#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পর্ব_3
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida
.
.
বাহ! জিসান তোর মেয়ে তো রূপে গুনে একদম পারফেক্ট।কি সুন্দর প্রেজেন্টেশন দিলো!আমি তো পুরাই ইমপ্রেস।আমি এই ডিলটা করতে রাজি।(আদি অনেক খুশি হয়ে)
আলহাদুলিল্লাহ।তাহলে আমরা আজই কন্ট্রাক্ট সই করে।খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করে দেই।(জিসানও খুশি হয়ে)
সই তো আজই করবো।কিন্তু কাজের কোনো তাড়া নেই।(আদি)
কেনো আঙ্কেল?কাজ তো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করে দিয়াই ভালো।(আমি)
তুমি একদম আমার ছেলের মতো!সারাক্ষণ খালি কাজ কাজ।(আদি আস্থার মাথায় হাত দিয়ে)
ওহ।ভালো কথা তোর ছেলে আসে নি কেনো? ওরও তো আজ মিটিংয়ে থাকার কথা।(জিসান)
আরে ওর কথা বলিস না।ওর মতি গতি কখন ঘুরে যায় বুঝাই যায় না।তোর তো দুটো মেয়ে না?।(আদি)
হ্যা।আল্লাহর রহমতে।আর তো দুটো ছেলে?(জিসান)
আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে সব শুনছি।নিজের উপরই রাগ হচ্ছে।এই দুই বন্ধুর মধ্যে আমি পড়েছি।এদের যে কথা শুরু হয়েছে।আমার মনে হয় না এই কথা আজ আর শেষ হবে।কিন্তু এখানে আমি কি করছি?উনাদের মনে হচ্ছে অনেক ভালো বন্ধু।কিন্তু এই আঙ্কেলকে তো আমি আমার জীবনের প্রথম দেখছি। ও উনি তো বিদেশে থাকতো আমার তো চেনার কথাই না।(আমি মনে মনে)
আরে দেখো।আমি তো তোর সাথে কথা বলতে বলতে তোর মেয়ের কথা ভুলে গেছি।মা তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?(আদি)
না না।ওর সমস্যা নেই।তুই যা গিয়ে গাড়িতে বস।আমি আসছি দুমিনিটের মধ্যে।(জিসান)
আচ্ছা।যাচ্ছি।
বলেই মুখ পেঁচার মতো কর নিচে গেলাম।
।
।
দুই ঘণ্টা পর
আমি গাড়িতে বসে ফোন টিপছি।তখনই বাবা আসলো।
চলো।(জিসান ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে)
বাবা।এই তোমার দুই মিনিট তাই না?(আমি ভ্রু কুঁচকে)
বাবা একটা রাগী লুক দিলো। ব্যাস উনার মনের খবর জানতে আমার সময় লাগলো না।আমি আবার ফোন টিপার কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর
নে এসে পড়েছে(জিসান)
এইটা তো রেস্তরাঁ?এখানে কেনো?(আমি অবাক হয়ে)
কারণ আজ ডিলটার পুরো ক্রেডিট তোর।তাই এইটা আমার তরফ থেকে তোর ট্রিট।(জিসান)
মাঝে মধ্যে মনে হয় DNA test করি।আবার মনে হয় না তুমি সত্যি আমার বাবা।আমার লক্ষী বাবা।
বলেই বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।
হয়েছে হয়েছে।এখন চল।আর তেল মালিশ করতে হবে না।(বাবা)
।
।
