#ভালোবাসার_রঙিন_প্রজাপতি
#লেখনীতে:সারা মেহেক
৪৯
বই কিনে মাত্রই বাসায় ফিরলাম আমি আর আদ্রিশ। অবশ্য বাসায় আসার পথে সংসারের প্রয়োজনীয় কিছু নিত্যনতুন জিনিসপত্র কিনে আনি আমরা।
বাসায় পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে সব কিছু গোছগাছ করা শুরু করে দিলাম আমি। কাজের এক পর্যায়ে আদ্রিশ এসে আমাকে সাহায্য করলেন। একা একা কাজ করা বেশ কষ্ট হচ্ছিলো বলে আদ্রিশকে কাজ করতে আর মানা করেনি আমি। এই কাজের ফাঁকেই হসপিটালের উনার প্রথম দিন নিয়ে বেশ আলাপ আলোচনা হলো।
সকল গোছাগাছ শেষে খাওয়াদাওয়া করে আমি আর আদ্রিশ রুমে চলে এলাম। রুমে আসার পরপরই আদ্রিশ একটা বই নিয়ে বিছানায় চলে গেলেন। আর আমি আজকের ধোয়া কাপড়চোপড়গুলো একে একে গোছাতে লাগলাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আদ্রিশের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছি আমি। অদ্ভুত হলেও সত্য যে, উনি আমার দিকে একবারও তাকাননি। সেই আধঘণ্টা যাবত উনার মনযোগ শুধু বইয়ের পাতার উপর। আচ্ছা? আমি যে উনাকে এভাবে দেখছি, তা কি উনি খেয়াল করেননি? হয়তো খেয়াল করেননি। কারণ খেয়াল করলে আমার দিকে তাকাতে হতো। কিন্তু উনি আমার দিকে তাকাননি। এসব ভেবেই বুকের মধ্যে এক চাপা কষ্ট অনুভূত হলো। কিন্তু পরমূহুর্তেই সেই কষ্টটাকে এক দীর্ঘশ্বাসের সাথে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলাম আমি।
ঘুমানোর পূ্র্ব প্রস্তুতি হিসেবে সব কাজ সেরে বিছানায় আদ্রিশের সামনে বসে পরলাম আমি। চুপচাপ কয়েক সেকেন্ড বসে উনাকে গভীর মনযোগে দেখতে লাগলাম আমি। আদ্রিশের ব্যস্ত দৃষ্টিজোড়া বইয়ের পাতার প্রতিটা অক্ষরের উপর চলাচল করছে। ভ্রুজোড়া হালকা কুঁচকে থাকলেও মুখের অঙ্গভঙ্গি একদম স্বাভাবিক। উনি কি বই পড়ছেন, এটা জানতে মাথা হালকা নিচু করে বইয়ের কভারের দিকে চোখ বুলালাম আমি। “Sapiens: A Brief History of Humankind” নামক বইটা পড়ছেন উনি। বইয়ের নাম জানা সত্ত্বেও উনার মনযোগ পরীক্ষা করতে জিজ্ঞাস করলাম,
” কি বই পড়ছেন?”
আদ্রিশ বইয়ের পরের পাতা উল্টে বললেন,
” কেবলই নামটা দেখলে তারপরও জিজ্ঞাস করছো কেনো?” এই বলে আদ্রিশ বই বন্ধ করে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন। আমি তৎক্ষনাৎ অন্যদিকে তাকিয়ে অভিমানী কণ্ঠে বললাম,
” দেখলাম আপনার প্রথম পছন্দের উপর আপনার মনযোগের গভীরতা কতটুকু।”
” তোমার কথা বলছো?”
আমি চট করে আদ্রিশের দিকে তাকিয়ে বললাম,
” জ্বি না। আপনার প্রথম পছন্দ তো আপনার বই। আমার কথা তো বলিনি আমি। ”
আদ্রিশ ভ্রু বাঁকিয়ে বললেন,
” কিভাবে প্রথম পছন্দ বই হয়?”
