প্রতিশোধ পর্ব-১০

0
251

#প্রতিশোধ
#শিখা
#পর্ব_১০

শুভ আমাকে আবার একা রেখে চলে গেছে আমি বাড়ির আশেপাশে ঘুরে দেখছিলাম…

হঠাৎ একটা কিছুর সাথে বাড়ি খেয়ে আমি পড়ে যাই। উঠে ইচ্ছে করছিলো জিনিসটাকে ইচ্ছামত পিটাই,
সাথে সাথে যায়গাটা লক্ষ্য করি, আমি অবাক হয়ে গেলাম, কোন কিছুর হার এটা যা মাটির ভিতরে আরো অংশ আছে..

আমি: আশেপাশে তো এমন জঙ্গলও নেই যে এখানে একটা পশুপাখি মারা যাবে, হয়তো কোন কুকুর হবে এটা ভেবেই আমি ঘরের ভিতরে চলে যাই…

ঘরের ভিতরে ঢুকে আমার মনে হল, আমার শাশুড়ি ভিতরে যাচ্ছে! আমি তাড়াতাড়ি ভিতরে গিয়ে তাকে ডাকতে নিবো কিন্তু আমি ডাক দেওয়ার আগেই, আমার শাশুড়ি দেয়ালে থাকা একটা ফটো অ্যালবাম কিছুটা নাড়ায় সাথে সাথে দেয়ালের মাঝখানে একটা অংশ খুলে যায়। এমন লাগছে এটা একটা সিক্রেট রুম আমি তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ি..

আমার ভেতরটা জানি কেমন করে উঠলো, আমি ভিতরে যাওয়ার জন্য পায়চারি করছিলাম! এখন ভিতরে যাওয়া ঠিক হবে না তাই বাহিরে ছিলাম।

সন্ধ্যা হয়ে গেল এদিকে শুভ বাসায় চলে এসেছে কিন্তু আমার শাশুড়ি আর ওখান থেকে বের হলো না..

আমি: আচ্ছা মা কি চট্টগ্রাম এসেছে..?

শুভ: কই নাতো এমন কিছু তো বলেনি আমায়! আমার তো একটু আগেও কথা হলো। তখন তো মম ডেড একসাথে খাবার খাচ্ছিল…

আমিঃ শুভ কে কি বলা ঠিক হবে আমি যা দেখেছি(মনে মনে)

শুভ: কি হয়েছে কি ভাবছো?

আমি: না কিছু না

মনে মনে ভাবলাম আগে নিজে তো কনফার্ম হই, যা দেখেছি তা সত্যি কিনা আর ভিতরে আছে টা কি..?

শুভ: কালকে সারাদিন আমি তোমার সাথে কাটাবো, ঠিক আছে এখন আর মন খারাপ করে থাকে না…

সারারাত আমি টেনশনে ঘুমাতে পারলাম না, কখন আমি দেখব ওখানে কি আছে, সকাল হতেই শুভ আর আমি ঘুরতে বের হলাম

সারাদিন আজকে অনেক ঘোরাঘুরি করলাম, বিকালে বাসায় আসি, আমাকে রেখে শুভ আবার চলে যায়..

আমি মনে মনে এই সুযোগটাই খুজছিলাম, শুভ বের হতেই আমি অনেক সাবধানে ওই রুমের দরজা খুলে, যেভাবে আমার শাশুড়ি ঠিক ওই ভাবেই আমি যাই..

আমি একটু ভেতরে গিয়ে আবার তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসি, আমার ভিতরটা ধুকধুক করেছিলো,না জানি ভিতরে কি আছে, আমি আমার রুমে গিয়ে একটা স্প্রে নেই..
নিজের সেফটির জন্য আমি অলওয়েজ একটা স্প্রে আমার ব্যাগে রাখতাম..
ওটাই আমি নিয়ে আসছি

এদিকে রাত হয়ে আসছে রুমের ভিতরটা খুব অন্ধকার ছিল। ফোনের ফ্লাশ অন করে আমি ধীরে ধীরে রুমের ভিতরে যাচ্ছিলাম, আমার ঘা ঝীমঝীম করে উঠছিল..

চারপাশে একদম ঠান্ডা পরিবেশ,কোন আওয়াজ ছিল না!আমি ভয়ে ভয়ে রুমে চারপাশে দেখছিলাম

হঠাৎ ফোনের ফ্লাস টা সামনে দিতেই, আমি ঘাবড়ে কিছুটা পিছিয়ে যাই, আমার ফোনটা হাত থেকে পড়ে যায়, ভিতরটা আমার আরো ধুকধুক করছিলো..

