তুমি হাতটা শুধু ধরো পর্ব-৩৭+৩৮

0
697

#তুমি_হাতটা_শুধু_ধরো
#পর্বঃ৩৭
#Jhorna_Islam

দরজার অপর পাশের দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে তমা ভিতরে ভিতরে খুব ভয় পাচ্ছে। দরজার অপর পাশে আর কেউ নয় সোহা দাড়িয়ে আছে। সোহাকে তমা চিনে।বিয়ের সময় দেখেছিলো।তাছাড়া মুখের আদলেও কিছুটা মিল রয়েছে।

ভিতর ভিতর ভ’য় পেলেও মুখে প্রকাশ করলো না। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলে উঠে,,, কি ব্যাপার তুমি এখানে? কিছু বলবে?

সোহা তমার কথায় পাত্তা দিলো না। তমাকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল।তমা তাল সামলাতে দরজা আঁককে ধরে।কি সাং’ঘা’তিক মেয়ে সে তো ভালো কথাই জিজ্ঞেস করেছিলো আর এই মেয়ে তাকে ধাক্কা মারলো?

সোহা সোজা গিয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে।সামনে থাকা ওমির মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মহিলা এখনো টের পায়নি সোহার উপস্থিতি। এক মনে চা খাচ্ছে। আর কি যেনো ভাবছে।

সোহা গলা খেকাড়ি দিলো।ওমির মা সামনে তাকিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। কিছুটা ঘা’বড়ে যায়। শুকনো ঢুক গিলে কিছু বলতে নিবে,,, তার আগেই সোহা মুচকি হেসে বলে কি ব্যাপার আন্টি ভালো আছেন? অবশ্য ভালো থাকারই কথা।এই বয়সেও শরীরে এতো জোর।ভাবা যায়? আপনার বয়সের কতো মানুষ পৃথিবী ত্যাগ করেছে। কি খান বলুনতো? দিন দিন শুধু হাতির মতো ফুলতেছেন আর শক্তি বেড়ে চলেছে। অবশ্য আজাইরা খেলে শরীরের তো কোনো দোষ নাই মুটিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

কি বলছো তুমি মেয়ে তোমার সাহস দেখেতো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তুমি জানো না?

গলা নামিয়ে কথা বলুন একদম গলা উঠিয়ে কথা বলবেন না আমার সাথে।আমি আপনার খাইও না পরি ও না।খুব তে*জ হয়েছেনা আপনার? সেই তে*জ কমানোর জন্যই আমি এসেছি। তা আমার বোন নাকি আপনার চুল টেনে ধরেছে? তাই নাকি?

ইসসস আমার আফসোস হচ্ছে। চুল তো আপনার সবই ঠিক আছে।একটাও এদিক সেদিক দেখা যাচ্ছে না। আমার বোনকে নিশ্চই খেতে দেননি তাই না? না হলে হাতে জোর ছিলোনা চুল ছিরার? আমি তো পুরাই টা”ক বানিয়ে দিতাম আপুর জায়গায় হলে।ধুরর আমার আপুটা ও না কোনো কাজের না। আপনাকে টা’ক মাথায় দেখার আমার অনেক শখ ছিলো সেই শখটা পূরণ করতে পারলামনা। আপু করতে পারেনি বলে কি হয়েছে? আমি আছি না কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য? আমার আবার অসম্পূর্ন কাজ সম্পূর্ণ করতে অনননেক ভালো লাগে।

ওমির মা গ’র্জে উঠে মুখ সামলে কথা বলো।ভেবে কথা বলবা কি বলতেছো।না হলে ঠাটিয়ে চ’ড় লাগাবো গালে বি’য়া’দ’প মেয়ে।

সোহা আরো গর্জে উঠে বলে,,,এইই গলা নিচে।আমার সাথে লাগতে আসবিনা বুড়ি।আমি নোহা নই সোহা। তোকে আমি তাই যা কিছু করে ফেলতে পারি।তুই আমার বড় বলে তোকে আমি ছেড়ে দিবো না।সম্মান তাকেই করা উচিত যে সম্মানের যোগ্য। তোর মতো কু’চু’টে মহিলাদের না।তোদের বড় বলে ছেড়ে দেওয়া মানেই অন্য নিষ্পাপ মানুষের সাথে অন্যায় করা।তাও শুকরিয়া কর তোকে এখনও কিছুই করি নি।

তমা এসব শুনে এগিয়ে এসে বলে উঠে,,, তোমার তো সাহস কম না মেয়ে।তুমি আমাদের বাড়িতে এসে আনার ফুপিকেই যা নয় তাই বলছো? তুই তুকারি করছো?

