ভালোবাসার রঙিন প্রজাপতি পর্ব-৪৫

0
1043

#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক

৪৫

আভা আর আমার চাচাতো বোন মিলে আমার দু’হাতে মেহেদী পরিয়ে দিচ্ছে। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চুপচাপ বসে আছি আমি। জীবনে প্রথমবার মনে হচ্ছে, মেহেদী পরিয়ে নেওয়ার মত বিরক্তকর কাজ দ্বিতীয়টা নেই। অথচ এই আমিই ঈদের সময় বাম হাত ভর্তি মেহেদী নেই। আসলে তখন এভাবে অলসের বসে থাকতে হতো না। নিজ হাতেই নিজেকে মেহেদী পরিয়ে দিতাম। কিন্তু এখন বিয়ের কন্যা বলে তা কেউ করতে দিচ্ছে না।

নদীর রুমের বিছানায় বসে আমাকে মেহেদী পরানো হচ্ছে। এ রুমে আপাতত নদী, রাইসা ভাবী আর আমার প্রায় সব কাজিনরা বসে আছে। সবাই নিজেদের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত। এদের গল্পের প্রধান বিষয়বস্তু আমার বিয়ে নিয়ে। তবে মাঝেমধ্যে আমাকে পিঞ্চ করে নানা কথাবার্তা বলছে তারা। এসব কথাবার্তার প্রধান দুই হর্তাকর্তা হলো নদী আর রাইসা ভাবী। কারন এ রুমে এই দু’জনই বিবাহিত আছে আপাতত।

আমাকে নানাধরণের এডাল্ট কথাবার্তা শিখাতে ব্যস্ত এই দুইজন। প্রচুর লজ্জা লাগছে এদের কথাবার্তা শুনে। কিন্তু অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও এরা দু’জন নিজেদের মুখের লাগাম টানেনি। হঠাৎ রুমে আদ্রিশের আগমনে সবাই একদম চুপচাপ হয়ে পরে।
আদ্রিশ একটা চেয়ার টেনে বিছানার পাশে বসে পরলেন। সবার উদ্দেশ্যে ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
” কি কথাবার্তা চলছে এখানে?”

তৎক্ষনাৎ নদী অতি সাহসের সহিত বললো,
” গার্লস টকিং। সো, এখানে তোমার জানার কিছু নেই।”

আদ্রিশ হয়তো বিশ্বাস করলেন না। এজন্য সন্দেহের সুরে জিজ্ঞাস করলেন,
” সত্যিই কি তাই? রুমে আসার আগে তো অন্যকিছু শুনছিলাম আমি।”

আদ্রিশের কথায় নদীর মুখটা ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাইসা ভাবী বললেন,
” আরে এসব কথাবার্তা বাদ দাও। আগে বলো, তুমি এসময়ে এ রুমে কি করছো?”

আদ্রিশ আমার তাকিয়ে মনোমুগ্ধকর সেই হাসি দিয়ে অতি গর্বের সহিত বললেন,
” আমার বউকে দেখতে এসেছি। ”

সাথে সাথেই পুরো রুম ‘ওহহো’ শব্দে গুঞ্জিত হয়ে উঠলো। এদিকে এমন পরিস্থিতিতে লজ্জায় মাথা গুঁজবার মতো অবস্থা হয়ে উঠলো আমার। গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে কি না জানি না। তবে কান দুটো গরম হয়ে এসেছে।
আদ্রিশ এবার সবাইকে ছোট্ট একটা ধমক দিয়ে বললেন,
” হচ্ছে টা কি? দেখো তো, ও কতো লজ্জা পাচ্ছে।”

সাথে সাথে পুরো রুমে হাসির রোল পরে গেলো। নদী হাসতে হাসতেই বললো,
” আমাদের কথায় লজ্জা পায়নি সে। লজ্জা পেয়েছে তোমার কথায়। নিজের দোষ আমাদের উপর চাপাতে এসেছে। হুহ……”

নদীর কথার তালে সবাই তাল মেলালো। বেচারা আদ্রিশ পরে রইলেন একা। কিছুক্ষণ পর রাইসা ভাবী বললেন,
” বউকে দেখতে এসেছো ভালো কথা। একটা গান গেয়ে শোনাও দেখি।”

আদ্রিশ অতি উৎসাহী হয়ে বললেন,
” ওকে ঠিক আছে। কাকে উদ্দেশ্যে বা উৎসর্গ করে গানটা গাইবো?”

