ভালোবাসার রঙিন প্রজাপতি পর্ব-২৭+২৮

0
1163

#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক

২৭

রাইসা ভাবী মুখ চেপে কেঁদে চলছে। অনেকক্ষণ ধরেই চিৎকার করে কাঁদছিলো ভাবী। কিন্তু গলা শুকিয়ে যাওয়ায় মুখ চেপে কাঁদছে সে।
আদ্রিশ ভাইয়া রাইসা ভাবীকে সহিসালামত বাহিরে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকা অটোর বড় সিটটায় রাইসা ভাবীকে শুইয়ে দেওয়া হয়। সেখানে রাইসা ভাবীর মাথা নিজের কোলের উপর রাখার জন্য ছোট মামিকে বসতে বলেন আদ্রিশ ভাইয়া। আর আমাকে বসতে বললেন ছোট সিটটায়।
আদ্রিশ ভাইয়ার কথামত আমি দ্রুত সেই সিটে বসে পরলাম। রাইসা ভাবীর দিকে তাকাতেই বুকটা কেঁপে উঠলো আমার। চোখমুখ কান্নায় জর্জরিত হয়ে আছে তার। বুঝতে পারছি এ লেবার পেইন একটুও সহ্য করতে পারছে না ভাবী। আমি অটোতে বসার পর পরই সেখানেই আদ্রিশ ভাইয়া সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আমি আর ছোট মামি হসপিটালে যাবো। আর নদী এখানে বড় মামি আর মেজ নানুর সাথে বাড়িতে থাকবে। নদী বাড়িতে থেকে সব সামলে নিতে পারবে বলেই তাকে বাড়িতে রেখে যাওয়া হচ্ছে।

আদ্রিশ ভাইয়া অটোতে উঠার পরপরই অটোওয়ালা অটো স্টার্ট দিলেন।
অটো আপন গতিতে ছুটে চলছে। এদিকে রাইসা ভাবীর চিৎকার ক্রমাগত বেড়েই চলছে। আমি ভাবীর দু হাত ঘষতে লাগলাম। আর ছোট মামি ভাবীর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো। সাথে নানা দোয়াদরুদ পড়ে ভাবীর মাথায় ফুঁ দিয়ে দিলো। রাইসা ভাবীর এ যন্ত্রণা দেখে আমার চোখের কোনে পানি টলমল করছে। কিন্তু ভাবীর সামনে এখন চোখের পানি ফেলা মানে তাকে দূর্বল করে দেওয়া। এজন্যই আমি এই দুজনের অগোচরে চোখেরজল মুছে নিলাম।

অটোওয়ালা স্বাভাবিক এর চেয়ে জোরে অটো চালিয়েছিলো বলে দ্রুতই আমরা হসপিটালে চলে এলাম। প্রথমে আদ্রিশ ভাইয়া অটো থেকে নেমে ওয়ার্ডবয় এর সাহায্য নিয়ে স্ট্রেচার এগিয়ে আনলেন। এরপর অতি সাবধানে রাইসা৷ ভাবীকে সেই স্ট্রেচারে উঠিয়ে দিয়ে ওয়ার্ডবয়াসহ তিনি ছুটলেন হসপিটালের ভিতরের দিকে।
আমিও আর অপেক্ষ না করে ছোট মামিকে অটো থেকে নামতে সাহায্য করে হসপিটালের ভিতরের দিকে ছুটলাম।

.

রাইসা ভাবীর আর্তনাদ কমছে না। বরং ধীরেধীরে বেড়েই চলছে। এদিকে ছোট মামি আমার পাশে বসে অনবরত দোয়াদরুদ পরে যাচ্ছে। আমিও আল্লাহ তায়ালা ডাকছি। ওদিকে পর্যবেক্ষণ করছি আদ্রিশ ভাইয়া আর উনার বন্ধুদের। সকলের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। আদ্রিশ ভাইয়া যেমন দুশ্চিন্তায় আছেন, ঠিক তেমনই দায়িত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ আছেন। রাইসা ভাবীর লেবার পেইন উঠার পর থেকেই উনি ফোনে লেগে আছেন। এর সাথে কথা বলছেন, ওর সাথে কথা বলছেন। উনার কথার ধরণ শুনে মনে হয়েছিলো, এখানকার বেস্ট গাইনেকোলজিস্টদের সাথে যোগাযোগ করে রাইসা ভাবীর ট্রিটমেন্ট করার অনুরোধ করেছেন। কারন রাইসা ভাবীর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। এমনিতেই ভাবীর প্রেগন্যান্সির মধ্যে বেশ কিছু কমপ্লিকেশনস আছে, তার উপর সময়ের বেশ কয়েকদিন আগেই তার লেবার পেইন উঠেছে। এমনিতে হয়তো সময়ের কয়েকদিন আগে ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা হতো না, তবে তার যে কমপ্লিকেশনস ও আছে। এজন্যই যত চিন্তা।

