#তোর_নেশায়_মত্ত
#লেখনীতে- আবরার আহমেদ শুভ্র
||অন্তিম পর্ব||
_____________
-ভালোবাসি আপনাকে! হা, নিজের চেয়েও বেশি। তাই তো আপনার এই বুকে সুখের নীড় খুঁজে পায় আমি! যেন হাজারটা অনুভূতিতে ঘেরা এই প্রশস্ত বুকখানি!… আদ্রের বুকে মাথাগুজে কথাটা বলল মিহিয়া।
-তাই তো আমি #তোর_নেশায়_মত্ত শ্যামাপাখি! এই প্রশস্ত বুকের একমাত্র অধিকারিণী তো তুমিই! আমিও যে কেবল তোমার উপস্হিতিতে স্বস্থির নিশ্বাস নিই। কারণ, তুমিহীনা দমবন্ধ লাগে আমার। ভালোবাসি যে তোমায়!..বলে আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিলো মিহিয়াকে।
-জীবনের প্রতিটা মুহুর্তেই যেন আপনাকে কাছে পাই আদ্র সেই দোয়ায় করি সৃষ্টিকর্তার নিকট।
-অবশ্যই পাবে মিস মিহু উফস, মিসেস মিহিয়া সার্ফারাজ!
-মিসেস হলাম কবে? এখনও তো বিয়েই হয়নি তাহলে মিসেস বললেন কেন?… আদ্রের দিকে সরু দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল মিহিয়া। সাথে কোমরে দুহাত দিয়েও!
-তোমাকে না এখন সেই ছোট্টবেলার মিহুর মতোই লাগছে! সেই স্টাইল যেমন করে তুমি আমার দিকে ছোট্টবেলায় তাকাতে। তখন পেত্নীর মতোন লাগলেও এখন কিন্তু হেব্বি লাগছে গো মিষ্টি বউ।… বলে চোখটিপ মারলো আদ্র।
আদ্রের এমন কান্ডে তো সেইরকম একটা লজ্জা পেলো মিহি। বেচারি লজ্জায় একদমই মাথানিচু করে নিলো। বউ ডাকটা শোনে তার শরীরে আলদা একটা শিহরণ বয়ে গেলো। যেটা প্রত্যেকটা মেয়েরই হয়! কেননা তার প্রিয় মানুষের মুখ থেকে এমন ভালোবাসাময় শব্দ আলাদা অনুভূতি প্রকাশ করে যেটা কার না শোনতে ভালোলাগে? মিহিয়ার ক্ষেত্রেও সেই অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সেও চাই তার প্রিয় মানুষটা তাকে এমন করে সারাটা জীবন ধরে ভালোবাসুক। আদ্রের ছোঁয়ায় ধ্যান ভাঙলো তার,
-লজ্জা পেলে গো বউ? থাক লজ্জা পেও না। আজ আমি তোমার পছন্দের সেই গানটি গাইবো। শোনবা?
-কোনটা?
-গাইলেই শোনতে পাবে।
-হুম…. বলে মুখ ফুলিয়ে বসে রইল।
-ইশশ, মুখ ফুলিয়ে বসে থাকিয়ো না গো বউ।… মিহিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে গেলো। টুপ করে তাকে নিজের কোলে বসিয়ে দিলো। অতঃপর গীটারে সুর তুলল,
🌼
ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে..
আমার মনের ঘরে চাঁন্দের আলো চুইয়া চুইয়া পড়ে..
পুষে রাখবো রাখবো রে বন্ধু তোমায় যতনে..
ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে..
দুধে আলতা গায়ের বরণ রূপ যে কাঁঞ্চা সোনা..
আঁচল দিয়া ঢাইকা রাইখো চোখ যেন পড়ে না..
দুধে আলতা গায়ের বরণ রূপ যে কাঁঞ্চা সোনা..
আঁচল দিয়া ঢাইকা রাইখো চোখ যেন পড়ে না..
আমি প্রথম দেখে পাগল হইলাম;
মন তো আর মানে না.
কাছে আইসো আইসো রে বন্ধু প্রেমের কারণে;
ভালোবাইসো বাইসোরে বন্ধু আমায় যতনে.
