#বিষ_করেছি_পান(৪৪)
(কপি করা নিষেধ)
তখন রাত আটটা প্রায় । ত্রিশ -পয়ঁত্রিশে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে বাঁধন। ঘাড়ের উপর ছুটির গাঢ় নিঃশ্বাস এ বুঝতে অসুবিধা হয়না ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইকে বসেও যে কেউ এভাবে ঘুমোতে পারে বাঁধনের জানা ছিলো না। পেটের উপর দুহাত চেপে জড়িয়ে ধরে পিঠের উপর লেপ্টে আছে। পড়ে যাবে ভেবে বাঁধন কিছুক্ষন পর পর পেটের উপর ছুটির হাতের বাঁধন শক্ত করে দেয়। বাড়ি পৌঁছে হলো আরেক সমস্যা। ছুটিকে যত ই ডাকা হচ্ছে ততই নড়েচড়ে পেছন থেকে আরো ভালো করে আঁকড়ে ধরছে বাঁধনকে। এতোক্ষণ রাইডের তালে থাকলেও এবার বড্ড উশখুশ লাগছে বাঁধনের । ছুটি এখন পূর্ণ কিশোরী। যৌবনে তার প্রথম পদার্পন। আগের মতো তাকে কোনভাবেই ট্রিট করা যায়না। বাঁধন এদিকে নামতেও পারছে না।ডানে বায়ে ঘুরে ছুটিকে ছাড়িয়ে নেমে গাড়ির চাবি পকেটে ঢুকিয়ে ছুটিকে পাঁজাকোলা করে নেয়। সাপোর্টের জন্য ঘুমের মধ্যেই ছুটি বাঁধনের গলা জড়িয়ে ধরে । ড্রয়িংরুমে পা দিতেই ঝিমা মৃদু আওয়াজে চিৎকার দেয়। সাথে সাথেই বাঁধনের থেকে খায় এক রাম ধমক।
— চুপ। চিৎকার করিস কেনো? দেখছিস না ঘুমিয়েছে? সর সামনে থেকে।
ঝিমা ছুটির দিকে বড় বড় চোখ করে তাকায়। বেচারা ঘুমে নেতিয়ে আছে। ঝিমাকে ক্রস করে বাঁধন সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে। ঝিমা অবাক চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বাঁধনের পিছু ছুটে। ছুটিকে শুইয়ে দিয়ে ঝিমাকে বলে,
— চাদরটা টেনে দে।
বাঁধন চলে যেতেই ছুটি কাত হয়ে চাদরের নিচে মুখ ডাকে। ঝিমা শঙ্কায় বলে,
— জেগে আছিস ছুটি?
ছুটি উত্তর দেয়না। নড়া চড়াও করেনা। চোখও খুলে না। যেনো চোখ খুললেই অনুভূতি গুলো নিঃশ্বেষ হয়ে যাবে।
ঝিমা আবার ডাকে।
— ছুটি?
ছুটি এবারো সাড়া দেয়না। মিনিট খানেক পর ঝিমা অনুভব করে হাতে চামড়ায় মিটমিটি জ্বালা। ছুটি চিমটি কেটেছে। ঝিমা এবার জোরে ডাকে।
— ছুটির বাচ্চা..!!
থেমে যায় পর মুহুর্তেই। ছুটি চাদরের নিচে ঝিমাকে টেনে নিয়েছে। শক্ত করে জড়িয়ে গা এলিয়ে পড়ে আছে। ঝিমা অনুভব করে ছুটির হার্ট ক্রমাগত লাফাচ্ছে।এতো এতোটা সময় বাঁধনের এতোটা কাছে , ঠিক এতোটাই কাছে, একদম মিশে জড়িয়ে ছিলো। বাঁধনের কোলে নিজেকে আবিষ্কার করা। স্পর্শ গুলো নিরবে গায়ে মাখা! তার পরেও কিভাবে নিজেকে ঘুমন্ত রাখবে ছুটি? কিভাবে সামলে রাখবে মনটাকে? ছুটির শিহরণে ঝিমা নিজেও শিহরিত হয়ে উঠে। ছুটির অবস্থা মোটেই ঝিমার কাছে ভালো ঠেকছে না। ঝিমা ভাবে ছুটির নিশ্চয় শরীর খারাপ লাগছে। নয়তো হটাৎ করে অবেলায় ঘুম তার উপর এতো অস্থিরতা! ঝিমা কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। ছুটিকে আরো চেপে ধরে জিজ্ঞেস করে
— ছুটি তোর কি শরীর খারাপ লাগছে? তুই এরকম করছিস কেনো? ছুটি?
সাড়া না পেয়ে আরো অস্থির হয়ে বলে,
— ছুটি ছাড়। আমার ভয় লাগছে। পাশের রুমে ভাইয়া আছে। তোর কি হয়েছে? আমি ভাইয়াকে ডেকে আনছি।
ছুটি চট করে চোখ খুলে। হাত ও আগলা করে দেয়। মুখে যন্ত্রনার ছাপ ফুটে উঠে। আধো কান্না সুরে আবদার করে বসে।
— রেখে আয়না তোর ভাইয়ার কাছে।আমাকে রেখে আয়। আমার সব অস্থিরতার স্বস্তি তোর ভাই ! ডাকনা বোন, নিয়ে যেতে বল তার কাছে।
ঝিমা বিছানা ছেড়ে উঠে যায়। বারান্দায় গিয়ে বসে। ভাইয়ের বারান্দায় তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে বসে। ছুটি ঘুমানোর পর বিছানায় আসে। ছুটির মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কি করবে সে? কিই বা তার করার আছে?
