#গল্পঃ গ্রামের লাজুক মেয়ে ?
#লেখকঃ Md: Aslam Hossain Shovo
#পর্বঃ ৯…
√-তখন বাজে দুপুর আড়াই টা… আর মন মানছে না। জীবনে প্রথম মেয়ে নিয়ে ঘুরতে যাবো, নার্ভাস লাগছে…
আমি গিয়ে আম্মু কে বললামঃ- আমি বিকাল হতে তো অনেক দেরী, এখন ঘুরতে যাবো?
আম্মুঃ এখনি কেনো? বিকালে যাস…
~ আমি এটা ওটা বলে দিয়ে রাজি করিয়ে ফেললাম। রিতুকে ও ছোট বোনকে বললাম তৈরি হতে। আজ আমার মন খুব খুশি। সবাই শুধু ফাজলামি করছে, কি শুভ নাকি বউ নিয়ে কোথায় যাবে, কি কি খাবে… ছোট ভাই বলে, নতুন ভাবি পেলাম বুঝি ভাইয়া । আমাদের বাসায় সবাই ফ্রী, তাই সবাই সবার সাথে একটু দুষ্টুমি করলেও অবাক হওয়ার কিছু না।
রিতু বোরকা পড়ে বের হল। ছোট বোনও বের হলো। রিতু চিকন চাকন ও ভালোই লম্বা, ৫”৫-৬ হবে হয়তো। এমনিতে লম্বা ভালোই, তারপর চিকন চাকন মোটামুটি, তারপরে কালো রংয়ের পাথর দিয়ে কাজ করা বোরকা, এতো চমৎকার লাগছে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমার পাশে এসে তাড়ানোর পর সবাই বলতে লাগলো শুভর সাথে রিতুকে খুব ভালো মানিয়েছে, রিতু একটু লজ্জা পাচ্ছে। ভাবি ক্যামেরা নিয়ে এসে আমার পাশে রিতুকে দাঁড় করিয়ে অনেক গুলো ছবি তুললো।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে আমি, রিতু ও ছোট বোন মায়া বাসা থেকে বের হচ্ছি…
রিতুঃ আজ কিন্তু আমরা গাড়িতে যাবো না।
আমিঃ কেনো?
রিতুঃ আজ রিক্সায় করে ঘুরবো পুরো শহর।
আমিঃ আকাশে তো একটু মেঘ আছে। যদি বৃষ্টি হয় তখন।
রিতুঃ হক বৃষ্টি। বৃষ্টি হলে আরো ভালোই হবে রিক্সায় ঘুরবো হাত ভিজিয়ে ভিজিয়ে..
আমিঃ ওকে মহারানী যা বলবে, তাই হবে। পাগলী একটা…
রিতুঃ হি হি হি…
~ রিক্সায় করে আমি রিতুকে প্রথমে ফরিদপুর শহরের কিছু সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখালাম। যেগুলো অন্য জেলায় নেই সেগুলো। তারপর পার্কে গেলাম বিকালে। তখন বিকাল ৪.৩০ বাজে। পার্কে ঢুকে প্রথমে সব কিছু ঘুরিয়ে দেখলাম। কিছু রাউন্ডেও চড়লো। ছোট বোন মায়া, রিতুকে বাসায় আপু ডাকলেও এখানে এসে মেজো ভাবি মেজো ভাবি বলে ডাকছে। মায়া বললো, রিতু নাকি মায়াকে মেজো ভাবি বলে ডাকতে বলছে। রিতুকে ভাবি বলায় আমার ও ভালোই লাগছে। তাদের ফুচকা চটপটি আইসক্রিম খাওয়া শেষ হলে আমরা পুকুর পারে ঘাসের উপর গিয়ে তিন জন বসলাম। আশেপাশে অনেক রোমান্টিক জুটি বসে,শুয়ে গল্প করছে ~
ছোট বোন মায়াঃ- আচ্ছা ভাবি, ওনারা কি সবাই জামাই বউ? (রিতুর দিকে তাকিয়ে)
রিতুঃ না তো ঠিক জানি না। কিন্তু তুমি এমন বলছো কেনো মায়া?
মায়াঃ দেখছেন মেয়ে গুলোর কোলে কিভাবে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে ছেলে গুলো।
রিতুঃ তুমি আপু এখন অনেক ছোট। মাত্র ক্লাস 5 এ… এই বয়সে এতো কিছু দেখতে হয় না বুঝলে। (মায়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)
মায়াঃ রিতু ভাবি, আমার একটা কথা রাখবে?
