#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক
৩৩
অর্ণব ভাইয়া আমাকে দেখে বিস্তৃত হেসে বললেন,
“কি অবস্থা মিম? কেমন আছো তুমি?”
অর্ণব ভাইয়াকে দেখার সাথে সাথেই আমি শাড়ীর আঁচল টেনে মাথার উপর নিয়েছিলাম। আমি হালকা হেসে জবাব দিলাম,
“এই তো আল্লাহ ভালো রেখেছে। আপনার কি অবস্থা? ”
“এই তো ভালো।”
“কবে এলেন আপনি?”
“এক সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। ভেবেছিলাম তোমার সাথে আর দেখাই হবে না। কিন্তু বলে না…..ভাগ্যের লিখা যায়না খণ্ডন। তোমার সাথে আবার আমার দেখা হবে, এটা আমর ভাগ্যেই লেখা ছিলো।”
এই বলে অর্ণব ভাইয়া তৃপ্তির হাসি দিলেন।
কিন্তু আমার ঠোঁট থেকে হাসি উবে গেলো। কেনো যেনো উনার এ সাধারণ কথাবার্তাও আমার কাছে ভালো ঠেকলো না।
অর্ণব ভাইয়া আবারো বললেন,
“তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো মিম।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি বললাম,
“জ্বি বলুন।”
“একটু নিরিবিলি পরিবেশে কথা বললে ভালো হতো।”
অর্ণব ভাইয়া কথা ঠিক কোনদিকে ঘুরাতে চাইছেন তা আমার মাথায় ঢুকছে না৷ তবে এ মূহুর্তে এ পরিবেশে থাকা কিছুতেই সম্ভব না আমার পক্ষে। এজন্য আমি উনাকে বললাম,
“আমাকে ওদিকে ডাকছে। আমি আসি।”
এই বলে উনার প্রত্যুত্তরের অপেক্ষায় না থেকে আমি দ্রুত ছোট উঠোনে চলে এলাম। বুঝতে পারছি না অর্ণব ভাইয়া কি কথা বলবেন। তবে এটুকু বুঝতে পারছি উনার কথাবার্তা মোটেও কোনো শুভলক্ষণ বয়ে আনবে না।
.
বিকেলের দিকে আমার নানু,মামা,মামি আর মামাতো বোন মেজ নানু বাড়িতে চলে এলো। তার কিছুক্ষণ পর খালামনি আর খালাতো বোনও চলে এলো।
সকালের পর থেকে আমার সাথে আদ্রিশ ভাইয়ার আর দেখা হয়নি৷ বিয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছিলেন উনি। আর আমিও নদীর টুকটাক কিছু কাজে সাহায্য করছিলাম।
সন্ধ্যার পর আমিসহ নদীর কাজিন আর আমার খালাতো, মামাতো বোনেরা মেরুন রঙয়ের শাড়ী পরলাম। সবার শাড়ীর একই রঙ, একই ডিজাইন। শুধু পার্থক্য মানুষভেদে। একেক জনের গায়ে একই শাড়ী একেক রকম লাগছে।
আমি শাড়ী পরে মুখে হালকা মেকআপ করে মাথায় হিজাব বেঁধে নিলাম। নদীকে সাজাচ্ছে পার্লারের এক মেয়ে।
সবার সাজাগোজা শেষে নদীকে এনে হলুদের স্টেজে বসানো হলো। তার সামনের টেবিলে রাখা হলো ক্ষীর খাওয়ানো অনুষ্ঠানের জন্য বানানো সব মিষ্টি, সাজানো ফল ইত্যাদি ইত্যাদি।
রাত দশটার দিকে ক্ষীর খাওয়ানো অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে আমিসহ মোটামুটি সবাই রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। রাতের খাবার খেয়ে যে যার মত শোয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগলো। কিন্তু আমি ফোন নিয়ে বড় উঠোনে চলে এলাম। কারন এ মূহুর্তে আমার মনটা চাইছে আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখতে। জানি না কেনো, এমন অদ্ভুত ইচ্ছাটা একদম হুট করে চলে এলো। তাই আমিও বিনা চিন্তায় ইচ্ছাটাকে প্রাধান্য দিয়ে চলে এলাম বড় উঠোনে। যদিও নানু আমাকে এই রাতের বেলা একা বের হতে দিলো না। কিন্তু আমিও কম না। একা থাকার বাহানা করে চলে এলাম বড় উঠোনে।
