#তার_শহরের_মায়া_২
#পার্ট_৮
#Writer_Liza_moni
হাসির শব্দে কেঁপে উঠছে টং এর দোকান। তূর্যর বন্ধুরা হাসিতে ফেটে পড়েছে তূর্যর কথা শুনে।
তূর্য ঘাড় বাঁকিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বললো,,
মজা লাগে তোদের?হাসির কথা কিছু বলছি আমি?
রাশেদ হাসতে হাসতে বললো,,
ভাই তোর এই লুতু পুতুর জন্য আমি দশ টাকা দামের একটা ডেরি মিল্ক কিনে আনবো?
ধুরর পোলা।
এনি ড্যাব ড্যাব করে তূর্য আর ওর বন্ধুদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
তূর্য এক হাত কোমরে রেখে আরেক হাত দিয়ে মাথার চুল টেনে ধরেছে।ভ্রু জোড়া কুঁচকানো।
কপালে ভাঁজ পড়ে আছু। আশেপাশে তাকাচ্ছে শুধু। এমন সময় চোখ পড়লো অনুর দিকে।
কিছুক্ষণ আগেই অনু ঘুম থেকে উঠে রাতের জন্যে বাজার করতে বাজারের দিকে হাঁটা ধরলো।
ম্যাস থেকে বাজারে হেঁটে যেতে মাত্র দশ মিনিট লাগে। বাজারে হেঁটে হেঁটে গেলে শরীর টা ঠিক থাকবে।আজ সারা দিন হাঁটা হয়নি তার।
অনু রাস্তার পাশের টং দোকানের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে যায় তূর্যর সাথে। তূর্য ও তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
তূর্য বেবি শুনো,,
তূর্য এক পলক এনির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,,
সময় নাই।
তূর্য দ্রুত হেঁটে অনুর পিছু নিলো।
এই যে মিস শুনেন,,,
অনু পেছনে ফিরে তাকিয়ে আবার হাঁটতে শুরু করলো। পাত্তা দিলো না তূর্য কে।
তূর্য আবারো ডাকলো কিন্তু অনু হাঁটা না থামিয়ে হাঁটার গতি আরো বাড়িয়ে দিলো।
এই সব ছেলেকে এক দম পাত্তা দিবি না অনু। আসার সময় বাবা কী বলেছে মনে নেই? একদম দাঁড়াবি না।
এই যে এই মেয়ে শুনেন?
আমার গাছের ফুল চুড়ি করে নিয়ে যাচ্ছেন আবার এত দেমাগ?
তূর্যর কথায় অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেছে অনু।সে এবার হাটা থামিয়ে তূর্যর দিকে তাকিয়ে বললো,,
বড্ড অসভ্য লোক তো আপনি।দেমাগ দেখালাম কখন?আর ফুল কে চুরি করেছে?
তূর্য দৌড়ে এসে অনুর সামনে দাঁড়িয়ে গাল ফুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।তারপর বললো,,
এটাতো আপনাকে দাড় করানোর নিনজা টেকনিক।
তূর্যর কথা শুনে ভ্যাবা চ্যাকা খেয়ে গেছে অনু। লোকটা কে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এ খুব চালাক।
আর শুনেন আপনি দেমাগ দেখাচ্ছিলেন।এত বার ডাকলাম শুনে ও না শুনার ভাব করছিলেন।
তূর্য আর অনুর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে এনি। তূর্য তাকে ইগনোর করে অনুর পিছনে ছুটে যাঝয়াটা একদমই মেনে নিতে পারছে না এনি। রাগে পা থেকে হিল গুলো খুলে রাস্তার পাশে ছুঁড়ে মেরে খালি পায়ে হেঁটে গাড়িতে উঠে ড্রাইভার কে বললো,,
বাড়িতে চলুন।
তূর্য আর অনুর সামনে দিয়ে চলে গেল এনির গাড়ি। তূর্য একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর অনুর মুখের দিকে ভালো করে তাকাতেই থমকে যায়।
উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের মেয়ে অনু। ধবধবে ফর্সা না।দুধে আলতা গায়ের রং না তার। চোখের পাপড়ি গুলো ঘন কালো হওয়ায় চোখ গুলো বেশ ভালো লাগলো তূর্যর।বা চোখের ভ্রুর উপর একটা তিল আছে অনুর। পাতলা হালকা গোলাপি ঠোঁট জোড়া।
তূর্য অনুর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললো,,
I am very sorry.