আমিঃ এই মায়া, বড়দের নাম ধরতে ডাকতে নেই বুঝলে, রিতু ভাবি আবার কেমন কথা? শুধু ভাবি বললে কি হয় তোমার..?
(মায়ার দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে আমি)
রিতুঃ ঢং….
(আমার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কেটে)
আমিঃ ঢং ছেলেরা করে না, ঢং করে মেয়েরা বুঝলেন পিচ্চি পাগলী…
রিতুঃ হয়েছে আর নেকা করতে হবে না।
আমিঃ আমি আবার কখন নেকা করলাম? ভারী ঝগড়াটি মেয়ে তো তুমি…
রিতুঃ আমি মোটেও ঝগড়া করি না। ঝগড়া করেন আপনি।
আমিঃ মেজাজ গরম করবে না কিন্তু তুমি..
রিতুঃ তাহলে কি করবেন শুনি?
আমিঃ এখন কিছু করবো না। বাসর ঘরে বুঝাবো হুমম।
রিতুঃ সয়তান একটা…
আমিঃ আমি সয়তান হলে তুমি তো সয়তানের বউ পেত্নী। আমি ভদ্র ছেলে বুঝলে…
রিতুঃ হুমম আমি পেত্নী। আর তুমি মোটেও ভদ্র ছেলে না।
আমিঃ তুমি বললেই হল। সবাই আমায় ভদ্র ছেলে বলে বুঝলে?
রিতুঃ সবার কাছে ভদ্র ছেলে হলেও আমার কাছে না।
আমিঃ তোমার কাছে আমি কি শুনি?
রিতুঃ বজ্জাত
আমিঃ ইজ্জত শেষ আমার ?
রিতুঃ হা হা হা ☺
~ মায়া রিতুর হাতে চিমটি কেটে রিতুর দিকে তাকিয়ে বললো ~
মায়াঃ কি হল মেজো ভাবি, তোমরা ঝগড়া করবে, নাকি আমার কথা রাখবে?
রিতুঃ বলো ছোট আপু,কি কথা রাখতে হবে?
মায়াঃ ওখানে যেই ভাবে সবাই শুয়ে আছে, তোমরাও তেমন করো গল্প করো, আমি দেখবো। তুমি বসবে, আর ভাইয়া তোমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকবে, তুমি তখন ভাইয়াকে বাদাম খাওয়াইয়ে দিবে ☺
আমিঃ ওই মাইর খাবি? বেশি পেকে গিয়েছিস নাকি? (মায়ার দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে)
রিতুঃ তুমি কিন্তু মোটেও আমার ননদকে বকবে না বলে দিলাম (মায়াকে জরিয়ে ধরে)
আমিঃ তাহলে ও আজেবাজে কি কথা বলছে শুনতে পাচ্ছ?
রিতুঃ এটা মোটেও আজেবাজে কথা না। তুমি চুপ থাকো।
আমিঃ তাহলে ননদের শখ মিটাও… আমায় একটু ঘুমাতে দেও তোমার কোলে…
রিতুঃ সয়তানের শখ কত। বললেই হল সয়তান..
আমিঃ হা হা হা, এখনি শখ মিটাতে ভয় পেলে ননদের..
রিতুঃ আমি মোটেও ভিতু না।
আমিঃ তাহলে দেখি কত সাহস, হা হা..
~ এই বলে রিতুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম। রিতু চুল ধরে টানতে লাগলো, কি করছো, কি করছো বলে… আমি কি আর রিতুর কথা শুনি, আরো আরাম করে নিলাম। মায়া দাড়িয়ে নাচতে নাচতে বলছে ” আমি দেখে ফেসছি, ভাইয়া ও ভাবি প্রেম করছে, আমি বাসায় গিয়ে সবাই কে বলে দিবো হা হা “। আমিও ওর কথা শুনে হাসতে লাগলাম ~
আমিঃ শুধু বাসায় গিয়ে বললে হবে? ছবি ও তো তুলতে হবে তাই না, ছবি তুলো তো বুনু (মায়ার দিকে আমার মোবাইল এগিয়ে দিয়ে)
রিতুঃ সয়তান, মোটেও এমন বুদ্ধি দিবে না কিন্তু।
আমিঃ একশ বার দিবো।
~ মায়া অনেক গুলো ছবি তুললো। প্রথমে রিতুর কোলে মাথা দেওয়াতে, রিতু সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, এখন সাভাবিক মোডে চলে এসেছে। মায়া আমাদের পাশে বসে বাদাম খাচ্ছে, ও কাঠুরের গল্প বলছে রিতুকে। রিতু আমার মুখের পাশ দিয়ে গলার কাছে হাত দিয়ে একটু পর পর আমার মাথা জরিয়ে ধরছে ও মায়ার দিকে তাকিয়ে গল্প শুনছে। বার বার রিতুর মুখ আমার মুখের খুব কাছে চলে আসছে, রিতু হয়তো সেটা খেয়াল ও করে নাই ।
রিতুকে ডাক দিলাম, এই…
রিতু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ইশারায় উত্তর দিলো ” কি?”
