ছিলাম তো তোমারই পাশে পর্ব-০৪

0
3287

#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পর্ব_4
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida
.
.
রুমে
কিরে মুখ পেঁচার মতো হয়ে আছে কেনো তোর?(আমি ছায়ার দিকে তাকিয়ে)

তুই যাবি না?(ছায়া ঠোঁট ফুলিয়ে)

যাবো তো।খালি তোরা আগে যাবি আর আমি পরে এইটুকুই তো পার্থক্য।(আমি ওর কাছে বসে)

তুই ছাড়া আমি কোনোদিন কোথাও যাই নি।
(ছায়া আমার কোলে মাথা রেখে)

হুম।জানি তো।কলেজের শিক্ষা সফরেও আমাকে নিয়ে গেছিলি।কতো হাসাহাসি করছিলো সবাই জানিস?(আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)

তুই জানিস না আমি তুই ছাড়া চলতে পারি না।(ছায়া আমার দিকে মুখ করে)

এতো ভয় পেলে চলবে না ছায়া।জীবনে টিকে থাকতে অনেক লড়াই করতে হয়।আর সেই লড়াইয়ে নিজের ছায়াও তখন হাল ছেড়ে দেয় বোন।(আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে)

কিন্তু তুমি তো আমার ছায়া না!তুমি তো আমার বোন তুমি হাল ছাড়বে না আমি জানি!তুমি সারাজীবন আমার হাত ধরে রাখবে।(ছায়া)

সময় হলে এই হাত কখন ছুটে যাবে আমরা ভাবতেও পারবো না।(আমি)

কিভাবে ছুটবে শুনি?(ছায়া আমার কোল থেকে মাথা তুলে)

যখন আমাকে বিয়ে দিবি তখন!(আমি বেড থেকে উঠে)

আমি তোমাকে বিয়ে দিবো না।তুমি যেখানে যাবে আমিও যাবো।তোমার শশুর বাড়ি আমি যৌতুক হিসেবে যাবো।(ছায়া বেডে বসে)

তাইনাকি।তার চেয়ে ভালো একটা কাজ করি।আমি একজনকে বিয়ে করি যার ছোটো ভাই আছে।তারপর তোকে তার সাথে বিয়ে দিয়ে আমার শশুর বাড়িকে তোর শশুর বাড়ি বানিয়ে নিয়ে যাবো।কি বলিস?(আমি আলমারি খুলতে খুলতে)

আইডিয়াটা মন্দ না।(ছায়া এক্সসাইটেড হয়ে)

ওরে আমার আইডিয়ার বাচ্চা।এই নে তোর কাপড় এখন এগুলো প্যাক কর।আর সাথে আমার গুলোও।
বলেই আলমারি থেকে কাপড় ছায়ার মুখে ছুঁড়ে মারলাম।

আমার ভাবনার বারোটা বাজিয়ে দিলো।
বলেই ছায়া মুখ ফুলিয়ে কাপড় প্যাক করতে লাগলো।

আমি ছায়ার দিকে তাকিয়ে
ছায়া তোকে আমি ছাড়া বাঁচতে শিখতে হবে।(মনে মনে)


সময় প্রবাহমান
সবার যাওয়ার দিন রাতে
মা বাবা আমিও যাই।তোমাদের দিয়ে আসতে?(আমি বায়না ধরে)

না তোর এতো রাতে বাহিরে যেতে হবে না।তুই থাক আমরা যেতে পারবো।আর শুন ওকে আমি অ্যাড্রেস দিয়ে দিছি।ওর সাথে ভালোয় ভালোয় চলে আসবি নাইলে তোর খবর আছে।(জিসান কিছুটা কঠিন গলায়)

আহা।আমার মেয়েকে এইভাবে বলো না। ও ঠিক সামলে নিবে।আমার লক্ষী মেয়ে।(কলি আস্থার মাথায় হাত বুলিয়ে)

দেখলে আমার মা আমাকে ঠিকই বুঝতে পারলো।(আমি মাকে জড়িয়ে ধরে)

হয়েছে হয়েছে।মা মেয়ের কাহিনী।এখন চলো যাই।(জিসান জেলাস ফিল করে)

আসি আপু।সাবধানে থেকো।আর তোমার সব ব্যাগ আমি নিয়ে নিয়েছি।তোমার কিন্তু কালকে আর কিছুই নিতে হবে না।তুমি তো সেখান থেকে সোজা চলে আসবে?।(ছায়া আমাকে জড়িয়ে ধরে)

