#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পর্ব_7
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida
।
।
আমি খাবার খেয়ে একটা প্রাপ্তির ঢেঁকুর দিয়ে উঠলাম।
রাক্ষুসীর মত খাওয়া শেষ হলো তোমার?(আভি)
জ্বি রাক্ষুস জাহাঁপনা!(আমি টিটকারি করে)
কী আমি রাক্ষুস?(আভি ভ্রু কুঁচকে)
হ্যা।আপনি রাক্ষুস।কারণ আমি যখন যাচ্ছিলাম।আপনিও তখন আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিলেন যেনো আপনিও রাক্ষুস।এক্ষুনি আমাকে খেয়ে ফেলবেন।(আমি)
তুমি কিসে পরো?(আভি)
আমাদের কথোপকথনের সাথে এই কথার সম্পর্ক কি তা তো আমার জানা নেই।তবুও আমি উনাকে উত্তর দিলাম।
ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে। কেনো?(আমি)
ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে পড়েও কিন্ডারগার্ডনের বাচ্চাদের মত কেনো কথা বলছো?(আভি)
আমি হো হো করে হেসে দিলাম।
আমি কি হাসার কথা বলছি?(আভি)
না।আপনি বলেন নি।কিন্তু আপনার কথা শুনে হাসি পাচ্ছে।(আমি)
মানে?(আভি)
মানে,,, আমাদের সবার জীবনে স্বর্ণালী সময় হচ্ছে আমাদের ছোটোবেলা।সময়ের স্রোতে জীবন থেকে সেই স্বর্ণালী সময় চলে গেলেও তার রেশ ঠিকই রয়ে যায়।তাই মাঝে মধ্যে সময় বা সুযোগ পেলে একটু বাচ্চামী করা দরকার।এতে করে মনের সেই স্বর্ণালী মুহূর্তের কিছু অংশ উপভোগ করা যায়।আর শুনন আমি যেমন তেমনি। তবে আপনি একটু গম্ভীর থেকে হাসি মুখে আসুন।হাসলে সব সমস্যা সমাধান না হলেও হাসলে সমস্যা সমাধানের শক্তি ঠিকই পাওয়া যায়।বুঝলেন?(আমি)
আভি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে অবাক চোখে আস্থাকে দেখছে,,,
এই মেয়ে জঙ্গলী রানী থাকলে কি হবে!কথা গুলো এর অনেক গোছানো।অনেক সুন্দর ভাবে সব কথা তুলে ধরে ও।ওকে প্রথম দেখলে কেউই বলবে না যে ওর মধ্যে এতো জ্ঞান আছে।আস্থা সত্যিই একটা অন্য রকম মেয়ে। ও এমন একটা বই যেটা পড়লে শুরু পড়তেই মন চাইবে,, ও এমন একটা জঙ্গল যেটাতে মানুষ বারবার চাইবে হারিয়ে যেতে,,ওকে জানতে পারলে মনে হয় গভীর সাগরকে জানা হয়ে গেলো।এতো রহস্যময়ী। বাহিরের দিক দেখে কেউ ভিতরের দিক দেখতে পারবে না।ভিতরেরটা দেখলে কেউ ওর প্রতি মুগ্ধ না হয়ে পারবে না।(আমি মনে মনে)
কী হলো?মশাই কোথায় হারিয়ে গেলেন।(আমি)
আভি হুশ ফিরল।
কোথাও না।খাওয়া হয়ে গেছে এখন চলো যাওয়া যাক।(আভি)
ওকে।তাহলে আমি বাহিরে দাড়াই আপনি বিলটা দিয়ে আসুন!(আমি)
ওকে।আবার অন্য কোথাও যেও না।(আভি)
আমি মুখ ভেংচি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে গেলাম।
আভি আস্থার কান্ড দেখে হাসছে।
।
।