” অবশ্যই আমাদের উদ্দেশ্যে না। বিছানায় জলজ্যান্ত বউ বসে থাকার পরও এ প্রশ্ন জিজ্ঞাস করো কেনো? নাও নাও, এবার গান শুরু করো।”

আদ্রিশ কিছুক্ষণ পর হালকা একটু কেশে গান শুরু করলেন,
” Ankhiyan de kol reh jaane de
Kehna hai jo keh jaane de…
Tere khayalon mein beete yeh raatein
Dil mera maange ek hi dua
Tu saamne ho aur karun main baatein
Lamha rahe yoon thehra hua
Pehle toh kabhi yun mujhko na aisa kuch hua
Deewani lehron ko jaise saahil mila…
O… ek ladki ko dekha toh aisa laga
Ek ladki ko dekha toh aisa laga……..”

আদ্রিশের গান শেষ হতেই পুরো রুম করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। উনার গান শুনে আমার ফুফু, চাচিরাও রুমে চলে এসেছিলেন। পরে সকলেই উনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন।

.

আজ আমার পুরো সকাল প্রচণ্ড অস্থিরতায় কাটলো। নানারকম ভয় আর উৎকণ্ঠা এসে ঘিরে ধরলো আমাকে। নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হওয়ার পরও এতো ভয় লাগছে কেনো সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলাম না আমি।

সকাল প্রায় এগারোটার দিকে আভা আর নদী আমাকে নিয়ে পার্লারে যায়। সেখানেই কেটে যায় তিন ঘণ্টা। শুনেছিলাম জুম্মার নামাজ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে পড়াতে আসবে। সে জন্য সাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাড়িতে ফিরে এলাম আমরা।

আমাকে নদীর রুমে বসানো হলে একে একে আমার আত্মীয়রা আমাকে দেখতে আসে। আত্মীয় বলতে আপন চাচা, ফুফুরা শুধু। পরে আদ্রিশের বড় খালা আমাকে দেখতে আসে। বড় মামির কাছে শুনেছি, উনি বড়ই খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ। কারোর দোষত্রুটি তুলে ধরতে উনি প্রচুর দক্ষ একজন মানুষ। আমার জন্য বড় মামি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, আদ্রিশের বড় খালা হতে একটু সাবধানে থাকতে হবে। অন্ততপক্ষে উনার সামনে কাজগুলো দেখেশুনে করতে হবে। এসব শোনার পর আমার অবস্থা যায় যায় এমন……..

কিছুক্ষণ বসে থাকার পর কাজি সাহেব এলেন বিয়ে পড়াতে। ওদিকে আদ্রিশের বিয়ে পড়ানো শেষ। এবার আমার পালা। কাজি সাহেবকে দেখেই আমার কেনো যেনো ভয়ে বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। কাউকে হারানোর চিন্তা মাথায় চলে এলো হুট করে। আমি ভালোভাবেই অবগত যে, কাকে বা কাদেরকে হারানোর চিন্তা আমার মাথায় এসেছে।

এদিকে আদ্রিশকে সারাজীবনের জন্য নিজের করে পাওয়ার আনন্দের চেয়ে আব্বু, আম্মু এবং আভা’র কাছ থেকে দূরে যাওয়ার কষ্ট আমাকে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে। আমার পরিবারের সামনে আদ্রিশকে বেমালুম ভুলে বসলাম আমি। চোখের সামনে ভাসতে লাগলো আমাদের চারজনের হাসিখুশি কিছু মূহুর্তের ছবি।

