ছিলাম তো তোমারই পাশে পর্ব-০২

0
3829

#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পার্ট_2
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida
.
.
চৌধুরী বাড়িতে
আভি রুমে এসেই সব ভাঙচুর করছে।

((আভি চৌধূরী।আদিব চৌধুরী আর সুমাইয়া চৌধুরীর বড়ো ছেলে।দেখতে কোনো হিরো থেকে কম না।চৌধূরী গ্রুপের এমডি।মেজাজ সব সময় গরম,,রাগ হলে ভাঙচুর করে,,জীবনে একটাই প্রেম করেছে।কিন্তু আজ তার ব্রেক আপ হলো))

কী হয়েছে মা?ভাই সব কিছু ভাংচুর করছে কেনো?(আয়ুশ কফি খেতে খেতে)

((আয়ুশ আভির ছোটো ভাই।ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।মেয়েদের ক্রাশ এবং একটা প্লে বয়।এক নম্বর আওয়ারা ))

তোর ভাই তো রাগে না পারে এই বাড়ি ভেঙ্গে ফেলতে।জানিস না ওর রাগ হলে জিনিস পত্র ভাঙ্গে।(সুমাইয়া আভ র রুমে উকি দিয়ে)

((সুমাইয়া চৌধূরী।আদিব চৌধুরীর স্ত্রী।আয়ুশ আর আভির মা।ছেলেরা বলতে অজ্ঞান।))

কিন্তু ভাইয়ের এতো রাগ উঠলো কি করে? ও না আজ তুলির সাথে ডিনারে গেছে?খুশিই তো ছিলো?হটাৎ কি হলো?(আয়ুশ কফি নিয়ে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে)

অপদার্থ।গিয়ে তো একটু দেখতে পারিস?(সুমাইয়া রেগে)

পাগল তো আমি তোমার ছেলে এখন ক্ষুধার্ত বাঘ হয়ে আছে।গেলেই গপ করে গিলে খাবে(আয়ুশ পালানোর চেষ্টা করে)

তুই যদি ভিতরে না যাস।তবে তোর খবর আছে।(সুমাইয়া আয়ুশকে ধরে রাগী গলায়)

মা।তুমি কিন্তু আমারও জন্মদাত্রী মা।(আয়ুশ কাদো কাদো হয়ে)

হয়েছে তোর।এখন যা।একটু পর তোর বাবা বাসায় আসবে।যদি শুনে এইসব হচ্ছে।তাহলে আমাদের তিন জনেরই খবর আছে।যাবি তুই?।(সুমাইয়া রাগী গলায়)

আচ্ছা।
বলেই আয়ুশ ভয়ে ভয়ে ভিতরে ঢুকলো।

রুমে রীতিমত একটা ঝড় বয়ে গেছে।ফ্লোরের চার পাশে ভাঙ্গা কাচ ছিটিয়ে আছে।প্রতিটা আসবাপত্র ভাঙ্গা একটাও আস্ত নেই।

আভি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক রেগে আছে।

ভাই কি হয়েছে তোর?(আয়ুশ কাধে হাত দিয়ে)

তুলি আর আমার ব্রেক আপ হয়ে গেছে!(আভি দাত চেপে চেপে)

আলহাদুলিল্লাহ!(আয়ুশ খুশি হয়ে)

আভি রাগী চোখে আয়ুশ এর দিকে তাকালো।

নাউজুবিল্লাহ বলতে চেয়েছিলাম।(আয়ুশ জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)

আভি চুপ করে বসে আছে।নিরবতা ভেঙ্গে আয়ুশ আবার বলতে শুরু করলো।

কী করে হয়েছে এই সব?(আয়ুশ)

পরেই আভি ক্লাবে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বললো।

এইদিকে আয়ুশ সব কাহিনী শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।অন্যদিকে আভি আয়ুশ এর হাসা দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে।

