মিশেছো আলো ছায়াতে পর্ব-১৭+১৮+১৯

0
571

#মিশেছো_আলো_ছায়াতে
#Writer_Sintiha_Eva
#part : 17

🍁🍁🍁

তন্ময়ের বাবা : তা বিয়ের পর যে বাপের বাড়ি আসতে হয়। সিনহা মা কার বাড়িতে যাবে। ওর চাচা-চাচীর সাথে যোগাযোগ করেছো সিমথি তোমরা।

তন্ময়ের বাবার কথায় সিমথি মুখের চুইংগাম চিবুনো বাদ দিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তন্ময়ের বাবার দিকে তাকায়।

রহিমা বেগম : এসব কি ভাববো এই মাইয়া। পুরাই ডা/কা/ত একটা মাইয়া রে বাড়ি থেইকা তুইলা আইনা বিয়া দিয়া লাইলো। এহন যদি মাইয়া ডার চাচা-চাচী আইসা হাঙ্গামা করে তাইলে সামলাইবো কেডা হুনি একটু।

রহিমা বেগমের কথায় সিমথি বিরক্তিতে ” চ ” উচ্চারণ করে।

সিমথি : ভাইয়া আমার জানা মতে তোর দাদিরে আমার দাদা উঠাইয়া বিয়া করছিলো। তহন হাঙ্গামা হইছিলো না বুঝি।

সিমথি কথায় সায়নরা মুখ টিপে হাসে। রহিমা বেগম রাগী চোখে তাকায়।

সিমথি : কি দেখে যে এই মহিলার প্রেমে হাবুডুবু খেলো আল্লাহ মালুম ভালো জানে। সারাটাদিন খ্যাট খ্যাট করে আজব।

রহিমা বেগম : দেখলি দেখলি সায়ন। আমারে নহল করতাছি।

ইফাজ : তুমি ও পারো দাদি চুপ থাকো না।

সিমথি : এটা উনার স্বভাব বিরোধী। আমাকে উস্কে দেবে আর আমি উচিত কথা বললে হাজার টা কথা শুনাবে।

সিমথির কথার পিঠে রহিমা বেগম কিছু বলতে নিলে সিমথি থামিয়ে দেয়।

সিমথি : ফর গড সেক প্লিজ ভাইয়া উনাকে চুপ করতে বল। কথার মাঝে থার্ড পার্সন এন্ট্রি জাস্ট বিরক্তির।

সায়ন : দাদি তুমি রুমে যাও।

সায়নের কথায় রহিমা বেগম রাগী দৃষ্টিতে সিমথির দিকে তাকায় অতঃপর উঠে চলে যায়।

তন্ময়ের বাবা : এবার বলো কি ডিসাইড করলে।

সিমথি : আঙ্কেল সিনহার বিয়ে যেহেতু এই বাড়িতে হয়েছে তাই অবশ্যই এই বাড়িতে আসবে। আর সিনহার চাচা-চাচী আপাতত লকাপে আছে।

সিমথির কথায় সায়ন চোখ বড়বড় করে তাকায়।

সায়ন : তুই আসলেই একটা ডা/কা/ত

ইফাজ : নো মাফিয়া কুইন

ইফাজের কথায় তন্ময়রা হেসে উঠে। সিমথি চোখ মুখ কুঁচকে তাকায়।

তন্ময়ের বাবা : অনেক রাত হয়েছে। আমাদের বের হতে হবে। তোরা তৈরি হ আমি গাড়ির কাছে যাচ্ছি।

বলেই তন্ময়ের বাবা বাইরে চলে যায়।

সিমথি : হুম হুম তন্ময় এবার তোরা বাড়ি যা।

তন্ময় : তাড়িয়ে দিচ্ছিস।

সিমথি : যা ভাবিস। তোরা যতক্ষণ থাকবি আমার ঘুম হবে না। বাট আই নিড এ্যা সাউন্ড স্লিপ।

মেঘা : তুই চাইলে সিনহা কে রেখে যেতে পারিস। এতো রাতে নতুন বউ নিয়ে যাওয়া উচিত না।