দেখতে দেখতে কেটে যায় আরো চারটা দিন। ছুটি হয়না ঝিমার প্রশ্নের মুখোমুখি। ঝিমা ঐ সূত্র তুলতেই ছুটি এটা ওটা বলে এডিয়ে যায়। থিওরি এক্সাম তাই আর বাঁধনের কাছে পড়তে হয়না। বাঁধন নিজেই ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কতটুকু পড়েছে? কোন সমস্যা আছে নাকি? ছুটিও খোশ মেজাজে উত্তর দেয়। পরবর্তী পরিক্ষা ভালোই দেয়। জেগে থাকলে পড়া আর বাঁধনের পাশে ঘোর ঘোর করা। আর সারারাত তার সপ্নে ঢুবে থাকা। কি করবে ছুটি? এই মানুষটার আশেপাশে থাকলেই যে আকাশে ডানা মেলে উড়ার সুখ ভর পায়। বাঁধন যখন ডাকে যেভাবেই থাক দৌড়ে চলে যায় ছুটি। বাঁধনের হুকুম গুলো ঝিমা ত্যাড়ামি করলেই ছুটি সব করে দেয়। ঝিমা বোন ঝিমাতো ত্যাড়ামি করবেই। তাই বলে ছুটিও কি করবে? এটা নিয়ে চোখ রাঙায় ঝিমা। ছুটি মুচকি মুচকি হাসে। কি সুখ! ইসস ! ঝিমা যদি বুঝতো! বাঁধনের একদিনের ছুটি। ঝিমা ছুটির পরিক্ষাও তিনদিন পর। ঝিমার মনে হলো একটু মাথাটা ফ্রেস করার দরকার। ভাইয়ের কাছে তাই আবদার রাখলো বিকালে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে। বোর হয়ে গেছে। একটু ঘুরে এলে পড়ায় আবার মনযোগ রাখতে পারবে। বাঁধন ও সায় দেয়। ছুটি শুনেই মিটিমিটি হাসছে। বাঁধনের সাথে ঘুরতে যাওয়া মানে যা ইচ্ছা তাই খাওয়া। কার্পন্য নেই কিছুতে। দুপুর হতেই রেড়ি হয়ে বাইকে ছুটে হাতিরঝিলের দিকে। শহরের ইট পাথরের উঁচু দালানের উপর দালান দেখে অভ্যস্ত লোকজনের কাছে হাতিঝিল নিশ্চিত একটি অমাইক জায়গা। পাশ ঘিরে নদী জল দেখতে দেখতেই হাঁটতে থাকে তিনজনে। নির্মল বাতাস ছুঁয়ে দেয় সারা শরীর। ছুটির বেশ ভালোই লাগছে। ঝিমা নিজের মতো হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাচ্ছে। তার পেছনেই ছুটি। ঝিমার পিছু না নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। রেলিং ছুতে চেয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস টানে। পেছনেই ছিলো বাঁধন। ছুটির দাড়ানো দেখে সেও দাঁড়িয়ে পড়ে। ছুটির উদাসীনতা অনুভব করে চুপ থাকে। ঝিমার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— দাঁড়িয়ে পড়লি যে?
— বাঁধন ভাই কখনো এভাবে দাঁড়িয়ে শ্বাস টেনে নিয়েছো?
— আগে নিতাম। এখন নেইনা। মাঝে মাঝে গন্ধ নাকে লাগে।
— একটু নাও আমার সাথে।
বাঁধন ছুটির পাশাপাশি দাঁড়ায়। সেও শ্বাস টেনে নিয়ে ছাড়ে দুবার। ছুটি টানে না। বাঁধনের শ্বাস নেওয়া দেখে। এইযে নাকটা উঁচু হয়ে ফুলে উঠে আবার চুপসে যায়। কি সুন্দর! গ্যাস বেলুনের মতো লাগছে।
— তুমি এখন কলেজে পড়লে ভালো হতো।
হটাৎ ছুটির এমন কথায় মাথা ঘুরায় বাঁধন। জিজ্ঞেস করে কেনো? ছুটি মুচকি হাসি দেয়। কিছু বলেনা। বাঁধন হাসিটা পর্যবেক্ষন করে।ছুটির মুচকি হাসি সুন্দর। হো হো করা হাসির চেয়েও সুন্দর।
— তোর বয়স অনেক আগেই পেরিয়ে গেছি। এখন আর সেসবে মুড নেই।
— আমি কিন্তু একবারো বলিনি আমার বয়সে ফিরতে।
— না ফিরেইতো তোর এই ছেলেমানুষী তে সায় দিলাম। আর কি চাস?
— অনেক কিছু চাই বাঁধন ভাই। তোমার দেবার সামর্থ্য থাকলেও সাহস নাই।
বলতে বলতেই ঝিমার দিকে ছুটে ছুটি। বাঁধন হালকা গলা ঝাড়া দেয়। পরমুহূর্তেই দুবার কেশে উঠে। সামান্য কথাতেই ইফেক্ট পড়ে গেছে । বাঁধন গা ঝাড়া দিয়ে ঠিক হয়ে হাঁটা দেয়। ঝিমা ছুটিকে আইসক্রিম খাইয়ে বাসায় নিয়ে আসে । দরজাতে ঢুকার সময় ঝিমাকে ডেকে পকেট থেকে এক মুঠো সেন্টার ফ্রেস বের করে হাতে দেয়। ঝিমার হাতের পাশে আরেকটা হাত আবিষ্কার করে। ছুটিও পেছন থেকে হাত পেতেছে। বাঁধন আবার পকেটে হাত গলায়। চারটি মাত্র সেন্টার ফ্রেশ পেয়ে ছুটির হাতে দেয়। ইশারায় বোঝাতে দেড়ি আর নেই ছুটির ঝিমা হাতে খাবলা বসাতে দেড়ি নেই। মুঠো পুড়ে ছুটে রুমের দিকে। ঝিমা ছুটির বাচ্চা বলে চিৎকার করে ছুটে পিছে পিছে। দুজনে খুনসুটিতে রুমে ঢুকতেই থেকে যায়। বিছানায় রিতী বসে আছে। ছুটি আপু বলে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। রিতী জিজ্ঞেস করে,
— কোথায় গিয়েছিলি তোরা? এতো দেড়ি হলো যে?
— তুমি কখন আসছো? কাকিমনি তো বললোনা কিছু।
— সারপ্রাইজ। ঝিমা রিতীর নরমাল ড্রেস দেখে বলে,
— আপু তুমি আজ থাকবে?
রিতী হ্যা বলতেই দুজনে আনন্দে হৈ হৈ করে উঠে। রিতী তাড়া দেয় দুজনকে ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে পড়তে বসে। শরীর ভালো লাগছে না দুজনের ই। তাই ঘন্টা দুয়েক পড়েই খেয়ে দেয়ে ঘুমোতে আসে। ঝিমা শুয়ে পড়ে। রিতী বারান্দায় দেখে ছুটি গিয়ে রিতীকে পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে। রিতী চেয়ে আছে তাদের বাসাটার দিকে। রিতীর পাশের রুমটাতে আলো জ্বলছে। ভাড়াটে থাকে। রিতীর দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে ছুটি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
— আমাদের বাসায় যাস?
— না। কষ্ট লাগে।
— আমি আজ গিয়েছিলাম। একটা ছোট্ট বাচ্চা আছে। তমালের মতো। দরজা খুলে দিয়ে যখন দৌড় দিলো আমি যেনো তমালকেই দেখতে পেলাম। কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে!
— ওসব কথা বাদ দাও আপু। মন খারাপ হয়ে যায়।
— এ বাড়িতে ভালো আছিস তুই?
— অনেক।
— বাঁধন ভাইয়ের থেকে একটু দূরে থাকিস। শুনছি বেচারার নাকি ডিভোর্স হয়ে যাবে। তারপর নতুন বউ আসবে।
— আসুক। তাই বলে দূ্রে থাকতে হবে?
— হ্যা হবে। কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি তুই আরো বেশি উইক হয়ে পড়েছিস।
— তো?
ছুটির এমন উত্তরে রিতী চোখ তুলে তাকায়। নিনির্মেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে চোখ দুটো জলে উঠে। হাত ধরে ছুটিকে সামনে এনে দাঁড় কড়ায়। বিনীত ভাবে বলে,
— গা ঝাড়া উত্তর দেস কেনো? আমি চাইনা আমার মতো তোর জীবনটা হোক। তুই কি আমাকে দেখতে পাচ্ছিস না? ভালোবাসা, সুখ হাতে থাকলেও আমি কোন কিছুই ছুতে পারছিনা। এদিকে তোর দুলাভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রাখিনা। লোকটা আমার জন্য কষ্ট পাচ্ছে। কোন মুখে দাড়াবো আমি তার সামনে? আমাদের সম্পর্কটা অনেক দূর চলে গেছে ছুটি। আমি পারবোনা তার মুখের উপর তাকে রিজেক্ট করতে। আমার পক্ষে সম্ভব না। আর কত! বলতে পারিস?
