ধুসর আকাশ পর্ব-০৩

0
359

#ধুসর_আকাশ
#৩য়_পর্ব
#স্নিগ্ধতা_প্রিয়তা

–“আমাদের গ্রামেও একজন আমার বিয়ে ভেঙে দিচ্ছিলো শুধু। আমাদের গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে। সে আমার বাড়িতে বিয়ের জন্য প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলো। কিন্তু এস এস সি পাস একটা ছেলের সাথে অনার্স পাস করা একটা মেয়ের বিয়ে কি কোনো বাবা-মা দিতে চায়? আর ওই ছেলেটাকে আমার একদম পছন্দ নয়। সারাদিন-রাত আড্ডা নিয়ে থাকে আর বাপের টাকায় ফুটানি! ওমন ছেলেকে আমি কেন! কোনো ভালো মেয়েই বিয়ে করতে চাইবে না! কিন্তু ওই যে, জোর যার মুল্লুক তার! যে বিয়ে ভাঙা বন্ধের জন্য আমাকে এখানে আনলো! সেই এখানে এসেও একই অবস্থা! তাও আবার বিয়ের দিন! আরেক ধাপ এগিয়ে!”

তমাল এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ওর কথা শোনার পর বলল,

–“তাহলে তোমার বিয়ে ভাঙার জন্য আমাকে কেন দোষারোপ করছো সবাই? এটাতো সবাই জানো যে, বিয়েটা কে ভেঙেছে! আমাকে এর মধ্যে জড়ানোর কি খুব বেশিই প্রয়োজন ছিলো? ”

–“এখানে ওরা খোঁজ পাবে কীভাবে? ওরা যাতে আমার খোঁজ না জানতে পারে সেইজন্যইতো আমাকে এখানে আনা হয়েছিলো। তবে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে আপনি সত্যি বলছেন। মানে এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্যকেউ আছে! কিন্তু কে সে? আপনি আমাকে হেল্প করবেন খুঁজে বের করতে? আর সে যে শুধু আমার শত্রু তা নয় কিন্তু, সে আপনারও ঘোর শত্রু। না হলে আপনাকে এর মধ্যে জড়াতো না। ”

–“আমাকে বিশ্বাস করার জন্য থ্যাংকস! অন্তত একজনতো আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমি অবশ্যই আসল কালপ্রিটকে খুঁজে বের করবো। এত জঘন্য কাজ কে করতে পারে! তাকেতো তার প্রাপ্য পেতেই হবে!”

কথাগুলো বলার পর তমাল বিছানা থেকে উঠে শার্টটা চেঞ্জ করে একপাশে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে পড়লো। আর ভাবতে লাগলো যে, এই কাজটা যদি ওই চেয়ারম্যানের ছেলে না করে থাকে তাহলে আর কে হতে পারে!

ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী শিলা ভীষণ রেগে আছেন। আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে-শাদি উনার একদম পছন্দ নয়। শুয়ার পর থেকে উনি স্বামীর সাথে এই নিয়ে তর্ক করে চলেছেন।

–“তোমাকে আমি আগেই বলেছিলাম যে, এই মেয়েকে এখানে আনার কোনো প্রয়োজন নেই। গ্রামে এতো ঝামেলা হচ্ছে, এখানে যে ঝামেলা হবে না তা কে জানে! তুমিতো আমার কোনো কথা শুনবে না! মানবতার ভান্ডার খুলে বসে আছেন। শেষে কিনা ওই মেয়েকে আমার ছেলের কাঁধেই ঝুলিয়ে দিলে! কে জানে এই মেয়ে কেমন হবে! পুরো সংসারটা ধ্বংস করে না দেয়। ”

ফিরোজ সাহেবের কথা বলার আর মন মানসিকতা নেই। তিনি নিজেও বুঝতে পারেনি এতকিছু হয়ে যাবে৷ সবার মুখ বন্ধ করার জন্য হলেও এই বিয়েটা দেওয়া উচিৎ ছিলো। বড় মুখ করে ভাইয়ের মেয়েকে এখানে এনেছিল বিয়ে দেওয়ার জন্য।এখান থেকেও যদি খালি হাতে ফিরতো তাহলে মেয়েটার কি হতো!