আমি আর বাবা একসাথে বসে খাচ্ছি আর বিভিন্ন কথা বলছি।ভাবা যায় বাবা আমার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।সত্যিই বাবা গুলো এমনই হয় কখনও হাসায় আবার কখনো রাগ দেখায়।কখনও বা খুব ভালো বন্ধু কখনও বা কঠিন বাবা।সঠিক সময়ে তাদের সঠিক রূপ নিতে দেরি হয় না।তবে এটা সত্যি যে বাবারা নিজের অনুভূতি খুব কম দেখাতে পারে।কিন্তু সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা অনেক।আমার জন্য মা যদি জান্নাত হয় বাবা সেই জান্নাতের সুখ।আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী বাবা,মা আর ছায়াকে আমার পরিবার হিসেবে পেয়ে।আমি খাচ্ছি আর এইসব ভাবছি তখনই বাবা আমাকে প্রশ্ন করল
কিরে আসু কি ভাবছিস?(জিসান খেতে খেতে)
ছায়া এইটা দেখলে খুব রাগ করবে!(আমি খেতে খেতে)
ওকে বলিস না।(জিসান)
ওকে।আচ্ছা উনি(আঙ্কেল) কেনো দেরিতে কাজ শুরু করতে চায়?(আমি)
ওদের বাড়িতে একটা বিয়ে।ওর ছোট বোনের মেয়ের।তার জন্য ওরা সবাই গ্রামের বাড়ি যাবে।(জিসান)
ও। তা কবে আসবে?(আমি)
পনেরো দিন পর।(জিসান)
ওহ।ভালো।(আমি)
আমরাও যাবো।(জিসান)
কোথায়?(আমি খাওয়া বাদ দিয়ে হা করে আছি)
ওদের সাথে দাওয়াত দিছে।(জিসান)
পনেরো দিনের জন্য?(আমি অবাক হয়ে)
হুম।(জিসান)
কবে যাবো?(আমি)
কালকে রাতে সবাই বাসে করে যাবো একসাথে।(জিসান)
কিহ!(আমি টেবিল থেকে দাড়িয়ে)
কী হলো?তুই এইভাবে দাড়িয়ে পড়লি কেনো?(জিসান অবাক হয়ে)
কিছু না।(আমি বসতে বসতে)
শিট পরশু দিন তো আমার একটা ফাংশনের অভিনয় করতে হবে।এইটা তো বাবা জানলে আমার বারোটা বাজিয়ে দিবে।কিন্তু আমি ওদের কথা দিয়েছি।লাস্ট মিনিটে সরে আসা ইম্পসিবল।এখন কি করবো?(আমি মনে মনে)
।
।
গাড়িতে বাবার পাশে বসে বসে আমি শুকনো ঢোক গিলাম।এই শীতে আমার গায়ের গাম যেনো বেয়ে পড়ছে।বাবাকে কি করে রাজি করাবো?বাবা তো নির্ঘাত না করে দিবে।সাথে অনেক রাগ দেখাবে।কিন্তু এখন আমাকে রাজি করাতেই হবে বাবাকে!কি করবো?মিথ্যা বলবো?না মিথ্যা বলা তো ঠিক হবে না। তাও বাবাকে!বাবা জানলে খুব কষ্ট পাবে যে আমি উনাকে মিথ্যা কথা বলছি।আর সত্যিই বললে যেতেও দিবে না।এখন কি করবো আমি?
অনেকক্ষন চিন্তা করার পর সিদ্ধান্ত নিলাম।যে আমি সত্যিই কথা বলবো এইবার বাবা যাই করুক।কিন্তু বাবাকে আমি রাজি করবোই। আই অ্যাম শিওর বাবাকে বুঝিয়ে বললে রাজি হবেই।
আমি গাড়ির জানালা খুলে দিলাম।
কী হলো?এই শীতে জানালা খুলছিস কেনো?(জিসান সন্দেহর দৃষ্টিতে)
এমনি বাবা।একটু অস্বস্থি হচ্ছিলো।(আমি জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)
বাবা আর কিছু না বলে সামনের দিকে তাকালো।
আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে
বাবা?(আমি ভয়ে ভয়ে)
কী হলো আবার?(বাবা সন্দেহর দৃষ্টিতে)
আমি কালকে যেতে পারবো না।(আমি এক টানে)
কেনো?(বাবা অবাক হয়ে)
বললে বকবে না তো?(আমি ভয়ে ভয়ে)
