#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ২৪
।
।
রাতে,,
আবির অভি শুভ আর ঈশান এসেছে অনুর বাসায়। অনু মনমরা হয়ে বসে আছে। বাকিরা আড্ডা দিচ্ছে। অনুর মন খারাপ দেখে ঈশান বললো,”আরে মন খারাপ করে বসে আছো কেনো। তোমার ফাস্ট হাজবেন্ড আসবে তো তোমাকে নিতে। ডোন্ড ওরি😁।”
অনু: 😐
দিয়া: আমি তো সেটাই বলছি। আমার কথা শুনলে তো। মন খারাপ করে বসে আছে।
তিথি: আমার অনেক ভয় করছে। রোদ ভাইয়ার কথা ভেবে।
আবির: কেনো?
তিথি: দ্বীপ যদি কাল এসে বিয়েটা ভেঙ্গে দেয় তাহলে ভাইয়ার কি হবে। দ্বীপ কি এটা ঠিক করছে? অনুকে বিয়ে করার হলে আগে বললেই তো পারে।
অভি: প্রবলেম আছে তাই তো পারবে না।
মায়রা: বাট প্রবলেমটা কি?
অভি কিছু বলার আগেই দিয়া ইশারা দিয়ে চুপ থাকতে বললো। অভি আর কিছু বললো না। দিয়া বিছানায় তাকিয়ে দেখে অনুর ফোন বাজছে। দিয়া ফোনটা হাতে নিলো। নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলো। ঈশান ও দিয়ার পিছু পিছু গেলো।
মায়রা: কি হলো বলো।
অনু: হ্যা অভি বলো কি প্রবলেম।
শুভ: আরে কিছু না। এতো হাইফার হচ্ছো কেনো তোমরা? শুনো আমাদের শুধু কাল বিয়েটা একটু পিছুতে হবে। মিনিমাম ৮টা পর্যন্ত।
সিমি: ও নো। এতো লেইট কি করতে পারবো।
শুভ: পারতে হবে।
অনু: আমার না খুব ভয় করছে। ভুল করে ও যদি বিয়েটা হয়ে যায়। কাল আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবো।
তিথি: কি বলছিস এসব। পাগল হয়ে গেছিস। তুই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে আংকেল আন্টির মান সম্মান সব নষ্ট হয়ে যাবে।
অভি: তোমরা কথা বলো আমরা নিচে যাই। দেখি স্টেজ সাজানো শেষ হয়েছে কিনা। আর তোমরা রেডি হতে শুরু করো।
মায়রা: ওকে।
অভি আবির আর শুভ নিচে বাগানে চলে গেলো। ওখানেই গায়ে হলুদের এরেইন্জমেন্ট করা হয়েছে।
আর তিথি সিমি মায়রা ফ্রেস হতে গেলো রেডি হতে হবে।
।
এদিকে রোদের বাসায় রোদের ভাবি এসে রোদকে একটা হলুদ পান্জাবী দিয়ে গেছেন রেডি হওয়ার জন্য বাট রোদ রেডি না হয়ে রুমে পায়চারি করছে শুধু নদীর কথা গুলোই ভাবছে। রোদ কি করবে বুঝতে পারছে না। রোদ ফোন বের করলো। অনুর সাথে সেদিন এর পর থেকে আর কথা বলে নি। ইচ্ছে করে নি কথা বলতে। অনু কি অবস্থায় আছে সেটা ও জানে না। এখন ফোন দিবে।
অনুর ফোন রিং হচ্ছে। কিন্তু কেউ ধরছে না। সেকেন্ড বার ফোন দেওয়ার পর দিয়া ফোন রিসিভ করলো।
।
নেহা রেডি হয়ে দ্বীপের রুমে গেলো গিয়ে দেখে দ্বীপ বিছানায় মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। নেহা গিয়ে দ্বীপের পাশে বসলো।
নেহা: দ্বীপ তুমি রেডি কখন হবে। আমরা বের হবো কখন।
দ্বীপ: এত জলদি গিয়ে কি করবো। ৯টায় গেলেই তো হয়।
নেহা: রাতে ঢাকা শহরটা ঘুরতে ভালো লাগে। তুমি সাথে থাকলে আরো বেশি ভালো লাগবে। প্লিজ চলো না।
দ্বীপ: ওকে তুমি রুমে যাও আমি রেডি হয়ে আসছি।
নেহা: ওকে।
নেহা চলে যেথেই দ্বীপ দিয়াকে ফোন দিলো। ওখানের কি অবস্থা সব জেনে নিলো।
।
মায়রা অনুকে রেডি করাচ্ছে। হলুদ শাড়ি আর কাচা ফুলের গহনা। চুল বেনি করে সামনে নিয়ে এসেছে আর চুলটাকে ও ফুল দিয়ে সাজিয়েছে। মুখে হালকা মেকাপ। চোখে কাজল আর ঠোটে হালকা লিপষ্টিক। মায়রা অনুকে রেডি করিয়ে দিয়া তিথি আর সিমিকে ও রেডি করিয়ে দিলো। ওরা ও হলুদ শাড়ি পরেছে তবে ডিজাইন আলাদা। ওরা ৪জন একরকম ডিজাইন এর শাড়ি পরেছে আর অনু অন্যরকম। সবাইকেই অনেক কিউট লাগছে। মায়রা সবাইকে রেডি করিয়ে বিছানায় বসে পরলো।
মায়রা: এবার আমাকে কে রেডি করাবে😨।
দিয়া: তুই ছাড়া তো আমদের মধ্যে কেউ শাড়ি পরাতে জানি না। আর সাজতে ও জানি না।
তিথি: তুই একা একা রেডি হতে পারবি না।
মায়রা: তদের রেডি করিয়েই আমি টায়ার্ড।
সিমি: ওয়েট। অভিকে ফোন দিয়ে বলি কাউকে নিয়ে আসতে।
