ভালবাসা বাকি আছে পর্ব-১৪+১৫

0
532

#ভালবাসা_বাকি_আছে -১৪
Hasin Rehana – হাসিন রেহেনা
(কপি করা নিষেধ)

গভীর রাতে বাড়ি ফিরে শুয়ে পড়লো রায়হান। প্রায় বিশ ত্রিশবার ফোন করলো বুশরাকে। বালিশে মাথা রেখে একই যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শুনতে শুনতে ঘুমিয়েও পড়লো ক্লান্তিতে। অপেক্ষা একটা সুন্দর স্বপ্নের অপেক্ষা। স্বপ্নে মেয়েটা এত আদুরে থাকে। একদম ঝগড়া করেনা।

এক সময় গভীর ঘুমে বুশরার অস্তিত্ব অনুভব করলো রায়হান। কি গভীরভাবে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে ওকে। যেন বাধন আলগা করলেই আবার হারিয়ে যাবে দূর দুরান্তে। রায়হানও বাহুডোরে বেঁধে রাখলো স্ত্রীকে। কিছুতেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না এক মুহুর্তের জন্য। অবচেতন মনেই প্রার্থনা করে সময়েক চাকা থেমে যাক। স্বপ্নটা আটকে থাক সময়ের বেড়াজালে।

ভোরের আজান ভেসে আসছে মসজিদ থেকে। আর পাঁচটা দিনের মতই ঘুম আলগা হতে শুরু করেছে রায়হানের। তবে প্রিয়তমাকে জড়িয়ে রাখা স্বপ্নের আবেশটা রয়ে গেছে এখনো। বুশরার গায়ের মিষ্টি গন্ধটাও নাকে লাগছে। হাতের বাধন আরেকটু শক্ত করলো। ঘুম জড়ানো আস্ফুট কন্ঠে বললো, “বুশরা”।

কেটে গেছে আরও কতগুলো সেকেন্ড, মিনিট বা অনন্ত মহাকাল। এলার্মটা বেজে চলেছে একনাগাড়ে। এখনও বিছানা না ছাড়লে নামাজের সময় পার হয়ে যাবে নির্ঘাত। পাশ ফিরে ফোনটা হাতে নিল রায়হান। একঘেয়ে এলার্ম বন্ধ করে সময় দেখলো। বুশরার ওখানে এখনও গভীর রাত। মেয়েটার রাগ কি পড়লো? “মিসেস শেখ” লেখা নম্বরটা ডায়াল করতেই আবার যান্ত্রিক স্বর বলে চলল সেই একঘেয়ে বিরক্তিকর কথা, যার মর্মার্থ হলো ফোন এখনো বন্ধ।

“ওয়াইফকে ফোন করছেন নাকি মিঃ শেখ?”

আচমকা পরিচিত নারীকন্ঠ শুনে বিস্ময়ে হতবাক রায়হান। “আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি বুশরা, কেন ফোনটা খুলছো না এখনো?”, বিড়বিড় করে বললো রায়হান। তারপর ধীরে সুস্থে উঠে বসলো। বেডসাইড রিডিং ল্যাম্পের আবছা আলোয় বুশরা কিংবা বুশরার অবয়বের হাসিমুখ দেখে হার্টবিট মিস করলো ও।

ঠিক কতক্ষণ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো আলুথালু পোষাকের মেয়েটার দিকে বলা মুশকিল। মুখ টিপে হাসছে বুশরা।

“এটাও স্বপ্ন রায়হান। চোখ খোল, চোখ খোল। আচ্ছা না, চোখ খুলিস না বাছাধন।“, নিজেকে নিজেই বললো রায়হান।

“এই। পাগল হয়ে গেলে নাকি?”, বলে একটা চিমটি দিল বুশরা। তারপর উঠে গিয়ে ঘরের লাইট অন করলো। একগ্লাস পানি ঢেলে রায়হানের দিকে বাড়িয়ে দিল। মোহাবিষ্টের মত ঢকঢক করে পুরো গ্লাস খালি করলো রায়হান।

তারপর প্রশ্ন করা শুরু করলো, “তুমি?”, “এখন?”, “এখানে?”, “কিভাবে এলে?”, “কখন এলে?”

“প্রশ্ন করা শেষ হয়েছে?”

