#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পর্ব_5(#ধামাকা_স্পেশাল)
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida
।
।
অন্যদিকে আভি
দূর।এতক্ষন লাগে আয়ুশ এর একটা কাজ করতে!নির্ঘাত কোনো মেয়ের সাথে লাইন মারছে।বুঝি না এই ছেলে কি করে পারে!এতো মেয়ের সাথে লাইন মারতে।(বিরক্তি নিয়ে)
আভি এইসব ভাবতে ভাবতে কালচারাল সেন্টারের সামনে চলে আসলো।
ভাই একটু সরেন না হলে সাইড হয়ে দাড়ান।আমরা প্রোগ্রাম দেখতে যাবো।
পাশ থেকে একটা লোক বললো।
আভি লোকটিকে সাইড দিয়ে ভাবলো এসেই যখন পড়েছি গিয়ে না হয় প্রোগ্রাম টা দেখেই নেই।আমি কখনো এমন প্রোগ্রাম দেখিনি।কোনোদিন সুযোগ হয়ে উঠে নি।এখন যেহেতু সুযোগ পেয়েছি একটু দেখে নেয়া যাক।
বলেই আভিও ভিতরে গেলো।
।
।
আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে স্টেজে
দাড়ালাম।সামনে থেকে পর্দা সরানো হলো।আমি তাকিয়ে দেখি অনেক লোক এসেছে।লোক দেখে আরো কনফিডেন্ট হয়ে নিজের অভিনয় শুরু করলাম।
অন্যদিকে পর্দা সরতেই আভি অবাক।
এই মেয়ে এখানে কি করছে?তারমানে এই মেয়ের প্রোগ্রাম আজ। দাড়া মেয়ে আজ তোকে পেয়েছি অনেক কষ্টে।ছাড়া আজ ভুলেও পাবি না।আমার ব্রেক আপ করিয়ে দেয়া!এখন তোকে উচিত শিক্ষা যদি না দিয়েছি তো আমিও আভি চৌধুরী না।কিন্তু এখন কিছু করবো না।আগে প্রোগ্রাম শেষ হোক।(আভি রাগে মাথার রগ ফুলে যাচ্ছে)
আমি আমার সবটুকু দিয়ে আমার অভিনয় সম্পূর্ন করলাম।চারপাশের তালির আওয়াজে যেনো আজ আমার খুশির ঠিকানা নেই। সবার যে নাটকটা পছন্দ হয়েছে দেখেই বুঝতে পারছি।আমি হাপাতে হাপাতে সবার দিকে তাকিয়ে তাদের আনন্দিত চেহারাটা দেখছি।
অন্যদিকে আভি আস্থার পারফরম্যান্স দেখে
ওয়াও।এই মেয়ে এতো সুন্দর অভিনয় করতে পারে? অবশ্য অভিনয় করেই তো আমার ব্রেক আপটা করিয়েছে।তবে এই মেয়ে সত্যিই অসাধারণ। ওয়েট আমি ওর প্রশংসা কেনো করছি?আমি ওকে শিক্ষা দিবো।
আভি এই কথা ভাবতেই ফোন ক্রিং করে শব্দ করে উঠলো।
এতক্ষণে বুঝি এই ছেলের হুশ ফিরল যে আমাকে ওই মেয়ের ছবি পাঠাতে হবে।দেখি এখন আংকেলের মেয়ে কোনটা?