মায়রা: 😐এখন বললে বকা খেতে হবে। রাত কয়টা বাজে খেয়াল আছে। একটু পরই ওদের ডাক পরবে নিচে যাওয়ার জন্য।
অনু: আমি মাকে ডেকে আনছি তকে রেডি করিয়ে দেবে।
মায়রা: রাইট। আমি আন্টিকে ডেকে আনছি তরা বাইরে বের হবি না। আবির আর শুভ যেন এখন ওদের না দেখে। বাইরে সারপ্রাইজ দেবো।
সবাই: ওকে।
মায়রা অনুর মাকে ডেকে আনলো। উনি মায়রাকে শাড়ি পরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন আর মায়রা নিজেই সাজলো।
এদিকে আবির অভি শুভ আর ঈশান ওরা ৪জন সেইম হলুদ পান্জাবি পরেছে। ছেলেরা সব রেডি করে ফোন দেয় দিয়াকে, আর অনুকে নিয়ে নিচে আসতে বলে।
ওরা অনুকে নিয়ে বাগানের ওদিকে যায়।
সব ছেলেরা ওদের দেখে হা করে তাকিয়ে আছে। শুধু অনুকে দেখার মতোই কেউ নেই😒। অনু সবার সামনে গিয়ে সবার হাতে জোরে একটা চিমটি দেয়।
আবির: ইশশ এটা কি হলো।
অভি: তুমি গিয়ে স্টেজে বসে পরো। যাও।
অনু: হুহ তোমরা ও সুযোগ পাও রোমান্স করার। সেটা হচ্ছে না।
দিয়া: তুই বিয়ের কনে এটা ভুলে যাস না। তর মুখে এত কথা মানায় না।
অনু: আমি মুখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারবো না।
শুভ: ওকে তোমরা অনুকে নিয়ে স্টেজে যাও।
মায়রা: আমি সবাইকে এতো কিউট করে সাজিয়েছি আমাকে তো কেউ একটা থ্যাংকস ও দেও নাই।
আবির: থ্যাংকস দিয়ে তুমি কি করবা। তোমাকে তো আমাদের বেষ্টফ্রেন্ডকে দেবো।
মায়রা: ওকে লাগবে না। সবাই একটা করে গিফট দিলেই হবে।
অভি: 😐
ঈশানের হাতে ক্যামেরা। ঈশান সব কিছুর ভিডিও করছে আর দ্বীপকে পাটাচ্ছে আর দ্বীপ ওর ফোনে সব দেখছে।
দ্বীপ নেহাকে নিয়ে একটা রেষ্টুরেন্ট এ এসেছে। শুধু আজকের দিনটাই নেহাকে সহ্য করতে হচ্ছে। কালকের পর থেকে সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে দ্বীপ।
অনুকে স্টেজে বসিয়ে কেক কাটা হলো হলুদ লাগানো হলো।
আরো মজা করলো সবাই রাত ৩টে পর্যন্ত।
অন্যদিকে দ্বীপ শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। গায়ে হলুদের অনুষ্টান শেষে অনু রুমে এসে ফোন হাতে নিয়ে দেখে দ্বীপ একটা ও ফোন বা মেসেজ দেয় নাই। অনুর রাগ পা থেকে মাথায় উঠে গেছে। একবার খোজ নিয়ে ও দেখলো না। অনু নিজেই দ্বীপকে ফোন দেয়। ফোন রিং হচ্ছে কিন্তু দ্বীপ ফোন রিসিভ করছে না। করবে কি করে ফোন তো সাইলেন্ট করে ঘুমিয়েছে। অনু রাগে দুঃখে কান্না করে দেয়। আজ একবারো দ্বীপের সাথে কথা হয় নি। শুধু দুপরে একটু মেসেজে চ্যাট হয়েছিলো।
অনু: একবারো ফোন দিয়ে জানলো না আমি কি করছি। ভুলে গেছে আমায়। যদি কালকে না আসে আমায় নিতে তাহলে😭
দিয়া: একি তুই কাদছিস কেনো😯
অনু: দ্বীপ ফোন ধরছে না।
দিয়া: আরে ফোন ধরবে কি করে।ভাইয়া তো এখন গভির ঘুমে আছে। আর ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমায়।
অনু: একবারো আমাকে ফোন দিয়ে আমার খুজ নিলো না।
দিয়া: 😐ভাইয়া ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিয়ে তর খবর নিয়েছে।
অনু: 😍সত্যি।
দিয়া: হুম এবার ঘুমা। নাহলে কাল উঠতে লেইট হয়ে যাবে।
অনু: ওকে। অভি ঈশান ওরা ঘুমিয়েছে?
দিয়া: হুম ওদের ২টা গেস্টরুম দিয়ে এসেছি আর তিথি সিমি মায়রা ওরা এক রুমে আসে।
অনু: ওকে।
দিয়া আর অনু ঘুমিয়ে পরলো।
।
পরেরদিন দিয়া অনুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে দুপুর ১২টা। অনু ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নেয়। ওর তো বুক ধুকপুক করছে। “বিয়ে হবে তো ওর দ্বীপের সাথে” ভাবছে অনু।
দিয়া: শাওয়ার নিয়ে নে। ৬:৩০ এ বিয়ে।
অনু: কিই? শুভ তো বললো দ্বীপ ৮টায় আসবে।
দিয়া: চিন্তা করিস না এত। আমি ভাইয়াকে টাইম বলছি।
অনু: (দ্বীপ কোথায় তুমি😭)
দিয়া অনুকে টেলে ওয়াশরুমে ডুকিয়ে দিলো।
এদিকে নদী রোদকে আটকানোর জন্য মৃনালকে সাথে নিয়ে রোদের বাসায় যায়। রোদ রেডি হচ্ছিলো তখনই নদী আর মৃনাল রোদের রুমে ডুকে।
রোদ: আরে আপনি?
