#ধুসর_আকাশ
#৪র্থ_পর্ব
#স্নিগ্ধতা_প্রিয়তা
সাফিকার বাবা-মা চলে যাবে জন্য ওর মনটা খুব খারাপ। ও সবার সাথে বসে গল্প করছে। একটু পরেই চলে যাবে উনারা।
তরী দেখলো যে তমাল ওর রুমেই আছে৷ ও রুমে ঢুকতে-ঢুকতে তমালকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–“ভাইয়া আসবো? তোমার সাথেতো কথাই বলা যায়না। ভয় লাগে, কিন্তু আজকে তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই৷ দেখো আমি কিন্তু আর সেই ছোট্ট তরী নেই৷ বড় হয়ে গেছি! আমি এখন কলেজে পড়ি৷ তাই আমার কথাগুলো তোমাকে শুনতেই হবে।”
নিজের ছোট বোনের মুখে এমন কথা শুনে তমাল হেসে দেয়। তারপর বলতে থাকে,
–“তা আমার ছোট্ট বোনটা আমাকে ভয় পেতে শুরু করলো কবে থেকে তাইতো বুঝতে পারছি না৷ সে আবার কলেজে উঠে বড়ও হয়ে গেছে! তা আমার বুড়ী দাদীটা আমাকে কি উপদেশ দিতে এসেছে শুনি! ”
তরী নিজের ভাইয়ের পাশে বসে বলল,
–“দেখো ভাইয়া, তোমাকে আগেও বলেছি যে, আমাকে বুড়ী দাদী বলবে না। আমি কি বুড়ী নাকি!…আর আমি যেটা বলতে এসেছি সেটা শোনো। চাচিরা আজ চলে যাবে অথচ সাফিকা আপু একটুও কান্না করবে না৷ দেখো! কিন্তু চাচিরা যেতে না যেতেই সবার আড়ালে গিয়ে ইচ্ছেমতো কান্নাকাটি করবে! নিজেকে যতই স্ট্রং দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি! আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ জেগে গেলে মাঝেমধ্যে দেখতাম যে সাফিকা আপু বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কান্না করছে! নয়তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে! সানিয়া আর চাচা-চাচিকে ছাড়া থাকতে ওর ভীষণ কষ্ট হতো। তারপরেও থাকতো একমাত্র ওই রিমনের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য! এখনতো একেবারে এখানেই থাকবে! জানিনা আর কতো কাঁদতে হবে আপুকে! তার উপর তুমি সকালেও কি পরিমাণ বকাবকি করলে দেখলাম! তুমি যাওয়ার পরেই বাথরুমে গিয়ে কিছুক্ষণ কান্না করে তারপর হাসিমুখে খেতে গেলো!আমি সব খেয়াল করি! ”
এতগুলো কথা একেবারে বলে হাঁপিয়ে উঠে তরী। তারপর তমালের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ওর দিকে তাকায়। তমাল চুপচাপ ওর কথা শুনলো দেখে ওর ভালো লাগছে৷ আর এই প্রথম সাফিকার জন্য ও তমালকে এতগুলো কথা বলল।
তরীর মুখে এমন বড় মানুষের মতো কথা শুনে তমাল বুঝত পারলো যে, তার সেই ছোট্ট তরীটা আজ সত্যিই অনেক বড় হয়ে গেছে৷ আচ্ছা তরীকে বিয়ে দিলেও কি এইভাবে ওর শশুরবাড়ি রেখে চলে আসতে হবে! ভাবতেই বুকের মধ্যে চিনচিনে একটা ব্যাথা অনুভব হয় তমালের। তারমানে সাফিকার বাবা-মায়েরও অনেক কষ্ট হচ্ছে সাফিকাকে রেখে যেতে। আর সাফিকা! কথাটা ভাবতেই মেয়েটার জন্য এক অজানা টান অনুভব করতে থাকে তমাল। এটাই কি পবিত্র সেই বন্ধন! তিন কবুলের মাধ্যমে যে বন্ধন গড়ে উঠে! কথাটা ভাবতেই নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হতে থাকে তমালের! নিজের বাবার অনুরোধে এটা ও কি করে বসলো! একটা মেয়ের স্বপ্ন নিয়ে খেলার কোনো অধিকার ওর নেই! সেখানে ও দু-দুটো মেয়ের জীবন নিয়ে খেলছে! এই গোলকধাঁধা থেকে আজ ওকে বের হতেই হবে! নইলে ও নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না!আচ্ছা তরীর সাথে যদি এমনটা ঘটতো! ভাবতেই ওর পুরো শরীর কেঁপে উঠে।
তরী নিজের ভাইয়ের কোনো উত্তর না পেয়ে রুম থেকে চলে যেতে-যেতে বলল,
–“আমার আগেই বোঝা উচিৎ ছিলো যে, তোমাকে কোনো কথা বলা আর পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা একই ব্যাপার! কোনো উত্তর পাওয়া যাবেনা!….আমাকে কোনো ধমক দাওনি এটাইতো অনেক!”