উঠোনে সাজানো প্যান্ডেলের পিছনে বড়সড় ফাঁকা স্থানে আসতেই আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখে চমকে উঠলাম আমি। উনাকে এ মূহুর্তে এখানে মোটেও আশা করিনি আমি। ভেবেছিলাম আমি একাই গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো। তারপর হয়তো উনি আসবেন। কিন্তু এখানে তো উনিই আগে এসে উপস্থিত।
আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখে আমি পা টিপে টিপে উনার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম। সাথে সাথে উনি ধীর স্বরে বললেন,
“আমার মন বলছিলো তুমি আসবে। তবে আমার মন যে সঠিক বলছিলো তা জানতাম না মিশমিশ।”
আদ্রিশ ভাইয়া আমাকে না দেখেই বুঝে গেলেন যে আমি এসেছি, এতে আমি একটু না অনেকটা অবাক হয়েছি। আমি দ্রুত গিয়ে আদ্রিশ ভাইয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,
“আপনি বুঝলেন কি করে যে আমি এসেছি? অন্য কেউও তো হতে পারতো।”
আদ্রিশ ভাইয়া এতক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন৷ হয়তো রূপালী রঙয়ের চকচকে সেই চাঁদটা দেখছিলেন। আমার প্রশ্ন শুনে উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
“এখন অন্য কেউ কারোর আসার সম্ভাবনা নেই। আর তুমি যে এখানে আসবে তা জানা ছিলো।”
আমি ভ্রু উঁচিয়ে সন্দেহের সুরে বললাম,
“এতো জানেন কিভাবে আপনি? জ্যোতিষী নাকি?”
আদ্রিশ ভাইয়া এবার শব্দ করে হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতে ডান দিকে মাথা দিয়ে বললেন,
“হয়তো এ রোগে আক্রান্ত হলে সবাই জ্যোতিষী হয়ে যায়।”
আমি আদ্রিশ ভাইয়ার কথার মানে বুঝতে পারলাম। এজন্যই কথা আর সেদিকে গড়াতে না দিয়ে বললাম,
“এভাবে দাঁড়িয়েই থাকবেন?”
উনি এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বসতে হবে?”
“বসলে ভালো হতো।”
“আচ্ছা, তুমি এখানে দাঁড়াও, আমি চেয়ার নিয়ে আসছি।”
“আচ্ছা। ”
আদ্রিশ ভাইয়া চলে গেলেন চেয়ার আনতে। আর আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম। ফোনের স্ক্রিন অন করে সময় দেখলাম। রাত পৌনে বারোটা বাজে। চারপাশে অন্ধকার তেমন জেঁকে বসেনি। কারন প্রাকৃতিক চাঁদের আলোর সাথে কৃত্রিম লাইটের আলোও আছে। ফলে রাতের আঁধারে একটুও ভয় করছে না আমার।
“মিস মিশমিশ, বসুন।”
আদ্রিশ ভাইয়ার কণ্ঠস্বর শুনে আমি পিছনে ফিরে তাকালাম। আদ্রিশ ভাইয়া বাম হাতে একটা চেয়ার নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার জন্য আগেই চেয়ার রেখেছেন।
আমি উনার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে চেয়ারে বসে পরলাম। উনিও আমার পাশে চেয়ার রেখে বসে পরলেন। দুজনে বসে পরার পর কিছু নির্বাক নিস্তব্ধ মূহুর্ত কেটে গেলো। কেউই মুখে কোনো কথা বলছি না। তবে মনে হচ্ছে, মনে মনে আমাদের হাজারো কথোপকথন হচ্ছে।
আমি এ সুন্দর মূহুর্তটা অনুভব করছি হৃদয় দিয়ে। কি প্রশান্তিকর এক অনুভূতি! হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া নির্বাক কিছু অনুভূতি! প্রতিটা শ্বাসপ্রশ্বাসে শান্তি অনুভব করা এক অনুভূতি। সুখকর বর্ণনাতীত এক অনুভূতি। আচ্ছা? আমার পাশে বসা মানুষটাও কি এমনই কিছু অনুভূতি অনুভব করছে? নাকি চুপচাপ বসে শুধু চাঁদ দেখে যাচ্ছেন? জিজ্ঞাস করবো কি? নাহ, থাকুক। এখন কথা বলতে মন চাইছে না। নির্বাক সময়গুলোকে উপভোগ করতে মন চাইছে শুধু।
হয়তো দশ /পনেরো মিনিট পেরিয়ে গিয়েছে। হঠাৎ আদ্রিশ ভাইয়া বলে উঠলেন,
“সময়টা এখনই থমকে যাক, কি বলো মিশমিশ?”
