ছিলাম তো তোমারই পাশে পর্ব-০৮

0
3267

#ছিলাম_তো_তোমারই_পাশে
#পর্ব_8
Writer::Shaanj Nahar Sanjida


সত্যিই কেউ একজন ঠিকই বলেছেন আনন্দের সময় খুব দ্রুত গত হয়ে যায়।আমাদের ক্ষেত্রেও তাইই হলো।আমি আর আভি অনেক মজা করলাম আমাদের সফরে ।ভাবতে পারি নি মি:: কোবরা এতো ফ্রেন্ডলী।সত্যিই উনাকে যে জানতে পারে সেই বুঝতে পারবে উনার মন কতো ভালো।যা আমিই ঠিকই বুঝতে পারলাম।কিন্তু নিজের রাগের মাথায় ভুল করে উনার ব্রেক আপটা করিয়ে দিলাম।ব্রেক আপটা না করালেই পারতাম।শুধু শুধু বেচারাকে কষ্ট দিলাম। যাই হোক এখন যে করেই হোক উনার সাথে তুলির মিল করিয়ে দিতেই হবে আমার।
এইসব ভাবতেই বাহিরে তাকালাম।
এখন প্রায় দুটো বাজে।মাঝ রাত হয়ে গেলো।আর কতক্ষনের এই সফর আমাদের শেষ হবে।আমার সচরাচর সফর করতে একটুও ভালো লাগে না।কিন্তু কেনো জানি আভির সাথে সফরটা আমার মন্দ লাগলো না।হাসি,,ঠাট্টা,,মজা,,মাস্তি,,রাগারাগি করতে করতে আমরা আমাদের সফর খুব ভালো ভাবেই চলে গেলো।এতক্ষন জোরে জোরে গান গেয়ে আমার শরীর ক্লান্ত হয়ে গেছে।চোখের মধ্যেও যেনো ঘুম পরি বাসা বাঁধতে চললো।ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি।হয়তো সারাদিনের ব্যস্ততার কারণে শরীর আজ হার মেনে নিয়েছে।
তাই আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম।

আভি কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখে আস্থা ঘুমিয়ে পড়েছে।

যাক দুষ্টুটা ঘুমিয়েছে।ভেবে ছিলাম হয়তো ওর সাথের সফর তেমন ভালো হবে না।কিন্তু না এই দুষ্টু ওর দুষ্টামি দিয়ে সব কিছু সহজ করে দিয়েছে।মেয়েটা পাগলী হলেও মনটা ভালো।ওর জামায়ের যে কি একটা অবস্থা হবে। তা ভেবেই আমি অবাক হয়ে আছি।
বলেই আভি একটা চাদর নিয়ে আস্থার গায়ে পেঁচিয়ে দিলো।


সকালে
ভোরের কিচিরমিচির শব্দ আসছে কানে স্পষ্ট।কিন্তু চোখ দুটো একটুও মেলতে ইচ্ছে করছে না।
আস্থা।এই আস্থা উঠো।আমরা প্রায় এসেই পড়ছি।(আভি আস্থাকে এক হাতে ধাক্কা দিয়ে আরেক হাতে ড্রাইভ করতে করতে)

বাবা প্লিজ।আমাকে একটু ঘুমাতে দাও।আর বকার বদলে পাখির মতো কিচিরমিচির করে কথা বলছো কেনো?(আস্থা চোখ বুজেই)

আরে বাবা।আমি তোমার বাবা না।আমি আভি।আর পাখির মত কিচিরমিচির করছি না পাখিই কিচিরমিচির করছে।কারণ আমরা গ্রামের বাড়িতে প্রায় চলে আসছি।(আভি)

চলে আসছি?কোথায় চলে আসছি?কোথায় যাওয়ার কথা ছিলো আমার?(আমি চোখ মিটমিট করে খুলে)

আরে আরে।উঠো উঠো।(আভি এইবার আস্থাকে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে)

কোথায় কোথায় তুফান?কোথায় তুফান হয়েছে।?(আমি হকচকিয়ে উঠে)