মেঘার কথায় তন্ময় চোখ ছোট ছোট করে ওদের দিকে তাকায়।

তন্ময় : বিয়ে করেছি কি বউ তোদের কাছে রাখতে। বাসর কি খালি ঘরের সাথে করবো।

তন্ময়ের কথায় মিম সায়ন কেশে উঠে। সিমথি পাশ থেকে কুশন নিয়ে তন্ময়ের দিকে ছুঁড়ে মারে।

সিমথি : ক্যারেক্টার ঠিক কর শা/লা। তোর বড় ছোট সব জেনারেশন আছে এখানে।

তন্ময় : আহ। আমার বোন বোনের জামাই নিজেরাও বাসর সেড়ে ফেলেছে। তোরা সারতে কতক্ষণ। ফ্রেন্ডসার্কেলে আমি শুরু করি একে একে তোদের সময় ও এসে পড়বে।

তন্ময়ের কথায় মিম রাগী চোখে তাকায়।

মিম : লজ্জা রাখ খ/বি/শ একটা। আমি তোর বড় হয়।

তন্ময় : লজ্জা হলো নারীর ভূষণ। আমরা পুরুষরা লজ্জা পেলে কেমনে কি হবে।

রোদেলা : সিমথি ইয়ার ওর বাসর করার তাড়া অনেক।

সিমথি : আমি ভাবতে পারছি না জাস্ট। এতোগুলো বছর তোদের মতো নষ্টালজিক মাইন্ডের পাবলিক আমার আশেপাশে ছিলি। ইয়ার্ক থু।

সিমথির মুখের ভাবভঙ্গি দেখে তন্ময়রা বাদে সবাই হেসে দেয়।

মেঘা : আমরা কি করলাম।

সিমথি : তুমি তো দুধে ধোঁয়া তুলসি পাতা।

তুহিন : তুলসী পাতা অনেক তিতা।

সিমথি : আহ কে রে চুলে টান দি,, ওম্মাহহ তিন্নি

তিন্নি : ডাক্তাল আন্টি

তিন্নির আধো আধো কথায় সিমথি হেসে তিন্নিকে কোলে তুলে পুনরায় সোফায় বসে পড়ে।

সিমথি : ঘুম শেষ।

তিন্নি : হাম।

মেহের : তিন্নি মামনি মাম্মার কাছে আসো। ডাক্তার আন্টি ক্লান্ত।

তিন্নি : ডাক্তাল আন্টি তুমি ক্লাত্ত ( ক্লান্ত)

সিমথি : না একদম না। তুমি এখানেই বসো। মেহের আপু ছেড়ে দাও আমি ঠিক আছি।

সিমথি মুখে আপু ডাক শুনে মেহের আলতো হাসে।

তন্ময় : সিনহা এতো চুপচাপ কেনো বল তো।

তুহিন : তোর মতো নির্লজ্জ না রে ভাই আমাদের বোন টা।

সিমথি : সিনহা এতো লজ্জা পাবার কিছুই নেই এখানে কেউই এতোটা ভদ্রলোক না বুঝলা।

তন্ময় : হা সিমথি বাদে। তুমি তো জানোই সিমথি ভদ্রের গুদামঘর।

সিমথি : আমি কখন বললাম আমি ভদ্র। তবে তোর মতো জায়গা না বুঝে কথা বলি না।

তন্ময় : তুই এতোটা ও ভদ্র না বইন।

সিমথি : কি আজব আমি তো বললামই আমি অভদ্র। তা নাহলে রাত একটায় সিনহা তোর সাথে দেখা করার সাহস পেতো না। ইতিহাস ভুলিস না ভাই আমার।

তুহিন : তন্ময় জাস্ট বিলিভ কর তোর ভাগ্য সিনহার মতো শান্তশিষ্ট মেয়ে জুটবে আমরা ভাবিনি।