আমি ইশারা করলাম তার কান আমার মুখের কাছে আনতে। সেও আনলো.. ~
আমিঃ আচ্ছা এমন যদি সারাজীবন থাকতে পারতাম কেমন হত?
রিতুঃ একটুও ভালো না।
আমিঃ কেনো?
রিতুঃ ইসস, আমার বুঝি বসে বসে মাজা ব্যাথা হত না?
আমিঃ ও তাই বুঝি? এতো মাজা নিয়ে টেনশন?
রিতুঃ হুমম অবশ্যই। তুমি আমার কোল থেকে উঠবে কখন বলো তো?
আমিঃ আমার তো মনে হচ্ছে সারাজীবন তোমার কোলে এই ভাবে মাথা রেখে ঘুমাই….
রিতুঃ বুড়ো দাদুর শখ কত ?
আমিঃ এই পিচ্চি, আমার একটা শখ মিটাবে?
রিতুঃ কি শখ বলো?
আমিঃ তোমার ঠোঁটে একটা পাপ্পি করতে দিবে?
~ রিতু সাথে সাথে আমার মাথার থেকে হাত সরিয়ে, আমার মাথাটা ঘাস মাটির উপর ঠাসস করে ফেলে দিয়ে, সে উঠে দাঁড়ালো ~
আমিঃ কি হল সোনা?
রিতুঃ দেখো তোমায় প্রথম ও শেষ বারের মত বলছি, এগুলো আমি একদম অপছন্দ করি। তুমি যদি এমন কিছু ভেবে থাকো, তাহলে আমার সাথে আর কখনো কথা বলো না। এমন কেনো কথাও আমার সাথে বললে আমি সম্পর্ক রাখতে পারবো না।
আমিঃ কি হল, তুমি এতো রাগছো কেনো? আমিতো এতো সিরিয়াস ভাবে কিছু বলি নাই তোমায়। সরি সোনা, আর কখনো এমন ভুল হবে না।
রিতুঃ তুমি সিরিয়াস ভাবে বলছো কিনা জানি না, কিন্তু এমন আর বলবে না আশা করি।
আমিঃ আচ্ছা পাগলী আর বলবো না। i love you Sona…
রিতুঃ মনে থাকে যেনো, i love you2 babu…
~ আমাদের ঝগড়া হচ্ছে, আর মায়া এক এক বার এক এক জনের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছে। বেচারা হয়তো ভাবছে, কাহিনি কি হচ্ছে হা হা।
আমার ও পোড়া কপাল, গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে আসছি, সাথে আবার ছোট বোনকেও আনতে হয়েছে ?
তারপর সবাই দুষ্টু করলাম, আবার একটু ঘুরাঘুরি করলাম পার্কের মধ্যে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বৃষ্টি পড়া ও শুরু হয়েছে ~
আমিঃ দেখো, বলছিলাম না বৃষ্টি হবে? এখন কি হবে?
রিতুঃ কি হবে আর, রিক্সায় যাবো, বৃষ্টির পানি খাবো ☺
আমিঃ তুমি তো খুব পাজি।
রিতুঃ খুব না তো, একটু হি হি…
~ রিক্সায় রিতুকে আগে উঠতে বসলাম। রিতুর বসা হলে, রিতুর কোলে মায়াকে বসিয়ে আমিও উঠে বসলাম। চারদিকে অন্ধকার হয়ে এসেছে। বৃষ্টি ও পড়ছে। বৃষ্টিতে আমরা যেনো না ভিজে যায়, তাই রিক্সা চালক আঙ্কেল কাভার করে দিয়ে। সত্যি তখন খুব সুন্দর লাগছে পরিবেশ, চারপাশে অন্ধকার, সাথে বৃষ্টি হচ্ছে, সাথে সুন্দরী মেয়ের পাশে বসে আছি, কত যে রোমান্টিক দৃশ্য ?…
রিতুর হয়তো মায়াকে কোলে নিয়ে বসতে কষ্ট হওয়াতে, আমি বললাম মায়াকে আমার কোলে বসতে। মায়াকে ধরে আমার কোলে বসানোর সময় রিতু ভালোই জোরে হি হি করে হেসে উঠলো ~
আমিঃ কি হল, তুমি এই ভাবে হাসলে কেনো?