বলেই আভি ফোনের হোয়াটস অ্যাপ ওপেন করতেই আস্থার দুষ্টু হাসি মাখা মুখের একটা ছবি উঠে আসলো।
নাউজুবিল্লাহ!আংকেলের মেয়ে আর যাকে আমি খুঁজছি দুটো মেয়ে এক।বাহ!মেঘ না চাইতেই জল।এইবার তো প্রতিশোধ নেয়ার অনেক সুযোগ পাবো।তৈরি থাকো মিস আস্থা।তোমার আস্থাহীন অবস্থা করতে আসছি আমি।
বলেই একটা ডেভিল হাসি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে গেলো আভি।
।
।
আসু।আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।(আরশি)
হুম। তা তো দেখতেই পারছি।(আমি)
তুই তো আজ ফাটিয়ে দিয়েছিস আসু(পিয়ালী)
আমাদের আসু বলে কথা।না ফাটিয়ে যাবে কোথায়?(আকাশ)
তোরাও তো কতো সুন্দর অভিনয় করেছিস!তোদের সাথে না থাকলে কখনও এই চেষ্টা সফল হতো না।মত কথা আমাদের সবার চেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি(আমি)
ইয়েস।এই কথায় একটু জড়িয়ে ধরা হয়ে যাক সবাই মিলে।(আরশি)
আকাশ তুমি সাইডে। ওনলি মেয়েরাই।(পিয়ালী)
আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।তোমরাই করো।আমি বরং আমাদের গ্রুপের ছেলেদের কাছে যাই।
বলেই আকাশ চলে গেলো।
আর আমরা তিনজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম।
তখনই কেউ একজন আমার ফোনে ফোন দিলো।
হ্যালো? আসসালামু ওয়ালাইকুম।(আমি)
অলাইকুম আসসালাম।আপনি কি আস্থা বলছেন?(আভি)
অলাইকুম আসসালাম।জ্বি বলছি।আপনি?(আমি)
আমি আপনার আদি আংকেলের ছেলে।যার সাথে আপনার গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।(আভি)
ওহ হা।আপনি কি এসেছেন?(আমি)
জ্বি।আপনি বাহিরে বের হোন।আর শুনুন একটু তাড়াতাড়ি।আমাদের অনেকটুকু পথ যেতে হবে।(আভি)
আচ্ছা।দাড়ান আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি।
বলেই আমি ফোনটা কেটে দিলাম।
আরশি আমাকে যেতে হবে।(আমি)
এখনই যেতে হবে?(আরশি)
হুম। আংকেলের ছেলে নিচে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।চল রেস্ট রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করি (আমি)
ওকে চল।(পিয়ালী)
আমি,আরশি আর পিয়ালী রেস্ট রুমে গেলাম।ড্রেস চেঞ্জ করতে কিন্তু গিয়েই দেখি রুমে তালা দিয়া।সব পারফরম্যান্স শেষ না হলে নাকি খুলবে না।আমাদের পারফরম্যান্স ছিলো সবার আগে বাকি পারফরম্যান্স হতে হতে প্রায় রাত বারোটার উপর বাজতে পারে।কিন্তু এখন এতো লেট করার কোনো উপায় নেই আমার।এখন কি করবো?
আসু!তোর তো যেতেই হবে তাই না?তাহলে তুই এই শাড়ি পরেই যা।(আরশি)
ঠিক আছে।আমি যাচ্ছি।এই ড্রেস পরেই এখন তো কোনো উপায় নেই।যেতেই হবে।না হলে অনেক লেট হয়ে যাবো।(আমি)
হুম।তাহলে তুই যা।তোর জিনিস পত্র আমি আমার বাসায় নিয়ে যাবো।আসার পর নিয়ে যাস।(পিয়ালী)
আচ্ছা।আমি যাই।তোরা থাক তোদের কষ্ট করে আর বাহিরে আসতে হবে না। আকাশকে খোদা হাফেজ বলে দিস।(আমি)
ওকে।খোদা হাফেজ।(পিয়ালী আর আরশি)
আমি ওদের বিদায় দিয়ে বাহিরে চলে আসলাম।এসেই ওই ছেলেকে কল দিলাম।
আপনি কোথায়?(আমি কানে ফোন দিয়ে চার পাশে উনাকে খুঁজতে খুঁজতে)
আমি আপনার পিছনে(আভি আস্থার পিছনে দাড়িয়ে)
আমি পিছন দিকে ফিরতেই
আ,,আপনি?(আমি অবাক হয়ে)
এখন তুতলাচ্ছ কেনো?তখন তো মুখে খই ফুটেছে।(আভি আমার সামনে এগুতে লাগলো)
আপনার কি সত্যি সত্যি ব্রেক আপ হয়ে গেছে?(আমি পিছিয়ে যেতে লাগলাম)