হুম।খুব ভালো করেছিস।(আমিও ওকে জড়িয়ে ধরে)

তাহলে আমরা যাই।খোদা হাফেজ।(ছায়া)

আচ্ছা।খোদা হাফেজ।(আমি)

বাবা এসে আমার কপালে চুমু দিয়ে
আসি মা।সাবধানে থাকিস।আর সাবধানে আসিস।কোনো সমস্যা হলে আমাকে ফোন দিবি।(জিসান)

ওকে বাবা তুমি চিন্তা করো না।(আমি মুচকি হাসি দিয়ে)

পরেই সবাইকে বিদায় দিয়ে আমি বাসার ভিতরে ঢুকে পড়লাম।


চৌধূরী বাড়ির সামনে
সবাই এখানেই এক সাথে হয়েছে। এখান থেকেই দুটো বাস ছাড়বে।যেটা করে সব আত্মীয় স্বজন গ্রামের বাড়ী যাবে।একটাতে সব ছেলে মেয়েরা।আরেকটাতে সব মধ্য বয়স্ক লোকেরা।

কিরে বন্ধু এসে পড়েছিস?(আদি আর জিসান কোলাকোলি করে)

হ্যা বন্ধু এসে পড়েছি।(জিসান)

কেমন আছেন ভাবী?(কলি সুমাইয়াকে উদ্দেশ্য করে)

এইতো আলহাদুলিল্লাহ।আপনি?(সুমাইয়া)

আলহাদুলিল্লাহ।(কলি)

এইটা আপনার মেয়ে?(সুমাইয়া ছায়াকে উদ্দেশ্য করে)

হ্যা।এইটা আমার ছোটো মেয়ে!(কলি ছায়াকে দেখিয়ে)

আসসালামু ওয়ালাইকুম আন্টি।(ছায়া কলির পিছন থেকে)

অলাইকুম আসসালাম মা।কেমন আছো?(সুমাইয়া ছায়ার হাত ধরে)

আলহাদুলিল্লাহ।আপনি?(ছায়া মুচকি হেসে)

আলহাদুলিল্লাহ।(সুমাইয়া মুচকি হেসে)

তোর বড়ো মেয়ে আসেনি?তোদের দিয়ে যেতে।(আদি আস্থাকে খুঁজতে খুঁজতে)

আসতে চেয়েছিল তো।কিন্তু পরে ভাবলাম।এতো রাতে আবার একা একা বাড়ি ফিরবে কি করে?(জিসান)

আরে আসতো তোদের সাথে।পড়ে না হয় আমার ছেলে দিয়ে আসতো।(আদি)

পাশেই আভি কান পেতে শুনছিল
হ্যা।ওই মেয়ের পার্ট টাইম বডিগার্ড তো আমি?(আভি মনে মনে)

থাক ওকে এত কষ্ট করতে হবে না।তুই তো তোর ছেলেদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দে।(জিসান)

ছোটটা গাড়িতে আমাদের ব্যাগ রাখতে গেলো।(আদি)

বাবা আমিও ব্যাগ রেখে আসি?(ছায়া)

আচ্ছা।যা।(জিসান)

আর বড়ো জন(চারপাশে তাকিয়ে)।ওই যে!আভি এদিকে এসো তো!(আদি)

জ্বি।বাবা।(আভি)

এইযে আমার বড়ো ছেলে আভি।আভি উনিই আমার সেই বন্ধু যার মেয়েকে তুমি নিয়ে যাবে!আর উনি(কলি) হচ্ছে উনার স্ত্রী তোমার আন্টি(আদি)

আসসালমুআলাইকুম আঙ্কেল আন্টি।(আভি)

অলাইকুম আসসালাম বাবা।(কলি আর জিসান)

তোমাকে কষ্ট করতে হলো আমাদের মেয়ের জন্য(কলি)

না না আন্টি এমনি তো আমাকে কালকেই যেতে হতো।(আভি)

আভি ভাই,,,,(বাস থেকে)

আচ্ছা।আঙ্কেল আন্টি আপনারা কথা বলুন আমি আসছি।
বলেই আভি চলে গেলো।

আচ্ছা বাকি কথা না হয় আমরা বাসে বসে বসে করি।কারণ একটু পরেই বাস ছাড়বে।(সুমাইয়া)

আচ্ছা চলো সবাই(আদি)

