তোমার আসক্তিতে আসক্ত পর্ব-০১

0
1122

#তোমার_আসক্তিতে_আসক্ত
#সুবহী_ইসলাম_প্রভা
#সূচনা_পর্ব

বরবেশে প্রতীককে দেখে আমি থমকে দাঁড়ালাম।মুহুর্তেই মনে হলো আমার মাথায় যেনো বিনা মেঘে বজ্রপাত হচ্ছে,চোখের সামনে সব আঁধার নেমে এসেছে।এই কি সেই প্রতীক যার সাথে আমার ৩ বছরের সম্পর্ক ছিলো?এই কি সেই প্রতীক যে কি না ৬ মাস আগেও আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?এই কি সেই প্রতীক যে বলেছিলো দুনিয়ায় সবাইকে হার মানিয়ে আমি তোমাকে অর্জন করবো?হে সে তো অর্জন করেছে তবে আরেক রাজকন্যাকে আর আমি দাঁড়িয়ে আছি পরাজিত সৈনিক হয়ে।

এদিকে প্রতীকের চোখে-মুখেও বিস্ময়, কোনো এক অজানা কারণে তার মুখ আজ ভীত।জোহা প্রতীককে পাশে দাঁড়িয়ে নিজের বাম হাত দিয়ে প্রতীকের হাত ধরে প্রতীকের দিকে তাকিয়ে বলে,

“এই যে তোর দুলাভাই আর আমার উডবি হাজবেন্ট,প্রতীক মির্জা।”

বলেই জোহা মিষ্টি একটা হাসি উপহার দেয়।এদিকে প্রতীক আর জোহাকে একসাথে দেখে আর্শিকা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে,চোখের নোনাজলগুলো বাঁধ না ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে কিন্তু না আর্শিকা কাঁদবে না তাহলে তো সে হেরে গেলো।ইতিমধ্যেই জোহাকে কেউ ডাক দেয়।

✨✨

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। এই বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে একজোড়া চোখ দিয়ে যেনো অবিরতভাবে শ্রাবণ ধারা বইছে। কি ভেবে যেনো সেই মানবীর মুখে এক চিলতি হাসি দেখে গেলো,দেখে ঠিক বুঝা গেলো না এ’কি সুখের হাসি নাকি তাচ্ছিল্যের হাসি? মুখে হালকা সাজ,গায়ে মিষ্টি গোলাপির উপর সোনালী কাজ করা লেহেঙ্গা।অবশ্য কাঁদতে কাঁদতে মুখের অধিকাংশ মেকাপই উঠে গেছে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে দু’চোখের পানি মুছে নিলো।বাম হাত ঘড়িটার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেই দেখলো ৯ঃ৩৫ মিনিট। এখনো গুনে গুনে ঠিক ২৫ মিনিট পর বাস আসবে। হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আবারও কি মনে করে সেই মানবী আঁখি অশ্রুতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। রাগে ক্ষোভে হাত ঘড়িটা খুলে দূরে ছুড়ে ফেলে দিলো।আর্শিকার ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে।কেনো দিনশেষে ভাগ্য তাকে এতোটা অসহায় করে দিয়ে চলে যায়?কেনো ভাগ্য তার একটু সহায় হয় না?কেনো সবসময় ভাগ্য তাকে এভাবে নিঃস্ব করে দেয়?

এসব ভাবতে ভাবতেই আর্শিকার মুঠোফোনে একটা কল এলো।আর্শিকা একবার মুঠোফোনের নাম্বারটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে মুঠোফোনটা বন্ধ করে দেয়।এখন যদি সে ফোনটা ধরে তাহলে হয়ত তাকে হাজারটার প্রশ্নে সম্মুখীন হতে হবে।হয়তো বাহ এই বৃষ্টির রাতে বিয়ের কন্যা তার বিয়ের আসর ছেড়ে তাকে নিতে আসবে?ইতিমধ্যেই বৃষ্টির প্রকোপ বাড়তে লাগল।বৃষ্টির সাথে সাথে উদ্দম হাওয়া বইছে যার ফলে বৃষ্টির পানির আঁচ কিছুটা আর্শিকার গায়েও এসে লাগছে।অবশ্য এতোখানি রাস্তা আসতে আসতে আর্শিকা প্রায় ভিজেই গিয়েছে।