তোমার মাথায় তুফান আসছে।এখন হুশ ফিরল তোমার?(আভি হাসতে হাসতে)

হুম।আসলে প্রতিদিন বাবার বকানি খেয়ে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস তো এখন ভাবলাম হয়তো বাবাই এইসব করছে।(আমি মোচরা মুচরি করতে করতে)

কেনো জিসান আঙ্কেল তোমাকে বকে কেনো?(আভি)

ওইটা না পরে কোনো দিন বলবো?এখন আমরা কোথায় আছি?(আমি)

এইতো এই কাচা রাস্তার শেষ মাথায়।আর বেশি দূরে না।
বলেই আভি গাড়িটাকে কাচা রাস্তায় ডুকালো।

কী সুন্দর গ্রামের চারপাশ!চারদিকে সবুজ ধান ক্ষেত।চারদিকে কি সুন্দর হাওয়া বইছে!আমি জানালা দিয়ে বাহিরে মাথা বের করে হাওয়া গুলো নিজের মুখে লাগাতে লাগলাম।গ্রামের কাচা রাস্তা বলে একটু উচু নিচু কিন্তু এগুলো যেনো এই গ্রামটাকে আরো তুলে ধরেছে।দূরে তাকিয়ে দেখি একজন লোক খেজুর গাছ থেকে রস পারছে।আস্থা গাছটাকে ঠিক মত চিনে রাখ।পড়ে এসেই খেজুর রসের ডাকাতি করা যাবে।
ভেবেই দুষ্টু হাসি দিয়ে উঠলাম।


অন্যদিকে গ্রামের বাড়িতে
ছায়া।সেই ভোর থেকে পায়চারি করছো।ওরা আসলে তো দেখতেই পারবে!(আয়ুশ বসে বসে)

না পারবো না।ওদের এতো লেট হচ্ছে কেনো?(ছায়া পায়চারি করতে করতে)

আমি কি করে জানবো?(আয়ুশ ঘুম ঘুম চোখে)

না জানতে হবে না।তুমি ঘুমাও।যাও গিয়ে ঘুমাও।(ছায়া)

তোমাকে একা রেখে যাবো নাকি?(আয়ুশ)

এখানে আরও লোক আছে তো।আমি ঠিক সামলে নিবো।(ছায়া)

জানি কতো সামলে নিবে!আমি আছি তো আছিই।
বলেই আয়ুশ হেলান দিয়ে বসে আছে।

ছায়া আর কিছু না বলে পায়চারি করতে লাগলো।
অন্যদিকে দূর থেকে
আয়ুশ আর ছায়ার কান্ড কারখানা দেখছে আদি।
কাল রাত থেকেই দেখছি আমার আওয়ারা ছোটো ছেলে ছায়ার দিকে একটু বেশিই কেয়ার করছে! ব্যাপারটা একটু সুবিধের মনে হচ্ছে না।এই ছেলে কি ছায়ার সাথে কোনো গেইম খেলছে?যদি গেইম খেলে তাহলে ওর খবর আছে।যেই ছেলের বারোটা পর্যন্ত না ঘুমালে ঘুম হয় না সে ভোরে উঠে বসে আছে তাও গ্রামের এই কনকনে শীতে।খুবই সন্দেহজনক হচ্ছে ব্যাপারটা।আমার আওয়ারা ছেলে শুধু মাত্র ছায়ার কারণে সকালে উঠে গেছি অবিশ্বাস আমার কাছে।তবে ছায়া মেয়েটা অনেক ভালো যদি এই হতচ্ছেরা কে বাজিয়ে দেয়া যায় তাহলে মন্দ হবে না।দাড়া তোদের ব্যাপারটা দেখছি আমি?(আদি মনে মনে কথা গুলো বলেই চলে গেলো)

কিছুক্ষণ পরেই আভি আর আস্থা গাড়ি নিয়ে এন্ট্রি মারলো।

আর ছায়া খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো।

এই মেয়ে বোন পেয়ে এতো খুশি হয়ে গেলো?বাচ্চারা তো চকলেট পেলেও এতো খুশি হয় না।(আয়ুশ মনে মনে মুচকি হাসি দিয়ে)

