Home "ধারাবাহিক গল্প মন কেমনের মরশুম মন কেমনের মরশুম পর্ব-১+২

মন কেমনের মরশুম পর্ব-১+২

0
677

#মন_কেমনের_মরশুম

পর্ব: ১

রিকশাটা যখন গলির একদম মাথার ছিমছাম তিন তলা বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ায় তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে প্রায়। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে সকাল থেকেই। দুপুরের পর বেগটা কম থাকলেও এখন ভালোই ধারা নেমেছে। রিকশাওয়ালা প্রায় বৃদ্ধ। তার গায়ে একটা বড় পলিথিন পেঁচানো, বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্যই হবে। সেই পলিথিনের উপর বৃষ্টির ধারা পড়ে খুব সুন্দর একটা আওয়াজ তৈরি হচ্ছে, একদম মেলোডির মতো। শুনতে শুনতে ঘুমে ঢুলু ঢুলু হয়ে আসছিলো ইরার চোখ দু’টো। রিকশাটা থেমে গেছে, শব্দটা আর শোনা যাবে না ভেবে মন খারাপ লাগছে। কি আশ্চর্য! এমন একটা বিশেষ দিনেও কেউ এতোটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে? নিজের উপর নিজেই কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়।

“কি হলো? নেমে এসো।”
ভরাট পুরুষালী গলা শুনে ধাতস্থ হয় ইরা। তার পায়ের কাছে রাখা কাপড়ের ব্যাগটা হাতে লোকটি দাঁড়িয়ে আছে তার পাশেই। কখন নেমেছে রিকশা থেকে ইরা বুঝতেও পারেনি। নিজেকে সত্যিই এখন মাতাল মাতাল লাগছে তার কাছে।

ইরা তাড়াতাড়ি নেমে আসে রিকশা থেকে। লোকটা পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে রিকশাওয়ালাকে টাকা দেয়। ভাড়ার চেয়ে কিছুটা বেশি দেয়।

“বাকি টাকাটা দিয়ে একটা রেইনকোট কিনে নিবেন। পলিথিন জড়িয়ে আর ক’দিন চাচা?”
ইরার মনটা খানিক আর্দ্র হয়। সামান্য এই বিষয়টুকু মন ছুঁয়ে যায় ওর। মাথা নিচু করে কুটকুট করে হেসে দেয়।

“আব্বাজান অনেক সুখী হও আম্মাজানরে নিয়ে। আম্মাজান বড়ই সোন্দর আছে।”
আরশাদ ইরার দিকে তাকিয়ে সেই একই ভরাট গলায় বললো,”দ্রুত চলে এসো।”

ইরা তবুও দাঁড়িয়ে থাকে, আরশাদ গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়।
সে চলে যেতেই ইরা রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে হাসে।

“চাচা আজ আমার বিয়ে হয়েছে, আমার জন্য দোয়া করবেন।”
“করবো আম্মাজান করবো।”
“জানেন চাচা, আমার মা বলতো যে মেয়ে হাঁড়ির তলার পোড়া ভাত খায় তার বিয়েতে নাকি এমন বৃষ্টি হয়। আমি তো পাত্তাই দিতাম না মায়ের কথায়। দুধের সর দিয়ে পোড়া ভাত খেতে যে মজা লাগতো। যেদিন ভাত পুড়ে যেতো মা মন খারাপ করতো কিন্তু আমি খুশি হতাম। আজ দেখেন সত্যিই মায়ের কথা সত্যি হয়েছে। পোড়া ভাত খাওয়া মেয়েটার বিয়ের দিন সত্যিই অঝোর শ্রাবণ ধারা। আকাশের যে অবস্থা, মনে হচ্ছে রাতে তুফান হবে। আপনার কি ধারণা?”
রিকশাওয়ালা কিছুটা অবাক হয়। এমন অদ্ভুত ব্যাপার আগে দেখেনি সে। মেয়েটার নাকি আজ বিয়ে। অথচ সাজপোশাক দেখে মোটেই মনে হচ্ছে না। অতি সাধারণ একটা সুতি সালোয়ার কামিজ পরনে, ওড়নাটা মাথায় দেওয়া। মুখে কোনো প্রসাধনীর চিহ্ন নেই, শুধু এক চিলতে কাজল চোখের নিচে। তাও আবার লেপ্টে গেছে। তাতেই কি ভীষণ মোহনীয় লাগছে এই শ্যামবর্ণা মেয়েটিকে। রিকশাওয়ালা বাকের মিয়ার ইচ্ছা হয় মেয়েটার মাথায় একটু হাত রাখতে। বড় মায়া লাগছে তার মেয়েটাকে।