হুম। অল থ্যাংকস টু ইউ।(আভি দাত চেপে চেপে)
আস্থা উনি ক্ষেপে আছে।পালা
মনে মনে বলেই পালানোর চেষ্টা করলাম।তখনই উনি আমার হাত ধরে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।
এই প্রথম কোনো পুরুষের এতো কাছে আসলাম আমি।উনার কাছে আসতেই আমার বুক কেপে উঠলো।যেনো এখনই লাফ দিয়ে বেড়িয়ে আসবে।আমি উনাকে ধাক্কা দিয়ে আবার দৌড় দিতে যাবো তখনই আবার উনি আমাকে ধরে ফেললো।
কী হলো পালাচ্ছ কেনো?(আভি আমাকে আবারও বুকের সাথে মিশিয়ে)
পাগল তো।আপনি আমার বারোটা বাজাবেন জেনেও আপনার কাছে এসে লাফালাফি করবো যে এসো আমায় ধরো।(আমি ছুটার চেষ্টা করে)
এখন ছুটার জন্য লাফালাফিই করছো।(আভি শক্ত করে ধরে)
তাহলে ছেড়ে দিলেই তো পারেন।(আমি ছুটার চেষ্টা করে)
ছেড়ে দিলে তো আর বেবির মা হতে পারবে না।(আভি আমার কানে ফিসফিস করে)
মা,,, মানে?(আমি ভয়ে শুকনো ঢোক গিলতে লাগলাম)
মানে তোমার না আমার বেবির মা হওয়ার অনেক ইচ্ছে?আজ তোমার সেই ইচ্ছে পূরণ করবো।(আভি ডেভিল হাসি দিয়ে)
আস্তাকফিরুল্লা।কি সব নাউজুবিল্লাহ মার্কা কথা বার্তা বলেছেন?(আমি কান্না কান্না ভাব নিয়ে)
তুমি নাউজুবিল্লাহ মার্কা কাজ করতে পারো আর আমি বলেই দোষ?(আভি ভ্রু কুঁচকে)
কী নাউজুবিল্লাহ মার্কা কাজ করেছি বলুন।(আমি)
আমার ছয় বছরের সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছো?(আভি)
দেখুন প্রেম করা হারাম।আমি আপনাকে পাপ করা থেকে বাঁচিয়েছি।(আমি)
মিথ্যা বলাও তো পাপ। মিথ্যে তো ঠিকই বলেছো।(আভি)
সরি কিন্তু ওইটা ডিয়ার ছিলো।আমি ভাবতে পারি নি আপনার ব্রেক আপ হয়ে যাবে।(আমি নেকা কান্না করতে করতে)
এখন হয়ে গেছে তাও তোমার জন্য।এর শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে।(আভি ডেভিল হাসি দিয়ে)
কী শাস্তি দিবেন?(আমি ভয়ে ভয়ে)
গাড়িতে উঠো।(আভি)
গাড়িতে উঠতে বলছে কেনো?ছায়া তো বলেছিলো গাড়িতে করে কাজী অফিসে নিয়ে যায় ওর গল্পের হিরোরা।আমাকেও কি কাজী অফিসে নিয়ে যাবে?উনি তো বলেছেন আমাকে উনার বেবির মা বানাবে।তাহলে কি এখন উনি আমাকে বিয়ে করবে?আমার কি এখনই বিয়ে হয়ে যাবে?বাবা মা ছায়াকে ছাড়াই।দূর এইসব পরে বাবা যদি জানে আমি তাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছি নির্ঘাত আমাকে খুন করে ফেলবে।
আমি মনে মনে বিয়ে বাচ্চা সব কল্পনা করেছিলাম।তখনই লোকটি আমার কানের কাছে এসে বললো
কী হলো?এখন কি কোলে করে গাড়িতে উঠাতে হবে?(আভি কানের কাছে ফিসফিস করে)
ওই।না আমি গাড়িতে উঠবো না।আমি কাজী অফিসে যাবো না আমি বিয়ে করবো না আপনাকে।
বলেই মাঝ রাস্তায় বসে পড়লাম।
কী কাজী অফিস?বিয়ে?তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে?উঠো কি রাস্তায় বসে পড়লে।(আভি বিরক্ত হয়ে)
ইসস একটু আগে রাস্তার মধ্যে আমাকে নিয়ে কোলাকোলি করছিলো তখন মনে ছিলো না যে আমরা রাস্তায় আছি।এখন বলছে।উঠবো আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন(আমি)
ওকে দিবো এখন উঠো!(আভি)
এই মেয়েকে এখন কিছু বলা যাবে না।এই মেয়ে আস্ত একটা পাগল রাস্তায় এমন কিছু করে বসবে পরে আমার মানসম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে।তার চেয়ে বরং একে আগে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাই তারপর যা করার সেখানেই করবো।(আভি মনে মনে)
