#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ২২
।
।
পরেরদিন অনু রোদকে ফোন দিয়ে রেষ্টুরেন্ট এ দেখা করতে বলে। কারন অনু এই বিয়ে ভাঙ্গতে পারবে না অনুর বাবা অনুর এই কথা শুনবেন না। একমাত্র রোদই পারবে এই বিয়েটা ভাঙ্গতে। দ্বীপ যদি একবার অনুর বাবার সাথে কথা বলতো তাহলে ও বিয়েটা ভাঙ্গতে পারতো বাট দ্বীপ তো কথা বলবে না।
অনু ১০মি ধরে বসে আছে রেষ্টুরেন্ট এ। রোদের কোনো খবরই নেই। হঠাৎ অনু সামনের একটা টেবিলে তাকিয়ে দেখে নদী। একটা মেয়ের সাথে বসে আছে আর গল্প করছে। অনু উঠে নদীর কাছে গেলো।
অনু: নদী?
নদী পিছনে তাকিয়ে অনুকে দেখেই উঠে অনুকে জরিয়ে ধরলো।
নদী: দোস্ত তকে কতোদিন পর দেখলাম। কেমন আছিস? একদম শুকিয়ে গেছিস।
অনু: কোথায় শুকালাম। বরং তুই শুকিয়ে গেছিস। মৃনালভাইয়া কম ভালোবাসছে নাকি😉
মেয়েটি: মৃনাল তো নদীকে চোখে হারায়। সারাক্ষণ ফোন। আর প্রতিদিন লাঞ্চ তো নদীকে ছাড়া করেই না।
অনু: তাই নাকি। কি ভালোবাসা।
নদী: 😏হিংসে হচ্ছে তদের।
মেয়েটি: আরে কি যে বলিস হিংসে হবে কেনো।
অনু: হিহিহি। নদী উনি কে?
নদী: ওহ তদের তো পরিচয় করিয়ে দিলাম না। ও কায়া আমরা একসাথে মেডিকেল এ পড়াশুনা করি। আর কায়া ও অনু আমার বেষ্টুদের মধ্যে একজন।
কায়া: হুম। তুই তো অলটাইম শুধু ওদের কথাই বলিস।
নদী: এই তদের হেচকি উঠে না ভিমরি খাস না। এতো যে মনে করি তদের কথা।
অনু: তুই মন থেকে আমাদের কথা ভাবিস না তাই হেচকি ও উঠে না আর ভিমরি ও খাই না😒
নদী: 😐
অনু দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে রোদ আসছে।
অনু: রোদ এসে গেছে। নদী আমি তর সাথে একটু পর কথা বলছি। ওর সাথে কথা বলে আসি।
কায়া অনুর মুখে রোদ নামটা শুনে পিছনে তাকালো। রোদকে দেখে ও অবাক হয়ে গেছে। রোদ ও কায়াকে দেখে অবাক হয়ে কায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। অনু দেখলো রোদ অনুর দিকে না তাকিয়ে একনজরে অনুর পিছনে তাকিয়ে আছে। অনু পিছনে তাকিয়ে দেখলো রোদ কায়ার দিকে তাকিয়ে আছে আর কায়া ও রোদের দিকে তাকিয়ে আছে। অনুর বিষয়টা সুবিধের মনে হলো না। “এরা কি একে অপরকে আগে থেকে চিনে।” ভাবছে অনু।
হঠাৎ কায়া নদীকে বললো,”নদী চল হসপিটাল আমার আর এখানে থাকতে ভালো লাগছে না।”
নদী: হঠাৎ কি হলো তর।
কায়া: কিছু হয় নি চল প্লিজ।
নদী: ওকে। অনু চলে যাচ্ছি। বাই। ফোন দিস।
অনু: ওকে।
কায়া যতক্ষণ এখানে ছিলো রোদ কায়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো। কায়া আর নদী চলে যেথেই রোদ অনুর দিকে তাকালো।
অনু: চলো ওখানে গিয়ে বসি।
রোদ: হুম।
অনু: তোমাকে আমি কিছু কথা বলতে এখানে ডেকেছি।
অনু রোদের দিকে তাকিয়ে দেখে রোদ কিছু একটা নিয়ে গভির ভাবে ভাবছে। অনুর কথা ওর কানে ও ডুকছে না। অনু ওর হাত দিয়ে রোদকে একটা গুতো দিলো রোদের হুশ এলো।
রোদ: হুম। কিছু বলছিলে।
অনু: 😐হুম।
রোদ: কি?
