Home "ধারাবাহিক গল্প প্রেম তুমি প্রেম তুমি পর্ব-৮+৯

প্রেম তুমি পর্ব-৮+৯

0
1358

#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________৮

আরিয়ানের কথাগুলো মিথিলার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। পরিস্থিতির শিকার? হ্যাঁ, হয়তো আরিয়ান পরিস্থিতির শিকার ছিল।

কিন্তু মিথিলার কী অপরাধ ছিল? এক বছর ধরে একটা জড়বস্তুর মতো অবহেলা সহ্য করা, নাতাশার সামনে অপমানিত হওয়া—এই যন্ত্রণার ক্ষতগুলো তো আরিয়ানের এক মুহূর্তের স্বীকারোক্তিতে মুছে যেতে পারে না।
মিথিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঠিক করলো যা হয়েছে হয়েছেই এখন নিজের মতো করে আছে এভাবেই থাকবে। কারো অধীনে নয়।।

সারাটা রাত মিথিলা চোখের পাতা এক করতে পারল না।

_______________

সকালে অফিসের জন্য বের হলো।
রাস্তাটা আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত। দ্রুত বেগে গাড়িগুলো ছুটে চলছে। মিথিলা ফুটপাত থেকে নেমে রাস্তা পার হতে লাগে , এমন সময় কানে এল টায়ারের তীব্র ঘর্ষণের বিকট শব্দ।

একটি দামী কার মিথিলার কাছে এসে থেমেছে । এক ইঞ্চির এদিক-সেদিক হলে আজ বড় কোনো অঘটন ঘটে যেত। মিথিলা ভয়ে চোখ বুজে ফেলেছিল, ওর হাতে থাকা ছোট হ্যান্ডব্যাগটা ছিটকে রাস্তার একপাশে গিয়ে পড়েছে ।

গাড়ির দরজাটা সশব্দে খুলে গেল। বেরিয়ে এল এক দীর্ঘদেহী যুবক। পরনে দামী সাদা শার্ট আর ডার্ক গ্রে ফরমাল প্যান্ট। চোখে দামী সানগ্লাস, লোকটার চেহারায় এক ধরণের ধারালো আভিজাত্য আছে, তবে হাবভাব বেশ রুক্ষ।
মিথিলা ভেবেছিল লোকটা ক্ষমা চাইবে, কিন্তু লোকটা ওর সামনে এসেই তীব্র স্বরে ধমকে উঠল।

” মরার শখ থাকলে অন্য কোথাও গিয়ে মরুন, আমার গাড়ির নিচে কেন?”

মিথিলা বিস্ময়ে আর অপমানে থমকে গেল। লোকটার কণ্ঠস্বর যেমন গম্ভীর, তেমনই কর্কশ। মিথিলা বলল, “আমি… আমি তো ঠিকভাবেই পার হচ্ছিলাম। আপনিই তো স্পিড লিমিট ক্রস করেছেন।”
যুবকটি সানগ্লাসটা নামাল। চোখের মণি দুটো কুচকুচে কালো, আর সেই চোখে এক ধরণের অবজ্ঞা। এক পা এগিয়ে এসে মিথিলার ওপর ঝুকে এল। এক তীব্র দামী পারফিউমের ঘ্রাণ মিথিলার নাকে এল, ” কমন সেন্স কি একদমই নেই?”

মিথিলার রাগ হলো প্রচুর! “আপনি আমাকে ধমকাচ্ছেন কেন? আপনি প্রায় আমাকে মেরেই ফেলেছিলেন!”
লোকটা এক মুহূর্তের জন্য মিথিলার রাগী মুখের দিকে তাকায় । ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। নিচু হয়ে মিথিলার ব্যাগটা রাস্তা থেকে তুলে নিল, কিন্তু সেটা মিথিলার হাতে না দিয়ে ওর দিকে ছুঁড়ে মারার ভঙ্গিতে বাড়িয়ে ধরল।

“ব্যাগটা নিন আর নিজের চরকায় তেল দিন। ”

পরের বার রাস্তার মাঝে ডেরেক্টলি দাঁড়িয়ে থাকলে ব্রেক কষার বদলে আমি এক্সিলারেটর চেপে দেব। গট ইট?”

