#তুই_যে_আমরই
#আঁখি আজমীর নুরা
part 9
খেতে খেতে হঠাৎ খাবার তালুতে উঠে গেলো। যার ফলে বিষম লেগে কাশি উঠে গেলো। আয়াজ তাড়াতাড়ি করে গ্লাস থেকে পানি নিয়ে আমাকে খাইয়ে দিতে লাগলো। আর পিঠে চাপড় দিতে লাগলো।
-কোন দিকে তাকিয়ে খাবার খাস? ধমক দিয়ে আয়াজ বলে উঠে। ঠিক আছিস?
-হুমম।
-আস্তে আস্তে খা, কেউ তোকে তাড়া দিচ্ছে না।
খেতে খেতে আজিফা নোটিশ করলো, ইফাজ যেনো বারবার তারদিকে তাকাচ্ছে। কেমন যেনো ইফাজ ভাইয়ার চাহনিটা। এর আর নতুন নয়। সে প্রায়ই অনেবার এইটা নোটিশ করতো।
এরপর আমি খাবার শেষ করে উপরে চলে গেলাম। গিয়ে নিজের রুমে ঘুমিয়ে পরলাম। নয়তো আয়াজ ভাইয়া বকবে। আসলে দুপুরে ঘুমোতে ঘুমোতে অভ্যেস হয়ে গেছে। তাই এখন লাঞ্চ করার পরই আপনাআপনি ঘুম চলে আসে।
বিকেলে সবাই বসে একসাথে ঝালমুড়ি খাচ্ছি। আর গল্প করছি। আমি অন্তুকে কোলে নিয়ে আদর করছি আর দুষ্টুমি করছি। তারপর অন্তুকে নিয়ে বাইরে হাঁটতে চলে গেলাম। আসলে আমি দুই মিনিট স্থির থাকতে পারি না। তাই চলে গেলাম বাইরে আর সাথে ইলহান ও আছে।
আঁখি বাইরে যেতেই ইফাজ আয়াজকে গুতা মেরে বলল তা ভাবিজী কে কবে পার্মানেন্টলি নিজে রুমে শিফট করছিস? আয়াজকে লজ্জায় ফেলার জন্য। কিন্তু আয়াজও কম যায় না।
-তাই সে বলল তুই যদি চাস এখনই শিফট করতে পারি। করবো নাকি।
আয়াজের উত্তর শুনে ইফাজ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ইফাজ মনে মনে বলছে আমি হয়তো কিছু মুহূর্তের জন্য ভুলেই গেছিলাম যে, যাকে আমি লজ্জায় ফেলতে যাচ্ছি সে নির্লজ্জের মধ্যে এক ধাপ এগিয়ে। যার ভিতর লজ্জার ছিঁটেফোঁটাও নেই।
ইফাজের কাচুমাচু মুখটা দেখে সবাই হোহোহোহো করে হেঁসে উঠলো। এবার মনে হয় লজ্জাটা ইফাজ ই পেয়ে গেলো।
আয়াজ সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো, আচ্ছা শুনো পিকনিক আগামী পরশু যাবো। গোজগাজ করার থাকলে সবাই করে ফেলো। কালকে সকালে খালামনি আদিফ আর আঙ্কেল এরা আসবে। আমাকে ফোন দিয়ে জানালো।
এদিকে
ইফাজ আজিফার রুমে গিয়ে দেখলো আজিফা রুমে নেই। বেলকনিতে গিয়ে দেখলো চুল মুছছে। পিঠে বিন্দু বিন্দু পানি গুলো যেনো ইফাজকে টানছে। ইফাজ যেনো ঘোরের মধ্যে চলে। ইফাজ আস্তে আস্তে আজিফার দিকে এগোলো। গিয়ে পিঠের উপর চুমু খেলো।
আজিফা পিঠের উপর এমন স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো। আর পিছন ফিরে দেখলো আর কেই নয়। ইফাজ ভাইয়া। আজিফার রাগ যেনো মাথায় উঠে গেলো।
-ছি ইফাজ ভাইয়া। এটা তুমি কি করলা।তুমি এতো জগন্য কবে থেকে হয়েছো। তোমাকে আমি এর আগেও অনেকবার নোটিশ করেছি। ছিহ! চরিত্রহীন।
চরিত্রহীন কথাটা শুনে ইফাজের মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। আজিফার হাতটা চেপে ধরে বলল
-চরিত্রহীন কাকে বলেছিস? আমি কি মেয়ে ফষ্টিনষ্টি করছি, নাকি কোনো মেয়েকে রেপ করেছি। ভালোবাসি তোকে আমি। তোর সবটা জুড়ে শুধু আমার বিচরণ থাকবে। এই ইফাজের স্পর্শ থাকবে তোর শরীরে আর কারই নয়। ভালোবাসি! বুঝেছিস তুই।
-আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ভালোবাসে আমাকে। এই কথাটা শুনার জন্যইতো আমি এতো অপেক্ষা করেছিলাম। যদি ভালোইবেসে থাকে তাহলে সেদিন কি ছিলো?
