#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#সতেরো
প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা
রিদ্ধিমা ডক্টর হুমায়রার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমরা সবসময় একটা মানুষের বাইরেটা দেখে বিচার করি।
তার ভেতরে গল্পটা জানার চেষ্টা করি না। প্রতিটি সুখের গল্পের পেছনে অনেকটা কষ্টের পথ পাড়ি দেয়ার রহস্য রয়েছে।
কাউকে তার অতীত দিয়ে বিচার না করে, তার অজান্তে করা ভুল দিয়ে না ভেবে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে কি আছে সেটাই দেখা উচিত।
কিন্তু এ দুনিয়া মেয়েদের কম বয়সের করা ভুলগুলো সত্যি কী ভুলে যেতে পারে!
সেই মেয়েকে সারাজীবন একটা ভুলের জন্য মানুষের কথার বাণে ক্ষতবিক্ষত হতে হয়।
ডক্টর হুমায়রা কিছুক্ষণ চুপ করে জোরে শ্বাস নিয়ে বললেন, “জানো রিদ্ধিমা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় গুলো আমি তখন কাটিয়েছি। খোলামেলা জীবন-যাপন করার পর পুরোপুরি আল্লাহর রাস্তায় আসা সহজ কথা নয়।
বারবার ওই রঙিন দুনিয়া আমায় হাতছানি দিয়েছে। আর বারবার নিজের মন ও মস্তিষ্কের সাথে যুদ্ধ করে আমি দ্বীনের পথ বেছে নিয়েছি। ইসলামকে আমি শুধু ধর্ম হিসেবে নয়। জীবন চালনার উৎস হিসেবে দেখেছি। তাই তো আমার উপর কিছুই বোঝা হয়ে উঠেনি। ইসলাম শুধু একটা ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান।
যেখানে তোমার জীবনের প্রতিটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। আর সেই দ্বীন সত্যের, পবিত্রতার প্রতীক। তাই তো প্রথম প্রথম আমি নিজেকে অনেক বুঝিয়েছি।
নিয়মিত কোরান পড়েছি। পবিত্র কোরানের আয়াতের অর্থ যত বুঝতে চেয়েছি। তত নিজেকে খুব নগন্য ও গুনাহগার হিসেবে পেয়েছি।
না প্রথমে এসব কিছুই সহজ ছিল না। তারপর ধীরে ধীরে যখন নিজের সব প্রশ্নের উত্তর এই কোরানে খুঁজে পেয়েছি, ঠিক তখন আমি নিজেকে পাল্টে ফেলেছি। বরং বিগত দিনগুলোতে কেন আমি নিজ ধর্মের বিমুখী ছিলাম তাই ভেবে লজ্জায় শেষ হয়ে গেছি। দিন রাত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ইস্তেগফার করছি।
এখনো যখন মনে হয় আমি একটা সময় স্কুল, কলেজে, অনেক ছেলেদের সামনে পর্দা ছাড়া গিয়েছি। একসাথে খাবার খেয়েছি। এবং এমন এক পুরুষকে ভালোবেসেছি যাকে মানুষ হিসেবে গন্য করাই যায় না। ঠিক তখন লজ্জায়, সংকোচে আমি আমার আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারতাম না। যখনই নামাজে দাঁড়াতাম আমার মালিকের কাছে কিছু বলতে পারতাম না। শুধু নীরবে চোখের জল গড়িয়ে পড়ত। মনে হতো আমি এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছি, যেখানে কথা বলার যোগ্যতা হারিয়েছে।
বলো তো রিদ্ধিমা যখন তুমি বুঝতে পারবে তুমি কোনো মানুষের সাথে খুব অন্যায় করেছো। এবং এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছো, যেখানে সব অন্যায় তোমার। তখন সেই ব্যাক্তির সামনে তুমি কীভাবে দাঁড়াবে? কীভাবে তার সামনে কথা বলবে? সেখানে তো তোমার বলার মতো যোগ্যতাই নেই। তুমি সব হারিয়েছো নিজের ভুলে।