শুধু শুধু আপনার সময় নষ্ট করেছি। again sorry.
ফুল চোর বলার জন্য। কিছু মনে কইরেন না। আজাইরা ঝামেলা থেকে বাজতে আপনাকে বিরক্ত করলাম।সরি ফর দিছ।
তূর্যর উপর ভীষণ বিরক্ত হলো অনু। আজাইরা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও মানুষ এখন তাকে ফুল চোর ও বলছে।তাও রাস্তায় মানুষের সামনে।
অনু তূর্য কে কিচ্ছু না বলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। তূর্য সেখানে দাঁড়িয়েই অনুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
মেয়েটা কিছুই বললো না? বেশি বিরক্ত করে ফেলেছি মনে হয়।এই এনির ন্যাকামি থেকে বাঁচতেই এইসব করলাম।মাইয়াডা কোন দিন যে আমাকে মুক্তি দিবে?
.
.
রান্না সেরে সেলিং ফ্যান ছেড়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো অনু।ঘেমে একাকার হয়ে গেছে।
নিজের রুমের বারান্দায় বসে গিটারে টুং টাং সুর তুলছে তূর্য।রাত নয়টা বাজছে। আকাশ একদম পরিষ্কার।লক্ষ লক্ষ তাঁরা মিটি মিটি করে জ্বলছে। তাঁরারা ঘিরে রেখেছে থালার মত চাঁদ টাকে। উজ্জ্বল চাঁদের গায়ে ও দাগ আছে। চাঁদের ও খুঁত আছে। তাহলে একটা মানুষ কী করে নিখুঁত হবে? বুঝতে পারে না তূর্য।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তূর্য গেয়ে উঠলো,,
পূর্ণিমা সন্ধ্যায় তোমার রজনী গন্ধায়,,
রূপ সাগরের পাড়ের পানে
উদাসী মন ধায়।
তোমার প্রজাতির পাখা
আমার আকাশ চাওয়া মুগ্ধ চোখে রঙিন স্বপন মাখা।
তোমার চাঁদের আলোয়
মেলায় আমার দুঃখ সুখের সকল অবসান।
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।
জুঁই তূর্যর বারান্দার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তূর্যর গাওয়া গান শুনছে।তার ভাই এত সুন্দর করে গান গাইতে পারে বলে মাঝে মাঝে খুব হিংসা হয় তূর্যর গান শুনে।
সে কেন এমন সুন্দর করে গান গাইতে পারে না?
এহ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ,,,
কাকের গলায় কোকিলের সুর।
তূর্য ভ্রু কুঁচকে জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,,
এই তোর সমস্যা কি?
আমাকে অপমান করে কী শান্তি লাগে?বলতো আমার জল্লাদ বোন।
এত সুন্দর করে গান গাইবি না প্লিজ ভাইয়া। কোন দিন দেখবি তোর গানের সুরের টানে আমাদের বাড়ির গেটের সামনে মেয়েদের সিরিয়াল পড়ে যাবে। শুধু তোর জীবন সঙ্গী হয়ে এই মিষ্টি কন্ঠের গান শোনার জন্য।
জুঁই এর কথায় হাসতে হাসতে শেষ তূর্য।
তূর্যর পাশে মোড়া টেনে বসে হাসিতে যোগ দিলো জুঁই ও। তূর্য হাসলে নজর কাড়া সেই টোল টা কে ও হিংসা করে জুঁই। তার ভাইয়াটা একদম কিউটের ডিব্বা।
জিম করে না তূর্য। সাধারণ মানুষের মতো বডিই পছন্দ তার।সিক্স প্যাক ওয়ালা বডি বানানোর চিন্তা তার মাথায় আসেনি কোনো দিন।
হলদে ফর্সা গায়ের রং টা খুব মানিয়েছে তূর্য কে।
ওহ শিট। আম্মু তোকে ডিনার করার জন্য ডাকতে বললো আমাকে।আর আমি তোর সাথে বক বক করে যাচ্ছি।
খেতে আয়। আব্বু ও বসে গেছে খাবার খাওয়ার জন্য। জলদি আয় বলে জুঁই চলে গেল।
তূর্য মুচকি হাসলো।
.