হঠাৎ কাজি সাহেবের কণ্ঠস্বরে ধ্যান ভাঙলো আমার। উনি আমার নাম উচ্চারণ করে কবুল বলতে বললেন। একবার, দুইবার, তিনবার উনি একই লাইন বলতে লাগলেন। তবে আমি কিছুই বললাম না। উল্টো চুপচাপ বসে অতীতের রঙিন স্মৃতিগুলো মনে করতে লাগলাম। এ মূহুর্তে এই তিনজন মানুষের সাথে কাটানো সময়গুলো মনে পরছে আমার। মনে পড়ছে আব্বুর কাছে নির্দ্বিধায় করা প্রতিটা আবদারের কথা। মনে পড়ছে আম্মুর দুষ্টুমিষ্টি বকাঝকার কথা। মনে পড়ছে আভার সাথে করা প্রতিটা দুষ্টুমির কথা। আজ এসবই একটা স্মৃতিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে৷ চাইলেও বিয়ের পর এসব মূহুর্ত আর ফিরে আসবে না। অথচ বিয়ের আগে এসব মূহুর্ত প্রতিদিন ফিরে আসতো।

আব্বু,আম্মু, আভা আমার সামনে বসে আছে। তারা এখনও আমাকে আপন বলে দাবি করতে পারে৷ অথচ….. আমার কবুল বলার সাথে সাথে আমি তাদের পর হয়ে যাবে। সম্পর্ক ছিন্ন হবে না ঠিকই, তবে সম্পর্কে অদেখা এক দূরত্ব তৈরী হয়ে যাবে। কবুল বলার পর আমি তাদের থেকে কতদূরে চলে যাবো! তখন আব্বুর কাছে বিনা সংকোচে কোনো আবদার করতে পারবো না। কারন আমার স্বামী, সংসার হবে। তখন আম্মুর সেই দুষ্টুমিষ্টি বকাগুলো শুনবো না৷ কারন আমি সংসারী মেয়েতে পরিণত হবো। তখন সবসময় আভা’র সাথে দুষ্টুমি করতে পারবো না। কারন আমাকে একসময় আমার স্বামীর কাছে যেতে হবে। সংসার সামলাতে হবে। কেনো এমনটা হয় মেয়েদের সাথে? তারা কেনো সারাজীবন বাবা মায়ের সাথে একইরকম জীবন যাপন করতে পারে না! কেনো তাদেরকেই এতো ত্যাগ করতে হয়? কেনো তাদেরকেই বাবা মাকে ছেড়ে স্বামী আর সংসারকে আপন করে নিতে হয়!
এই এতো ত্যাগ করার পরও সব মেয়েরা তাদের প্রাপ্য পায়না। পায়, স্বামীর লাঞ্ছনা আর অত্যাচার। পায়, শ্বশুর শাশুড়ী আর স্বামীর খোঁটা। নিত্যদিন নিজেকে ঘরের কাজে মশগুল রাখতে হয়। পরের ঘরকে আপন করে নিতে হয়। তারপরও এসবের কদর করে না অনেকে। এটাই বাস্তবতা। কঠোর, তিক্ত বাস্তবতা। সারাজীবন স্বপ্নের মধ্যে থেকে হঠাৎ করে এ বাস্তবতা মেনে নিতে সব মেয়েরই কষ্ট হয়। তবে মুখ বুজে সব মেনে নিতে হয়।

এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আম্মুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম,
” কবুল বলে সাইন করে দে।”

আমি ছলছল দৃষ্টিতে আম্মুর দিকে তাকালাম৷ এতক্ষণ নিঃশব্দে কান্না করলেও আম্মুকে পাশে পেয়ে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কান্না করতে লাগলাম। ফুঁপানো আওয়াজে বললাম,
” আমি তোমাদের ছাড়া কোথায় যাবো না। আমি তোমাদের কাছ থেকে দূরে যেতে চাই না। ”

কথাগুলো বলতে খুব কষ্ট হলো আমার। কিন্তু আমার মনে এখন এসবই চলছে। আমার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার মানুষগুলোকে ছেড়ে কোথায় যেতে মন চাইছে না। এত দূরত্ব মানতে মন চাইছে না। আচ্ছা, এমনটা কি হয় না যে, আমি সারাজীবন আব্বু,আম্মু, আভা’র সাথে থাকবো? একদম আগেকার মত সারাজীবন একইভাবে হাসিখুশিতে আমাদের দিন চলবে, এমনটা কি হয় না?