” বই না তো কি হুম? বই সামনে থাকার কারণে আমার দিকে একবারো তাকালেন না। কিন্তু আমি যখন আপনার সামনে এসে বসলাম তখন তাকালেন। অর্থাৎ আপনার প্রথম প্রয়োরিটি হলো বই। এমনটা না হলে আগেই আমার দিকে তাকাতেন। আর বইয়ের প্রতি তো আপনার ভালোবাসা কয়েক যুগের তাইনা? বইয়ের পিছনে প্রেমময় সব কবিতা লিখেন। আমার কাছ থেকে বই উঠিয়ে রাখেন। আর এখন তিনদিনের বিয়ে করা বউকে রেখে বই নিয়ে পড়ে আছেন। ” প্রতিটা কথা বেশ আক্রোশের সহিত বললাম আমি।
কথা শেষ হতেই আদ্রিশের সামনে থেকে উঠে চলে গেলাম। তবে দু কদম যাওয়ার পরপরই আদ্রিশ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন। আমার কাঁধে থুতনি রেখে বললেন,
” তুমি কিভাবে জানো যে, আমি আমার বইয়ের পিছনে কবিতা লিখি? তুমি কি সেদিন আমার রুমে গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছো নাকি?”
আমি যে ভুল জায়গায় ভুল রাগ দেখিয়ে ফেলেছি তা উনার কথায় বুঝতে পারলাম। আমি যে উনার রুমে গিয়ে ডায়েরি পড়েছি সেটা জানতে পারলে কেমন রিয়েক্ট করবে কে জানে। এর চেয়ে বরং আমি চুপচাপ থাকি।
আদ্রিশ এবার কোনোরূপ কথাবার্তা ছাড়াই আমাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। আমার মাথা নিচু থাকায় উনি আমার থুতনি ধরে মাথা তুলে বললেন,
” আমার ডায়েরিও কি পড়েছিলে তুমি?”
আদ্রিশ এভাবে যে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে তা বুঝতে পারিনি। এদিকে সত্যিও বলতে পারছি না আবার মিথ্যাও বলতে পারছি না৷ তাই দৃষ্টিনত রেখে দাঁড়িয়ে রইলাম। উনি হয়তো কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এরপর হুট করে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
” সত্যি কথা বললে রাগ করতাম না তোমার উপর। কারণ ডায়েরিটা তুমিই পড়েছো, অন্য কেউ না৷ অন্য কেউ পড়লো হয়তো রাগ করতাম তার উপর। কিন্তু তোমার উপর রাগ করবো না। কারণ ডায়েরিতে লেখা অনুভূতিগুলো তোমাকে ঘিরেই। সো, তুমি জানলে ক্ষতি কিসের। উল্টো আমার ভালোবাসা সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা করতে পেরেছো তো।”
আমি কিছু না বলে মুচকি হেসে আদ্রিশকে আলিঙ্গন করলাম। আমার ভাবনাকে পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণ করে যে, উনি এমন কিছু বলবেন তা চিন্তাও করিনি আমি।
.
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছে। আজ শনিবার, আমার মেডিকেল ক্লাসের প্রথমদিন। অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত বাসায় কোনো পড়ার টেবিল না থাকায় ডাইনিং এ বসে ক্লাসে উপস্থিত হবো আমি।
আজকে আদ্রিশের ডিউটি দুপুরের পর থেকে থাকায় উনি আমার ক্লাসের তদারকি করবেন। আমি ফোন, খাতাপত্র নিয়ে যেদিকে বসে আছি, উনি ঠিক তার বিপরীত দিকে বসে আছেন। অবশ্য খালি হাতে বসে নেই উনি। সামনে ইয়া মোটা মেডিকেলের একটা বই নিয়ে পড়ছেন উনি।
যথারীতি সময়মতো ক্লাস শুরু হতেই বেশ মনযোগ সহকারে ক্লাস করতে লাগলাম আমি। তবে ঘণ্টাখানেক যেতেই আমার সে মনযোগে বিঘ্ন ঘটাতে আদ্রিশ উঠে পরে লাগলেন যেনো। উনি একবার আমার সামনে বসে খাওয়াদাওয়া করছেন। তো একবার আমার সামনে বসে আরামসে ফোন টিপছেন। তো আরেকবার আমার দিকে অপলক চাহনিতে তাকিয়ে আছেন। উনার একেকটা কাজ আমার মধ্যে হিংসা, অলসতা, বিরক্তি এবং রাগ ধরিয়ে দিচ্ছে। মন চাইছে এ মূহুর্তেই উনাকে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখে রুমে আটকে রেখে আসি৷ কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়ে চুপচাপ সবকিছু সহ্য করা ছাড়া আর কোনো পথ রইলো না আমার কাছে।
ক্লাস শেষ হতে হতে দুপুর একটা বেজে গেলো। প্রথমদিনের ক্লাসই যে এতো লম্বা হবে তা কল্পনাও করিনি আমি। সব কল্পনাতীত হয়েছে বলে শরীরে ক্লান্তির মাত্রাটা বেশি৷ ক্লাস শেষ হওয়ার পর সব বইখাতা এনে রুমে রেখে দিলাম।
রুমে এসেই আমার চোখজোড়া আদ্রিশকে খুঁজতে লাগলো। আশেপাশে কোথাও উনাকে দেখতে পাচ্ছি না। নিশ্চয়ই ওয়াশরুমে গিয়েছেন। এটা অবশ্য ভালো হয়েছে। আমার রাগ সহ্য করার আগে একটু ঠাণ্ডা হয়ে আসছেন উনি। আজকে যে পুরোন উনার উপর রাগের বর্ষণ হবে তা হয়তো উনি ভাবেননি।
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আদ্রিশ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলেন৷ তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন। তবে আমার কাছাকাছি আসার আগেই আমি উনার দিকে উল্টো এগুতে লাগলাম। চোখেমুখে তীব্র রাগ প্রকাশ করে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললাম,
” এই এই….বেয়াদব লোক, সমস্যা কি আপনার? আপনি আমাকে এতো ডিস্টার্ব করছিলেন কেনো?”