— আমি তোমার মতো না আপু। সাময়িক সুখটাকে সাময়িক ভেবেই আঁকড়ে ধরি। পামানেন্টলি চেয়ে কষ্টকে আপন করিনা। আমি যতদিন আছি ততোদিন আমি যতটুকু সুখ পাওনার তার এক ইঞ্চি ও ছাড়বোনা।
— তারমানে তুই আমার কথা রাখবিনা?
— ভিলেন গিরি দেখাচ্ছো কেনো আপু?
— তোকে সাবধান করলাম বলে ভিলেন হয়ে গেলাম?
— আমি পারবোনা। বাঁধন ভাইয়ের থেকে দূরে থাকতে পারবোনা।
— জেদ করেনা ছুটি।
— আমি জেদ করছিনা। আমি সুখে আছি। আর কিছু চাইনা। আমি এখানেই থাকবো। এখানেই ভর্তি হবো। বাঁধন ভাইয়ের থেকে কখনোই দূরে যাবোনা।
— ছুটি বোঝার চেষ্টা কর। ছুটি!
ছুটি কথা শোনে না। রিতীর মনে ভয় ঢুকে যায়। সকালে যাবার আগে ছানোয়ারকে বলে পরিক্ষা শেষ হতে হতেই যেনো ছুটিকে নিয়ে যায়। ছানোয়ার খুশ মেজাজে বলে,
— তা তো নিয়ে আসবোই। তুই এতো হাইপার হচ্ছিস কেনো? তোর বীনা কাকি কিছু বলেছে? অন্য কোন সমস্যা?
— কিছুই বলেনি বাবা। অন্যের বাড়িতে এতো দিন ফেলে রাখা এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। চক্ষু লজ্জাও তো আছে। মতি ভালো সম্পর্ক হোক। আপন তো না।
ছানোয়ার এবার ব্যাপারটা বুঝলেন। তাই করবেন বলে ফোন রাখলেন।
পরিক্ষা শেষে বাসায় ফিরছিলো ঝিমা আর ছুটি। চিরচেনা সেই মোড়ের মাথায় আসতেই দেখা হয় সোহাগের সাথে। তেজী পায়ে ছুটির দিকে ছুটে আসছে। ঝিমা দেখেও হাঁটতে লাগলে ছুটির পা চলে না। সোহাগ যে তাঁকে কিছু বলবে বেশ বুঝতে পেরেছে। সোহাগ ছুটির সামনে এলো। কিন্তু দাঁড়ালো না। ছুটিকে নিয়েই জায়গা ত্যাগ করলো। হাত ধরে টেনে নিয়ে কোথায় এলো ছুটি উদ্দিশ পেলো না। আশেপাশে তাকালো। বড় বড় দালান কোঠার মধ্যে ফাঁকা গলি। জায়গাটা পুরোপুরি অচেনা। এদিকে ছুটির পা ছিলে গেছে দুয়েক জায়গায়। ছুটি আহ করে শব্দ ও করেনা। বিস্ফোরিত চোখে শুধু সোহাগকে দেখে যায়। ঝিমার ডাকেও সাড়া দিতে পারেনি। মেয়েটা কত চিৎকার করে ডাকছিলো পেছন থেকে। এদিকে সোহাগ ছুটিকে ছেড়েই মাথায় হাত দিয়ে নিজের চুল গুলো টেনে ধরে। বুকে থুতনি লাগিয়েই ধমকে উঠে,
— ঐ ছুটি ঐ তোর বোন কি ? তোর বোন আমার সাথে কেন এতোবড় খেলাটা খেললো। উত্তর দে।
ফের ছুটির মুখের সামনে মুখ এনে বলে,
— তুই সব জানস তাইনা? গত শুক্রবার তোর বোন হলে ছিলো না। কোথাও ছিলো না। কি চলতেছে আমারে বল। আমি কিন্তু এইবার আর মেনে নিমু না। তোর বোন কি গেছিলো বল। কেন আমারে এভোয়েড করে? কার কাছে গেছিলো বল। কথা কস না কে? কথা ক ছুটি! আমি কিন্তু সব ধ্বংস করে দিমু। কথা ক শালী।
ছুটি কি কথা বলবে? উদ্ভ্রান্ত সোহাগের চিৎকারে থরথর করে কাপতেছে। এতো সাহস থাকা সত্ত্বেও সব সাহস ফুরুৎ। লোকজন কি নেই এখানে? একটা মানুষ এতো জোরে চিল্লাচ্ছে কেউ তো বেরিয়ে আসে না। মরা পাড়া নাকি এটা? এদিকে পায়ের যন্ত্রনা। ধীরে ধীরে বসে পড়ে ছুটি। পায়ে হাত বুলিয়ে মিনমিনিয়ে বলে,
— ক্ষেপা ষাঁড় হয়ে গেছেন আপনি সোহাগ ভাই।
— ঐ ক্ষেপার দেখছিস কি। কোন পুলা কি থাকে কি করে গোষ্টীর ডিটেইল দিবি তুই নয়তো আমি তোরে কি করমু জানিনা।
— কি বলতেছেন এসব?
— তুই সব জানস। তুই জানস না এরকম কোন কথাই থাকতে পারেনা। তোর বোন আমার সাথে চিট করছে। আমার বউ হয়ে আমারে ইগনোর করে। এতো চোখে চোখে রাখি শালীরে তাউ রাত করে নিরুদ্দেশ হয়। কার কাছে যায় ঐ কুত্তার বাচ্চার বংশ নির্বংশ করে তারপর আমি ছাড়মু। বল কে ছেলেটা?
— হলেও আপনার পাহারা?
অসহায় মুখে মিনমিন করে বলে ছুটি। সোহাগ একটা পাগল করা হাসি টানে ঠোঁটের কোনে। একহাতে চুল গুলো ঠিক করে বলে,
— তোর বোন আমার সাথে মস্ত বড় একটা খেলা খেললো। আমাকে নিঃশেষ করে অন্য নাগরের দিকে মন দিলো।
ছুটির মুখে বিরক্তি ফুটে উঠলো। খ্যাক খ্যাক গলায় বললো,
— সন্দেহ করেন কেনো? হলেও আপনার নেটওয়ার্ক আপুর দম ফেলার জো আছে নাকি? আপু আমার কাছে ছিলো। আমাকে দেখতে আসছিলো।
— আমাকে বোকা পাস নাই। তোর বোনরে ফোন লাগা। যে পর্যন্ত তোর বোন এখানে না আসছে তোর কোথাও যাওয়া হচ্ছেনা। এরকম চামড়া অসংখ্য জায়গায় ছিলবে।
— সোহাগ ভাই! একদম গুন্ডামি করবানা । এই তোমার আমার প্রতি ভালোবাসা?