মিথিলা ব্যাগটা ছিনিয়ে নিল। লোকটা আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে গাড়িতে গিয়ে বসল যাওয়ার সময় মিথিলার দিকে এক পলক তাকিয়ে ও বিড়বিড় করে কী যেন বলল, যা মিথিলা শুনতে পেল না।

মিথিলা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই লোকটা কে? এত ঔদ্ধত্য আর এত রুক্ষ ব্যবহার! লোকটার ভেতর যেন কেবল আগ্নেয়গিরি।
____________

​অফিসে গিয়ে মিথিলা এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে অবসর দিল না। নিজেকে পুরোপুরি কাজে ডুবিয়ে রাখল।
​অফিস শেষে ফেরার পথে মিথিলা একটা নার্সারিতে ঢুকল। ওর ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দাটা বড্ড খালি খালি লাগে। বেছে বেছে কয়েকটা সতেজ ইনডোর প্ল্যান্ট আর কিছু সুগন্ধি ফুলের গাছ নিল—

​বাসায় ফিরে মিথিলা ব্যাগটা একপাশে রেখে বারান্দায় গাছগুলো সাজাতে শুরু করল।

​রাত নেমে এসেছে। মিথিলা এক কাপ চা হাতে নিয়ে নিজের বারান্দার ছোট্ট বাগানের মাঝে বসল। মিথিলা সময়টা এখন নিজেকে দিচ্ছে—সম্পূর্ণ নিজের মতো করে বাঁচার জন্য।

______________

ঠিক সকাল ১০টা। অফিসের কাঁচের মেইন গেটটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। সবার নজর সেদিকে। মিথিলা নিজের ডেস্ক থেকে আড়চোখে তাকাল।
ভেতরে প্রবেশ করে আরিয়ান। পরনে ছাই রঙের কাস্টমাইজড স্যুট,! প্রতিটা পদক্ষেপ যেমন মাপা, তেমনই আত্মবিশ্বাসী। পেছনে ব্যক্তিগত সেক্রেটারি আর বডিগার্ডদের বিশাল বহর।
আরিয়ান ফ্লোরের মাঝখান দিয়ে হেঁটে আসছে , গম্ভীর ব্যক্তিত্ব আজ যেন কয়েক গুণ বেশি ধারালো।

মিনিট দশেকের মধ্যে সব টিমের কাছে নোটিশ এল—”মিস্টার আরিয়ান কনফারেন্স রুমে মিটিং কল করেছেন। সবাইকে ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে হবে।”
কনফারেন্স রুমে মিথিলা ঢুকল সবার শেষে। আরিয়ান বড় চেয়ারটায় বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ বুলোচ্ছে । মিথিলা বসার পর আরিয়ান মাথা তুলল। নজর সবার ওপর একবার বুলিয়ে নিয়ে স্থির হলো প্রজেক্ট ফাইলের ওপর।

“গুড মর্নিং এভরিওয়ান। আমি এখানে এসেছি আমার ইনভেস্টমেন্টের রেজাল্ট দেখতে । আমি চাই এই প্রজেক্ট যেন নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়। আর মিথিলা—”
হুট করে নামটা শুনে মিথিলার বুক ধক করে উঠে । আরিয়ান ওর দিকে সরাসরি তাকায় ।

“আপনার প্রজেক্ট রিপোর্টের তিন নম্বর স্লাইডে কিছু সমস্যা আছে একটু আগেই চেক করেছি । ওটা আজ লাঞ্চের আগে কারেকশন করে আমার পিএ-র কাছে সাবমিট করবেন। নেক্সট টাইম যেন আমি কোনো অপেশাদার ভুল না দেখি।”

পুরো মিটিং রুমে একটা হিমশীতল নীরবতা নেমে এল। মিথিলা পাথরের মতো বসে রইল। আরিয়ানের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর, ।

আরিয়ান মিটিং শেষ করে দ্রুত বেরিয়ে গেলো। পেছনে ফেলে গেল মিথিলার মনে এক নতুন অস্থিরতা। মিথিলার জীবনটা যেন এক জটিল ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।