পরের কথাগুলো আস্তে-আস্তে বললো যেন তমাল শুনতে না পায়।
তরী চলে যাওয়ার পরেও তরীর বলা কথাগুলো তমালের কানে রেকর্ডের মতো বাজতে লাগলো। আর সাফিকার মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করলো।
সাফিকার বাবা-মা আর সানিয়া আজকের ট্রেনেই গ্রামে চলে যাবে। কলিজার টুকরা মেয়েটাকে এভাবে ফেলে রেখে যেতে তাদের কারোরই মন টানছে না। কিন্তু এটাইতো নিয়ম! বিয়ের পর স্বামীর ঘরটাইতো মেয়েদের আসল জায়গা৷ আর তাছাড়া এখানে সবাই সাফিকার আপন! তারপরেও সানিয়া আর ওর মা অনেক কান্না করছে৷
কিন্তু সাফিকা পাথরের মতো শক্ত হয়ে আছে৷ ওর বাবা-মায়ের সামনে ও নিজেই যদি কান্নাকাটি শুরু করে দেয় তাহলে উনারা ভালো থাকতে পারবে না৷ সাফিকার কান্নায় পরিপূর্ণ মুখটাই উনাদের চোখে ভাসবে৷ তাই সাফিকার কান্নাগুলো মিথ্যা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে৷ কান্না পেলে সেই কান্নাটাকে আটকে রাখাটা যে কি পরিমাণ কষ্টের তা সাফিকা ভালোভাবে বুঝতে পারছে!
সাফিকার বাবা তমালের হাতের উপরে সাফিকার হাত দিয়ে বললেন,
–“মেয়েকে বিয়ের সময় জামাইয়ের হাতে তুলে দিতে হয়। কিন্তু আমি আজ দিচ্ছি! শুধু মেয়ে-জামাই নয়, আমার নিজের ছেলে হিসেবে আমি আমার কলিজার টুকরাটাকে রেখে যাচ্ছি! ও এর আগে বাইরে কখনো থাকেনি। বাইরের জীবন সম্পর্কে ওর ধারণা নেইরে বাবা, এই কয়দিন তোদের এখানে এসেছে তাই রোজ ফোন করে কান্নাকাটি করতো! আর এখনতো সারাজীবনের জন্য রেখে যাচ্ছি! মেয়েকে বিদায় দেওয়ার সময় যে একটা বাবার কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা তুই নিজে যখন বাবা হবি তখন বুঝতে পারবি!”