আমার কি হলো জানি না। আমি উনার কথায় তাল মিলাতে বললাম,
“আমিও চাই সময়টাকে থমকে দিতে। চাই, চলে যাওয়া মূহুর্তগুলো আবারো ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু আমি তো নিরুপায়। পারি না এ মিরাকল করতে। আপনি পারেন?”
“মন বলে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে সময়কে থমকে দেই। কিন্তু তা আর পারবো কিভাবে। শুধু পারবো এই সময়গুলো স্মৃতির পাতায় রঙিন কালি দিয়ে লিখে রাখতে। ”
আমি আর কিছু বললাম না। চুপচাপ নিঃসঙ্গ চাঁদটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর উনি ধীর স্বরে বললেন,
“আজ তুমি না থাকলে আমি এ চাঁদটার মতো নিঃসঙ্গ থাকতাম। সময়টা তখন উড়িয়ে দিতে মন চাইতো৷ অথচ এখন দেখো…….সময়কে থমকে দিতে মন চায়। প্রতিটা মূহুর্তের স্মৃতিগুলো হাত দিয়ে বুকের মধ্যে শক্ত করে আগলে রাখতে মন চায়। আসলেই……ভালোবাসা মানুষকে বদলে দেয়। ”
হঠাৎ আদ্রিশ ভাইয়ার ফোন বেজে উঠতে চমকে উঠলাম আমি। নিস্তব্ধ সে পরিবেশ চিঁড়ে বাজখাই স্বরে চেঁচিয়ে উঠা ফোনটার উপর চরম রাগ হলো আমার। মন চাইলো এখনই বাড়ি মেরে ফোনটা ভেঙে ফেলি।
আদ্রিশ ভাইয়া চেয়ারে বসেই ফোন রিসিভ করলেন। ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে কথা বললেন উনি। উনার এ কাজের কোনো কারন খুঁজে পেলাম না আমি।
ফোনের ওপাশে পুরুষালি এক কণ্ঠস্বর ভেসে আসতেই আদ্রিশ ভাইয়া বললেন,
“কেমন আছিস লিটন?”
“ভালো আছি দোস্ত। তুই?”
“আমিও ভালো আছি।”
এরপর আদ্রিশ ভাইয়া কথা চালু রাখলেন লিটন নামক ছেলেটার সাথে। কথার মাঝেই উনি আমার পাশ থেকে চেয়ার নিয়ে আমার সামনে বসে পরলেন। দুজনে একদম সামনাসামনি বসে আছি। কথোপকথনের পুরোটা সময় উনার নজর ছিলো আমার উপর। যদিও আমি লজ্জায় উনার দিকে তাকাতে পারিনি। তবে ঠিকই বুঝতে পারলাম উনার দৃষ্টি আমার উপর।
আদ্রিশ ভাইয়া কথা শেষ করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বললেন,
“অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। রুমে গিয়ে শুয়ে পরো। বাই দা ওয়ে, তুমি কি বলে বের হয়েছিলে বাড়ি থেকে?”
আমি হালকা হেসে বললাম,
“একা কিছু সময় কাটাবো তাই বলেছিলাম। আবার বলেছিলাম, ভালো লাগছে না।”
আদ্রিশ ভাইয়া আমার কথায় একটু শব্দ করে হেসে বললেন,
“ইশ….তাহলে তো একা তো সময় কাটানো হলো না তোমার। তুমি বললে, আমি চলে যাই এখন। আর তুমি একা সময় কাটাও।”
আদ্রিশ ভাইয়ার কথায় আমার কেনো যেনো রাগ হলো। আমি চোখমুখ কুঁচকে রাগান্বিত স্বরে বললাম,
“খবরদার, আমাকে একা রেখে গিয়েছেন তো।”
আদ্রিশ ভাইয়া আবারো হেসে দিলেন। আমার দিকে একটু এগিয়ে এসে বললেন,
“রেখে গেলে কি করবে মিশমিশ?”