কখনো কোনো মানুষের সাথে এতটা অন্যায় করার পর সে তোমাকে ক্ষমা করবে না। কিন্তু যিনি তোমার প্রতিপালক তিনি সবসময় তোমাকে তার দিকে ডাকছে শুধু মাত্র ক্ষমা করার জন্য।
আমি যখন জানলাম ” বান্দার এমন কোনো গুনাহ করার ক্ষমতা নেই। যার ক্ষমা মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে নেই।”
তিনি তো পরম দয়ালু। তিনি চান তার কাছে আমরা ফিরে আসি, ক্ষমা চাই। এবং তার সামনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে শুদ্ধ হয়ে যাই।”
তাই তো আমি নিজেকে সেই রাস্তায় নিয়ে এসেছি। প্রতিটি মিনিটে নিজেকে নতুন এক মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করেছি। ধীরে ধীরে নিজেকে আজকের আমিতে তৈরি করেছি।
রিদ্ধিমা তুমি জানো আমি তোমায় এসব কেন বলছি? কারণ আমি জানি তোমার জীবনের গল্প আর আমার জীবনের গল্প একই। আমি যেমন সব হারিয়ে আল্লাহর রাস্তায় এসেছি। আমি চাই তুমিও তোমার পথের দিশা পাও। নিজেকে একা না ভাবো।
শুধু মনে রেখো তোমার সব আপনজন তোমায় ছেড়ে গেলেও, তোমার আল্লাহ তোমায় ছেড়ে যাননি। তিনি আছেন, সর্বদা আছেন। শুধু তোমাকে তাকে খুঁজে পেতে হবে। যখন তুমি তাকে পেয়ে যাবে তখন দেখবে এ দুনিয়ার কোনোকিছু তোমায় হারাতে পারছে না।
ডক্টর হুমায়রা চুপচাপ কিছুক্ষণ রিদ্ধিমাকে দেখে তারপর বললেন, “রিদ্ধিমা, তুমি জানো আমি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে যতটা না ক্লায়েন্টদের হিলিং করি। তারচেয়ে বেশি চেষ্টা করি ইসলামের বিধান দিয়ে করতে। কেননা আমি বিশ্বাস করি আমার থেকে মোটিভেশনাল স্পিস শুনে তারা ক্ষণিকের জন্য নিজেকে হিলিং করতে পারবে ঠিক। কিন্তু কোরানের আয়াতের দ্বারা যে হিলিং হবে তার কার্যকারিতা আজীবন রয়ে যাবে। একজন সাইকিয়াট্রিস্টের অনেক রকম রুলস আছে। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে আমি সেসব রুলস ব্রেক করেছি। কেননা, কোনো রাহিদ কিংবা মাহিদের জন্য জীবন থেমে থাকে না। থেমে রাখা উচিতও নয়।
বেঁচে থাকো তার জন্য যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন। বেঁচে থাকো তার জন্য যে প্রাণ তোমারই ভেতর তুমি লালন করছো!
একজন নারী যখন মা হয়ে যায়, তখন তার শক্তি এত বেশি হয়ে যায় যে, প্রয়োজনে সন্তানের জন্য পাহাড় কেটে ঝর্ণা বানাতে পারবে।
নিজের ভেতরকার শক্তিকে জাগিয়ে তোল। দেখবে জীবন সুন্দর! অনেক, অনেক বেশি সুন্দর!
★★★
রিদ্ধিমা আচমকা ডক্টর হুমায়রাকে ধরে কেঁদে ওঠল। হুমায়রা হাসছেন। রিদ্ধির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভাবছেন, ” সব ঠিক হয়ে যাবে রিদ্ধিমা। শুধু সময়ের দরকার। তুমি নিজেকে ভাঙো, গড়ো। তারপর দেখবে রবের রহমতে সব কতটা সুন্দর হয়ে যায়।
হুমায়রা রিদ্ধির চোখ মুছে বললেন, “বোকা মেয়ে! এভাবে কেউ কাঁদে?”