তুমি নামো আমি গাড়িটা পার্ক করে আসছি!(আভি)

আচ্ছা।
বলেই
আমি গাড়ি থেকে নামতেই ছায়া আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

আসুপি আসুপি।আমি তোকে কত্তো মিস করছি।(ছায়া জড়িয়ে ধরে)

ছায়া।আমি মাত্র একদিন তোর থেকে দূরে সরে ছিলাম আর এতেই তোর এই অবস্থা?(আমিও ওকে জড়িয়ে ধরে)

আপনি একদিন দূর ঠিকই ছিলেন?কিন্তু আপনার বোন আপনাকে পাগলের মত মিস করছে।যেনো ওর দেহ থেকে প্রাণ উধাও।(আয়ুশ আস্থার দিকে উঠে এসে)

আপনি কে?(আমি আয়ুশ এর দিকে তাকিয়ে)

আমি পরিচয়টা দিচ্ছি।আমি হলাম আয়ুশ চৌধূরী।আপনাদের জিসান আংকেলের ছোটো ছেলে।আমার আরেকটা পরিচয় আছে!আর তা হচ্ছে আপনার বোনের বন্ধু।(আয়ুশ)

আমি অবাক হয়ে ছায়ার দিকে তাকালাম।

ছায়া সত্যিই?উনি তোর বন্ধু।(আমি)

ছায়া মাথা নেড়ে হ্যা বললো।

ও।আমি খুব খুশি তোর জন্য।তোকে এতো গুলো ভালোবাসা।(আমি ছায়াকে জড়িয়ে)

কী হচ্ছে এখানে?আয়ুশ তুই এত সকালে ঘুম থেকে উঠেছিস?আজ সূর্য কোনদিক দিয়ে উঠেছে!(আভি টিটকারি করে)

ভাই!তুই কি আমাকে নিয়ে মজা করছিস?(আয়ুশ)

না আমি তো একদিনে আমার ভাইয়াকে চিনতে ভুলে গেছি তো তাই একটু।এখন চল ভিতরে যাই।(আভি)

বলেই আভি আর আমরা সবাই ভিতরে গেলাম।


ভিতরের গিয়ে ছায়া সবাইকে গিয়ে চিৎকার করে বলতে শুরু করলো যে ওর বোন এসেছে পড়েছে।

মা বাবা আগে থেকেই ঘুম থেকে উঠার পড়েছেন কিন্তু এতক্ষন বিয়ের বিভিন্ন কাজে বাবা আদি আংকেলের হেল্প আর সবার নাস্তার ব্যবস্থা কাজে মা সুমাইয়া আন্টিকে হেল্প করছিলো।আমার আসার কথা শুনেই তারা আত্নহারা হয়ে আমার কাছে ছুটে চলে আসলো।

কেমন আছিস মা?(কলি আস্থাকে জড়িয়ে ধরে)

এমন ভাব করছো যেনো আমি কতদিনের জন্য তোমাদের ছেড়ে চলে গেছিলাম।আমার বিয়ে হয়ে গেলে কি করে থাকবে?।(আমি)

দূর তুইও না।তোকে আমি বিয়েই দিবো না।(কলি)

হ্যা।সারাজীবন আমার ঘাড়ে বসে বসে খাওয়াবে তো তার চিন্তা ভাবনা করছো!(জিসান)

খাবে না তোমার ঘাড়ে বসে চিন্তা ভাবনা করে লাভ নেই।(আমি)

আবার শুরু করলে তোমরা?(কলি)

আরে মা এইটা আমাদের ভালোবাসা!তাই না বাবা?(আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে)

হুম। মা।অনেক হয়েছে ভালোবাসা এখন গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।তারপর খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম দে।(জিসান আস্থাকে জড়িয়ে ধরে)