.
রেস্ট নেওয়ার জন্য বিছানায় শুয়ে ছিল অনু। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতেই পারেনি। হাত দিয়ে চোখ কচলে শোয়া থেকে উঠে ওয়াস রুমে চলে গেল চোখে মুখে পানি দেওয়ার জন্য।
মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে খাবার বেড়ে খেয়ে নিল।সব কিছু গুছিয়ে মোবাইল নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে কল করলো তার বেস্ট ফ্রেন্ড রিফাকে।
দুই বার রিং হতেই কল রিসিভ করে রিফা বলতে শুরু করলো,,
এত দিনে আমার কথা মনে পড়েছে বড় লোক্স উল্টা প্রো মেক্স আফার। ভুলেই গেছেন এই নব জাতক বাচ্চা কে।
বইন চুপ কর। তুই নব জাতক বাচ্চা তাই না?শালি আজ বিয়ে দিলে আগামীকাল তুই নিজেই বাচ্চার মা হবি। সেখানে নিজেকে নব জাতক বাচ্চা বলতে লজ্জা করে না?
আচ্ছা দোস্ত সরি।আর কমু না।এই বার বল তো,,
তনু আপুর বিয়েতে কেমন আনন্দ করলি?বেয়াই টেয়াই আছে নাকি?না মানে আমরা সিঙ্গেল রা মিঙ্গেল হতাম আর কি।
আপুর বিয়েতে যা হইছে তা তুই কেন আমি নিজেই কোনো দিন ভাবি নাই।
রিফা কৌতুহল নিয়ে বললো,,
কী হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।যতক্ষন না শুনমু ততক্ষণ আমার পেটের ভাত হজম হবে না।আর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।
এখন কিছু কইতে পারতাম না। আগামী কাল কখন আসবি ভার্সিটিতে?
ধুর তুই না বললে আমি ও কমু না। কখন যামু ভার্সিটিতে।
অনু মুচকি হেসে বললো,, আচ্ছা ঠিক আছে।বলতে হবে না।রাখছি,,
এই কুত্তি শোন,,
আমার ঘুম তো আর রাতে হবে না।মাথার মধ্যে শুধু ঘুরপাক খাবে তনু আপুর বিয়েতে কী এমন হয়েছে যে তুই নিজেও তা ভাবিস নাই। তুই যখন বলে দিয়েছিস এখন বলতে পারবি না,, তাহলে বোম মেরে ও তোর মুখ থেকে সেই কথা আর বের করতে পারবো না।এটা আমি খুব ভালো করেই জানি।
বুঝতে পারার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
হুঁ ঢং। আমি দশটার দিকে ক্যাম্পাসের ওখানের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে অপেক্ষা করবো।লেট লতিফার মতো যদি লেট করিস তো তাইলে উষ্টা দিয়ে তোর হবু জামাইয়ের কাছে পাঠাই দিমু।
রিফার কথা শুনে অনু হেসে দিলো।
আচ্ছা ঠিক আছে তোকে গোনে গোনে ২০ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে তার পর আমি তোর কাছে যামু।
চলবে,,,, 🍁
(আসসালামুয়ালাইকুম 💜
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)