“কি হলো? এখনো দাঁড়িয়ে আছো? তুমি কি কানে কম শোনো?”
মৃদু ধমক খেয়েও ইরা ফিক করে হেসে দেয়। গেটের ভিতর থেকে গলা বাড়িয়ে আরশাদ তাকে ডাকছে। মনে হচ্ছে একটা রাজহাঁস গলা উঁচু করে রেখেছে। ইরা ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকায়। মৃদু পায়ে গেটের ভিতর ঢুকতেই মাগরীবের আজান দেয়। ইরা মাথার ওড়নাটা আরেকটু টেনে দেয়। তার ভয় পাওয়ার কথা, অথচ সে একটুও ভয় পাচ্ছে না৷ কৌতুহলী চোখে এদিক ওদিক তাকায় শুধু।

আরশাদ সামনে হাঁটছে আর ইরা পিছনে। গেট পেরিয়ে কিছুটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে কিছু গাছ অযত্নে পড়ে আছে। আম গাছের পাতায় সয়লাব উঠোনটা। কেউ পরিষ্কার করেনা বোধহয়। অথচ বাইরে থেকে কতো ছিমছাম আর সুন্দর লাগছে বাড়িটা। এমন শঙ্খের মতো সাদা বাড়ি ভীষণ ভালো লাগে ইরার, একদম স্নিগ্ধ, সুন্দর।

নিচতলার সিঁড়ি পার হয়ে দোতলায় এসে দাঁড়িয়েছে আরশাদ। কলিং বেল বাজিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ, এখনো কেউ দরজা খোলেনি। বিরক্ত হয়ে আরশাদ আরো বেশ কয়েকবার বাজাতে থাকে।

ইরা তার বিরক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু গলায় বললো,”হয়তো নামাজে দাঁড়িয়েছে সবাই, এজন্য দরজা খুলতে দেরি হচ্ছে। আপনি এতো অস্থির হচ্ছেন কেনো?”
আরশাদ ভ্রু কুঁচকে তাকায় ইরার দিকে, কিছু বলেনা। ইরা চুপ করে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে চারপাশ। নাহ, বাড়ির ভিতরটা বেশ পরিপাটি, সুন্দর। দরজার পাশেই মানিপ্লান্ট গাছ, মাটির টেরাকোটা ফুলদানি, মখমলের পাপস, জুতা রাখার জন্য সুন্দর একটা র‍্যাক। ইরা নিজের দুই ফিতার স্যান্ডালটা র‍্যাকে খুলে রাখে। আরশাদ সেদিকে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়।

“বাপ রে বাপ, কে এলো এই অসময়ে? কলিংবেল বাজিয়ে কানটা ঝালাপালা করে দিলো। আসছি গো আসছি। হেঁটেই তো আসবো নাকি উড়ে আসবো?”
খট করে শব্দ হয়। দরজা খুলেছে ষোলো/সতেরো বছরের একটা মেয়ে। বেশ সুন্দর দেখতে, পুতুলের মতো। গাত্রবর্ণ ফর্সা তবে লিকলিকে পাতলা। নাক, চোখ টানা টানা। ইরা দেখেই বুঝতে পারে এটা আরশাদের ছোট বোন। যদিও এই নাক, চোখ ছাড়া আর কোনো মিল নেই দু’ভাইবোনের মধ্যে। আরশাদ লম্বা, বলিষ্ঠ শরীর আর এই মেয়েটা কাঠির মতো সরু।

“ভাইয়া তুমি এই অসময়ে?”
“কেনো? তোর খুব অসুবিধা হলো তাতে?”
“না মানে তুমি তো এই সময়ে…..”
বলতে বলতে আচমকা মেয়েটার চোখ যায় ইরার দিকে। হালকা আঁধার হওয়ায় এতোক্ষণ ইরাকে দেখতে পায়নি সে। সাথে সাথে ভূত দেখার মতো চমকে যায় সে। ইরা দুই ঠোঁট প্রসারিত করে মিষ্টি হেসে বললো,”ভালো আছো?”
মেয়েটা উত্তর দেয়না। গোল গোল চোখে ভাইয়ের দিকে তাকায়। আরশাদের হাতে ধরা কাপড়ের ব্যাগটার দিকেও নজর যায় তার। এই মুহুর্তে অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেমন করে ওঠে তার।