নিজের বাবাকে থামিয়ে দিয়ে সাফিকা বলল,
–“বাবা, তুমি এসব কি বলছো! আমি কোথায় কান্নাকাটি করেছি! তোমরাইতো সবাই কান্নাকাটি করে জোয়ার বইয়ে দিয়েছো! আর শোনো, আমি এখন সেই ছোট্ট সাফিকা নেই যে, কোথাও গেলে বাবা-বাবা বলে কান্না শুরু করবো। দেখছো না আমি কত হাসিখুশি আছি এখানে! আমাকে কি পরের বাড়িতে রেখে যাচ্ছো নাকি! এখানে সবাই আছে৷ বড় আব্বু, চাচি, তরী! তুমি একদম চিন্তা করবে না আমাকে নিয়ে৷ আর সানিয়াতো আছেই! নিজের খেয়াল রাখবে।….. আর সানিয়া! সারাক্ষণ টিভি আর ফোন না দেখে ঠিকঠাক পড়াশোনা করবি আর বাবা-মায়েরও খেয়াল রাখবি! আর নিজের খেয়ালও রাখবি। কাজ ছাড়া একদম বাইরে যাবিনা।…..আর মা, তুমি নিজেও ঠিকঠাক ওষুধ খাবে আর বাবাকেও খাওয়াবে৷ খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করবে। একদম অনিয়ম করবে না।”
সাফিকার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার সময় ও খেয়াল করলো যে, ওর হাত এখনো তমালের মুঠির মধ্যেই আছে। তাড়াতাড়ি নিজের হাত ছাড়াতে গেলে তমাল তা আরো শক্ত করে চেঁপে ধরে।
সাফিকা তমালকে বুঝতে পারছে না। এই ভালো ব্যবহার করছে আবার এই খারাপ ব্যবহার করছে! তমালের কোনটা আসল ব্যবহার আর কোনটা নকল তা বুঝতে পারছে না সাফিকা। সবাই যে বলতো, বিয়ে হলেই নাকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা অদৃশ্য মায়ার বন্ধন সৃষ্টি হয়ে যায়! তাহলে ওদের মধ্যে সেই বন্ধনটা কেন তৈরি হচ্ছে না এখনো! নাকি সম্পর্ক আসলেই এত সহজ নয়! নাকি আরো সময় লাগবে! কিন্তু সকালে তমালতো বলেছিল যে, সে নাকি সাফিকাকে ভালবাসতে পারবে না! তারমানে কি সেটাই সত্যি! ওর চাচার অনুরোধে শুধু বিয়ে করেছে তমাল ওকে! তারমানে তমাল ওকে সত্যিই কোনদিন ভালবাসবে না! কথাগুলো ভাবতেই মনের মধ্যে কল্পনার আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। ও আর কখনো তমালকে বিরক্ত করবে না! ও তমালকে এই বন্দীত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে দিবে!
সাফিকার বাবা-মা চলে যেতেই সাফিকা তমালের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তমালের রুমে চলে গেলো। তরী ওর রুম থেকে সাফিকার সব জিনিস দিয়ে গেছে তমালের রুমে।
সাফিকা এখনো জানে না যে, তমাল অন্য একটা মেয়ের জন্য ওর সাথে এমন ব্যবহার করছে।
সাফিকা চলে যেতেই তমালের খেয়াল হয় যে ও এতক্ষণ সাফিকার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল। কিন্তু কেন ধরেছিল তা ও নিজেও জানেনা। হঠাৎ ওর তরীর বলা কথাগুলো মনে পড়তেই দৌড়ে রুমে চলে যায়৷
সাফিকা মাথা নিচু করে বসে ছিলো। তমাল আস্তে-আস্তে ওর সামনে গিয়ে বলতে লাগলো,
–“চাচা-চাচি চলে গিয়েছে তো কি হয়েছে! আমরাতো আছি নাকি! আমাদের উপরে বিশ্বাস নেই! আমি আমার কথা রেখেছি। তোমাকে গ্রামে পাঠাইনি! এইবার তোমার পালা, একদম কান্নাকাটি করা যাবেনা।….কি হলো! বললাম না কান্নাকাটি করা যাবেনা! কান্নাকাটি আমার একদম সহ্য হয়না!”
তমালের কথাগুলো শুনেই সাফিকা অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকায়। সাফিকার থেকে তমাল বেশি অবাক হয়।
–“তুমি কান্না করছো না? আমিতো ভেবেছিলাম যে, সবাই চলে গেছে জন্য তুমি রুমে এসে কান্নাকাটি… ”
নিজের ব্যবহারে নিজেই লজ্জা পায় তমাল। সব দোষ ওই তরীর!