এখানে আসার পরপরই আদ্রিশ ভাইয়া, বড় মামা, ছোট মামা আর পলাশ ভাইয়াকে এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সব জানিয়ে দিয়েছেন। তিনজনই তখন বাস স্ট্যান্ডের জন্য বেড়িয়ে পরেছিলো। কিন্তু পরে সময়মতো নির্দিষ্ট বাসের টিকিট পেয়েছে নাকি তা জানা নেই।

কিছুক্ষণের মাঝেই দুজন মহিলা গাইনেকোলজিস্ট রাইসা ভাবীর জন্য বরাদ্দকৃত ওটি’তে প্রবেশ করলেন। মনে হয়, আদ্রিশ ভাইয়ার কলেই তারা এসেছেন। হয়তো ওটি’তে ঢুকেই এখন রাইসা ভাবীর ডেলিভারি কার্যক্রমে হাত দিবেন তারা।

মাথার উপর ধীরগতিতে চলমান ফ্যানটা ঠকঠক শব্দ করে তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। আমি নির্বাক চাহনিতে হসপিটালের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারি হসপিটাল যেমন থাকে, এ হসপিটালটাও তেমনি। ব্যতিক্রম নেই কোনো। হ্যা, এই স্পেশাল ওয়ার্ডের জায়গাটুকু তুলনামূলক বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং গোছালো। এখানে রোগীর আত্মীয়স্বজনদের ভিড় নেই বললেই চলে। চারপাশে কটু ফিনাইলের গন্ধে আমার গা গুলিয়ে আসছে। অথচ আর কয়দিন বাদে এ গন্ধটা সারাজীবনের জন্য ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পরবে আমার সাথে।
একজন ডক্টরকে নৈশপ্রহরী বললে ভুল হবে না। নিজের পরিবার, নিজের আরাম-আয়েস ভুলে সে রোগীর জন্য রাতের পর রাতের না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে পারে। একজন রোগীর অসুস্থতায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকে একজন ডক্টর। মাঝেমধ্যে হয়তো রোগীয় আত্মীয়স্বজনদের চেয়ে একজন ডক্টর বেশি চিন্তাগ্রস্ত থাকে, রোগীর বিষয়ে। এতোকিছুর পরও গুটিকয়েক খারাপ ডক্টরের জন্য সব ডক্টররা ‘কসাই’ বলে পরিচিতি পায়। হায়রে সমাজ…….

রাইসা ভাবীর চিৎকারের আওয়াজ এখন একাধারে শোনা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে থেকে থেকে চিৎকার দিয়ে উঠছে ভাবী। আমি ক্লান্ত দৃষ্টিতে একবার ওটি’র দিকে তাকিয়ে ছোট মামির কাঁধ ছাপিয়ে বাম পাশে তাকালাম। আদ্রিশ ভাইয়া বাদে উনার তিন বন্ধু বসে চেয়ারগুলোতে বসে আছেন। সবার চোখে উদাসীনতার ছাপ দেখা মিলছে। কিন্তু আদ্রিশ ভাইয়া কোথায় গেলেন? উনাকে দেখা যাচ্ছেনা যে? উনার বন্ধুদের কি জিজ্ঞাস করবো?হুম, জিজ্ঞাস করাটাই ভালো হবে। এতে যার যা খুশি সে তা চিন্তা করুক, কিন্তু আমার চিন্তা যে শেষ হয়ে যাবে তাতেই খুশি। এমনিতেই অনেকক্ষণ যাবত খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। পানি খাওয়ার বাহানা দিয়ে ছোট মামির কাছ থেকে উঠে আদ্রিশ ভাইয়ার বন্ধুদের কাছে গিয়ে সবটা জানা যাবে।

আমি নিচু স্বরে ছোট মামির কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে পুলক ভাইয়ার সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমাকে সেখানে দেখে তিনজনই যে বেশ অবাক হয়েছেন, তা উনাদের চেহারা হাবভাব দেখেই বুঝতে পারলাম।
পুলক ভাইয়া আমাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাস করলেন,
“কিছু লাগবে?”