“মা কোথায় আশা?”
মেয়েটা আঙ্গুল দিয়ে ঘরের ভিতর নির্দেশ করে, মুখে কিছু বলেনা। তার দৃষ্টি এখন ইরার দিকে নিবদ্ধ। ইরা হাসিমুখে তাকিয়ে আছে আশার দিকে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ মজা পাচ্ছে সে কোনো কারণে।

“ওকে নিয়ে ঘরে আয় আশা, আমি ঢুকছি।”
আর কোনো কথা না বলে আরশাদ ভিতরে ঢুকে যায়। আশা থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

“ভিতরে ঢুকি? বৃষ্টির পানি পড়েছে গায়ে, ভীষণ কুটকুট করছে। গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। আমাকে কি একটু গরম পানি করে দেওয়া যাবে? নাহলে রান্নাঘরটা দেখিয়ে দাও, আমিই গরম করে নিতে পারবো।”
আশা ঢোক চেপে দরজা থেকে কিঞ্চিৎ সরে দাঁড়ায়। ইরা মৃদু হেসে ঢুকে পড়ে ভিতরে।
আচমকা আশা কি মনে করে ঘরের দিকে দৌড়ায় পড়িমরি করে। ইরা মাথা চুলকে বললো,”যাহ বাবা! এর আবার কি হলো?”

আশা ততক্ষণে হাঁপাতে হাঁপাতে মায়ের ঘরে। অন্ধকার ঘরে মা নামাজ পড়ছে, পাশেই বুকে দুই হাত গুঁজে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরশাদ। মায়ের নামাজ শেষ হলে কথা বলবে। আশার উপস্থিতি আরশাদকে একটুও বিচলিত করেনা। ওভাবেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ।

সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া, শীত করছে। এমন ঠান্ডার মধ্যেও রাবেয়া বেগম ঘেমেনেয়ে অস্থির। মাথার উপর পুরোদমে ফ্যান ঘুরছে, তবুও ঘামছে সে দরদর করে। তাকে দুই হাতে জাপটে ধরে রেখেছে আশা। আরশাদ কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে আছে।

“এমন করছো কেনো মা? আমি কি কোনো পাপ করেছি? বলো? এটা কি কোনো অন্যায় বা গর্হিত কাজ?”
“আশা, তোর ভাইকে আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যেতে বল। আমি ওর মুখ দেখতে চাইনা আর।”
“মা….”
“আমাকে মা বলে ডাকবে না তুমি। তোমার মতো ছেলের মুখে মা ডাক শুনতে চাইনা আমি।”
আশা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিয়ে বললো,”যাও ভাইয়া, তুমি তোমার সদ্য বিবাহিতা বউয়ের কাছে যাও। তার নাকি শরীর কুটকুট করছে বৃষ্টির পানিতে। গরম পানি দিয়ে গোসল করতে চায়। জানো মা, আবার কি বলে? বলে যে রান্নাঘর দেখিয়ে দিতে। সে নাকি একাই গরম পানি করে নিতে পারবে। সাহস কতো বেশি একবার ভাবো। আসতে না আসতেই তোমার সংসার দখলের চিন্তা।”
রাবেয়া বেগম ডুকরে কেঁদে দেয়, শব্দ করেই।

আরশাদ দাঁতে দাঁত চেপে আশার দিকে তাকিয়ে বললো,”মারবো এক থাপ্পড় বেয়াদব। তোকে এতো কথা কে বলতে বলেছে? বেশি পেকেছিস নতুন কলেজে উঠে তাইনা?”
হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে রাবেয়া, ঝাঁঝিয়ে ওঠে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে।

“একদম আমার মেয়ের সাথে এভাবে কথা বলবে না তুমি। যেখান থেকে ওই মেয়েকে তুলে এনেছো, ওখানেই রেখে এসো। এক্ষুনি যাবে। আমি আর এক মুহূর্তও ওই মেয়েকে এখানে দেখতে চাইনা।”
আরশাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,”মা অন্তত দেখা করো ওর সাথে। তোমার যদি ওকে পছন্দ না হয় তারপর নাহয় বলো।”
“আমি কোনোভাবেই ওর সাথে দেখা করবো না। তোমাকে যা বললাম তাই করো, এখনই।”
“এই বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে যাবো? বাবা ফিরুক, এইটুকু সময় দাও অন্তত।”
“বেশ! ফিরুক তোমার বাবা। এই বাড়িতে ওই মেয়েকে আমি রাখবো না। এটাই আমার শেষ কথা।”
আরশাদ কিছু বলতে যেয়েও থেমে যায়। মায়ের এই অবস্থায় আর কিছু বলার সাহস করতে পারছে না সে, আরো অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। সে জানতো এমন কিছু হবে, সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলো মানসিকভাবে। কিন্তু মা’কে এভাবে দেখে সব প্রস্তুতিই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। হাতটা উঁচু করে হাতঘড়ির দিকে তাকায় সে। সাড়ে সাতটা বাজে, আটটার মধ্যে বাবা ফিরবে। যদিও সে জানেনা কি হবে তারপর। কিন্তু কি-ই বা করার ছিলো তার?