অন্যদিকে গ্রামের বাড়িতে
কিরে ফোন দিয়েছিলি?(আদি)
জ্বি।বাবা।ভাই বলেছে ওরা আসছে। ও একটু ব্যাস্ত ছিলো বলে ফোন ধরতে পারে নি।এখন ওরা আসছে।(আয়ুশ)
আচ্ছা।ওর আস্থাকে খুঁজতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?(কলি)
না।আন্টি কোনো সমস্যা হয় নাই।ভাইকে আমি আপনার মেয়ের ছবি আর ফোন নম্বর পাঠিয়ে দিয়েছি।তাই কোনো সমস্যা হয় নি।(আয়ুশ)
তুমি কি করে ওর নম্বর পেলে?(জিসান)
ছায়া আমার বন্ধু আমাকে দিয়েছে।(আয়ুশ)
ছায়া মুচকি হাসি দিলো।
বাহ!ছায়া বন্ধুত্ব করেছে? আশ্চর্য তো!(কলি)
কেনো ভাবী?এতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে?(সুমাইয়া)
আসলে ওর আসু ছাড়া কোনো বন্ধু নেই তো।আর ছেলে বন্ধু তো কখনই ছিলো না।ছেলে বন্ধু থেকে সবসময় দূরে দূরে থাকতো।(কলি)
আমিই তাহলে কি তোমার প্রথম ছেলে বন্ধু?(আয়ুশ ছায়ার কানে ফিসফিস করে)
হুম!(ছায়া)
বাহ।ভালো তো।তোমার বোন তো এখন আসছে।তুমি খুশি তো?(আয়ুশ)
ছায়া মাথা নেড়ে হ্যা বললো।আয়ুশ ও হাসতে লাগলো ওর কথা শুনে।
তা তো বুঝলাম বাবা কিন্তু আসু ওর ফোন বন্ধ কেনো?(জিসান)
ওর ফোনে চার্জ নেই।(আয়ুশ)
ও।আচ্ছা।(জিসান)
তখনই ডালিয়া আর ওর বাবা মা ভিতরে ঢুকলো।
মামা আর মামী তো আমাদের ভুলেই গেছে।(ডালিয়া মুখ ফুলিয়ে)
আরে তোরে ভুলে গেলে কী হয়?তুই আমাদের মধ্যমণি।(আদি ডালিয়াকে জড়িয়ে ধরে)
তাহলে আজ একটা বারের জন্যও কেনো আমার খোঁজ নেও নি।(ডালিয়া)
তোর মাকে জিজ্ঞেস করেই দেখ।আমরা এসেই তোর খবর নিয়েছি কিন্তু তুই তো তোর হবু বরকে নিয়ে এতো বেস্ত ছিলি যে আমরা যে এসেছি তা ভুলেই গেছিস।(সুমাইয়া)
ও সরি মামী আসলে,,,,
ডালিয়া লজ্জা পেয়ে।
আসলে আমরা বুঝতে পেরেছে।এখন আর বলতে হবে তুই হ্যাপী তো?(আদি)
হুম।মামা।(ডালিয়া)
তাহলে আমরাও খুশি।(সুমাইয়া)
তোমাদের যদি ভাগ্নীর সাথে কথা হয়ে থাকে তাহলে আমরাও আছি ভাইয়া ভাবী আমাদের দিকেও তাকাও!(ঈশানি — ডালিয়ার মা আর আদির বোন।)
আরে ঈশানি তোমার ভাই আর ভাবী আমাদের আজ সাইডে রেখে দিয়েছে।দেখো না উনাদের ভাগ্নী আজ সব।(রোহান — ডালিয়ার বাবা)
তোমাদের ভুলি নাই।কিন্তু হা আজ আমার ভাগ্নিটার স্পেশাল দিন বলে স্পেশাল ট্রিট পাবে।(আদি)
থ্যাঙ্ক ইউ মামা।তোমার বোন একটা হিংসুটে।(ডালিয়া)
তোকে দেখে নিচ্ছি।আচ্ছা ভাইয়া উনি আমাদের জিসান ভাইয়া না?তোমার বন্ধু?(ঈশানি)
হ্যা।ওই জিসান।আমার বন্ধু।(আদি)
অনেক বছর পর দেখেছি ভাইয়া কেমন আছেন?(ডালিয়া)
আছি আলহাদুলিল্লাহ তুই?(জিসান)
আমিও আলহাদুলিল্লাহ।এতো দিন তো আপনাদের কোনো খবর ছিলো না।অবশ্য ভাইকেও জিজ্ঞেস করা হয়নি।(ঈশানি)
