#ধুসর_আকাশ
#৫ম_পর্ব
#স্নিগ্ধতা_প্রিয়তা
ঘুমাতে যাওয়ার আগে তমাল ভাবলো যে, রিয়ার সাথে একবার কথা বলা উচিৎ। কাল রাত থেকে একবারও কথা বলেনি। মেয়েটা এতবার ফোন করছে! কিন্তু ফোন ধরে তমাল কি বলবে তাই বুঝতে পারছে না৷ তারপরেও কিছুটা দ্বিধা নিয়েই রিয়াকে কল করলো। রিয়া কল রিসিভ করেই যা বলল তা শোনার জন্য তমাল মোটেও প্রস্তুত ছিলো না,
–“বাহ তমাল! বিয়ে করে বউ নিয়ে খুব মজা করছো তাইনা? আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না? অবশ্য আমাকে জানালেতো আর তোমার মনের আশা কখনো পূর্ণ হতো না!”
–“রিয়া তুমি এসব কি বলছো? আমি বিয়ে করেছি একথা তুমি কি করে জানলে?”
–“কেন আমাকে জানাতে চেয়েছিলে না নাকি? দুজনের জীবন নষ্ট করার ধান্ধায় ছিলে মনে হয়! বাট, তোমার সেই আশাটা আর কোনদিন পূর্ণ হবে না! আমি সবটা জেনে গেছি! তুমি এতটা নিচ প্রকৃতির ছেলে তা আমার জানা ছিল না! আর তোমার চাচাতো বোনটাও তোমার মতই ফাস্ট! যেমন যেমন-তেমন তেমন! তোমাদের জুটিটা বাংলাদেশের বেস্ট জুটি হওয়া দরকার ছিলো! দুশ্চরিত্র ছেলের জন্য একটা দুশ্চরিত্রা মেয়েই পারফেক্ট! ”
তমাল এইবার প্রচুর রেগে যায়। রিয়াকে একটা ধমক দিয়ে বলে,
–“দেখো রিয়া! আমি তোমাকে ঠকাতে চাইনি! আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা করো!তুমি সাফিকার চরিত্র নিয়ে কেন কথা বলছো! তুমি এসব জানলে কি করে?”
–“রাশেদ বলেছে। কালতো ও নিজে চোখে সব দেখেছে আর নিজে কানে সব শুনেছে তোমাদের দুইজনের কাহিনী! ওইরকম মেয়েদের জন্যই পুরো নারী জাতির বদনাম হয়ে যায়! অবশ্য মেয়েটাই বা কি করবে! তোমাকে দেখে…”
আরকিছু বলার আগেই তমাল রেগে গিয়ে রিয়াকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
–“আরেকবার সাফিকার চরিত্র নিয়ে কথা বললে আমি ভুলে যাবো যে, আমি তোমাকে ভালবাসি! আমার ভাবতেও অবাক লাগছে যে, তুমিও আমাকে ভুল বুঝলে! আমি ভেবেছিলাম যে, আর কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক অন্তত তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে! তুমিতো জানো আমি কেমন ছেলে! কিন্তু তুমিও অন্য সবার মতই….”
–“কেন? তুমি কি ভেবেছিলে? তুমি একটা মেয়ের সাথে নোংরামি করবে! তারপর কাহিনী করে তাকে বিয়ে করবে! আর আমি তোমাকে সাদরে গ্রহণ করে নেবো! এমনটা ভেবেছিলে তাইতো? কিন্তু তোমার সে আশায় গুড়েবালি! আজকের পর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করার কথা স্বপ্নেও ভাববে না! তোমার মতো ছেলের সাথে কথা বলাও পাপ!”
কথাগুলো বলেই খট করে কলটা কেটে দেয় রিয়া। রাশেদ জানে যে তমাল কেমন ছেলে! তারপরেও ও রিয়াকে এসব কথা কি করে বলতে পারলো! কালকে রাশেদকে বলাই ভুল হয়েছিলো! কিন্তু রাশেদ বললো আর রিয়া সেটাই বিশ্বাস করে নিলো! এই চিনেছে রিয়া ওকে! ও ভেবেছিলো যাকে এত ভালবাসে সে অন্তত ওকে বুঝবে! কিন্তু রিয়াও ওকে ভুল বুঝলো! এতদিন ও কাকে ভালবেসেছে! ওর ভালবাসা কি মিথ্যা ছিলো? অন্তত আসল ঘটনাটা কি সেটা শুনে তারপর জাজ করতো তমালকে! কিন্তু ও রাশেদের মুখে শোনা কথাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিলো!
রাগটাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে হাতের ফোনটাই ছুড়ে ফেলে দিলো৷ তা ছাদের উপরে পড়তেই ভেঙে ব্যাটারি আর কভারগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লো চারদিকে। তারপর ভাঙা ফোনটাকে ওখানে ফেলেই রেগে ছাদ থেকে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।
রাত হলেই সব কথা যেন বেশি করে মনে পড়তে থাকে। এখন যেমন সাফিকার ওর বাড়ির কথা মনে পড়ছে খুব। সানিয়ার সাথে করা খুনসুটি! ওর মা-বাবার সাথে মজা করা! গ্রানের মুক্ত পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো! সব স্মৃতিরা যেন ভীড় করেছে। এসব ভাবতেই চোখের কোণা থেকে কয়েকফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। ঘুম যেন আসতেই চাইছে না। তারপর একা রুমে আরো খারাপ লাগছে৷ তরীর ওখানে গিয়েছিলো, তাড়িয়ে দিলো, বলল এখন থেকে রাতে ওর রুমে নট এলাউ! অথচ তমালও অনেকক্ষণ হলো কোথায় যেন গেলো বের হয়ে৷ মনে হলো খুব জরুরি কাজ আছে।
তমাল রুমে এসে দেখলো যে সাফিকা ঘুমিয়ে পড়েছে। রিয়ার সাথে কথা বলে ভীষণ রেগে আছে তমাল। রুমে এসে সাফিকাকে দেখে ওর রাগটা দ্বিগুণ হয়ে গেলো। যে মেয়েটার জন্য ওর জীবনে এত সমস্যা! সে আরামে ওর বিছানায় ঘুমুচ্ছে! এটা যেন ওর সহ্য হচ্ছে না!
তমাল রুমে এসেছে বুঝতে পেরে সাফিকা চোখ খুলে বলল,
–“কোথায় ছিলেন এতক্ষণ? ”
কথাটা বলতে না বলতেই তমাল যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো।
–“কেন? তোমাকে সেই কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি? আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছো! আবার আমার কাছেই কৈফিয়ত চাইছো? তোমাকে মানা করেছি না, আমার পার্সোনাল লাইফে একদম ইন্টারফেয়ার করবে না! একটা কথা একবার বললে কানে যায়না! তোমার মুখটা দেখলেই আমার রাগে গা জ্বালা করে! নিজের ওই মুখটা আমার থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে! আমি যতক্ষণ রুমে থাকি ততক্ষণ আমার আশেপাশে থাকবে না বেশি! তোমাকে দেখলেই আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়!”
কথাগুলো বলেই তমাল বেলকনিতে চলে গেলো। সাফিকা বোবার মতো ওর দিকে তাকিয়ে আছে৷ ওতো শুধু জানতে চেয়েছিলো যে, এতক্ষণ কোথায় ছিলো! এটা জানতে চাওয়াটা কি খুব বড় অপরাধ! সাফিকার নিজেরও প্রচুর রাগ! এখানে আসার পর থেকে সবসময় রাগের আগুনটাকে ছাইচাপা দিয়ে রেখেছিলো! কিন্তু এখন আর যেন তা চাপা থাকতে চাইছে না! তারপরেও সাফিকা অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো!
একটু পরেই তমাল এসে ওর পাশে শুয়ে পড়লো। সাফিকা আর একটা কথাও বলছে না।
তমাল সাফিকাকে বকা দেওয়ার পর নিজেই আবার অনুতপ্ত হয়! রিয়ার রাগগুলো সব সাফিকার উপরে চাপিয়ে দিয়ে যেন ওর রাগটা অনেকটা কমে গেছে। তাই সাফিকার সাথে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার জন্য বলল,
–“তোমাকে আমি আবারো বলছি, আমার রাগ হয় এমন কোনো কাজ করবে না! আমি নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করতে পারি না। তারপরও…. ”
এটুকু বলেই থেমে যায় তমাল। কারণ এখন সাফিকা এমন কিছুই করেনি যার কারণে ও সাফিকাকে এত কথা শুনালো।
তমালের এই স্বাভাবিক আচরণে সাফিকার রাগটা কমার বদলে আরো বেড়ে গেলো। ও তমালের দিকে ঘুরে বলতে লাগলো,
–“আমাকে আপনার কি মনে হয় বলুনতো? একটা পুতুল! আমাকে করুণা করে বিয়ে করেছেন! থাকতে দিচ্ছেন! তাই বলে কি আমি আপনার কেনা গোলাম হয়ে গেছি? যখন ইচ্ছে হবে ভালো ব্যবহার করবেন! যখন ইচ্ছে হবে খারাপ ব্যবহার করবেন! আমি কি মানুষ না নাকি? দুঃখ-কষ্ট আমারও আছে! আপনি বারবার আপনার জীবন তছনছ করার কথা বলছেন! আচ্ছা আমি আপনার কি তছনছ করেছি বলতে পারবেন? আমি আপনার পরিবার থেকে আপনাকে আলাদা করে দিয়েছি? নাকি আপনার… ”
এটুকু বলতেই তমাল নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে বলল,
–“তুমি এখনো বুঝতে পারছো না তুমি কি তছনছ করেছো? নাকি না বুঝার নাটক করছো? আমি রিয়াকে ভালবাসতাম! শুনেছো এইবার? আমি শুধু রিয়াকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম! কিন্তু শুধুমাত্র তোমার জন্য রিয়াও আমাকে ভুল বুঝলো! অন্যসবাই আমাকে ভুল বুঝেছে এতে আমি যতটা না কষ্ট পেয়েছি! তার চেয়ে হাজার-গুণ বেশি কষ্ট পেয়েছি আমি রিয়ার ব্যবহারে। ও আমাকে ভুল বুঝেছে! বুঝতে পারছো তুমি ব্যাপারটা!”