নদী: এখনো সময় আছে বিয়েটা আটকিয়ে দিন।
রোদ: সরি পসিবল না।
মৃনাল: অনু আপনাকে ভালোবাসে না। কারো ভালোবাসা কেড়ে নিয়ে আপনার লাভটা কি হবে।
রোদ: আমার ভালোবাসা পাবো। বিয়ের পর অনু ঠিক আমাকে ভালোবেসে নেবে।
৬:৩০ এ বিয়ে এটা শুনে দ্বীপের টেনশন আরো বেরে যায়।
দ্বীপ: দিয়া আংকেলের ফ্লাইট তো ৭টায় লেন্ড করবে।
দিয়া: আমি সেটাই ভাবছি। তুই নেহার সব কিছু রেডি করে রেখেছিস তো।
দ্বীপ: হুম।
দিয়া: আংকেল আসলেই যেনো ও চলে যেথে পারে। কোনো এক্সকিউজ শুনবি না ওর।
দ্বীপ: প্রশ্নই উঠে না।
দিয়া: আমি শুধু এটাই বুঝতে পারছি না ওর নেকামু কথা তুই বিশ্বাস করছিস কেনো। ও সুইসাইড করবে আমার বিশ্বাস হয় না।
দ্বীপ: আংকেল এর জন্য এসব করছি। আর সত্যিই যদি ও অনুকে ফাসিয়ে দেয় তখন। আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না।
দিয়া: যে ছেলেটাকে দিয়ে নেহা অনুর পিক ইডিট করেছে ওকে পেয়েছিস।
দ্বীপ: হুম। আজই পেয়েছি। নেহার ফোন লোকেশন টেগ করে। এতদিন নেহা ফোনে কথা বলে নি ছেলেটির সাথে। আজ সকালেই কথা বলেছে। এই সুযোগটারই অপেক্ষা করছিলাম। ফাইনালি পেয়েছি। আমার লোক ছেলেটাকে ধরে রেখেছে। এখন শুধু আংকেল এর আসার অপেক্ষা।
দিয়া: আমি চেষ্টা করবো বিয়েটা আরো পিছানোর তুই প্লিজ জলদি আসার চেষ্টা করিস। রোদকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছি। ওর এক কথা ও অনুকে বিয়ে করেই চারবে।
সন্ধ্যার আগেই রোদ ওর ফ্যামিলি নিয়ে অনুর বাসায় চলে আসে। রোদকে ড্রয়িংরুমে বসানো হয়। রোদের ভাবি অনুকে দেখতে চেয়েছেন রোদের ভাই অনুর বাবার সাথে কথা বলছে।
মিরা: আন্টি অনুকে একটু দেখতে পারবো।
অনুর মা: তিথি যাও তো অনুর কাছে ওকে নিয়ে যাও।
তিথি: আন্টি অনু রুমের দরজা খুলছে না।
অনুর মা: মানে?
তিথি: অনু তো আপনাদের আগেই বলেছে ও এই বিয়ে করতে চায় না। আপনারাই জোর করেছেন। তাই ও দরজা বন্ধ করে বসে আছে। এই বিয়ে করবে না বলে।
অনুর বাবা: এসব কি পাগলামু করছে। বেশি ভালোবাসি বলে মাথায় উঠে গেছে। বিয়ের টাইম হয়ে গেছে আর এখন ও দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
অনুর মা: তুমি এতো রাগারাগি করো না। আমি দেখছি।
অনুর মা অনেকক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কাচ্ছেন বাট অনু কোনো কথাই বলছে না। রেডি হয়ে যে দরজা লাগিয়ে বসেছিলো আর দরজা খুলে নি। ওর এক কথা দ্বীপ এলেই এই দরজা খুলবে। কোনো ভাবেই ও এই বিয়ে করবে না।
রোদ: আন্টি আমি দেখছি। আপনারা টেনশন করবেন না।
অনু দরজা খুলো।
অনু: তুই ভাবলি কি করে তর কথায় আমি দরজা খুলে দেবো। আমি বলেছিলাম তকে এই বিয়ে করবো না। শুনিস নি। এখন বসে থাক।
রোদ: তোমাকে তো এই বিয়ে করতেই হবে।
অনু: কখনো না। তকে…….
অনু কথা শেষ করার আগেই একটা শব্দ হয়। আর অনু সামনে তাকিয়ে দেখে রোদ দারিয়ে আছে। দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে। রোদ অনুর সামনে আসে।
অনু: আমি এই বিয়ে কিছুতেই করবো না😭।
রোদ অনুর হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে আসে। অনু আসতে চায় নি রোদের হাতে কামড় পর্যন্ত দিছে বাট রোদ অনুর হাত ছাড়ে নি।
রোদ: বিয়ে পড়ানো শুরু করুন😡।
।
।
নেহার বাবার ফ্লাইট লেন্ড করেছে। দ্বীপ নেহাকে ঘুরানোর কথা বলে এয়ারপোর্টে নিয়ে আসে।
নেহা: দ্বীপ তুমি আমাকে এখানে নিয়ে আসলে কেনো?
দ্বীপ: আমার লাইফ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।
নেহা: মানে?