এতক্ষণে আদ্রিশ পিছিয়ে যেতে যেতে দেয়াল স্পর্শ করেছেন। আমার কথা শেষ হতেই উনি চোখেমুখে বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন,
” এসব কি বলছো মিশমিশ! আমি আর ডিস্টার্ব। ছি ছি, মিথ্যা কথা বলো কেনো? আমি কখনও কাউকে ডিস্টার্ব অর্থাৎ ইভটিজিং করিনি।”
আদ্রিশের এহেন কথায় আমি থতমত খেয়ে গেলাম। কিছু বুঝতে না পেরে বললাম,
” ইভটিজিং এর কথা কে বললো আপনাকে?”
” সে কি! তুমিই তো বললে, মাত্রই। ”
” আমি কখন এ শব্দটা ইউজ করেছি?”
” তুমিই তো বললে, আমি তোমাকে ডিস্টার্ব করছি। একটা মেয়ে, একটা ছেলের দিকে এভাবে এগিয়ে এসে রাগী চেহারা নিয়ে যদি জিজ্ঞাস করে, আমাকে ডিস্টার্ব করছেন কেনো? তখন তো এসবের সাইন একদিকেই যায় তা হলে কাউকে ইভটিজিং করা। আমি তোমাকে কখন ইভটিজিং করলাম মিশমিশ।”
আদ্রিশের কথাবার্তা শুনে খুব কষ্টে নিজের হাসি চেপে রাখলাম। চোখেমুখে আবারও সে রাগী ভাব এনে বললাম,
” কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলেই ঘুষি খাবেন আমার কাছে। বেয়াদব লোক একটা। আমার ক্লাসের সময় সামনে বসে বসে অতো খাওয়াদাওয়া, আরামে ফোন টেপা…..এসব কাজ কে করতে বলেছিলো আপনাকে হুম? সব আমাকে ডিস্টার্ব করার ধান্দা তাইনা? এরপর থেকে যদি আমাকে আর একবারও ডিস্টার্ব করেন, তাহলে আপনাকে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখে এ রুমে আটকে রাখবো।”
আমার কথা শুনে আদ্রিশ ভ্রু নাচিয়ে বললেন,
” সাধ্য আছে তোমার?”
উনার এ সামান্য প্রশ্নেই আমার সব আত্মবিশ্বাস মূহুর্তেই উবে গেলো। কিন্তু উনার সামনে নিজেকে শক্ত দেখানোর জন্য আত্মবিশ্বাসের সাথে বললাম,
” অবশ্যই সাধ্য আছে। এমনি এমনি বলছি নাকি?”