“না। তোমার না পরীক্ষা? এমন কেয়ারলেসের মত সব ফেলে কেন এলে? একবার আমাকে জানানোরও প্রয়োজন মনে করলে না? পাগল তুমি?”

“রিল্যাক্স! এত হাইপার হচ্ছো কেন?”

উত্তেজিত স্বরে রায়হান বললো, “হাইপার হওয়ার মত কাজ করে বলছো হাইপার হচ্ছো কেন?”

“আচ্ছা চলে যাচ্ছি।“, বলে বিছানা থেকে উঠলো বুশরা। চলে যাওয়ার উপক্রম হতেই হাত ধরে হ্যাচকা টান দিল রায়হান। তাল সামলাতে না পেরে বিছানার উপর বসে পড়লো মেয়েটা। অবশ্য বিছানার উপর না বলে রায়হানের উপর বললেই বরং ঠিক হবে। আটকা পড়লো বাহুডোরে। এমন আচমকা আক্রমনের জন্য মোটেই তৈরি ছিল না বুশরা। নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে বললো, “কে যেন খুব বিরক্ত হয়েছে বউ আসায়। তা এখন আদিখ্যেতা কিসের?”

বুশরার মেঘকালো কোকড়ানো চুলে নাক ডুবিয়ে রায়হান বললো, “কতবার ফোন করেছি জানো?”

“কেন? তুমি তো ব্যাস্ত খুউউব।“

উত্তর না দিয়ে হাতের বাধন আরেকটু শক্ত করলো রায়হান।

“সারারাত জাপটে রেখেছো যেভাবে, গা ব্যাথা হয়ে গেছে, আমি কি পালিয়ে যাচ্ছি কোথাও?”

“সারারাত? ওটা স্বপ্ন ছিল না? কখন এসেছো তুমি?”

“আজকাল আমাকে নিয়ে স্বপ্নও দেখা হয় বুঝি?”, মিটিমিটি হাসলো বুশরা।

“কথা ঘুরিও না।“

“সব প্রশ্নের উত্তর নামাজের পরে পাবেন সাহেব।“

এ কথার পরে আসলে বলার কিছু থাকে না। রায়হান হাতের বাধন আলগা করতেই আর দেরি করলো না বুশরা। প্রশ্নোত্তরের ঝুড়ি সাইডে রেখে নামাজ আদায় করলো দুজনে। তারপর আবার মুখোমুখি বসলো ওরা।

“এবার বলো।“

“কি?”
“আবার সব প্রশ্ন রিপিট করতে হবে?”

“আমি এসেছি গভীর রাতে। নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলে যখন।“

“আমি মোটেও নাক ডাকি না।“, স্বগতোক্তি করলো রায়হান।

“আচ্ছা। শুধু এত গভীর ঘুমে থাকো যে কোলবালিশ নাকি বউ এটুকু পার্থক্য করতে পারো না। আরেকটু হলে তো দম আটকে মরেই যেতাম।“

“আমি তো ভেবেছিলাম স্বপ্ন। কি করে বুঝবো সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে হুট করে চলে আসবেন?”

“বধু নির্যাতনের মামলা করতে এসেছি মশাই। সাবধান।“

বুশরার হাতটা নিজের হাতের মধ্যে টেনে নিল রায়হান। আরেকটু কাছে এগিয়ে এসে আলতো স্বরে প্রশ্ন করলো, “এভাবে সব ফেলে আসা কি ঠিক হলো? কেন করলে এমন ছেলেমানুষি? তাও পরীক্ষার সময়!”

“পরীক্ষা শেষ। এক সপ্তাহ ক্রিসমাসের ছুটি। সেই সুযোগে চলে এলাম ভোট দিতে। ইউনিভার্সিটি থেকেই এয়ারপোর্টে গেছি। ল্যান্ড করে এয়ারপোর্ট থেকে ডিরেক্ট বাড়ি, রুকু গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল।“

“তার মানে রুকু সব জানতো? মিথ্যা মিথ্যা বলেছে তোমার সাথে কথা হয়েছে?”

“মা ও জানতো। হি হি … “

“মাত্র এক সপ্তাহের জন্য এই পাগলামী কেউ করে? যেতে আসতেই তো অর্ধেক ছুটি শেষ। এতটা ধকল নেওয়ার দরকার ছিল? আর সবাই কি মনে করে সাপোর্ট করলো? আজব!”