দ্বীপ: তোমার বাবা এসেছেন। আর এখন তুমি তোমার বাবার সাথে অস্ট্রেলিয়া যাবে। আর কখনো এই দেশে ফিরে আসবে না।
নেহা: মানেটা কি দ্বীপ। তুমি হয়ত ভুলে যাচ্ছো সেদিন আমাদের মধ্যে কি কথা হয়েছিলো।
দ্বীপ: কিছুই ভুলিনি আমি।
(সেদিন নেহা দ্বীপের মুখে দ্বীপ অনুকে ভালোবাসে কথাটি শুনে নেহার মাথা পুরো খারাপ হয়ে যায়। ও দ্বীপকে কিছুতেই হারাতে চায় না। নেহা জানে ও সোজাভাবে দ্বীপকে কখনোই পাবে না। আর দ্বীপ অনুকে রেখে ওকে কখনই এক্সেপ্ট করবে না। তাই নেহা একটা প্লেন করে। নেহা একটা গ্রফিক্স এর ছেলেকে ফোন করে অনুর পিকচার পাটায়। আর বলে খুব বাজে ভাবে ইডিট করে দেওয়ার জন্য। ছেলেটি একটা ভিডিও বানিয়ে নেহাকে পাটায়। নেহা সেই ভিডিও নিয়ে দ্বীপের কাছে যায়। আর দ্বীপকে ব্লেকমেইল করে অনুর থেকে দুরে যেথে আর ওকে বিয়ে করতে। এসব দেখে সেদিন দ্বীপ নেহাকে একটা চর মেরেছিলো। বাট নেহা দ্বীপের হাত ধরে বলে,
নেহা: দ্বীপ তুমি আমায় যত ইচ্ছা মারো বাট আমি তোমায় কিছুতেই চারতে পারবো না। খুব ভালোবাসি তোমায়। তোমাকে না পেলে এই ভিডিও তো ভাইরাল করবই সাথে অনুকে জেলের ভাত ও খাইয়ে চারবো।
দ্বীপ: কিইইইই😡
নেহা: তুমি আমার না হলে আমি সুইসাইড করবো আর এর জন্য দায়ি করে যাবো অনুকে। তারপর পুলিশ অনুকে ধরে নিয়ে যাবে। আর এই ভিডিও আমার মরার পর আমার লোক এটা ভাইরাল করলে। অনু কাউকে মুখ দেখাতে পারবে না। ওর মরা ছাড়া আর কোনো উপায় খোলা থাকবে না।
দ্বীপ এসব শুনে স্তব্দ হয়ে যায়। কি করবে কিছুই বুঝতে পারে না। ও তো অনুর এত বড় ক্ষতি করতে পারে না। আর নেহা এসব কাউকে বলতে ও বারন করে দেয়। কেউ জানলে ভিডিও ভাইরাল করে দেবে। তাই সেদিন দ্বীপ নেহার কথায় রাজি হতে বাধ্য হয়। বাট নেহার বাবাকে ফোন দিয়ে সব জানায়। নেহার বাবা বলেন উনি ১মাস আগে দেশে আসতে পারবেন না আর নেহার মাকে বলেও কোনো কাজ হবে না নেহার মা নেহাকেই সাপোর্ট করবেন। উনি দেশে না আসা পর্যন্ত যাতে দ্বীপ নেহাকে সামলে রাখে। দ্বীপ এতে রাজি হয়ে যায়। কারন ওকে এর ভেতর ঐ ছেলেটাকে ও ধরতে হবে।নেহা এতদিন ছেলেটার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখে নি ভয়ে। আজ কথা বলেছে। কারন নেহা ভেবেছে আজ তো অনুর বিয়ে হয়ে যাবে। দ্বীপের লাইফ থেকে চলে যাবে আর কোনো ভয় ও নেই।)
দ্বীপ সামনে তাকিয়ে দেখে নেহার বাবা আসছেন। দ্বীপ টাস করে নেহার হাত থেকে ওর ফোন নিয়ে নেয়।
নেহা: দ্বীপ।
ফোনটাকে আছার মেরে ভেঙ্গে ফেলে। এই ফোনেই অনুর ভিডিও। দ্বীপের একটা লোক নেহার লাগেজ নিয়ে আসে। দ্বীপ লাগেজটা নেহার হাতে দিয়ে বলে।
দ্বীপ: গেট লস্ট। আর কখনো আমার লাইফে আসবে না। তোমার জন্য আমার অনুকে কষ্ট দিতে হয়েছে এতদিন।
নেহার বাবা এসে দ্বীপের হাত ধরে বলেন,”মাপ করে দিও দ্বীপ। আমার মেয়ের জন্য তোমাকে অনেক প্রবলেম ফেইস করতে হয়েছে। আর ও কোনো প্রবলেম ক্রিয়েট করতে পারবে না। এই দেশে আর ওকে কখনো পাটাবো না।”
দ্বীপ: থ্যাংকস আংকেল নিয়ে যান ওকে। আর আমার এখন কথা বলার টাইম নেই। আমি আসি। অনুর বিয়ে আমাকে আটকাতে হবে। অনুকে আমি কিছুতেই হারাতে পারবো না।
দ্বীপ অনেক ফাস্ট গাড়ি ড্রাইভ করছে। দ্বীপের টেনশনে অবস্থা খারাপ। দিয়া ঈশান সবাইকে ফোন দিচ্ছে কেউ ফোন ধরছে না। ওখানের কি অবস্থা সেটা ও দ্বীপ জানে না। কেউ কেনো ফোন ধরছে না দ্বীপ বুঝতে পারছে না।
গাড়ি থেকে নেমে দ্বীপ এক প্রকার দৌড়িয়ে অনুর বাসায় ডুকে। বাসায় ডুকে দেখে সবাই মন খারাপ করে মাথা নিচু করে দারিয়ে আছে। আর একটা সোফায় রোদ আর অনু বসে আছে। অনু মাথা নিচু করে আর রোদ অনুর হাত ধরে। বিয়ে হয়ে গেছে। দ্বীপকে আসতে দেখে সবাই দ্বীপের দিকে তাকালো।
দ্বীপ: অনু আর একটু আমার জন্য ওয়েট করতে পারলে না। তোমাকে বলেছিলাম না আমি আসবো তোমার কাছে যেভাবেই হোক।
বলেই দ্বীপ হাটুগেড়ে নিচে বসে পরে।
।
।
চলবে?🙄
#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ২৫
।
।
রোদ এগিয়ে যায় দ্বীপের কাছে। দ্বীপের সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে।
রোদ:অনু উপরে আছে। যাও।
দ্বীপ অবাক হয়ে রোদের দিকে তাকায়। কায়া উঠে আসে আর ওর মাথার ঘুমটা সরায়।
দ্বীপ:ও…….