নিশি ভোরে জোনাক নাচে মনেরও গহীন বনে;
স্বপ্ন দেখাও বন্ধু তুমি নিগূঢ় আলিঙ্গনে.
নিশি ভোরে জোনাক নাচে মনেরও গহীন বনে;
স্বপ্ন দেখাও বন্ধু তুমি নিগূঢ় আলিঙ্গনে.
তোমায় মায়া দিলাম সোহাগ দিলাম
নিলাম আপন করে,
পাশে থাকব থাকব রে বন্ধু তোমার কারণে..
ভালোবাসবো বাসবোরে বন্ধু তোমায় যতনে..
ভালোবাসবো বাসবোরে বন্ধু তোমায় যতনে..
ভালোবাসবো বাসবোরে বন্ধু তোমায় যতনে..
ভালোবাসবো বাসবোরে বন্ধু তোমায় যতনে..
🌼
মিহিয়া অবাক হলো, মানুষটা তাকে এতো ভালোবাসে সেটা সে বুঝতেই পারে নি। তার প্রিয় গানটার কথাও সে মনে রেখে দিয়েছে। আদ্রের প্রতি তার ভালোবাসা দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেলো সাথে শ্রদ্ধাও। আদ্রকে না দেখলে সে বুঝতই না যে, মানুষের ভালোবাসাও এতো গভীর হয়!
-এমন করে কি দেখো মিহি?
-আপনাকে! আচ্ছা আপনহ আমায় এত্তো ভালোবাসেন কেন?
-আমি ভাসি না তো। আমাড এই ছোট্ট মনটাই তোমায় ছাড়া যে ব্যাকুল! কিচ্ছু বুঝতেই চাই এই তুমিকে ছাড়া! সবটা সময় তোমার নেশায় মত্ত হতে চাই যে!
-ভালোবাসি!
-মুখে বলতে নেই গো মিহিপাখি, হৃদয়ে অনুভব করাতে হয়। আমিও ভালোবাসি। দেখো সেটা এখান থেকে আসছে। এই ছোট্ট হৃদগৃহ থেকে।…. বুকের বাঁপাশ দেখিয়ে বলল আদ্র।
-হি হি। আচ্ছা রাত অনেক হলো। রুশা আর দুষ্টুপাখি আমার অপেক্ষায় থাকবে্ আসি আমি।
-আচ্ছা যাও, তবে একটা কাজ আছে ওয়েট বলে,
মিহিয়াকে দাড় করিয়ে আদ্র মিহিয়ার কপালে ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে দিলো। সাথে সাথে মিহিয়া কেঁপে উঠল। আকঁড়ে ধরলো আদ্রের পাণ্জ্ঞাবী। আদ্র মিহিকে তার থেকে আলাদা করলো। তারপরে বলল,
-যাও ঘুমিয়ে পড়ো। আগামী দুদিন পর কিন্তু আমাদের বিয়ে। সো এখন ভালো করে ঘুমাও নাহলে ঘুমানো সুযোগ পাবে না।… বলে আদ্র টেডি স্মাইল দিয়ে মিহিয়ার মুখের সামনে দড়জা লাগিয়ে দিলো।
এদিকে মিহিয়া আদ্রের কান্ডে অবাক না হয়ে পারলো না। এটা কি বলল আদ্র! বিয়ের পরে ঘুমাতে পারবো না মানে? তার উপর দড়জাও বন্ধ করে দিলো যেনো ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। সেটা ভেবেই আদ্রকে যা ইচ্ছে গালী দিতে দিতে তার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো সে।
________________
-কিরে আপুনি কাকে গালি দিতে দিতে আসছিস হুম?..রুমে ঢুকতেই জিজ্ঞেস করে বসল রুশা।
-কারে আর ওই সাদা বিলাইটাকে! সাদা বিলাই কুথাক্কার!