কিচ্ছুক্ষণের মধ্যেই বাস চলে আসে।বাস আসার কথা ১০ টায় থাকলে তা এসেছে ১০ঃ১০ এ, এতে অবশ্য আর্শিকার ভ্রুক্ষেপ নেই।আর্শিকা নিজের ব্যাগ নিয়ে বাসে উঠে নিজের ব্যাগ স্বস্থানে রেখে জানলার পাশের সিটটায় বসে পড়ে। আজ এই বৃষ্টির মতো তার মনেও যে উথাল-পাতাল ঝড় বইছে। আর্শিকা বাহিরে তাকিয়ে কিচ্ছুক্ষণ আগের ঘটনায় গভীর মনোনিবেশ করলো।

~~~~~সন্ধ্যা~~~~~

Meri Zindagi Sawari

Mujhko Gale Laga Ke
Betha Diya Falak Pe
Mujhe Khaak Se Uthake

Meri Zindagi Sawari
Mujhko Gale Laga Ke
Betha Diya Falak Pe
Mujhe Khaak Se Uthake

Yaara Teri Yaari Ko…

Mene toh khuda mana
Yaad karegi duniya
Tera Mera afsana..
Tere jesa Yaar Kahan

Kahan Esa Yaaraana..

নাঁচতে নাঁচতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আর্শিকা প্রবেশ করে।মূল লক্ষ্যই জোহাকে চমকে দেওয়া, আর সেটাই হলো।জোহ আর্শিকা দেখে খুশিতে আপ্লুত হয়ে যায়। জোহা এতো বেশিই খুশি হয়েছিলো যে আর্শিকা দেখে নিজের শশুড়বাড়ির লোকদের ছেড়ে ছুটে এসে আর্শিকা ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়।

“এই পাগলী এভাবে কাঁদছিস কেনো?সব সাজ যদি নষ্ট হয়ে যায় আর যদি তোর আসল রুপ বেরিয়ে আসে দুলাভাই কিন্তু আর তোকে বিয়ে করবে না।তখন আমার এখানে আসাটাই তো বৃথা? পরে যদি দুলাভাই তোকে রেখে আমাকে বিয়ে করে তখন কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবি না।”

বলেই আর্শিকা হাসিতে ফেটে পড়লো।আর্শিকার হাসি দেখে জোহা একটু রাগান্বিত হয়েই বললো আর্শিকাকে কয়েকটা কিল ঘুষি দিয়ে নাক টানতে টানতে বললো,

“তু..তুই আসবি আমাকে আগে কেনো….বলিস নিইইই?জানিস না আমি হার্টের….রুগি, তুই এভাবে আমাকে সারপ্রাইজ দিলি।”

বলেই আবার হু হু করে কেঁদে দিলো।আর্শিকা পড়েছে মহা বিপদে। এই জন্য আর্শিকা আসতে চাচ্ছিলো না।দীর্ঘ ছয় বছর পর জোহার সাথে আর্শিকার দেখা। স্কুল লাইফের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলো জোহা যার দরুন জোহা একটু আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছে। আর্শিকা জোহার কান্না থামাতে মিছে রাগ দেখি বলে,

” তবে আমি গেলুম তুই কান্নাই করতে থাক।আমার আসা টাই ভুল হয়েছে।”

আর্শিকা যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই তার পিঠে পড়ে আরেকটা কিল। আর্শিকা হালকা আহ্ করে শব্দ করে উঠে।জোহা পুনরায় নাক টানতে টানতে বলে,

“একেই তো দেরি করে এসেছিস তার উপর মিছে রাগ দেখানো হচ্ছে।এক পা’ও যদি নড়েছিস তো আমি ভুলে যাবো আমি বিয়ের কনে।”

“এহহহ?”

“হেএএএ”

বলেই দুজনে পুনরায় হাসিতে মত্ত হয়ে উঠে কিন্তু কে জানতে আর্শিকার মুখের এই হাসি ক্ষণস্থায়ী।আর্শিকা জোহাকে চিমটি কেটে বলে,