আমি খুব কষ্টেসৃষ্টে কবুল বলার পর সাইন করে আম্মু আর আভাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। আমাদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আব্বুও কাঁদছিলো৷ পরে আমি চোখ খুলে আব্বুর দিকে তাকাতে আব্বুও আমাদের কাছে এসে কান্নায় যোগ দিলো।

.

রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজে। আমাকে আরো আধঘণ্টা আগে রাইসা ভাবী, আভাসহ সব মেয়ে কাজিনেরা মিলে বাসর ঘরে বসিয়ে রেখে চলে গিয়েছে৷ সেই সকাল থেকে এখন অব্দি বিয়ের শাড়ীতে আছি আমি।
আমাদের বিয়ে পড়ানো শেষ হওয়ারও প্রায় আধ ঘণ্টা/এক ঘণ্টা পর খাওয়াদাওয়া শুরু হয়। সেসব ঝামেলা পুরোপুরি মিটে যেতে প্রায় বিকেল হয়ে যায়। তখন থেকে আবার শুরু হয় বউ দেখা। এ বাড়ির আশেপাশে একদম কাছের কিছু পরিচিত মানুষেরা আমাকে দেখতে আসে৷ তারা যে শুধু আমাকে দেখেই চলে যায় তা নয়। দুনিয়ার নানা ধরনের গল্পগুজব শেষ করে যায় তারা। নতুন বউ হওয়ার কারনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের গল্পে যোগ দিতে হয় আমাকে। তারা চলে যাওয়া পর রাতের খাবার খাওয়া হয়। এ বাড়িতে সবাই বেশ তাড়াতাড়ি শুয়ে পরে বলে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমাকে আদ্রিশের রুমে রেখে যায়৷ অবশ্য কেউ চাইলেও আমাকে আগে আগে রুমে আনতে পারতো না। কারন বাসর ঘর সাজানোই শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। আদ্রিশের তিন বন্ধু আর তাদের কিছু পরিচিত মানুষ মিলে বিকেলের পর রুম সাজানো শুরু করে। এজন্যই এতো দেরি।

দশটা পয়ত্রিশে আদ্রিশ রুমে প্রবেশ করে। এতক্ষণ পর বরের পোশাকে একদম ভালোমত দেখলাম উনাকে। প্রতিদিনকার আদ্রিশ আর আজকের আদ্রিশের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত! একই মানুষের দুই রূপ!

আদ্রিশ রুমের দরজা বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়ে মনোমুগ্ধকর সেই হাসিটা দিলেন। এরপর ধীর পায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন। উদ্ভট হলেও সত্যি, উনার প্রতিটা কদম আমার মধ্যে অদ্ভুত এক ভয় জাগিয়ে তুলছে। একদম সেই দিনকার মত, যেদিন আদ্রিশ আমাকে গাছের সাথে চেপে ধরেছিলেন! অথচ, এরপর আমার দুজনে পাশাপাশি, সামনাসামনি কত সময় কাটিয়েছি। তখন একটুও ভয় করেনি আমার!

প্রচণ্ড ভয়ে আমি চট করে মাথা নিচু করে ফেললাম। কয়েক সেকেন্ড পর আদ্রিশ আমার সামনে এসে বসে পরলেন। তবুও আমি মাথা নিচু করে রইলাম। আদ্রিশ আমাকে নিয়ে কি ভাবছে আল্লাহ জানে। হঠাৎ উনি আমার থুতনি ধরে আমার মাথা তুলে আলতো স্বরে বললেন,
” ভয় করছে?”

আমি উনার উপর দৃষ্টি রেখে বললাম,
” হুম। এ ভয়ের কারণটা ঠিক বুঝতে পারছি না৷ ”

আদ্রিশ মৃদু হেসে বললেন,
” আজকের রাতে বরকে সামনে দেখে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। ”

আমি প্রত্যুত্তরে কিছুই বললাম না৷ বরং পাশ ফিরে তাকিয়ে রইলাম। এজন্য যে, আমার ভয়টা যাতে দূর হয়। আদ্রিশকে এভাবে সরাসরি দেখলে আমার ভয়টা যেতে সময় নিবে।
হঠাৎ আদ্রিশ আমার থুতনি ধরে চট করে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিলেন। চোখেমুখে বিস্ময়ভাব প্রকাশ করে বললেন,
” এই মেয়ে, তুমি কে! আমার মিশমিশ কোথায় হুম? তুমি এখানে কি করছো?”