রোদ:মাই লাভ এন্ড মাই ওয়াইফ কায়া।
দিয়া:ভাইয়া যা উপরে।
দ্বীপ তারাতারি উঠে উপরে অনুর রুমে যায়। দিয়া ঈশান ওরা ও পিছু পিছু আসে। দ্বীপ গিয়ে দেখে অনু বিছানায় শুয়ে আছে। দ্বীপ গিয়ে অনুর পাশে বসে।
দ্বীপ:ওর কি হয়েছে?
দিয়া:সেন্সলেস হয়ে গেছিলো।
ঈশান:জ্ঞান ফিরে আসবে কিছুক্ষণ এর মধ্যে। ডোন্ড ওরি। তারপর বিয়ে করে নিবি।
দ্বীপ:কি হয়েছিলো এখানে।
রোদ:আরে কিছু হয় নি। অনুকে রুম থেকে নিয়ে এসেছিলাম নিচে কায়াকে দেখাবো বলে। কিন্তু ও তো ভয়ে জ্ঞানই হারিয়ে পেলেছে। আমাদের বিয়েটা আর ওর দেখা হলো না।
দ্বীপ:বাট কায়া?
রোদ দ্বীপকে সব খুলে বলে কায়ার সাথে ওর রিলেশন এর ব্যাপারে। ওরা কেনো আলাদা হয়েছিলো এটা ও বলে।
নদী:এই বিয়েটা আটকাতে আমাকে দিয়াকে আর ঈশানকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।
মৃনাল:আমি ও ছিলাম সাথে।
দিয়া:হুম। কাল রাতে অনুর ফোনে নদীর কল আসে। আমি অনুর ফোন নিয়ে বেলকনিতে চলে যাই। আমার সাথে ঈশান ও আসে। নদী আমাকে রোদ আর কায়ার বিষয়ে সব বলে। নদীর সাথে কথা বলার পরই অনুর ফোনে রোদের কল আসে। আমি রোদকে বলি ভাইয়া কেনো অনুর থেকে দুরে। রোদ সব জেনে এই বিয়েটা না করার ডিসিশন নেয়।
নদী:আমি আর মৃনাল পরেরদিন রোদের বাসায় গিয়ে সব প্লেন করে নেই। আগে থেকেই কায়াকে অনুর বাসায় নিয়ে আসি। অনুকে সব বলার আগেই ও দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।
মৃনাল:তকে জানাইনি সারপ্রাইজ দেবো বলে😁।
রোদ:এবার অনুর সেন্স এলে বিয়েটা করে নাও।
দ্বীপ সব শুনে অনুর দিকে তাকায়। মুখটা পুরো শুকিয়ে গেছে। ঘুমের মাঝে ও মনে হচ্ছে অনেক টেনশনে আছে। দ্বীপ অনুর কপালে একটা কিস করে।
দ্বীপ:আর কোনো কষ্ট পেতে দেবো না তোমায়। সব ঠিক হয়ে যাবে এবার।
সবাই বাইরে চলে যায়। দ্বীপ অনুর দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর অনু নড়েচরে উঠে।
দ্বীপ:অনু!
অনু চোখ খুলে তাকায়। দ্বীপকে দেখে বিছানা থেকে উঠেই দ্বীপকে জরিয়ে ধরে আর কেদে দেয়।
অনু:দ্বীপ তুমি এসেছো। জানো আমি কত ভয় পেয়ে গেছিলাম। ওরা আমায় জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো😭
দ্বীপ:কিছু হয় নি। তোমাকে আমার থেকে আলাদা করবে এত সাহস কারো আছে। কান্না বন্ধ করো। সব ঠিক হয়ে গেছে।
অনু:রোদ!
দ্বীপ:ওর তো বিয়ে হয়ে গেছে।
অনু:কার সাথে?
দ্বীপ:কায়া।
অনু:কিইই?
এখন দ্বীপ অনুকে সব বলে রোদ যা যা বলেছে।
অনু:সত্যি!