আমি একটু ইতস্ততভাবে বললাম,
“আসলে খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছিলো। এজন্য পানি খেতে চাইছিলাম। ”

“ওহ আচ্ছা। তো চলুন আমার সাথে।”

আদ্রিশ ভাইয়ার সাথে দেখা করার ব্যাপারটা কিভাবে বলবো তা নিয়ে খুব ইতস্তত বোধ করছিলাম। তারপরেও মনে সাহস জুগিয়ে বললাম,
“আমি একটু উনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছিলাম আরকি…..”

পুলক ভাইয়া চোখমুখ কুঁচকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বুঝলাম না ঠিক। কার সাথে দেখা করতে চাচ্ছেন?”

পুলক ভাইয়ার প্রশ্ন শুনে আমি এক বিপাকে পরলাম। আদ্রিশ ভাইয়াকে এ মূহুর্তে উনার সামনে তো শুধু নাম ধরে নাম ধরে ডাকতে পারবো না। আবার নামের সাথে ভাইয়া যোগ করতেও ইতস্তত বোধ করছি। যদিও আমি মনে মনে ঠিকই উনাকে আদ্রিশ ভাইয়া বলে সম্বোধন করি। কিন্তু মনে মনে বলা আর সরাসরি বলার মধ্যে একটু পার্থক্য আছে বটে। এজন্য একটু ভেবে পুলক ভাইয়াকে বললাম,
“আপনার বন্ধু কোথায় সেটা জানতে চাচ্ছি। ”

পুলক ভাইয়া এবার বুঝতে পারলেন যে আমি আদ্রিশ ভাইয়ার সাথে দেখা করতে চাইছি। এটা বুঝতে পেরেই উনি মাথা নিচু করে একটু হেসে নিলেন। এরপর মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“সোজা গিয়ে ডান দিকে চলে যাবেন। ওখানেই আদ্রিশের থাকবার কথা।”

আমি এবার বিনয়ী হেসে বললাম,
“থ্যাংকস ভাইয়া।”

পুলক ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বিস্তৃত হেসে বললেন,
“ইটস মাই প্লেজার।”

আমি হসপিটালের করিডর ধরে সোজা হেঁটে ডান দিকে চলে গেলাম। এদিক ওদিকে একটু চোখ ঘুরাতেই আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম। হসপিটালের থাই গ্লাসের দিকে মুখ করে তিনি ফোনে কথা বলছেন। উনার দিকে একটু এগুতেই উনার কথাবার্তা এবং ফোনের ওপাশের ব্যক্তির কথাবার্তা শুনতে পেলাম।
কোনো কারনে হয়তো আদ্রিশ ভাইয়া রেগে আছেন। কণ্ঠে যথাসম্ভব রাগ প্রকাশ করে উনি ওপাশের ব্যক্তিটার উদ্দেশ্যে বললেন,
“তোমার মধ্যে এইটুকু কমন সেন্স নেই যে, কখন কোন আবদার করা উচিত? এ সময়ে তুমি এমনটা চাইছোই বা কি করে?”

“…………..”

“দুনিয়ায় তুমিই প্রথম মেয়ে নও যে এক্সিডেন্ট করেছো। সো এতো আহ্লাদী দেখাতে হবে না। ”

“…..……”

“হ্যাঁ, এভাবে কথা বলছি। তুমিই আমাকে বাধ্য করেছো এভাবে কথা বলতে। তোমার মধ্যে এই সেন্সটুকু নেই যে বুঝতে পারো, কখন কি চাইবে। তুমি এক্সিডেন্ট করেছো, আই ফিল সরি এবাউট দ্যাট। বাট এখানে ভাবীকে প্লাস আমার ফুল ফ্যামিলিকে এ বিপদের সময় রেখে তোমার কাছে আসবো! ভাবলেও বা কি করে?”

“……..”

“মাহা, কান্না বন্ধ করো ড্যাম ইট। এমনিতেই টেনশনে মাথা হ্যাং হয়ে আছে। তার উপর তোমার কান্না মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে।”

“………”

“এতো কথা শোনানোর পরও আবারো একই আবদার করলে কি করে? যে সামান্য একটু হাত পায়ের চামড়া ছড়ে গিয়েছে তাতেই তুমি এমন করছো! আর আমার ভাবী হাড় ভাঙার মত কষ্ট ভোগ করছে এখনও। অথচ কখন ডেলিভারি হবে তা বলা যাচ্ছে না। আর তুমি বলছো, এতো দায়িত্ব রেখে তোমার কাছে যাবো! কেনো? তোমার আব্বু কি নেই? সে নিজেও তো একজন ডক্টর। সে তো আমার চেয়ে ভালো করে তোমার দেখভাল করতে পারবে।”

“……….”

