Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-১৬

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-১৬

0
274

#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
পর্ব:১৬

আপনি জানেন কে করেছে এমনটা?

“নীলিমার কথায় ভ্রু কুঁচকে নীলিমার পানে চাইলো আহির,

__ধীর কন্ঠে বললো,
মানে?

স্যার,,,,,এখনো বুঝতে পারছেন না কে করেছে এমনটা!

তোমার কি মনে হয়!কে করেছে এমনটা?

পাভেল”

কিহ পাভেল,বিস্ময় নিয়ে বললো আহির।

নীলিমা ঠোঁট কামড়ে ফের বললো, স্যার,আমি দেখেছি সেদিন,মাইরার গায়ে এসিড দেওয়া ছেলেগুলো যখন বাইক নিয়ে চলে যাচ্ছিলো তখন আমি পাভেল কে দেখেছি।

আহির নীলিমার পানে চেয়ে কপাল কুঁচকে বললো,
মুখ দেখোছো?

নীলিমা হতাশ হয়ে বললো নাহ দেখিনি।

তাহলে প্রমান লাগবে,আইন প্রমান ছাড়া কথা বলবে না।বুঝলে মেয়ে এখন আমাদের প্রমাণ লাগবে।

নীলিমা আহিরের পানে চেয়ে মৃদু হেসে বললো, থাকবেন আপনি আমার পাশে?

“আহির ছোট্ট করে উওর দিলো, হু থাকবো।

খানিকক্ষণ আগেই আহির মাইরা কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলো।মেয়েটার এহেম পরিস্থিতিতে বেশ খারাপ লাগলো আহিরের।মেয়েটা ভালো,কারো সাথে ঝামেলা করে না,শান্ত অথচ এই মেয়েটার সাথেই এসব হলো।

মিমি তুমি?

ছোট্ট আহ্লাদীর মিষ্টি করে মিমি ডাকে নীলিমা দাঁত বের করে হাসলো,অতঃপর হাত বাড়িয়ে দিলো আহ্লাদীর পানে।আহ্লাদী দৌড়ে নীলিমার কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো,

মিমি কেমন আছো তুমি?

নীলিমা হাঁটু গেড়ে বসলো, আহ্লাদীর গালে চুমু দিয়ে বললো,আমি তো দিব্যি আছি!তা আমার আহ্লাদী কেমন আছে?

আমি খুউব ভালো আছি।

পাপা এদিকে এসো!

আহির খানিকটা দূরে দাড়িয়ে আহ্লাদী আর নীলিমাকে দেখছিলো,আহ্লাদীর ডাকে সেদিকে গেলো।

পাপা একটা কথা বলবো!

ছোট্ট আহ্লাদীর আদুরে কন্ঠে আহির মৃদু হেসে বললো,
” বলো মা কি বলবে?

পাপা আমার মা চাই,সবার মা আছে আমার কেনো নেই?জানো পাপা আমার বন্ধু দের মা আছে তাদের মা তাদের খুব আদর করে।আমার তো মা নেই তাই আমাকে মা ভালোবাসে না, আমার মা এর আদর চাই পাপা!

কি আদুরে সেই আবদার।

নীলিমার চোখে পানি জমেছে,চিকচিক করছে আদুরে মুখখানা।ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো আহ্লাদীর পানে।

আহির মেয়েকে কোলে তুলে নিলো, কপালে চুমু একে বললো,

পাপা তোমাকে ভালোবাসি না?

বাসতো, তবুও আমার মা চাই!

আহ্লাদী অমন আবদার করো না,যা আমি পূর্ণ করতে পারবো না!

আহ্লাদী আহিরের কোল থেকে নেমে গেলো,মাথা উঁচু করে আহিরের পানে চাইলো,

হুট করে মেয়েটা ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো,

আহির নির্বিক চেয়ে রইলো, নীলিমা ও আহ্লাদীর পানে চেয়ে রইলো।

তুমি খুব খারাপ পাপা!তুমি আমাকে ভালোবাসো না,যদি ভালোবাসতে তাহলে আমাকে মা এনে দিতে,তুমি ভিষণ পঁচা!