চলবে…

#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব____________৯

কয়েকটা দিন যেন ঝড়ের গতিতে কেটে গেল। আরিয়ানের ‘পারফেকশন’ এর চাপে পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমে কোম্পানি আজ এক বিশাল সাফল্যের মুখ দেখল। নতুন ইনভেস্টমেন্ট আর প্রজেক্টের সাকসেস নিয়ে বড় বড় নিউজ পোর্টালে এখন কেবল এই কোম্পানিরই নাম।

বিকেলের দিকে অফিসের মেইন হলে সব এমপ্লয়িদের ডাকা হলো। সবার মুখে জয়ের হাসি। কোম্পানির এমডি হাসিমুখে সামনে এগিয়ে এলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, “সবাইকে অনেক অভিনন্দন! মিস্টার আরিয়ানের সঠিক দিকনির্দেশনা আর আপনাদের পরিশ্রমের ফলে আমাদের এই প্রজেক্টটি ইন্ডাস্ট্রির সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আর এই সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে আজ রাতে এক গ্র্যান্ড সাকসেস পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।”
পুরো হলে হাততালির রোল পড়ে গেল।

“সাফল্য উদযাপন করাটা পরিশ্রমেরই একটা অংশ। আজ রাত ৮টায় আপনাদের সবার আমন্ত্রণ। আমি আশা করব, প্রফেশনালিজম যেমন অফিসে বজায় রেখেছেন, পার্টিতেও তেমনই শালীনতা বজায় থাকবে। এনজয় ইউর ইভনিং।”

মিথিলা নিজের ডেস্কে ফিরে এসে গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলল। গত কয়েকদিন আরিয়ান ওর সাথে কাজের বাইরে একটাও কথা বলেনি। এই দূরত্ব মিথিলাকে একদিকে যেমন শান্তি দিচ্ছিল, অন্যদিকে এক অজানা অস্বস্তিও কাজ করছিল।

অফিস শেষে মিথিলা বাসায় ফিরে । পার্টির জন্য কী পরবে! ভাবতে থাকে।

একটা গাউন বের করলো। গাউনটা সিল্ক আর নেটের সংমিশ্রণে তৈরি। গলার কাছ থেকে শুরু করে কোমর পর্যন্ত সূক্ষ্ম রূপালী সুতোর কাজ, নীল রঙটা মিথিলার ফর্সা ত্বকে মানিয়েছে ।
নিজের চুলগুলো আলতো করে খোঁপা করে বাঁধল, কয়েকটা চুল সামনে দিকে এসে আছে । কানে ছোট দুল,,ঠোঁটে ন্যুড শেডের লিপস্টিক। মিথিলা তৈরী।

জার্মানির মিউনিখ শহরের অন্যতম বিলাসবহুল একটি হোটেলের বিশাল হলরুমে আজ সাকসেস পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। মিথিলা ট্যাক্সি থেকে নামল, হোটেলের প্রবেশদ্বার দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ওর চোখ ধাঁধিয়ে গেল।

ঝুলে থাকা বিশাল আকৃতির ক্রিস্টাল ঝাড়বাতিগুলো থেকে হিরের মতো আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। মেঝের ওপর বিছানো গাঢ় ধূসর রঙের মখমলের কার্পেট,
হলের একপাশে বিশাল কাঁচের দেয়াল, যেখান দিয়ে বাইরের আলোকোজ্জ্বল শহর দেখা যাচ্ছে। হলের মাঝখানে রাখা হয়েছে শ্যাম্পেন টাওয়ার, যেখানে কাঁচের গ্লাসগুলো পিরামিডের মতো সাজানো। ওয়েটাররা ট্রে হাতে সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব ধীর লয়ে বাজছে জার্মান ক্লাসিক্যাল সিম্ফনি,!
এক কোণে বিশাল বুফে টেবিল, যেখানে খাবারের রাজকীয় সমারোহ। কিন্তু সবার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রুমের একদম মাথায় তৈরি করা ছোট একটি স্টেজ, যেখানে বড় করে লেখা—