আমরা ছয় বছর ধরে তোদের ব্রেক আপ করাতে পারলাম না।আর ওই অপরিচিত মেয়ে মাত্র ছয় মিনিটেই তোদের ব্রেক আপ করিয়ে দিলো।
বলেই আয়ুশ আবার হাসতে শুরু করলো।

হ্যা তোরা তো খুশিই হবি।সবাই তো এটাই চেয়েছিলি।(আভি চিৎকার করে)

আমার চেয়েছিলাম কারণ তুলি তোমার জন্যে ঠিক না।(আদি পিছন থেকে)
(আদিব চৌধুরী।আয়ুশ আর আভির বাবা।চৌধূরী গ্রুপের মালিক।আভি যেমন গরম মেজাজী উনি তেমনি ঠান্ডা মাথার লোক।খুব ভেবে চিন্তে কাজ করে)

বাবা?(আয়ুশ পিছনে ফিরে)

বাবা।আমি তুলিকে ভালোবাসি।(আভি বেডে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে)

ভালোবাসলে ছয় বছরের সম্পর্ক ছয় মিনিটে শেষ হয়ে যেত না।(আদি শান্ত গলায়)

বাবা আমাদের সম্পর্ক শেষ হয় নি।আর কোনো দিন শেষ হবে না।তুমি আর যাই বলো না কেনো?(আভি রাগে মাথা নিচু করে)

তুমি জানো আমি তোমাকে কোনো দিন জোর করিনি।যা করতে চেয়েছো তোমরা দুই ভাই তোমাদের তাই করতে দিয়েছি।এখনও যা মন চায় তাই করো।কিছুই বলবো না।(আদি শান্ত গলায়)

আভি চুপ করে আছে।আভি আর তুলির সম্পর্কে সবাই জানে।তুলি আর আভি সম্পর্কে খালাতো ভাই বোন।কিন্তু তুলিকে এই পরিবারের কেউই পছন্দ করে না।কারণ তুলি আভিকে সবার থাকে আলাদা রাখতে চায়।বিয়ের পর তুলি আভিকে নিয়ে আলাদা হয়ে যাবে তা সবারই জানা।কিন্তু আদিব চৌধুরী মানে আভির বাবা চায়না তার দুইছেলে কোনো দিন আলাদা হোক।ওদের এমন করেই বড়ো করেছে যেনো এই দুই ভাইয়ের দুই দেহ এক প্রাণ।কিন্তু বিয়ের পর সংসার বাঁচাতে তো আভিকে আলাদা হতেও পারে।এই জন্য ওরা তুলিকে আভির স্ত্রী হিসেবে চায় না।এছাড়া তুলির আচার ব্যবহার খুবই খারাপ।আভির সামনে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করলেও ভিতর ভিতর তুলি যেনো এক অন্য মানুষ।কিন্তু কিছুতেই আভিকে তুলি থেকে ওরা আলাদা করতে পারে নি।

যাই হোক।কালকে আমাদের মিটিং আছে।তোমার যেতে হবে মনে আছে।(আদি)

আমি যাবো না।(আভি মাথা নিচু করে)

আভি,,,,?(আদি চিৎকার করে)

যাবো না মানে যাবো না।
বলেই আভি বেরিয়ে গেলো।

আভি,,
বলেই আদি পিছন যেতে লাগলো তখনই সুমাইয়া আদিকে আটকে বললো

ওকে।একা থাকতে দাও।তুমি বরং একাই যাও।(সুমাইয়া)

আদি আভির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে
তুলি তোমার জন্য ভালো মেয়ে না আভি!তোমাকে এইটা বুঝতে হবে। ও তোমাকে না তোমার টাকাকে ভালোবাসে। ও এই পরিবারে আসলে আমার এই সোনার সংসার,,নিজের হাতে তৈরি সুখী পরিবার ধ্বংস করে দিবে ও।(আদি মনে মনে)


অন্যদিকে
কি হলো এই রকম পেত্নীর মতো দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি ভাবছো?(ছায়া চেয়ার আমার দিকে ঘুরিয়ে)