সোহা তমার কথা শুনে দৌড়ে এসে তমা আর কিছু বোঝার আগেই তমার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে।

তমা ব্যাথায় আহ্ বলে চুল ছাড়ানোর চেষ্টা করে। আমার চুল ছাড়ো বলছি।

ছাড়ার জন্য তো ধরিনি চা’ন্দু।তোরে আমার বিয়ের সময় ই ভালো লাগেনি।ঠিক বুঝেছিলাম তর মধ্যে কিছু একটা ঘা’পলা আছে।তুই এই বুড়ির সাথে মিলে আমার আপুকে অ’ত্যা’চার করেছিস।আমার আপুকে কষ্ট দিয়ে তরা ভালো থাকবি ভেবেছিস ? কক্ষোনো না।আমি সোহা বেঁচে থাকতে তো নই।বলেই তমার মুখ চেপে ধরে। সোহার এক হাত তমার চুলে আরেক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে রাখা।তমা আ’ত’র্কিত হা’মলায় কিছু বুঝে উঠতে পারে নি।তাই পাল্টা আ’ক্র’মন করে উঠতে পারে নি।

ওমির মা নিজের ভাতিজির অবস্থা দেখে এগিয়ে যায় তমাকে ছাড়ানোর জন্য। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে আসতেই সোহা ইচ্ছে করে নিজের পা টা এগিয় সামনে রাখে যা উনি খেয়াল করেন নি।ফলস্বরূপ পায়ের সাথে পা লেগে যাওয়ায় খেই হারিয়ে ফেলেন।নিজেকে সামলাতে পারেন নি ঠাস্ করে নিচে পরে যায়।পড়ার আগে টেবিলটা তাও ধরার চেষ্টা করে ছিলো।টেবিলের উপর চায়ের কাপটা হাত থেকে নিচে পরে ভেঙে গিয়েছে আর উনার হাতটা গিয়ে ভাঙা কাপের উপরই পরেছে।ফলসরূপ হাত কেটে গেছে।হাত দিয়ে র/ক্ত ঝড়ছে।

সোহা তমার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে টেনে গালে কয়েক ঘা লাগিয়ে দেয়।তোদের মতো কয়েকটা মেয়ের জন্য অন্য মেয়ের সংসার ভাঙে।আরে এতো যখন পিরিতি বিয়ের আগেই মানুষটাকে নিজের করে নিতি।অন্য মেয়ের জীবন কেনো নষ্ট করলি? বলেই আরেকটা তমার গালে লাগিয়ে দেয়।হাত আলগা করে জোরে ধাক্কা মারে তমাকে।তমা ছিটকে গিয়ে সোফার পাশে পরে।সোফার কোনায় গিয়ে মাথায় বারি খায়।বারি খেয়ে মাথা ভন ভন করে চড়কির মতো ঘুরে উঠে তমার।মাথা ধরে কিছু সময় বসে থাকে নিচেই।চুলের গোড়া যেমন আলগা হয়ে গেছে। গাল গুলো যেনো আর গাল নেই।আহ কি ব্যাথা। তার উপর আবার মাথায় চোট পেয়েছে।

সোহা তমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ওমির মায়ের দিকে তাকায়। মহিলা হাতের ভিতর গেঁথে যাওয়া ভাঙা কাপ খোলার চেষ্টা করছে।

সোহা হাঁটু মোড়ে নিচে বসে।মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে আহারে খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? বলেই টুকরোটাতে হাত দিয়ে আরো চেপে ধরে। টুকরোটা আরো গেঁথে যায় হাতে।ব্যাথায় কোকিয়ে উঠে। কি হলো এই টুকুতেই এই অবস্থা? আর আমার আপুর কথাটা একটাবার ভাবুনতো। শরীর থেকে কি পরিমান র/ক্ত গেছে।মানুষ এতোটা পা’ষা’ণ কি করে হয়? আরে আমার আপুর পেটে তো এই বাড়িরই বংশধর ছিলো।নিজের নাতি-নাতনি ছিলো।তাদের কথাটা তো একবার ভাবতেন।ঐ নিষ্পাপ প্রাণটার কি দোষ ছিলো? বলেই সোহা ইমোশনাল হয়ে যায়। চোখের পানি গুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে।

সোহা নিজেকে ধাতস্থ করার জন্য চোখ বন্ধ করে নেয়।এদের সামনে নিজের দূর্বলতা দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। এরা মানুষের ইমোশন বুঝবেেনা।স্বার্থপর গুলো নিজেদেরটা শুধু বোঝে। এরা কখনো অপর পাশের মানুষটার কথা চিন্তা করে না। এদের নিজের ভালোটা সবার আগে।অন্যদের যা খুশি হয়ে যাক।

সোহার এসব ভাবনার মাঝেই তমা উঠে দাঁড়ায়। সোহা কে কিছু একটা ভাবতে দেখে,,নিজে সুযোগ পেয়ে যায়। মনে মনে শয়/তানি হাসি দিয়ে এগিয়ে আসে।