অনু: আমি এই বিয়েটা করতে পারবো না। আমি দ্বীপকে ভালোবাসি।
রোদ: আমি জানি। আর এটা ও জানি দ্বীপ তোমাকে বলেছে ও তোমাকে ভালোবাসে না।
অনু: সব জেনে ও তুমি কিভাবে এই বিয়েটা করতে চাইছো।
রোদ: তোমাকে আমি ভালোবাসি তাই। আর দ্বীপ তো বলেছে ও তোমাকে ভালোবাসে না।
অনু: কিন্তু আমি দ্বীপকে ভালোবাসি আর সারাজীবন ওকেই ভালোবাসবো।
রোদ: বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ না হয় কাল ঠিক তুমি আমায় ভালোবাসবে।
অনু: বাসবো না। এই জন্মে তো নয়ই।
রোদ: বৈদ সম্পর্কের জোর কতটা তুমি জানো না অনু।
অনু: আমি জানতে চাই না। আমি শুধু জানি আমি দ্বীপকে ভালোবাসি আর ওকে ছাড়া অন্যকাউকে বিয়ে করতে চাই না।
রোদ: বিয়ে তো তোমার আমাকেই করতে হবে।
অনু: তারমানে তুমি এই বিয়েটা ভাঙ্গবে না।
রোদ: বিয়ে ভাঙ্গার প্রশ্নই উঠে না।
অনু রাগে এখান থেকে উঠে চলে গেলো রোদের সাথে এখানে আর একটু বসলে রোদকে হয়তো খুনই করে ফেলতো। এবার অনু যাবে দ্বীপের অফিসে যতো রাগ এখন রোদের সাথে কথা বলে উঠেছে সব রাগ দ্বীপের উপর ঝারবে। তাহলে হয়ত একটু শান্তি পাবে।
এদিকে রোদ এখনো রেষ্টুরেন্ট এই বসে আছে আর গভিরভাবে কিছু একটা নিয়ে ভাবছে।
।
অনু অফিসে ডুকেই দেখে শুভ। অনু এগিয়ে যায় শুভর দিকে রিসেপশনিস্ট অনুকে ডাক দেয়,”হ্যালো ম্যাম কার সাথে দেখা করবেন এইভাবে ভেতরে ডুকছেন কেনো?”
শুভ রিসেপশনিস্ট এর কথায় সামনে তাকালো। শুভ একজন এমপ্লয়ির সাথে কথা বলতে ছিলো।
শুভ: অনু তুমি এখানে?
অনু: দ্বীপ কোথায়?
শুভ: কেনো?
অনু: আগে বলো দ্বীপ কোথায়😡
শুভ: আরে এতো রেগে আছো কেনো? কিছু হয়েছে?
অনু: হয়নি। বাট এবার হবে। আমায় জলদি দ্বীপের কেবিনে নিয়ে চলো।
শুভ: ওকে কুল। আমার সাথে চলো।
অনু শুভর পিছু পিছু যায়। শুভ দ্বীপের কেবিনের সামনে গিয়ে থেমে গেলো।
শুভ: যাও এটাই ওর রুম।
দ্বীপ ল্যাপটপে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখেছে অনু এসেছে। প্রথমে অনুকে ওর অফিসে দেখে অনেক অবাক হয়। ওর ফেইস দেখে বুঝতে পারে দ্বীপ, অনু অনেক রেগে আছে। তাই দ্বীপ মনে মনে অনুকে ফেইস করার প্রস্তুতি নিয়ে নেয়।
অনু দ্বীপের কেবিনে ডুকেই দ্বীপের সামনে যায় আর দ্বীপের শার্ট এর কলার ধরে দ্বীপকে দার করায়।
দ্বীপ: আরে আরে কি করছো এসব।
অনু: চুপপপ। তুমি একদম কথা বলবে না।
দ্বীপ: ওকে বলছি না কথা। বাট আমার কলার তো ছারো।
অনু: তুমি নিজেকে কি মনে করো হুহ। কোন ফিল্ম এর হিরো। যে মেয়েরা শুধু তোমার পিছন পিছন ঘুরবে আর তুমি ভাব দেখিয়ে চলবে।
