#দুই_হৃদয়ে_সন্ধি
#পর্বঃ৫
#Nova_Rahman
রোদসী ফোন নিয়ে এক ঘন্টা যাবত কথা বলেছে উদয়ের সাথে। কথা বলা শেষ করে বেলকনি থেকে রুমে আসে রোদসী।
উদয় সম্পর্কে রোদের বেস্টফ্রেন্ড হয়। রোদ আর উদয় একি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করে। উদয় আর রোদসী এক বছর ধরে রিলেশনে আছে। রোদ বা তাদের ফ্যামেলি এ সম্পর্কে কিছুই জানেনা।
রোদের থেকে ছাড়া পেয়ে এক দৌড়ে বাড়ির মূল ফটকে এসে থামলো তরু। দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে অনবরত শ্বাস নিচ্ছে তরু। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে উঠে দাড়াল। তরু আপন মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, প্রিয় হার্টের ডাক্তার আর কিছুক্ষণ আপনার সামনে থাকলে আমার শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে প্রাণ পাখি উড়াল দিতো আকাশে। আপনি এমন কেনো? আমাকে মেরে ফেলার কি আপ্রাণ চেষ্টা আপনার। ভাবা যায়!
শুনুন ডাক্তার সাহেব,
“ এইভাবে সেইভাবে আর কোনো ভাবেই আপনি আমার সামনে আসবেন না। আপনাকে দেখলে আমার কেমন মাতাল মাতাল লাগে। ”
তরুকে খুঁজতে খুজতে ডয়িং রুমে এসে পৌছালো রোদসী। তরুকে ডয়িং রুমে সোফার পাশে এমন আনমনা হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রোদসী দ্রুত পা ফেলে তরুর সামনে এসে দাড়াল। আস্তে করে তরুর কাঁধে হাত রাখলো রোদসী। আচমকা কারো ঠান্ডা হাত কাধের উপর পড়তেই তরু আল্লাহ গো বলে এক লাফে সোফায় উঠে দাড়াল। ঘুটঘুটে অন্ধকারে তরু হাত উচিয়ে বলতে লাগল, ডাক্তার সাহেব আপনি আমার কাছে আসবেন না। আপনি কি জানেন? আপনি একজন লুচ্চা ডাক্তার! তাও আবার চরম লেভেলের লুচ্চা আপনি। লুচ্চাদের কোনো প্রতিযোগিতা থাকলে, আপনি সেখানে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হতেন। লুচ্চারদের কোনো এওয়ার্ড থাকলে আমি নিজের হাতে আপনাকে সেই এওয়ার্ড তুলে দিতাম।
তরুর এমন আচমকা লাফ দেওয়া দেখে রোদসী হকচকিয়ে যায়। বুকে থুতু দিয়ে নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে নিলো রোদসী। তরুর কথার বিপরীতে রোদসী হতভম্ব হয়ে তরুকে জিজ্ঞেস করলো,এসব কি আবল তাবল বলছিস তরু? লুচ্চা, ডাক্তার, এওয়ার্ড! এসব কি?
অন্ধকারে ডাক্তারের বদলে ডাক্তারের বোনের কন্ঠস্বর শোনে হতভম্ব হয়ে পড়লো তরু। দুপাটি দাঁত দিয়ে জিভ চেপে ধরলো তরু। নিজের এমন বোকামির জন্য নিজেই নিজের মাথায় দুইটা থাপ্পড় মারলো। ইশশ! কত্তো বড় ভুল হয়ে গেছে। সোফা থেকে নেমে একদম রোদসীর সামনাসামনি এসে দাঁড়াল তরু। রোদসী এখনও ভ্রু কুঁচকে থাকিয়ে আছে তরুর দিকে। চোখে তার হাজারও প্রশ্ন কিলবিল করছে। কিন্তু আশানুরূপ কোনো প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না রোদসী।
রোদসী আবার তরুকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করল, কি হলো তরু কিছু বলছিস না কেনো? কি হয়েছে তর? তরু আবার মাথা নাড়িয়ে রোদসীকে বুঝালো, কিছু হয়নি আমার। নাছরবান্ধা রোদসী একথা মানতে নারাজ।
‘রোদসী পূনরায় তরুকে জিজ্ঞেস করলো, আরে ইয়ার বলনা কি হয়েছে? আমরা আমরাই তো। তরু এবার বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করলো। কি সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা। কথা পেট থেকে না বের করে ছাড়বেই না। এখন আমি কি বলবো, বাগানে তর ভাই আমাকে আটকে রেখেছিল রোমান্স করার জন্যে। ’
রোদসী হাত দিয়ে তুড়ি বাজাতেই ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে তরু। রোদসী এক হাত কোমরে রেখে অন্য হাত উচিয়ে তরুকে শাসানোর ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো, তরু তাড়াতাড়ি বল কি হয়েছে তর? তরুও কম জানেনা। তরু তার ত্যাড়া স্টাইলে ত্যাড়া উত্তর দিলো।
আমার বিয়ে হয়নি রোদসী, যে বাচ্চা খাচ্চা হবে। আগে আমাকে বিয়ে দে। তারপর কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে আসিস। আমাকে বিয়ে না দিয়ে নির্লজ্জের মতো কি হয়েছে, কি হয়েছে একদম জিজ্ঞেস করবি না। না না না!