দ্বীপ:হুম। এবার নিচে চলো। বিয়ে বিয়ে করে তো পাগল করে দিয়েছিলে। এবার বিয়ে করবে না।
অনু:হুম🙈
দ্বীপ অনুর হাত ধরে নিচে নিয়ে আসে। সবাই নিচে বসে আছে। দ্বীপ এসে দেখে দ্বীপের মা বাবা ও চলে এসেছেন।
দ্বীপের মা: আমাদের ছাড়াই কি বিয়ে করে নিবি।
দ্বীপ: তোমাদের বলার টাইম পাই নি।
দিয়া: তাই আমি ফোন দিয়ে আসতে বলেছি।
ঈশান: এবার বিয়ে পড়ানো শুরু করো।
অনুর বাবা: হুম।
রোদ: হ্যা শুরু করো। অনু আমার হাতের কি অবস্থা করেছো দেখো কামরিয়ে।
রোদ ওর হাত তুলে দেখায়। অনু লজ্জা পেয়ে দ্বীপের পিছনে লুকিয়ে পরে। সবাই অনুর কান্ড দেখে হেসে দেয়।
খুব ভালোভাবেই ওদের বিয়েটা হয়ে যায়। দ্বীপের মা বাবা অনুকে নিয়ে ওদের বাসায় চলে আসেন। রোদ আর কায়া চলে যায় রোদের ভাই ভাবির সাথে ওদের বাসায়। অনু আসার সময় অনেক কান্নাকাটি করে। একটা মেয়ের জন্য সব থেকে কষ্টের মুহূর্ত হলো বিদায়ের সময়। মা বাবাকে সারাজীবনের জন্য ছেড়ে অন্যের বাসায় চলে আসতে হয়। দ্বীপ অনুকে সামলে নেয়।
তিথি সিমি মায়রা অভি আবির আর শুভ ও আসে দ্বীপের সাথে ওদের বাসায়। মৃনাল আর নদীকে ও বলেছিলো আসতে। বাট ওরা আসে নি। বাসায় চলে গেছে।
সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে। আর অনু দ্বীপকে জরিয়ে ধরে দ্বীপের বুকে মাথা রেখে বসে আছে।
ঈশান: দ্বীপ আর কোথাও যাবে না। ডোন্ট ওরি। যেভাবে ধরে রেখেছো মনে হচ্ছে চলে যাবে।
অনু: যেথে চাইলে ও যেথে দেবো না।
অনু দ্বীপকে জরিয়ে ধরেই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে। মা বাবার কথা খুব মনে পরছে।
দ্বীপ: আচ্ছা যাবো না। বাট কান্না বন্ধ করো। সব ঠিক হয়ে গেছে তো।
দিয়া: ভাইয়া কাদতে দে। মা বাবাকে ছেড়ে চলে আসা যে কতটা কষ্টের তা শুধু একটা মেয়েই বুঝতে পারে।
আবির: রাইট। দ্বীপ এক কাজ কর। অনুকে নিয়ে তর রুমে চলে যা। সারাদিন অনু যা টেনশনে ছিলো। ওর এখন রেষ্ট এর প্রয়োজন।
মায়রা: আজ অনু সারাদিনে কিছু খায় ও নি। ওকে খাইয়ে দিতে হবে।
দ্বীপ: আমি ওকে নিয়ে রুমে যাচ্ছি। দিয়া তুই খাবার নিয়ে রুমে চলে আসিস।
ঈশান: আমার জায়গা গেলো😭
অভি: 😂আহারে….
ঈশান: হুহ।
দ্বীপ অনুকে নিয়ে ওর রুমে যায়। ঈশান আগেই ওর সব জিনিস অন্যরুমে শিফট করে রেখেছিলো। দ্বীপ অনুকে বিছানায় বসিয়ে ফ্রেস হয়ে আসে।
দ্বীপ: এবার যাও। তুমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে এসো।
অনু: কাপড় তো আনি নি।
দ্বীপ: দিয়া সব ব্যাবস্থা করে রেখেছিলো। ওয়াড্রপে দেখো তোমার ড্রেস আছে।
অনু গিয়ে একটা ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে পরে। তারপর ফ্রেস হয়ে আসে। এসে বসতেই দিয়া খাবার নিয়ে আসে।
দিয়া: তরা ২জন খেয়ে নে।
অনু: আমার খিদে নেই।
দিয়া: সারাদিন কিছু খাস নি। এখনো তর খিদে লাগে নি😐
দ্বীপ: খেয়ে নাও। এনার্জি বারাও। রাতে কাজে লাগবে না😜।
দিয়া: 😂
অনু: 😮
দ্বীপ: কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমি কি কিছু ভুল বললাম।
অনু: আসভ্য ছেলে মুখে কিছুই আটকায় না।
দ্বীপ: ভুল কি বললাম। রাতে এনার্জির প্রয়োজন আছে না। আজ আমাদের বাসররাত😜
দিয়া হাসতেই হাসতেই বললো,”আমি আসি তরা খেয়ে নে।”
অনু: 😐
দ্বীপ: এভাবে তাকিয়ে থেকে লাভ হবে না। খেয়ে নাও।
অনু: 😏
খাওয়া দাওয়া শেষে অনু বিছানা থেকে নামে।
দ্বীপ: কি হয়েছে?
অনু: আমি দিয়ার রুমে যাবো।
দ্বীপ:🤨কেনো?
অনু: এতদিন আমাকে কত কষ্ট দিয়েছো মনে আছে। সব সুধে আসলে ফেরত দেবো। হুহ। আমি তোমার সাথে এক রুমে থাকবো না।
দ্বীপ অনুর হাত ধরে টেনে বিছানায় ফেলে দেয়। আর অনুকে জরিয়ে ধরে বলে,”বিয়ে কি আলাদা থাকার জন্য করেছি। বউ রেখে ও একা বিছানায় আমি ঘুমাতে পারবো না।”
অনু:কেনো পারবে না। এত দিন তো ঠিকই পেরেছো। এখন কেনো পারবে না।
দ্বীপ: এতো দিন তো জানতাম আমি বিয়ে করি নি তাই পেরেছি। এখন জানি আমার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আর পারবো না।
অনু: হুহ ডং।
দ্বীপ: যাই বলো। এখন চুপচাপ ঘুমাও।
অনু: পারবো না চুপ থাকতে।
দ্বীপ: আমি চুপ করে দেবো।
অনু: কিভাবে?
দ্বীপ অনুর ঠোটে ওর একটা আঙ্গুল দিয়ে স্লাইভ করে।
অনু: ছিঃ!
দ্বীপ: তাহলে ঘুমাও।
অনু: না।
দ্বীপ: তাহলে কিন্তু কাজ শুরু করে দেবো।
অনু: কি?
দ্বীপ: বাসররাতে কি করে জানো না।
অনু: অসভ্য ছেলে।
দ্বীপ: না ঘুমালে করবো।
অনু: ঘুমাচ্ছি।
অনু ও দ্বীপকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরে।
এদিকে আবির ছাদে গিয়ে দারিয়ে আছে ওর ঘুম আসছে না। তিথিকে একটা মেসেজ দিয়ে বলেছে ছাদে আসার জন্য বাট তিথি একনো আসছে না। কিছুক্ষণ পর আবির ফিল করে কেউ ওর পিছনে দারিয়ে আছে। আবির ঘুরে পেছনে তাকানোর আগেই ওকে পিছন থেকে কেউ জরিয়ে ধরে। আবির বুঝতে পারে এটা আর কেউ না। তিথি।
আবির: তিথি!