তোমাকে আমি বলেছিলাম সেদিন রাতে আমার বাসায় এসো, তারপরের দিন আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাও। আমাকে জরিয়ে ধরো আমার অনেক কাছে আসো। আমি তোমাকে বলেছিলাম তোমার বাসায় আমার সাথে এতো ক্লোজ হতে। আমার এতো এতো কাছে আসতে। বলি নি তো। তাহলে কেনো এতো কাছে আসলে আমার। কেনো বাধ্য করলে তোমাকে ভালোবাসতে। কেনো দ্বীপ কেনো? যখন ভালোবেসেছি তখন কেনো এত দুরে চলে যাচ্ছ। তোমাকে ছাড়া যে আমি কিছুই ভাবতে পারি না। পাগল হয়ে যাই। বাবা বলেছে তুমি বাবার কাছে আমার হাত না চাইলে আমায় রোদকেই বিয়ে করতে হবে। একটা কথা মাথায় ভালো করে ডুকিয়ে নাও। আমি কোনো ফালতু মেয়ে না যে ভালোবাসবো একজনকে আর বিয়ে করবো অন্যজনকে। রোদকে বিয়ে করার আগেই আমি সুইসাইড করবো।
অনু এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেলে দ্বীপ এতক্ষণ অনুর দিকে হা হয়ে তাকিয়ে অনুর সব কথা শুনছিলো। এবার দ্বীপ অনুর দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয়। অনু ও দ্বীপের হাত থেকে গ্লাস নিয়ে পুরো পানি খেয়ে ফেলে। তারপর দ্বীপের হাতে গ্লাসটা আবার দিয়ে দেয়। দ্বীপ টেবিলে গ্লাস রেখে বলে, “একদম আজে বাজে কথা বলবে না।”
অনু: হুম। আজে বাজে কথাই বলছি আমি। যখন আমি সত্যি থাকবো না তখন বুঝবে আজে বাজে না সত্যি বলছিলাম।
দ্বীপ: এখন চুপচাপ বাসায় যাও। আর বিয়ের প্রস্তুতি নাও। বিয়ে লাইফে একবারই আসবে ইনজয় করো।
অনু: তোমাকে এখন খুন করতে ইচ্ছে করছে জানো😡।
দ্বীপ: জানি।
অনু: 😡দেখে নিও আমি কি করি😡 আমি যে সত্যি বলছি তা প্রমান করে দেবো।
অনু দ্বীপকে জোরে একটা ধাক্কা দিয়ে দ্বীপের কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। অনুর ধাক্কায় দ্বীপ অনেক দুরে গিয়ে পরে টেবিলের সাপোর্টে নিজেকে সামলে নেয়। তারপর দ্বীপ বসে পরে চেয়ারে আর ভাবে এখন কি করবে। একদিকে অনু অন্যদিকে……
দ্বীপ: এতো কমপ্লিকেটেড কেনো হচ্ছে আমার লাইফটা। কি ভেবেছিলাম আর কি হচ্ছে। আমি অনুকে কিভাবে বুঝাবো ওকে আমি বিয়ে করতে পারবো না।
।
অনু বাসায় গিয়েই ওর মায়ের রুমে যায়। গিয়ে দেখে ওর মা কি একটা লিস্ট তৈরি করছেন।
অনু: মা।
অনুর মা: তুই। আয় এখানে বস।
অনু গিয়ে ওর মায়ের কুলে মাথা রেখে শুলো।
অনু: মা আমি দ্বীপের সাথে থাকবো।
অনুর মা অনুর দিকে তাকিয়ে আছেন অবাক দৃষ্টিতে। অনু যে দ্বীপের জন্য পুরো পাগল হয়ে গেছে উনি তা বুঝতে পারছেন। উনারা যেটার ভয় পাচ্ছিলেন সেটাই হতে চলেছে তার আবাস উনি পাচ্ছেন। অনুর বাবা তো বলেছেন বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিয়ের আগেই যদি কিছু হয়ে যায় আর রোদের ফ্যামিলি বিয়ের জন্য যেভাবে তাড়া দিচ্ছে। এসবই অনুর মা ভাবছেন। অনুর ডাকে উনি ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলেন।
অনু: মা। রোদকে আমার ভালো লাগে না।
অনুর মা: তুই কেনো এমন পাগলামি করছিস বলতো। তর ভাগ্যে যে আছে তুই তাকেই পাবি। দ্বীপ থাকলে দ্বীপকে পাবি রোদ থাকলে রোদকে। কেনো এসব নিয়ে ভেবে কষ্ট পাচ্ছিস। তকে কতদিন বলেছি কোনো কিছু নিয়ে একদম ভাববি না। টেনশন কখনো করবি না। তাহলে কেনো আমাদের কথা শুনিস না।