ভাবছি তুই কি বলছিস?আচ্ছা বলতো সত্যিই কি এমন মানুষ জীবনে আসে।(আমি ওর চেয়ারের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে)

হুম।আসে তো শুধু আমাদের চিনে নিতে হয়।বুঝলা?এখন যাও তো ফ্রেশ হয়ে আসো।আমি ঘুমাবো।(ছায়া উঠে আমাকে উঠিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে)

আচ্ছা যাচ্ছি যাচ্ছি।(আমি)


ফ্রেশ হওয়ার পর
আচ্ছা বললি না তো কি করে সামাল দিলি বাবাকে?(আমি বিছানায় শুতে শুতে)

বলছি আরশি আপুর সাথে দেখা করতে গেছো। পড়া নিয়ে কোনো সমস্যা আছে।(ছায়া টেবিল থেকে উঠে)

ওহ।আচ্ছা।না জানি সকালে কি হয়?(আমি আধ শোয়া অবস্থায়)

আচ্ছা আমি কী জানালা বন্ধ করে দিবো?(ছায়া জানালার দিকে আঙ্গুল দিয়ে)

না থাক। চাঁদের আলো আসছে খুব ভালো লাগছে।তুই বরং লাইট অফ করে শুয়ে পড়।(আমি শুয়ে)

ওকে
পরেই ছায়া লাইট অফ করে আমার পাশে শুয়ে পড়লো।


আমি শুয়ে শুয়ে জানালা দিয়ে আকাশের সেই এক ফালি চাঁদ দেখছি।আর নিজের করা কাজের জন্য অনুতপ্ত বোধ করছি।রাগের মাথায় উনাদের ব্রেক আপটা না করালেও পারতাম।আচ্ছা ওদের মধ্যে কি সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে?কি জানি?আমার একটু চিন্তা হচ্ছে।

চাঁদের দিকে তাকিয়ে কোন রাজকুমারের কথা ভাবা হচ্ছে?(ছায়া আমার দিকে ফিরে আধ শোয়া অবস্থায়)

তুই ঘুমাস নি?(আমিও ওর দিকে ফিরে)

না।আমিও তোর সাথে চাঁদ দেখবো আসুপি।(ছায়া আমাকে জড়িয়ে ধরে)

ওকে।(আমিও ওকে জড়িয়ে ধরলাম)

আসুপী।তোর মনে আছে? মা সব সময় আমাদের দুই বোনকে ঘুম পাড়ানোর সময় বলতো চাঁদের বুড়ির গল্প শুনাতো।(ছায়া)

হুম। চাঁদে বসে একটা বুড়ি সুতা কাটে।উনি ভালো ছেলে মেয়েদের যা চায় তাই দেয়।(আমি ছায়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)

হুম।এইটা বলতো যাতে তুমি দুষ্টামি কম করতে।কিন্তু তুমি যেই দুষ্টু ছিলে এইসব বলেও দুষ্টামি কম করানো যেতে পারতো না তোমার।(ছায়া)

আর এখন?(আমি ছায়ার গাল টেনে)

এখন তো আরো বেশি করো।না জানি তোমার জামাইয়ের কপালে কি আছে?(ছায়া আমার বুকে মাথা দিয়ে)

খুব ইচ্ছে না আমাকে বিদায় করার?(আমি)

হুম।অনেক ইচ্ছে।তুমি গেলেই তো আমি আমার রাজকুমার খুঁজে পাবো।(ছায়া)

ও মা তাই নাকি?অনেক হয়েছে রাজকুমার খোঁজা এখন ঘুমা।(আমি)


সকালে
মোচরা মুচরি করতে করতে চোখ খুলতেই চিৎকার করে উঠলাম
বাবা। ত,,,তুমি এখানে?(আমি বুকে থুতু দিয়ে)

কোথায় থাকবো?তোর মত বনে জঙ্গলে ঘুরবো?(জিসান খান আমার বাবা।আর আমার লাইফের হিটলার।খান গ্রুপ এর মালিক।উনার লাইফে দুটো জিনিস উনি কখনও পছন্দ করে না এক আমার প্রশংসা করা আর দ্বিতীয় আমার কোনো কাজ।)