“ইনাফ মাহা। অনেক হয়েছে। বিরক্ত লাগছে তোমার কথাবার্তা শুনতে। তুমি এখন কান্না করে ঢাকায় বন্যা বানিয়ে দিলেও আমি তোমার কাছে আসছি না। কজ আমি তোমার মত স্বার্থপর আর বিবেকহীন না। ”

এই বলে আদ্রিশ ভাইয়া কল কেটে দিলেন। উনার কথপোকথনে বুঝতে পারলাম যে উনি মাহার সাথে এতক্ষণ কথা বলছিলেন। আর তার সাথে কথা বলার দরুন তিনি এখন প্রচুর রেগে আছেন।
আচ্ছা? উনার কাছে কি এখন যাওয়া উচিত? আমার মনে হচ্ছে না যাওয়াই মঙ্গলজনক আমার জন্য। উনি কোথায় আছেন, কি করছেন তা দেখতেই তো আমি এখানে এসেছিলাম। এসব দেখা শেষ। সুতরাং, আমাকে এখন এখান থেকে যেতে হবে।
আমি আর কোনোরূপ ভাবনা চিন্তা না করেই উল্টোপথে পা বাড়ালাম। কিন্তু আমার আর যাওয়া হলো না। কারন যার ভয়ে আমি এখান থেকে চলে যেতে চাইছি, সেই মানুষটাই পিছন থেকে আমাকে ডেকে পথ আটকে দিলো।
আদ্রিশ ভাইয়ার ডাকে আমি একটা শুকনো ঢোক গিললাম। এখন এই ভয়ে আছি যে, উনি এখানে আসার কারন জিজ্ঞাস করলে আমি কি জবাব দিবো। অবশ্য, একটা কারন আছে। সেটাই বলে দিবো। তবে এখন আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে ফিরতে হবে আগে।
আমি নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে ফিরে তাকালাম। উনি আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আমার দিকে ভালোভাবে একনজর চেয়ে থাকার পর উনি ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞাস করলেন,
“এখানে কি করছো মিশমিশ?”

আমি ঠোঁট প্রসারিত করে একটু ভালোভাবে হাসি দেওয়ার চেষ্টা করে বললাম,
“পানি খেতে এসেছিলাম। কিন্তু কোথায় পানি খাবো তা জানি না।”

আদ্রিশ ভাইয়া বিস্ময় নিয়ে বললেন,
“না জেনেই চলে এসেছো! ভয় করেনি একা আসতে? আমার ফ্রেন্ডদের মধ্যে কাউকে বললেই তো পারতে।”

“আরে অতো কিছু মনে নেই। কোথায় পানি খাবো তাই বলুন আমাকে।”

আদ্রিশ ভাইয়া হাতে থাকা ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বললেন,
“এখানকার ক্যান্টিনে চলো। ঠান্ডা পানি কিনে আনি। তোমার মত সবারই হয়তো পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। ”

“আচ্ছা চলুন। ”

আদ্রিশ ভাইয়া এবং আমি সেই করিডোর ধরে সামনের দিকে এগিয়ে চললাম। পথিমধ্যে মনে সামান্য ভয় নিয়েই উনাকে জিজ্ঞাস করলাম,
“মাহা’র সাথে অতো রুডলি কথা না বললেও পারতেন। ”

আমি সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটছি। আড়চোখে চেয়ে খেয়াল করলাম, আদ্রিশ ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়েছেন। তবে ঠিক পরমূহুর্তেই উনি সামনের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি আমাদের কথাবার্তা সবটা শুনেছো?”