তন্ময় : বিকজ আমি ওকেই ডিজার্ব করি বুঝলি আমরা হলাম রাজযোটক।

সিমথি : এই ভাবীপু তোমার ভাইকে বের করো তো। ওর কথা শুনলে রাগ উঠে।

কথাগুলো বলেই সিমথি ফোন হাতে নিয়ে টিপতে শুরু করে।

তন্ময়ের বাবা : তোদের হলে আয়। রাত অনেক হয়েছে।

সিমথি : যা ভাই যা।

তুহিন : আজ রাতের জন্য বেস্ট অফ লাক

রোদেলা : চল এগিয়ে দিয়ে আসি।

তন্ময় : তাড়িয়ে দিচ্ছিস আমার ও সময় আসবে হুহ। সিনহা চলোহহহ

সিমথি : সিনহা কে রেখে যা।

তন্ময় : ওয়াটট কি সব বলিস।

সিমথি : যাহ বাবাহ বিয়ে করেছিস বলেই কি নিয়ে যেতে হবে আজ।

তন্ময় : ফা/জি/ ল হয়ে যাচ্ছিস আগের থেকে।

সিমথি : ভাইয়া ভাবীপু তোমরা আঙ্কেলের কাছে যাও। গিয়ে দেখো সব ঠিকঠাক আছে কি না। ( ফোনের দিকে তাকিয়ে)

সায়ন : হুম মিম চলো।

সায়নের কথায় মিম মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। অতঃপর দুজন উঠে চলে যায়।

তুহিন : এহেম এহেম।

তন্ময় : গলায় ব্যাঙ ডুকেছে তোর।

সিমথি : তুহিন মুখ সামলে কথা বলিস রোজ, আদিবা, তিন্নি সবাই আছে এখানে কথাটা মাথায় রাখিস। ( ফোনের দিকে তাকিয়ে)

তুহিন : ফোনে কার সাথে চেট করিস।

সিমথি : তোর জামাইয়ের সাথে।

তুহিন : ওয়াট রাবিস আমার জামাই।

রোদেলা : আচ্ছা বল কি বলতে চাইছিলি।

তুহিন : তোর শোনার এতো আগ্রহ কেনো। বিয়ে তো তন্ময়ের হলো। ব্যাপার কি রোদু কোনো সুখবর টুখবর আছে নাকি।

মেঘা : সুখবর শুনেছি টুখবর কি।

সিমথি : সুখবর এর সমার্থক তাই না।

তুহিন : আচ্ছা বাদ বাদ এসব। যা বলতে চেয়েছি।

তন্ময় : বল।

তুহিন : হুমম আমরা তো তোর সাথে যাচ্ছি না বিকজ প্রচুর টায়ার্ড আমরা বুঝলি তো। তোর বিয়ে নিয়ে কম ধকল যায়নি। উফফসসস

আদি : তুহিন ভাই ঝেড়ে কাশো একটু।

আদির কথায় সবাই হাসে সিমথি বাদে।

তুহিন : সিমথি শুনিস কথাটা।

সিমথি : তোর ফালতু লজিক মার্কা কথা শোনার ইচ্ছে নাই।

আয়াশ : আহ সিমথি চুপ যাহ। তুহিন বল তো।

তুহিন : তন্ময় ভাই যায় করিস সামলে কারণ আমাদের সিনহা বোনটা ছোট বুঝিসই তো।

অতঃপর পিনপিনে নীরবতা। সিমথি উপরের ঠোঁট দিয়ে নিচের ঠোঁট চেপে একে একে সবার দিকে তাকায়।

সিমথি : আগ্রহ দেখানো ভালো বেশী আগ্রহ ভালো না।

ইশান : নাউজুবিল্লাহ মার্কা কথাবার্তা।

তুহিন : ধ্যাত ভালো এডভাইস দিলাম না রে সিমথি।

তুহিনের কথায় সিমথি ফোন থেকে চোখ সরিয়ে সবার দিকে তাকায়। বেচারি সিনহা লজ্জায় মাথা নামিয়ে রেখেছে। তন্ময় হতভম্ব হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। বাকিরা মিটিমিটি হাসছে।