রোদসী হতাশ হয়ে বলল, তাক বইন তর আর কিচ্ছু বলতে হবে না। আমার ভুল হয়ছে, আমাকে ক্ষমা করে দে। রোদসী কথা গুলো বেশ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল। রোদসীর এমন নাটকীয় স্টাইলে কথা বলা দেখে তরু ফিক করে হেসে ফেললো। হাসির ফাকে ফাকে দুই চারটা থাপড়াও বসিয়ে দিলো রোদসীর পিটে। রোদসী হতভম্ব হয়ে তরুকে প্রশ্ন করলো, হে রে তরু তুই মানুষ নাকি জল্লাদ! আমার মতো নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে মেরে মেরে তক্তা বানিয়ে দিচ্ছিস? তর কি মায়া হচ্ছে না।
রোদসীর প্রশ্নের বিপরীতে তরু উত্তর দিলো,___
“ ন আকার না”
তরুর এমন ত্যাড়া উত্তরে রোদসী হাতে একটা কুশান নিয়ে তেড়ে গেলো তরুর দিকে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে তরুও দৌড় লাগায় নিজের রুমের দিকে।
রাত তখন দশটা, গুটিগুটি পায়ে বাসায় প্রবেশ করলো রোদ। রাতের আকাশে মস্ত বড় চাঁদটাকে আজকে একটু বেশি সুন্দর লাগছিল। তাই তো বাগানে মাঝ বরাবর পায়ের উপর পা তুলে শুয়ে ছিল রোদ। পায়ের ফাঁক দিয়ে চাদের আলোকরশ্মি মুখের উপর পড়ছিল। রোদ চাঁদের দিকে তাকাল দেখলো আর বলল,, চাঁদ তুমি বেশি সুন্দর নাকি আমার হৃদয়ের হৃদয়হরণী বেশি সুন্দর? দখিনার স্নিগ্ধ বাতাস যেনো কানে কানে এসে বলে গেলো, তোমার হৃদয়ের হৃদয়হরণী বেশি সুন্দর। রোদ হাসলো ভাবলো আর বলল, হ্যাঁ আমার হৃদয়ের হৃদয়হরণী বেশি সুন্দর।
ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফোনের ফ্লাশ অন করে তেজের রুমে আসে রোদ। রুমের ভেতরে ঢুকা মাত্রই রোদের কানে একটা ভ’য়া’ন’ক শব্দ এসে ধাক্কা খেলো। আকস্মিক এমন ভ’য়া’ন’ক শব্দ শুনে রোদ কিছুটা হকচকিয়ে যায়। ফোনের ফ্লাশ দিয়ে এদিক সেদিক শব্দের উৎস খুঁজতে শুরু করে রোদ। হঠাৎতেই রোদের চোখ যায় বিছানায় লেটকা মেরে পড়ে থাকা তেজের দিকে। তেজ বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে ষাঁড়ের মতো নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। এই মধ্যেরাতে তেজের নাক ডাকার শব্দ দেওয়ালে বারি খেয়ে এক ভয়ানক প্রতিধ্বনী হচ্ছে। এক ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে ঘরের মধ্যেকার পরিবেশটা।
রোদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ফোনের লাইট বন্ধ করে, একটা বালিশ নিয়ে তেজের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো। রোদ না চাইলেও আজকে রাতটা তার তেজের সাথেই তাকতে হবে। তেজের নাক দিয়ে বের হওয়া ভয়ানক শব্দটাকে আজ রোদের সহ্য করতেই হবে।___
রাত তিনটা বাজতেই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সেহেরীর খাবার খাওয়ার জন্য। আজকে বাড়িতে মেহমান তাকায় জাহানারা চৌধুরী বিভিন্ন আইটেমের খাবার রান্না করেন। আজকে অনেক রান্না ছিল বিধায় জাহানারা চৌধুরীর হাতে হাতে সাহায্য করে দেন মিলি চৌধুরী। রান্না শেষে সব খাবার টেবিলে এনে সাজিয়ে রাখা হয়। জাহানারা চৌধুরী এবার একে একে সবাইকে ডেকে দেয় সেহেরীর খাবার খাওয়ার জন্য। সবাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিজ নিজ রুম থেকে বেরিয়ে নিচে আসে সেহেরির খাবার খাওয়ার জন্য।
তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আচমকা রোদের সাথে ধাক্কা লেগে যায় তরুর। রোদকে দেখা মাত্রই তরুর হার্ট তরুর সাথে বেইমানি শুরু করে দেয়। তরুর এই জিনিসটা ঠিক পছন্দ না। আমার হা্ট আমার তাকবি, তুই কেনো অন্য লোককে দেখে লাফাতে যাবি।
তরু নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে দাঁড়াল। রোদের দিকে তাকাল দেখলো আর জিজ্ঞেস করলো__ কি ডাক্তার সাহেব, রাতে ঘুম হয়েছে তো?