আমরা সবাই সবার কাছে ব্যাস্ত ছিলাম।এখন আবার অনেক দিন পর সবাই এক হলাম(জিসান)
খুব ভালো করেছেন।আমি অনেক খুশি হয়েছি আপনারা এসেছেন।(রোহান)
ধন্যবাদ।(জিসান)
উনারা কে?(ঈশানি)
উনি হচ্ছে তোর ভাবী মানে জিসানের স্ত্রী কলি আর হচ্ছে জিসানের ছোটো মেয়ে ছায়া।(আদি)
ওহ।কেমন আছেন ভাবী?(ঈশানি)
পরেই সবাই একে অপরের সাথে কুশুল বিনিময় করতে লাগলো।
তুমি ছায়া না?(ডালিয়া ছায়ার কাছে এসে)
হুম।(ছায়া)
চলো আমার সাথে।আমরা এক সাথে থাকবো।আমি তোমাকে আমার বন্ধু দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।তোমাকে আসার পর থেকেই দেখছি কেমন একা একা থাকো।সবার সাথে আসো অনেক মজা হবে।(ডালিয়া)
ছায়া আয়ুশ এর দিকে তাকালো।তখনই আয়ুশ মুচকি হেসে বলল
নিয়ে যা ওকে ডালিয়া।গিয়ে মজা করো আমিও আসছি।
ওকে ভাইয়া।
বলেই ডালিয়া ছায়াকে নিয়ে চলে গেলো।আর ছায়াও বাধ্য মেয়ের মত চলে গেলো।
কেনো জানি আজ আয়ুশ এর কথা মানতে অনেক ইচ্ছে করছে।খুব ইচ্ছে করছে ওর সাথে থাকছে।মনে হয় আমি এই প্রথম কোনো ছেলের কাছে এসেছে বলে এই ফিলিং হচ্ছে নাকি অন্য কিছু।তবে যাই হোক না কেনো?এই ফিলিং অনেক বেশি ভালো।এমন একটা স্বপ্ন যা আমি কোনো দিনও ভাঙতে চাই না।কোনো দিন উঠতে চাইনা এই ঘুম থেকে।
ভাবেই ছায়া এক মুচকি হাসি দিলো।
।
।
অন্যদিকে
আমি বেরিয়ে বাহিরে দাড়িয়ে আছি এখন মনে হয় রাত বারোটা কিংবা একটা বাজে।তবে আমার এতে কোনো মাথা ব্যাথা নেই।কারণ আমার রাতের আকাশ অনেক পছন্দের।এই রাতের আকাশের শান্ত প্রকৃতি যেনো অতুলনীয় আমার কাছে।রাতে হাঁটতে বের হওয়া আমার কাছে যেনো এক অন্যরকম সুখ।আর ঢাকা শহরে রাতের আকাশ মানেই হচ্ছে চারদিকে ঝাড়বাতির সমারোহ আমার কাছে।আমি অন লেট নাইট বাসায় ফিরি।সত্যিই জীবনকে এক স্বাধীন আকাশের মুখ পাখির মতো কাটিয়ে গেছি।কোনো দিন থেমে কল্পনা করা হয়নি।জীবনে কতটুকু পেয়েছি আর কতটুকু হারিয়েছি।শুধু জীবনকে উপভোগ করেই দেখলাম।তবে ইচ্ছে আছে একদিন কোনো এক এমন রাতেই খোলা আকাশের নীচে ভালোবাসার মানুষকে কাধে মাথা রেখে দুজনে ভাববো কতটুকু পাওয়া হয়েছে আর কতটুকু হারানো হয়েছে।কোনো একটা দিনের আশায়!কোনো একটা দিনের আসায় বসে আছি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
আমি এইসব ভাবতেই আভি এসে পড়লো।
কী হলো আকাশের দিকে তাকিয়ে কি ভাবছো?(আভি)
একদিনের অপেক্ষা করছি।
বলেই আমি গাড়িতে গিয়ে বসলাম।
একদিনের অপেক্ষা করছে।(আভি মনে মনে)
।
।
গাড়িতে আভি ড্রাইভ করছে আমি চুপ করে বসে আছি।কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙ্গে
আচ্ছা।আপনার ব্রেক আপ আমার কারণে হইছে না?(আমি আভির দিকে তাকিয়ে)