ওকে বাবা।
পরেই আদি আঙ্কেল,,সুমাইয়া আন্টি আমাকে ডালিয়া আর ওর বাবা মা রোহান আঙ্কেল আর ঈশানি আন্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো মানুষ গুলো অনেক ভালো।আমার তো দেখে তাই মনে হলো।ডালিয়া মেয়েটা একটু চঞ্চল।আমরা সমবয়সী।এখন ওকে বিয়ে করতে দেখে আমারও বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু বাবাকে তো আর বলা যায় না।
এইসব ফালতু কথা ভাবতে ভাবতে।শাওয়ার নিতে শুরু করলাম।
শাওয়ার নেওয়ার পর বেরিয়ে নিচে খেতে যাবো তখনই করিডোর থেকে কাদের যেনো ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম।কৌতূহল বশত আমি কান পেতে উকি দিয়ে উনাদের দেখতে আর শুনতে চেষ্টা করলাম।তাকিয়ে দেখি আভি আর উনার সাথের একটা মেয়ে তুমুল ঝগড়া করছে।মেয়েটা রীতিমত অনেক ক্ষেপে আছে।আভি উনাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।বিভিন্ন ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেয়ে হচ্ছে নাছোড়বান্দা কোনো কিছুতেইও থামবে না।

তুলি তোমার সমস্যা কি?তুমি তো বলেছিলে তুমি আসবে না।(আভি)

তো ও হচ্ছে তুলি?(আমি মনে মনে)

ও।এখন আমার আসাও তোমার সহ্য হচ্ছে না।আমি ভেবেছিলাম আমি আসলে তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেয়া হবে এই জন্যই আমি ফ্লাইটে করে তাড়াতাড়ি চলে আসছি।কিন্তু না তুমি তো তোমার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে এসে আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিলে(তুলি রেগে)

তুলি ও হচ্ছে বাবার বন্ধুর মেয়ে।ওকে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার ছিলো।আমি শুধু আমার দায়িত্ত্ব পালন করেছি।(আভি)

হ্যা।তুমি শুধু তোমার দায়িত্ব পালন কর।ছেলে হাওয়ার,,ভাই হাওয়ার।(তুলি বিরক্ত হয়ে)

মানে কি বলতে চাইছো তুমি?(আভি ভ্রু কুঁচকে)

কিছু না আভি।আমার একটু একা থাকতে দাও।
বলেই তুলি চলে গেলো।

আমি সেখানেই দাড়িয়ে রইলাম।কেনো জানি তুলি মেয়েটাকে আমার একটুও ভালো লাগলো না।কেমন জানি ওর কথাবার্তা।অন্য রকম একটা ফিল দেয় আমাকে।খুব খারাপ একটা ফিল দেয়।কিন্তু আভি অনেক ভালো।উনি রাগী হলেও উনার মনটা অনেক ভালো।কিন্তু এখন আমাদের উনাদের ব্যাপারে নাক গলাতে হবে না।উনাদের আমায় এক করাতে হবে।যে করেই হোক।আমার জন্য যেহেতু ব্রেক আপ হয়েছে।আমার জন্যই আবার জোড়া লাগবে।হুম।আমি এখন উনাদের জোড়া লাগিয়েই ছাড়বো।
বলেই নিচে নেমে গেলাম।


অন্যদিকে তুলি রুমে গিয়ে
কি হয়েছে তুলি?(রাইশা — তুলির মা)

মা আভির সাথে আমার আবার ঝগড়া হয়েছে।(তুলি)

এইটা বলতেই তুলির গালে একটা থাপ্পড় পড়লো

মা।তুমি আমাকে মারলে?(তুলি)

তোর মা তো তোকে মেরেছে আমি হলে তোকে খুন করে দিতাম।(রামিন — তুলির বাবা।পাশেই দাড়িয়ে আছে)

তুলি মাথা নিচু করে আছে।

তোদের বোনদের আমরা কি বলেছে মনে নেই?তোদের আভি আর আয়ুশকে প্রেমের জালে ফাঁসাতে হবে। ওরাই হচ্ছে আমাদের সোনার ডিম পাড়া হাস।কিন্তু তুই(তিশা) তো আয়ুশকে পটাতেই পারছিস না।এতো বছর হয়ে গেল এখনও আয়ুশকে প্রেমের জালে ফাঁসাতে পারলি না।(রাইশা)