“উমমম…সবটা না…শেষের দিকে আরকি। না মানে মাঝের থেকে আরকি। সরি, আপনাদের পার্সোনাল কথাবার্তা শোনার জন্য। ”

আমার কথায় আদ্রিশ ভাইয়া শব্দ করে হেসে ফেললেন। উনার এ হাসির শব্দ খালি এ করিডোরের দেয়ালে বারি খেয়ে আমার কানে ভেসে এলো। উনি বললেন,
“এতে সরি বলার কি আছে? আর কোনো পার্সোনাল কথাবার্তা চলছিলো না আমাদের মাঝে। সো সরি বলার কিছুই নেই।”

“বেচারিকে ওভাবে না ধমাকলেও পারতেন।”

আদ্রিশ ভাইয়া এবার তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন,
“সে কোনো বেচারি না। সে তো স্বার্থপর। কিভাবে কখন নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে হয় তার সবটাই জানা আছে ওর। ও কিভাবে এর মধ্যে আমাকে ঢাকা যেতে বলে! ”

“সে তো আপনাকে……”

আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই আদ্রিশ ভাইয়ার ফোনে কল এলো। উনি দ্রুত পকেট থেকে ফোন বের করে দেখলেন পুলক ভাইয়া কল করেছে। হসপিটালে থাকার পরও এ সময় পুলক ভাইয়ার কল পেয়ে আদ্রিশ ভাইয়া চিন্তিত হলেন। দ্রুত কল রিসিভ করে চিন্তিত স্বরে বললেন,
“কি ব্যাপার পুলক? এখন কল দিচ্ছিস যে?”

ওপাশে উচ্চ আওয়াজে পুলক ভাইয়ার উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ ভেসে এলো,
“দোস্ত, তুই চাচ্চু হয়ে গিয়েছিস। রাইসা ভাবীর মেয়ে হয়েছে। আমাদের পরী এসেছে রে আমাদের কাছে। কোথায় আছিস তুই? দ্রুত চলে আয়।”

ফোনে টুট টুট আওয়াজ হলো। অর্থাৎ পুলক ভাইয়া ফোন কেটে দিয়েছেন।
এদিকে আদ্রিশ ভাইয়ার চেহারা দেখার মত। খুশি যেন উপচে পরছে উনার চোখেমুখে। বুঝতে পারলাম, উনি অনেক খুশি হয়েছেন। খুশি হওয়ারই কথা। উনার একমাত্র ভাতিজি এসেছে এ দুনিয়ায়।
খুশির জোয়ারে যেন আদ্রিশ ভাইয়া ভেসে যাচ্ছেন। উনার চোখের কোনে খুশির জল টলমল করছে। হঠাৎ করেই উনি কিছু না বলে দু হাতে মুখ চেপে হাঁটু গেড়ে বসে পরলেন। কিছুক্ষণ মুখে হাত চেপে শব্দ করে কান্না করলেন। এরপর মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে আমার দিকে চেয়ে ভেজা গলায় বললেন,
“মিশমিশ….আমি চাচ্চু হয়ে গিয়েছি। আমার পরী চলে এসেছে আমার সাথে খেলা করতে। আমি খুব খুশি। খুব…….. ”

®সারা মেহেক

#চলবে

#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক

২৮

ছোট্ট সোনামণির আগমনে সবাই যেমন খুশি হয়েছে তেমনি ভাবীর আশংকাজনক অবস্থার কথা শুনে সবার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার দেখা মিলছে। ভাবীর চিন্তায় কেউই এখন পর্যন্ত ছোট্ট সোনামণিকে কোলে নেয়নি। অবশ্য ডক্টর তাকে চেকআপ এর জন্য শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পর এদিকে আর আনেননি। ছোট মামিই আনতে দেয়নি। তার কথা হলো, বাচ্চাকে প্রথম কোলে নেওয়ার অধিকার একমাত্র তার মায়ের। যেহেতু রাইসা ভাবী এখনও নিজের বাচ্চাকে কোলে নেয়নি, সেহেতু আমরা কেউই বাচ্চাকে কোলে নিতে পারবো না।

ওটির বাইরে আমরা ছয়জন উদ্বিগ্ন চেহারা নিয়ে বসে আছি। সবার মনেই শান্তির সাথে অশান্তিও বিরাজ করছে। যতক্ষণ না রাইসা ভাবীর অবস্থা ভালো হচ্ছে ততক্ষণ এই চিন্তার খেলা মাথা থেকে বের হবে না। রাইসা ভাবীর সন্তান এ পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়ার পর পরই ডক্টররা বলেন, ভাবীর অবস্থা আশংকাজনক। কারন ডেলিভারির পর থেকে প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। যে ব্লিডিং সহজে থামছে না। এজন্য রাইসা ভাবীকে দু ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আরেক ব্যাগ রক্তও হয়তো অতিশীঘ্রই প্রয়োজন পরবে। প্রেগন্যান্সিতে নানা কমপ্লিকেশনস থাকার