“কেন? গিনেজ বুকে নাম উঠবে না দেখে আফসোস হচ্ছে খুব?”

বুশরার রাগী রাগী চেহারা দেখে মজা পাচ্ছে রায়হান। তাই আরেকটু ক্ষেপিয়ে দিতে বললো,

“হুম খুউউব। তোমাকে দেখলে তো সুন্দরী ভোটাররা অপজিশকে ভোট দিয়ে দিবে। একটা ভোটের বদলে কতগুলো ভোট হারাবো ভাবো একবার?”

“তাই না?”

কয়েক মুহুর্তের জন্য এলোপাথাড়ি কিল ঘুষির ভুমিকম্প বয়ে গেল রায়হানের বক্ষদেশে। তবে তাতে মোটেও বিচলিত মনে হলো না মানুষটাকে। যেন পৃথিবীর অর্ধেক সুখ আছে এইভাবে নির্যাতিত হওয়ার মাঝেই। এক সময় থামলো বুশরা।

“ব্যাথা লাগে না তোমার?“

“কিছু ব্যাথা সুখেরও হয়। পরীক্ষা কেমন হলো।“

“আনরোমান্টিক।“

“আমি জানি তো। পরীক্ষা কেমন হলো সেটা বলো।“

“ভালো। আগামী এক সপ্তাহ পড়াশুনার কথা বলবে না।“

“আচ্ছা, আবেদন মঞ্জুর করা হলো।“

“অবশ্য আগামী এক সপ্তাহ তোমার দেখা পেলেই আমি ধন্য হয়ে যাবো।“, দীর্ঘশ্বাস ফেললো বুশরা।

এবার হেসে ফেললো রায়হান, “জেনেশুনে বিষপান করতে আসলে কেন?”

“আবার? এক্ষুনি চলে যাবো আমি।”

“এসেছো যখন ভোটটা দিয়ে যাও প্লিইইইইজ।“, মজার ছলে বললো রায়হান। তারপর একটু থেমে কৌতুহলী হয়ে বললো, “বাই দ্য ওয়ে। তুমি এখানকার ভোটার হলে কবে?”

“যাওয়ার আগে। আর কিছু?”

“হ্যাঁ।“

“কি?”

এই ছোট্ট নিরীহ প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না রায়হান। শুধু দুহাত বাড়িয়ে কাছে ডাকলো প্রিয়তমাকে।

চলবে…

#ভালবাসা_বাকি_আছে -১৫
Hasin Rehana – হাসিন রেহেনা
(কপি করা নিষেধ)

আজ রায়হানের নির্বাচন। সকাল থেকেই গমগম করছে শেখ বাড়ি। নির্বাচন উপলক্ষ্যে রুকু বাড়িতে। বুশরাও ফিরেছে মধ্যরাতে। বহুদিন পর দুই মেয়েকে একসাথে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা শিউলি বেগম। ফজরের নামাজের পর থেকে রান্নার উৎসবে মেতেছেন তিনি।

সকাল সকাল মায়ের বাঁধভাঙ্গা খুশি দেখে রায়হান মেকি আক্ষেপ করে বলল, “আম্মা তোমার কি খালি দুইটাই মেয়ে? ছেলেকে কি কুড়ায়ে পাইছো?”

রুকু চোখ পাকিয়ে বলল, “কেন ভাইয়া? হিংসে হয় আমাদের দেখে?”

“না বলছিলাম আর কি! ছেলের যে আজকে নির্বাচন, অন্য সময় হলে তো আম্মা জায়নামাজ থেকে উঠতো না সারাদিন। অথচ দেখ কি অবস্থা…”, হেসে বলল রায়হান।

বুশরা হেসে বললো, “আমি কতদিন পর আসছি না? তাই জমিয়ে রাখা ভালবাসা একবারে দিচ্ছে আম্মা, নজর দিও না তোমরা।”

রুকুও বুশরার কথায় তাল দিয়ে বললও, “আমিও তো সবসময় থাকি না। তাই আম্মা আমাদের বেশি ভালবাসে বুঝলে ভাইয়া?”

দুই মেয়েকে হাসতে হাসতে মৃদু ধমক দিলেন শিউলি বেগম, “কেন ছেলেটার পেছনে লাগছিস তোরা?”