আহ্লাদী”র কথা শেষ হতেই মেয়েটার ফর্সা ছোট্ট গালে সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আহির,মেয়েটা ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো,

নীলিমা আগলে নিলো আহ্লাদী কে।

আহির তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো, আমি তোমাকে ভালোবাসি না!কিভাবে বলতে পারলে তুমি? পাপা তোমাকে ভালোবাসে না!
“আহিরের কন্ঠ কাপছে, চোখের কোণে পানি জমেছে।

আহ্লাদী নীলিমার কাঁধে মুখ গুঁজে রেখেছে। তার খুব খারাপ লাগছে।পাপা তাকে মেরেছে, কই আগে কখনো তো মারে নি তাহলে আজ কেনো মারলো। পাপা কি খুব কষ্ট পেয়েছে?আহ্লাদী মুখ তোলে আহিরের পানে চেয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

স-সরি পাপা,আমার মা চাই চাই না।তুমি বেস্ট পাপা।আমার তুমি হলেই হবে।আমি আর কখনো মা চাইবো না।চাইবো না মা।তবুও তুমি আমার সাথে রাগ করোনা পাপা।মেয়েটা ফুপিয়ে কাঁদছে।আহির মেয়েকে আগলে নিলো,কপালে চুমু একে দিলো।

নীলিমা মৃদু হাসলো, ইস কি সুন্দর বাবা মেয়ের ভালোবাসা।

পাপা,,,,আর কিছু বলতে পারলো না আহ্লাদী গরগর করে বমি করতে লাগলো,

আহির চমকে গেলো, মেয়েকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।মেয়েটা কাশতে কাশতে নেতিয়ে পরলো আহিরের বক্ষে।

নীলিমা পা বাড়িয়ে আহ্লাদীর কাছে এলো,চিন্তিত হয়ে শুধালো, আহ্লাদী কি হয়েছে তোমার?পেট কেমন করছে?বমি করছো কেনো?কোথায় কষ্ট হচ্ছে?

আহির বিরক্ত হলো নীলিমার এতো প্রশ্নে,তবুও চুপচাপ শুনলো। আহ্লাদী কে কোলে তুলে নিলো, ওয়াশরুমে চলে গেলো।নীলিমাও পিছু পিছু গেলো।

_________

ঘড়ির কাঁটায় তখন শেষ বিকেল।এই তো কিছুক্ষণ আগে ডক্টর মাইরার বেন্ডেজ খুলে দিয়েছে।দেখতে দেখতে আজ ২৮ দিন পেরিয়ে গেছে মাইরা” র সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনার।পুলিশ তদন্ত করে আসামি হিসেবে পাভেল কে আসমী হিসেবে গন্য করেছে।তবে,
তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার আগেই তার মৃত দেহ উদ্ধার করে।নীলিমার কাছে শুনেছে সে,কি নির্মম ভাভে কারা যেনো পাভেল আর তার বন্ধু অভ্র কে মেরেছে।বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নাকি তাতের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো।মুখ দেখে চেনার উপায় ছিলো না তাদের পরিচয়। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে DNA Test করে পুলিশ জানিয়েছে হ্যাঁ এটাই পাভেল আর অভ্র”র লাশ।সেখানেই মাইরার কেসটা বন্ধ হয়ে যায়।তবে পুলিশ চেষ্টা করেছে পাভেল আর অভ্রর খুনি কে খুজার তবে তারা সফল হতে পারে নি। খুনি ভিষণ চতুর আর চালাক ছিলো,চুলেন নায় চিকন সরু প্রোভ রাখে নি।একদম নিখুঁত ছিলো তার খুনের স্কেল।

সার্জারি”র পর মাইরার ঝলসে যাওয়া, অঙ্গ খানিকটা স্বাভাবিক করতে পেরেছে ডাক্তার। তবে পুরোপুরি যায় নি।থেকে গেছে চাঁদের গায়ের কলঙ্কের মতো দাগ।

আয়নার সামনে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আঁতকে উঠলো মাইরা।চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ালো। কাঁপা কাঁপা হাতে ছুয়ে দিলো নিজের চিবুক খানা।ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো, দু’হাতে মুখ ঢেকে মেঝেতে বসে পড়লো।

তন্ময় মাইরার জন্য ওষুধ আনতে বেরিয়েছিলো,এসে মাইরা কে কাঁদতে দেখে দৌড়ে মাইরার বাহু আঁকড়ে ধরে, আদুরে কন্ঠে শুধালো,

__”বউ কি হয়েছে তোমার!কাঁদছো কেনো?কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো আমাকে!

মাইরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো তন্ময়ের পানে।অতঃপর ফুপিয়ে উঠলো,নিজেকে খানিকটা সামলে নিলো। ঠোঁট কামড়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,

আপনি তো আমাকে আগে থেকেই পছন্দ করেন না,তার ওপর এখন আমার শরীরে এসিডে ঝলসে যাওয়া কলঙ্ক লেগে আছে,ঘৃণা করবে না আমার এই ঝলসে যাওয়া অঙ্গ দেখে?