আদ্রিশ ভাইয়া রাইসা ভাবীর ব্যাপারে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি বলে আগে থেকেই এ-বি নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। এ গ্রুপের রক্ত বেশ রেয়ার বলে তিনি পাঁচ ব্যাগ রক্ত এনে রেখেছিলেন। ইতোমধ্যে দু ব্যাগ রক্ত লেগেছে।

আমি ক্লান্ত দৃষ্টিতে ওটি’র দরজার দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে রইলাম। অনেকক্ষণ যাবত বেশ ঘুম পাচ্ছে আমার। কতবার যে হাই তুলেছি তার ইয়ত্তা নেই। তবে এ সবার অগোচরে এ কাজটা করেছি। কারন কেউ আমাকে হাই তুলতে দেখলে ক্লান্ত ভাবতো এবং এজন্যই আমাকে বাড়িতে রেখে আসতো। কিন্তু আমি ছোট বাবুটাকে কোলে না নেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে যাবো না। এর মাঝে অবশ্য আদ্রিশ ভাইয়া আমাকে আর মামিকে এনাম ভাইয়ার সাথে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু ছোট মামি নাছোরবান্দা। সে রাইসা ভাবীর সুস্থতা নিজ চোখে না দেখা পর্যন্ত কোথায় যাবে না। এজন্য একা আমাকে এনাম ভাইয়ার সাথে বাড়িতে পাঠাতে চাননি আদ্রিশ ভাইয়া।

.

প্রায় দু ঘণ্টা সবাইকে চিন্তার মধ্যে রেখেছিলো রাইসা ভাবী। তবে আল্লাহর রহমতে এখন তার অবস্থা আগের তুলনায় বেশ ভালো। ডক্টররা বলেছেন, ভাবী এখন স্ট্যাবল। আর চিন্তার কোনো কারন নেই।

ভাবীকে কেবিনে শিফট করার পর আমিসহ একে একে সবাই তার সাথে দেখা করলো। কিছুক্ষণের মাঝে ছোট্ট সোনামণিকে আনা হলো ভাবীর কাছে। সে তো বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার সাথে সাথেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়। আমরা সবাই ভাবীর কান্না দেখে অবাক হয়ে যাই। তবে পরে তার এ কান্নার রহস্য ঠিকই উদঘাটন করতে পারি। এতো কষ্টের পর নিজের বাচ্চাকে পেয়েই আবেগে এমন কান্না করে ফেলে সে।

এখন মামি বাদে আমরা সবাই কেবিনের বাইরে অপেক্ষা করছি। আরেকটু পর ছোট মামি রাইসা ভাবীর কাছ থেকে বাচ্চাকে এনে দিবে। সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া বাচ্চা কোলে নিবো, এই ভাবতেই খুশিতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে আমার। আদ্রিশ ভাইয়ার মনের অবস্থা কি তা ঠিক জানি না। তবে বারবার কেবিনের দরজার দিকে উনার দৃষ্টি নিক্ষেপ দেখেই বুঝা যাচ্ছে উনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নিজের ভাতিজিকে কোলে নেওয়ার জন্য।

অবশেষে পাঁচ মিনিট পর সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছোট মামি নতুন বাচ্চাকে নিয়ে বেড়িয়ে এলেন। সাদা নরম তোয়লাতে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে বাচ্চাটাকে। ছোট্ট ছোট্ট লালচে চামড়ার হাত দুটো সে এদিক ওদিক নাড়াচ্ছে। সেই বাবুর চেহারা এখনও ভালোভাবে দেখিনি আমি। নিজের কোলে নেওয়ার পর তার চেহারা দেখবো বলে অপেক্ষায় আছি আমি।

ছোট মামি আদ্রিশ ভাইয়ার পরীকে এনে আদ্রিশ ভাইয়ার কোলেই দিলেন। ছোট্ট পরীকে কোলে নেওয়ার সাথে সাথে আদ্রিশ ভাইয়া কেমন যেনো নড়ে উঠলেন। চেহারায় দেখা গেলো অদ্ভুত এক আতংক। চোখ বড় বড় করে উনি একবার ছোট্ট পরীর দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে ছোট মামির দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বললেন,
“চা-চাচি, আমি ওকে কোলে নিতে পারবো না। এতো হালকা কেনো! আল্লাহ! ও তো পরে যাবে আমার হাত থেকে। তুমিই কোলে নাও চাচি। আমি ওকে দূর থেকেই দেখবো। আবার আমার হাত তো শক্ত। ও যদি ব্যাথা পেয়ে কান্না করে দেয় তখন! তুমি নাও তো চাচি।”