অনু তাকিয়ে দেখে ওর মা কাদছে অনু উঠে ওর মায়ের চোখের পানি মুচে দিলো।
অনু: সরি মা। আমি তোমাদের কষ্ট দিতে চাই না। আমি আর দ্বীপের কথা বলবো না তবুও তুমি কেদো না। তোমরা যা বলবে আমি তাই করবো।
অনুর মা: মনে থাকবে তো।
অনু: হুম😥
অনুর মা: (আমি জানি পারবি না তুই এসব না ভেবে থাকতে। আমাকেই কিছু একটা করতে হবে। এই বিয়েটা দিয়ে ভুল করছি না তো। কথা বলতে হবে ওর সাথে)
অনু মন খারাপ করে ওর মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে চলে আসে। দ্বীপটা যেনো ওর মাথায় গেতে বসে আছে। চাইলে ও বের করতে পারছে না অনু। উল্টো আরো ভেতরে ডুকছে। অনুর এখন ইচ্ছে করছে দ্বীপকে কুচি কুচি করে কেটে রান্না করে খেতে তাহলে যদি ওর মাথা থেকে বের হয়।
অনু: দ্বীপ দ্বীপ দ্বীপ। এই সেলফিসটাকে তুই এতো কেনো ভালোবাসিস অনু। তুই দেখছিস না। ও তকে কিভাবে এভোয়েট করে। ছেলেরা এমনই হয়। দ্বীপের কথা আর এত ভাবিস না তুই।
অনু নিজেকেই নিজে কথাগুলো বলছে। আর রুমে যাচ্ছে।
অনু: ভাববো না বলে ও মাথা থেকে যাচ্ছে না। কেনো যে ওর সাথে আমার দেখা হতে গেলো। না দ্বীপকে তো আমি শান্তিতে থাকতে দেবো না। যতটা কষ্ট আমি পেয়েছি তার থেকে ও বেশি কষ্ট ওকে দেবো। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি দ্বীপ।
।
।
চলবে?🙄🙄
#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ২৩
।
।
৫দিন পর,,
একটা কফিশপে বসে আছে কায়া আর রোদ সামনাসামনি। কায়া রোদের দিকে তাকিয়ে আছে বাট রোদ একবারো কায়ার দিকে তাকাচ্ছে না। কায়াই রোদকে ফোন দিয়ে এখানে দেখা করতে বলে। নদীকে দিয়ে অনুর কাছ থেকে রোদের নাম্বার এনে ফোন দেয়।
প্রথমে রোদ দেখা করতে মানা করে দেয়। পরে কি একটা ভেবে রাজি হয়ে যায়।
কায়া: আগের থেকে অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছো।
রোদ: থ্যাংকস।
কায়া: আজ কতোদিন পর দেখা হয়েছে?
রোদ: জানি না। এতো কিছু মনে নেই।
কায়া: সব ভুলে গেছো?
রোদ: হুম। সব।
কায়া ছলছল চোখে রোদের দিকে তাকালো তারপর বললো,”আমাকে ও।”
কায়ার কথা শুনে রোদ কায়ার দিকে তাকালো। তাকাতেই বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো কায়ার চোখে জল দেখে। রোদ নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,”হুম।”
কায়া: বাট আমি কিছুই ভুলতে পারি নি রোদ।
রোদ: ওহ ভালো।
কায়া: আজ পুরো ২বছর ৮মাস পরে আমাদের দেখা হয়েছে।
রোদ: হুম।
কায়া: দেশে কবে ফিরেছো।
রোদ: থ্রি মান্থ এগো।
কায়া: ওহ। আমাকে কি মাপ করা যায় না।
রোদ: না।
কায়া: সেদিন আমার কিছু করার ছিলো না রোদ। তুমি তো জানতে আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো আমি।
রোদ: পরশু আমার বিয়ে।
কায়া: রোদ!!