তিথি: হুম। তুমি না দেখে আমায় চিনলে কি করে?
আবির: তোমায় আমি ফিল করতে পারি। তাই।
আবির তিথিকে নিজের দিকে ঘুরালো। তারপর বললো,”আমরা কবে বিয়ে করবো তিথি।”
তিথি: আগে মন ভরে প্রেমটা করে নেই। আমাদের নাতি নাতনিকে আমাদের লাভ স্টরিটা শুনাতে হবে না।
আবির: তোমাকে বলেছিলাম না তুলির কথা।
তিথি: হুম।
আবির: ও পরে প্রবলেম ক্রিয়েট করতে পারে। খুব জ্বালায় ফোন দিয়ে। আপুর ননদ বলে কিছু বলতে ও পারি না।
তিথি: তুমি ওর সাথে কথা বলো😡
আবির: আরে বাবা রাগ করছো কেনো? বার বার ফোন দেয়। তাই বাধ্য হয়েই রিসিভ করতে হয়।
তিথি: যদি আর একবার ওর ফোন রিসিভ করো তাহলে তোমার সাথে আমার ব্রেকাপ😡
আবির:(কথায় কথায় ব্রেকাপ😐)এই কারনেই বলছি জলদি বিয়েটা করে ফেলি চলো। সামনে শুভ আর সিমির বিয়ে। তারপর অভি আর মায়রার।
তিথি: আমি বাসায় বলবো কি করে। রোদ ভাইয়াকে দিয়ে বলাতে হবে।
আবির: তোমায় কিছু বলতে হবে না। আমিই যা করার করবো। শুধু তুমি রাজি থাকলেই হলো।
তিথি: ওকে।
আবির তিথির কপালে আলতো করে একটা কিস করে। তিথি আবিরকে জরিয়ে ধরে।
অন্যদিকে অভি আর মায়রা বাগানের দোলনায় বসে আছে। মায়রা অভির কাধে মাথা রেখে বসে আছে।
অভি: মায়রা।
মায়রা: হুহ।
অভি: তোমার ভাইয়াকে কবে বলবে আমাদের কথা।
মায়রা: জব পেলে।
অভি: কি? তুমি জব করবে?
মায়রা: হুম। আমি চাই নিজের পায়ে দারাতে। মা বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়া খুব কষ্ট করেছে আমার জন্য। ভাইয়াকে একটু নিজের চেষ্টার খুশি দিতে চাই।
অভি: তুমি তো আমাদের অফিসেই জয়েন করতে পারো।
মায়রা: না। আমি আমাদের ভার্সিটিতে জব এর এপ্লাই করেছি। ৩দিন পর ইন্টারভিউ। ওটা আশা করি পেয়ে যাবো।
অভি: আমাকে আগে বলো নি কেনো?
মায়রা: কতো ঝামেলায় ছিলাম এ কদিন। বলার সুযোগ কোথায় ছিলো। আজই একটু ফ্রি আছি আমরা।
অভি: তাও ঠিক। শুভ আর সিমির বিয়ের পরেই কিন্তু বলতে হবে।
মায়রা অভির দিকে তাকিয়ে বলে,”ওকে। এতদিন ওয়েট করেছো। এ কদিন ওয়েট করতে পারবে না।”
অভি মায়রাকে নিজের বুকে জরিয়ে নিয়ে বলে,”তোমার জন্য তো সারাজীবন আমি ওয়েট করতে পারবো।”
।
।
শুভ আর সিমি ঘুমিয়ে আছে। পুরো আনরোমান্টিক😒।
সিমি তো জানেই না ওর পাশে তিথি নেই। মায়রা আর দিয়া এক রুমে ঘুমিয়েছে। হঠাৎ সিমি ওর কিনারে হাত দেয়। দিয়ে দেখে জায়গা খালি। সিমি চোখ কচলিয়ে উঠে বসে।
সিমি: একি তিথি কোথায়। ফোন ও রুমে রেখে গেছে।
সিমি বিছানা থেকে নামে। রুম থেকে বের হয়। একটু সামনে এগুতেই কারো সাথে ধাক্কা লাগে আর সিমি নিচে পরে যায়।
সিমি: আআআ হুম্মম্ম।
শুভ সিমির মুখ চেপে ধরে এতো রাতে চিৎকার করলে সবাই জেগে যাবে। সিমি শুভকে দেখে ইশারা দিয়ে বলে হাত সরানোর জন্য। শুভ হাত সরিয়ে দেয় দেয়। সিমি উঠে দারায়।
শুভ: তুমি এত রাতে চুরের মত হাটছিলে কেনো।
সিমি: কিইই? আমি চুর। তুমি নিজে কি। তুমি ওত চোরের মতই হাটছিলে।
শুভ: আমি তো আবিরকে খুজতে বেরিয়েছি। আমি আর আবির এক রুমেই ছিলাম। হঠাৎ জেগে দেখি আবির আমার পাশে নেই।
সিমি: আমি তো তিথিকে খুজতে বের হয়েছি। এত রাতে ও কোথায় গেলো।
আমি গিয়ে মায়রা আর দিয়াকে জিজ্ঞেস করে দেখি।
সিমি দিয়ার রুমের দরজা হালকা করে ফাক করে। করে দেখে দিয়া একা ঘুমিয়ে আছে। পাশে মায়রা নেই।
সিমি: মায়রা কোথায় গেলো।
শুভ: মানে মায়রা রুমে নেই।
সিমি: না।
শুভ: দারাও দেখি ঈশান এর পাশে অভি আছে কিনা।
শুভ ঈশান এর রুম ফাক করে টেবিলল্যাম্প এর আলোয় দেখে ঈশান ও একা ঘুমিয়ে আছে।
শুভ: আই আন্ডারস্টেন্ড।
সিমি: কি?