কিন্তু মা আমি তো চেষ্টা করছি।আয়ুশই তো মানতে চাইছে না।(তিশা)

মানতে চাইছে না না।মানতে হবে। মানাতে হবে। বুঝতে পেরেছিস?(রাইশা)

হুম।মা বুঝতে পেরেছি(তিশা)

আর তুই আভির সাথে যা হয়েছে তা মিটমাট করে নে।আমি চাই না আভি তোর থেকে সরে যাক।(রাইশা)

আচ্ছা মা।(তুলি)

রামিন শুধু বসে বসে শুনছে।যা বলার ওদের মেয়েকে রাইশাই বলছে।

পরেই তিশা আর তুলি বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

আমাদের মেয়েদের কি আমাদের বদলার কথা বলে দিলে ভালো না?(রাইশা বেডে বসে)

না।ওদের বলা দরকার নেই।ওরা যেমন কাজ করছে আমার ওদের উপর তেমন ভরসা নেই।আমার নিজেরই কিছু একটা করতে পারে।(রামিন)

কী করবে তুমি?(রাইশা অবাক হয়ে)

ওদের দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব যদি আমি নষ্ট না করেছি তো আমার নামও রামিন না।এই দুই বন্ধুর কারণেই আমার এখন এই অবস্থা।আমি এখন পথের ফকির হাওয়ার অবস্থায় আছি।(রামিন)

তুমি চিন্তা করো না।আমরা ঠিক ওদের কাছ থেকে বদলা নিতে পারবো।(রাইশা)

রামিন শক্ত হয়ে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে ফেললো।

আদি আর জিসান তোমাদের বন্ধুত্ব শেষ করেই ছাড়বো আমি।(রামিন মনে মনে)


খাবারের টেবিলে সবাই মিলে খাবার যাচ্ছে।
বাড়িতে প্রায় অনেক মানুষ।বিয়ে বাড়ি বলে কথা।খাবারের টেবিলে সকাল থেকে এই পর্যন্ত পাঁচ বৈঠক বসে খাবার খেয়ে ফেলেছে।টেবিলটা প্রায় অনেক বড়ই।আগেকার দিনের টেবিলের মতো।প্রায় পনেরো জন তো এই টেবিলে অনায়াসে বসতে পারে।এখন লাস্টে আছি আমরা।আমি,,মা বাবা,,ছায়া,,আদি আঙ্কেল,,সুমাইয়া আন্টি,, আয়ুশ আভি,তুলি,,তিশা,,রাইশা আন্টি,,রামিন আঙ্কেল,,ডালিয়া,,ঈশানি আন্টি আর রোহান আঙ্কেল খাচ্ছি।

কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছে রাইসা আন্টি আর রামিন আঙ্কেল আসার পর থেকেই টেবিলের চেহারা যেনো বদলে গেলো।কেনো যেনো চারপাশটায় ছিমছিম পরিবেশ হয়ে গেলো।

বাবার চেহারা কেনো যেনো একটু রাগী হয়ে গেলো।আদি আংকেলের চেহারা দিশেহারা পরিস্থিতির মতো হয়ে গেলো।মা চুপ করে মাথা নিচু করে খাচ্ছে।ঈশানি আন্টি আর রোহান আঙ্কেল কার কি লাগবে তা নিয়ে ব্যাস্ত।তবে আমার মনে হচ্ছে উনারা সত্যিই কারের ব্যাস্ততা থেকে অভিনয়ে ব্যাস্ততা দেখাচ্ছে।হয়তো টেবিলের পরিবেশটাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
আমরা যারা ছোটো আছি তারা হয়তো এই বিষয় মাথা ঘামাচ্ছি না।কিন্তু আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে মাথা ঘামানো দরকার।

যাই হোক।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সুমাইয়া আন্টি বলে উঠলো।
আরে রামিন ভাই!আপনি আসবেন জানতামই না?(সুমাইয়া জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)


চলবে,,,,,,