সাফিকা মৃদু হেসে তমালকে বলতে থাকে,
–“আমি বলেছি না, আমি অতোটাও ছিঁচকাদুনে নই! আপনি কি ভেবেছিলেন বলুনতো! যে, মেয়েয়া কান্না করছে! একটু স্বান্তনা দিয়ে আসি! তাইনা? থ্যাংকস আমাকে থাকতে দেওয়ার জন্য। আর সরি ফর ডিস্টার্বিং! ”
তমাল সাফিকার চোখেমুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। অথচ মুখে বড়বড় বুলি আওড়াচ্ছে! তরী ঠিকই বলেছিল! তমাল আস্তে করে সাফিকার পাশে বসতেই সাফিকা নিজেকে গুটিয়ে নেয় একপাশে।ওর এমন ব্যবহার দেখে তমাল বলতে থাকে,
–“ভয় পাচ্ছো আমাকে? দেখো সকালে কথাগুলো ওইভাবে বলতে চাইনি৷ কিন্তু চারপাশের প্রেসারে মাথা ঠিক ছিলো না৷ প্লিজ কিছু মনে করো না!”
–“ক্ষমাতো আমার চাওয়া উচিৎ! যা প্রাপ্য তার থেকে খুব বেশিই এক্সপেক্ট করে ফেলেছিলাম। সত্যিটা বলার জন্য থ্যাংকস। না হলে আমি হয়ত আরো বেশি স্বপ্ন বুনতে থাকতাম!”
–“আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই!
তমাল আসলে রিয়ার কথাটা ওকে জানিয়ে দিতে চাচ্ছে। যেন সাফিকা বুঝতে পারে যে, কেন ও সাফিকাকে আপন করে নিতে পারছে না। বিয়ে যখন করেছে সত্যিটাতো জানাতেই হবে!
–“আমাকে আরকিছু বলতে হবেনা। আমি জানি আপনি কি বলতে চাইছেন। চিন্তা করবেন না৷ আমি আপনাকে আর কখনো বিরক্ত করবো না। আমাকে থাকতে দিয়েছেন এটাই আমার জন্য অনেক! আমি কথা দিচ্ছি, চলে যাওয়ার সময় আপনি যা চাচ্ছেন তা পেয়ে যাবেন। ”
সাফিকার কথায় তমাল চমক ভেঙে বলল,
–“কিসের যাওয়ার কথা বলছ তুমি? আর আমি কি চাচ্ছি? কি দেবে তুমি আমাকে? এসব কি বলছো তুমি আবোলতাবোল? ”
–“আবোলতাবোল কেন বলব। জোর করে আর যাইহোক না কেন কোনো মিথ্যা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়না। আমাদের সম্পর্কটা বাইরের দিক থেকে সত্য হলেও ভিতরের দিক থেকে পুরোটাই মিথ্যা! আমি বুঝতে পারিনি যে, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে। তাহলে কখনো আমি আপনাকে এই বিয়েটা করতে দিতাম না। এইতো আর কটা দিন, তারপর আমি আপনাকে এই বন্ধন থেকে চিরতরে মুক্তি দিয়ে যাবো।”
কথাগুলো বলেই সাফিকা বিছানা থেকে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো৷ তমাল ওর হাত ধরে আবার বসিয়ে সাফিকার মুখটা নিজের দিকে নিলো। রাগে তমালের চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। সাফিকাকে উদ্দেশ্যে করে বলল,
–“কি যেন বলছিলে আরেকবার বলো! বন্ধন থেকে মুক্তি? কি বলছিলে এসব?”