— তোর বোনরে ছাড়া তোরে ভালোবাসি কি কাজ আমার? আগে তোর বোন তারপর তুই আমার বোন। তোর বোন নাই তুইও নাই।
— আমি বাসায় যাবো।
সোহাগ ফোনটা ছুটির হাতে দেয়।
— ফোন দে তোর বোনরে।
— পারবোনা।
— আরেকবার বলবো ফোন দে।
— পারবোনা।
— তাহলে বাসার নাম ভুলে যা।
সন্ধ্যে হতে চললো ছুটি বাড়ি ফিরেনি। ঝিমা অনেক ক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে বাসায় চলে আসছে। সোহাগের সাথে ছুটির বেশ সখ্যতা আছে। তাই ভেবেছে চলে আসবে। কিন্তু এখন চিন্তাগুলো সব দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছে। বাসায় আজ মা বাবা নেই। নানু বাড়ি যেতে হয়েছে। চমচম মামীর বেবী সাওয়ারে।ঝিমার পরিক্ষা থাকায় যেতে পারেনি।উল্টো পাল্টা চিন্তা মাথায় বার বার ঘুরঘুর করছে। সোহাগ ভালো মানুষ নয়। সেটাই সব থেকে বড় চিন্তার। রিতীকে জানাবে নাকি ফোন করে সেটাও ভাবছে। এরি মধ্যে বাঁধন বাসায় ফিরে। ঝিমা দু দন্ড দেড়ি না করে বাঁধন কে জাপটে ধরে হর হর করে সব ঘটনা বলে কেঁদে ফেলে। সোহাগের নামটা মাথায় কেস করতেই বাঁধনের শরীরের লোম ফুলে উঠে। ঝিমাকে সরিয়ে দিয়ে যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই ছুটে যায় ছুটিকে খোঁজতে।
চলবে,
®লাবিবা তানহা এলিজা
#বিষ_করেছি_পান(৪৫)
(কপি করা নিষেধ)
ছুটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বাঁধনকে এক হাত আগলে ধরে। ঠান্ডায় শরীর হিম হয়ে নিস্তেজ হয়ে আছে। একহাতে ছুটিকে ধরে অন্য হাতে মোটা দড়ির গিট্টু খুলতে ব্যস্ত বাঁধন। ডান পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে ছুটিকে নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসেছে। ব্যথায় আঙুলটা যেনো ফেটে যাচ্ছে। বার বার ডাকছে,
— ছুটি? এই ছুটি? কথা বল আমার সাথে। ছুটি?
ছুটি ফুপিয়েই যাচ্ছে। শরীরের সমস্ত ভার বাঁধনের উপর ছেড়ে দিয়েছে। বাঁধন দড়ি ছাড়িয়ে সিমেন্টের মেঝেতে হাটু মুড়ে বসে ছুটিকে দুহাতে বুকের উপর আগলে নেয়।
গালে হাত দিয়ে বলে,
— কিভাবে এলি তুই? ঐ সোহাগ তোকে নিয়ে এসেছে? কেনো এসেছিস ওর সাথে? এই ছুটি? চোখ খুল। কথা বল আমার সাথে।
ছুটি চোখ খুলে তাকায়। বাঁধনের প্রশ্নের উত্তর দেয়না। বাঁধন ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ছিলো। এবার সেটা বাইরে প্রকাশ পায়। ধমকে বলে উঠে,
— ঐ সোহাগের সাথে এতো কিসের ভাব তোর? তোর বোনের সাথে কি অসভ্যতামোটা করেছিলো দেখিস নি তুই? ওকে পাইনি জন্য তোর পেছনে পড়েছে এবার। কি বলে ভুলিয়েছে তোকে হ্যা? সোহাগ কতো খারাপ একটা ছেলে তুই জানিস না? শুরু থেকে তোদের দুই বোনের পেছনে পড়ে আছে। কি ভেবেছিস আমি দেখিনি তাইনা? বুঝিনা কিছু? চোখ নেই আমার? বড়টাতো চলে গিয়ে বেঁচে গেছে লেগে আছে তোর সাথে।
হটাৎ ই বাঁধনের ভয় হতে শুরু করে।ছুটির মুখটা দুহাতে আজলা তুলে আতঙ্ক গলায় বলে,
— তোর সাথে কিছু করেনিতো? গায়ে হাত দিয়েছে তোর? কোথায় ছুঁয়েছে। আল্লাহ! ছুটি উত্তর দে। কোই কোই ছুঁয়েছে ঐ ডাফার তোকে?
বাঁধনের চিৎকারে ছুটি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। ছিহ! বাঁধন ভাই কিসব ভাবছে! ছুটির শরীরে হাত দিবে? সেটা ছুটি মেনে নিবে? হার মেনে কাঁদার মেয়ে ছুটি নয়। তবে বাঁধনের চিন্তা ধারা আর চোখে মুখে অবিশ্বাস ছুটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট্ট মনে নিমেষেই আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ছুটিকে আরো অবাক করে দিয়ে বাঁধন ডানে বামে চোখ ঘুরিয়ে ছুটিকে আদ্যপান্ত দেখে। ছুটি ফুপানোর মাঝেই ডাকে, ‘ বাঁধন ভাইই…’। বাঁধন শোনে না। অভিমানী ছুটি আরো জোরে কেঁদে উঠে। বাঁধনকে বোঝার ক্ষমতা তার নেই। বাঁধনের ভেতর কি হচ্ছে তা ছুটির জানারো কথা নয়। বাঁধন আবার ছুটিকে টেনে ধরে,
‘ এইসব গলিতে দিন দুপুরে মানুষ খুন করে ফেলে রাখে। আর তুই ঐ সোহাগের পেছনে চলে এলি? কি চক্কর চলে তোর সাথে বল? আগে কাকা ছিলো কিছু বলিনি কিন্তু এখন তুই আমার কাছে আছিস,তোর কিছু হলে আমাকে কাকার মুখোমুখি হতে হবে। এতোটা টেনশন কেনো দিস? খারাপ লোক ভালো লোক চেনার বয়স হয়নি এখনো তোর? ফারদার যদি তোকে ঐ সোহাগের সাথে দেখেছি ছুটি আমি তোকে কি করবো নিজেও জানি না। ‘
‘ সোহাগ ভাই আমার কিচচচু করবেনা।’
হিকচি তুলতে তুলতে বলে ছুটি। বাঁধনের মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যায়।
‘ এতো রাতে বেঁধে গলিতে ফেলে রাখছে তার পরেও বলিস কিচ্ছু করবেনা। মরতে চাস? মরণের পাখা গজিয়েছে তোর না? সকালেই দেখবি রাম ধা এনে কল্লা কাটবে। তারপর বুড়িগঙ্গায় ফেলে আসবে। ‘