বাবা ভুল বলছো!ঢাকায় বুঝি জঙ্গল আছে।সব তো উচুঁ উচুঁ বিল্ডিং।(আমি মোচরা মুচরি করতে করতে)

আর একটা কথা বললে চড় দিয়ে দাঁত যেগুলো আছে সেগুলো ফেলে দিবো বললাম।(জিসান রেগে)

ফেলে দিলে তোমারই সমস্যা।আমাকে কেউ বিয়ে করবে না পরে সারা জীবন তোমার ঘাড়ে বসে বসে খাবো আর তোমাকে এই ভাবে জ্বালাবো।(আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে)

তোকে বিয়ে করবে কোন পাগলে?(জিসান ভ্রু কুঁচকে)

তা তো তোমার খুঁজার দরকার আমার না।(আমি ভ্রু কুঁচকে)

এইখানে কি হচ্ছে?জিসান এসেছে আসুকে বকা দিতে।আর এখন বিয়ের টপিকে চলে যাচ্ছে।(কলি ছায়ার কানে ফিসফিস করে)

এইটাই তো তোমার বড়ো মেয়ের ট্যালেন্ট।কোন টপিক কোথায় নিয়ে যায় ও আর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।(ছায়াও ফিসফিস করে)

আচ্ছা।বিয়ের টপিক বাদ দাও।এখানে কেনো এসেছিলে তা বলো।(আমি বিছানায় বসে)

তোর আজকের মিটিং এর সব প্রিপারেশন শেষ?(জিসান সন্দেহর দৃষ্টিতে)

হ্যা হ্যা।শেষ।(আমি ভাব নিয়ে)

দেখ আমার বন্ধুর সামনে নাক কেটে দিস না আবার।(জিসান)

কোনো দিন নাক কেটেছে?(আমি)

তোর উপর বিশ্বাস নেই।(জিসান)

এইটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।(আমি মার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

অনেক হয়েছে।এখন চলো খাবার খেতে।পড়ে তোদের কলেজে যেতে হবে তো।আর তোমার অফিসে যেতে হবে।(কলি আস্থাকে বাঁচানোর জন্য)

কিন্তু,,(জিসান)

কোনো কিন্তু না।চলো।
বলেই কলি জিসানকে নিয়ে চলে গেলো।

আমি মাকে একটা ফ্লাইং কিস দিলাম।মাও আমাকে একটা ফ্লাইং কিস দিলো।

পরেই রেডি হয়ে খাবার খেয়ে নিলাম।

ভার্সিটি থেকে সোজা অফিসে আসবি?(জিসান খাবার খেতে খেতে)

ওকে বাবা।এখন যাই খোদা হাফেজ মা।
বলেই বাইক এ বসে পিছনে ছায়াকে বসিয়ে চলাম।


মেয়েটাকে এতো চাপ না দিলেও পারো।(কলি খাবারের টেবিলে পরিস্কার করতে করতে)

তোমার কি মনে হয় ওকে এতো বকে বুঝি আমার ভালো লাগে?আমার কলিজার টুকরা হচ্ছে ছায়া আর আস্থা।আস্থা আমাদের বড় মেয়ে ওকে তৈরি হতে হবে সব কিছু পরিস্থিতির জন্য।ওর তো ছায়াকে রক্ষা করতে হবে।নিজেকে রক্ষা করতে হবে।(জিসান টেবিল থেকে উঠে)

তুমি জানো!আসু অনেক স্ট্রং একটা মেয়ে।আর তুমিই তো ওকে এতো স্ট্রং করে তৈরি করেছো!(কলি)

আমাদের মেয়েগুলো আমাদের গর্ব।(জিসান কলিকে জড়িয়ে ধরে)


এই ছিলো আমার পরিবার।বাবা,,মা,,ছোটো বোন ছায়া আর আমি।আমরা চার জন মিলে একটা খুশি পরিবার।যদিও আমার সকাল পাখির কিচিরমিচির থেকে বাবার বকা খেয়ে শুরু হয় আর শেষ হয় বকা খাওয়া দিয়ে।ভার্সিটি থেকে সোজা আমায় অফিসে যেতে হয় সেখানে বাবার সাথে কাজ করতে হয়।মাঝে মধ্যে মনে হয় চলে যাই দূরে কোথাও!