রোদ: কি রোদ হ্যা কি রোদ। যখন সব থেকে বেশি তোমাকে আমার প্রয়োজন ছিলো তখনই তুমি আমার কাছে ছিলে না কতো ফোন কতো মেসেজ। কোনো কিছুর রিপ্লাই নেই। এখন বলছো মাপ করার কথা। আমার বাবা মারা গিয়েছিলো কায়া। বুঝতে পারছো বাবা। তুমি জানতে না আমার বাবা আমার কাছে কি ছিলেন। আমার বেষ্টফ্রেন্ড ছিলেন আমার পুরো পৃথিবী ছিলেন আমার বাবা। উনি মারা যাওয়ায় কতটা ভেঙ্গে পরেছিলাম তা তুমি জানতে। তবুও আমার কাছে তুমি আসলে না একটা ফোন দিয়ে জানলে না আমি কেমন অবস্থায় আছি। তোমাকে তখন সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল আমার কিন্তু তুমি আমার সাথে ছিলে না। কতো কষ্ট হয়েছিলো জানো। তুমি বুঝো। উল্টো আমি ফোন দিলে তুমি আমার সাথে রুড বিহেভ করতে। তখন আরো কতটা কষ্ট হতো তুমি বুঝতে। বুঝতে না।
কায়া: পড়া নিয়ে খুব প্যারায় ছিলাম। অল্পতেই রাগ উঠে যেত তখন। কি করছি কি বলছি কিছুই বুঝতাম না😓।
রোদ: হুম। বুঝতে না। আর বুঝতে হবে ও না। তুমি তোমার লাইফ নিয়ে হ্যাপি থাকো। আমাকে আমার লাইফে হ্যাপি থাকতে দাও। অনেক চেষ্টার পর নিজেকে সামলে নিয়েছি। আর ভেঙ্গে পরতে চাই না। অনুকে বিয়ে করেই আমি হ্যাপি হতে চাই।
কায়া: তুমি সব ছেড়ে যাওয়ার পর আমি ফিল করেছি তোমাকে ছাড়া আমি কতটা অসহায়। আমি সত্যি বুঝতে পারি নি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
রোদ: ওহ ভালো। তুমি তো কিছুই বুঝো না। না বুঝেই সব কিছু করে ফেলো।
কায়া: আমাকে একটা শেষ সুযোগ দেওয়া যায় না।
রোদ: না যায় না। কজ আই জাস্ট হেইট ইউ।
কায়া: রোদ?
রোদ: আসি বাই।
কায়া: মন থেকে ভালোবাসো তো অনুকে।
রোদ উঠে এখান থেকে চলে যেথে গেলেই কায়ার এই কথায় আবার দারিয়ে যায়। পিছনে ঘুরে একবার কায়ার দিকে তাকিয়ে আবার হাটতে শুরু করে। হ্যা ভালোবাসে না ও অনুকে কিন্তু মিথ্যে বলতে হচ্ছে নিজেকে আর সবাইকে ও। রোদ এই আশায় আছে বিয়ের পর ও অনুকে ভালোবাসতে পারবে। বৈদ সম্পর্কের জোর অনেক। রোদের হেইট ইউ বলতে অনেক কষ্ট হয়েছে তারপরো বলতে হয়েছে। কারন রোদ যতটা কষ্ট পেয়েছে কায়াকেও সেই কষ্টটা ফিল করাতে চায়। রোদ মিথ্যে বলেছে ভুলতে পারে নি এখনো কায়াকে। কায়াকে ভুলার জন্যই তো অনুকে বিয়ে করছে।
এদিকে কায়া ধপ করে চেয়ারে বসে পরে। রোদ ওকে হেইট করে এটা ও সহ্য করতে পারছে না খুব কষ্ট হচ্ছে। খুব ভালোবাসে রোদকে কিভাবে সহ্য করবে। সামান্য একটা ভুলের জন্য যে এভাবে সারাজীবনের জন্য রোদকে হারাতে হবে এটা কখনো ভাবেও নি কায়া। ও তো ওর মায়ের স্বপ্ন পূরনে বিজি ছিলো। রোদের দিকে নজরই দিতে পারে নি।
।
।
কায়ার মুখে সব শুনে চেয়ারে বসে পরে নদী। নদী কায়ার সম্পর্কে সব জানে। এই রোদকেই যে কায়া ভালোবাসে এটা নদী জানতো না। কারন কায়া কখনো রোদের নাম বলেনি। নদী গিয়ে কায়াকে জরিয়ে ধরে। কায়া অনবরত কেদেই চলেছে।
নদী: প্লিজ শান্ত হো এভাবে কেউ কাদে। আমি কথা বলছি রোদের সাথে কিছু হবে না দেখিস।
কায়া: ও রাজি হবে না রে। ঘৃনা করে আমাকে। ভুলটা আমারই ছিলো। ওর ভালোবাসাটা আমি বুঝি নি তাই ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। যখন বুঝেছি অনেক দেরি হয়ে গেছিলো।
নদী: তুই আগে কান্না বন্ধ কর দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে।
কায়া: হুম।
নদী কি করবে এখন কিছুই বুঝতে পারতেছে না।
নদী: (আমাকে জানতে হবে রোদ এখনো কায়াকে ভালোবাসে কিনা।)
।
অনু দ্বীপকে ফোন দিয়ে বলেছে আজকে অনুর সাথে দেখা করার জন্য। হাতে আর টাইম নেই। কিছু তো একটা করতেই হবে। এভাবে হাত পা গুটিয়ে থাকলে তো চলবে না।
দ্বীপ অনুর বাসার সামনে আসে। বাসা ডেকোরেট করা হয়ে গেছে। কাল গায়ে হলুদ। দ্বীপ একবার বাড়িটা ভালো করে দেখে অনুকে ফোন দেয়।
দ্বীপ: বাইরে আসো।
অনু: ওকে।
অনু দ্বীপের ফোন কেটে বাইরে বেরিয়ে আসে। অনু গাড়িতে উঠতেই দ্বীপ গাড়ি স্টার্ট দেয়। একটা লেক এর পাশে এসে দ্বীপ গাড়ি থামায়। তারা গাড়ি থেকে নামে।
অনু: দ্বীপ?