আমি দাঁত কটমট করে বললাম,
“একদম ঘাড় মটকে দিবো।”
উনি এবার কৌতুকের হাসি দিয়ে বললেন,
“কি এক পেত্নীর পাল্লায় পরেছি আমি!!”
আমি এবার বিস্ময় নিয়ে বললাম,
“আমাক পেত্নী বললেন!!”
“তো কি বলবো? যে ঘাড় মটকে দেয় তাকে পেত্নী বলবো না?”
“না, বলবেন না।”
“তো কি বলবো মিশমিশ?”
“এই যে এই মিশমিশ বলবেন।”
“বাহ রে…মিশমিশ নামে ডাকবো কেনো?”
“আমার নাম এটা, তাই এ নামে ডাকবেন।”
আদ্রিশ ভাইয়া এবার আমার দিকে একটু ঝুঁকে টিপ্পনী কেটে বললেন,
“তোমার নাম মিশমিশ কে বললো? তোমার নাম তো মিম। মনে নেই আমাকে বলেছিলে এমনটা?”
এই বলে আদ্রিশ ভাইয়া ভ্রু নাচিয়ে হাসতে লাগলেন।
এখন যে উনার সাথে কথায় আমি টিকতে পারবো না তা জানা আছে। এজন্যই আমি চেয়ার পিছিয়ে নিয়ে উঠে পরলাম। উনার দিকে তাকিয়ে চোখমুখ কুঁচকে রাগান্বিত স্বরে বললাম,
“আপনি খুবই খারাপ। খুবই। বেয়াদব আপনি। দুষ্টু আপনি।”
এই বলেই আমি বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম। পিছনে আদ্রিশ ভাইয়ার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। তিনি সুর তোলা কণ্ঠে বললেন,
“ও আমার মাধবীলতা…… তোমার জন্য এই বান্দা হয়েছে খারাপ, হয়েছে পাগল, হয়েছে দিওয়ানা। তবুও দাও না এ বান্দাকে পাত্তা। ”
আদ্রিশ ভাইয়ার এসব কথাবার্তা শুনে আমার বেশ হাসি পেলো। আমি উনার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই উনি দু’হাত দিয়ে বুকের বাম পাশ চেপে ধরে বললেন,
” উফ…….. এই নজরে আমি কতবার হবো ঘায়েল! কোই তো উসে রোক লো…….”
@সারা মেহেক
#চলবে
#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক
৩৪
আমি ধীর পায়ে রুমে এসে আমার মামাতো বোনের পাশে শুয়ে পরলাম। তার পাশে জায়গা রাখার জন্য আমি বলেছিলাম। কথামত সে জায়গাও রেখে দিয়েছে।
আমি খুব সাবধানে শুয়ে পরার পর মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখলাম। সময় যে এখন একটা তা দেখেই বিস্ময়ে আমার মুখ হা হয়ে এলো। কোন ফাঁকে এতো সময় চলে গিয়েছে তা খেয়ালই করিনি। তাড়াতাড়ি না ঘুমালে যে সকালে উঠতে সমস্যা হবে তা আমার মাথায় আসেনি কিভাবে তাই চিন্তা করছি। উনার ভালোবাসা যে আমার মধ্যকার সব বোধশক্তি লোপ পাইয়ে দিচ্ছে তা ঢের বুঝতে পারছি আমি।
আমি মোবাইল রেখে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঠিকঠাক মতো ঘুমাতেই পারছি না। বারবার আদ্রিশ ভাইয়ার কথাগুলো কানে বাজছে। চোখের সামনে ভাসছে উনার মুখের প্রতিচ্ছবি। যে প্রতিচ্ছবিতে আছে মনোমুগ্ধকর এক হাসি। যা দেখলেই হিংসে হয়। মনে তখন প্রশ্ন আসে, বাকি জীবন কি এই হাসিটা আমি দেখতে পাবো?
.