“কি রে দুলাভাই কই?নাকি শা/লীরা দুলাভাইকে নিয়ে যাবে বলে সামনে আসছে না?”

“ওহহহ দুলাভাইকে দেখতে বুঝি এতোদূর আসা?”

“তা আর বলতে?দুলাভাইকে দেখার জন্য সেই ভোরর বের হয়ে এখানে মেকাপ করে পুরো কুইন হয়ে এসেছি।দেখি ইম্প্রেস করে হাতিয়ে নেওয়া যায় নাকি?”

বলেই হাসতে লাগলো, জোহাও আর্শিকার সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে লাগলো।জোহা জানে আর্শিকা মজা করে এসব বলছে তাই আর সিরিয়াসলি নেয় নি। জোহা ইশারায় তার হাজবেন্টকে ডাক দেয়।প্রতীককে দেখে আর্শিকার অবস্থা বেহাল হয়। ইতিমধ্যে জোহাকে ডাক দিকে জোহা সেখানে চলে যায়। অবস্থানরত থাকে দুই ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকা।নিরবতা ভেঙে প্রতীক আর্শিকাকে বলে,

“কেমন আছো আর্শিকা?”

“খুব কি ভালো থাকার কথা ছিলো প্রতীক মির্জা?”

আর্শিকা নিচের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলল।বড্ড রাগ লাগছে তার কিন্তু ঠিক কার উপর রাগ উঠছে তা বুঝতে ব্যর্থ আর্শিকা।কান্না থামাতে নিচের দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলো।হটাৎ করেই প্রতীক আর্শিকার হাত ধরে বলে,

“আমার কাছে কোনো উপায় ছিলো না আর্শি,বিশ্বাস কর বাবা আমাকে ম/রার হুমকি দিয়েছে,আমাকে তেজ্য পুত্র পর্যন্ত করতে চেয়েছে। এই বিয়ে না করলে আমাকে….”

“আপনাকে কি প্রতীক মির্জা?আপনাকে তেজ্য করতো?আপনার বাবা মা/রা যেতো?আচ্ছা এই বিয়ে না করলে আপনার বাবা মা/রা যেতো আর এই বিয়ে করে যে আপনি আমাকে মে/রে ফেললেন তাতে কি কোনো দায়ভার নেই?নাকি এই মৃ/ত্যু চোখে দেখা যায় না বলে আপনি সাধু।”

প্রতীক আর্শিকার হাতটা আরেকটু চেঁপে ধরে বলে,”আমাকে একটা সুযোগ দেও আর্শি।আমি আবার….”

আর্শিকা এক ঝামটায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,”আপনি আমার দুলাভাই।তো দুলাভাইয়ের মতো আচরণ করলেই খুশি হবো।আর আমি কোন বিশ্বাসঘাতক নই যে অন্যের ঘর ভেঙে নিজের ঘর গড়বো।”

জোহা তার শশুড়-শাশুড়ী নিয়ে আর্শিকার সামনে আসে।প্রতীকের মা-বাবা আর্শিকাকে চিনে। আর্শিকাকে দেখে প্রতীকের মা’র ভীষণ ভয় হতে শুরু করলো।যদি আর্শিকা সবার সামনে বেফাসঁ কথা বলে দেয়। প্রতীকের মায়ের অবস্থা বুঝতে পেরে আর্শিকা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দেয়।

✨✨

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই আর্শিকা বাহিরেই দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিলো।এখন আর আগের মতো বৃষ্টি পড়ছে না, বৃষ্টির বেগ অনেকটাই কমে এসেছে কিন্তু আর্শিকার মনের উথাল-পাতালের বেগ একটুও কমে নি।আর্শিকা যখন গভীর চিন্তায় মগ্ন তখনই কেউ একজন আর্শিকার পাশে দাঁড়িয়ে বলে,

#চলবে

আসসালামু আলাইকুম। ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন আর গল্প কেমন লাগলো জানাবেন।