আদ্রিশ ভাইয়ার এতো ভয় দেখে আমিসহ সবাই হেসে দিলো। উনার পার্সোনালিটির উপর এই ভিতু ভাবটা একদম মানায় না। অদ্ভুত লাগে।
ছোট মামি শব্দ করে হেসে আদ্রিশ ভাইয়ার কাছ থেকে ছোট্ট পরীকে কোলে নিয়ে বলল,
“তুইও না….এতো ভয় পাওয়ার কি আছে? ছোট্ট বাচ্চারা এমনই পাতলা হয়। ভাইয়ের বাচ্চাকে নিয়েই এমন। না জানি নিজের বাচ্চা হলে কি করবি। ওকেও কি কোলে নিবি না?”

ছোট মামির কথা শোনামাত্রই আদ্রিশ ভাইয়া আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বললেন,
“নিজের বাচ্চা হলে তখন এমন হবে না। আমার ছোট্ট পরীকে কোলে নিয়ে নিয়ে এখন অভ্যাস করে ফেলবো। এরপর যখন আমার রাজকন্যা আসবে তখন ওকে সারাদিন আমি কোলে নিয়ে রাখবো। কাউকে দিবো না। শুধু ওর আম্মু ছাড়া।”

আদ্রিশ ভাইয়ার এহেন কথা আর ভাবে আমি চরমভাবে বিস্মিত হলাম। বিস্ময়ে মুখ হা হয়ে এলো। আমি বড় বড় চোখ করে উনার দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে পাশে ফিরে মুখ লুকিয়ে নিলাম। উনার এমন কথা হজম করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে আমার। মানলাম উনি আমাকে পছন্দ করেন, তাই বলে ইন্ডাইরেক্টলি আমার দিকে তাকিয়ে এসব কথা বলার মানে কি!! বেয়াদব লোক একটা।

“আর কেউ কি ওকে কোলে নিবি?”

ছোট মামির কথায় আদ্রিশ ভাইয়ার বন্ধুরা কেউই সাড়া দিলো না। তারা হয়তো আদ্রিশ ভাইয়ার কোলে নেওয়ার পরের অবস্থা দেখেছে। এজন্যই হয়তো ভয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। তবে আমি দ্রুত মামির কাছে এসে বললাম,
“হুম হুম। আমি কোলে নিবো।”

ছোট মামি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ছোট্ট পরীকে আমার কোলে দিয়ে দিলো। তাকে কোলে নেওয়ার সাথে সাথেই আমার মনে একরাশ ভয় এসে জড়ো হলো। সে এত্তো হালকা কেনো! এই মনে হচ্ছে আমার হাত থেকে পরে যাবে!
ছোট্ট পরীর পরে যাওয়ার ভয়ে আমি দ্রুত এসে চেয়ারে বসে পরলাম। ছোট মামি তা দেখে বললেন,
“ভয় লাগছে?”

আমি মামির দিকে চেেয় হালকা হেসে বললাম,
“হুম। মনে হচ্ছে ও আমার হাত থেকে পরে যাবে । এজন্যই এখানে এসে বসলাম। এবার সেইফ আছি।”
এই বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম আমি।

ছোট্ট পরীটাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলছি আমি। লাল টকটকে চামড়ার অধিকারী সে। পুরো শরীরে একটু একটু করে চামড়া উঠছে তার। চোখ দুটো একদম ছোট্ট। মাথাটাও ছোট্ট,একদম ছোট্ট। মনে হচ্ছে তার মুখ আর মাথা আমার এক হাতে প্রায় এঁটে যাবে। ঠোঁটজোড়া কি পাতলা আর লালচে!! ছোট্ট পরীটার চেহারা হয়তো বড় হয়ে একদম পরীদের মত সুন্দর হবে! তবে বড় হয়ে সে সুন্দরী হোক বা না হোক, মায়াবতী হবে সে। তার চেহারায় এক ধরণের মায়া খেলা করছে। একবার দেখলে বারবার দেখতে মন চায়। এমন মায়া আছে তার চেহারায়।

আমি কিছুক্ষণ ছোট্ট পরীটার চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে তার হাত পায়ের দিকে তাকালাম। কি ছোট্ট আকারের হাত পা তার! আঙ্গুলগুলো তো দূর থেকে চোখেই পরবে না এমন ছোট।
আমার বাম হাত তার মাথার নিচে বলে, আমার ডান হাত তার পায়ের কাছে নিলাম। আমার তর্জনী তার পায়ের সাথে লাগিয়ে মাপ নিলাম। তার পা’টা এত্তো ছোট্ট যে আমার তর্জনী আঙ্গুলের সমান হলো তা! ইশ, এতো ছোট্ট মায়াবী পরী আমার কোলে। কি শান্তি লাগছে তাকে কোলে নিয়ে! একদম চুপচাপ, শান্ত। শুধু ঠোঁটটা বারবার নড়ে উঠছে।

হঠাৎ ছোট মামি আদ্রিশ ভাইয়ার উদ্দেশ্যে বললেন,
“আদ্রিশ, তুই না ওর নাম রাখবি বলেছিলি?”