ভিতরের ঘর থেকে সব স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে ইরা। তবে সে এতে মোটেই বিচলিত না, মন খারাপও করেনি। সে গভীর মনোযোগ দিয়ে বসার ঘরটা দেখছে। আর যা-ই হোক, বাড়ির সদস্যদের রুচির প্রশংসা করতেই হয়। বিশেষ করে ঘর সাজিয়েছে যে। মোজাইক করা মেঝে, দেওয়ালে নামীদামী চিত্রশিল্পীদের পেইন্টিং, যদিও নকল। মাটির ফুলদানী, বেতের সোফা। সোফার উপর কুশিকাটার কাজ করা কুশন। ইরার মুগ্ধ দৃষ্টি কোণায় কোণায় ঘুরে বেড়ায়। ভেজা জামাকাপড় নিয়ে সোফায় বসেনি, সোফায় হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে পড়েছে। বৃষ্টির বেগ বেড়েছে ভালোই। আরাম আরাম পরিবেশ, ঘুম এসে যায় ইরার। ইচ্ছা করে মেঝেতেই কুন্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে যেতে। গোসল দিতে পারলে মন্দ হতো না বটে।

ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাশেদুল ইসলাম ঘরে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে যায়। সদর দরজা হাঁ করে খোলা। কিছুটা অবাক হয়ে জুতা খুলতে খুলতে দেখে মেঝেতে পরীর মতো একটা মেয়ে ঘুমিয়ে আছে। একদম গাঢ় ঘুম। মেঝেতে শুয়েও যে এতো নিশ্চিন্তে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়া যায় মেয়েটাকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না সে। একদম ছোট বাচ্চাদের মতো কুন্ডলী পাকিয়ে ঘুম।
কথা তা নয়, কথা হলো মেয়েটা কে? কি করছে এই বাড়িতে? কাজের মেয়ে শ্রেণীর কেউ বলেও মনে হচ্ছে না। পরনের জামাটা পুরোনো হলেও পরিষ্কার। রেশমের মতো চুলগুলো মুখজুড়ে খেলছে। হঠাৎ খুব মায়া লাগে রাশেদুলের মেয়েটার জন্য।

“এই মেয়ে, এই।”
ইরার ঘুম ভাঙে না, অল্প নড়েচড়ে আবার ঘুমে তলিয়ে যায়। এমন ঘুম ভাঙাতেও ইচ্ছা করে না রাশেদুলের।
সে এবার একটু জোরেই বললো,”এই মেয়ে শুনছো?”
এবার ইরার ঘুমটা ভেঙে যায়। চোখ খুলে পিটপিট করে তাকায় একবার। বুঝতে সময় নেয় সে কোথায় আছে। আচমকা মনে পড়তেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বসে পড়ে। সে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো? এখানেই? কি লজ্জা!

মাথার ওড়নাটা টেনে দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায় ইরা। রাশেদুলের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসে।
“ভালো আছেন?”
রাশেদুল মাথা নাড়তেই দাঁত দিয়ে জিভ কামড়ে ধরে ইরা।
“কতো বড় ভুল হয়ে গেলো দেখুন তো। তাড়াহুড়োয় সব ভুলে গেছি।”
এই বলেই ইরা রাশেদুলের পা ছুঁয়ে সালাম করে। রাশেদুল তাড়াতাড়ি করে কিছুটা সরে যেয়ে বললো,”ঠিক আছে ঠিক আছে। বেঁচে থাকো মা।”
ইরা উঠে দাঁড়ায় আবার।