নদীকে বধু বেশে সেজেগুজে অনেক সুন্দর লাগছে। মন চাইছে তার পাশে বসে কয়েকটা ছবি তুলি। কিন্তু আমার কোলে মায়া থাকায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না আপাতত। রাইসা ভাবী মায়াকে আমার কোলে দিয়ে নদীর শ্বশুরবাড়ী থেকে আসা ট্রলি গুছাচ্ছে। নদীর সাজুগুজু করা শেষ অনেক আগেই। তাকে সাজানো শেষ হতেই কাজি সাহেব এসে কবুল বলিয়ে খাতায় সাইন করিয়ে নিয়ে চলে যায়। এখন নদীর শ্বশুরবাড়ি থেকে একে একে সবাই এসে তাকে দেখে যাচ্ছে। সেও চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে।
আদ্রিশ ভাইয়া আজ সকাল থেকেই লা-পাত্তা। অন্যের চোখে উনি পরেছেন নাকি জানা নেই। তবে আমার চোখে উনি পরেননি এখনো। যদিও সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠোনে একনজর দেখেছিলাম উনাকে। এরপর থেকে আর দেখিনি। এ বাড়ির প্রায় প্রতিটা পুরুষ সকাল থেকে প্রচণ্ড ব্যস্ত। নদীর বিয়ে বলে কথা……….
বিয়ের খাওয়াদাওয়া শেষে যথাসময়ে নদী আর তার স্বামী মুহিবকে একসাথে দাঁড় করানো হলো। এবার মুহিব ভাইয়াকে এ বাড়ির সবার সাথে একে একে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। আর মুহিব ভাইয়াও সবার সাথে পরিচিত হয়ে নিজ থেকে বড়দের অর্থাৎ নিজের শ্বশুর, শাশুড়ী, চাচা শ্বশুর, চাচী শাশুড়ী সহ বড়দের সালাম করবেন।
এসব রীতিনীতি সব নদীর রুমে আয়োজন করা হয়েছে। ফলে তার রুমে আত্মীয়স্বজনের ছোটখাটো এক জটলা বেঁধে গিয়েছে। এদিকে যেমন মেয়ে পক্ষের মানুষজন আছে, তেমনি ছেলে পক্ষের মানুষজনও আছে।
আমি নদীর রুমের টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। এদিকটায় মানুষজন কম। প্রচণ্ড গরম লাগছিলো বলেই এদিকটায় একা দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে চোখ যেতেই খেয়াল করলাম, অপরিচিত একটা ছেলে নিজের ফোন আমার দিকে তাক করে আছে। স্পষ্ট বুঝতে পারছি সে আমার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। আমার মন চাইলো কিছু বলি। কিন্তু এতো মানুষের মধ্যে তাকে গিয়ে নিষেধ করা মানে ছোটখাটো একটা তামাশা করা। সেজন্য নিশ্চুপ থেকে টেবিলের কাছ থেকে সরে আসলাম আমি। গিয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম ওয়ারড্রবের কাছে। এখানে এসেও নিস্তার পেলাম না আমি। ছেলেটা আবারও আমার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। এতে প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে আমার। কিন্তু কিছুই বলতে পারছি না আমি। শেষমেশ না পেরে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করলাম আমি। এতে যদি একটু নিস্তার পাওয়া যায়।
কিছুক্ষণ পরই আদ্রিশ ভাইয়া আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন। ফিসফিস কণ্ঠে বললেন,
“এনি প্রবলেম?”
আমি মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আদ্রিশ ভাইয়াকে এ সমস্যার কথা বললে তিনি যে ভালো সমাধান বের করে আমাকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবেন সে বিশ্বাস আছে আমার। এজন্যই আমি উনাকে নির্দ্বিধায় বললাম,
“সামনের ঐ ঘিয়ে রঙয়ের পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা আমার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। একটু দেখে আসুন না….”
আদ্রিশ ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে ছেলেটার দিকে তাকালেন। ছেলেটা তখন ফোনে ব্যস্ত। কিছু দেখছে হয়তো। আদ্রিশ ভাইয়া বললেন,
“আচ্ছা আমি দেখছি। তুমি টেনশন করো না।”
আমি মৃদু হেসে বললাম,
“আপনি থাকতে টেনশন হয়না আমার।”
আমার কথায় আদ্রিশ ভাইয়া ভুবন ভুলানো এক হাসি দিয়ে ছেলেটার কাছে চলে গেলেন।
ছেলেটার কাছে গিয়ে কি যেনো বলে তাকে নিয়ে রুমের বাইরে চলে গেলেন আদ্রিশ ভাইয়া। এতে নিশ্চিন্ত হলাম আমি।
.
