#ধুসর_আকাশ
#৭ম_পর্ব
#স্নিগ্ধতা_প্রিয়তা
সন্ধ্যা থেকেই তমালের ভীষণ জ্বর। বিছানা ছেড়েও উঠতে পারছে না৷ একেতো হাতের ব্যাথা, তার উপরে জ্বর৷ দুপুরেও কিছুই খায়নি। বলেছে যে, দুপুরে বাইরে খেয়ে এসেছে।
রাতে তুষার ওষুধ এনে দিলো৷ সাফিকা স্যুপ বানিয়ে খাইয়ে দিলো। তারপর ওষুধ খাইয়ে দিলো। তবুও জ্বর কমার নাম নেই। রাতের সাথে-সাথে জ্বরও যেন বাড়ছে!
সাফিকা একটা টুল নিয়ে তমালের মাথার কাছে বসে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে। যতক্ষণ জলপট্টি দিচ্ছে ততক্ষণ একটু নিরব থাকে তমাল। জলপট্টি দেওয়া বন্ধ করলেই তমাল ছটফট করতে থাকে। সাফিকা নিজের ঘুম বাদ দিয়ে তমালের কপালে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে৷
বারবার ঘুমে ঢুলে পড়ছে সাফিকা। তারপরেও রাত জেগে তমালের সেবা করে যাচ্ছে।
জ্বরে তমালের যেন কোনো হুশ নেই। মরার মতো পড়ে আছে। মাঝরাতের দিকে তমালের হুশ ফিরে। জ্বর কিছুটা কমেছে। তবে শরীরটা ভীষণ দুর্বল। উঠে বসার মতো শক্তিটুকুও যেন নেই। ও দেখে যে ওর পাশেই বিছানার উপর হাতের উপর মাথাটা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে সাফিকা। সাফিকার মুখটা আজ ভালো করে খেয়াল করে তমাল। কি যেন এক মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে সাফিকার মুখটা। যা তমালকে বারবার আকর্ষণ করছে। এতদিন এই মায়ায় কেন পড়েনি তমাল! নাকি এতদিন সাফিকাকে কখনো ভালো করে দেখেইনি!
তমাল বিছানা থেকে নামতে গিয়ে আবার বিছানার উপর বসে পড়ে। শরীরটা যেন উঠতে সায় দিচ্ছে না। সাফিকাকে ডাকতে গিয়েও ডাকে না তমাল। পুরোপুরি হুশ না থাকলেও তমাল এটা বুঝতে পেরেছে যে, সাফিকা নিজের ঘুম বাদ দিয়ে সারারাত ওর সেবা করেছে।
সাফিকার কপালের উপর থেকে চুলগুলো সরাতেই তমালের হাতের স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় সাফিকার। সাফিকা একলাফে টুল থেকে উঠে পড়ে। তারপর তমালের সামনে গিয়ে ওর কপালে হাত দিয়ে দেখে যে জ্বর অনেকটা কমে গেছে। তমাল হেসে ফেলে। তারপর বলে,
–“আমি ঠিক আছি। বিছানায় শোয়া বাদ দিয়ে তুমি টুলের উপরে কেন ঘুমাচ্ছিলে?”
সাফিকা তমালের কপাল থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বলতে থাকে,
–“না মানে, কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি। আপনার এখন কেমন লাগছে? বিছানা থেকে উঠেছেন কেন?”
–“আমার এখন একটু ভালো লাগছে। বউয়ের সেবায় স্বামী সুস্থ না হয়ে পারে! আমিতো ভাবলাম যে ভয়ে তুমি আমার পাশে শোও নি! আমার জ্বরটা যদি তোমারও হয়ে যায়!”
বলেই আবার হাসতে থাকে তমাল। সাফিকা লাজুক একটা হাসি দিয়ে বলে,
–“জ্বর কি ছোঁয়াচে রোগ নাকি যে আপনার পাশে থাকলেই আমারও হয়ে যাবে! আর সেই ভয় থাকলে রাত জেগে কি আর আপনার সেবা করতাম নাকি!”
–“জ্বর হলে কি মানুষ মারা যায় নাকি! সামান্য জ্বরেই যদি তুমি এত সেবা-যত্ন করো তাহলে বড় কোনো অসুখ হলেতো আর সেবাই করতে চাইবে না। সব সেবা এখনি দিয়ে দিবে মনে হচ্ছে?”
–“আপনি এতরাতে বিছানা থেকে উঠেছেন কেন?”
–“দেখেছো তোমার সাথে কথা বলতে গিয়ে বাথরুমে যাওয়ার কথাও ভুলে গেছি! এই সাহায্যটা আশা করি করবে?”