দ্বীপ: হু।
অনু: আমার বিয়ে পরশু। তোমার একটু ও খারাপ লাগছে না।
দ্বীপ: ??
অনু: আমার মন বলে তুমি ও আমাকে ভালোবাসো যতটা আমি তোমাকে বাসি। বিয়ের দিন আমি তোমার জন্য ওয়েট করবো। তোমার জন্য বউ সেজে বসে থাকবো। তুমি যদি না আসো তাহলে আর কখনো আমাকে দেখতে ও পারবে না।
দ্বীপ অনুর দিকে তাকায়। অনুর হাত ধরে। অনু কিছু না ভেবেই দ্বীপকে জরিয়ে ধরে। দ্বীপ অনুর মাথায় একটা কিস করে।
দ্বীপ: সব ঠিক হয়ে যাবে।
অনু: হুম।
দ্বীপ: বাসায় দিয়ে আসি।
অনু: না আর একটু পর। জানি না আর এরকম তোমার সাথে থাকতে পারবো কিনা।
দ্বীপ: রোদের সাথে তোমার বিয়ে হতে দেবো না।
অনু: সত্যি।
দ্বীপ: হুম। চলো।
অনু: এইবার আমার বিশ্বাস ভাঙ্গবে না তো।
দ্বীপ: না।
দ্বীপ অনুকে বাসায় ড্রপ করে দেয়। এদিন দ্বীপ অনেক রাত করে বাসায় ফেরে। ঈশান একটা কাজে আজ রাতটা আবিরের বাসায় থাকবে। দিয়া দ্বীপের জন্যই ওয়েট করছে। দ্বীপ কখনো এতো রাত করে বসায় ফেরেনি। সবাই ঘুমিয়ে আছে। রাত ১২:৩০ বেল বাজতেই দিয়া গিয়ে দরজা খুলে দেয়। দ্বীপ সোজা ওর রুমে চলে যায়। দিয়া দরজা লাগিয়ে দ্বীপের পিছন পিছন যায়।
দিয়া: ভাইয়া আজ এত লেইট হলো কেনো?
দ্বীপ: এমনি ভালো লাগছিলো না বাসায় আসতে।
দিয়া: পরশু অনুর বিয়ে মনে আছে।
দ্বীপ: হু।
দিয়া: আটকাবিনা।
দ্বীপ: হুম। এই বিয়ে হবে না।
দিয়া: তাহলে বিয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিস কেনো। এখনি অনুর বাবাকে ফোন করে বল। বিয়ে আটকে যাবে।
দ্বীপ: পারবো না।
দিয়া: কেনো?
দ্বীপের মুখে সব শুনে দিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে দ্বীপের দিকে।
দিয়া: এসব আগে বলিস নি কেনো আমাকে?
দ্বীপ: চান্স পাই নি।
দিয়া: 😡ইচ্ছে তো করছে……
দ্বীপ: শান্ত হো। সব ঠিক হয়ে যাবে।
দিয়া: এজন্য তুই অনুকে বলেছিস বিয়ে করতে পারবি না।
দ্বীপ: হুম। কাল অনুর বাসার চলে যাস তরা। অনুর সাথে থাকিস।
দিয়া: যাবো। তিথি মায়রা সিমি ওদের বলে দিয়েছি।
দ্বীপ: ওকে। যা ঘুমিয়ে পর এখন।
দিয়া: আর তুই?