সোহার ভাবনার মাঝেই তমা সোহাকে টেনে তুলে।কিছু বোঝে উঠার আগেই ব’লে উঠে,,, তোর এতো সাহস আমাদের বাড়িতে এসে আমাদেরই তুই আ’ঘাত করিস? বলেই নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে চ’ড় দেওয়ার জন্য হাত উঠায়।সোহা হঠাৎ হওয়া হা’ম’লাটা বুঝে উঠতে পারেনি।তাই চোখ বন্ধ করে ফেলে।কিন্তু অনেক সময় হয়ে যাওয়ার পরও যখন নিজের গালে বা শরীরে আঘা’ত পায় না।তখন পিটপিট করে চোখ খুলে।

তমা সোহাকে চ’ড় মারতে গিয়ে নিজের হাতে বাঁধা পেয়ে ব্রু কোচকে ফেলে। চোখ তুলে সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হাত ধরে রাখা আ’গু’ন্ত’কের দিকে তাকায়। নিজের হাত লোকটার থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। এতই শক্ত করে ধরেছে যে মনে হচেছ হাতের ভিতরের সব হাড্ডি গুড্ডি ভেঙে যাচ্ছে। হাত ছাড়ানোর জন্য ছটফট করেও একচুল ও নাড়াতে পারে না হাতটা।

সোহা চোখ তুলে দায়ানকে দেখে মনে মনে খুশি হয়ে যায়।পরোক্ষনে দায়ানের র/ক্ত চক্ষু নিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুকনো ঢোক গিলে।

দায়ানের রা’গে মাথা ফেটে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে লাগিয়ে দিতে দুটো।পাকামো করে এই খানে আসতে গেছে।এখন সে না আসলে কি হতো।ভাজ্ঞিস দরজাটা খোলা পেয়েছে।নয়তো এতোক্ষনে তো চ’ড় খেয়ে বেহুশ হয়ে যেতো।

তমা রাগে ফুঁসছে আর বলছে,,এই কে আপনি হাত ছাড়েন আমার।এই মেয়েটাকে আজ আমি মে’রেই ফেলবো।কতো বড় সাহস আমাকে আ’ঘাত করে।

দায়ান তমার কথা শুনে তমার হাত আরো জোরে চেপে ধরে। এই বার মনে হয় হাতের হাড় গুলো সত্যি সত্যিই ভেঙে গেলো।ব্যাথায় মাগো বলে চিৎকার করে উঠে।দায়ান ছোটো খাটো একটা ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দেয়।

নেক্সট টাইম এসব ভুলেতো দূরে থাক। স্বপ্নে ও ভাববেন না মিস।

“আমার ফুলের দিকে কেউ চোখ গ’র’ম করে তাকাক সেটাই আমি সহ্য করতে পারি না। আর আপনি তাকে আঘাত করার কথা বলছেন?” ভাবুনতো তাহলে আমি কি করবো।”

শুধুমাত্র মেয়ে মানুষ দেখে বেঁচে গেলেন।আমি সহজে মেয়েদের আ’ঘাত করি না।কিন্তু দ্বিতীয় চান্স ও দেই না।আপনি প্রথম তাই ছেড়ে দিলাম।পরবর্তীতে ভুলেও এটার রিপিট করবেন না।পরিনাম ভালো হবে না।শান্ত কন্ঠে ভয়ংকর হু’মকি শুনে তমা দু-পা পিছিয়ে যায়।

এতো চিৎকার চেচামেচি শুনে ওমি নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ড্রয়িং রুমে এসে বলে,,,উফফ মা এতো চিৎকার চেচামেচি শুরু করেছো কেনো আবার? যেটা চেয়েছিলে সেটাতো হয়েছে।তাহলে শান্তিতে থাকোনা।বলেই সামনে তাকিয়ে সোহাদের দেখে ভড়কে যায়।আমতা আমতা করে বলে,,সোহা তুমি এখানে?

হ্যা আপনার সাথে অনেক হিসাব নিকাশ বাকি আছে দুলাভাইইই। সেসবই নিতে এসেছি।

ওমি প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য ব’লে,,, তোমার বোন ঠিক আছে? আমি ভাবছিলাম যাবো।কি অবস্থা বলোতো।বিয়ে হয়েছে। স্বামী একটু আধটু মারতেই পারে।স্বামীর একটু মার সহ্য করতে পারে না এই গুলা কেমন মেয়ে মানুষ?

তাই নাকি এজন্য মারতে মারতে নিজের সন্তান কেই মেরে দিলি বুঝি? তুইতো মানুষ নারে। যে নিজের সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই মেরে দেয় সে যে সে মানুষ নয়।

মুখ সামলে কথা বলো সোহা ভুলে যেওনা আমি কে।এসব কি ধরনের ব্যবহার? আর এখনতো আমার সন্দেহ হচ্ছে। ঐ বাচ্চাটা কি আদোও আমার ছিলো? যদি হতোই আমি নিশ্চই জানতাম।কার না কার পাপের ফ’ল।আমার ঘারে চাপাতে চেয়েছিলো।