রিতুঃ এমনি হি হি…
আমিঃ বলতে বলছি বলো, হাসলে কেনো?
রিতুঃ আমি বলতে পারবো না।
আমিঃ তোমার মাথায় কি সমস্যা আছে, একা একা হাসো? নাকি জ্বীনের আসর আছে তোমার উপর…
রিতুঃ চুপ সয়তান। তুমি মায়াকে নেওয়া সময় তোমার হাত আমার কোমরে ছুঁয়া লাগছে। আমার আবার একটু সুরসুরির প্রবলেম আছে…
আমিঃ হা হা, তাহলে তো খুব ভালো। বউ রাগলেও হাসবে, খুশি থাকলেও হাসবে … হাসানোর তো বুদ্ধি জেনে গেলাম।
রিতুঃ চুপ সয়তান, সব সময় শুধু আজেবাজে চিন্তা ঘুরে মাথায় ?
~ রিক্সা চলছে, রিতু এক হাত দিয়ে বৃষ্টি ধরছে আর আমি তাদের দুই জনকে একা ওটা দেখাচ্ছি, কোনটা কি, কোনটার নাম কি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে একটা জিনিস লক্ষ করছি, রিতু একটু পর পর আমার দিকে মায়াবী ভাবে তাকাচ্ছে, মনে হচ্ছে কি যেনো বলতে চাই, কিন্তু বলতে পারছে না। জিনিসটা আমি খেয়াল করেও চুপ করে আছি, বলছি না তাকে। এই ভাবে আরো কিছুক্ষন বিষয় টা খেয়াল করে, তার দিকে তাকিয়ে বললাম ~
আমিঃ সোনা, তুমি কিছু বলবে?
~ রিতু আমার দিকে মায়াবী ভাবে তাকিয়ে থেকে, হঠাৎ করে মায়ার চোখ এক হাত দিয়ে চেপে ধরে, আরেক হাত দিয়ে আমার মাথার পিছনের চুল চেপে ধরে আমার ঠোঁটে তার ঠোঁট মিল করে পাপ্পি করে ধরলো।
আমি কিছু বুঝার আগেই এটা কি হয়ে গেলো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি তার দিকে । ৯-১০ সেকেন্ড পর ছেড়ে দিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে নিলো রিতু।
মায়া চিৎকার করতে লাগলো, মেজো ভাবি তুমি আমার চোখ ধরলে কেনো?? লাইটিং করা কত সুন্দর সুন্দর লাইট দেখতে দিলে না কেনো?…
রিতু অন্য দিকে তাকিয়ে আছে চুপ করে, কেনো উত্তর নেই। আমিও চুপ করে থাকলাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম, রিতু হয়তো লজ্জা পায়ছে। রিক্সা বাসার সামনে চলে এসেছে।
রিক্সা থেকে নেমে বাসার মধ্যে যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম, আমার ধারণা সব ভুল। রিতু কান্না করছে খুব, দুই চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে ~
আমিঃ এই সোনা, তোমার চোখে পানি কেনো?
রিতুঃ (কেনো উত্তর নেই)
আমিঃ এই বলো, কান্না করছো কেনো?
রিতুঃ (এখনো কেনো উত্তর নেই)
আমিঃ কি হল তোমার, কথা বলো?
রিতুঃ আপনি কি করে পারলেন আমার এতো বড় সর্বনাশ করতে?
আমিঃ আমি আবার কি সর্বনাশ করলাম?
রিতুঃ আপনি আমায় পাপ্পি দিলেন কেনো?
(খুব জোরে কান্না করে দিলো)
~ ছোট বোন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ভাইয়া তুমি এতো পঁচা, আমার রিতু ভাবিকে কান্না করালে, আবার পাপ্পি দিয়েছো, আমি এখনি তোমার নামে বিচার দিবো সবার কাছে ? ~
আমিঃ………. ~ গল্প চলবে ~
বিঃদ্রঃ শুভ রিতুর সম্পর্ক কোন দিকে ঘুরে যায়, জানতে হলে পড়তে হবে আগামী পর্ব।