ভালোবাসি বুঝে নাও পর্ব-১৯

0
6639

#ভালোবাসি_বুঝে_নাও🍁🍁
#পর্ব_১৯
#সুমাইয়া_সুলতানা _সুমী(writer)
.
ওই তো আমার অবুঝ পরী চলে এসেছে, কতদিন পর ওকে দেখলাম যেনো মনে হচ্ছে সাতদিন পর নয় সাতযুগ পর দেখলাম,, কি সুন্দর লাগছে যেনো সত্যি স্বর্গের কোনো অপ্সরা কিন্তু আমার পরীর মুখে ওমন ঘন কালো মেঘ জমেছে কেনো?? এটা কি আমার প্রতি তার অভিমান নাকি অভিযোগ কোনটা(মনে মনে কথাগুলো ভেবে মেহরাব বলল)

আরে ফুপি আসো ভিতরে আসো (মেহরাব)

কেমন আছিস বাবা,, ভালো আছিস তো, এতো শুকায় গেছিস কেনো??(ভিতরে আসতে আসতে বলল মাহির মা)

কি যে বলো ফুপি তুমি আর মা তো দেখি একি কথা বলো,, আমার তো মনে হয় আমি আগে থেকে আরো মটু হয়ে গেছি (মেহরাব)

হুম সেটাই (সোফার দিকে তাকিয়ে মাহির মা বলল) তা এই মেয়েটা কে??

আরে ও হলো,,,, মেহরাব কে আর বলতে না দিয়ে মাহি বলল।

মা আমি বাড়ি যাচ্ছি তুমি পরে এসো (কোনো রকম কান্না আটকে বলল)

সেকি রে কেনো?? আয় বস একসাথেই যাবো।

না মা তুমি থাকো আমি যাচ্ছি,, আর বাইরে দেখছো না কেমন মেঘ জমেছে,, ছাদে তো কাপড় মেলা আছে আমি গিয়ে বরং তুলি,, মনির তো ঘুমাই ও তুলবে না (এই বলে মাহি কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে ওখান থেকে প্রায় ছুটে বেরিয়ে আসলো)

এটা কি হলো?? মাহি ওভাবে চলে গেলো কেনো,, কি হয়েছে ওর ও কি কোনো ভাবে কষ্ট পেয়েছে?? আমি কি নিজের অজান্তেই ওকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি?? (মনে মনে বলল মেহরাব)

এই মেয়েটাকে নিয়ে যে কি করি কখন কি করে নিজেই জানে না,, আচ্ছা বাদ দে এখন বলতো মেহরাব এই মিষ্টি মেয়েটা কে।

আরে ফুপি ও হলো তিশা।

ওদিকে,,,,,

এলোমেলো পায়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছি,, আকাশে মেঘ গুড়ুম গুড়ুম করছে,, এতে মধ্যে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি ও শুরু হয়ে গেছে,,, তাতে আমার কি আমি তো আমার নিজের চোখের বৃষ্টি থামাতেই ব্যাস্ত,,,,
আচ্ছা আমি কি একটু বেশিই ভাবতাম মেহরাব ভাই কে নিয়ে?? হয়ত,,, ওনি হয়ত আমাকে কখনো ওচোখে দেখিই নি ওনার হয়ত আমার প্রতি কোনো ভালোবাসাই নেই আমি একটু বেশি বেশি ভেবে ফেলেছি,, তাই এখন কষ্ট টাও বেশি পাচ্ছি।

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ির কাছে চলে আসছি খেয়ালই নেই,, ততক্ষণে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে,, আমি কোনো রকমে বাড়ির দরজাটা খুলে দৌড়ে ছাঁদে চলে আসলাম,, মাকে মিথ্যা বলেছি যে ছাঁদে কাপড় দিয়েছি,, আসোলে আমি তো আমার চোখের পানি লুকাতে চেয়েছি তাই ওভাবে ওখান থেকে পালিয়ে আসলাম।

গুটি গুটি পায়ে ছাঁদের দরজা খুলে ছাঁদের একদম মাঝখানে এসে বসলাম,,, চারিদিকে বৃষ্টির কারনে তেমন ভালো দেখা যাচ্ছে না সবি ঝাপসা,,, আমি ভিজে একদম একাকার হয়ে গেছি,,,, অন্য সময় হলে মেহরাব ভাই তখনি আমার পিছু পিছু আসতো আর এসে আমায় বলতো কিরে কি হয়েছে তোর এভাবে চলে যাচ্ছিস কেনো? অভিমান হয়েছে বুঝি আমার উপর (গল্পের লেখিকা হলো) (সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী)
কিন্তু আজকে ওনি আসেননি আরে ওনি আসবে কেনো কে আমি?? কি হয় ওনার কেনো আসবে ওনি??? আমি যে এতো এতো পাগলামি করি ওনার সাথে ওনি কি একটুও বুঝেন না সেটা?? সব কিছু বুঝেও ওনার কাছে অবুঝ হয়ে থাকি তবুও কি ওনি আমায় বুঝতে পারেন না?? আমার প্রতিটা কাজে প্রতিটা কথায় ওনাকে বুঝিয়ে দিই যে আমি ওনাকে কতটা ভালোবাসি তবুও ওনি বুঝেন না,, কেনো বোঝেন না আপনি, কেনো আমার ভালোবাসাটা বুঝেন না (কথাগুলো বলে হাঁটু মুরে বসে মাথাটা হাঁটুর সাথে ঠেকিয়ে কাঁদতে লাগলাম,,, ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ,, কেনো এমনটা হলো আমার সাথে কেনো?? আমি কি ভালোবেসে এতোটাই ভুল করে ফেলেছি?? এসব ভেবে আরো বেশি কান্না পাচ্ছে।
যখন আমি এসব ভেবে কাঁদছি তখনি মনে হলো আমার গায়ে আর বৃষ্টি পড়ছে না,,, তাহলে কি বৃষ্টি থেমে গেলো?? কিন্তু এখনো তো আমার কান্না শেষ হয়নি,, এখনি বৃষ্টি থেমে গেলে আমি কান্না লুকাবো কীভাবে??