তাই নাকি জা/নো/য়ার।তুই তো কু/কুরের চেয়েও নি’কৃষ্ট পশু। তুই তো দুই পা বিশিষ্ট পশু।তুই মানুষনা।বলেই সোহা ওমির কাছে গিয়ে চ’ড় মারে।তুই আমার আপুর নামে বাজে কথা বলিস। হা/রা/ম/জা/দা বিশ্বাস কর আপু দেইখা তুই এখনো সুস্থ হয়ে দাড়িয়ে আছিস।আমি থাকতাম। তর হাড়,মাংস অস্তি’ম’জ্জা চিবিয়ে চিবিয়ে খেতাম।বলেই ওমির গালে এলোপাথাড়ি চ’ড় মারতে লাগলো।ওমি কিছু করতে নিবে তার আগেই দরজার দিকে চোখ যায়।

একজন লোক কয়েকজন পুলিশ নিয়ে আসছে।ওমি তাই আর কিছু করার সাহস দেখায় না।এমনতেই ঝামেলায় পরে গেছে।

সোহা অনবরত এখনো ওমি কে লাত্থি, ঘুষি মেরে চলেছে। দায়ান এতোসময় সোহার কান্ড দেখলেও,,রুশকে পুলিশ নিয়ে আসতে দেখে। সোহাকে কোমড় পেচিয়ে উপরে উঠিয়ে দূরে নিয়ে আসে।সোহা এখনো হাত পা ছুঁড়ে বলে,,,ছাড়ুন আপনি এরে আমি আজ নিজের হাতে খু/ন করবো।কতো বড় সাহস এতো বড় অপরাধ করেও আমার আপার নামে বা’জে কথা বলে।দায়ান সোহাকে শান্ত করার জন্য সোহার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,,,শান্ত হয়ে যাও পুলিশ ওদের যথাযত শাস্তি দিবে।আর আমিতো আছি।

এতোক্ষনে ওমির নানি ও এসে দাড়িয়েছে।তবে কিছু বলছেনা।চুপচাপ দেখে চলেছে।

পুলিশ অফিসারটি এবার বলে উঠে,,, মি. ওমি আপনার নামে আপনার মা ও মামাতো বোনের নামে নারী নির্যা’ত’ন।খুন করার চেষ্টা ও একটা অনাগত সন্তানকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মায়ের অনুমতি ছাড়া মেরে ফেলার অপরাধে গ্রে’ফতার করা হলো।

কিন্ত অফিসার।

কোনো কিন্তু নেই।যা বলার থানায় গিয়ে বলবেন।ওমির মা আর তমা এদিকে ভয়ে কেঁদে দিয়েছে।

অফিসার মহিলা পুলিশকে৷ ইশারা করে,, তমা আর ওমির মাকে ধরার জন্য। আর ওমির হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়।
ওদের টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় ওমির নানি বলে দাড়ান অফিসার।অফিসার মহিলাটার দিকে তাকায়।

ওমির নানি প্রথমেই নিজের মেয়ের কাছে যায়।গিয়ে ঠাটিয়ে চ’ড় লাগায়। এই কাজটা আমার আরো আগে করা দরকার ছিলো। জানো/য়ার জন্ম দিয়েছিলাম।আর তার ঘরেও আরেকটা হয়েছে জানো/য়ারই।নিয়ে যান এদের।এদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।

ওদের নিয়ে গেলে সোহা দায়ানের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে,,আমার আপু কেমন আছে এখন? ঠিক আছে তো?

অপারেশব চলছে।চিন্তা নিওনা সব ঠিক হয়ে যাবে।আর তোমার এখানে একা আসা একদম ঠিক হয়নি।

স’রি। এদের নিজের হাতে কিছু না করলে শান্তি পাচ্ছিলাম না।

ওমির নানি এগিয়ে এসে সোহার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।অনেক বড় হ বুড়ি।যদি তোর মতো তোর বোনটাও হতো। তাহলে এতো খারাপ দিন দেখতে হতো না।তারপর উনি সোহাদের সাথেই হাসপাতালে চলে যায়।নোহাকে এক পলক দেখে তারপর নিজের বাড়ি চলে যাবে।

—————————————–

হাসপাতালে এসে দেখে সোহার বাবা আর মা চুপচাপ বসে আছে।
সোহা দৌড়ে বাবার কাছে যায়।বাবা ডাক্তার বের হয়েছে?

সোহার বাবা মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়।
সোহা বাবার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,, চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আপু ভালো হয়ে যাবে।ঐ শ/য়তান গুলো কে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে এসেছি।সোহার বাবা নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কিছু বলে না।

সবাই অপারেশন থিয়েটারের সামনে চুপচাপ পায়চারি করতে থাকে।প্রায় আরো পনেরো মিনিট পর ডাক্তার বের হয়ে আসে।ডাক্তার কে দেখে সোহার হাত পা কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেছে।

দায়ান ডাক্তারের কাছে এগিয়ে গিয়ে জানতে চায়,,ডাক্তার হাও ইজ সি?