-ওয়াট দ্যা সাদা বিলাই মিষ্টিপু?..কোমরে দুহাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলো নিতু।
-তোদের আদ্র ভাইয়া!.. রুমে ঢুকতে ঢুকতে জবাব দিলো মিহি।
-কি কইলো ভাইয়া যে এত্তোগুলা গালি শোনাই দিলা বেচারাকে? মিহির বা কাঁধচাপা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো রুশা।
-আর বলিস না, আমাকে নাকি বিয়ের পরের রাত থে… না কিছু না সর আমি ঘুমাবো।
এবার রুশা আর নিতু দুজন দুজনের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করছে। মিহিয়া কি বলতে চেয়েছিল তাদের কিন্তু মাঝপথেই থেমে গেলো? কুচ তো গাড়বাড় হ্যায়!
তারাও আর কি করবে শোয়ে পড়ল একসাথে। মিহিয়াকে মাঝখানে দিয়ে দুজন দুপাশে। কোলবালিশের মতোন জড়িয়ে ধরলো তাকে। সেই গতমাস থেকেই এমন করে থাকছে তারা। অবশ্য তারা সকলে এই বাড়ীতেই থাকে। মানে সকলকে শাহানা ইয়াসমিন ‘সালসাবিল মন্জিল’ এ থাকতে বাধ্য করেছে। সেদিনই যখন মিহিয়া একদম সুস্থ হলো তার পরেরদিনই হায়দার জামান সব সত্যিই প্রকাশ করলেন। যে কেন সে তার সাথে স্বার্থপরতা করেছিলো,
ফ্লাসব্যাক—
-আপু প্লীজ আমার কথা শোন। আমি জানি তুই এখনও আমাকে অবিশ্বাস করছিস। সেটাই আমাকে যে জ্যান্ত লাশে পরিণত করেছে রে! আমি সত্যিই নিরুপায় ছিলাম সেদিন! আজ অন্তত নাহয় আমার কথাটা শোন তারপরে তুই সিদ্ধান্ত নিস কি করবি সেটা নিয়ে। প্লীজ!
-আচ্ছা, কি বলবি বল।
-শোন তাহলে, সেদিন যখন তোদের উপর হামলা হয়েছিল ঠিক তার আগেই আমাদের কারা যেন একরুমেই আটকে রেখেছিল। সেই রুমে শুধু আমি, নাইমা (নিতুর মা) আর নিহাল এইক রুমে ছিলাম। শুধু বাইরে ছিলো নিতু। কারণ সে তখন স্কুলে ছিলো কিন্তু তাকেও ঐ মাহমুদ আলমের লোকেরা ধরে নিয়ে এসেছিল। এরা যে মাহমুদ আলমের লোক সেটা পরে জানতে পেরেছিলাম। প্রথমে অবাক হয়ে ভাবছিলাম সে দুলাভাই ছিলো! কিন্তু না, সে দুলাভাইয়ের আপন ছোট ভাই ছিলো যাকে তোর শ্বশুর মশাই ত্যাজ্য -পুত্র করেছিলেন। অবশ্য সেটা অনেক পরে জেনেছিলাম। কারণ, সে আমাকে তোর স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু ততোদিন দুলাভাইয়ের প্রতি আমার ঘৃণা জন্মেছিল। আমি যে তখন অসহায় ছিলামরে বোন খুব অসহায় ছিলাম। মাহমুদের লোকজন আমার একমাত্র মেয়ের গলায় ছুরি ধরে আমার সকল সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু আমার ভাগ্য সেদিন হয়তো আমার সহায় হলো।।কারণ, সে আমার বাকি সম্পত্তির কথা জানতো না। সেগুলো নিয়েই সেদিন রাতেই আমি দেশ ছাড়ি। অবশ্য অনেকখানি ঝামেলা পোহাতে হয়েছিলো।
-তারপরে!
-তারপরে, আমি অনেক খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সে দুলাভাই নয়, বরং তারই আপন ভাই মাহমুদ। আর আদ্রের বাবার খুনিই তারা। আমাকে এই সমস্ত কাজে সাহায্য করেছিলো নিতু। ওকেই আমি মাহমুদের বন্ধুর মেয়ে বলে ওদের বাড়ীতে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে পাওয়া সমস্ত তথ্য নিতুই আমাকে দিতো। সে মূলত সেখানে গিয়েছিল ওর মিষ্টিপুকে খুঁজতে। কিন্তু সেই চক্রান্তের মুল মাস্টারমাইন্ডকে খুব সহজেই চিনতে পেরেছিলাম নিতুর মাধ্যমে। সে কে জানিস?