সিমথি : তিন্নি সোনা মা একটু এখানে বসো। আন্টি এখনই আসছি।

সিমথির কথায় তিন্নি মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। সিমথি তিন্নিকে নিজের জায়গায় বসিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তুহিনের দিকে তাকাতেই তুহিন ও বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।

তুহিন : দেখ বইন মান ইজ্জতের ফালুদা করবি না।

সিমথি : না করেছিলাম না। ছোট বড় জ্ঞান নাই ফাজিল একটা।

তুহিন : এদের ও একদিন বিয়ে হবে বুঝলি।

সিমথি : তুহিনের বাচ্চিইইই ( হালকা চেঁচিয়ে)

সিমথির চেঁচানো তে তুহিন এক দৌড় লাগায়।

সিমথি পা থেকে জুতা খুলে তুহিনের দিকে ছুঁড়ে মারে। কিন্তু জুতা তুহিনের শরীরে লাগার আগেই তুহিন হাপিস। তুহিনের অবস্থা দেখে একেক টা হাসতে হাসতে শেষ।

অতঃপর তন্ময় আর সিনহা নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় মেহেররা আজ থেকে যায়। সিমথি টায়ার্ড থাকায় সোজা নিজের রুমে যায়। তবে সিমথি রুমে আজ আদিবা আর তুহা থাকবে। মেঘা আর রোদেলার রুম সেট করাই। সবাই নিচে আড্ডা দেওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে যায়।

আদিবা : ভাবছি আজ সিমথিপুর সাথে ভাইয়াকে নিয়ে কথা বলে দেখি আমরা।

তুহা : কিন্তু যদি রাগারাগি করে।

তুহার কথায় আদিবা চুপ হয়ে যায়। সত্যিই তো যদি রাগারাগি করে তখন।

সিমথি : তোমরা এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো ঘুমাও। রাত হয়েছে অনেক৷

সিমথির কথায় আদিবারা সিমথির দিকে তাকিয়ে হাসে। প্রতিত্তোরে সিমথি হেসে বারান্দায় চলে যায়। আদিবা আর তুহা ভাবাভাবি করতে করতে ঘুমিয়ে যায়৷

ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবাই খেতে বসে। এক দফায় আয়াশ-মেঘারা খেয়ে কাজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে যায়। পরের দফায় সায়ন রা বসে।

সায়ন : সিমথি চলে গেছে।

মিম : নাহ আদিবারা খাওয়ার সময় তো ছিলো না।

সায়ন : আদিবা বোন রুমে।

তুহা : হুমম ঘুমাচ্ছিলো তাই ডাকিনি।

মিম : ওই তো সিমথি আসছে।

মিমের কথায় সায়ন পেছনে তাকায়। সিমথি ঘুমঘুম চোখে নিচে এসে ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ে। টেবিলে হাত ভাজ করে তাতে মাথা ঠেকিয়ে বসে।

সিমথি : হা করে তাকিয়ে না থেকে খেতে বস।

সিমথির কথায় সায়ন, আদি, ইশান, ইফাজ, রোজ খেতে বসে।

ইফাজ : রাতে ঘুমাসনি।

ইফাজের কথায় সিমথির কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

রোজ : সিমথিপু।

সায়ন : ডাকিস না৷ ঘুমিয়ে পড়েছে মনে হয় ৷

ইশান : মাত্র ই তো কথা বললো।

সায়ন : চোখে ঘুম ছিলো। তোমরা খেয়ে নাও। বোন উঠলে আমরা একসাথে খেয়ে নেবো।

সায়নের কথায় সবাই বাধ সাধলেও জোরাজুরিতে খেয়ে নেয়। খাওয়া শেষে সবাই ড্রয়িং রুমে এসে জোরো হয়।

ইশান : মেহের ভাবী চলো এবার যেতে হবে।

মেহের : হুমমম।

আদি সিমথির দিকে একপলক তাকায়। মুখ টা চুলে ঢেকে আছে। শুধু হাত দুটো দেখা যাচ্ছে।

আদি : যাওয়ার আগে একটা বার কথা ও হলো না। মহারাণী ঘুম নিয়ে ব্যস্ত। ( বিড় বিড় করে)