সাফিকা তমালের মুখে রিয়ার নাম শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো৷ ওর বুকের ভিতরটা যেন দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে! তমাল ওকে পছন্দ করেনা সেটা ও মেনে নিয়েছিলো! কিন্তু অন্য একটা মেয়ের জন্য ও সাফিকাকে এতগুলো কথা শুনাচ্ছে এটা ও কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না৷ ওর মন চাইছে এক্ষুণি ছুটে গ্রামে চলে যেতে। যা হওয়ার হবে! ওখানে রিমনতো বাইরে গেলে শুধু বিরক্ত করে! কিন্তু এখানে! ঘরের মধ্যেই ও যে মানসিক চাপের শিকার হচ্ছে! না পারছে কাউকে বলতে! আর না পারছে এসব আর সহ্য করতে! রুমের বাইরে ওর চাচির কালোমুখ সহ্য করে আবার রুমের ভেতরে তমালের তিক্ততা ও আর নিতে পারছে না!
–“আমাকে মাফ করবেন যে, আমি না জেনেশুনে আপনার ভালবাসার মাঝে ফাটল ধরিয়েছি! আমি না থাকলেই যদি আপনার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাহলে আমি আর সেটা বাড়াতে চাইনা। আপনি কালকে যদি একবার আমাকে এই কথাটা জানাতেন যে, আপনি কাউকে ভালবাসেন তাহলে আমি কখনই আপনাকে বিয়ে করার জন্য রাজি হতাম না! আর বড়-আব্বুর কথা রাখতে না হলেতো আমি…”
এটুকু বলেই থেমে যায় সাফিকা। ওর দুচোখ ভর্তি তমালের জন্য ঘৃণা জমে উঠে। একটা মানুষকে এতটা বহুরূপী কেন হতে হবে! আজকে ওর বাবা-মায়ের সাথে গ্রামে যেতে দিতে পারলেই হতো! তাহলে এত কথা শুনতে হতো না সাফিকাকে!
–“এরমধ্যে তুমি আবার বাবাকে কেন টেনে আনছো? ”
সাফিকা এখন কি করে বলবে যে, তমালের বাবাই সাফিকাকেও জোর করেছিল তমালকে বিয়ে করার জন্য! কারণ সাফিকার পেছনে সবাই যেভাবে লেগে আছে তাতে উনি ভয়ে ছিলো যে, এখানেও যখন এতবাজে ভাবে ওর বিয়েটা ভাঙলো তারমানে যেখানেই যাক কেউ একজন আছে যে ওর ক্ষতি চায়! আর একারণেই সাফিকাকে গ্রামে পাঠিয়ে সাহস পায়নি! হয়তো ওখানে ওর জন্য নতুন কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে!
–“কি হলো? এখন কিছু বলছো না কেন?”
—“হ্যাঁ, বড় আব্বুর কথাতেই আমি আপনাকে বিয়ে করেছি! কারণ তিনি আমাকে কোনো বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছিলেন না!”
–“বাহ! আমার বাবাকেতো ভালই হাত করে নিয়েছো! তোমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে নিজের ছেলেটাকেই জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিলেন! আরে ভাই কোনো ভালো ছেলে দেখে তোমাকে বিয়ে দিলেইতো….”