আসুপী।কি ভাবছিস?(ছায়া পিছন থেকে)

আমার কি মনে হয় জানিস বাবা আমাকে কোথা থেকে কুড়িয়ে এনেছে।(আমি বাইক চালাতে চালাতে)

হ্যা হ্যা।এইটা তো আমার বলা উচিত যে তোকে কুড়িয়ে এনেছে।(ছায়া এক গাল হেসে)

কিন্তু বিশ্বাস কর এখন আমার এটাই মনে হয়।(আমি ঠোঁট ফুলিয়ে)

বাবা যা করে তোর ভালোর জন্যই করে।তুই তো জানিস উনি আমাদের কতো ভালোবাসে।(ছায়া আমার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে)

হুম।জানি ঠিকই কিন্তু বুঝতে পারছি না।আচ্ছা যাই হোক তোর কলেজ এসে গেছি এখন চল।খোদা হাফেজ।(আমি ছায়াকে নামিয়ে)

খোদা হাফেজ।আসুপি।(ছায়া আমাকে টাটা দিয়ে)


আমি ভার্সিটিতে বাইক পার্ক করে ঢুকলাম।তখনই আরশি আমাকে জড়িয়ে ধরে
তুই ঠিক আছিস?আসু।(আরশি চিন্তিত হয়ে)

কী হবে আমার?(আমি অবাক হয়ে)

আসু।ওই ছেলে ক্লাবে আবার এসেছিলো তোর খবর নিতে যখন তুই বেরিয়ে গিয়েছিলি।মনে হয় ওদের সিরিয়াস ব্রেক আপ হয়ে গেছে।(পিয়ালী)

ওহ।তো আমার খোঁজ পেয়েছে?(আমি চিন্তিত হয়ে)

না।পায়নি।(আকাশ)

আল্লাহ বাঁচাইছে।(আমি হাফ ছেড়ে)

এখন কি করবি আসু?(আরশি)

কিছু না।আমার এখন কি করার আছে।যা কুকাম করার আগেই করে ফেলেছি।এখন টেনশন নিয়ে লাভ নেই। চল ক্লাস করি।(আমি)

ঠিক।এখন চিন্তা করে কিছু হবে না।এর চেয়ে ভালো এই সব ভুলে যাই।(আকাশ)

একদম ঠিক।(আমি)

পরেই আমরা ক্লাস করতে গেলাম।


ভার্সিটি শেষে।
আসু চল কোথাও গিয়ে আড্ডা দেই।(আরশি)

সরি দোস্ত।আমার হিটলার বাবার কোনো এক জিগরি দোস্ত আসবে।তার সাথে মিটিং শুনেছি উনি নাকি বিদেশি ক্লাইন্ট।এখন বাবা আমার বানানো প্রেজেন্টেশন দিতে চায়।আর সেখানে আমি লেট গেলে।আমাকে কোরবানি দিবে তুই তো জানিস।(আমি)

তুই সব সময় এমন করিস!(পিয়ালী)

সরি ইয়ার।আমি এখন যাই।(আমি)

আচ্ছা খোদা হাফেজ।(সবাই)

খোদা হাফেজ।(আমি)


বাইক নিয়ে রেড সিগনালে দাড়িতে আছি।তখনই দেখি পাশের রাস্তায় একটা চোর একজন মধ্যবয়স্ক ব্যাক্তির গাড়ির জানাজা দিয়ে উনার কাছ থেকে ব্যাগ নিয়ে দৌড় দিলো

হে।কেউ চোরটাকে ধরো।
বলেই লোকটা গাড়ি থেকে নামলো।

তখনই আমি বাইক ঘুরিয়ে পাশের রাস্তায় নিয়ে গেলাম।

আঙ্কেল উঠুন।
বলেই একটা হেলমেট পাস করে দিলাম উনার কাছে!