পরেই সবাই বাসে উঠলো।


ওপর বাসে
ছায়া ওর ব্যাগ রেখে।জানালার পাশের একটা সিটে বসে বই পড়ছে। এরই মধ্যে আয়ুশ বাসে ঢুকলো।সব মেয়েরাই আয়ুশ এর জন্য চিৎকার করে নিজেদের কাছে বসার জন্য বলছে।চার পাশে চোখ বুলিয়ে দেখলো কোথায় বসলে ওর ভালো হবে।তখনই চোখ গেলো একটা মেয়ের দিকে।আয়ুশ মেয়েটাকে ভালো করে দেখলো।
বাসের বাকি সবাই গান বাজনা নিয়ে ব্যাস্ত কিন্তু সেই মেয়েটা মোটা ফ্রেমের একটা কালো রঙের চশমা পড়ে বসে বসে মোটা একটা বই পড়ছে।যেনো দুনিয়া কেয়ামত হলেও যেনো ওকে বইটা পড়তেই হবে।এমন মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে যে আয়ুশ এর মত এত হট হান্ডসাম ছেলেকে ইগনোর করছে।যা আয়ুশ এর একটু মানে লাগলো।

আয়ুশ চৌধুরীকে ইগনোর করা?দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।
বলেই আয়ুশ গিয়ে ছায়ার পাশে বসলো।

কিন্তু ছায়া বইতে এতই মগ্ন ছিলো যে ওর পাশে কে বসলো না বসলো তাতে ওর কোনো খেয়ালই নেই।

এইদিকে আয়ুশ এর অস্বস্থি হতে লাগলো।যেদিকে মেয়েরা আয়ুশ বলতে পাগল সেদিকে এই মেয়ে ওর দিকে নজরও দিচ্ছে না

বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পর
একটা মেয়ে এসে ছায়ার সামনে তুড়ি বাজিয়ে বললো
এই মেয়ে?(মেয়েটা)

জ্বি বলুন।(ছায়া মাথা উচু করে)

তুমি অন্য সিটে যাও।আমি আয়ুশ এর সাথে বসবো।(মেয়েটা হুকুম করে)

আয়ুশ কে?(ছায়া জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে)

তুমি আয়ুশকে চিনো না?(মেয়েটা চিৎকার করে)

আয়ুশ অবাক হয়ে ছায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

এতো চিৎকার করার কি হয়েছে?(ছায়া কানে ধরে)

দেখো ভালোয় ভালোয় বলছি এখান থেকে উঠলো।নাইলে,,,
মেয়েটা কিছু বলার আগেই ছায়া বললো
আমাকে জানালার পাশে শিট দিন আমি উঠে যাচ্ছি।

এইদিকে ছায়ার কথায় মেয়েটা আর আয়ুশ দুজনই অবাক।একদিকে আমার সাথে মেয়েরা বসার জন্য অপেক্ষা করে।আর এই মেয়ে নাকি শিট ছেড়ে চলে যাচ্ছে।আমার সাথে বসতে পারার পরেও।ভাবা যায় আয়ুশ চৌধুরীর উপর এই মেয়ের কোনো ইন্টারেস্ট নেই।(আয়ুশ মনে মনে)

এই মেয়ে তোমার জন্য পাশেই শিট রেডি করে দিলাম।তুমি সেখানে যাও।(মেয়েটা)

ওকে। থ্যাঙ্ক ইউ।
বলেই ছায়া উঠে অন্য সিটে বসলো।

এইদিকে আয়ুশ ছায়ার উপর রাগে ফুস ফুস করতে লাগলো।


সকালে
দূর।ছায়াকে ছাড়া ঘুমই হয় না।তারা তো মনে হয় এতো ক্ষণে পৌঁছে গেছে।একটা কল দিবো?না থাক সারা রাত জার্নি করেছে।এখন হয়তো রেস্ট নিচ্ছে।পরেই না হয় ফ্রী হয়ে উনারাই কল দিবে!
দাত ব্রাশ করছি আর নিজের সাথে নিজেই কথা বলছি।

তখনই আরশি ফোন দিলো।
আসু কই তুই?