এসব ভেবে মাথা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখি না বৃষ্টি থামিনি এখনো ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে তাহলে আমার গায়ে কেনো বৃষ্টি পড়ছে না?? মাথাটা তুলে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেহরাব ভাই আমার মাথার উপর ছাতা ধরে আছে,, আর ওদিকে ওনি ভিজে একদম চুপচুপ,,, কিন্তু ওনি এখানে কেনো?? ছাদের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি ওনার বউ মানে সেই মেয়েটাও আছে, ও তার মানে নিশ্চয়ই এখানে একান্তে দুজনে সময় কাটাতে এসেছেন আর আমায় কষ্ট দিতে এসেছে,,,
এসব ভেবে আমি উঠে ছাতার নিচ থেকে চলে যেতে চাইলাম তখনি ওনি ছাতা ফেলে দিয়ে আমার হাত চেপে ধরল।

,,,,প্রেয়সীর সমস্ত কষ্ট আমার হোক,,তার হাজারো মন খারাপ এর মাঝেও আমি তাকে ভালোবাসতে চাই,, ভালোবেসে তাকে আপন করে নিতে চাই, সেকি সেই অনুমতি আমায় দেবে?? নাকি ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে চলে যাবে??

একি ওনি ওনার বউয়ের সামনে আমার ধরে রেখেছেন কেনো ওনার বউ তো ওনাকে ভুল বুঝবে তাই আমি ওনার থেকে নিজের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললাম।

কি করছেন কি মেহরাব ভাই হাত ছাড়ুন আমার (মাহি)

ওনি কিছু বলতে যাবে তার আগেই দরজার পাশ থেকে মেয়েটা ওনাকে উদ্দেশ্য করে বলল।

ভাই তুই এখানে তোর বউয়ের মান ভাঙা আমি গেলাম,, আমার বর ফোন দিয়েছে,, কথা বলে আসি,, আমি আর তোদের কাবাব মে হাড্ডি হতে চাই না,, (এই বলে মেয়েটা চলে গেলো)

মানে ওই মেয়ে এসব কি বলছে?? বউ?? আমাকে ওনার বউ বললো কেনো?? ওনার বউতো ওই মেয়েটা তাহলে।

এসব ভাবতেই ওনি আমার হাত টেনে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসলেন তারপর ওনার দুটো হাত আমার মুখের দুপাশে রেখে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললেন।

এতো অভিমান?? এতো অভিযোগ আমায় নিয়ে?? কেনো?? কিছু না জেনেই এতো কিছু ভেবে ফেললি আমায় নিয়ে?? তুই চিনিস না আমায়?? জানিস তো আমি কেমন তারপরেও কেনো এমন করিস,, জানিস নাহ তোর চোখের এক ফোঁটা পানিও আমার বুকে কাঁটার মতো বিঁধে,,, কেনো করিস এমন কেনো এভাবে পোড়াস আমায়?? কেনো বল(মেহরাব)

ওনার কথা শুনে আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,,, ও,,ওই ম,,,মেয়েটা??

আরে গাধী ও হলো তিশা আমার বান্ধবী।

আপনার মেয়ে বন্ধু ও আছে??(মুখ গোমড়া করে বললাম)

হুমম আছে,, আপনাকে সব বলছি তার আগে আপনি আসুন উল্টো পাল্টা ভেবে তো নিজেকে একদম দেবদাশী বানাই ফেলছেন,, অনেকক্ষণ ধরে বৃষ্টিতে ভিজছেন এখন চলেন নিচে যাই তারপর বলছি সব। (এই বলে ওনি আমায় কোলে তুলে নিলেন)

আরে কি করছেন কি নামান আমায়?? আপনার বান্ধবী দেখলে আবার মন খারাপ করবে।

হুম ও আপনার মতো এতো গাধী নয়।

তো আমি যখন এতোই গাধী তাহলে আমায় কোলে নিছেন কেনো?? নামাই দেন আমি হেঁটেই যেতে পারবো।

চুপ থাক এতো বেশি ভাবতে হবে না তোকে,,,

তারপর ওনি আমায় কোলে নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলেন,,, আচ্ছা ওনি কি আমার বলা সব কথা শুনে নিয়েছেন?? ইস তাহলে তো খুবি খারাপ হয়েছে,, আল্লাহ কি লজ্জা,, ওনি যেনো আমার কথা না শুনে প্লিজ আল্লাহ (মনে মনে এসব ভাবছিলাম তখনি ওনি আমায় আমার রুমে নিয়ে আসলো তারপর কোল থেকে নামিয়ে,দিয়ে, একটা টাওয়াল দিয়ে আমার মাথা মুছিয়ে দিয়ে টাওয়াল টা আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে বলল)

যা ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আয় নয়ত ঠান্ডা লেগে যাবে,,

আমিও ওনার কথা মতো চেঞ্জ করতে চলে গেলাম,, সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে কিছুই বুঝতাছি না,,, ওই মেয়ে যদি ওনার বউ না হয় তাহলে ওনি বললো কেনো যে ওনি বিয়ে করে ফেলছেন,, আজব কিছুই বুঝিনা বাবা।

তারপর আমিও ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে বাইরে আমার রুমে এসে দেখি, ওনি,,,,,,,

চলবে,,,,,??