তরুর কথার বিপরীতে রোদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, তোমার ভাই যে ষাঁড়ের মতো নাক ডাকে, এই নাক ডাকার মধ্যে আমার মতো কোনো সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারবে বলে তোমার মনে হয়।
রোদের কথার বিপরীতে তরু বলতে লাগলো, আমি আগেই জানতাম ডাক্তার সাহেব আপনি ঘুমাতে পারবেন না তেজের সাথে। তরুর কথার বিপরীতে রোদ তরুর দিকে একটু ঝুঁকে এসে বলতে লাগলো,ম্যাডাম আপনি এতোই যখন জানতেন আমি তেজের সাথে ঘুমাতে পারবো না। তাহলে আমাকে তেজের সাথে ঘুমাতে দিলেন কেনো? আপনি আপনার সাথে আমাকে একটু ঘুমাতে দিতেন। ট্রাস্ট মি! আমি রাতে একটুও দুষ্টমি করতাম না।
শুধু মাত্র____রোদ আর কিছু বলতে যাবে, তার আগেই রোদকে কথার মাঝখানেই থামিয়ে দিলো তরু। হাত উঁচিয়ে রোদকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, চুপ করুন অসভ্য লোক। আমি জানি এখন আপনার মুখ দিয়ে অসভ্য মার্কা কথাবার্তা বের হবে।
রোদ ভ্রু কুঁচকে তাকালো তরুর দিকে। রোদ তরুর দিকে একটু ঝুকে এসে বলল, তা ম্যাডাম বলুন দেখি আমি কি এমন অসভ্য মার্কা কথা বলবো? যার জন্য আপনি এমন লজ্জা পাচ্ছেন। বলুন বলুন বলুন! আমিও একটু শুনি। রোদের এমন খাপছাড়া কথা শুনে তরু কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে এক দৌড়ে নিচে চলে আসে। এই নির্লজ্জ ঠোঁট কাটা লোকের সাথে থাকলে তরু শুধু লাজ্জায় পাবে। তরুকে এইভাবে চলে যেতে দেখে শরীর দুলিয়ে হাসে রোদ। রোদ তরুর দিকে তাকাল, দেখলো আর বলল, এই মেয়েটাকে জ্বালাতে আমার বড্ড ভালো লাগে।
একে একে সবাই এসে ডাইনিং টেবিলে বসলো খাবার খাওয়ার জন্য। রোদ আর তরু একদম সামনাসামনি বসেছে। তরু ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে যায় রোদকে নিজের সামনে দেখে। রোদ তরুর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজের পা দিয়ে তরুর পা চেপে ধরে রেখেছে। তরুর অবস্থা এখন, ছেড়ে দে বাপ! আমি জ্ঞান হারাবো মরেই যাবো বাচাতে পারবে না কেউ।
তাসিফ চৌধুরী এই নিয়ে পরপর তিনবার ডাইনিং টেবিলে এসেছেন। ডাইনিং টেবিলে এসে কিছুক্ষণ বসে থেকে তিনি আবার নিজের রুমে চলে যাচ্ছেন খাবার না খেয়ে। ছোট ভাইয়ের এমন উদ্ভট আচারণ দেখে তাতান চৌধুরী একটু চিন্তিত হয়ে তাসিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করলেন, তাসিফ কিছু হয়েছে তোমার? তুমি এমন উদ্ভট আচারণ করছো কেনো?