এই প্রশ্নে আমি চট করে আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে তাকালাম। আদ্রিশ ভাইয়া তখন এক ধ্যানে ছোট্ট পরীটার দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ এভাবে চেয়ে থাকার পর আদ্রিশ ভাইয়া বললেন,
“হুম। তা তো রাখবোই।”

“তো এখনই রেখে দে। ওকে কোনো নাম ধরে ডাকতে হবে। ”

আদ্রিশ ভাইয়া মামির দিকে অবাক চাহনিতে তাকিয়ে বলল,
“কিন্তু ভাইয়া, ভাবী,আম্মু,আব্বু কেউই তো নেই এখন।”

“তুই আগে থেকেই তো ওর নাম রাখার পারমিশন নিয়ে রেখেছিস। পলাশ বা রাইসা কিছু বলবে না। আমার জানা আছে। ওরা আর ওমন না তো…তুই ওর নাম রাখ তো। পরে সবাইকে বলা যাবে। আর হ্যা,পলাশ আর তোর বাবা চাচা কতদূর?”

“ভাইয়ার আসতে আরো হয়তো দু এক ঘণ্টা লাগবে। কারন সে জ্যামেই আটকে ছিলো প্রায় দু ঘণ্টা। আর আব্বু আর চাচুর আসতে আসতে ভোর নাহয় সকাল।”

“ওওও। আচ্ছা,তুই ওর নাম চিন্তা কর।”

আদ্রিশ ভাইয়া এবার তৃপ্তির হাসি দিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললেন,
“ওর নাম আগেই ভেবে রাখা হয়েছে। এখন শুধুু ঘটা করে রাখার পালা।”

ছোট মামি বিস্ময় নিয়ে বললেন,
“সে কি! কখন নাম রাখলি?”

আদ্রিশ ভাইয়া এতক্ষণে আমাদের কাছে চলে এসেছেন। উনি হাঁটু ভাঁজ করে আমাদের সামনে বসে পরলেন। ছোট্ট পরীটার দিকে মুগ্ধ চোখে চেয়ে থেকে বললেন,
“রেখেছি কোনো এক প্রহরে…. আমার প্রিয় মানুষটার চোখের দিকে চেয়ে।”

এই বলে আদ্রিশ ভাইয়া হুট করে আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন,
“জানতে চাইবে না সে প্রিয় মানুষটা কে?”

ঘটনার আকস্মিকতায় আমার মুখের বুলি হারিয়ে গেলো যেনো। আমি ফ্যালফ্যাল চাহনিতে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। কি বলবো তা বুঝে উঠতে পারছি না।
আদ্রিশ ভাইয়া আমার উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আবারো ছোট্ট পরীটার দিকে তাকালেন। তার মাথায় হাত রেখে আলতো করে কপালে চুমু দিয়ে বললেন,
“আমার এ পরীর নাম হবে ‘মায়া’…..মায়াপরী। এ নামটা আমার প্রিয় এক মানুষের সাথে মিলিয়ে রাখা। তার নামের প্রথম অক্ষর আর আমার এ পরীর নামের প্রথম অক্ষর একই। তার চোখের চাহনিতে আমি এতোটাই মায়া খুঁজে পেয়েছি যে আমার পরীটার নাম মায়া রাখতে কোনো দ্বিধাবোধ করেনি আমি। দুজনের চেহারা আর চোখেই হাজারো মায়া এসে খেলা করে। মুগ্ধতায় ভরপুর আকর্ষণীয় সে আঁখিজোড়া! প্রেমময় মায়াবী সে আঁখিজোড়া যা এক জড়বস্তু সবসময় আমার আড়াল করে রাখে। তবে সময় সুযোগ বুঝে আমি সেই মায়াবী আঁখিজোড়া দেখে মাতাল হয়ে যাই……………”

®সারা মেহেক
#চলবে