-কে?… অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন মাহবুব আলম।
-সে আর কেউ না ভাইজান, আপনার ভগ্নীপতি! হা, আপনার ভগ্নীপতি খালেদ চৌধুরী। সেই মাহমুদের সাথে হাত মিলিয়ে এসব কাজ করেছিলো।
-কি বলছো এসব?
-না আংকেল, মামা যা বলছেন সবটাই ঠিক। কারণ, আমি নিজেই তাকে পুলিশে দিয়েছি। আর এটাই সত্য। তুতুল আন্টি আ’ম রিয়েলি স্যরি। আমি অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেই না বলেই ওনাকে পুলিশে দিয়েছি।… কথাটি বলে তুতুল আফরিনের দিকে ফিরলো আদ্র।
-আমিও বাস্তবতা মেনে নিয়েছি আদ্র। সবটাই ওর দোষ ছিলো! আমিই জানতাম সবই। কিন্তু মুখ খুলতে পারিনি। কারণ, সে হুমকি দিয়েছিলো আমার মেয়েদের সে মেরে ফেলবে তাই কিচ্ছু করার ছিলো না আমার। অসহায় ছিলাম আমি সেদিন। সে শাস্তি পাচ্ছে ভেবে কষ্ট হচ্ছে না বরং শান্তি লাগছে আমার।… বলে চোখেরজল মুছলেন তুতুল আফরিন।
-এতটুকুই ছিলো সেদিনের মুল প্রেক্ষাপট। এখন তুই চাইলে তোর সিদ্ধান্ত নিতে পারিস।… বলে হায়দার জামান শাহেলা ইয়াসমিনের দিকে ফিরলেন। তার আগেই শাহানা ইয়াসমিন বলে উঠলেন,
-কোনো সিদ্ধান্তই নেয়া চলবে না। এখানে সবাই পরিস্থিতির স্বীকার। সো, নো সিদ্ধান্ত।… শাহানা ইয়াসমিনের কথায় সকলে উচ্চস্বরে হেসে দিলো। শাহেলা ইয়াসমিন কান্নাজড়ীত কণ্ঠে হায়দার জামান কে বললেন,
-আমাকে মাফ করে দিস ভাই। তোকে না বুঝে এতোদিন তোর সাথে যোগাযোগ রাখিনি।
-কি করছিস আপু? সবটাই ভুল ছিলো। এখন থেকে আমাদের নতুন করে চলতে হবে।
সেদিন সকলে আবারও এক হয়ে গেলো। হাসি ঠাট্টা মাধ্যমে কেটে গেলো দুমাস।
______________
আজ ‘মিহি-আদ্র’ – এর বিয়ে। ‘সালসাবিল মন্জিল’ এর প্রতিটা কোণা যেন আনন্দ – উৎসবে ভরপুর। তার উপর বাড়ীর বড় ছেলের বিয়ে বলে কথা! কারো খুশির রেশ যেন কাটছেই না। পরিবারের সকলেই খুশিতে আত্মহারা। নিতু, রুশা, তাদের ফুফাতো বোন রিয়াপু আর তনিমাপু মিহিয়াকে একদমই ছাড়ছেই না। গায়েহলুদ থেকে শুরু করে মিহিয়ার প্রতিটা কাজের দায়িত্ব তাদের উপরেই আরোপ করে দিয়েছে আদ্র। কোনো ভুলত্রুটি হলেই অবস্থা খারাপ করবে বলেও জানিয়েছে আদ্র তাদের। তারাও চাই যে সারাক্ষণ মিহিয়ার পাশেই থাকতে। কেননা খুবই মিষ্টভাষিণী মিহিয়া।