“তুমি কে মা? এখানে এভাবে ঘুমিয়ে ছিলে কেনো? বাড়ির সবাই কোথায়?”
ইরা মুখ টিপে হেসে বললো,”বাকিরা ভিতরের ঘরে আমাকে নিয়ে আলোচনায় বসেছে। বাদি-বিবাদি দুই পক্ষই আছে। তবে এখনো ম্যাচ ড্র। আপনার অপেক্ষাতেই আছে সবাই। আপনি যে দলে যাবেন সেই দল জিতে যাবে। যদি বাদি দলে যান তবে আমি এই বাড়িতে থাকতে পারবো। ওইযে আপনার হাতে যে বড় ইলিশ মাছটা, এক্ষুনি ভেজে খাওয়াতে পারবো। আমি দারুণ রান্না করি। আর আপনি যদি বিবাদি দলে যান তবে আর এই বাড়িতে থাকতে পারবো না। আমাকে যেখান থেকে এনেছে সেখানে দিয়ে আসবে। যদিও সেখানে আর থাকতে পারবো না। কারণ আমাকে বিয়ে করতে আসা সত্তর বছরের বুড়োটা ভেগেছে এতোক্ষণে। আমার সৎ মা আমাকে আর ও বাড়িতে রাখবে বলে মনে হয়না। রাতটা রাস্তায় কাটিয়ে সকালে ভাবতে হবে কোথায় যাওয়া যায়। পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার উপর।”

রাশেদুল হতবাক হয়ে ইরার দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটার কথার মাথামুণ্ডু কিচ্ছু বুঝতে পারছে না সে। কেমন একদমে কিসব বলে গেলো। ঠিক স্বাভাবিক শোনায় না কথাগুলো। যদিও উচ্চারণ স্পষ্ট, বেশ আত্মবিশ্বাসও আছে। পড়াশোনা জানে মনে হচ্ছে। কিন্তু ও এই বাড়িতে এলো কীভাবে? কে এনেছে ওকে এখানে সত্তর বছরের বৃদ্ধের সাথে বিয়ের আসর থেকে?

(চলবে…..)

#মন_কেমনের_মরশুম

পর্ব: ২

“তুমি আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছো?”
রাশেদুলের জবুথবু দৃষ্টির সামনে হতাশ হয়ে বসে থাকে আরশাদ। অনেক কিছু ভেবে রেখেছিলো বলার জন্য, কিন্তু বাবার সামনে একটা কথাও বলতে পারছে না সে। তার মা একটু পর পর মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদছে। বড্ড অসহায় লাগে আরশাদের এমন পরিস্থিতিতে।

“আরশাদ একটা বিয়ে মানে অনেক কিছু। অনেক কিছু মানে অনেক কিছু। হুট করে ঝোঁকের মাথায় বিয়ে করা যায়না। এটা কোনো ছেলেখেলা নয় যে ইচ্ছা হলেই বিয়ে করে ফেললাম। একটা বিয়ে মানে একজনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া, সারাজীবনের জন্য। আর যাই হোক তোমাকে এতোটা দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে হয়নি আমার কখনো। এমন শিক্ষা তোমাকে আমরা দিইনি।”
রাবেয়া কান্নার মাঝেই হালকা চিৎকার করে ওঠে।
“এসব নরম কথায় হবে না। ওই মেয়েকে এক্ষুনি যেখান থেকে এনেছে সেখানে রেখে আসতে বলো। আমি ওই মেয়ের মুখ দেখতে চাইনা। ওর ছায়াটুকুও বিষ লাগছে আমার।”
আরশাদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে নিজের মধ্যকার কথাগুলো সাজায়। যতোদূর মনে হচ্ছে বাবা পুরোটা সামলে নিবে, মা’কেও। কিন্তু বিয়েটা যখন সে করেছে, সামলে নেওয়ার সিংহভাগ দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।

“অদ্ভুত কথা বলছো রাবেয়া। এতো রাতে মেয়েটা যাবে কোথায়? শুনলেই তো ওকে এক বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে ওর সৎমা বেশ অনেকগুলো টাকা নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। সেই বিয়েটা হয়নি। তোমার ছেলে বিয়ের আসর থেকে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে। এখন ওকে কি ওর মা ঘরে ঠাঁই দিবে? তাছাড়া তুমি মেনে নাও বা না নাও, তোমার ছেলে মেয়েটাকে বিয়ে করেছে। ওর স্থান এখানে ছাড়া আর কোথায়?”
রাবেয়া অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকায়। রাগে, ক্ষোভে মুখের কথাগুলো আটকে যায়। অনেক কিছু বলতে চায় কিন্তু বলতে পারেনা। ইচ্ছা করছে সবকিছু ভেঙেচুরে ফেলতে।