মেহের : চাপ নিও না ভাইয়া। পরে কথা বলে নিও। এখন যেতেই হবে।

মেহেরের কথায় আদি ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। অতঃপর সবাই বেরিয়ে যায়।

________________

অন্ধকার রুমে চেয়ারের সাথে বাঁধা একজন লোক। মাথার উপর হলদেটে আলোর একটা বাল্ব জ্বলছে। আশেপাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা ছোটার জন্য ছটফট করছে। আচমকা কারো ভারী কদমে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো পেছনে তাকায়।

সিমথি : জ্ঞান ফিরেছে ওর।

অনিল : না ম্যাম।

সিমথি : জ্ঞান ফিরাও কুইক।

সিমথির কথায় অনিল পাশ থেকে পানি নিয়ে লোকটার মুখে ছুঁড়ে মারে। লোকটা পিটপিট করে তাকায়। সামনে একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মেয়েটার দিকে তাকায়। মুখের আদল টা চেনা চেনা কিন্তু বয়সের ভারে ঠিক চিনতে পারছে না।

সিমথি : ড্রাইভার আঙ্কেল চিনতে পারছেন আমায়।

” ড্রাইভার আঙ্কেল ” ডাকটা শুনে লোকটা চমকে সিমথির দিকে তাকায়।

ড্রাইভার : ক কে তু তুমি

সিমথি : সিমথি জাহান সিয়া। খান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির এক্স হাফ ওর্নার আহনাফ খানের দ্বিতীয় সন্তান। চিনতে পেরেছেন।

ড্রাইভার : সি সিমথি

ড্রাইভার কে তোতলাতে দেখে সিমথি হাসে।

সিমথি : যার নুন খেলেন তার সাথেই বেইমানি করলেন আঙ্কেল।

_____

সিমথি : আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি।

ড্রাইভার : আ আমি নি নিজের ইচ্ছে তে ক কিছু ক করতে চা চাইনি ও ওরা ক করতে ব বলেছে।

সিমথি : কারা নামটা বলুন

____

সিমথি : স্পিক আপ ডেম ইট। চুপ করে আছেন কেনো বলুন

_______

সিমথি : আঙ্কেল নাম টা বলুন। আমার খুব প্রয়োজন।

ড্রাইভার : ও ওরা দে দেশে নেই।

সিমথি : আব্বেহ আপনাকে আমি নাম বলতে বলেছি।

ড্রাইভার : সসসস,,

আচমকা একটা গুলি এসে ড্রাইভারের কপাল বরাবর লাগে। উপস্থিত সবাই হতভম্ব। সিমথি নিজের রিভলবারের দিকে তাকায়। হুট করেই পেছনে তাকায়৷

সিমথি : গুলি কে চালালো। ( চেচিয়ে)

অনিল : আ আমরা ক কেউ চা চালায় নি

সিমথি : তোমরা না চালালে কে চালালো। এখানে আমরা ছাড়া আর কে আছে।

অনিল : ম্যাম সত্যি আমরা চালায়নি

সিমথি সবার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায়। সবাই ভয়ে কাঁপছে। সিমথি জোরে একটা শ্বাস ফেলে ড্রাইভারের মৃতদেহের দিকে তাকায়। না এরা মিথ্যে বলছে না। তাহলে গুলি টা করলো কে? রাগে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায়। সিমথি যেতেই সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে। কিন্তু সবার মাথায় একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এতো কড়া সিকিউরিটির মধ্যে গুলি করলো কে।

সিমথি এসে সোজা হসপিটালে নিজের কেবিনে চলে যায়। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। এতোদিনের তদন্তের ফলাফল যখন হাতের নিকটে তখনই এই অঘটন ঘটার কি দরকার ছিলো। আচমকা ফোনের স্কিনে ” প্যারা ” নামটা ভেসে ওঠে। সিমথি বিরক্তির শ্বাস টেনে চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। পরপর চারবার কল কেটে যায়। পঞ্চম বারের মাথায় সিমথি বাধ্য হয়ে ফোন রিসিভ করে।