–“চলুন, আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
বলেই সাফিকা তমালের হাতটা ধরে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায়। তারপর ও বের হয়ে আসে আর ভাবতে থাকে যে, তমাল সত্যিই একা যেতে পারছিলো না নাকি ইচ্ছে করে ওকে নিয়ে যেতে বলল!
তমাল বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর সাফিকা আবার ওর হাত ধরে বিছানা পর্যন্ত নিয়ে আসে। তারপর বিছানায় শুয়ে তমাল পেটে হাত দিয়ে বলতে থাকে,
–“জ্বরতো চলে গেছে কিন্তু পেটের মধ্যে যে ইঁদুর-ছুঁচো গুলো দৌড়াচ্ছে সেগুলো তাড়াতে পারলে আরো ভালো হতো। কিন্তু এতরাতে কাউকে বিরক্ত করতে চাচ্ছিলাম না!”
কথাটা বলে তমাল সাফিকার দিকে তাকায়৷ সাফিকা তমালের কথার মানে বুঝতে পেরে বলে,
–“আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন আমি আসছি।”
বলেই সাফিকা রুম থেকে বের হয়ে যায়। তমাল সাফিকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–“দেখো ফ্রিজে যা থাকে তাই নিয়ে আসো৷ একটা কিছু হলেই চলবে!”
সাফিকা ফ্রিজ খুলে দেখে যে ঠান্ডা ভাত আর তরকারি আছে। আর বাকি যা আছে সব ঠান্ডা!এতরাতে এগুলো গরম করার চাইতে গরম কিছু রান্না করাই ভালো!
সাফিকা রান্নাঘরের দরজাটা বন্ধ করে নেয় যেন কারোর কোনো অসুবিধা না হয়৷ এতরাতে সবাই ঘুমাচ্ছে! তারপর নুডলস সেদ্ধ করে ফ্রিজ থেকে আগে থেকে কেটে রাখা পেয়াজ-মরিচ দিয়ে আর ডিম দিয়ে নুডলসটা রান্না করে তমালের জন্য নিয়ে যায়।
সাফিকা রান্নাঘর থেকে বের হতেই দেখতে পায় যে তুষার ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে খাচ্ছে। দু’জন দু’জনকে দেখে চমকে যায়। তারপর তুষার সাফিকার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
–“এতরাতে তুমি রান্নাঘরে কি করছো?”
সাফিকা আমতা-আমতা করে বলল,
–“আপনার ভাইয়ের ক্ষুধা পেয়েছে তাই! আসলে রাতেও কিছু খায়নি!”
–“এখন কি অবস্থা ভাইয়ার? জ্বর কি কমেছে?”
–“হ্যাঁ, এখন একটু সুস্থ।”
–“তাই বলে তুমি এতরাতে রান্না করবে? ভাইয়ার কি জ্ঞান-কান্ড বলে কিছু নেই! এতরাতে তোমাকে রান্না করতে পাঠিয়েছে!”
সাফিকা তাড়াতাড়ি করে তুষারকে বলতে থাকে,
–“আরে উনি কিছু রান্না করতে বলেনি। আমিই রান্না করলাম। ভাবলাম ঠান্ডা খাবার খাওয়ার থেকে কিছু রান্না করে দিই।”
–“ফ্রিজে কি খাবার নেই নাকি? গরম করে দিলেইতো হয়! আবার রান্না করতে হবে?”
–“আস্তে…..”
একথা বলতে না বলতেই সাফিকা দেখতে পায় যে তমাল রুম থেকে বের হয়ে এসেছে৷ সাফিকা ওর হাতের ট্রে’টা পাশেই টেবিলের উপর রেখে তমালের দিকে এগিয়ে যায়৷ তমাল তুষারকে দেখে জিজ্ঞেস করে,
–“তুই এতরাতে এখানে কি করছিস?”
–“আমিতো পানি খেতে এসেছিলাম। দেখলাম সাফিকা এতরাতে রান্না করছে।…… তা তুমি এখন ঠিক আছোতো?”
–“হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি। তোকে না বলেছি, সাফিকাকে এখন থেকে ভাবি বলবি। আগে যাই বলতি না কেন এখন ও তোর ভাবি! সো, ভাবি বলবি!”
তারপর সাফিকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–“আর তুমি এতরাতে আবার কি রান্না করতে গিয়েছো?”