শুভ: অভি আর মায়রা, আবির আর তিথি এক সাথেই আছে।
সিমি: তার মানে কি প্রেম করছে এতো রাতে।
শুভ: জি ম্যাম।
সিমি: ধুর ওদের জন্য আমার এত ভালো ঘুম নষ্ট হলো। ওকে, তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পরো। আমি ও যাই। ওরা টাইম হলে চলে আসবে।
সিমি চলে যেথে নিলেই শুভ সিমির হাত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে।
সিমি: আরে কি করছো এটা।
শুভ: ওরা প্রেম করছে। রোমান্স করছে। আমরা কেনো ঘুমাবো। এত সুন্দর সুইট জিএফ থাকতে আমি ঘুমাতে পারবো না।
সিমি: 😐আমার ঘুম পাচ্ছে। ঘুমাবো।
শুভ: যেথে দিলে তো।
সিমি: 🤨তো কি করবে?
শুভ: রোমান্স।
সিমি: ইমপসিবল।
শুভ: আমি পসিবল করবো।
শুভ সিমির কপালে আসা চুলগুলো কানের নিচে গুজে দেয়। সিমি চোখ বন্ধ করে নেয়। শুভ মুচকি হেসে সিমির কপালে আলতো করে একটা চুমু দেয়।
সকালে,,
দ্বীপ ঘুম থেকে উঠে দেখে অনু গুটিসুটি মেরে ওর বুকে মাথা রেখে শুইয়ে আছে। দ্বীপ আস্তে করে অনুর মাথা বালিশে রেখে বিছানা থেকে উঠে পরে। তারপর ফ্রেস হতে চলে যায়। ফ্রেস হয়ে এসে অনুর সাইডে বিছানায় বসে অনুর চুলগুলো ঠিক করে ওর কপালে একটা কিস করে নিচে নেমে যায়। নিচে গিয়ে দেখে দিয়া গালে হাত দিয়ে বসে আছে।
দ্বীপ: এভাবে বসে আছিস কেনো? বাকিরা কোথায়।
দিয়া: কেউ এখনো ঘুম থেকে উঠে নি। কতো ডাকলাম। কোনো সারা নেই।
দ্বীপ: ওহ। তাহলে তুই এভাবে বসে আছিস কেনো?
দিয়া: একা ভালো লাগছে না। অনু কোথায়?
দ্বীপ: এখনো উঠে নি।
দিয়া: সারা রাত ঘুমাতে দেস নি নাকি। এখনো উঠছে না কেনো?
দ্বীপ: 😐ও যে দেরিতে ঘুম থেকে উঠে জানিস না। নিজের ভাইকে এসব বলিস।
দিয়া: ও বলা যায়😜
অভি নিচে নামতে নামতে বলে,”কি নিয়ে কথা হচ্ছে।”
দিয়া: তর বিয়ে নিয়ে।
অভি: ওটা নিয়ে তকে ভাবতে হবে না। তুই তর বিয়ে নিয়ে ভাব।
দিয়া: 😏
দ্বীপের মা কিচেন থেকে এসে বলেন,”এখনো সবাই ঘুম থেকে উঠে নি ৯টা বেজে গেছে। সবাইকে ডেকে তুলো। ব্রেকফাস্ট কখন করবে।”
অভি: আমি ঈশান আবির আর শুভকে ডেকে আনছি।
দিয়া: আমি সিমি মায়রা তিথিকে ডেকে নিয়ে আসছি। ভাইয়া তুই অনুকে গিয়ে ডেকে তুল।
দ্বীপ: ওকে।
দ্বীপ রুমে গিয়ে দেখে অনু বিছানায় নেই। একটু পর অনু ওয়াশরুম থেকে বের হয়।
অনু: তুমি আমায় রেখে রুম থেকে বেরলে কেনো😡
দ্বীপ: তো কি হয়েছে?
অনু: ঘুম থেকে উঠেই তোমার মুখ দেখতে চেয়েছিলাম।
দ্বীপ: ও এই ব্যাপার। এখন মন ভরে দেখে নাও।
অনু: এখন দেখে কি করবো। ঘুম থেকে উঠে দেখতে চেয়েছিলাম। দেখি সরো।
দ্বীপ: কেনো?
অনু: নিচে যাবো। আন্টি একা আছেন না।
দ্বীপ: ওহ যাও।
অনু দ্বীপকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে চলে যায়।
দ্বীপ: এই মেয়ে আমাকে শুধু ধাক্কা দেয় কেনো?
অনু নিচে গিয়ে সোজা কিচেনে চলে যায়। গিয়ে দেখে দ্বীপের মা ব্রেকফাস্ট রেডি করছেন। অনু গিয়ে পেছন থেকে দ্বীপের মাকে জরিয়ে ধরে বললো,”সরি আন্টি উঠতে লেইট হয়ে গেলো।”
দ্বীপের মা রাগি লুকে অনুর দিকে তাকিয়ে বললেন,”আন্টি?”
অনু: সরি সরি মা।
দ্বীপের মা: গুড। আর তুই যে লেইট এ উঠিস এটা তো আমি জানি। তো সরি বলতে হবে না। তর যখন ইচ্ছা উঠতে পারিস। এবার এগুলো নিয়ে টেবিলে সাজা।
অনু: ওকে।
অনু সব খাবার নিয়ে টেবিলে সাজালো। সাজানোর পর তাকিয়ে দেখলো সবাই এক সাথে নিচে নামছেন। দ্বীপের বাবা ও সাথে আছেন।
সবাই এক সাথে ব্রেকফাস্ট করে নিলো। তারপর দ্বীপ অভি আবির আর শুভ এক সাথে চলে গেলো অফিসে। দ্বীপের বাবা ও চলে গেলেন। আর তিথি মায়রা সিমি অনু আর দিয়া ওরা অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়ে দুপুরের দিকে তিথি সিমি আর মায়রা ওরা চলে গেলো ওদের বাসায়।
।
।
চলবে?🙄