কী?
উনি অবাক হয়ে।

আরে।উঠুন তো।(আমি)

পরেই উনি আমার বাইকে উঠলো।পরেই আমি আর উনি চোরটাকে ধাওয়া করলাম।

অনেকক্ষন ধাওয়া করার পর চোরটাকে ধরতে পারলাম।

এই ব্যাটা চোর তোর তো সাহস কম না দিনে দুপুরে চুরি করছিস!(আমি চোরের শার্টের কলার চেপে ধরলাম)

পাশে থেকে লোকজন এই ওকে মার মার,,,,

যখনই পাশে লোকজন চোরটাকে মারতে যাবে তখনই ওই আঙ্কলটা বলে উঠলো

থামেন আপনারা সবাই।আপনারা প্লিজ যার যার কাছে যান।আমি দেখছি বিষয়টা।(আঙ্কেল)

পরেই সবাই চলে গেলো।
দাড়িয়ে রইলাম আমি,,চোর আর সেই আঙ্কেলটা।

তুমি কেনো চুরি করছো?দেখতে তো ভদ্রই মনে হচ্ছে।(আঙ্কেল)

ভদ্র লোক চুরি করে নাকি?(আমি বাইকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি)

মা ওর সাথে আমায় একটু কথা বলতে দাও।(আঙ্কেল)

ওকে।(আমি)

এইবার বলো তোমার চুরি করার কারণ কি?(আঙ্কেল)

আসলে আমি মাস্টার্স পাশ করেছি।কিন্তু এখনও আমার কোনো চাকরি নেই।এই দেশে ঘুষ দিলে চাকরি হয় কিন্তু ট্যালেন্ট দেখে কেউ চাকরি দেয় না।(চোরটা কাদতে কাদতে)

তাই বলে তুমি খারাপ কাজ করবে?(আঙ্কেল ওর কাঁধে হাত রেখে)

মন তো চায় না খারাপ কাজ করি কিন্তু পেটের দায়ে সব কাজ করতে বাধ্য হই।বাড়িতে মা পথ চেয়ে বসে থাকে যাতে কিছু খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরি।বোনের লেখাপড়া অনেক ইচ্ছে।বড়ো ভাই হয়ে বোনের ইচ্ছে পূরণ করতে না পারা এই চুরির কাছে কিছুই না।(চোরটা কাদতে কাদতে)

তোমার বাবা কি করে?(আঙ্কেল)

বাবা রিকশা চালাতো।কিন্তু এখন অসুস্থ।সারা জীবন ধরে বাবার পুঁজি আমি ছিলাম কিন্তু এখন আমিই অপদার্থ।
বলেই চোরটা কান্না করতে লাগলো।

আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনছি।কিছুই বলার নেই এই ব্যাপারে।এইটা তো নিত্যদিনের ব্যাপার।কিন্তু দেখি এখন এই আঙ্কেল কি করে?(আমি মনে মনে)

এই বাইকটা কার?(আঙ্কেল)

আমার একটা বন্ধুর।ওর কাছ থেকে ধার নিয়েছি।(চোরটা)

নাম কি তোমার?(আঙ্কেল)

শিমুল।(চোরটা)

কালকে এই অ্যাড্রেসে চলে আসবে।তোমার ট্যালেন্ট দেখেই তোমাকে চাকরি দিবো।কিন্তু ভুলেও আর এমন কাজ করবে না।(আঙ্কেল)

শিমুল আংকেলের পায়ে ধরে কাদতে কাদতে বললো
।আপনার এই উপকার আমি কোনো দিনও ভুলবো না।আমি নিজেকে শুধরে নেবো।

আচ্ছা আচ্ছা।এখন যাও বাসায় যাও।আর কিছু টাকা আছে নিয়ে যাও।পরিবারের জন্য কিছু কিনে নিও।(আঙ্কেল)