বিয়ের আগমুহূর্তে মানে কবুল বলার সময় যখন আদ্রকে কবুল বলতে বলল তখন একদফা হাসিররুল পড়েছিলি সেখানে উপস্হিতি সকলের মাঝে। কারণ, আদ্র তিন কবুল এতোটাই দ্রুত বলেছিলো যে যার বেগ আলোর বেগ কেউ হার মানাবে এমন অবস্থা। মিহিয়াও বলেছে তবে ধীরে সুস্থে! কবুল বলার পর যখন মিহিয়ার হাত আদ্রের হাতে তুলে দিলেন তখন যেন মাহবুব আলমের বুকটা ফেঁটে যেতে চাইছে। তার আদরের বড় মেয়ে আজ অন্যের বাড়ীতে বউ হয়ে যাবে তাদের ছেড়ে। আসলেই বাবারা অন্যরকম। মেয়েদের জন্য তাদের অন্তরাত্মা বারবার কেঁপে উঠে বিশেষ করে যেদিন মেয়েকে তার জামাইয়ের হাতে তুলে দেয়। মিহিয়ার বাবাও একই।
আদ্র অনেক কষ্টে কাজিনদের বুঝিয়ে শোনিয়ে বাসরঘরে ঢুকল। বিছানার উপর চোখ পরতেই দেখতে পেলো ইয়া বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বিছানার মাঝখানে বসে আছে মিহিয়া। তার চারিপাশটা বেলী আর গোলাপে পাপড়িতে ভরপুর। আদ্রকে আসতে দেখে খাঠ থেকে নেমে আদ্রের সামনে গেলো মিহিয়া। যাওয়া মাত্রই আদ্রের কথা শোনে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো মিহিয়ার,
-উফস, অনেক্ষণ পর বউটাকে পেলাম। আজ আর ছাড়বো না বউ তোমাকে। চলো জানপাখি, বাসর শুরু করে দিই।
-এই এই, একদমই না! আগে নামায পড়ে বিবাহিত জীবন শুরু করবেন তারপরে বাকি সবটাই।
-তারমানে, নামাযের পর সবকিছুই করতে দিবা?
-ধ্যাত, কথা না বলে ওযু করে আসুন।
-হুম.. বলে আদ্র ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেলো।
অতঃপর তারা নামায দিয়েই তাদের বৈবাহিক জীবন শুরর করলো। তারপরে জায়নামাজ গুছিয়ে রাখতেই আদ্র মিহিয়াকে কোলে তুলে নিলো।
-আরে কি করছেন কি? পড়ে যাবো তো!
-বিশ্বাস আছে?
-হুম।
-তাহলে বলছো যে?
-না, এমনি।
-বিশ্বাস রাখো ঠিক এভাবেই সারাটা জীবন এমন করে আগলো রাখবো তোমায় মিহুপাখি। ঠিক এভাবেই।
-কখনও আমায় ভুল বুঝবেন না তো?
-কখনওই না। #তোর_নেশায়_মত্ত হয়েছি কি ভুল বুঝার জন্য? সারাজীবন আগলে রাখার জন্যই তো আমি #তোর_নেশায়_মত্ত মিহুপাখি!
-ভালোবাসি প্রিয়!
-ভালোবাসি আমিও!.. বলে আদ্র মিহিতে মত্ত হয়ে গেলো। যার প্রতিটা পবিত্র স্পর্শে কেঁপে উঠছে মিহি। আঁকড়ে ধরলো আদ্রকে। আদ্র মিহিকে বিছানায় শোইয়ে দিলো। অতঃপর হারিয়ে গেলো ভালোবাসার এক গভীর সাগরে। যেখানে শুধু পবিত্র ভালবাসার সন্ধান মিলে!
চলুক না তাদের ভালোবাসা এভাবে। হারিয়ে যাক, তারা দুজন দুজনার মাঝে। গাঢ় হোক, তাদের ভালোবাসার বন্ধন ঠিক এভাবেই। আর কিছুই বলতে পারবে না আমার শরম করে 🙈🙈🙈।
_________সমাপ্ত _________
[গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক বাস্তবের সাথে কেউ মেলাবেন না। ভুলত্রুটি মার্জনীয়। হ্যাপি রিডিং 😍]