-মানে?
-মানে বুঝতে পারছো না। নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছো।
-এতো ঘুরিয়ে পেছিয়ে না বলে যা বলবি সরাসরি বল।
-কেন ইফাজ ভাইয়া তুমি যদি আমাকে ভালোবেসেই থাকো, তাহলে সেদিন ভার্সিটিতে রাদিকা আপুকে পুরো ভার্সিটির সামনে কে প্রপোজ করেছে।নাকি এটাও এখন অস্বীকার করবে? আর এখন এসেছো ভালোবাসা দেখাতে?
-ওহ মাই গড! এই জন্য তুই আমার ফোন রিসিভ করছিস না। কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিস। সবসময় চোখের দেখা সত্যি হয় না।
-মানে?
– মানে ডিয়ার ছিলো?
-ডিয়ার? কিসের ডিয়ার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো?
সেদিন,
আমি আমার সব বন্ধুরা ভার্সিটিতে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর ট্রুথ অর ডিয়ার খেলছিলাম। ওই মুহূর্তে হঠাৎ আমার উপর ডিয়ার এসে পরলো। রিহা বলল, তোর ডিয়ার হচ্ছে রাদিকা কে পুরো ভার্সিটির সামনে প্রপোজ করা।
-কিহ মাথা ঠিক আছে? আর কোনো ডিয়ার পেলি না?
-হুমম পারবি কিনা বল নয়তো আমরা ধরে নিবো তুই লুজার।
-হোয়াট এ লুজার। জাস্ট লুক। বলেই গেলাম রাদিকাকে প্রপোজ করতে।
এদিকে সেদিন আজিফা যাচ্ছিলো শপিংমলে। আর ওই শপিংমল থেকে ইফাজ এর ভার্সিটির পাশেই। আজিফা ভাবলো এখানেতো ইফাজ ভাইয়ার ভার্সিটি অনেকটাই কাছে। তাহলে একটু দেখা করে আসলে কি এমন হয়। আর ভালোবাসার মানুষটাকে একনজর কে না দেখতে চায়।
কিন্তু গিয়ে দেখি ইফাজ ভাইয়া রাদিকা আপুকে প্রপোজ করছে। কষ্টে যেনো বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি আর এক মিনিট ও দাড়ালাম না। ভালোবাসার মানুষটা অন্য কাউকে ভালোবাসে। ভাবতেই ভিতরটা হাহাকার করে উঠে।
তাই সেদিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আমি আর ইফাজ ভাইয়ার কাছে যাবো না। থাকুক না সে তার মতো। আমি না হয় দুর থেকেই ভালোবেসে গেলাম। সব ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে এমনতো কোনো কথা নেই।
-গাঁধি এইজন্যই তুই আমার থেকে দূরে দূরে থেকেছিস। এই তোর আমার প্রতি ভালোবাসা?
-আমি কিছু বলছি না শুধু নিরবে কেঁদে যাচ্ছি।
-ইফাজ আজিফার চোখের চোখের পানিগুলো মুছে দিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। আর বলল ভালোবাসি।
-আমিও
আমিও কি?
-আই লাভ ইউ টু।
-ইফাজ পরম মমতায় আজিফাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।
-ছেড়ে যাবে নাতো কখনো?
-মোটেও নাহ। ছেড়ে যাওয়ার জন্য তোকে ভালোবাসি নি।
এদিকে, আঁখি ব্যাগ গোছাচ্ছে আর মনের সুখে গুণগণ করে গান গাচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ নোটিশ করলাম কেউ একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। পিছন ফিরে দেখলাম আয়াজ ভাইয়া। বগলে দুই হাত দিয়ে দরজার সাথে হেলান দিয়ে আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম আজকে কি কোনো ভুল করেছি আমি। কিন্তু আমারতো মনে হচ্ছে আমি আজকে কোনো ভুল করিনি। কিন্তু পরক্ষণেই কিছু একটা মনে পরতেই ভয়ে ভয়ে ভাইয়ার দিকে তাকালাম। দেখলাম আয়াজ ভাইয়া আমার দিকে আসছে।
এভাবে উনাকে আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে আমি ভয়ে পিছাতে লাগলাম। পিছতে পিছতে গিয়ে কাবার্ট এর সাথে লেগে গেলাম।
উনি এবার উনার এক হাত দিয়ে আমার দুহাত চেপে ধরে আর অন্য হাত দিয়ে আমার কোমড় চেপে ধরে বলতে লাগে..