–“দেখো শিলা, যা হওয়ার হয়ে গেছে। সাফিকা এখন আর শুধু আমার ভাতিজি নয়, ও আমাদের বড় ছেলের বউ! আশা করি কথাটা মাথায় থাকবে। ভাগ্যের লিখন খন্ডানোর ক্ষমতা আমাদের কারোরই নেই। ”

কথাগুলো বলেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো ফিরোজ সাহেব। শিলা আবার বলতে লাগলো,

–“আমার ছেলেকে জোর করে বিয়ে দিয়েই ভাবছো যে, সে আমার ছেলের ভালবাসা পেয়ে গেলো? আমার ছেলে ওই মেয়েকে কখনো মেনে নিবে না৷ আর আমিও না৷ আত্মীয়দের সামনে তুমি সবার মান রাখতে চেয়েছিলে, তা রাখা শেষ। এবার আমার যা করার তাই করব। কালকেই ওই মেয়েকে আমি ওর বাবা-মায়ের সাথে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। তুমি এর মাঝে একদম নাক গলাবে না। আমি ওই মেয়েকে কিছুতেই নিজের বউমা হিসেবে মানি না। আর আমার ছেলের উপরেও আমার পুরো বিশ্বাস আছে৷ ও নিজেও এই মেয়েকে নিয়ে সংসার করতে পারবে না৷ যা হওয়ার হয়ে গেছে৷ আর সামনেও যা উচিৎ তাই হবে!”

ফিরোজ সাহেব নিজের স্ত্রীকে ধমক দিয়ে বললেন,

–“তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে! কি আবোলতাবোল বলছো! একটা পবিত্র সম্পর্ক শুরু না হতেই তুমি শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবছো কি করে! তুমি কি মানুষ! আমার ছেলেকে আমি ভালো করেই চিনি। ও এমন কিছুই চাইবে না! আর নাতো আমি এমন কিছু হতে দেবো! সাফিকা এই বাড়িতেই থাকবে! কোথাও যাবে না৷ আশা করি কাল এই নিয়ে আর কোনো ঝামেলা করবে না৷ এর ফল কিন্তু ভালো হবে না! ”

শিলা আরো কিছুক্ষণ বকবক করে থেমে গেলেন। স্বামীর সাথে যত ঝগড়াই করুক না কেন, সবার সামনে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তার নেই। আর তার কথা ফিরোজ সাহেব শুনবে না জেনেও এতক্ষণ তর্ক করলো। তার ক্ষমতা থাকলেতো এই বিয়েটা হতেই দিতো না! এসব ভেবে মনে-মনে সাফিকা, ওর বাবা-মা আর নিজের স্বামীকে গালাগালি করতে-করতে ঘুমিয়ে পড়লেন শিলা!

তুষার ছাদে গিয়ে একটার পর একটা সিগারেট শেষ করছে আর ভাবছে যে, ওর মা আত্মীয়ের সাথে বিয়ে-শাদি পছন্দ করে না বলে সাফিকাকে বিয়ে করার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। অনেকবার বলতে চেয়েও ওর বাবা-মাকে বলতে পারেনি কথাটা! অথচ আজ ওর-ই ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়ে গেলো! ওর মায়ের লজিক খাটলো না! অথচ নিজের পছন্দটাকে ও বিসর্জন দিয়ে দিলো! নিজের উপরেই প্রচুর রাগ হচ্ছে এখন তুষারের! একবার ওর বাবাকে বলেই দেখতো! হয়তো ওর বাবা ব্যবস্থা করতো! কিন্তু আজ ওর বাবা ওর ইচ্ছে থাকা সত্বেও তমালের সাথেই সাফিকার বিয়ে কেন দিলো! সেটা ওর মাথায় আসছে না। তমালতো সাফিকাকে মোটেও পছন্দ করে না! কিন্তু এখন তমাল যদি সাফিকার সাথে নাও থাকে তবুওতো ও সাফিকাকে পাবে না! ওর ভাগ্যটা কেন এত খারাপ হলো! সাফিকাকে এত করে মন থেকে চেয়েও ও নিজের করতে পারলো না। অথচ তমাল না চাইতেই সাফিকাকে পেয়ে গেলো! যে যার কদর বোঝেনা, সে তার ভাগ্যেই কেন পড়ে! সাফিকা কি ভালো থাকবে তমালের সাথে! তমাল কি আদৌ ভালবাসতে পারবে সাফিকাকে! অনেক রাত পর্যন্ত এসব ভাবতে থাকে তুষার!