__তন্ময় খানিকক্ষণ চেয়ে রইলো মাইরার কান্নারত মুখপানে, অতঃপর হুট করে জরিয়ে ধরলো মাইরাকে। নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো, শক্ত করে ধরলো,যেনো ছেড়ে দিলেই হাঁড়িয়ে যাবে অতল গহীনে।

মাইরা বিড়াল ছানার মতো লেপ্টে রইলো তন্ময়ের বুকে।

তুমি বড্ড বোকা বউ,সাধে কি আর তোমাকে বোকা ফুল বলি।বউ,

মাইরা মৃদু শব্দে উত্তর দিলো,

হু”

তন্ময় মাইরার কপালে শব্দ হীন চুমু একে দিলো,

i Don’t like you but i like you,

তন্ময়ের কথা খানা মাইরার মাথার ওপর দিয়ে গেলো।
কি বলে এই লোক,

বউ ভালোবাসা পবিত্র, রুপ গুণ ধর্ম কিংবা জাত মানে না।যখন তখন হয়ে যায় দুটি হৃদয়ের সংযোগ। আমার দুর্ভাগ্য কি জানো?

মাইরা পিটপিট করে তন্ময়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
কি?

তোমাকে এতো দেরি করে ভালোবাসা!মেয়ে এসেছিলাম তোমার থেকে মুক্তি পেতে, কে জানতো তুমি আমার আসক্তি হবে।আফিমের নেশার চাইতেও ভয়ঙ্কর তোমার নেশা।তোমার পবিত্র মুখশ্রীতে যতোবার তাকাই ততোবারই ধ্বংস হয়ে যাই আমি।ঘায়েল হয়ে যাই।আমার ২৯ বছরের হৃদয়ে তোমাকে ভালোবাসার দহনে পুরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।

মাইরা মৃদু হাসলো,তন্ময়ের বুকে কয়েক ঘা কিল বসিয়ে দিলো, অভিযোগ করে বললো,

কই ভালোবাসি বললেন না যে?

“ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা যায় বউ,খুব কি প্রয়োজন আয়োজন করে ভালোবাসি বলার?

মাইরা তন্ময়ের বুকে লেপ্টে গিয়ে বললো,না প্রয়োজন নেই!আপনি শুধু আমাকে ভালোবাসবেন তাতেই দিব্যি চলে যাবে আমার,

ভালোবাসি বউ,ভিষন ভালোবাসি,এই পৃথিবী যেমন সত্যি আমার ভালোবাসাও তেমন চিরন্তর সত্যি। আমি তোমাকে ঠিক কাফনের কাপড়ের নায় ভালোবাসি।যা মৃত্যুর পরেও আমাদের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখবে।

মাইরা নাক টেনে বললো,
__” আমিও ভালোবাসি স্বামীজান,ভিষন ভালোবাসি, আমার চতুর্দশী বয়সে ঠিক যেই মুহূর্তে আপনার নামে কবুল বলেছিলাম, ঠিক সেই দিন ক্ষন থেকেই আপনি টাকে ভালোবাসি।আমৃত্যু ভালোবাসবো।পরজন্ম বলে যদি আদৌও কিছু হয়,তবে সেই জন্মেও আমি তন্ময় চৌধুরী”র অভিলাষী হতে চাই।হতে চাই আপনার অর্ধাঙ্গিনি।

আরে বাহ,
প্রেম জমে তো ঘি,

জিহাদ কেবিনে প্রবেশ করতে করতে কথা খানা বললো,ঠোঁটে তার কিঞ্চিত হাসি।

তা ব্রো লজ্জা লাগছে না,ছোট ভাইয়ের সামনে এভাবে বাচ্চা বউ কে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে রাখতে?

তন্ময় কপাল কুঁচকে বললো,
__বউ কেই তো ধরলাম,শালি কে না।

জিহাদ কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো,

ভাবি তোমার পাতানো বোন কে আমাকে দিয়ে দেও না।আর কতোকাল বউ ছাড়া থাকবো।

মাইরা ভ্রু কুঁচকে বললো, পাতানো বোন মানে কি?মাইশা আপু আমার মেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন।আর হ্যাঁ,আমার মায়ের পেট থেকে বেরোতে গিয়ে মাইশা আপুর আম্মুর পেট থেকে বেরিয়ে গেছে।

জাহিদ কপালে হাত দিয়ে বললো,

আরে পিচ্চি ভাবি,আপনি এতো বুদ্ধি নিয়ে ঘুমান ক্যামনে?

মাইরা ভাব নিয়ে বললো,দেখতে হবে না কে এটা।আমি মাইরা পুরো দুনিয়াতে এক পিস যা আপনার ভাই ভাগ্য করে পাইছে।কি ঠিক বললাম তো স্বামীজান?