বড় ভাই তাতান চৌধুরীর প্রশ্নের বিপরীতে তাসিফ চৌধুরী উত্তর দিলেন,
আর বলবেন না ভাইয়া। এই নিয়ে পরপর তিনবার ওযু করেছি। ভেবেছিলাম ওযু করে খাবার খাবো। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, ওযু করতে না করতেই পা*দ চলে আসছে। তাসিফ চৌধুরী কথা শুনে ডাইনিং টেবিলে হাসির রোল পড়ে গেছে। স্ত্রী মিলি চৌধুরী চোখ গরম করে তাকায় স্বামী তাসিফ চৌধুরীর দিকে। পা*দ মেরেছে ভালো কথা। তাই বলে এই বায়ুদূষণের কাহিনি পাবলিক প্লেসে এসে শুনাতে হবে। মিলি চৌধুরী কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বলতে লাগলো, বেহায়া জামাই জুটেছে কপালে!
তরু সবার কথার মাঝেই চিৎকার করে বলে উঠলো, চাচ্চু আমি পা/দের একটা কবিতা জানি। তোমরা শুনবে? তরুর মুখে এমন উদ্ভট কথা শুনে, সবাই গোল গোল চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে তরুর দিকে।কেউ কোনো কথা না বলে চুপচাপ খাবার খেতে থাকে। কারো কাছ থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে তরু হতাশ হয়ে বসে থাকে ডাইনিং টেবিলে। মেয়েকে এমন হতাশ দেখে, তাসিফ চৌধুরী তরুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,আচ্ছা আম্মু বলো দেখি তোমার অমর কবিতাকানি। আমরা শুনবো। তরু ছলছল নয়নে তাকালো তাসিফ চৌধুরীর দিকে। যাক তাদের বাড়ি কেউ তো একজন আছে, যে তরুর প্রতিভা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।
তাতান চৌধুরী ও জাহানারা চৌধুরী দ্রুত তাদের কান চেপে ধরেন। এই মধ্যে বয়সে এসে মেয়ে মুখে এমন ডেঞ্জারাস পাদের কবিতা শুনে হার্ট অ্যাটাক করে মরার কেনো ইচ্ছেই তাদের নেই। দেখা যাবে পরের দিন নিউজ ফিডের প্রধান হেডলাইন হয়েছে, মেয়ের মুখে ডে/ঞ্জা/রা/স পাদের কবিতা শুনে, মধ্যে বয়সী এক দম্পতি হার্ট অ্যাটাক মারা গেছে। কি সাং’ঘা’তি’ক কি সাং’ঘা’তি’ক!
তেজ নিজের কান চেপে ধরে রোদের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, ব্রো! কান চেপে ধরো। এক্ষুনি বোমা বিস্ফোরণ হবে। তেজের কথাকে পাত্তা না দিয়ে রোদ তরুর দিকে উৎসুক দৃষ্টি তাকিয়ে রয়েছে। রোদের কেনো জানি তরুর মুখে ঐ বিশেষ কবিতাকানি শুনতে খুব ইচ্ছে করছে। তরুর সবার অপেক্ষার অবসান গঠিয়ে পাঠ করলো সেই অমর কবিতাকানি____
“পাদে পাদান্তি”
“পাদের নাম বিশ্ব মন্ত্রী ”
পা/দ দিবা নিজে হাসবা অন্যকে হাসাবা এবং পেটকে বায়ুমুক্ত রাখবা।
রিক সাহেব সবে মাত্র এক লোকমা ভাত মুখে নিয়েছিল। না হওয়ার ছেলের বউয়ের মুখে এমন ভ’য়া’ন’ক কবিতা শুনে ভাত দলাপাকিয়ে গলায় আঁটকে যায়। চৈতালি হাওলাদার স্বামীকে এক গ্লাস পানি দিয়ে আস্তে করে পিটে হাত বুলাতে থাকে। চৈতালি হাওলাদার বিস্ফোরিত নয়নে তাকাল তরুর দিকে। এই ডে/ঞ্জা/রা/স মেয়েটা নাকি তার ছেলের বউ হবে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে চৈতালির।
রোদসী এবার তরুকে উদ্দেশ্য করে বলল, তরু তর এমন অমর কবিতা শুনে আমরা না সবাই আবার কবরে চলে যায়। প্লিজ অফ যা বইন! রোদসী কথাটা বেশ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল। তরু মুখ ভেংচি মেরে খাওয়ায় মনোযোগি হলো।
রোদ এখনও ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে তরুর দিকে। আশেপাশের কোনো কথায় রোদের কানে যাচ্ছে না। রোদ এক মনে তরুকে দেখছে আর ভাবছে। তুমি যেমনেই হও না কেনো প্রিয়শ্রী। আমার সব কিছুতেই তোমাকে লাগবে শুধু তোমাকে।
#চলবে___ইনশাআল্লাহ