কেনো কি হয়েছে?(আমি কুলি করতে করতে)

শোন তোর কিন্তু তাড়াতাড়ি আসতে হবে।রেডি হতে হবে তো।(আরশি তাড়া দিয়ে)

আসছি বাবা।এই জন্য তোকে এলাম দিতে হবে না আমায়।ফোন রাখ।(আমি ধমক দিয়ে)

আচ্ছা।রাখছি শোন তোকে কিন্তু আকাশ নিতে আসবে ওর সাথে কিন্তু চলে আসবি!(আরশি)

ওকে বাবা চলে আসবো!তোকে এতো চিন্তা করতে হবে না।(আমি)

পরেই জিনিস পত্র নিয়ে বাড়ি থাকে বের হলাম।


অন্যদিকে ক্যাফেতে
তুলি তুমি আমার উপর রাগ করেছো মানলাম!কিন্তু তুমি বিয়েতে কেনো আসছো না?(আভি বিনয়ী সুরে)

কেনো আসবো আমি বিয়েতে?(তুলি ভাব নিয়ে)

দেখো।আমার মা তো তোমার আপন খালামণি হয়।ডালিয়া তো তোমার বোনের মতো। অন্তত ওর জন্য তো আসতে পারো।(আভি)

দেখো।খালামনির জন্য বাবা আর মা তো গেছেই।আর ডালিয়ার কথা ও তো আমাকে পছন্দই করে না।তাহলে আমার যাওয়া আর না যাওয়া একই।(তুলি)

প্লিজ এমন করো না।ডালিয়া তো ছেলে মানুষ।আর ওর জন্য না হয় তুমি আমার জন্য চলো।আমি তো তোমাকে ভালোবাসি।(আভি তুলির হাত ধরে)

তুমি যদি আমাকে ভালবাসতে তাহলে আমার সাথে এমন করতে না।(তুলি আভির হাত হেচকা মেরে)

তুলি আমি তোমাকে বার বার বলেছি ওই মেয়েকে আমি চিনিই না।তুমি তবুও আমাকে বিশ্বাস করছো না। তুমিই আমার জীবনের এক মাত্র ভালোবাসা তোমাকে ছাড়া আমি কোনো দিন কাউকে ভালোবাসি নি কোনো দিন কাউকে ভালোবাসবোও না।তুমি কিন্তু তা ভালো করেই জানো।(আভি)

প্লিজ আভি আমি আর এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।আমাকে একটু সময় দাও।আমার কিছু দিন সময় লাগবে।(তুলি)

আচ্ছা।আমি অপেক্ষা করবো।(আভি)

তাহলে আমি আজ উঠি।খোদা হাফেজ।
বলেই তুলি চলে গেলো।

আভি সেখানেই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।


অন্যদিকে
আমি আজ নীল শাড়ি পড়েছি।চুর গুলো ছেড়ে মাথায় লাল গোলাপ ফুল লাগিয়েছি।মুখে মেক আপ ছাড়াই শুধু চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক।গলায়,,কানে, হাতে বেলি ফুলের গয়না।কোমরে বেলি ফুলের তৈরি বিছা।এক কথায় হেমন্তের নীল আকাশের মাঝে মাঝে সাদা মেঘের মতো নিজেকে সাজিয়েছি।

ওয়াও।আসু তোকে কি সুন্দর লাগছে?(পিয়ালী)

সত্যিই?(আমি)

হুম।সত্যিই সত্যিই।(আরশি)

কই তোমাদের হলো?
বলেই আকাশ ভিতরে ঢুকেই আমার দিকে তাকিয়ে হা হয়ে গেছে।

কী হয়েছে আকাশ?দেখেই হা হয়ে গেলে?(আরশি টিটকারি দিয়ে)

হ্যা তো হবারই কথা।আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।আস্থা।(আকাশ)

থ্যাঙ্ক ইউ আকাশ(আমি)

তুমি কি বলতে এসেছিলে?(পিয়ালী)

ও হ্যা।আমাদের পালা সবার আগে।তোমরা তৈরি তো(আকাশ)

হুম।একদম তৈরি আমরা।(আমি আরশি আর পিয়ালী)


অন্যদিকে
আয়ুশ।বাবা কোথায় রে?(আভি ড্রাইভ করতে করতে)

বাবা মা সবাই রাতে জার্নি করে ক্লান্ত হয়ে গেছে।তাই বড়রা সবাই ঘুমাচ্ছে।(আয়ুশ)

ও।আচ্ছা জিসান আঙ্কেল রাও কি ঘুমাচ্ছে?(আভি)

হুম।তারাও অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছিলো!কেনো?? কোনো দরকার ছিল?(আয়ুশ)