তুষার আরকিছু না বলে ওখান থেকে চলে গেলো৷ সাফিকা তমালকে ধরে রুমে নিয়ে যেতে-যেতে বলল,
–“আপনি আবার বিছানা থেকে নেমেছেন কেন? আমিতো যাচ্ছি।”
–“আমি কি তোমাকে রান্না করতে বলেছি নাকি! ”
–“আচ্ছা কথা না বলে চুপচাপ এখানে বসুন। আমি খাবারটা নিয়ে আসি। ”
তারপর নুডলস এনে চামচ দিয়ে তমালকে খাইয়ে দিতে লাগলো সাফিকা। তমাল চামচটা সাফিকার মুখের দিকে দিয়ে বলল,
–“আমি একাই খাবো নাকি! তুমিও খাও। এত কষ্ট করে রান্না করলে একটু টেস্ট করে দেখবেনা?”
সাফিকা নিজের মুখ সরিয়ে নিয়ে তমালকে বলল,
–“আমিতো রাতে খেয়েছি। আপনি খান। আর আমার রান্নার টেস্ট আমার জানা আছে।”
তমাল জোর করে সাফিকাকে খাইয়ে দিয়ে বলল,
–“আমার সাথে খাও এখন৷ আমার বউয়ের হাতের রান্না যে এতো সুস্বাদু তাতো আগে জানতাম না!”
সাফিকা মুখের খাবারটা শেষ করে নিয়ে বলল,
–“আগে কি আমাকে বউ ভেবেছেন? আমাকেতো শুধুমাত্র একটা সমস্যা মনে করেছেন! আর সমস্যা মানেইতো বিরক্তিকর জিনিস!”
–“ওকে, নেক্সট টাইম আমার বউকে বউ হিসেবেই দেখবো। আর তার সবদিকেই খেয়াল রাখবো। এখন এটাই যে আমার দায়িত্ব! এতদিনতো কোন অন্ধকারে ডুবে ছিলাম! আজ আলোর দিশা খুঁজে পেয়েছি! সেই আলোয় আমি আমাদের বাকি জীবনটা আলোকিত করে নিতে চাই!”
খাওয়া শেষ করে সাফিকাও তমালের পাশে শুয়ে পড়লো। তমালের জ্বর কিছুটা কমলেও ওর শরীরের উত্তাপ সাফিকা অনুভব করতে পারছিলো!
সকালে তমাল অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠলেও তমালের বাবা-মা ওকে অফিসে যেতে বারণ করলো৷ তমালও অফিস থেকে একদিনের ছুটি নিয়ে নিলো৷ ওর হাতে কি হয়েছিলো তা এখনো কেউ জানেনা। আর আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে কেউ কিছু জানতেও চায়নি। ব্যাপারটা তমালের জন্য ভালই হয়েছে৷ না হলে সবাইকে মিথ্যা বলতে হতো। সত্যিটাতো আর বলা যাবে না!
হাতের ড্রেসিং করানোর জন্য তমাল হাসপাতালে যাবে শুনে সাফিকাও ওর পিছু নিলো৷ তমালের অনিচ্ছাসত্ত্বেও সাফিকার অনুরোধ ফেলতে পারলো না।
সাফিকা আজ প্রথম তমালের সাথে বাইরে বের হয়েছে৷ এক রিকশায় দু’জনে পাশাপাশি বসেছে৷ এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি! সাফিকার স্বপ্নগুলো যেন পূরণ হতে চলেছে এক-এক করে! তমালের সাথে রিকশায় যেতে ভালই লাগছে ওর কাছে।
তমাল রিয়ার সাথে অনেকবার অনেক জায়গায় ঘুরেছে৷ তবে আজ সাফিকার সাথে ঘুরতে ওর অন্যরকম ভালো লাগছে। যদিও ওরা ঘুরছে না, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে। তারপরেও এটাকেও এক ধরনের ঘুরাঘুরিই মনে হচ্ছে!
ডাক্তার দেখানো শেষে ওষুধ নিয়ে ওরা আবার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। সাফিকা এর আগে শহরে তেমন একটা আসেনি। আসলেও কিছু ঘুরে দেখেনি। আজ তমালের সাথে বের হয়ে মনে হচ্ছে সারা শহর একদিনেই ঘুরে শেষ করে দেবে। তমাল অসুস্থ না হলে সাফিকা আজকেই ওকে নিয়ে ঘুরতে বলতো। কিন্তু এখন এইকথা বলাটা ঠিক হবে না।
তমাল হয়তো সাফিকার মনের অবস্থাটা বুঝতে পেরেছিলো। তাই রিকশাওয়ালাকে বলল পাশের একটা রিসোর্টে নিয়ে যাওয়ার কথা।
তমালের মুখে রিসোর্টের কথা শুনে সাফিকা খুশিও হলো আবার কিছুটা অবাকও হলো। তারপর বলল,
–“বাসায় যাবেন না? এখন আবার রিসোর্ট কেন? আপনি না অসুস্থ?”
–“তুমি এত কথা বলো কেন! আমি কি অনেক অসুস্থ নাকি! হাতে একটু লেগেছে আর কি! ”
–“আচ্ছা আপনার হাতটা কাটলো কীভাবে?”