আশা এতোক্ষণ চুপ করে সবটা শুনছিলো। বড়দের মাঝে কথা বলা বাবা পছন্দ করেনা। বাবার ভয়ে এতোক্ষণ চুপ থাকলেও এই পর্যায়ে আর পারেনা।

“তার মানে ওই মেয়েটা এখন থেকে এই বাড়িতে থাকবে? আমাদের সাথে?”
রাশেদুল শান্ত চোখে মেয়ের দিকে তাকায়। আশা কিছুটা ইতস্তত করে। বাবা খুব মজার মানুষ হলেও রেগে গেলে অন্যরকম।

“তাতে নিশ্চয়ই তোমার কোনো অসুবিধা নেই মা। সে তোমার গায়ের উপর থাকবে না। আর ওই মেয়ে বলে সম্বোধন করছো কাকে? সে তোমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। সম্মান দিয়ে কথা বলবে, মনে থাকবে?”
আশা কিছু বলার আগেই রাগে ফেটে পড়ে রাবেয়া। বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। হাতের কাছে থাকা কাঁচের গ্লাসটা ছুঁড়ে মারে মেঝেতে। কয়েক টুকরো হয়ে তা ভেঙে যায় সাথে সাথে।

“তুমি এতো সহজে কীভাবে সবটা মেনে নিতে পারো? মেয়ের পরিচয় জানো তুমি? একটা চালচুলোহীন মেয়েকে তোমার ছেলে ঘরে তুলে বললো তাকে বিয়ে করেছে আর তুমিও সাথে সাথে মেনে নিলে। কিসের সম্মান হ্যা? কিসের সম্মান? এসব মেয়েদের বিশ্বাস করিনা আমি। বড়লোকের ছেলে দেখে এরা অসহায় হওয়ার নাটক করে। যে ছেলেকে নিয়ে আমাদের এতো স্বপ্ন, আমাদের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকে যা চেয়েছে সাথে সাথে দিয়েছি, কোনো অপূর্ণতা রাখিনি কখনো। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বানিয়েছি, বড় চাকরি করছে। সেই ছেলের বিয়ে এরকম একটা জায়গায় হবে? এটাও আমাকে মেনে নিতে বলছো তুমি?”
রাশেদুল নিচু গলায় বললো,”আস্তে বলো, মেয়েটা শুনতে পাবে।”
“শুনুক, আমি চাই শুনুক। যদি বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকে নিজ থেকে চলে যাবে ও এই বাড়ি ছেড়ে।”
“রাবেয়া তোমাকে এতোটা কঠোর হতে আগে কখনো দেখিনি। হতে পারে ওর পরিচয় আমরা এখনো জানিনা। কিন্তু এখন তো ওর আরো একটা পরিচয় যোগ হয়েছে। ও তোমার ছেলের স্ত্রী, এ বাড়ির বউ।”
রাবেয়া আরো জোরে চিৎকার করে বললো,”আমি মানি না, মানি না, মানি না। ও এ বাড়ির কেউ না, কোনোদিন হবেও না। এর শেষ আমি দেখে ছাড়বো।”
এই বলে রাবেয়া আরশাদের দিকে একবার তাকায় ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে। এরপর ঝড়ের বেগে বারান্দার দিকে ছুটে যায়। আশা মায়ের পিছু পিছু ছোটে।

আরশাদ মা’কে আটকানোর চেষ্টা করে অল্প, কিন্তু পারেনা। পুনরায় মাথা নিচু করে দাঁড়ায় সে।

“বাবা, পুরুষ মানুষের জন্ম মাথা নিচু করে রাখার জন্য হয়নি। তাদের মাথা হবে সর্বদা উঁচু। বইতে পড়োনি, চির উন্নত মম শির। তাদের মাথা নিচু হবে শুধু সৃষ্টিকর্তার সামনে। এখানে কেউ তো তোমার সৃষ্টিকর্তা নয়।”
“বাবা আমি তোমাদের কষ্ট দিতে চাইনি। এমনও না যে মেয়েটার সাথে আমার প্রেম ছিলো। বন্ধুর সাথে ওর মামার বিয়েতে যেয়ে দেখি ওর মামার নাকি সত্তর বছর বয়স, আর পাত্রী মাত্র বাইশ বছরের। আমার খটকা লাগে। এ বিয়ে যে মেয়ের সম্মতিতে হচ্ছে না আমি বুঝতে পারি। এরপর কীভাবে যে…..”
রাশেদুল আরশাদের দুই কাঁধে হাত রাখে। আরশাদ বাবার চোখে চোখ রেখে তাকায়। রাশেদুল মুচকি হাসে ছেলের দিকে তাকিয়ে।