ছুটিকে বাহুতে ধরে টেনে বেরিয়ে আসতে চায় বাঁধন। দুই গলির মাথায় আসতেই মুখোমুখি হয় সোহাগের। হাতে খাবারের প্যাকেট। ছুটিকে নিতেই সোহাগের এখানে আসা। সন্ধ্যায় রাগের মাথায় ফেলে গেলেও মাথাটা যেই ঠান্ডা হলো সেই ছুটে এসেছে ছুটির জন্য। ছুটির মন গলানোর নিয়ে এসেছে ধোয়া উঠানো বিফস্টেক। হাত পা ধরে যদি একমাত্র শালিকার মন গলাতে পারে। রাগ দেখিয়ে বেঁধে আর যাই হোক ছুটিকে দিয়ে কাজ হাসিল করা অসম্ভব।সেটা সোহাগের মাথায় কেস করেছে। বাঁধনকে দেখে সোহাগ চমকেই যায়। আশা করে উঠতে পারেনি ঠিক। সোহাগকে দেখেই বাঁধন আগলা করে ছুটির হাত।ধপধপ পা ফেলে টেনে ধরে সোহাগের শার্টের কলার। পর পর কয়েকবার নাকের উপর ঘুষি পড়াতে সোহাগের নাক রক্তে লাল হয়। ছুটি নিরব দর্শক। চোখের সামনেই হয়ে যায় একখন্ড বক্সিং। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেনা। সোহাগ গুন্ডার অভিজ্ঞ শক্তপোক্ত হাত আর বাঁধনের নরম হাতে আঘাত। বাঁধনের সমস্ত রাগ যেনো মেটাচ্ছে। সোহাগ ও ছাড় দিচ্ছেনা। বাঁধনের তলপেট বরাবর শক্ত লাথিটা পড়তেই বাঁধন কুকিয়ে উঠে। দুপা পিছিয়ে যায়। গায়ে কাটা দেয় ছুটির। চিৎকার করে ডাকে,’ বাঁধন…’ । বাঁধন অশ্রাব্য একটা গালি ছুড়েই সোহাগকে মাত করে দেয়। কখনো মারামারি হাতাহাতিতে যোগ না দেওয়া প্রফুল্ল শান্ত বাঁধন এতোটা ক্ষেপা হতে পারে ছুটি আজ না দেখলে বিশ্বাস ই করতো না। কি করবে সে? একদিকে বোনের কলিজা আরেকদিকে নিজের জান, দুজনেই রক্তাক্ত। এদের থামানোর সু্যোগ ছুটির নেই। শত চেষ্টায় জেগে থাকতে চাওয়া চোখ দুটো বুঝার আগে একটা বাক্য কর্ণগোচর হয়,’ আমার ছুটির আশেপাশে আমি তোকে কোনদিন দেখতে চাইনা।’
কম্বল মোড়ে বেঘোরে শুয়ে আছে ছুটি। শরীর থেকে থেকে মৃদু কেঁপে কেঁপে উঠছে। ছুটির উপর ঝিমা সটানে শুয়ে জাপটে চেপে ধরে আছে। বাঁধন উঠে আলমারি থেকে আরেকটা কম্বল বের করে ঝিমা সমেত দিয়ে দেয়। ঘন্টা খানেকের মধ্যে ছুটির কাঁপা থামে। ঝিমাকে হাই তুলতে দেখে বাঁধন বলে,
— যা শুয়ে পর।
— এখানে ঘুম হবেনা।
বাঁধন ছুটির দিকে নজর ফেরায়। ট্রাউজারের পকেটে দু হাত গলায়। কি বুঝে পর পর মাথা ঝাঁকায়। মুখের উপর চোখ রেখেই বলে,
— অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পর। আমি আছি।
— তোমার রেস্ট প্রয়োজন ভাইয়া।
বাঁধন উত্তর করে না। ঝিমা মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করে উঠে যায়। যাবার সময় দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে যায়। বাঁধন কিছুক্ষণ সেভাবেই ছুটির উপর চোখ রাখে। বাইরে থেকে হাওয়া আসছে । বারান্দার গ্লাসটা টেনে দিয়ে মাঝ ফ্লোরে এসে দাঁড়ায়। আনমনেই কয়েকবার পায়চারি করে। ছুটির দিকে তাকিয়ে চেয়ারটা টেনে বিছানার সামনে রাখে। ছুটির মুখ বরাবর টেনে বসে পা দুটো বিছানায় তুলে দেয়। চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখে। মাথা তুলে আবার ছুটিকে দেখে। দ্বিতীয় বার আর চোখ ফেরায় না। পা নামিয়ে ছুটির দিকে ঝুঁকে আসে। ছুটি বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। মাঝে মাঝে চোখের পাপড়ি একটু নেচে নেচে উঠছে। পর পর নিচের ঠোটটা বাকদিকে নড়ছে। ঘন শ্বাস পড়ছে।সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে ছুটির ঘুমকে পরখ করছে বাঁধন। জোরে শ্বাস টেনে আচমকা ঘুমন্ত ছুটিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,
‘ তোর জন্য কেনো আমার এতোটা হাঁসফাঁস লাগে? এতোটা ডেস্পারেট কেনো হয়ে গেলাম? কে তুই?’
পর পর তিনটি প্রশ্ন করে বাঁধন সোজা হয়ে চেয়ারে মাথা এলিয়ে দেয়। ফের ছুটির দিকে ঝুঁকে বলে,
‘ এই বাঁধন আজ পর্যন্ত বাইরের কারো গাঁয়ে হাত তুলেছে কেউ বলতে পারবেনা। প্রাণচঞ্চল, সুপুরুষ, সাদা চকচকা বাঁধনের লাইফে আজকের ঘটনাটা কতটুকু কালি ফেলে দিলো তুই জানিস ছুটি? আমি কিভাবে এতোটা ডেস্পারেট হতে পারলাম? হাউ? ‘
এদিক ওদিক তাকিয়ে হাঁসফাঁস করে বাঁধন। পরমুহূর্তেই গলায় অবাকতা ছড়ায় ,
‘ তোর জন্য! কেনো? ‘
উত্তর মেলেনা। সময়ের পর সময় যায় উত্তর মেলেনা। ক্যালকুলেশনে যা আসে তা ভূল। এই ফলাফল কখনোই হবার কথা নয়। কখনোই না।
_________________
রমিজউদ্দিন দেখা করতে এসেছে রিতীর সাথে। রিতীই মূলত দেখা করতে চেয়েছে। সোহাগের এতো বড় একটা কাজের পর রমিজউদ্দিন এর সাথে দেখা করাটা রিতীর জরুরি হয়ে পড়েছে। গাড়িতেই বসেছে রমিজউদ্দিন। রিতী আসতেই গেইট খুলে দেয়। রিতী উঠে বসে। সালাম দিয়ে বলে,
— বাবা কেমন আছেন?