-তামিম টা কে?
-যা ভয় পেয়েছিলাম মনে মনে?
-কি হলো?
-আআমার ফফফ্রেন্ড
-কেমন ফ্রেন্ড…বলেই আমার কানের উপর আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করছে।
-এদিকে ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। বললাম ওই যে রররিনি আছে, ওর ভাই।
-ওর ভায়ের সাথে তোর কি? কিসের এতো কথা?
-এএএমনি আমার সসসসাথে ককথা বলে ততাই আআমিও ববলি।
-বারন করেছিলাম না কোনো ছেলের কথা না বলতে? স্লো ভয়েসে বলতে থাকে।
-হহহুম
-তাহলে?
আয়াজ ভাইয়ার এই শান্ত জিজ্ঞাসাবাদে আমার অবস্থা করুণ।
-এবার ভয়ে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলাম।
-শশশশ চুপ। কোনো কান্না নয়। আর মিশবি?
-নাহ।
-মনে থাকবে?
-হুমম
-সিওর?
-জ্বী
আয়াজ আঁখির দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ অনেক কিউট লাগছে। কাঁদলে মেয়েটাকে একদম গুলুমুলু লাগে। ইচ্ছে করে একদম খেয়ে ফেলি। আয়াজ আস্তে আস্তে আঁখির মুখের দিকে এগিয়ে যায়। আর গালের উপর একটা ডিপ কিস করলাম। তারপর রুম থেকে বেরিয়ে এলাম
এদিকে আঁখি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কজ এটা তার কাছে এক অন্যরকম অনুভূতি। এর আগেতো আয়াজ ভাইয়া আমাকে আরো অনেক চুমু খেয়েছে। কই তখনতো এমন অদ্ভুত ফিলিং হয়নি। তবে আজ কেনো এমন হচ্ছে। কেমন যেনো ভিষণ লজ্জা লাগছে।
আসলে, বিকেলে অন্তুকে কোলে নিয়ে বাইরে হাঁটতে যাওয়ার পর তামিম এর সাথে দেখা হয়। ও হচ্ছে আমাদের প্রতিবেশী রিনির ভাই। অনেক ভালো একটা ছেলে। খুবই মিশুক। আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলো, এক্সাম কেমন হয়েছে? ভালো রেজাল্ট করতে পারবো কিনা এসব কুটিনাটি বিষয়। বাট আয়াজ ভাইয়া কেমনে জানলো তাই ভাবছি।
পরেরদিন সকালে আম্মু আব্বু আদিফ ওরা সবাই এসেছে। ওদেরকে দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো। অনেকদিন পর দেখলাম আম্মু আব্বুকে । গিয়ে আব্বুকে জড়িয়ে ধরলাম। এরপর আদিফকেও জড়িয়ে ধরলাম। কেমন আছিস আদু।
-ভালো আপু। তুই কেমন আছিস?
-হুম ভালো।
সবার সাথে কুশল বিনিময় করে সবাই আড্ডা দিতে লাগলাম।
রাতে ঘুমোচ্ছিলাম। মাঝরাতে হঠাৎ অনুভব করলাম, আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার ঠোঁট দুটো আঁকড়ে ধরেছে। যখন চোখ মেললাম দেখতে পেলাম কেউ একজন আমার হাত দুটো চেপে ধরে রেখেছে আর গভীর চুম্বন করে চলেছে আমার ঠোঁটের উপর। কিন্তু অন্ধকার হওয়ায় কিছু বুঝতে পারছি না।
১০মিনিট পর ছাড়া পেলাম। ছাড়া পেতেই আমি জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলাম। প্রাণটা যেনো বেরিয়ে যাবে এমন অবস্থা।
কিন্তু যখন আমি স্থির হয়, ততক্ষণে ওই লোকটি চলে যায়। এটা নতুন কিছু নয়। আমি প্রায়ই মাঝরাতে এটা ফিল করতাম। পরক্ষণেই সপ্ন মনে করে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতাম। কিন্তু আজ যেটা হলো, সেটা কি আদোও সপ্ন?
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম।
সকালে
চলবে