কাঁপা কাঁপা হাতে আমি ফোনটা হাতে নেই আবার! নিয়ে সামনের দিকে লাইট টা ধরে সামনে আগাই …

সামনের চেয়ারে বসা ছিল কেউ, চুলগুলো অগুছালো ছিল, হাতের নখগুলো অনেক বড়, খুব ভয়ঙ্কর লাগছিল, কিছুটা সামনে যেতে ই চেহারাটা সামনে আসে আমার ২০ থেকে ২২ বছরী একটা মেয়ে হবে,
যার হাত পা বাঁধা, কতদিন ধরে এখানে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে কে যানে..

আমি সামনে গিয়ে কাপা কাপা হাতে তাকে ধরতে নিলাম,কিন্তু তখন মেয়েটার চোখ খুলে আমি ভয় পিছনে এলাম..

মেয়েটা নড়াচড়া করার চেষ্টা করছিলো, এমন আওয়াজ ওই রুমের বাইরে থেকে শুনছিলাম..

শুভর আওয়াজ শুনে আমি পিছনে তাকালাম, কিন্তু শুভ তখন আমাকে বাহির থেকে ডাকছিলো, হয়তো এখনো পর্যন্ত শুভ জানতে পারেনি আমি এখানে আছি, আমি তাড়াতাড়ি এই রুম থেকে বের হলাম বের হয়ে, যেভাবে দরজা লাগানো যায় লাগিয়ে দিলাম..

আমি বাহিরে যেতেই দেখি, শুভ খাবার নিয়ে এসেছে এরপর শুভকে আমি খাবার বের করে দিলাম। আমি তখনো রুমের মেয়েটার কথাই ভাবছিলাম, আমার কোন কিছুতে মন বসছিলো না, খাবার ও খেতে পারছিলাম না..

শুভ: কি হয়েছে তোমার তুমি খাবার খাচ্ছো না কেন?

আমিঃ আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই, বলতে চাই না কিছু দেখাতে চাই..

শুভ: কি দেখাবে..

আমি খাবার খেয়ে, হাত ধরে টেনে ওকে ওই পেইন্টিং এর সামনে নিয়ে যায়..

শুভ: এই পেইন্টিং? এটা তো আমি অনেক আগে থেকেই দেখছি

আমি: এটা নাও দাঁড়ান আমি দেখাচ্ছি।

এটা বলেই আমি পেইন্টিংটা নাড়াদিলাম সাথে সাথে দরজাটা খুলে গেলো..

শুভ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায়

শুভঃএখানে একটি সিক্রেট রুম আছে? আমি তো জানতামই না..

ভিতরে যেতে নিবো তখনি শুভ আমার হাত ধরে বাহিরে বের করে

শুভঃ পাগল হয়ে গেছো? ভিতরে কি না কি আছে যদি কিছু হয়..?

আমি: সেটাই তো আপনি আমার সাথে চলেন আমি দেখাচ্ছি, ভিতরে একটি মেয়ে আছে, যা রহাত পা বেধে রাখা হয়েছে, আর আমি আজকে মাকে ভিতরে যেতে দেখেছিলাম

শুভহ তুমি পাগল হয়ে গেছো, মা তো ঢাকাতে এখানে আসবে কোথা থেকে?

আমি: সত্যি বলছি আমি আপনি আমার সাথে চলেন। এরপর আমি শুবর হাত ধরে ওকে ভিতরে নিয়ে গেলাম..

ভিতরে গিয়ে লাইট অন করে চারপাশে দেখাতে শুরু করলাম, কিন্তু ভিতরে গিয়ে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম!
কারণ সেখানে সেই মেয়েটি ছিল না যাকে একটু আগে আমি দেখেছিলাম..

শুভ: কোথায় মেয়ে? কোন মেয়ে বাধা আছে এখানে? কেউ তো নেই?

আমি শকড্ হয়লছিলাম, পাঁচ মিনিট আগে এখানে একটা মানুষ ছিল এখন কোথায় গেল..

আমিঃ আমি সত্যি বলছি আমি এখানে আমি একজন মানুষকে দেখেছি, বিশ্বাস করেন আমাকে, (আমি কথাগুলো বলছিলাম শুভর হাত শক্ত করে) শুভর রাগ হয়ে আমাকে টেনে রুম থেকে বের করলো

শুভঃ তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তুমি কখনো আওয়াজ শুনতে পাও, কখনো কাউকে দেখতে পাও, কিন্তু আমি আমার চোখের সামনে তেমন কিছু হচ্ছে না..

আমরা কালকে সকালে বাসায় চলে যাব এটাই শেষ কথা..

..চলবে…?
(

(কোন ভুল হলে হ্মমার দৃষ্টিতে দেখবেন)