তন্ময় মাইরার পানে চেয়ে বললো,
__অবশ্যই তোমার মতো বোকা ফুল কে পেয়ে আমি ধন্য।

মাইরা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠলো,

তন্ময় চেয়ে রইলো অষ্টাদশীর পবিত্র হাসির দিকে।

__

সেদিনের পর কেটে গেছে আজ ১৫ দিন।প্রকৃতি জুড়ে বসন্তের আগাম বার্তা জানাচ্ছে।প্রকৃতি সেজেছে নিজ মহিমায়। রাঙিয়ে তুলেছে বসন্তের ফুলে ফলে চারিপাস।

বাবা তুমি এটা করতে পারো না,আমি বিয়ে করবো না।প্লিজ বাবা এমনটা করো না।

নীলিমা কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার হাত ধরে কথা গুলো বললো,

নাহিদ সিকদার গম্ভীর কন্ঠে বললো,
আমার সিন্ধান্ত আমি বলে দিয়েছি।সন্ধ্যায় তৈরি থেকো।আর হ্যাঁ আমি তোমার ভালো চাই বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আস্থা রেখো আমার উপর।

নীলামা কিছু বলতে পারলো না,কি বলবে কাকে বলবে বাবাকে বলবে।না সে সাধ্য তার হয় নি বাবার উপর কথা বলবে।এই মানুষ টা তার আপন ভিষন আপন।রক্তের সম্পর্ক যে সবমসময় আপন হয় তা নয় কখনো কখনো আত্মার সম্পর্ক আপন হয়।নীলিমা খাটে বসে পড়লো। চোখ বন্ধ করতেই আহির মির্জার
মুখশ্রী ভেসে ওঠলো। ছোট্ট আহ্লাদীর আদুরে কন্ঠে বলা কথা টা কানে বাজলো।

সেদিন ছিলো,সোমবার নীলিমা আনমনে হাটতে হাটতে অনেকটা দূরে একটা লেকের ধারে গিয়ে দাড়িয়ে ছিলো।

হুট করে ছোট্ট দুটো হাত তার কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো,মিমি

নীলিমা হকচকিয়ে গেলো, ছোট্ট আহ্লাদী কে দেখে এক গাল হেসে বললো, আরে আহ্লাদী যে,

আহ্লাদী মিষ্টি করে নীলিমার গালে চুমু একে বললো,
মা,

নীলিমার শরীরে একটা অজানা শিহরণ জেগেছিলো,মা শব্দটা কেমন আদুরে ছিলো।না’রী হলো মায়ের জাত
জন্ম থেকেই সৃষ্টি কর্তা তাদের মাতৃত্বের অনূভুতি দেয়।
নীলিমা সেদিন আবিষ্কার করলো,মা ডাক শোনা সত্যি দারুণ। এই অনূভুতি একদম নতুন ছিলো নীলিমার কাছে।কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

আহ্লাদী আবার বলবে?

তুমি আমার মা হবে!

নীলিমার বলতে ইচ্ছে করলো,হ্যাঁ আহ্লাদী আমি তো তোমার মা হতে চাই। কিন্তু তোমার ওই খচ্চর পাপা আমাকে দু পয়সারও পাত্তা দেয় না।তবে বলা আর হলো কই।

আহির ধমকে ওঠলো বাচ্চা মেয়েটাকে। নীলিমার পানে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আহ্লাদী কে কোলে তুলে সেই যে চলে গেলো আর দেখাই দিলো না।
নীলিমা ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো, সবকিছু এলোমেলো লাগছে তার।সে যে নিজের স্বামী রুপে আহির কে দেখেছে।সেখানে অন্য কাউকে ভাবতেই শরীর ঘিনঘিনিয়ে ওঠলো।

__”আপা কাদিস না?
নুরানি বোন কে জড়িয়ে ধরলো।নীলিমাও জড়িয়ে ধরলো।

নুর বাবাকে বল আমি আহির স্যার কে ভালোবাসি।ওনাকে ছাড়া বাঁচবো না,মরে যাবো।

নুরানি নীলিমার মুখ চেপে ধরে বললো,আপা এসব মরা টরার কথা মুখে আনবি না।আর বাবা যা করছে ভালোর জন্য করছে।তোর খুশির জন্য করছে।

আমার এমন খুশি চাই না নুর যেই খুশিতে আমি আহির মির্জাকে পাবো না।ছোট্ট আহ্লাদীর মা হতে পারবো না।

সে তো সময় বলে দিবে আপা।আপাতত যা মুখ ধুয়ে আয়।তোরে আমি ফেইসপ্যাক লাগাইয়া দিমু।আজ তো তোর গায়ে হলুদ স্কিন টা একটু গ্লো করতে হবে তো,নাকি।
আর মাইরা আপু আর মাইশা আপু আসলো বলে।

নীলিমার রাগ হলো,খুব বলতে ইচ্ছে হলো,তোরা খারাপ খুব খারাপ।ভালোবাসিস না আমাকে।

চলবে,,,,,,,,,