সিমথি : কি চাই

আদি : তোকে চাই। দিবি।

সিমথি : ফালতু কথা রাখুন কেনো ফোন দিলেন সেটা বলুন।

আদি এবার সিরিয়াস হয়।

আদি : কাল একটু দেখা করবি।

সিমথি : সময় নেই ৷

আদি : প্লিজ কিছু বলার আছে।

সিমথি : আমার কিছু শোনার নেই।

আদি : একটা বার জাস্ট এক ঘন্টার জন্য আয়। প্লিজ সিয়াজান ( আকুতির স্বরে)

সিমথি কিছু একটা ভাবে।

সিমথি : ওকে। কখন আসতে হবে।

আদি : আমি সময় আর এড্রেস মেসেজ করে দেবো। থ্যাংক ইউ। ( খুশি হয়ে)

সিমথি : হুমমম।

আদি : আই লাভ ইউ।

সিমথি : আই হেইট ইউ।

সিমথির কথায় আদি ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠে। আজকের রাত টায় বাকি। কাল সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান। নতুন সূর্যোদয়। হয়তো সেই সূর্যোদয় আদির জীবনে পূর্ণতা নিয়ে আসবে নয়তো অপূর্ণতা৷ এখন দেখা যাক কাল কি হয়। কথাগুলো ভেবে আদি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

চলবে,,,,,

#মিশেছো_আলো_ছায়াতে
#Writer_Sintiha_Eva
#part : 18

🍁🍁🍁

সিমথি : তাড়াতাড়ি বলুন কি বলবেন।

আদি : আগে বসবে তো নাকি।

আদির কথায় সিমথি ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আদির দিকে তাকায়। কালো শার্ট, শার্টের উপর ব্লু জ্যাকেট, কালো জিন্স, হাতে কালো ওয়াচ, চুলগুলো সাজানো গুছানো মন্দ লাগছে না। সিমথি ভ্রু কুঁচকে আশেপাশে তাকায়। পুরো রেস্টুরেন্ট খালি।

সিমথি : পুরো রেস্টুরেন্ট খালি কেনো।

_ আমাদের দিকে একটু নজর দাও। শুধু তোমার উনিকে দেখলেই হবে।

আচমকা মিলিত কন্ঠস্বরের শব্দে সিমথি ঘুরে দাঁড়ায় অতঃপর মেহের দের দেখে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে।

সিমথি : ওহ আপনারা ও আছেন।

তুহা : ইয়াপপ।

সিমথি ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ে। ফোনে কিছু একটা করে ফোনটা সাইডে রাখে। মাথা ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। কাল সারারাত না ঘুমানোর ফল।

সিমথি : এবার বলুন। ইউর টাইম নাউ স্টার্ট। এক ঘন্টা পর এক সেকেন্ড ও আমি এখানে থাকবো না।

আদি : জন্মের সময় মুখে মধু দিতে ভুলে গিয়েছিলো আমার শ্বাশুমা। ( বিড়বিড়িয়ে)

সিমথি : ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন মিষ্টি আমার কোনো কালেই পছন্দের তালিকায় ছিলো না। তাই আমার মা আমার মুখে মধু দিতে পারেনি।

আদি : এতো আস্তে বললাম তাও শুনলে কিভাবে।

সিমথি : এই তুমি তুমি ডাকটা ছাড়ুন তো।

আদি : আমি তো তুমিই ডাকবো৷

মেহের : আচ্ছা তোমরা কথা বলো আমরা ওদিক থেকে আসছি।

মেহের রা চলে যায়। তবে যাওয়ার আগে আদিকে চোখে চোখে কিছু বলে যায়। সিমথি ভ্রু কুঁচকে তাকায় কিন্তু কিছু ই বুঝতে না পেরে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। ফোনের দিকে হাত বাড়াতে নিলেই আদি খপ করে সিমথির হাত ধরে ফেলে। সিমথি চমকে আদির দিকে তাকায়। মেহেররা কিছুটা দূরে গিয়ে উঁকি দিয়ে ওদের কার্যকলাপ দেখতে থাকে।

সিমথি : ওয়াট? এভাবে হাতে ধরলেন কেনো?