— বাড়ি চলো সবাই ভালো থাকবে।
রমিজউদ্দিন এর সোজা সাপ্টা উত্তর । রিতী মাথাটা নিচু করে রাখে। কিছুক্ষণ নিরবতার পর রমিজউদ্দিন বলে,
— বাড়ি ফেরার প্রয়োজন নেই। হলেই থাকো। পড়াশোনা শেষ করো। তারপর দেখা যাবে।
রিতী অবাক হয়। এক মুখে দুই কথা। রমিজউদ্দিন হালকা হেসে বলে,
— আমার একটাই ছেলে। যেদিন থেকে বুঝতে পেরেছি আমার ছেলে তার জীবন নিয়ে সিরিয়াস নয়, খেয়ালখুশি পনাতেই তার দিন চলবে সেদিন থেকেই আমার দুচিন্তার শুরু। আমি যদি ভীত না গড়ে যেতে পারি তাহলে আমার এই সব কিছু মানুষ অনাহারীর মতো খুবলে খুবলে খাবে। পৈতৃক সম্পত্তি হলে মেনে নিতে পারতাম কিন্তু আফসোস আমার সম্পত্তির নব্বই ভাগই আমার রক্তে গড়া। কতটা পরিশ্রম কষ্ট করে যে আজ এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি তা একমাত্র আমি আর তোমার আম্মাই জানি। মানুষ সম্পদ গড়ে কেনো জানো? সুখে থাকার জন্য। আর বাবারা সম্পদ গড়ে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। যেদিন মা হবে সেদিন বুঝবে। সন্তানের ভালো থাকাটাই বাবা মার সবার আগে কাম্য। আমার এতো সম্পদ যদি আমার ছেলে, নাতি ভোগ না করে যেতে পারে তাহলে আমার এতো পরিশ্রম সবটাই বৃথা যাবে। মিথ্যে হয়ে যাবে আমার কষ্ট। সব সময় চেয়েছি যেনো আমার পরিবারে যোগ্য কেউ আসে যার হাতে আমি সবটা তুলে দিয়ে নিশ্চিত হতে পারি যে আমার বংধর ই এর ভোগ বিলাস করবে। তোমার কথা জানার পর তাই দ্বিমত করিনি। সবাই যোগ্য স্বামী পায়না। তবে চাইলেই সুখী হতে পারে। তোমার ভাগ্যকে সেই কাতারে ফেলে আমি এগিয়েছি। আমি জানি তুমি আমার হাল ধরতে পারবে। সেজন্য তোমাকে অবশ্যই আমার চেয়ারে বসার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
— আব্বা…..?
— পড়াশোনা শেষ করো। আমি বেঁচে থাকতেই হাতে হাতে সবটা শিখিয়ে পরিয়ে দিবো। সব সময় ছেলেরাই যদি দায়িত্ব নেয় মেয়েরা তো পিছিয়ে থাকবেই। তুমি নিশ্চয় পিছিয়ে থাকার জন্য স্ট্রাগল করছো না। আমি চাই আমার নাতি নাতনি আমার সম্পদ ভোগ করুক। তারা ভালো জীবন যাপন করুক। আমার অক্লান্ত পরিশ্রম তাদের জন্যই।
রিতী কি বলবে জানেনা। এতোটা বিশ্বাস? এতোটা যোগ্য ভাবে তাকে? শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে অকপটে মাথা নেড়ে চুপ থাকে।
— সোহাগের খবর জানো?
রিতী চমকে তাকায়। মাথা নাড়িয়ে বলে,
— জানি। দেখা হয়। পথে দাঁড়িয়ে থাকে।
রমিজউদ্দিন বাঁকা হাসে। রিতীর মাথায় হাত রেখে বলে,
— এটা কোন খবর নয়। ও আবার মদে ঢুবে থাকতে শুরু করেছে। নেশা থেকে একবার দূরে সরিয়ে আবার নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছো ধ্বংস হয়ে যাবে যে।
— আবার!
— নেশা ছাড়া মানুষের জীবন মূল্যহীন। নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে বলেই জীবনের অর্থ মেলে। কেউ টাকার নেশা,কেউ ক্যারিয়ারের নেশা, কারো উড়ার নেশা, কারো ঘুরার নেশা, কারো মৃত্যুর নেশা আবার কারো বাঁচার নেশা । তোমার হাজবেন্ডের মৃত্যুর নেশা পেয়েছে। তার টনিক তোমার ভালোবাসা। নিজের মানুষের প্রতি অবহেলা করোনা। একবার হারালে আর ফিরে পাবে না। তাকে ভালো রাখার দায়িত্ব তোমার ই।
তুমিই পারো তাকে ঠিক রাখতে।
— কিভাবে?
— দেখা করো। কথা বলো। বোঝাও। লুকিয়ে থাকলে কি চলবে? তোমার কাছেই তো আমার ছেলেটা হেরে বসে আছে।
রিতী জোর করে হালকা হাসে। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ পড়ে। ঠিকই তো। নিজেকে লুকাতে সোহাগের সাথে সে অনেক টা অন্যায় করে ফেলেছে।
চলবে,
#বিষ_করেছি_পান(৪৬)
(কপি করা নিষেধ)
শালিকের জোড়া বন্ধ খুপরিতে মৌনতা পালনে ব্যস্ত। কারো মুখে কোনো কথা নেই। সোহাগ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তে রিতীর পানে তাকিয়ে। হোটেল বয় একটু আগে সফট ড্রিংকস দিয়ে গেছে। গোলাপী পাইপে চুমুক দিতে ব্যস্ত রিতী। ধরনেই প্রকাশ পাচ্ছে ড্রিংকসটা সে ভালোই ইনজয় করছে। গ্লাসটা খালি হতেই টক করে স্টেচারে রাখে। আড়চোখে সোহাগকে পরখ করেই জানালার পর্দা সরিয়ে দিলো। সোহাগের চোখে আলো পড়তেই চোখ দুটো কুঁচকে বন্ধ করে নেয়। দাঁড়িতে আঙুল চালিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে । রিতী এসে মাথায় হাত রাখে। সোহাগ চোখ মেলে তাকায় না। চোয়াল শক্ত হয়ে ফুলে উঠেছে। রিতী সরে দাঁড়ায়। মারবে নাকি? এতো রাগ! বুঝে উঠতে পারে না । রিতী সোহাগের কাঁধে হাত রাখে। ঝাড়ি দিয়ে সরিয়ে দেয় সোহাগ। মুখে উচ্চারিত হয়, ‘ অসহ্য ‘ ।
— এতো রেগে আছেন কেনো মিস্টার?
— কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো। আমার চলে যাবো।
— চলে যাবার জন্য ডেকেছি আমি? এতো রাগ দেখানোর মানে কি?
— তোমাকে দেখেই আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। বাইরে দেখা করা যেতো না? হোটেলে ডাকার মানে কি?
— শুনলাম আপনি নাকি উম্মাদপনা দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন? মদে ডুবে থাকেন। আমার ছোট্ট বোনটাকেও আটক করেছিলেন । নাকে কালসিটে পড়ে গেছে। ঘা শুকায়নি? বাঁধন ভাই মেরেছে বুঝি?