আপনি কাজী অফিসে যাবেন না।(আমি সন্দেহর দৃষ্টিতে)
না।(আভি অবাক হয়ে)
আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না?(আমি)
আমারে কি পাগল কুকুরে কামড়িয়েছে?(আভি বিরক্ত হয়ে)
তাহলে গাড়িতে উঠতে বলছেন কেনো?(আমি)
তোমাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাবো তাই।(আভি)
আপনি?আপনি কি আদি আংকেলের ছেলে?(আমি অবাক হয়ে গেলাম)
সৌভাগ্য বশত আমিই আপনার আদি আংকেলের ছেলে।(আভি)
আঙ্কেল এতো ভালো ছেলেটা এতো বদজ্জাত কি করে হলো?আমি ভাবতাম আমার আর আমার বাবারই DNA test করা দরকার এখন দেখি এদেরও করা উচিত।(আমি বিড়বিড় করে)
আগে সন্দেহ ছিলো এই মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে।কিন্তু এখন দেখি সত্যিই কোনো সমস্যা আছে।কি পাগলের মতো যেনো আবার বিড়বিড় করছে?(আভি মনে মনে)
কী হলো?উঠবে গাড়িতে?(আভি)
ও হ্যা।উঠছি।(বলেই আমি গাড়িতে উঠে বসে পড়লাম)
হায় আল্লাহ।সফরে ভালো সঙ্গী হলে সফরের নাকি মজাই আলাদা হয়।এখন আমার কি হবে?আয়ুশ তো বলেছিলো গান গাইবো এই পথ যদি না শেষ হয়।এখন আমার গান গাইতে হবে এই পথ কখন শেষ যে হয়।(আভি গাড়ির উপরে মাথা রেখে)
কী হলো?পাগলের মত কি নিজের সাথে কথা বলছেন?(আমি)
পাগল আমারে পাগল বলে!(আভি)
((রতনে রতন চিনে,,পাগলী চিনে পাগলকে—লেখিকা))
।
।
আভি গাড়ি চালাচ্ছে
শুনছেন?(আমি)
আভি চুপ।
এই যে শুনছেন?(আমি)
চুপ করে থাকা যায় না।খালি বক বক করছো।(আভি)
ওই মিষ্টার।এতক্ষন চুপ করে ছিলাম।দেখতে পারেন নি।নাকি আমাকে এক দেখায় এতো পছন্দ হয়েছে যে আমার কথা গুলো কানে বাজছে।(আমি)
আভি বিরক্তিকর একটা লুক দিলো আমাকে।
আমাকে তেরামি দেখানো।উনি জানে না আমিও হচ্ছি হাই লেভেলের ঘাড় তেড়া লোক।(আমি মনে মনে)
শুনছেন?(আমি)
কী হয়েছে?(আভি)
তখন যদি চিৎকারটা না করে সোজাসুজি বলে দিতেন তাহলে আর আমাকে অত কথা শুনাতে হতো আমার।(আমি)
বলবে কি সমস্যা তোমার?(আভি বিরক্ত হয়ে)
কোনো সমস্যা নেই।শুধু আপনার নাম জানতে চাই।(আমি)
আভি চৌধূরী।(আভি)
Nice to meet you আভি চৌধূরী। আশা করি আপনার সাথে আমার এই সফর স্বরনীয় হয়ে থাকবে।(আমি মুচকি হেসে)
আভি মুচকি হাসি দিলো।
আমিও হাসি দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে তাকালাম।
সন্ধ্যা হতে চললো।রাতের আগে একটা পরিবেশ এই সন্ধ্যা।খুব ভালো লাগে।কিছুক্ষণ আগের কুসুমের মত সূর্যটা ঢুবে গেলো।জীবন থেকে চলে গেলো আরেকটা দিন।কালকে শুরু হবে নতুন একটা দিন নতুন একটা জায়গাতে অনেক গুলো নতুন মানুষের মাঝখানে।কালকে অব্ধি ভাবতে পারি নি আমার আবারও এই অপরিচিত মানুষটার সাথে দেখা হবে।সত্যিই পৃথিবীটা খুবই অদ্ভুত।আর তার থেকে অদ্ভুত হলো আমাদের দেখা হাওয়া।
আমি জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে আভির দিকে তাকালাম।উনি মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে। পুরুষ মানুষ মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে বুঝি খুব হ্যান্ডসাম লাগে।উনাকেও অনেক হ্যান্ডসাম লাগছে যেনো চোখ সরছেই না উনার উপর থেকে।এই চোখটা হয়েছে এক মীর জাফর।নিজের হয়েও অন্যর দিকে তাকিয়ে থাকবে।তবে তাকিয়ে থাকতেই ভালো লাগছে।কখন যে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ লেগে গেলো বুঝতেই পারিনি।
।
।
চলবে,,,