি দেয় নাকি।
,,,,,

রিয়াদঃ(মেঘলার কাছে লিজার ফোন নাম্বার চাইলে জানতে পারি ওর বিয়ে ঠিক করা। এই মাসের ২০ তারিখ পাকা দেখা। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না?? রুপের মতো লিজাকে হারাতে পারবো না। তাই লিজার বাবার সাথে দেখা করি। তাকে বুঝিয়ে বলি লিজাকে আমি ভালোবাসি। আমি একজন ডক্টর রিজেক্ট করার কারণ নেই। তাই তিনি মেনে গেলেন। লিজা কিছু জানে না। আগামীকাল ওর রিয়াকশন কেমন হবে দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছি।)
,,,,,,,

মাহিনঃ কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। না চাঁদকে আপন করতে পারছি আর না ওকে এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারছি। তানহাকে চাঁদের জায়গায় কল্পনাও করতে পারছি না। এ কেমন দু-টানা??

চলবে,,,,,,,