দেখুন অপারেশন সাকসেসফুল।
সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

ডাক্তার আবার বলে উঠে,, তবে বাহাত্তর ঘন্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।এর মধ্যে পেশেন্টের জ্ঞান ফিরলে চেক আপ করে তারপর নিশ্চিত করতে পারবো।

বলেই ডাক্তার চলে যায়।

অপারেশন সাকসেস হওয়ায় সবাই কিছু টা স্বস্থি পেলেও মনে মনে টেনশনে আছে।

কেউই হাসপাতাল থেকে বের হয় নি। সবার মুখ শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গেছে। দায়ান তাই রুশকে ক্যাবিনের সামনে বসিয়ে সবাইকে নিয়ে নিচে খাওয়াতে যায়।কেউ রাজি হয়নি তারপর দায়ানের জোরাজোরি তে যেতে হয়েছে।

সবাইকে টেনশন মুক্ত করে নোহার সাত ঘন্টা পরই জ্ঞান ফিরে আসে। ডাক্তার চে’ক আপ করে বলে চিন্তার কিছু নেই।ঠিক আছে। তিনদিন পর বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে।তারপর নোহাকে সাধারণ ক্যাবিনে শিফট করা হয় আইসিইউ থেকে।

নোহা এখনো ঘুমে। ওমির নানি নোহার সামনে আর পরতে চায় না।তাই নোহাকে একটু দেখে চলে যাবে।নোহাকে এক পলক দেখেই চলে যায়। নিচে ওনার ছোট ছেলে এসেছে বাড়ি নিয়ে যেতে।আগেই ফোন করেছিলো।

———————————————–

নোহার ঘুম ভাঙলে, সবাই ক্যাবিনে ঢুকে দায়ান আর রুশ অবশ্য দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে মেয়েটা কেমন নি’র্জীব প্রান’হীন দেহের মতো পরে আছে।উপরের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের কোণটা ভিজা।

সোহা আর সোহার বাবা দুইজন দুই পাশে বসে পরে নোহার। মা মাথার কাছে দাঁড়িয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

নোহার বাবা কাঁপা কাঁপা হাতে মেয়ের হাতটা নেয়।বড় আম্মা তুই ঠিক আছিস?

হুু বাবা। ভাঙা গলায় বলে,, নোহা।

নিজের প্রিয় মানুষগুলোই আমাদের সবচাইতে বড় ক্ষতি টা করে বড় আম্মা। তাই আমাদের ভেঙে পরলে চলবে না।শক্ত হতে হবে।তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে আমরা দূর্বল নই।

“আমি কখনো তাদের প্রিয়জন ছিলাম না বাবা।
প্রয়োজন ছিলাম।”

#চলবে,,,,,,,,,,

#তুমি_হাতটা_শুধু_ধরো
#পর্বঃ৩৮
#Jhorna_Islam

” সংসারে সুখের স্থানই সবচেয়ে সং’কী’র্ণ– কোথাও তাহাকে সম্পূর্ণ নি’র্বি’ঘ্নে রাখিবার অবকাশ নাই।

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

সংসার মানুষকে যেমন সুখের সাগরে ভাষাতে পারে।তেমনি শে’ষ ও করে দিতে পারে।সবার ভাগ্যে সংসার জিনিসটা থাকেনা। কেউ সব কিছু পেয়েও হেলায় হারায়।সঠিক মানুষটার গুরুত্ব থাকতে বোঝে না।

সোহা বোনের হাত পা গুলো ধরে ধরে দেখছে।আঘাতের চিহ্নে ভর পুর। চোখ থেকে আপনা আপনিই পানি ঝরছে।কতোটা কষ্ট পেয়েছে তার বোনটা।

বোনের হাতে চুমু খেতে খেতে শব্দ করে কেঁদে উঠে সোহা।
নোহা সোহার দিকে তাকিয়ে বলে,, কাদতেছিস কেনো বোন? কি হয়েছে আমার সোনা বোনটার? আমি ঠিক আছিতো বাবু দেখ।কিছু হয়নি আমার।

আপুরে আমি খুব ভ’য় পেয়ে গিয়েছিলাম।তোর যদি কিছু হয়ে যেতো?

কিছু হয়নিতো।

তোর অনেক কষ্ট হয়েছে তাই না আপু? এখনও হচ্ছে আমি জানি। তোকে ওরা একটুও শান্তি দেয়নি। তুই একটু ও ভালো ছিলিনা ওখানে।আমি এখন বুঝতে পারছি।আমি ওদের কাউকে ছাড়বোনা দেখিস।শ’য়/তান গুলো যেনো জেলে পঁচে ম’রে তার ব্যবস্থা করাবো।বলেই নোহার হাত ধরেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। নোহা অনেক বলেও থামাতে পারে না।

কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে সোহার বোনের এ অবস্থা দেখে। কিছুতেই কান্না নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।সোহার বাবা মা ও বলে থামাতে পারছে না।

কাঁদতে কাঁদতেই বলে,,তর বাবুটার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না আপু?