তমাল যেন এই ভয়টাই পাচ্ছিলো। এখন সাফিকাকে কি উত্তর দিবে!তারপর অনেক ভেবেচিন্তে বলল,
–“আমার অফিসের টেবিলটা ভেঙে গিয়েছে৷ ওইটার কাঁচের টুকরো হাতে লেগেছিলো। তাই আর কি!”
–“আপনার হাতে কি করে লাগলো?”
–“কীভাবে আবার! আমার হাতটা ওখানেই ছিলো।… আচ্ছা চলো, আমরা চলে এসেছি রিসোর্টে!”
তারপর দু’জনে অনেক মজা করলো। দুপুরের কিছুটা পরে বাসায় ফিরতেই তমালের মা তমালের দিকে এগিয়ে এসে বলল,
–“দেখি বাবা তুই ঠিক আছিসতো? ডাক্তার দেখাতে এত সময় লাগে? কোথায় ছিলি তোরা? ”
তমাল ওর মাকে শান্ত করে বলল,
–“মা, তুমি একটু বেশিই চিন্তা করছো! আমিতো ঠিক আছি৷ আমি সাফিকাকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসলাম৷ সারাদিন বাসার মধ্যে বন্দী থাকে!”
ওর মা অনুশোচনার সুরে বলতে লাগলো,
–“ঘরে বন্দীতো আমিও থাকি! কই আমার কথাতো কেউ কখনো এভাবে চিন্তা করে না! আর বউ আসতে না আসতেই বন্দী হয়ে গেলো!”
–“মা তুমি বিষয়টাকে অন্যভাবে কেন নিচ্ছো! সাফিকা গ্রাম থেকে এসেছে৷ এমন পরিবেশে থেকে ও অভ্যস্ত নয়। আর তাছাড়া ওর উপর দিয়ে যা ধকল যাচ্ছে তোমার বোঝা উচিৎ! তুমি ওকে একটু সাপোর্ট করবে তা নয় তুমি ওর উপর আরো প্রেসার ক্রিয়েট করছো! তুমি কেন ওকে আপন করে নিতে পারছো না?”
সাফিকা তমালের হাত ধরে ওকে শান্ত করানোর চেষ্টা করল।
–“আপনি চাচিকে এসব কি বলছেন! চুপ থাকুন৷ চাচি আমাকে অনেক ভালবাসে৷ আপনি শুধু-শুধু ভুল বুঝছেন!”
তমালের মা সাফিকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–“আমার ছেলেটাকেতো হাত করে নিয়েছিস! আর স্বামীকেতো অনেক আগেই হাত করে রেখেছিস! আমাকে হাত করা অতো সহজ নয়!”
বলেই উনি ওখান থেকে চলে গেলেন। তমাল নিজের মাকে বুঝানোয় ব্যর্থ হয়ে সাফিকার সাথে রুমে চলে গেলো। সাফিকার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ওর জন্য ওর চাচি তমালকে ভুল বুঝছে। আর তমালেরও ওর মায়ের সাথে সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! এভাবে চলতে দেওয়া যায়না!
সানিয়া আজ ফোন করে জানালো যে, সাফিকার বিয়ে হয়ে গেছে শুনে রিমন নাকি আবার বিদেশে চলে গেছে। কথাটা শুনে সাফিকা যেন খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।
তমাল অনেকদিন পর সাফিকাকে এত খুশি দেখে জিজ্ঞেস করলো,
–“কি ব্যাপার? আজ এতো খুশি?”
সাফিকা খুশিতে তমালকে জড়িয়ে ধরে বলল,
–“ওই রিমন ইডিয়টটা আমার বিয়ের কথা শুনে আবার বিদেশে চলে গেছে। আমার কি যে আনন্দ লাগছে! আমি আবার বাড়ি যেতে পারবো৷ আনন্দে ঘুরে বেড়াবো! ভাবতেই ভালো লাগছে!”
তমাল সাফিকার কাঁধে হাত রেখে বলল,
–“আমাকেও নেবে নাকি একাই পাড়ি জমাবে?”
তমালের কথা শুনে সাফিকা যেন মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেলো। খুশির পরিমাণ দ্বিগুণ করে বলল,
–“আপনি যাবেন আমার সাথে?”
–“তুমি নিলেতো যেতেই পারি! আগে ছিলো দাদুবাড়ি! এখনতো শশুরবাড়ি! যেতেতো হবেই!তবে কিছুদিন ওয়েট করতে হবে। পারবেতো?”
–“হুম। খুব পারবো!”
তারপর সাফিকা দিন গুনতে শুরু করলো যে, কবে বাড়ি যাবে!
চলবে….