এক বাটি দুধপুলি পিঠা রায়হানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “খেয়ে দেখ ঠিক আছে কি না?”

দুধপুলি রুকু বা বুশরা পছন্দ করে না, কিন্তু রায়হানের খুব পছন্দের। স্কুলে থাকতে পরীক্ষার দিন সকালে রায়হান কিছু খেতে পারতো না টেনশনে। তখন দুধপুলি বানাতেন শিউলি বেগম। আর এই খাবারটা খেতে কখনো জোর করতে হয়না রায়হানকে। আজও দুধপুলি দেখে গপাগপ খেতে লাগলো রায়হান।

তাই দেখে বুশরা হাসতে হাসতে শেষ।

শিউলি বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, “মায়ের কাছে সব বাচ্চাই সমান। আর কাজ করতে করতে দোয়া করা যায়না কে বলল?”

মায়ের হাত ধরে রায়হান বলল, “আমিতো জানি আম্মা, মজা করতেছিলাম। আমার আম্মা সবচেয়ে ভালো আম্মা।“

রুকু বললো, “এহ বলছে, আমার আম্মা বেস্ট।“

বুশরা বললো, “জি না, আমার আম্মা।“

দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে মুচকি হাসলেন রুস্তম শেখ।

ছেলেমেয়েদের সাথে তাঁর সম্পর্ক অতটা বন্ধুসুলভ না। কোথায় যেন একটা বাঁধো বাঁধো অনুভুতি। কিন্তু স্ত্রীর সাথে ওদের সম্পর্ক দেখে মনে মনে তৃপ্তিবোধ করেন তিনি। শিউলি বেগমের মত স্ত্রী পেয়েছেন দেখেই সন্তানদের নিয়ে কখন চিন্তা করতে হয়নি তাঁর। ছেলের বিয়ের পরেও আর পাঁচটা গ্রামীণ পরিবারের মত বউ শাশুড়ীড় চুলোচুলি নেই তাঁর এই শান্তির নীড়ে। স্ত্রীকে নিয়ে তাই বড্ড গর্ববোধ করেন বয়োবৃদ্ধ মানুষটা।

***

খাওয়াদাওয়া পর্ব শেষে নিজের ঘরে গেল রায়হান। একটু পরেই বেরিয়ে যাবে। আজ বাড়ি কখন ফিরবে কোন ঠিক ঠিকানা নেই।

ছেলে উপরে যেতেই বুশরাকে পাঠিয়ে দিলেন শিউলি বেগম, “এখানে বসে থাকা লাগবে না। ছেলেটার কিছু লাগবে কি না দেখ। একটু পরেই তো চলে যাবে।“

অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে এসে দ্বিমুখী টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে বুশরা। শিউলি বেগমের সাথেও বসে থাকতে ইচ্ছা করে। আবার রায়হানের সাথেও সময় কাটাতে ইচ্ছা করে। এখনই যেমন রায়হানের পিছুপিছু উপরে যেতে ইচ্ছা করছিল, আবার মায়ের কাছ থেকে উঠতেও ইচ্ছা করছিলনা। সিদ্ধান্তহীনতার মাঝে শিউলি বেগমের নির্দেশে তাই কিছুটা স্বস্তিবোধ করলো বুশরা। উঠে গুটিগুটি পায়ে দোতলায় চলে গেল।

***

রায়হান তৈরি হচ্ছিল। পরনে সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা। সিলভার কালার কোটিতে একই রঙের সুক্ষ কারুকাজ। হাতে শোভা পাচ্ছে সিলভার কালারের একটা ক্রোনোগ্রাফ যার ডায়ালটা কালো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে কোটির বোতাম লাগাচ্ছিল রায়হান। আয়নার ভেতর দিয়ে দেখলো, বুশরা দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মনে মনে কতবার এই বেশে রায়হানকে সামনাসামনি দেখতে চেয়েছে মেয়েটা। তাই তো চেহারায় অন্য রকম মুগ্ধতা।

কখন নিঃশব্দে এসেছে মেয়েটা? ভাবে রায়হান।

পেছনে না ফিরেই রায়হান বলল, “কি দেখো এভাবে?”