নদীকে বিদায় করে দিয়ে একে একে সব আত্মীয়স্বজন নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলো। যাদের বাড়ি বেশি দূরে তারাই রয়ে গেলো এ বাড়িতে। আমার মামা তার পুরো পরিবারকে নিয়ে বাড়িতে চলে গেলেন। শুধু নানু আর খালামনি রয়ে গেলেন এ বাড়িতে। খালাতো বোন অবশ্য খালুর সাথে নিজেদের বাড়িতে চলে গেলো।
গতকালের বিয়ে বাড়ি আর আজকের বিয়ে বাড়ির মধ্যে বিস্তর এক ফারাক দেখা গেলো। গতকাল রাত পর্যন্তও যেখানে মানুষজনে গল্পগুজবের গুনগুন আওয়াজ আর বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছিলো, সেখানে আজ সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে সব নিস্তব্ধ নিরব। একদম আগেকার রূপ ধারণ করেছে বাড়িটা।
যেখানে গতকাল সবার মধ্যে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছিলো সেখানে আজকে সবার মধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অবশ্য সন্ধ্যার পর পর বাড়ির বড়দের মধ্যে একটু ব্যস্ততা দেখা দিয়েছিলো। তবে রাতের খাবারের পরপরই তা শেষ।
আগামীকাল জামাইভোজ বলে আজ সবাই তাড়াতাড়ি শোয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগলো। এজন্যই এশারের পর পরই রাতের খাবার খেয়ে ফেললো সবাই। আমি রাতের খাবার খেয়েই সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে বড় উঠোনে এসে দাঁড়ালাম। ঠিক সেখানে, যেখানে গতকাল দাঁড়িয়েছিলাম।
আজকে আমি গিয়ে আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম না। হয়তো উনি একটু পরে আসবেন। এজন্যই আমি প্যান্ডেল থেকে দুটো চেয়ার নিয়ে এসে রাখলাম সেখানে। এক চেয়ারে নিজে বসলাম এবং অপর চেয়ারটা আদ্রিশ ভাইয়ার জন্য রেখে দিলাম।
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ করে আদ্রিশ ভাইয়া চলে এলেন বড় উঠোনে। উনাকে দেখেই প্রশান্তির এক ছোঁয়া বয়ে গেলো আমার মাঝ দিয়ে। আমি মুচকি হেসে উনার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“আজকে আমি প্রথম।”
আদ্রিশ ভাইয়া হালকা হেসে চেয়ারে বসতে বসতে বললেন,
“কাজে ব্যস্ত ছিলাম বলে প্রথম হলে। নাহলে আমিই প্রথম হতাম।”
আমি এর প্রত্যুত্তরে কিছু বললাম না। খানিক বাদে আদ্রিশ ভাইয়া অনেকটা অভিমানী সুরে বললেন,
“এই মিশমিশ, তোমার হাতের মেহেদী দেখাওনি কেনো আমাকে?”
উনার প্রশ্ন শুনে আমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চেপে বসলো। মন বললো, উনাকে একটু জ্বালানো যাক। এজন্য আমি বললাম,
“মেহেদী নিয়েছি কে বললো আপনাকে?”
“বলতে হয় নাকি? চোখ আছে আমার। দেখতে পাই। এবার ঝটপট হাতের মেহেদী দেখাও আমাকে।”
আমি ভেঙচি কেটে বললাম,
“হুহ শখ কতো আপনার। আমার হাতের মেহেদী আপনাকে দেখাতে যাবো কোন দুঃখে?”
আদ্রিশ এবার বুঝতে পারলেন, আমি উনাকে জ্বালানোর জন্যই এমনটা করছি। উনি ভ্রু নাচিয়ে বললেন,
“নিজ থেকে দেখাবে নাকি আমার কায়দায় দেখে নিবো?”
আমি আমতাআমতা করে বললাম,
“আ- আপনার কায়দায় মানে?”