সাফিকা তমালের হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। তমালের চোখের দিকে তাকাতেই ওর ভয় হতে থাকে। তমালের এমন রূপ দেখে ওর আত্মা শুকিয়ে যায়। সাফিকা শুকনো কণ্ঠে সাহস সঞ্চার করে বলল,
–“ডিভোর্স! ”
কথটা বলার সাথে-সাথেই সাফিকা কিছু বুঝে উঠার আগেই ওর গালে একটা থাপ্পড় পড়লো। তমালের হাতের কয়েকটা আঙুলের দাগ সাথে-সাথেই স্পষ্ট হয়ে উঠলো ফর্সা গালের উপর! তমাল নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করতে পারছে না।
–“তুমি এসব করে কি প্রমাণ করতে চাইছো? মহান সাজতে চাইছো? আমাদের সম্মানের কথা বাদ দিলাম! নিজের বাবা-মায়ের কথাটাও ভাববে না একবার? বিয়েটাকে ছেলে-খেলা মনে হয় তোমার কাছে? যখন খুশি করলে! যখন খুশি ভেঙে দিলে? তারপর যে কি হবে তা একবারও ভেবে দেখেছো? সবার অনুভূতির কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে? ”
তমালের কথা শুনে সাফিকা এতক্ষণে চোখের জলগুলোকে মুক্ত করে দিলো। তারপর কান্না করতে-করতে বলল,
–“বাহ! আপনি সবার দিকটা দেখছেন! অথচ আমার দিকটা! আমার দিকটা একবারও ভেবে দেখেছেন? সবাইকে খুশি রাখব! আর দিনশেষে আমার কি হবে? আমার খুশিগুলো? নিজের খুশি বিসর্জন দিয়ে অন্যকে খুশি করার মানে জানেন? সবাইকে ধোঁকা দেওয়া! যেদিন তারা সত্যিটা জানতে পারবে সেদিন তারা কি নিজেদের ক্ষমা করতে পারবে? অভিনয় আপনি করতে পারলেও আমি পারবো না! আমি চাইনা আমার জন্য কারো লাইফ নষ্ট হোক। আর এতে শুধু আমার নয়, আপনারই বেশি ভালো! আপনি আপনার ইচ্ছেমতো মুক্ত জীবন-যাপন করতে পারবেন!”
–“তুমি আবারও সেই কথা বলছো! আমি তোমার সাথে আমার সম্পর্কটাকে হ্যান্ডেল করতে চাইছি, আর তুমি সব বিগড়ে দিতে চাইছো! আমার কথাটাতো আগে শুনবে নাকি! নিজের খুশি দিয়ে সবসময় সবকিছু বিচার করা যায়না। মাঝেমধ্যে নিজের খুশিটাকে বিসর্জন দিতে হয়! এটাইতো জীবন! ”
–“কিন্তু আমি চাইনা আমার জন্য আপনার লাইফ…”
এটুকু বলতেই তমাল সাফিকাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
–“নেক্সট টাইম এধরনের কথা যেন না শুনি! আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করো! তাহলে নেক্সট টাইম আর এমনটা হবেনা! সরি ফর দ্যাট!আমাকে আর কখনো রাগাবে না৷ আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না! ”
কথাগুলো বলেই বিষন্ন মনে রুম থেকে বের হয়ে যায় তমাল। সাফিকাকে মারাটা ঠিক হয়নি! কিন্তু রাগ কন্ট্রোল করতে পারছিলো না তমাল! সবাই কত আশা করে আছে যে, তমাল সাফিকার খেয়াল রাখবে! আর ওই মেয়েটা দু লাইন বেশি বুঝে! যার কারণে এমনটা হয়ে গেলো! তমালের নিজের উপরেই প্রচুর রাগ হচ্ছে।
তমাল চলে যেতেই গালে হাত দিয়ে বসে থাকে সাফিকা। তমাল ওর সাথে কেন এমন করছে! নাতো ওকে সহজে গ্রহণ করছে! আর নাতো বর্জন করতে চাইছে! তমাল আসলে কি চায়! বুঝতে পারে না সাফিকা! একজন মানুষের এতদ্রুত মুড সুইং হয় কীভাবে তা সাফিকার মাথায় আসে না!
চলবে…