রিদ্ধিমার মনে হলো অনেক কিছু বলার আছে। অনেক কিছু বলতে পারবে। অথচ কী অদ্ভুত! তার মুখে একটা শব্দও আসছে না। জরুরি সময়ে শব্দরা ধরা দেয় না।
দূরে দাঁড়িয়ে শাহান তাদের দেখছে। তার চোখেও জল চিকচিক করছে। কিছু মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তা এত বেশি মায়া মনের ভেতর দিয়ে দেন যে, তাদের চোখের এতটুকু অশ্রুও সহ্য হয় না। তাই তো তার বুকের ভেতর তীর তীর করে বয়ে যাচ্ছে ছোট্ট নদী। সে জানে না এর শেষ কোথায়।
শুধু জানে এই মেয়েটিকে দাঁড় করাতেই হবে।
ডক্টর হুমায়রা আজ নিজেই রিদ্ধিমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে গেলেন। রিদ্ধি একটা কথাও না বলে সামনে এগিয়ে যেতেই হুমায়রা ডেকে বললেন,” তুমি অনেক সৌভাগ্যবতী রিদ্ধিমা। দেখবে একদিন আল্লাহ তোমায় এত বেশি দেবেন যে, তুমি খুশি হয়ে যাবে।”
চলবে।
#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#আঠারো
প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা
শরৎ এর আকাশে পেজো তুলোর মতো মেঘের ভেলা উড়ছে। স্নিগ্ধ বিকেল! মিষ্টি বাতাস তীর তীর করে শরীরের এসে লাগতেই মনে হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে আনছে। কতগুলো পাখি ডানা মেলে দ্বিকবিদিক ছোটাছুটি করছে। এমন সুন্দর বিকেল রিদ্ধি অনেক দিন দেখেনি।
অন্ধকার একটা ঘরে নিজেকে বন্দী করে রাখাই যেন একটা রুটিন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজকের বিকেলটায় বারান্দায় এসে বসতে ইচ্ছে হলো। ভাগ্যিস বসেছিল। নয়তো এত সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেত কী করে! এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে মুক্ত আকাশে উড়ন্ত পাখিদের মতো ভাবতে ইচ্ছে করল।
মনুষ্য জনমে কতবার কত কী যে দেখতে ইচ্ছে করে তার ইয়ত্তা নেই। কখনো গাছ হতে ইচ্ছে করে তো, কখনও আকাশ, কখনও পাখি আরও কত কী!
ডক্টর হুমায়রার কাছ থেকে এসেছে এক সপ্তাহ হলো। সেদিন বাসায় ঢুকেই অঝোরে কেঁদেছিল সে।
প্রতিটি মানুষের সুখ গুলো একই রকম না হলেও, দুঃখ গুলো কেমন করে যেন মিলে যায়। নয়তো ডক্টর হুমায়রার সাথে তার জীবনের এত মিল কী করে হয়!
এটা কী শুধু কাকতালীয় ঘটনা! নাকি একে-অপরের সাথে কোনো যোগসূত্র আছে কে জানে!