আদ্রিশ ভাইয়া বাঁকা হেসে বললেন,
“আছে নিজস্ব এক কায়দা৷ সেভাবে দেখতে গেলে কিন্তু তুমিই ফেঁসে যাবে। সো ভালোমতো বলছি, আমাকে তোমার হাতের মেহেদী দেখাও। ”
আমি এবার হার মেনে নিলাম। জানি না, উনি কোন কায়দার কথা বলছেন। তবে এটুকু জানি, সে কায়দা নিশ্চয়ই আমার জন্য ভালো না। এজন্য আমি গোমরা মুখ করে নিজের মেহেদী নেওয়া বাম হাত এগিয়ে দিলাম উনার দিকে। উনি আমার বাম হাত ধরে বললেন,
“বাহ, সুন্দর মেহেদী নিতে পারো দেখছি। তো ম্যাডাম, এখানে আপনার প্রেমিক পুরুষের নাম কোথায়?”
আমি অন্যদিকে চেয়ে অভিমানী কণ্ঠে বললাম,
“আপনিই খুঁজে নিন। আমার অতো দায় পরেনি যে আমি আগ বাড়িয়ে বলতে যাবো।”
আমার কথায় আদ্রিশ ভাইয়া শব্দ করে হেসে ফেললেন। মনযোগ দিলেন এই মেহেদীর ডিজাইনে নিজের নাম খুঁজতে।
আমাকে অবাক করে দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই উনি উনার নামের প্রথম অক্ষর খুঁজে পেলেন আমার মেহেদীতে। নিজের নামের প্রথম অক্ষর খুঁজে পেয়ে উনার চোখেমুখে বিজয়ীর হাসি ফুটে উঠলো। উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
“খুব সযত্নে লিখেছো দেখছি নিজের প্রেমিক পুরুষের নাম। আহ…..কি ভাগ্য তার। ”
আমি এর প্রত্যুত্তরে কিছু না বলে চুপচাপ আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি আমার হাত ছেড়ে দিয়েছেন কিছুক্ষণ আগেই। এ মূহুর্তে তো উনি আমার হাতে নিজের নাম দেখতে ব্যস্ত।
এ রাতে আমাদের মাঝে আর কথা হলো না। আদ্রিশ ভাইয়া সারাদিনের ব্যস্ততায় প্রচণ্ড ক্লান্ত ছিলেন বলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের রুমে চলে গেলেন৷ সাথে আমিও নদীর রুমে এসে শুয়ে পরলাম৷ আপাতত আজ রাতটা আমি, নানুসহ আরো কয়েকজন এ রুমে কাটাবো। তবে আগামীকাল অন্য রুমে চলে যাবো।
.
বৌভাতের আয়োজনে এ বাড়ি থেকে কোনো মহিলারা নদীর শ্বশুরবাড়িতে যায়নি। শুধু সব পুরুষ মানুষেরা গিয়েছিলো। বিকেলের মধ্যেই তারা নদী আর মুহিব ভাইয়াকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে। তখন থেকে বাড়ির মহিলারা কাজে লেগে পরে। জামাইভোজের জন্য যে কত কত পদ রান্না হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।
বাড়ির সবাই কাজে ব্যস্ত থাকলেও আমি ব্যস্ত আছি মায়াকে নিয়ে। ছোট্ট মায়াপরীটা আমার কোলে বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছে। রাইসা ভাবী আমার কোলে মায়াকে দিয়ে রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন অনেক আগেই।
মায়াকে কোলে রাখতে রাখতে যখন হাত ব্যাথা হয়ে এসেছে তখন চাচ্ছি যে সে ঘুমিয়ে পরুক। কিন্তু সে তো খেলা পাগল মেয়ে। তাকে কোলে নিয়েই সবসময় থাকতে হবে, খেলতে হবে এটাই তার চাওয়া৷ আমি হয়রান হওয়ার পরও তার সে চাওয়া পূরণ করতে ব্যস্ত হয়ে পরলাম।
প্রায় আধ ঘন্টা পর ছোট্ট মায়াপরী ক্লান্ত হয়ে আমার কোলেই ঘুমিয়ে পরলো। আমি তাকে জায়গামতো শুইয়ে দিয়ে সেখানেই বসে রইলাম। কারন নদীর রুমে যাওয়ার মত পরিস্থিতি নেই। সেখানে নদী আর মুহিব ভাইয়া আছেন।
মায়াকে শুইয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর পরই নদীর ছোট্ট মামাতো বোন এসে আমার কাছে দাঁড়িয়ে পরলো। আজ সকালেই তারা গ্রামের বাড়ি থেকে এখানে এসেছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“আপু, একটু উঠোনে চলো। ”
আমি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাস করলাম,
“কেনো গো আপুমনি? উঠোনে যাবো কেনো?”