” আচ্ছা? তাই নাকি?” এই বলে আদ্রিশ আমার কোমড় ধরে নিজের কাছে টেনে নিলেন। মূহুর্তেই আমার সেই মেকি আত্মবিশ্বাসও উবে গেলো। ফলস্বরূপ অনিচ্ছা সত্ত্বেও উনার সামনে নরম হয়ে পরলাম আমি।
আদ্রিশ আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ফেললেন। আমার চোখের সামনের চলে আসা চুলগুলোকে কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে বললেন,
” তোমার সাধ্য কতটুকু তা জানা আছে আমার। এই যে, আমি ছুঁয়ে দিলেও তুমি গলে যাও। আর সেই তুমিই কি না আমাকে বেঁধে রাখবে! হাসালে মিশমিশ। ”
আমি শুকনো একটা ঢোক গিলে বললাম,
” আপনি কিন্তু পরিস্থিতির ফায়দা উঠাচ্ছেন, আদ্রিশ। এটা একদমই ভালো হচ্ছে না। ছাড়ুন আমাকে। ”
আদ্রিশ আমার কথায় উনার সেই মনোমুগ্ধকর হাসিটা দিলেন। এরপর ধীরেধীরে আমার চোখের চশমাটা খুলে নিজের হাতে নিয়ে বললেন,
” পরিস্থিতিতা ক্রিয়েট করেছো তুমি। যেহেতু তুমি এ পরিস্থিতির ফায়দা নিতে পারছো না, সেহেতু আমাকেই এর ফায়দা নিতে হবে। ঠিক বলেনি আমি?”
” মোটেও ঠিক বলেননি। ” এই বলে আমি উনার বাহুডোর হতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলাম৷ কিন্তু উনি আমাকে ছাড়লেন না। উল্টো আরো শক্ত করে আমাকে ধরে বললেন,
” খাওয়াদাওয়া আর ফোন চালানোর সাথে তখন আরো একটা কাজ করছিলাম। কি সেটা? বলতে পারবে?”
আমি কিছু না বলে পাশ ফিরে তাকিয়ে রইলাম শুধু। উনি আমার থুতনি ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে বললেন,
” তোমাকে অপলক দেখার কাজটা করছিলাম মাঝেমধ্যে। এভাবে দেখার মধ্যে অন্য এক ধরণের মজা আছে। ঠিক না?”
” আমি কিভাবে জানবো?”
” কেনো? তুমি বুঝি আমাকে ওভাবে দেখোনি কোনোদিন?”
আদ্রিশের কথার জবাব না দিতে পেরে আমি চুপ করে রইলাম। কারণ, উনাকে এখন সত্য কথা বলা মানে লজ্জায় পরে যাওয়া। যা আমি চাইনা। প্রয়োজন পরলে উনি নিজ হতে বুঝে নিবেন। কিন্তু আমি আগ বাড়িয়ে বলবো না উনাকে।
আদ্রিশ একটু শব্দ করে হেসে বললেন,
” আমার জবাব পেয়ে গিয়েছি আমি।
আচ্ছা, তুমি ক্লাসের মধ্যে ঝিমাও কেনো?”
আমি মাথা নিচু করে মিনমিনে স্বরে বললাম,
” ঘুম পায় খুব। আর অনেদিন পর ক্লাস করছি বলে এমন ঝিমুনী ধরেছে। ক্লাস করতে করতে ঠিক হয়ে যাবে।”
” ঠিক হয়ে গেলেই ভালো। পরে ক্লাসের ইম্পরট্যান্ট কিছু লেকচার মিস করলে তো প্রবলেম। ”
আমি চট করে মাথা তুলে বললাম,
” কেনো কেনো? ঘরে আস্ত জলজ্যান্ত একটা ডক্টর থাকতে লেকচার মিস করলে আমার প্রবলেম হবে কেনো?”
” আমার কাছে পড়তে চাচ্ছো নাকি?”
” অবশ্যই। আমার কোনো সমস্যা হলে আপনার কাছ থেকেই তো বুঝে নিবো।”
আমার কথায় আদ্রিশ শব্দ করে হেসে বললেন,
” কাজের কাজ কিছুই হবে না। শিওর থাকো।”
” কেনো?”
” কেনো আবার? তোমাকে পড়া বুঝানোর সময় তুমি আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর তুমি পড়ার সময় আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবো। ইন্টারেস্টিং না ব্যাপারটা?”
এই বলে আদ্রিশসহ আমি হেসে উঠলাম। খানিক বাদে আদ্রিশ বললেন,
” তোমার এনাটমির মডেল হতে পারি আমি।”
আমি উনার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললাম,
” এতো মডেল টডেল হতে হবে না আপনার। ”
” কেনো? আমি মডেল হলে তোমারই তো লাভ। একদম প্রত্যক্ষভাবে প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ টাচ করে, হাতড়ে হাতড়ে পড়াশোনা করতে পারবে।”
আদ্রিশের কথায় আমি হালকা হেসে উনার বুকের উপর কিল দিয়ে উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।
®সারা মেহেক
#চলবে