সেদিন থেকে রিদ্ধিমার ভেতরটায় কিছু একটা বদলে গেল। সারাক্ষণ আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে ব্যস্ত রাখছে। সব রকম ফরজ নামাজ শেষ করেও, তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ পড়ছে। মন কোনো কারণে বিষন্ন হয়ে উঠলেই আল্লাহর কাছে সব যন্ত্রণা প্রকাশ করে। অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করে একটু আগের যত রকম অভিমান, কষ্ট ছিল সব কেমন করে যেন উবে গেছে। মনের আনাচে-কানাচে জায়গা করে নিয়েছে টুকরো-টুকরো প্রশান্তি।
নিজের মনে কোনো প্রশ্ন আসলেই কোরআনের তাফসির পড়ে সব উত্তর পেয়ে যায়।
তার এক মুহূর্তের জন্য মনে হয় যদি ছোট বেলায় বাবা-মা তাকে মাদ্রাসায় পড়াতেন। যদি জীবনের সফল হওয়ার তাগিদের চেয়ে আখিরাতে সফল হওয়ার তাগিদ বেশি দিতেন তবে হয়তো নিজের দ্বীনকে জানায় এত দেরি হত না।
হয়তো জীবনের অনেক ভুল শুধরে নেয়া যেত।
সারাক্ষণ ফোনে ওয়াজ,ইসলামিক বিষয়ে নানা খুঁটিনাটি জানায় ব্যস্ত থাকে। যখন মনে হয় বাবা-মাকে কষ্ট দিয়েছে তখন নিজেকে অপরাধী মনে হয়। ভাবে আগে কেন এই বোধবুদ্ধি হলো না। কেন নিজেকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করল না।
আজকাল নিজের পরিবর্তন দেখে নিজেরই ভালো লাগে তার। জীবনের বাইশটি বছর পার করে এসে বুঝতে পারছে যে সুখের পেছনে এতগুলো দিন ছুটেছে। নানা মানুষকে প্রশ্ন করেছে সে সুখ তো তার হাতের কাছেই ছিল। অথচ সেদিকে ফিরেও তাকায়নি। আল্লাহর রাস্তা কতটা সহজ তা তখন কেন মনে হত না। মানুষ এক টুকরো সুখের জন্য পাহাড়, পর্বত পাড়ি দিতে রাজি আছে। শুধু যেখানে গেলে আসলেই সুখ মিলবে সে পথে যায় না।
মাগরিবের আজান দিয়েছে। রিদ্ধিমা বারান্দার গ্রিল ধরে উঠে দাঁড়াল। শরীর আজকাল খুব ভারি ভারি মনে হয়। বসলে উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হয়। ভেতরে প্রাণটার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। প্রায় কোরান পড়ে তার মাঝে বেড়ে উঠা অতিথিকে তাফসির পড়ে শোনায়। নানা কথা বলে। কখনো নানাভাই,নানুমণি, মামাইদের গল্প করে। তার কেন যেন মনে হয় ও তার পাশে বসে আছে। খুব মনোযোগের সাথে তার কথা শুনছে।
মাতৃত্ব কী অদ্ভুত ব্যাপার তাই না! ছেলেমানুষ মেয়েকেও দ্বায়িত্বশীল মা বানিয়ে দেয়।
কেমন করে যেন মন ও মস্তিষ্ক দুটোই এক লাফে অনেক পরিণত করে তোলে।
আজকাল সে আরও একটি বিষয় খেয়াল করেছে যখনই কোনো বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখনই কোনো না কোনো ভাবে সেই বিষয়ে কোরানের আয়াত সামনে এসে যায়। তার প্রায় মনে হয় আল্লাহ তা’আলা তার সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।
তার ধারণা ভুলও হতে পারে। তারপরও মন এটা ভেবে শান্তি পায়। যেন কোরান তার সাথে কথা বলছে। তাকে সঠিক পথের দিশা দেখাচ্ছে।
প্রায় কিছু কিছু আয়াত অর্থসহ লিখে ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে দিয়েছে।
★★★
ডক্টর হুমায়রার সামনে শাহান বসে আছে।
“তোর কী উচিত নয় রিদ্ধিমাকে সব সত্যি জানিয়ে দেয়া?”
“আমি কখনো ওঁকে কিছু জানাতে পারব না।”
“কেন পারবি না?”
“জানি না।”
“আমি চাই তুই ওঁকে বিয়ে করে নেয়। দেখ ওঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য শুধু হিলিং জরুরী নয়। বরং এমন একটা মানসিক সাপোর্ট প্রয়োজন যা তাকে শান্তি দেবে।”
শাহানের গম্ভীর মুখ আরও গম্ভীর হলো।
“তুই জানিস আমি রিদ্ধিমাকে কিছুই জানাতে পারব না। তাছাড়া আমার ওর কাছে কোনো চাওয়াও নেই। জরুরি নয় যে, যাকে ভালোবাসি তাকে বিয়ে করতে হবে। ভালোবাসা, সম্পর্ক এসব বিষয়ে ওর মনের ভেতর একটা ভয় ঢুকে গেছে। এত তাড়াতাড়ি তা যাবে না। তাছাড়া ও জানেও না আমি কে। আর আমি চাই ও না জানুক। তুই প্লিজ কখনো এসব নিয়ে ওঁকে কিছু জানাবি না।”
ডক্টর হুমায়রার হেম রঙের মুখের আদলে কৃষ্ণ মেঘের ছায়া পড়ল।
“তোর সমস্যাটা কী আমি বুঝি না শাহান। বারো বছর, আই রিপিট বারো বছর কিন্তু কম সময় না। বারো বছরে কত মিনিট, কত সেকেন্ড হয় তুই জানিস?”
শাহানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির রেখা দেখা গেল।
“আমি জানি বারো বছরে কত মিনিট, কত সেকেন্ড হয়। এবং অন্য সবার থেকে বেশি জানি। কারণ অপেক্ষা করার সময় এক মিনিটও এক হাজার বছর মনে হয়। আর বারো বছর তো অনেক, অনেক লম্বা সময়। আমি যেভাবে জীবনকে ভাবি, সেভাবে ভাবতে দে। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। আমি আমার আল্লাহকে বিশ্বাস করি। আমার জন্য যদি কিছু বরাদ্দ করা হয়। তা নিশ্চয়ই আমার কাছেই আসবে।”
“মিঃ শাহান, আপনি নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন দোয়া বলেও কিছু আছে। যা ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।”
“ইয়েস! ডক্টর হুমায়রা এহসান। সে দোয়া নিশ্চয়ই আপনাকে শুনিয়ে করতে হবে না।”
হুমায়রা বুঝে গেছে এর সাথে তর্ক করা বৃথা। একে কখনো সে কথা দিয়ে হারাতে পারেনি, আজও পারবে না। তবে এ একটা বিষয়ে এই বুদ্ধিমান ছেলেকে তার বোকা বলে মনে হচ্ছে। হয়তো এটাপ্রেমে পড়ার কারণেই হয়েছে। প্রেম, ভালোবাসা যে আসলেই মানুষকে বোকা বানিয়ে দেয় তা একে দেখেই বোঝা যায়।
শাহানের মুখে মুচকি হাসি। সে বলল, “ডক্টর হুমায়রা এহসান, হার মেনে গেলেন?”
হুমায়রা হেসে বলল, “আমি মানুষকে বুঝাতে চেষ্টা করি। কোনো পাগল প্রেমিককে নই মিঃ শাহান।”
“গুড গার্ল! এভাবেই গুড হয়ে থাকবেন। আপনার ডাক্তারি আমার উপর এপ্লাই করবেন না।”
হুমায়রা রাগের ভাব করে বললেন, “আমার পেশেন্ট আসবে। আপনি এখন যেতে পারেন।”
শাহান টেবিল থেকে চশমাটা নিয়ে ধূলো উড়ানোর মতো করে ফু দিয়ে চোখে পরে বলল, “আল্লাহ হাফেজ ডক্টর। ”
হুমায়রা মেকি হেসে বলল, “আল্লাহ হাফেজ।”
শাহান চলে যাওয়ার পর হুমায়রা অনেকক্ষণ ধরে তাকে নিয়ে ভাবল। হাসতে হাসতে বলল, “পাগল একটা।”
তারপর এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো রিদ্ধিমা আসলেই ভাগ্যবতী। নয়তো এই যুগে কেউ কাউকে এতটা ভালোবাসে। তাও সেই ভালোবাসা পাবে কিনা সেটা সিওর না হয়ে এতদিন অপেক্ষা করে!
অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে মেয়েটা জানেই না। এমন কেউ আছে। যার ছায়া তার উপর সর্বত্র রয়েছে।
এই ভালোবাসাও কী এমন বিষয় যা মানুষকে কীভাবে যেন পরিবর্তন করে দেয়। কী হবে শাহানের গুপ্ত ভালোবাসার পরিণতি!
আজীবন দেখে এসেছে অধিক ভালোবাসা কখনো সুখ দেয় না। শুধু কান্নার কারণ হয়!
চলবে