এটুকু বলেই তমাল থেমে গেলো৷
–“পরেরটুকু কেন বললেন না? কে বিয়ে করতো আমাকে? আর সে বিয়েটা ভাঙাতো আরো সহজ হতো! কারণ এখনতো আমি একটা কলঙ্কিতা মেয়ে! যার এতবড় একটা কলঙ্ক তাকে কে বিয়ে করবে! আপনি সুখী আছেন আমাকে বিয়ে করে? আপনিতো জানেন আমি কেমন মেয়ে? ”
তমাল আরকিছুই বলতে পারে না। সাফিকা বলতে থাকে,
–“আমি কালকেই গ্রামে চলে যাবো৷ ঘরবন্দী হয়ে থাকবো! তবুও এসব আমি আর সহ্য করতে পারছি না। একদিনেই আমি হাপিয়ে উঠেছি! এরপরের দিনগুলো কীভাবে কাটাবো এখানে! যে আমাকে ভরসা দিয়ে রেখে দিলো সেই যদি এমন করে তাহলে…”
–“সরি! রিয়ার সাথে কথা বলে মন-মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো!”
–“কারো সাথে রাগলে সেই রাগটা এখন থেকে আমার উপরেই ঝাড়বেন বলে ঠিক করে ফেলেছেন মনে হচ্ছে!”
–“সরি বললামতো!”
–“সরি দিয়ে সবকিছুর সমাধান হয়না মিস্টার তমাল! আর আপনি ভালবাসার কথা বলছেন? যে ভালবাসায় একে-অপরের প্রতি বিশ্বাসটাই নেই তাকে আপনি ভালবাসা বলছেন? যাকে ভালবাসেন সেই যদি আপনাকে বিশ্বাস না করে তাহলে সেই ভালবাসার কি মূল্য থাকতে পারে?”
–“তোমার ভালবাসার মানুষটি তোমাকে ধোঁকা দিলে তুমি কি করতে? তুমি কি তাকে ভুল বুঝতে না? এমনি-এমনি মাফ করে দিতে তাকে?”
–“আপনি কি সত্যিই কোনো ভুল করেছেন? আপনি তাকে সত্যটা বলার পরেও যদি আপনাকে বিশ্বাস না হয়, তাহলে একবার অন্তত সত্যটা যাচাই করা উচিৎ ছিলো! আপনি কেমন ছেলে তা ওই মেয়েটার ভালো করেই জানার কথা! এতবড় একটা জঘন্য কাজ আপনি করতে পারেন তা সে এত তাড়াতাড়ি কি করে বিশ্বাস করে নিলো?”
তমাল আরকিছু না বলে একদম চুপ হয়ে গেলো। সাফিকাও চুপ হয়ে যাওয়ায় রুমে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করতে লাগলো!
সকালে ঘুম থেকে উঠে সাফিকা ওর চাচির সাথে নাস্তা বানাচ্ছে। ওর চাচি ওর সাথে একটা কথাও বলছে না৷ সাফিকা ব্যাপারটা হজম করার চেষ্টা করছে!
তরী নাস্তা করে কলেজে চলে গেছে। তমাল আর ওর বাবাও অফিসে চলে গেছে৷ সাফিকার চাচি নিজের রুমেই আছেন৷ সাফিকা সেখানে গিয়ে সাহস পাচ্ছেনা৷ নিজের রুমে একা-একা দম বন্ধ হয়ে আসছে সাফিকার! বিয়ের আগে সারাদিন ওর চাচির আশেপাশেই থাকতো৷ সময় কেটে যেতো৷ কিন্তু এই বিয়েটা যেন ওর জীবনে অমানিশা হয়ে ঘিরে ধরেছে!
দুপুরেও চুপচাপ তমালের মায়ের সাথে সাফিকা রান্না-বান্না করলো! তারপর নামাজ-কালাম পড়ে তরীর সাথে দুপুরের খাবার খেলো৷ তরী দুপুরের দিকে কলেজ থেকে ফেরায় সাফিকা যেন দেহে প্রাণ ফিরে পেলো। তরীর সাথে কথা বললে সাফিকার নিজেকে একটু হালকা মনে হয়! ভালো লাগা কাজ করে! তমালও আজ সকালে ওর সাথে একটা কথাও বলেনি! ওর চাচা অবশ্য ওর চাচীকে বারবার সাবধান করে দিয়ে গেছে যেন, সাফিকার সাথে কোনো ঝামেলা না করে! সাফিকা বুঝতে পারছে না যে, এভাবে আর কয়দিন চলবে! একদিনেই ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে! এভাবে চলতে থাকলে ও পুরোপুরি পাগল হয়ে যাবে যে!
চলবে…..