আসলে আঙ্কেল এর যে মেয়েটাকে আমি নিয়ে আসতে যাবো।তার অ্যাড্রেস তো আমাকে দিয়েছে কিন্তু ওর নাম ও জানি না আর ওর ছবিও আমি দেখিনি।নম্বরও আমাকে দেয় নি।(আভি)

শিট।এইটা তো অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে।এইটা তো কারো মাথায় আসে নি এখন কি করবে?(আয়ুশ)

তুই একটা কাজ কর।ওর একটা বোন আছে নাম ছায়া ওর থেকে ওই মেয়েটার নাম,, নাম্বার,,আর ছবিটা আমাকে পাঠা।(আভি)

আচ্ছা।আমি পাঠাচ্ছি।
বলেই আয়ুশ ফোনটা কেটে দিলো।


পরেই আয়ুশ ছায়াকে খুঁজতে লাগলো।
অনেক খোজার পর দেখলো ছায়া পুকুর পাড়ে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে হাতে একটা চিপসের প্যাকেট নিয়ে সেটা মাছকে খাওয়াচ্ছে।

এই মেয়ে তুমি কি অদ্ভুত জিনিস ছাড়া কিছু করতে পারো না?(আয়ুশ কাছে গিয়ে)

আমি কি আপনাকে চিনি?(ছায়া আয়ুশ এর দিকে তাকিয়ে)

না। আমি তোমাকে চিনি!হয়েছে?(আয়ুশ ছায়ার পাশে পা ঢুবিয়ে বসলো)

ছায়া জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আমি তোমার আদি আংকেলের ছোটো ছেলে!(আয়ুশ)

ও।
বলেই আবার চিপস পানিতে ফেলতে লাগলো।

তুমি চিপস পানিতে ফেলছো কেনো?(আয়ুশ)

এমনি আমার ভালো লাগছে না।(ছায়া)

ভালো না লাগলে কি তুমি এই অদ্ভুত জিনিস কর(আয়ুশ ভ্রু কুঁচকে)

হুম।করি।(ছায়া)

কেনো ভালো লাগছে না জানতে পারি?(আয়ুশ)

আমার বোন ছাড়া আমি কখনও একা থাকি নি।এখন আমায় এখানে একা থাকতে হচ্ছে।(ছায়া মনমরা হয়ে)

কেনো এখানে তো অনেক মানুষ আছে!(আয়ুশ)

আমি সবার মত না।আমি সহজে সবার সাথে মিশতে পারি না।আমার বোনের মতো।(ছায়া)

তোমার বোন আর তুমি অনেক ক্লোজ?(আয়ুশ)

হুম।ওই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।আমার আর কোনো বন্ধু নেই।(ছায়া)

কেনো?(আয়ুশ)

আপনি তো বললেন আমি অদ্ভুত।অদ্ভুত মানুষকে,,মানুষ অদ্ভুত নজরেই দেখে।(ছায়া)

তা তো ঠিক।তবে কি বলো তো আমার না অদ্ভুত জিনিস অনেক ভালো লাগে।(আয়ুশ)

ছায়া আয়ুশ এর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আমি কি তোমার ফ্রেন্ড হতে পারি?(আয়ুশ ছায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে)

কিছুক্ষণ ভেবে
হুম।(ছায়াও হাত মিলিয়ে)

ওকে এখন আমিও তোমার ফ্রেন্ড।(আয়ুশ)

আপনি এখানে কি আমার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করার জন্যই এসেছিলেন?(ছায়া)

ওহ না।তোমার বোনের নাম,নম্বর আর একটা ছবি পাঠাতে হবে আমার ভাইকে। যাতে ও তোমার বোনকে চিনতে পারে।আর সাথে করে নিয়ে আসতে পারে।এখন দাও তো!(আয়ুশ)

ওকে দাড়ান।
বলেই ছায়া আয়ুশকে আস্থার ইনফরমেশন দিলো।
.
.
চলবে,,,
শুরুতেই বলে দিচ্ছি
এই স্টোরিতে দুটো জুটি আছে আর দুটি জুটির লাভ স্টোরিই থাকবে,,,,যাদের নায়ক নায়িকা ছাড়া অন্যদের লাভ স্টোরিতে পছন্দ না তাদের জন্য বলছি,,,আপনাদের কিছু বলার নেই আমার😑😑।গল্প শুরু নায়ক নায়িকাকে নিয়ে হয় না।অন্যান্য চরিত্রগুলোও সমান ভাবে তুলে ধরতে হয়।