তোমার কি সন্দেহ আছে?(আভি ভ্রু কুঁচকে)
না। তাতো নেই।তবে আমি যদি আপনাকে হেল্প করি!(আমি এক্সসাইটেড হয়ে)
কী হেল্প করবে?(আভি ড্রাইভ করতে করতে)
আমি যদি উনাকে ফিরে পেতে আপনাকে সাহায্য করি তাহলে?(আমি)
তুমি সাহায্য করলে যে,,,আর কোনো গন্ডগোল করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা আছে?(আভি)
আছে নিশ্চয়তা!আমি আছি তো আপনি নিশ্চিত।(আমি)
তাহলে তো আমি অনিশ্চিত।কোনো ভরসা নেই আমার তোমার উপর!(আভি)
দূর আপনিও না।একটু তো ভরসা করতেই পারেন।করেন না।আমি প্রমিজ করছি সব ঠিক হয়ে যাবে আপনার আর উনার মাঝে।(আমি)
তুলি!(আভি)
কিহ?(আমি)
ওর নাম তুলি!তুমি কি করে ঠিক করবে ওর আমার সম্পর্ক?(আভি)
আমার নিজের প্রক্রিয়া আছে।সো নো চিন্তা ডু ফুর্তি।(আমি)
দেখো।আর ব্যান্ড বাজিও না।(আভি)
নো চিন্তা।আমি সব ঠিক করে দিবো।(আমি)
আভি দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।
না জানি এই মেয়ে আবার কি করে?কি জানি হয়?না করলেও মানবে না।এই মেয়ের যে তেজ না করলে এতো বেশি করে করতে যাবে।তার চেয়ে ভালো এর কথা মত এখন চলি পরে না হয় দেখা যাবে কি করা যায় ওর সাথে।এখন চুপ করে থাকি।(আভি মনে মনে)
আভি মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে তখন আমি আবার বলতে শুরু করলাম
শুনছেন?(আমি)
আবার কি হয়েছে?(আভি)
আমার বোরিং লাগছে (আমি)
তা আমি কি করবো?তুমি বরং ঘুমাও।গ্রামের বাড়ি যেতে অনেক দেরি।(আভি)
না।আমারও এখন ঘুমে ধরছে না।তার চেয়ে বরং আমি একটা গান গাই।আপনি শুনবেন?(আমি)
ওকে।গাও।তোমাকে কি থামানোর সাধ্য আমার আছে!(আভি)
আপনি কত ভালো।তাহলে আমি শুরু করি।
বলেই গানটা শুরু করলাম।
বুক চিন চিন করছে হায়
মন তোমায় কাছে চায়
আস্থার গান শুনে আভি চোখ বড় হয়ে গেলো।
আস্থা কি গান গাইতে শুরু করলে? বন্ধ কর!(আভি চিৎকার দিয়ে)
আমি আবার উনাকে জ্বালানোর জন্য গাইতে শুরু করলাম
বুক চিন চিন করছে হায়
মন তোমায় কাছে চায়
বুক চিন চিন করছে হায়
মন তোমায় কাছে চায়
সিটে বসে বসে নাচতে শুরু করলাম।
আমরা দুজন দুজনেরই প্রেমের দুনিয়ায়
তুমি ছুয়ে দিলে হায়
আমার কিযে হয়ে যায়
তুমি ছুঁয়ে দিলে হায়
আমার কিযে হয়ে যায়
আস্থা।কি করছো?প্লিজ স্টপ ইট ইয়ার!(আভি হাসতে হাসতে)
বুকে চিন চিন করছে
মন তোমায় কাছে চায়
বুকে চিন চিন করছে হায়
মন তোমায় কাছে চায়
সত্যিই করে বলুন।আপনি মজা পাচ্ছেন না?(আমি হাসতে হাসতে)
হ্যা হ্যা।অনেক মজা পাচ্ছি।এখন তো থামো!(আভি হাসতে হাসতে)
এইরকম হাসতে হাসতে গাইতে গাইতে আমি আর আভি পথ চলতে শুরু করলাম।
।
।
চলবে,,,,