“বাকিটা পরে শুনবো। মেয়েটাকে ঘরে নিয়ে যাও এখন। কিছু খেতে দাও। ওর বিশ্রাম প্রয়োজন।”
“কিন্তু মা…”
“আমি সামলে নিবো।”
আরশাদ বাবার দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসে।

“ধন্যবাদ বাবা।”
“যাও।”
আরশাদ কিছু সময় বারান্দার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে যায় ঘর ছেড়ে। রাশেদুল একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলে তার দিকে তাকিয়ে।

“এটা আপনার ঘর?”
আরশাদ ছোট্ট করে ‘হুম’ বলে।
“খুব সুন্দর করে সাজানো।”
“তোমার পছন্দ হয়েছে?”
ইরা মিটমিট করে হেসে মাথা নাড়ে। আরশাদ অবাক হয় ইরাকে দেখে। মেয়েটা কীভাবে এতোটা নির্লিপ্ত আছে? তবে কি এরচেয়ে বেশি অপমানিত হওয়ার অভ্যাস আছে ওর?

“তোমার কিছু লাগবে?”
ইরা কিছুটা চমকে উঠে বললো,”না তো, কি লাগবে?”
“লাগতেই পারে। মেয়েদের কতো কিছুর প্রয়োজন হয়। কিছু লাগলে বলো আশার কাছ থেকে এনে দিই। বাইরে অনেক বৃষ্টি, এখন বাইরে যেয়ে এনে দিতে পারবো না। তবে ফর্দ করে রেখো, আগামীকাল এনে দিবো।”
ইরার গলাটা ধরে আসে কেমন। মা মারা যাওয়ার পর কেউ তার সাথে একটু দরদ মেশানো গলায় কথা বলেনি। বাবা যেনো থেকেও নেই। সৎমা, সেই ঘরের ভাই বোন কেউ ওকে পছন্দ করতো না।

“টেবিলে কাগজ, কলম আছে। যা যা লাগবে লিখে রেখো।”
ইরা গাঢ় গলায় বললো,”কিচ্ছু লাগবে না। আপনি আমার উপর যে দয়া করেছেন, করুণা করেছেন এতেই আমি পরিপূর্ণ। এরপর যদি আপনি আমাকে এ বাড়ির কাজের মেয়ে বানিয়ে রাখেন আমি তাতেও খুশি। আপনি চাইলে আরেকটা বিয়েও করতে পারেন। আমার কোনো অসুবিধা নেই।”
আরশাদ মৃদু হাসে। ইরা একবার সেদিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। লোকটার হাসি অসম্ভব সুন্দর। পুরুষ মানুষের হাসি এতো সুন্দর হয়?

“আচ্ছা করবো। এখন গোসলে যাও। তুমি নাকি গরম পানি খুঁজছিলে গোসলের জন্য।”
“জি, কিন্তু যদি জানতাম এই কারণে আমি সংসার দখলের চিন্তা করছি তাহলে জীবনেও চাইতাম না।”
ইরা ফিক করে হেসে দেয়, আরশাদও হাসে। মেয়েটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে, এটাই ভালো লাগছে।

“রান্নাঘর থেকে গরম পানি আনার প্রয়োজন নেই। গিজার লাগানো আছে, বাথরুমেই গরম পানি পাওয়া যাবে।”
“আচ্ছা।”
“তুমি গোসলে যাও। আমি বারান্দায় আছি। কিছু লাগলে জানাবে।”
ইরা ছোট্ট করে মাথা নাড়ে। আরশাদ বেরিয়ে যায় বারান্দার দিকে। কিছুক্ষণ তার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে ইরা। সে জানে আরশাদ তাকে পছন্দ করে এ বাড়িতে আনেনি। নিতান্তই ভদ্রলোক বলে ঝোঁকের মাথায় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। যখন বুঝতে পারবে সে কতো বড় ভুল করেছে তখন হয়তো ইরাকে সত্যিই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। একটা লম্বা শ্বাস নেয় ইরা। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তার, ভীষণ।

বেশ অনেকটা সময় নিয়ে গোসল করে ইরা। সারাদিনের সমস্ত দুশ্চিন্তা, মন খারাপ, কষ্ট সব যেনো উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে এই উষ্ণ গরম পানির ধারায়। শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে বাথরুমের মেঝেতেই বসে পড়ে সে। দুই হাঁটু আঁকড়ে আয়োজন করে কাঁদতে বসে। কিন্তু কি আশ্চর্য, এক ফোঁটা চোখের পানিও পড়েনা তার। কান্নাগুলোও বোবা হয়ে গেছে। মন তো পাথর হয়ে গেছে, পাথর কি এতো সহজে গলে?