আদ্রিশের এ ধরণের কথাবার্তায় প্রথম দফায় একটু অবাক হলেও পরমূহুর্তেই বুঝতে পারলাম যে, উনি আমার সাথে রসিকতা করতে চাইছেন। হয়তো আমার অজানা সেই ভয়টা দূর করার জন্য।
উনার রসিকতায় আমিও যোগ দিলাম। চেহারায় গাম্ভীর্যপূর্ণ এক ভাব ফুটিয়ে বললাম,
” আপনার মিশমিশকে গুম করে দেওয়া হয়েছে মিস্টার আদ্রিশ। ”

উনি আমার কথায় সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন। চেহারায় মেকি আতঙ্কের ভাব ফুটিয়ে বললেন,
” না না না…. এ হতে পারে না। তুমি এমন করতে পারো না। এই মেয়ে….এই যে বলে দিলাম। তুমি আমার দেহ পাবে মন পাবে না। ”

আদ্রিশের এহেন কথায় আমার হাসিতে পেট ফেটে যাওয়ার জোগাড় হয়ে পরলো। প্রচণ্ড হাসি পাওয়া সত্ত্বেও উনার সামনে গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করলাম। ওদিকে আদ্রিশ ঠোঁট চেপে হেসে চলছেন। তবুও কষ্টেসৃষ্টে আবারো আগেকার মত ভঙ্গিতে বললেন,
” এই মেয়ে, তুমি আমার মিশমিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছো বলো? না বললে তোমাকে পুলিশে দিবো আমি। ”

” জানতে চান ওকে কোথায় নিয়ে গিয়েছি?”

” অবশ্যই জানতে চাই। ”

” তো চলুন আমার সাথে।” এই বলে আমি জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বন্ধ জানালার দরজা এক টানে খুলে দিলাম। রুমের আলোর ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারময়৷ সামনের গ্রাম্য রাস্তাটা হালকা পরিষ্কার হয়ে এলো। আমি ওদিকে দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললাম,
” ঐ যে পথটা দেখছেন না? ঐ পথ দিয়েই আপনার মিশমিশকে গুম করে নিয়েছি। ঐ পথ ধরে সামনের দিকে……….”

হঠাৎ পেটের উপর আদ্রিশের দু’হাতের স্পর্শ পেয়ে শিওরে উঠলাম। মূহুর্তেই কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেলো আমার। মনে হচ্ছে কথা বলা যেনো ভুলে বসেছি। আদ্রিশ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছেন। অদ্ভুত এক কারণে আমার পুরো শরীর অল্প বিস্তর কাঁপছে। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা ঢিপঢিপ আওয়াজ তুলছে।
এর আগে যে আদ্রিশ আমাকে কখনো জড়িয়ে ধরেনি তা নয়৷ উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তবে সেদিন ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরেননি উনি৷ আমাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে টেনে ধরেছিলেন৷ ফলে উনার বুকের উপর পরতেই উনি জড়িয়ে ধরেছিলেন। কিন্তু আজকের এ স্পর্শ, এ আলিঙ্গন ইচ্ছাকৃত, সবটাই জেনেশুনে করা।

আদ্রিশ এবার আমার কাঁধে নিজের থুতনি রেখে বললেন,
” তোমাকে পুলিশে দিবো না একটা শর্তে। সে শর্তে রাজি হবে।”

আদ্রিশের এমন স্পর্শে শিউরে উঠলেও এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললাম,
” কি শর্ত?”

আদ্রিশ এবার ঘোর লাগা কণ্ঠে বললেন,
” এট লিস্ট আজকের জন্য ঘুম হারাম করে দিতে হবে। কারন আজকের পুরো রাতটা হবে আমার। এই মিশমিশ নামক চাশমিশটা হবে শুধু আমার। শুধুই আমার………”

®সারা মেহেক

#চলবে