দ্বীপ: আরে আমি ঠিক আছি। চিন্তা করিস না। আর শুন এসব যেনো ও জানতে না পারে আর অনুকেও বলিস না। পরশু আসছেন উনি। সব ঠিক হয়ে যাবে।
দিয়া: যদি আসতে লেইট করে। তাহলে তো…..
দ্বীপ: আমি আছি না। কিছু হবে না।
দিয়া: আমার খুব ভয় করছে ভাইয়া। এই বিয়েটা হলে ৩টি লাইফ নষ্ট হয়ে যাবে।
দ্বীপ: সন্ধ্যা পর্যন্ত বিয়েটা আটকে রাখতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তো ভাবতেই পারি নি অনুর বাবা মা এতো জলদি অনুর বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাববেন। এটা আমার প্লেনে ছিলো না।
দিয়া: আমি ও ভাবি নি।
দ্বীপ: এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পর।
দিয়া: ওকে।
।
।
অন্যদিকে রোদের চোখে ঘুম নেই। আজ এতদিন পর কায়ার সাথে কথা বলে আবারও পুরনো অনুভূতি জেগে উঠেছে। অবশ্য কখনো কায়াকে ভুলেও যায় নি। শুধু নিজেকে সামলে নিয়েছিলো। এখন রোদ কি করবে বুঝতে পারছে না। কায়ার সেই নিষ্পাপ মায়াবি চেহারা বার বার রোদের সামনে ভেসে উঠছে।
রোদ: খুব ভালোবেসেছিলাম কায়া তোমাকে। কেনো এত কষ্ট দিলে তুমি। যখন সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিলো তোমাকে আমার তখনি আমাকে দুরে সরিয়ে দিলে। আবার এসে সেই পুরনো স্মৃতি গুলোকে কেনো জাগিয়ে তুললে।
বাড়ি ভর্তি আত্মীয়। আর এখন রোদ দ্বিধায় ভুগছে। আজ কায়ার সাথে দেখা না হলে হয়ত রোদ নিরদ্বিধায় বিয়ে করে নিত অনুকে। বাট আজ কায়াকে দেখে কায়ার চোখের জল দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। এই বিয়েটা করে কোনো ভুল করছে না তো। ভাবছে রোদ। অনুও তো দ্বীপকে ভালোবাসে আর ও কায়াকে। তাহলে এই বিয়েটা করে লাভ কি হবে।
রোদ কায়ার একটা ছবি বের করে দেখছে আর পুরনোদিনগুলোর কথা ভাবছে।
রোদ: না কায়া তোমাকে আমি আর এক্সেপ্ট করতে পারবো না। অনেক কষ্ট দিয়েছো তুমি আমায় আর সেগুলো পেতে চাই না। মন ভেঙ্গেছো আমার।
।
পরেরদিন,
অনু ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ি ভর্তি আত্মীয়স্বজন। অনুর বাড়িটাকে মাছের বাজার বলে মনে হচ্ছে। খুব রাগ উঠছে। কিন্তু দিয়া তিথি সিমি মায়রা ওদের দেখেই অনুর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
অনু: আরে তরা।
তিথি: তর বিয়ে আর আমরা আসবো না তা কি হয়।
মায়রা: রাতে গায়ে হলুদ আর আমাদের একটা ফোন করে বললি না ও জলদি চলে আয়।
অনু: এক কথা কতবার বলা লাগে😏
দিয়া কাল দ্বীপ আসবে তো😔।
দিয়া: আসবে আসবে। এতো চিন্তা করিস না। তর হিরো কি না এসে পারবে।
সিমি: চল ছাদে এখানে এতো মানুষ।
অনু: চল।
।
।
নদী রোদকে ফোন দিয়ে একটা কফিশপে আসতে বলে। রোদ ঠিক টাইমেই আসে। এসে দেখে নদী বসে আছে। গিয়ে নদীর সামনের চেয়ারে বসে।
নদী: ভাইয়া আমায় তো চিনতে পেরেছেন?