তমাল সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে এসে দেখে যে সাফিকা তখনো ঘুমাচ্ছে। তরী এসে একবার ডেকে গেছে নাস্তা করার জন্য। রাতে অনেকক্ষণ কান্না করে তারপর ঘুমিয়েছে। তাই তমাল ওকে ডাকতে চাচ্ছিলো না। কিন্তু আবার সানিয়া ডাকতে এসেছে, তাই অনিচ্ছাসত্বেও তমাল সাফিকাকে আস্তে-আস্তে ডাকতে লাগলো। সাফিকার সেদিকে যেন কোনো খেয়াল নেই যে, কেউ একজন ওকে ডাকছে।

হঠাৎ চোখ খুলেই তমালকে দেখতে পেয়ে লাফ দিয়ে ওঠে সাফিকা। তারপর চোখ কচলাতে কচলাতে বলতে থাকে,

–“আপনি এখানে!….. ওহ সরি! আসলে ঘুম থেকে উঠে ভুলেই গিয়েছিলাম যে, কাল আমার বিয়ে হয়েছে।”

তমাল রুম থেকে বের হওয়ার সময় বলতে লাগলো,

–“ভাগ্যিস এটা ভুলে যাওনি যে, কার সাথে বিয়ে হয়েছে!”

–“কিছু বললেন মনে হয়!”

–“না বললাম যে, ফ্রেস হয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসো। আর যেন কাউকে পাঠাতে না হয়!”

বাথরুমে ঢুকেই সাফিকার মনে পড়লো যে, ওর সবকিছুতো তরীর রুমে। সানিয়া, তরী আর ও এই কয়দিন একসাথেই থাকতো। তারপর ওই রুম থেকে বের হয়ে সাফিকা তরীর রুমে চলে গেলো।

তমাল ডাইনিং টেবিলে গিয়ে দেখলো যে, ওর ফুপুরা সবাই নাস্তা করতে বসেছে। বাড়ির বড়রা সবাই বসেছে, কিন্তু ওর মা আসেনি। তার নাকি মাথা-ব্যাথা করছে। তমাল বুঝতে পারলো যে, ওর মা কেন আসছে না। ওর মাকে ওর চেয়ে ভালো আর কেউ জানেনা হয়তো! ও না গেলে যে ওর মা আসবে না তা বুঝতে পেরে ওর মাকে ডাকতে চলে গেলো।

ওর মায়ের রুমে ঢুকে খাবার খেতে যেতে বলতেই ওর মা বলতে লাগলো,

–“তুইওতো শুধু তোর বাবার কথাই শুনবি! আমার কথার কি মূল্য আছে কারও কাছে! তোর বিয়ে নিয়ে আমার কত স্বপ্ন ছিলো! সব শেষ করে দিলি তোরা! এখন আমাকে কেন লাগবে! যা, তোর বউয়ের কাছে যা! আমাকে ডাকতে হবে না!”

–“মা, আমাকে যেন আর কিছু বলতে না হয়! তাড়াতাড়ি চলো সবাই অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।ফুপুরা চলে যাবে! নাটক বাদ দিয়ে চলো!”

শিলা বিছানা থেকে উঠে বলল,

–“আমি যাচ্ছি, তবে ওই মেয়ে যেন আমার সামনে না আসে। ওই মেয়ের সাথে আমি এক বাড়িতে থাকতে পারবো না৷ ও যেন ওর বাবা-মায়ের সাথে আজকে চলে যায়!”

তখন ফিরোজ সাহেব এসে বললেন,

–“সাফিকা কোথাও যাবে না! তমাল যেখানে থাকবে, সাফিকাও সেখানে থাকবে! তুমি যদি সাফিকাকে এই বাড়িতে না রাখতে চাও তাহলে তমালও থাকবে না। আমি ওদের বাসা ঠিক করে দেবো!”

–“দেখেছিসতো তোর বাবার কথা! নিজের ভাতিজির জন্য এখনি আমাকে তোর থেকে আলাদা করে দিতে চাইছে! আমি কিন্তু….”

–“মা, বাবা! তোমরা থামবে একটু। এখন এসব বলার সময় নয়! যা হওয়ার হয়ে গেছে। ধীরে-সুস্থে বসে এসব নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এবার চলো!”