না বকবো না।(বাবা)
পরশু আমার একটা প্রোগ্রাম আছে।সেখানে আমি অভিনয় করছি।আমরা অনেক কষ্ট করে সব কিছু করেছি বাবা।আমি এইটা করতে চাই বাবা।আমরা সব ফ্রেন্ডরা মিলে করে এই অভিনয়টা করছি।প্লিজ বাবা আমাকে এইটা করতে দাও।(আমি কান্না করে দিলাম)
জিসান আস্থার মুখের দিকে তাকিয়ে
মেয়েটা ওর পছন্দের জিনিস গুলো আমার ইচ্ছের জন্য বিসর্জন দিচ্ছে।আমি এতো বকা দেই এতো কিছু বলি সব কথা সব আদেশ ও মাথা পেতে মেনে নেয়।বিনিময়ে কিছু চায় না।আর ওর ইচ্ছে গুলোর খবর তো আমি জানিও না।আর আজ ভয়ে ও আমার সামনে কান্না করে দিলো।আমি হয়তো ওর প্রতি একটু বেশিই কঠিন হয়ে যাই।ওর পছন্দের জিনিস ও করুক।এতেই তো খুশি হবে।(জিসান মনে মনে)
বাবা?(আমি কাদতে কাদতে)
ঠিক আছে।এতো কান্না করতে হবে না। অভিনয় করার পর তোকে যেতে হবে।(জিসান আস্থার মাথায় হাত বুলিয়ে)
থ্যাঙ্ক ইউ বাবা। ইউ আর দা বেস্ট।
বলেই বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।
কী নিয়ে অভিনয় করবি?(জিসান)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক রক্ত করবীতে আমি নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করবো।(আমি)
বাহ।ভালো তো।আমার পিচ্ছি মেয়ে এতো বড়ো হয়ে গেছে।আমি জানিও না।(জিসান)
কোনো দিন বকা দেয়া ছাড়া তাকিয়ে দেখলেই দেখতে পারতে।(আমি বিড়বিড় করে)
কী বললি?আমি কিন্তু শুনতে পেয়েছি(জিসান)
বলেই আমরা বাবা মেয়ে এই রকম ঝগড়া করতে করতে বাসায় চলে আসলাম।
।
।
অন্যদিকে
চৌধুরী মেনশনের খাবারের টেবিলে
বাবা।আমার একটু কাজ আছে।আমি কালকে তোমাদের সাথে যেতে পারবো না।(আভি খেতে খেতে)
কেনো ভাই?(আয়ুশ অবাক হয়ে)
আমার একটা কাজ আছে।(আভি)
ভাই।তোর কাজ কি খুব ইম্পর্ট্যান্ট?(আয়ুশ)
হুম।অনেক।আমি যেতে পারবো না।তোমরা কালকে নাইটে চলে যাও।আমি পরের দিন বিকেলে গাড়ি নিয়ে চলে আসবো!(আভি)
তোমার যা ইচ্ছে কর!আমি কিছু বলবো না।কিন্তু হা তোমার বিয়েতে থাকা চাই।(আদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
ওকে।বাবা।আমি সময়মত পৌঁছে যাবো।
বলেই আভি টেবিল ছেড়ে উঠে দাড়ালো।
তুমি ওকে অনুমতি দিয়ে দিচ্ছ?আমাদের সাথে গেলেই তো ওর অনেক ভালো হতো!(সুমাইয়া খাবারের টেবিলে বসে)
সুমু ওরা আর বাচ্চা না যে ধরে বেধে কাজ করাবো।ওর যদি মনে থাকে যে ওর বোন আছে তাহলে ও নিশ্চয়ই যাবে।(আদি টেবিল থেকে দাড়িয়ে)
আভি মাথা নিচু করে শুনছে।আদি শুধু ওর দিকে কঠিন নজর দিয়ে রুমে চলে গেলো।আভিও ওর রুমে চলে গেলো।
কী হচ্ছে এইসব মা?(আয়ুশ মনমরা হয়ে)
আমি কিছু জানি না।তোর বাবা আর আভি যে কি শুরু করেছে?কেমন হয়েছে গেছে আমার আভিটা।একদম একঘেঁয়ে।(সুমাইয়া মাথায় হাত দিয়ে টেবিলে বসে আছে)