পরেই শিমুল আঙ্কেলকে বিদায় দিয়ে চলে গেলো।

বাহ।আঙ্কেল চোরকে বিশ্বাস করলেন?(আমি উনার কাছে গিয়ে)

সবাইকে একটা সুযোগ দেয়া উচিত।(আঙ্কেল)

তা অবশ্য ঠিক।কিন্তু সে সুযোগের যোগ্য কিনা তাও কিন্তু দেখা উচিত। (আমি)

একটা সুযোগ সবারই প্রাপ্য।সে যেই হোক না কেনো?(আঙ্কেল)

আপনি আর আমি অনেক আলাদা।আমার মতে যে একবার ভুল করতে পারে সে দ্বিতীয় বার একই ভুল করতে পারে।তাই তাদের সুযোগ দেয়া বোকামি(আমি)

আঙ্কেল আমার কথায় মুচকি হেসে বলল
তুমি অনেক চমৎকার একটা মেয়ে। থ্যাঙ্ক ইউ আমাকে সাহায্য করার জন্য।(আঙ্কেল)

ব্যাপার না আঙ্কেল।আচ্ছা আমি আপনাকে পৌঁছে দেই।(আমি)

না।না।ওই দেখো আমার গাড়ি চলে আসছে।তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না।(আঙ্কেল)

ওকে আঙ্কেল তাহলে আমি যাই।
বলেই আমি বাইক স্টার্ট করে চলে আসলাম।

আদি স্যার।আপনি ঠিক আছেন তো।(আরিফ আদির অ্যাসিস্টেন্ট)

হুম।মেয়েটা সত্যিই অসাধারণ।(আদি)


অফিসে
দূর। আজকেও লেট হয়ে গেছে।বাবা তো আমাকে খুন করে দিবে।উনার বন্ধু কি এসে পড়লো।নাকি?আস্থা আজ তো বাবা তোকে আস্ত রাখবে না।(আমি চুপি চুপি কেবিনে ডুকতে ডুকতে)

পিছন থেকে বাবা
আপনার আসার সময় হয়েছে ম্যাম।(জিসান ভ্রু কুঁচকে)

আহহ।তুমি একদিন আমাকে হার্ট অ্যাটাকে মারবে।(আমি বুকে থুতু দিয়ে)

কোথায় ছিলেন আপনি ম্যাম?(জিসান দাত চেপে চেপে)

এতো সম্মান?নির্ঘাত আমাকে আজ জবাই করবে।(আমি মনে মনে)

কী হলো কথা বলছিস না কেন?(জিসান ধমক দিয়ে)

সরো কথা বলার সময় নেই।তোমার বন্ধু এসেছে?।(আমি)

হুম।তোর জন্য বসেও আছে।মিটিং হোক তারপর তোকে দেখছি।
বলেই বাবা আমাকে নিয়ে মিটিং রুমে ঢুকলো।

মিটিং রুমে ঢুকেই
আরে তুমি?
রাস্তার সেই আঙ্কেলটা।

আঙ্কেল আপনি?(আমি অবাক হয়ে)

তোরা দুজন চিনিস একজন আরেক জনকে।?(জিসান আরো অবাক হয়ে)

আরে তোর এই অসাধারণ লক্ষী মেয়েকে কি আর ভুলা যায়?(আঙ্কেল আমার মাথায় হাত দিয়ে)

ও তোকে অসাধারণ লক্ষী মেয়ে বলছে কেনো?
বাবা আমার কানে ফিসফিস করে।

কেনো ?বললে কি সমস্যা?
আমিও বাবার কানে ফিসফিস করে।

না।কেউ তো কোনো দিন তোর প্রশংসা করে নি।(জিসান)

কারণ সবাই তো আর তোমার মত না বাবা!(আমি জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)

মিটিংটা হোক তোর খবর আছে।
বলেই বাবা একটা রাগী লুক দিয়ে চেয়ারে বসলো।

আমি শুকনো ঢোক গিলে মিটিং শুরু করলাম।


চলবে,,