“Success Celebration of The Decade”।

এবার মিথিলার নজরে এল হলের একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দীর্ঘদেহী পুরুষকে। আরিয়ান।
পরনে ব্ল্যাক ভেলভেট টাক্সিডো, সাদা শার্ট আর একটা নিখুঁত বো-টাই। এক হাতে শ্যাম্পেনের গ্লাস, অন্য হাত পকেটে গোঁজা।
মিথিলাকে দেখা মাত্রই আরিয়ানের চোখের মণি দুটো যেন এক মুহূর্তের জন্য প্রসারিত হলো। আরিয়ানের ওই স্থির চাউনি মিথিলার অস্তিত্বকে যেন পুড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু আরিয়ান নিজেকে সামলে নেয় খুব দ্রুত। ঠোঁটের কোণে পরিচিত রহস্যময় হাসিটা ঝুলিয়ে রেখে সঙ্গীদের সাথে আবার আলোচনায় মগ্ন হলেন।

মিথিলা একটা পানীয়র গ্লাস হাতে নিয়ে এক কোণে দাঁড়াতেই জার্মান কলিগ হ্যান্স আর ক্লারা এগিয়ে এল। হ্যান্সের হাতে রেড ওয়াইনের গ্লাস, মিথিলার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল—
“মায়িন গট (Mein Gott)! মিথিলা, তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে , মনে হচ্ছে মিউনিখের এই তুষারশুভ্র রাতে তুমিই সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ক্লারা পাশ থেকে সায় দিয়ে বলল, “একদম ঠিক বলেছ হ্যান্স। মিথিলা, তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে!!

মিথিলা মৃদু হাসল। “ধন্যবাদ হ্যান্স, ধন্যবাদ ক্লারা।

আরিয়ানের ধূসর চোখ জোড়া মিথিলার ওপর বিদ্ধ হয়ে আছে। আরিয়ান যেন কেবল মিথিলাকেই দেখছে।
মিথিলা যখন হাসছে কলিগদের কথার উত্তর দিচ্ছে, আরিয়ানের চোখের মণি দুটো তখন আরও গাঢ় হয়ে আসছে।
হ্যান্স কী একটা জোক বলতেই মিথিলা খিলখিল করে হেসে উঠল। ঠিক সেই মুহূর্তে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে, ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠেছে রাগে আর ঈর্ষায়।

_____________

“আরে! মিস বেপরোয়া? আপনি এখানেও!

মিথিলা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। মিথিলা দেখল, সামনে সেই উদ্ধত যুবকটি দাঁড়িয়ে।

মিথিলার মনে পড়ে গেল রাস্তার কথা । অবাক হয়ে বলল,

“আপনি! আপনি এখানে কীভাবে? আপনি তো সেই অসভ্য লোকটা যে আমাকে মাঝরাস্তায় ধমক দিয়েছিলেন!”

যুবকটি এক পা এগিয়ে এসে হাসল। “ধমকটা তো আপনার উপকারের জন্যই ছিল।

আর এখানে কীভাবে? ওয়েল, আমি আহির। এই যে এত বড় সাকসেস পার্টি হচ্ছে, এটা আসলে আমার বাবার কোম্পানি! “কিহ! আপনি… আপনি এই কোম্পানির মালিকের ছেলে?”

“কেন? দেখে কি মনে হচ্ছে না?

মিথিলা কিছু বলে না!

এরপর আহির জিজ্ঞেস করে মিথিলাকে!

মিথিলা জানায় সে এই কোম্পানির employee!

” আপনাকে এই নীল গাউনটায় অনেক বেশি ভালো লাগছে। যদিও আপনার কথা বলার স্টাইলটা এখনো সেই ঝগড়াটে রয়ে গেছে।”

মিথিলা রাগে ফুঁসে উঠল। “আমি ঝগড়াটে নই! আপনিই তখন বিনা কারণে চিল্লাচিল্লি করছিলেন।”

“বিনা কারণে?
আপনি তো গাড়ির সামনে আত্মাহুতি দিতে যাচ্ছিলেন!

” চলতে থাকে মিষ্টি ঝগড়া!