— ঐ হারামীর নামটাও শুনতে চায়না আমি।
— ছুটির সাথে এটা কেনো করলে?ছুটি কারো সাথে কথা বলছে না।
— আমি কিচ্ছু করিনি। ছুটি আমার একমাত্র শালী। আমার কাজ কর্মে সে আগে থেকেই অবগত। ঐ বাঁধনের বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করো ও ছুটির সাথে কি করেছে। শালার হাব ভাব কথা বার্তা একদম পছন্দ হয়নি আমার । আমার থেকেও খারাপ ওর মুখের ভাষা।
সোহাগ উঠে বসে উত্তেজিত হয়ে গালা গালি করতে থাকে। রিতী ধমক দেয়। সোহাগ শোনে না । মাইর গুলো এখনো তাজা আছে।রক্ত তিড়িৎ বিডিৎ করে লাফাচ্ছে। বিছানা ছেড়ে উঠে চলে যায়। দরজার কাছে যেতেই রিতী শার্ট টেনে ধরে। সোহাগ রাগান্বিত কন্ঠে বলে, ‘ ছাড়ো।’
— কোথায় যাচ্ছো? তোমার সাথে আমার কথা আছে।
— আমার কোন কথা নেই। ভুলটা আসলে আমার ই । তোমাকে চিনতে ভুল করে ফেলেছি আমি। আর পাঁচটা মেয়ের মতোই তুমি ছলনাময়ী। বাবার বাড়ি শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার থেকে এজন্য দূরে আছো তাইনা যাতে বাইরে রাত কাটাতে পারো।
— সোহাগ! মুখ সামলে কথা বলো। আমার চরিত্র নিয়ে বাজে কথা বলছো। আমি নিশ্চয় তোমার অচেনা নয়?
— সস..সরি ।
রিতী ফুঁসছে রিতীমত। সোহাগের শার্ট টেনে এনে বিছানায় বসিয়ে দেয়।
— বসো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
— এখানে আসার মানে কি?
— হলে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছি। ভেবে দেখলাম আমার হাজব্যান্ড এর তো অনেক টাকা। ফাইফ স্টার হোটেলে কিছুদিন থাকতেই পারি।
— হেয়ালির একটা সীমা আছে। ঢাকা শহরে এক একর জমির উপর আমার একটা বাড়ি আছে। লাক্সারিয়াস হোটেলের থেকে কোন অংশে কম নয়।
— এতো রেগে কথা বলছো কেনো বউয়ের সাথে?
— যে বউ খনিকের দেখা মিলে আবার ভেনিস হয়ে যায় লুকোচুরি খেলে এরকম অবাধ্য বউ আমার চাইনা।বউ ছাড়া দিব্যি আছি আমি।
— তা তো দেখতেই পাচ্ছি। থাকো। আমি ফ্রেস হয়ে আসি।
রিতী বোরখা টা এক টানে খুলে ফেলে। গোলাপী শরীরে গোলাপী প্লাজু সাথে লাল টিশার্টে রিতীকে হা করে সোহাগ দেখতে থাকে। একমাসে বউটাকি তার কোন পরিবর্তন হয়েছে? হ্যা হয়েছে। রিতী শুকিয়ে গেছে। অনেক টা চাপা লাগছে। ঠিক মতো কি খাওয়া দাওয়া করেনি সে? লাগেজ থেকে শাড়ি ব্লাউজ বের করে সোহাগের সামনে আসে।
— তোমার কি ফ্রেস হতে হবে? গোছল করেছো সকালে?
— আমি এখানে সংসার করতে আসিনি।
— তো? তোমার ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি ড্রেস দিয়ে যাবে।
— এতো শুকিয়ে গেছো কেনো ? খাওনা ঠিকমতো।
— ভাবছি এবার থেকে তোমার সাথে মদ খাবো। মদ খেলে নাকি মানুষ হেলদী হয়? তুমিতো সুন্দর হয়ে গেছো। ভূড়ি বেরিয়েছে দেখছি।
— মদ খেতে হবেনা। আমার সাথে থাকলে এমনিতেই তোমার ওয়েট বাড়বে। সুন্দরীও হয়ে যাবে।
— চলো ফ্রেস হবে।
— গোছল করেই বেরিয়েছি আমি ।
রিতী নিজের কোমল গালটা সোহাগের গালে ঘসে দেয়। ব্যথায় চোখ মুখ খিচে ধরে। স্বর নামিয়ে বলে,
— ইটস হার্ট মি না…?
সোহাগ যা বুঝার বুঝে নেয়। ফিচেল হেসে প্রশ্ন করে,
— তুমি সেভ করে দিবে? আমি পারবোনা। ব্যথা আছে।
রিতী সম্মতি দিতেই সোহাগ রিতীকে কোলে তুলে নেয়। রিতী জাপটে ধরতেই পেছনে হেলে যায়।
— ধরোনা ব্যথা আছে।
রিতী হি হি করে হেসে উঠে। হাসি থামিয়েই বলে,
— আরো করবে শালীকে কিডনাপ? হিরোর কাছে এভাবেই মাইর খেতে হবে। ছুটি বাঁধন ভাইকে ভালোবাসে।
— বাঁধনকেও তো দেখলাম ভালোই সিরিয়াস। তবে ছুটি রাণী এটা বোকামোই করেছে। পস্তাতে হবে।
— আমিও তো সেটাই করছি।
— তোমার কিসের পস্তানি? কি নেই আমার? সব ভুলে গেছি তো। যা চাও সব দিবো।
— সব?
— হ্যা। সব।
— রাগ কমেছে?
— একবার আদর করে নেই তারপর বোঝা যাবে।
সোহাগের শার্ট খুলতেই রিতী আকুলি বিকুলি করে দাগ গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। রিতী ছুতেই সোহাগ চোখ গরম করে তাকায়। মুচকি হেঁসে সোহাগকে শুইয়ে দিয়ে নিজে উবু হয়ে শোয়। নাকে নাক ঘষে বলে,
— খুব মিস করেছো আমায়?
— না। পাগলামিটা শুধু বেড়ে গেছিলো। কন্ট্রোল করতে পারিনি।
— শালির ক্রাসের কাছে মার খেয়ে কন্ট্রোল ফিরে এসেছে। হা হা হা।
সোহাগ রিতীকে চেপে ধরে। আগুন চক্ষু দিয়ে যেনো খেয়ে ফেলবে। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,
— তোমার কারণেই এসব হয়েছে। ইচ্ছে করছে শালাকে গিয়ে পিটিয়ে পাটক্ষেতে ফেলে আসি। বোকা শালিটার জন্য পারছিনা। আমার জন্য দরদ নেই । সব দরদ ঐ বাঁধনের জন্যে। রিতী হাসি থামিয়ে সোহাগের বুকের পাশে চুমু আঁকে। দাগের উপরে ঠোঁট বুলাতে বুলাতে বলে,
— সব ব্যথা দুর করে দিবো। তবুও এসব মারামারিতে আর যেও না।
— কতদিন থাকার প্ল্যান এখানে?
— ভার্সিটি ছুটি।হরতালের জন্য বাড়ি যাবোনা। আপাতত আছি তোমার বুকে।
— বাড়ি চলো জান। তুমি ছাড়া আমি ভীষণ একা। সঙ্গী সাথী সব তোমার এককথায় ছেড়ে এসেছি। আর তুমি কিনা আমাকেই ছেড়ে আছো। য়্যু নো হাউ মাচ আই লাভ ইউ না?