প্রায় আধা ঘন্টা পর ইরা আস্তে আস্তে বাথরুম থেকে বের হয়। আসার সময় তাড়াহুড়োতে বেশি কিছু আনতে পারেনি। অবশ্য জামাকাপড় ছিলোই বা তার কয়টা। হাতে গোণা দু’চারটা জামা এনেছে। আর এনেছে তার নিজের মায়ের একটা শাড়ি, গোলাপি রঙা একটা শাড়ি। শাড়িটা মায়ের খুব পছন্দের ছিলো। মা মারা যাওয়ার পর ইরা শাড়িটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। খুব মন খারাপ হলে ঘরের দরজা আটকে শাড়িটায় নাক ডুবিয়ে বসে থাকে। মনে হয় যেনো মায়ের গন্ধ পাচ্ছে, মা যেনো তার পাশেই আছে।

ইরা কি মনে করে শাড়িটা পরেছে। অবশ্য না পরে কি-ই বা করতো সে? জামাকাপড় তো সব পুরোনো, কিছু আবার ছেঁড়া এদিক ওদিক। যতোই হোক এটা তার শ্বশুরবাড়ি। ছেঁড়া জামা তো পরা যায়না প্রথমদিনেই। আগামীকালের চিন্তা আগামীকাল, আজ দিনটা তো যাক!
মায়ের ব্লাউজ বড্ড ঢিলা হয়েছে তার। মা স্বাস্থ্যবতী ছিলো, ইরা শুকনা পাতলা। সেই ঢিলা ব্লাউজ পরে আড়ষ্ট হয়ে থাকে সে।

ঘরে ঢুকে দেখে আরশাদ বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে। হাতে একটা বই। খুব মনোযোগ দিয়ে বইটা পড়ছে। ইরা কি করবে ভেবে পায়না। ঘরে খাট বাদে বসার জায়গা দুইটা বেতের সোফা। সেখানে যেয়ে বসবে নাকি? এদিকে খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। গতকাল রাতের পর কিচ্ছু খাওয়া হয়নি, খিদেরই বা দোষ কি? কিন্তু এখন কোনোভাবেই নির্লজ্জের মতো খাবার চাওয়া যাবে না।

“ও তোমার গোসল হয়ে গেছে? আমি তো ভাবলাম আজ আর বের হবে না, বাথরুমেই থাকবে। সারারাত গোসল দিবে।”
ইরা মুচকি হাসে। আরশাদ বইটা রেখে উঠতে যাবে তখনই ইরাকে চোখে পড়ে তার ভালো ভাবে। মেয়েটা রূপবতী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু অযত্ন আর অবহেলার ছাপ মুখে। গায়ের রঙ হয়তো উজ্জ্বল শ্যামলা বা ফর্সার কাছাকাছি। অযত্নে তা গাঢ় শ্যামলা হয়ে আছে। বেশ লম্বা চুল মাথায়। ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। বেশ মোহনীয় লাগছে তাকে দেখতে। শুধু ব্লাউজটা….

আরশাদ ঠোঁট কামড়ে হেসে দেয়।
ইরা তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,”হাসছেন কেনো? আমাকে দেখে কি হাসি পাচ্ছে?”
“তোমাকে দেখে না, তোমার ব্লাউজটা দেখে। মনে হচ্ছে এক ব্লাউজের মধ্যে আরেকজন ঢুকে যেতে পারবে।”
এমনিতেই আড়ষ্ট হয়ে ছিলো ইরা। আচমকার আরশাদের এমন কথায় লজ্জায় লাল থেকে গাঢ় বেগুনী হয়ে যায় সে। হয়তো অন্যভাবে বলেছে সে কথাটা, কিন্তু…..

“ভেজা চুল মুছে নাও, ঠান্ডা লেগে যাবে।”
কথাটা বলেই আরশাদ বাথরুমে চলে যায়। ইরা লজ্জায় ঠোঁট কামড়াতে থাকে। ইশ, সেফটিপিন দিয়ে একটু টাইট করে নিলেই হতো ব্লাউজটা। ছিহ! কি লজ্জা!

(চলবে….)