বাবা ঠিকই বলেছে।তুলি ভাইকে আমাদের থেকে আলাদা করে দিবে!এখনই তার নমুনা দেখছি।ভাই আমাদের সাথে থেকেও নেই।(আয়ুশ মনে মনে)
।
।
আভির রুমে
আভি লেপটপে আস্থার করা প্রেজেন্টেশন দেখছিলো।যদিও ও জানে না এইটা আস্থার প্রেজেন্টেশন বা ও যাকে খুঁজছে সেই এই মেয়ে। মিটিংয়ে যায় নি বলে প্রেজেন্টেশন চেক করছে যাতে কোনো সমস্যা না হয় ভবিষতে।তখনই আয়ুশ রুমে ঢুকলো।
ভাই তুই তো এক্সসাইটেড ছিলি এখন যাবি না কেনো?(আয়ুশ বেডে বসতে বসতে)
পরশু তুলির সাথে কথা বলবো বলেছিলাম।এইজন্য তোদের সাথে যেতে পারবো না।অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি।(আভি ল্যাপটপ বন্ধ করে আয়ুশ এর দিকে তাকিয়ে)
নিশ্চয়ই ওই তুলি তোমাকে পরশু দিনের কথা বলেছে?(আয়ুশ সন্দেহর দৃষ্টিতে)
হুম।তো?(আভি ভ্রু কুঁচকে)
এই তুলি ইচ্ছে করে এইটা করেছে!যাতে তুমি আমাদের সাথে না যেতে পারো। ও তো চায়ই আমাদের থেকে তোমাকে আলাদা করতে।(আয়ুশ দাত চেপে চেপে)
আয়ুশ।বেশি কথা বলিস না। ও কখনও তোদের থেকে আমাকে আলাদা হওয়ার কথা বলে নি।তোরা শুধু শুধু ওকে সব কিছুর জন্যে দায়ী করছিস।(আভি রাগে)
তোমাকে বলে কিছু হবে না।তুমি তো ওর নামে কিছুই সহ্য করতে পারো না।এখনও শুধু শুধু ওর জন্য রাগ করছো।আমার আর কিছুই বলার নেই।আমি উঠলাম।আমার প্যাকিং করতে হবে।
বলেই আয়ুশ বেড থেকে উঠে চলে গেলো।
আভি রাগে বেডে বসে পড়লো।
এখন যদি ওই মেয়েকে হাতের কাছে পেতাম।জীবিত গিলে খেতাম।(আভি মনে মনে)
।
।
অন্যদিকে
কিরে বন্ধু!তোরা সব যাবি তো?(আদি জিসানকে ফোন দিয়ে)
হ্যা।আমরা তো সবাই যাবোই।কিন্তু?(জিসান বলতে গিয়ে থেমে গেলো)
কিন্তু কি?(আদি)
আমার বড়ো মেয়েটার একটা প্রোগ্রাম আছে । এখন ও বোধ হয় যেতে পারবে না আমাদের সাথে। ও পরশু দিন বিকেলে ট্রেনে যাবে।(জিসান)
সেকি একা একটা মেয়ে ট্রেনে যাবে?কোনো কিছু হয়ে গেলে।আর আমাদের দেশের বাড়ি যেতে তো পুরো এক দিন লাগে তুই জানিস।ওর যেতে যেতে তো সারা রাত লাগবে সকালে গিয়ে পৌঁছাবে।রাতে একা একটা মেয়ে ট্রেনে যাবে এইটা তো সম্ভব না।(আদি চিন্তিত হয়ে)
তুই এই চিন্তা করিস না।আমার মেয়েকে কিছু করার সাহস নেই কারো!(জিসান)
তবুও রাস্তা ঘাটের ব্যাপার।কিছু একটা হয়ে কি করবি?তার চেয়ে ভালো আমার বড়ো ছেলে তোর মেয়েকে নিয়ে যাবে।(আদি)
আরে অযথা তোর ছেলের কষ্ট করতে হবে কেনো?(জিসান)
এতে কষ্টের কিছু না। ও তো পরশু বিকেলেই যাবে।সাথে করে না হয় তোর মেয়েকেই নিয়ে যাবে।(আদি)
তাহলে তো ভালোই।আমার আর ওকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।তুই বরং তোর ছেলেকে জিজ্ঞেস করে আমাকে জানিয়ে দিস।(জিসান)
আচ্ছা।আমি তোকে ফোন করে জানিয়ে দিবো।(আদি)
পরেই ফোন রেখে