নোহা সোহার মাথায় ক্যা’নু’লা লাগানো হাতটা আস্তে করে রেখে বলে,, নারে বোন একটুও কষ্ট হচ্ছে না। ভালোই হয়েছে সে এই পৃথিবীতে আসেনি।ওমির কোনো যোগ্যতাও ছিলোনা ওর বাবা হওয়ার।পৃথিবীতে আসলে আরো কষ্ট পেতো।যে ওর বাপ একটা কা/পুরুষ । আমি যতোই ওকে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতাম না কেন, ঐ লোকের র’ক্ত তো ওর শরীরে থাকতো।প্রথমে একটু খারাপ লাগলেও এখন এটা ভেবেই শান্তি পাচ্ছি।

নোহার মা নোহার কপালে চুমু খেয়ে বলে আম্মা এসব বলে না।আমিতো মা আমি তোমার কষ্ট টা ঠিক বুঝতে পারছি।নিজের সন্তান হারানোর কষ্ট টা একটা মা ই উপলব্ধি করতে পারে। তোমার যে ভিতর টা কষ্টে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি।

নোহা চোখ বন্ধ করে ফেলে।দু চোখের কোণ বেয়ে অবিরাম ধারায় অশ্রু বেরিয়েই যাচ্ছে। কিছু সময় পর নোহা নিজেকে স্বাভাবিক করে চোখ খোলে।সোহা বোনের দিকেই তাকিয়ে আছে।

আপু তুই এতো অ’ত্যা’চার কেনো সহ্য করলি? কেনো আমায় কিছু জানালি না আপু? কেন ঐখানে মুখ বুঁজে পরেছিলি।বলেই আবার কেঁদে উঠে।

দায়ান এতোসময় চুপ করে থাকলেও,এখন সোহার কান্না আর তার সহ্য হচ্ছে না। এমন করে কাদলেতো মেয়েটার শ্বাস আবার বেরে যাবে।তাই নিজেকে আর আটকাতে পারে নি।সোহার পাশে এসে ঘাড়ে হাত রাখে।সোহা ঘাড় ঘুরিয়ে দায়ানের দিকে তাকায়। দায়ান চোখের পানি সযত্নে মুছে দিয়ে বলে,,আর কাদেনা। তোমার আপু সুস্থ হয়ে যাবে।আর তোমার আপুর অপরাধীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আমি করবো। জে’ল থেকেই যেনো মুক্তি না পায় সেটা আমি দেখবো। তুমি শান্ত হও।তোমার জন্য তোমার আপুও কাঁদে। তাহলে তুমিও অসুস্থ হয়ে পরবা তোমার আপুও।এটা কি তুমি চাও?

সোহা মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়।সে চায়না তার আপু আর কোনো কষ্ট পাক।

দায়ান এবার নোহার দিকে তাকায়,, এখন কেমন আছেন? কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?

নোহা মাথা নাড়িয়ে জানায় সে ঠিক আছে। তারপর দায়ানের দিকে তাকিয়ে রয়। সে এখনো পর্যন্ত দায়ানকে সামনা-সামনি বা ছবিতেও দেখেনি।মনে মনে ভাবছে, এইটাই হয়তো বোনের বর।

সোহা বোনের দিকে তাকিয়ে হয়তো বুঝতে পারছে।তাই নিজেই বলে,,,আপু উনি হচ্ছে,,,, পরের টুকু বলতে যাবে তার আগেই নোহা বলে,,,তর বলতে হবে না বোন। আমি বুঝতে পারছি উনি আমার পা’গল বোনের হাসবেন্ড। আর তাছাড়া পরিচয় দিতে গিয়ে যেভাবে ব্লা’সিং হচ্ছিলি যে কেউই বুঝতে পারবে।বলেই মুচকি হাসে নোহা। তারপর দায়ানকে বলে কেমন আছেন আপনি ভাই?

দায়ান বলে,,আমরা সকলে ভালো আছি।এবার আপনি তারাতাড়ি ভালো হয়ে যানতো।তাহলে আরো ভালো হয়ে যাবো।

আমাকে আপনি বলতে হবে না।সম্পর্কে বড় হলেও,বয়সে ছোটোই হবো।তাই তুমি ই বইলেন।আপনি টা যেনো শুনতে কেমন লাগে।তাছাড়া আপনিতো আমার ভাইয়ের মতোই।

আচ্ছা ঠিক আছে।

আরেকবার দায়ান আর বোনের দিকে তাকায় নোহা। তার বোনের জন্য দায়ানের চোখে অপার ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছে নোহা।বোন তার খাঁটি হিরা পেয়েছে।তার বোন ভালো আছে।যে তার বোনের চোখের পানি দেখে এতো উৎক’ন্ঠা হয়ে পরেছে,সে যে তাকে সারা জীবন বুকে আগলে রাখবে নোহা বুঝে গেছে।