“একটা ভাইয়া ডাকছে তোমাকে।”
তার কথায় আমি মনে মনে বেশ খুশি হলাম। নিশ্চিত আদ্রিশ ভাইয়াই ডাকছেন আমাকে। আমি খুশিমনে তাকে বললাম,
“আচ্ছা, আমি যাচ্ছি। তুমি এই বাবুটাকে দেখো। হুম? ও যদি ঘুম থেকে উঠে কান্না করে তাহলে ওর আম্মুকে ডেকে নিয়ে এসো।আচ্ছা?”
সে সুন্দর করে মাথা দুলিয়ে বলল,
“আচ্ছা।”
আমি আর অপেক্ষা না করে বড় উঠোনে চলে গেলাম। সেখানে গিয়েই বড় আম গাছটার নিচে আদ্রিশ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম৷ তবে এতে অবাক করা বিষয় হলো, তিনি একা নন। উনার সাথে অর্ণব ভাইয়াও আছেন। দুজনে এভাবে একসাথে থাকার পরও আমাকে এখানে আসতে বলেছেন কেনো, তা বুঝতে পারলাম না। মনের মধ্যে কেমন যেনো উশখুশ করছে। তারপরেও এ নিয়ে আমি উনাদের দিকে এগিয়ে গেলাম।
অর্ণব ভাইয়া আমাকে দেখেই আদ্রিশ ভাইয়ার সাথে কথা বলা থামিয়ে দিলেন। আমার দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললেন,
“যাক,অবশেষে তোমার দেখা পেলাম। ”
আমি উনার কথায় স্তিমিত হেসে বললাম,
” কিছু হয়েছে কি? না মানে আমাকে এখানে ডেকে আনা হয়েছে কেনো?”
অর্ণব ভাইয়া সে কথার জবাব দিলেন না। বরং হালকা হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। উনার এগিয়ে আসা দেখে আমার মনের মধ্যে কেমন এক সন্দেহের বীজ বুনতে শুরু হলো। কিছুই বুঝতে না পেরে আমি আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে তাকালাম। তবে আদ্রিশ ভাইয়া আমার দিকে তাকালেন না৷ বরং উনি ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসির রেখা টেনে এনে ফোনের দিকে মনযোগী হলেন। উনার এহেন কাজে আমার একটু রাগ হলো বটে।
আমি রাগী ভাব নিয়েই অর্ণব ভাইয়ার দিকে তাকালাম। অপেক্ষা করছি, উনি আমাকে কিছু বলবেন কি না। মূহুর্তেই আমাকে অবাক করে দিয়ে অর্ণব ভাইয়া আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পরলেন। ডান হাত যেটা এতক্ষণ পিছনে ছিলো, সে হাত একটা গোলাপ ফুল সমেত আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,
“মিম, আই লাভ ইউ। উইল ইউ ম্যারি মি?”
অর্ণব ভাইয়ার এ প্রপোজালের জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। উনার কথাবার্তা শুনে আমার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরলো। আমি বিস্ময় নিয়ে উনার দিকে তাকালাম। এতে উনার কোনো ভাবান্তর হলো না। উল্টো উনি আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে রইলেন।
আমি এবার আদ্রিশ ভাইয়ার দিকে তাকালাম। অদ্ভুত হলেও সত্যি যে, উনি এখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতেই ব্যস্ত। এর চেয়েও অবাক করা ব্যাপার হলো, উনার চোখেমুখে খুশির এক ঝলক দেখা দিচ্ছে। অদ্ভুত! এদিকে উনার সামনেই অর্ণব ভাইয়া আমাকে প্রপোজ করে বসলেন। আর উনি এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন! উল্টো হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন! চাইছেন কি উনি? নিজের ভালোবাসার মানুষকে নিজেরই বন্ধু প্রপোজ করছে, তাও আবার নিজের সামনেই! এতো বড় একটা ঘটনা দেখেও উনি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন কিভাবে! এসবের মানে কি? উনি কি আদৌ আমাকে ভালোবাসেন?
®সারা মেহেক
#চলবে