যাক একটা চিন্তা তো মুক্ত হলো।(জিসান মনে মনে)
।
।
রাতে ডিনার করছি
আসু তোর প্রোগ্রাম কোথায় হবে?(জিসান খেতে খেতে)
উত্তরাতে একটা কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত হচ্ছে।কেনো জিজ্ঞেস করলে?(আমি)
কারণ তোকে সেখান থেকে আমার বন্ধুর ছেলে নিয়ে যাবে ওর সাথে!(জিসান)
কোথায়?(আমি অবাক হয়ে)
কাজী অফিসে!(ছায়া মাঝখানে ফট করে বলে উঠলো)
ছায়া!(আমি,,বাবা আর মা চিৎকার করে)
আরে আমার রোমান্টিক গল্পে তো এমনই হয়।(ছায়া হিহি করে হেসে দিলো)
চুপ।(কলি রাগী গলায়)
ছায়া চুপ করে খেতে লাগলো।
কোথায় নিয়ে যাবে?(আমি)
ওদের গ্রামের বাড়িতে।তোমাকে আর ট্রেনে যেতে হবে না।তুমি ওর সাথেই যাবে!(জিসান)
কিন্তু আমি একা যেতে পারবো।শুধু শুধু একটা লোককে কেনো কষ্ট দিবো বলো?(আমি)
একা একটা মেয়ে যাওয়া ঠিক না।(জিসান)
বাহ।একা একটা মেয়ে ব্যাবসা সামলাতে পারে কিন্তু কোথাও যেতে পারবে না।(আমি বিড়বিড় করে)
কিছু বললে?(জিসান)
না না কিছু না!(আমি)
বাবা যা বলছে ঠিকই বলছে।(কলি)
ওকে মা।ওকে বাবা।(আমি)
।
।
অন্যদিকে
চৌধুরী বাড়িতে আভি আর আয়ুশ মিলে নিচে ক্রিকেট মাচ দেখছে তখনই আদি এসে,,,
আভি?(আদি)
জ্বি বাবা!(আভি আদি দিকে তাকিয়ে)
তুমি আমার এক বন্ধুর মেয়েকে নিয়ে আসবে তোমার সাথে করে গ্রামের বাড়িতে।(আদি সোফায় বসতে বসতে)
কেনো বাবা!তোমাদের সাথেই তো যেতে পারে।(আভি ভ্রু কুঁচকে)
ওর একটা কালচারাল সেন্টারে প্রোগ্রাম আছে।সে প্রোগ্রাম শেষে তুমি ওকে গিয়ে নিয়ে আসবে।আমি তোমাকে অ্যাড্রেস দিচ্ছি।তুমি আর ও একসাথে গ্রামের বাড়িতে আসবে।(আদি)
কিন্তু বাবা!(আভি)
কোনো কিন্তু না।মনে থাকে যেন ও আমার ছোট বেলার বন্ধুর মেয়ে।আমার কাছেও মেয়ের মতো।ওকে না নিয়ে আসবে না।ওকে সুরক্ষিতভাবে নিয়ে আসার দায়িত্ব তোমার।(আদি)
ঠিক আছে বাবা।(আভি)
মনে হচ্ছে আমি ওই মেয়ের বডিগার্ড!(আভি মনে মনে)
বাহ।কি সুন্দর রোমান্টিক জার্নি হবে।ভাই গাড়ি চালাবে আর বলবে এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হবে তুমি বলত?(আয়ুশ)
আয়ুশ।তোর কি মার খেতে ইচ্ছে করছে।(আভি বিরক্ত হয়ে)
আহা বাবা। এইভাবে নাকের ডগাতে রাগ লাগলে বুঝি তোকে ভালো লাগে।(সুমাইয়া আভির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)
ওকে কিছু বলো মা।(আভি)
কী বলবো?ও তো তোর ছোটো একটু মজা করতেই পারে।(সুমাইয়া)
মা তুমিও ওদের দলে।
সবাই হেসে দিলো।এইভাবে হাসি ঠাট্টার মধ্যে দিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখার বদলে আয়ুশ আর আভি ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে শুরু করলো।
আদি আর সুমাইয়া মিলে ওদের ছেলেদের কান্ড কারখানা দেখছে আর হাসছে।
।
।
চলবে,,,