রোদ: হুম।
নদী: কায়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য আপনাকে আমি ডেকেছি।
রোদ: আমি ঐ বিষয়ে কোনো কথা শুনতে চাই না।
নদী: এটা বললে তো হবে না ভাইয়া। আপনাকে শুনতে হবে জানতে হবে কায়া আপনাকে কতটা ভালোবাসে। আপনাদের ব্রেকাপ হওয়ার পর কায়া কতটা ভেঙ্গে পরেছিলো আপনি জানেন।
রোদ: আপনি হয়ত শুধু কায়ার কষ্টের কথা জানেন। আমি কি করেছি এটা জানেন। বাট কেনো করেছি এটা কায়া আপনাকে মেবি বলেনি।
নদী: বলেছে সব। মানছি কায়া ভুল করেছে। ওকে কি মাপ করা যায় না।
রোদ: না কাল আমার বিয়ে। আজ আমি এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।
নদী: বাট অনু তো এই বিয়েটা করতে চায় না।
রোদ: যাই হোক এই বিয়েটা তো হবেই।
নদী: এই বিয়েটা হলে ৪টি জীবন নষ্ট হবে।
রোদ: না। আমি অনুকে ভালোবেসেই বিয়ে করছি।
নদী: সত্যি আপনি অনুকে ভালোবাসেন?
রোদ: ??
নদী: কেনো নিজেকে আর অন্যকে মিথ্যে বলছেন।
রোদ: মিথ্যে নয় সত্যি। কায়া আমার মন ভেঙ্গেছে। আর ভাঙ্গা জিনিস কখনো জোড়া লাগেনা এটা তো জানেন আপনি। কায়ার জন্য সেই মন আর কখনো জোড়া লাগবে না।
।
ছাদে মায়রা সবার হাতে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে। আর অনু ভাবছে কাল কি হবে। সেদিন রেষ্টুরেন্ট এ রোদের সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে অনুর রোদের সাথে আর কোনো কথা হয় নি। রোদ ও অনুকে ফোন দেয় নি। অনু অনেক অবাক হয়। অনু তো যোগাযোগ করে নি কারন ও রোদকে ভালোবাসে না তাই। বাট রোদ কেনো যোগাযোগ করে নি এটা অনু বুঝতে পারছে না। আগে তো অল টাইম ফোন দিতো হঠাৎ কি হলো। আর কায়ার ব্যাপারটাকেও ভাবাচ্ছে অনুকে।
সিমি: ওই কি এতো ভাবছিস।(অনুকে গুতো দিয়ে)
অনু: উহু কিছু না। শেষ মেহেদি পড়ানো।
মায়রা: হুম।
তিথি: আবির ফোন দিয়েছিলো ওরা রাতে আসবে।
অনু: সত্যি। দ্বীপ আসবে।
তিথি: না ও আসতে পারবে না বলেছে।
অনু: কেনো?
তিথি: জানি না। সেটা দ্বীপকে জিজ্ঞেস করলেই পাওয়া যাবে।
দিয়া: তুই এত টেনশন করছিস কেনো। কাল ভাইয়া আসলেই তো হলো।
অনু: আমার টেনশন হচ্ছে। রোদ যদি কাল কোনো ঝামেলা করে।
দিয়া: ভাইয়া সব সামলে নেবে। চিন্তা করিস না।
অনু: চিন্তা কি আর নিজের ইচ্ছায় করি। চলে আসে। যাই হয়ে যাক। দ্বীপ ছাড়া আমি অন্য কাউকে কোনো ভাবেই বিয়ে করবো না। হুহ।
দিয়া: ওকে মেরি ভাবিজান।
অনু: ওহ। দিয়া তর এই কথায় আমার কলিজাটা পুরো ঠান্ডা হয়ে গেলো।
তিথি+সিমি+মায়রা+দিয়া: 😂😂😂
অনু: হাসছিস কেনো?
সবাই একসাথে: এমনি ভাবিজান।
অনু: 😁
।
আজ ফ্রাইডে তাই দ্বীপ বাসায়। সকাল থেকে নেহা দ্বীপকে একা চারছে না। যদি দ্বীপ ওই বাসায় চলে যায়। দ্বীপ ও চুপচাপ বসে আছে আর নেহার বকবক শুনছে।
নেহা: দ্বীপ আজ রাতে বাইরে কোথাও ডিনার করলে কেমন হয়।
দ্বীপ: কেনো? বাসায় কি রান্না হবে না।
নেহা: আরে আমি সেটা কখন বললাম। আমরা আলাদা একটু টাইম স্পেন্ড করতে পারবো।
দ্বীপ: ওহ আচ্ছা।
নেহা: তাহলে রাতে বাইরে নিয়ে যাবে তো।
দ্বীপ: ওকে।
নেহা খুশির ঠেলায় দ্বীপকে জরিয়ে ধরে বলে,”আই লাভ ইউ দ্বীপ।”
দ্বীপ আস্তে করে নেহাকে সরিয়ে নেয়।
।
।
চলবে?🙄