নোহা উপরের দিকে চোখ রেখে বলে,,,

বাবা তুমি এতোদিন বলতেনা এ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে? আমি শুনিনি এড়িয়ে গেছি।আজ আমি তোমাকে বলছি,,আমি এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি চাই।অনেক হয়েছে। আমি আরো আগেই ভেবে রেখেছিলাম।কিন্তু বাচ্চাটা আসায় চুপ ছিলাম।একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম ওদের।যেটার জন্য সুযোগ দিয়ে ছিলাম সেইটাই যখন নেই তাহলে,এই সম্পর্কের কোনো মানেই হয় না। ওদের মতো মানুষের সঙ্গে আর থাকতে পারবোনা।

অনেক কষ্ট সহ্য করেছি।ব’ন্দি জীবন থেকে এবার মুক্তি চাই। খোলা আকাশে পাখির মতো উড়তে চাই।পায়ে কোনো শি’কল চাই না।এবার নিজের জন্য বাঁচবো। মাথা উঁচু করে বাঁচবো।

যাদের কাছে আমার কোনো মূল্য নাই।তাদের কাছে আর না।

ডি’ভো’র্সের ব্যাবস্থা করো বাবা যতো দ্রুত সম্ভব। কথাটা বলার সময় নোহার গলায় কি যেনো একটা জোর ছিলো।সবাই অবাক হয়ে নোহার দিকে তাকিয়ে আছে। এটা বলতে যেমন নোহার একটুও কষ্ট হয় নি।সে একদম স্বভাবিক। ওদের জন্য ভিতরে মায়ার ছিটে ফোটাও নেই।

আসলেই নেই।ওদের প্রতি নোহার মায়া আগেই কেটে গেছে। এতোটাও দূর্বল নোহা নয় যে এতো কিছুর পরও ওদের ক্ষমা করে দিবে।ওদের কাছে আবার ফিরে যাবে।বা সবকিছু শে’ষ হয়ে গেছে বলে,,কেঁদে কেটে বুক ভাসাবে। এতোদিন পারেনি বোনটার জন্য। বোনটা মানুষের কথার আঘা’ত সহ্য করতে পারতো না।তারপর বাচ্চাটার কথা ভেবে সব ঠিক করতে চেয়েছিলো।এখন যখন বোন সুখে আছে।বাচ্চাটা ও আর নেই।তাহলে আর প্রশ্নই ওঠেনা।ফিরে যাওয়ার বা ওদের ক্ষমা করার। এখন নোহার কোনো পিছুটান নেই।

নোহার বাবা বলে,,,আমাকে তুই মা’ফ করেদিস মা।সব কিছু আমার জন্য হয়েছে।সব দোষ আমার।আমিই তোকে তর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়েছিলাম।তর মতামতের কোনো দা’ম দেইনি।

এসব বলো না বাবা তোমার কোনো দোষ নেই এতে।তুমিতো আমার ভালোই চেয়েছ।আর মানুষের মনের ভিতর তো আর যাওয়া যায় না।এটা আমার ভাগ্য ছিলো।তুমি নিজেকে দোষী ভেবো না।যতদ্রুত সম্ভব ডি’ভো’র্স এর ব্যবস্থা করো।এই বিয়ে থেকে মুক্তি পেলে আমি প্রান ভরে শ্বাস নিতে পারবো।

ঠিক আছে মা।তুই যা চাস তাই হবে।কিন্তু এতো তারাতাড়ি তো সম্ভব না।অনেক ঝামেলার বিষয় টাইম লাগবে তো।

দায়ান বলে,,আংকেল আপনি চিন্তা করবেন না।আমি এই বিষয় টা দেখছি।খুব তারাতাড়ি ই হয়ে যাবে।

সবকিছুর মাঝে রুশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।কিইবা বলবে ও। তাই চুপচাপ দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো ।

এতো কথার মাঝে সোহা রুশের কথা ভুলেই গিয়েছিল। আহারে তার ভাইটা দরজার পাশে কিভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

— রুশ ভাইয়া এদিকে এসো।

রুশ সোহার কথায় চমকে উঠে। এতো ঝামেলার মাঝে সোহার বাবা মা ও রুশ কে জানতে ভুলে গেছে। এখন সবার দৃষ্টিই রুশের দিকে।

— না বোন।আমি ওখানে গিয়ে কি করবো? তরা কথা বল।আমি এখানেই ঠিক আছি।

সোহা এবার উঠে গিয়ে রুশের হাত ধরে ভিতরে নিয়ে আসতে আসতে বলে,,আরে আসো তো।আমার একটামাত্র ভাই তুমি সকলের সাথে পরিচিত হবা না?

সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,,সবাই শোন এইটা আমার একমাত্র ভাই।আমার ভাইয়ের সাথে সবাই পরিচিত হও।সবাই সোহার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে।

সোহা এবার হেসে বলে চিনতে পারলে না তো? আরো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি আমি।উনার নাম রুশ। তোমাদের জামাইয়ের একমাত্র বন্ধু। আর আমার একমাত্র ভাই।এবার সবাই বুঝতে পারলো। সোহার বাবা মা রুশের সাথে পরিচিত হয়। রুশ সবার ব্যবহারে অনেক খুশি হয়।এরা সবাই কতো সহজে আপন করে নেয়।

এর মধ্যে নোহা রুশের দিকে একবার তাকায় রুশ ও ঐ সময় নোহার দিকে তাকায়। দুজনেরই চোখাচোখি হয়ে যায়। তারপর নোহা চোখ ঘুরিয়ে নেয়।হাই তুলতে থাকে তার প্রচুর ঘুম পেয়েছে।ডাক্তার ঘুমের ঔষধ ও দিয়েছে। চোখ বুঁজে ঘুমিয়েও যায় নোহা।

সবাই নোহার দিকে তাকিয়ে দেখে ঘুমিয়ে গেছে।তাই ক্যাবিনে কথা না বাড়িয়ে সবাই বেরিয়ে আসে।এখন নোহার প্রচুর ঘুমের দরকার।

———————————————

রাতে নোহার সাথে কে থাকবে তা নিয়ে ছোটো খাটো একটা কান্ড ঘটেগেছে।

সোহা বলছে সোহা থাকবে।সোহা থাকলে দায়ান ও থাকবে।দায়ান সোহাকে একা ছাড়বে না।

সোহার বাবা মা বলতেছে ওনারা থাকবে।সোহাকে থাকতে হবে না।জামাই সেই সকালে আসছে।ওদের বাড়ি গিয়ে রেস্ট নেওয়া উচিত। তাছাড়া রুশ তো আছেই।ছেলেটা ওদের রেখে একা বাড়িতে গেলেও আনইজি ফিল করবে।

সব কিছু ভাবনা চিন্তা করে ঠিক করেছে,সোহার বাবা মাই নোহার সাথে থাকবে।ওরা বাড়ি চলে যাবে।অবশ্য রাতে ওরা ক্যানটিন থেকেই খাবার খেয়ে নিয়েছে। তাই খাওয়া দাওয়া নিয়ে চিন্তা নেই।এজন্য সোহার মা আর যায়নি।কাল সকালে ওরা যাবে তখন যেনো সোহা এসে থাকে।

সোহা সবকিছু ভেবে নিজেও রাজি হয়ে যায়।

তারপর তিনজন সোহার বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে।

———————————————-
বাড়িতে এসে সোহা রুশকে নোহার রুমটাতেই থাকতে দেয়।বাবা মার রুমেতো আর থাকতে দেওয়া যায় না।
রুশ ও ফ্রেশ হয়ে রুমে ঢুকে যায় । রুমে ঢুকে চার পাশটা ভালো করে ঘুরে ঘুরে দেখছে।রুমের ভিতর যদিও তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই।তাও সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো। চার দেয়ালে নানা রকম জিনিসপত্র টাঙানো।দেখেই বোঝা যায় সব হাতে বানানো।

রুমটা রুশের খুবই পছন্দ হয়েছে। পাশে একটা বুক সেলফ আছে।তাতে কয়েক প্রকার বই রাখা।রুশ বই গুলোতে গিয়ে হাত ছুইয়ে দেয়।

তারপর রুমটাতে আরেকটু চোখ বুলিয়ে খাটে গিয়ে শুয়ে পরে।প্রচুর ঘুম পেয়েছে।

———————————————-

সোহা পানি নিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করে। রুমের লাইট নিভানো কেনো? আপনিকি ঘুমিয়ে পরেছেন?
কোনো সারা শব্দ না পেয়ে সোহা একটু ভ’য় পেয়ে যায়। আবার দায়ানকে ডাক দেয় কই আপনি? দেখেন সারা দেন বলছি।আমার কিন্ত ভ’য় করছে।

তখনই পিছন থেকে একটা হাত কোমড় আঁকড়ে ধরে। আরেক হাত দিয়ে সোহার ঘার থেকে চুল গুলো সরিয়ে মুখ ডুবায়।ছোটো ছোটো চুমু খেতে থাকে সোহার ঘাড়ে দায়ান।

সোহা চোখ বন্ধ হয় কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,, কি শুরু করেছেন? ঘুমাবেন না। চলুন অনেক ঘুম পেয়েছে আমার।

এখনতো ঘুমাতে পারবানা জা’ন। তোমার শাস্তি আছেতো।

শা- শাস্তি কিসের শাস্তি?

ভুলে গেলে? কোনো ব্যাপার না।আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি। এক সকালে আমার কথা শুনোনি।মরে যাওয়ার কথা বলেছো।আর দুই আমাকে কিছু না বলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে একা একা ঐ বা/জে লোকদের বাড়িতে গিয়েছো।

আমার ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না।এবারের মতো ছেড়ে দেন।বলেই ঠোঁট উল্টায় সোহা।

দায়ান সোহাকে কিছু না বলতে দিয়ে কোলে তুলে নেয়।
বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দেয়।

আর করবোনা বলছিতো।শাস্তি দিয়েন না প্লিজ।

হুসসসস শাস্তি তো তুমি পাবা।তবে ভালোবাসাময় শাস্তি। আর একটা কথাও না।

#চলবে,,,,,,,