— বাবা মানবে না।বাবা না চাইলে আমি তোমার থাকতে পারবোনা। আমার হাত পা বাঁধা।
— আমার তোমাকে ছাড়া চলবেনা। বাবার মেয়েটাকে আমার চাই চাই।
— চেয়ে নিয়ে আসো। আছে তোমার সেই ক্ষমতা? একটা বাবা কখনোই চাইবেনা তার মেয়েকে মাতাল একটা ছেলের হাতে তুলে দিতে। একটা উম্নাত! হুস জ্ঞানহীন কারো হাতে তুলে দিতে। তোমার মেয়েকে তুমি পারবে? সব বাবাই চায় তার মেয়ের জন্য বেস্ট কাউকে। তুমি কি বেস্ট? ভালোও তো না। ভালো হতে বললাম তাও তো হলে না। মদের ঘরে ঢুবে কাটাও। কি দেখে দিবে তোমার হাতে আমাকে? চারটা টাকা তো রোজগার ও করতে পারোনা। পরনির্ভরশীল একজন মানুষ। সে কিভাবে নিবে আমার দায়িত্ব? যদি কখনো আমাকে চাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারো প্লিজ আমার বাবার সামনে গিয়ে হাতটা চেও। আমি নিজে তোমাকে সাপোর্ট দিবো। সোহাগ তুমি আমার কথা বুঝতে পারছো? সংসার করতে চাই তোমার সাথে। তোমার সন্তানের মা হতে চাই। তুমি যদি ভেবে থেকো বাবার থেকে আমাকে আলাদা রাখবে সেটা কখনোই সম্ভব না। আমি এখনো চুপ আছি কারণ আমি আমার বাবাকে হার্ট করতে পারবোনা। আমি কোনো বস্তু নয় যে ছিনিয়ে নিয়ে আসবে। আমি মানুষ সোহাগ। নিজ যোগ্যতায় তোমাকে আমার দায়িত্ব নিতে হবে। অনেক অনেক ভালোবাসতে হবে। তুমি কি তা পারবে?
— জানিনা।
— তাহলে আমাকে ভুলে যেতে হবে।
— কখনোই না। তোমার জন্য আমি সব করতে পারবো।
— তাহলে প্লিজ সব ছেড়ে একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠো। আমার গর্ব হয়ে উঠো। আমার স্বামী সব থেকে ভালো মানুষ এই কথাটাই আমার জন্য যথেষ্ট।
— উঠবো।
_______________
হরতালের জন্য ছুটির পরিক্ষা পিছিয়েছে। বৈরী পরিবেশ। ঠান্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে আশেপাশে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। ছুটির হাতে ধোঁয়া উঠা গরম গরম খিচুড়ি। ফু দিচ্ছে আর খাচ্ছে।প্লেটের খিচুড়িটা প্রায় ঠান্ডা হয়ে এসেছে। বাঁধনের অফিসে তাড়া আছে। ডাইনিং এ এসে দেখে টা টা গরম খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা করা হয়েছে। ঠান্ডা হতে হতেই একবার খাওয়া হয়ে যাবে। বাঁধন না খেয়েই বেরিয়ে যেতে নেয়। বীণা চেঁচিয়ে উঠে। ছুটি অবস্থা বেগতিক দেখে বাঁধনের সামনে নিজের প্লেটটা রাখে। বাঁধন ছুটিকে একবার দেখেই প্লেটে স্পুন গলিয়ে দেয়। মৃদু আওয়াজে বলে,
— অন্য প্লেট নিয়ে বসে পড়।
ছুটি ফু দিয়ে একটু ঠান্ডা করতে করতেই বাঁধন অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় ছুটি বাঁধনের আসার অপেক্ষা করছে। একটা বিষয় বুঝতে পারছেনা। ঝিমা বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারেনা। স্যার যখন পরিয়েছে তখন ফাঁকিবাজি করার পরিণতিই এটা। আজ হঠাৎ করে দেখে সাজেশনে থ্রি স্টার দেওয়া। শিখতেই হবে। বারান্দা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে বাঁধন বাড়ি ফিরছে। আধাঘণ্টা পরে বই নিয়ে হাজির। বাঁধন ছুটিকে দেখে মুচকি হাসে। ইশারায় বুঝায় ‘বস’। হাতের কাজ সেরে বাঁধন এসে বসে। কি প্রবলেম দেখে ছুটিকে বুঝিয়ে দেয়। ছুটি মাথা নিচু করে এক মনে পড়া বুঝে নিচ্ছে। হটাৎ ই মুখ তুলে বাঁধন ছুটির দিকে তাকায়। মাথায় মাঝখান বরাবর সিথি করে দুপাশে ঝুট্টি করা। কপালটা বাঁধনের কপাল ছুঁই ছুঁই। বাঁধন চোখ না তুললে এখনি লেগে যেতো। বাঁধন ফিসফিসিয়ে বলে,
— পিচ্চি!
চকিতেই ছুটি চোখ তুলে। শোনার পরেও প্রশ্ন করে বসে,
— হ্যা?
— কিছুনা। পর। এতো চুপচাপ হয়ে গেছিস কেনো?
— হ্যা?
— আমার থেকে দূরে দূরে থাকছিস।
— হ্যা?
— মিথ্যা বললাম?
ছুটি কাঁচুমাচু করে বলে,
— আপনি ভালো না বাঁধন ভাই। কেমন কেমন করেন।
বাঁধনের চোখ উপরে,
— কি করেছি আমি?
— আমার কামিজ তুলে পেট দেখেছেন। সেলোয়ার ও তুলেছেন। পা দেখেছেন। স্কার্ফ টেনেছেন। গলা বু__
— ছুটি! চুপ। টেনশনে ছিলাম। তুই বুঝবিনা। মাথা কাজ করছিলো না। তাছাড়া অন্ধকার ছিলো কিছুই দেখিনি।
— তাহলে ছুঁয়ে দিলেন কেনো? এবার আমার কাঁপা থামিয়ে দিন।
— ছুটি? ছুটি! তুই কি সত্যিই কাঁপছিস?
ছুটির উপর দৃষ্টি রেখেই বাঁধন হালকা ঢুক গিলে।
পেইজের এবং গল্পের রিচ একদমি কম। সাইলেন্ট এবং একটিভ রিডার্স দের বলছি। আপনাদের রিয়েক্ট এবং কমেন্ট ছাড়া রিচ বাড়ানো অসম্ভব। নিজেরাও পড়বেন অপরদের ও পড়তে বলবেন। গল্প যদি ভালো না লাগে তাও বলবেন লেখা বাদ দিয়ে দিবো। প্রথম দিকে ১k রিড়ারস পড়লেও এখন প্রায় চারশত জন ই হারিয়ে গেছে। শুধু শুধু কষ্ট করে লিখতে চাইনা যদি আপনারা হারিয়েই যান। আশা করি আমাকে এপ্রিশিয়েট করবেন সবাই। পার্ট ছোট হোক বড় হোক প্রতিদিন দেবার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
চলবে,