এই দৃশ্যটা খুব দূর থেকে দেখছে আরিয়ান

মিথিলা আর আহিরকে দেখে আরিয়ানের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্নায়ুতে যেন অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে দিচ্ছে ।
আরিয়ানের চোখের মণি দুটো রাগে যন্ত্রণায় কুঁচকে এল। ভেতরে একটা দানব যেন ডুকরে মরছে। যে আরিয়ানের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।

হাতের মুঠোয় থাকা দামী ক্রিস্টাল গ্লাসটা আরিয়ানের হাতের চাপে গ্লাসটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে গেলো । কাঁচের ধারালো টুকরোগুলো চামড়া চিরে ভেতরে ঢুকে গেল, কিন্তু আরিয়ানের মুখে কোনো যন্ত্রণার রেখা ফুটল না। হাতের তালু বেয়ে গাঢ় লাল রক্ত চুইয়ে ধবধবে সাদা মেঝেতে টপটপ করে পড়ছে।

আরিয়ানের শীতল ধূসর চোখ আজ আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছে। গত এক বছরের কথা— ভাবছে মিথিলাকে দূরে রেখে সুরক্ষা দিতে চেয়েছে , কিন্তু আজ অন্য কেউ সেই শূন্যস্থান দখল করতে চাইছে,

আরিয়ানের রক্তমাখা হাত দেখে একজন এলেন,

“মিস্টার আরিয়ান! আপনার হাত! এ কী করে হলো?”

আরিয়ান কারো দিকে তাকালো না। স্থির দৃষ্টি কেবল মিথিলার ওপর। এরপর আরিয়ান চলে আসে ওখান থেকে

______________________

মিথিলা বাসায় ফিরবে,, তাই ক্লারা আর হ্যান্সের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মিথিলা ধীরপায়ে করিডোর ধরে এগিয়ে গেল। লিফটের সামনে এসে বোতাম টিপল। লিফটটা খুলে যেতেই ভেতরে ঢুকল।
লিফটের দরজাটা যখন প্রায় বন্ধ হতে যাচ্ছে , ঠিক তখনই একটা বলিষ্ঠ হাত মাঝখানে এসে বাধা দিল। সেন্সর কাজ করতেই দরজাটা আবার খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করল এক দীর্ঘদেহী ছায়া। আরিয়ান।
আরিয়ানের শার্টের হাতা গুটানো, আর যে হাত দিয়ে সে দরজা আটকেছে, সেই হাতের তালুতে একটা সাদা রুমাল পেঁচানো—যা রক্তে লাল হয়ে ভিজে গেছে। । লিফটের দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মিথিলা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় বন্দি হয়ে গেল।
মিথিলার চোখ গেলো আরিয়ানের হাতের দিকে!

“আরিয়ান… আপনার হাত! ওটা তো রক্তে—”

কথা শেষ হওয়ার আগেই আরিয়ান এক ঝটকায় মিথিলাকে লিফটের দেয়ালে চেপে ধরে । মিথিলার ঠোঁট চেপে ধরে ।
আরিয়ান যেন মিথিলার ঠোঁট দুটোকে নিজের দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে । মিথিলাকে এক মুহূর্তের জন্য পাথরের মতো নিশ্চল করে দিল।
মিথিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ,!

আরিয়ান যেন আজ মরিয়া। মিথিলার ঠোঁট আঁকড়ে ধরার ধরনটা ছিল তীব্র, অবাধ্য। মিথিলা আরিয়ানের শক্ত বুকের ওপর দুহাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে । কিন্তু আরিয়ান যেন আজ এক দুর্ভেদ্য পাহাড়। তার রক্তাক্ত রুমাল জড়ানো হাতটা মিথিলার কাঁধের ওপর চেপে বসল, যার উষ্ণ রক্ত মিথিলার নীল গাউনের কাঁধের ওপর দাগ ফেলে দিচ্ছে।
মিথিলার গোঙানি আরিয়ানের ঠোঁটের আড়ালে হারিয়ে গেল। আরিয়ান যেন মিথিলার নিঃশ্বাস শুষে নিতে চাইছে। সে বুঝিয়ে দিচ্ছে, “তুমি কেবল আমার।”

~~চলবে ~~