কথাগুলো বলে রুম থেকে বের হতেই দেখতে পেলো যে সাফিকা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওর চোখ থেকে টপ-টপ করে পানি পড়ছে। তমালকে দেখে বলল,

–“আপনাদের ডাকতে এসেছিলাম। আসলে আমি…”

–“আসলে মা একটু শক পেয়েছে, এমন আচমকা এতকিছু হয়ে গেলো! তুমি কিছু মনে করোনা৷ চলো নাস্তা করে নাও।”

–“আসলে আমার খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আপনারা খেয়ে নিন! আমার ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিবো।”

বলেই ওখান থেকে দৌড়ে তরীর রুমে চলে গেলো সাফিকা। তমাল ওর পিছনে গিয়ে বলতে লাগলো,

–“তোমরা কি শুরু করলে বলোতো! সবাই কি আমাকেই পেয়েছো জ্বালানোর জন্য! আমাকেও একটু বোঝার চেষ্টা করো! আমার মনের উপর দিয়ে কি ঝড় যাচ্ছে তা কাকে বোঝাবো! সবাইতো নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত!”

তমালের কথা শুনে সাফিকা দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলো৷ তারপর বলতে লাগলো,

–“আপনার স্ত্রী হিসেবে না হোক! অন্তত কাজিন হিসেবে হলেও আমাকে আপাতত এখানে থাকতে দিন। প্লিজ! আমি এখন ওই গ্রামে যেতে পারবো না। ওখানে গেলেই ওই রিমনের অত্যাচার! আমি বাড়ি থেকে বের পর্যন্ত হতে পারি না! আর এখনতো আরো বেশি করে আমার পিছনে লাগবে! বলবে যে, বাইরে এসেও আমার বিয়ে হলো না! ”

তমাল এমনিতেই অনেক চিন্তায় আছে! তারপর আবার ওর মায়ের নতুন ঝামেলা! ওর গার্লফ্রেন্ড রিয়াকে ব্যাপারটা কি করে বুঝাবে সে চিন্তায় ও অস্থির! আর এদিকে সাফিকা আর ওর মায়ের ঝামেলা! রিয়াকে ছাড়া ও অন্যকোনো মেয়ের কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনা! এখন এইসব সামলাবে নাকি রিয়াকে! সাফিকাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তমাল বলল,

–“দেখো সাফিকা, এইসব ন্যাকা কান্না আমার কাছে করবে না! চুপচাপ খেতে চলো। এসব মায়াকান্না আমার কাছে চলবে না। রাতে অনেক কেঁদেছো, কিছু বলিনি। আর কিন্তু এসব চলবে না! এখানে থাকতে চাইলে আমার কথা মেনে থাকতে হবে।”

সাফিকা চোখ মুছে বলল,

–“আমি পারবো! এখানে থাকার জন্যইতো এতদিন আমি চুপচাপ ছিলাম! আবার না হয় সেই রোবট হয়ে যাবো! যে যা বলবেন তাই শুনব! চাচি যেভাবে বলবে আমি সেভাবেই থাকবো! অন্তত যে পর্যন্ত ওখানে সব ঠিকঠাক না হয় সে পর্যন্ত আমাকে থাকতে দিলেই হবে! রিমন পাঁচ-ছয় বছরের মতো বিদেশে ছিলো বলেই আমি শান্তিতে ছিলাম! কয়েকমাস হলো দেশে এসেছে। তাতেই আমার জীবনের খুশিগুলো শেষ হয়ে গেছে। ওই ছেলে থাকতে আমি আর গ্রামে যাচ্ছি না! আবার হয়তো বিদেশ চলে যাবে! তখন আমি আবার গ্রামে চলে যাবো! কথা দিচ্ছি! আর আমি কখনো আমাকে ভালবাসার জন্য আপনাকে জোর করবো না। আপনি মন থেকে কোনোদিন ভালবাসলে তবেই…. ”

–“এক্স-কিউজ মি! দিবাস্বপ্ন দেখা বাদ দাও! থাকতে দিয়েছি বলে অন্যকিছু ভাবার দরকার নেই। ফালতু কথা শোনার সময় আমার নেই। চুপচাপ খেতে চলো!”

কথাগুলো বলে তমাল সাফিকার মুখের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো যে, সাফিকার মুখটা বিষাদে ছেয়ে গেছে! ও হয়তো একটু বেশিই বলে দিয়েছে! কিন্তু ও যে প্রেসারের মধ্যে আছে তাতে চাইলেও ভালো করে কথা বলতে পারছে না! সাফিকার কি করবে আর রিয়ার-ই বা কি করবে ও কিছুই বুঝতে পারছে না! একদিকে নিজের ভালবাসা! আর অন্যদিকে নিজের দায়িত্ব!যার এখন কোনো একজনের সাপোর্ট দরকার! আর সেই একজন ওকেই হতে হবে! না হলে মেয়েটা ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে! কোনদিকে যাবে তমাল!

চলবে….