বুশরা মুচকি হেসে বললো, “নিজের আমানত। কিছু খোঁয়া গেছে কিনা দেখতে হবে না?“

রায়হান এবার পুরোপুরি স্ত্রীর দিকে ফিরল। একদম সামনাসামনি এসে চোখে চোখ রেখে বললো, “আচ্ছা?… বেশ তবে… ভাল করে দেখো।“

রায়হান সঅচরাচর এতটা রোমান্টিসিজম দেখায় না। অন্তত সামনাসামনি যতদিন ছিল, দেখাতো না। কিন্তু আজ ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই চোখে হারাচ্ছে স্ত্রীকে। অবশ্য ঘুমের ঘোরেও স্বভাববিরোধী আচরন করেনি বললে ভুল হবে। হঠাৎ করেই এমন আচরণে লজ্জা পেল বুশরা। চোখ নামিয়ে নিল মুহুর্তেই। রায়হানও কম যায়না। বুশরার দিকে একটু ঝুঁকে থুতনি ধরে মাথাটা উচু করিয়ে কিছুটা জোরপুর্বক চোখে চোখ রাখলো আবার।

“আই মিসড ইউ বুশরা।“, এটুকু বলেই ছেড়ে দিল।

ছাড়া পেয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিল বুশরা। মাথাটাও নিচু করলো যতদুর সম্ভব। টুপ করে কি এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল বুশরার অধর বেয়ে? এ কি দুঃখের কান্না? নাকি সুখের?

কয়েক মুহুর্ত কেটে গেল নীরবতায়। তারপর আড়ষ্টতা ভেঙ্গে দুয়েক ইঞ্চি এগিয়ে এসে রায়হানের কোটির বাকি বোতামগুলো লাগিয়ে দিল চুপচাপ।

এখনই বেরিয়ে যাওয়া দরকার রায়হানের, কিন্তু এই মুহুর্তটা নষ্ট করতে ইচ্ছা করছে না কিছুতেই। বিছানার উপর ফোনটা ভাইব্রেট করছে বিরামহীনভাবে।

বুশরা সেটা খেয়াল করেই ব্যাস্ত কন্ঠে বলল, “তোমার কি দেরি হয়ে যাচ্ছে? একটু দাঁড়াবা প্লিজ?”

“অবশ্যই দাড়াবো।“, বলে মুচকি হাসলো রায়হান।

বুশরা তড়িঘড়ি করে ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট চারকোনা বক্স বের করে এনে রায়হানের সামনে বাড়িয়ে ধরল। রায়হান হাসিমুখে বক্সটা হাতে নিয়ে খুলতেই দেখলো সিলভার কালারের সিম্পল কিন্তু খুব ক্লাসি একটা ঘড়ি। এই প্রথম বুশরা রায়হানকে কিছু গিফট করছে। খুব টেনশনে ছিল যে পছন্দ করবে কি না। কৌতুহলী চোখে তাই রায়হানের দিয়ে তাকিয়ে আছে বুশরা।

“কেমন হয়েছে?”

এই প্রশ্নের কোন উত্তর না বক্সটা বুশরার হাতে ফেরত দিল রায়হান। যেন প্রশ্নটা শুনতেই পায়নি এমন নিরুত্তাপ ভাবে পাঞ্জাবির হাতা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে নিল ধীরে সুস্থে। হাতে পরে থাকা ঘড়িটাও সিলভার কালারের। ওটা খুলে পাশে থাকা ওয়ারড্রবের উপরে রাখলো। এরপর বুশরার হাত থেকে বক্সটা নিয়ে ঘড়িটা বের করে বক্সটা ফেরত দিল। কথা না বললেও এই পুরো সময়টা বুশরার দিক থেকে একবারও চোখ ফেরায়নি রায়হান। সে অবস্থায়ই নতুন ঘড়িটা পরলো। পুরুষালী লোমশ হাতে ঘড়িটা মানিয়ে গেছে বেশ।

কয়েক মুহুর্ত বাদে রায়হান বলল, “নিজেই দেখ নাও… মিসেস শেখ।“

বুশরার কপাল থেকে চিন্তার ভাঁজ পুরোটা মুছে যাওয়ার আগেই কুঞ্চিত ভ্রুজোড়ার মাঝখানে ভালবাসার পরশ একে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল রায়হান।

চলবে…