আদি : সামনে জলজ্যান্ত একটা মানুষ রেখে ফোনে করবি।

সিমথি : আশ্চর্য আমি কানে শুনবো। হাত দিয়ে ফোন টিপবো৷

আদি : শাট আপ। চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে থাকবি আর যা বলবো তা শুনবি।

আদির কথায় সিমথি বিরক্তি নিয়ে নিজের হাতের উপর থেকে আদির হাত সরিয়ে দেয়। অতঃপর আদির দিকে দৃষ্টিপাত করে।

সিমথি : যখন তখন টাচ করবেন না। আমার ভালো লাগে না।

আদি : আমার কথা না শুনলে একশবার টাচ করবো।

সিমথি : ওকে বলুন শুনছি ৷ মেহের আপু আপনারা প্লিজ এদিকে আসুন। এখানে কোনো প্রেমালাপ হচ্ছে না তাই আমাদের প্রাইভেসির কোনো প্রয়োজন নেই ।

সিমথির কথায় আদি জোরে একটা শ্বাস ছাড়ে। মেহেররা ও এগিয়ে আসে। সিমথি এখনো আদির দিকেই তাকিয়ে আছে। আদির হাবভাব দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসে৷

সিমথি : স্বভাব এখনো যায়নি আপনার আদি। আমি তাকিয়ে থাকলে এখনো আপনি হাসফাস করেন ( মনে মনে)

আদি : সিয়া প্লিজ এভাবে তাকিয়ে থাকবে না। আমার সব এলোমেলো হয়ে যায়।

আদির কথায় সিমথি উঠে দাঁড়ায়। সবাই সিমথির দিকে তাকায়।

সিমথি : আপনি কি চান এটা আপনি নিজে ও জানেন না। আমি আপনার দিকে তাকাচ্ছি ও না ফোন ও হাতে নিচ্ছি না। হ্যাপি এবার বলুন। আকাশের অবস্থা খারাপ৷ বৃষ্টি হবে একটু পরই।

কথাগুলো বলে সিমথি আবারো বসে পড়ে। টেবিলে দুহাত রেখে তাতে মাথা গুঁজে দেয়। এখন আর সিমথির মুখ দেখা যাচ্ছে না। আদি স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে।

আদি : তোমার চোখে চোখ রেখে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। ওই চোখজোড়ার দিকে তাকালেই আমার সব এলোমেলো হয়ে যায়। ( মনে মনে)

আদিবা : আরে ভাই শুরু কর। সময় চলে যাচ্ছে। ( ফিসফিস করে)

সিমথি : কিউটিপাই ফিসফিস না করে জোরেই বলো এমনিতেও সব শোনাই যাচ্ছে।

সিমথির কথায় সবাই থতমত খেয়ে যায়। আদি হালকা কেশে সিমথির দিকে তাকায়।

আদি : সিয়া ওইদিন রাতের জন্য আমি সত্যি ই সরি। বাট এমনটার পেছনে কারণ টা তুই জানতে চাইবি না।

সিমথি : আপনি কি এসব বলার জন্য আমাকে ডেকেছেন। অনেস্টলি বলছি আমার এসব জানার কোনো আগ্রহ নেই । আপনি কেনো কি করেছেন তা সবই আমার জানা। দয়া করে গল্প বানাবেন না।

আদি : সিয়া আমার কথাটা তো শোন। কেবল তুই বলে যাবি আর নিজের মতো ভেবে নিবি। এভাবে তো দিন চলে না৷ কোনো দোষ না করে নিজেকে দোষী বানাতে আমি রাজি নয়।

আদির কথায় সিমথি মাথা তুলে আদির দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অদ্ভুত ভাবে হেসে উঠে। পুনরায় দুহাতের ফাঁকে মাথা গুজে দেয়।

সিমথি : শুরু করুন।

আদি : সেদিন রাতে যেই ছেলেগুলো তোর সাথে মিস বিহেভ করেছিলো ওরা আমারই লোক ছিলো। আমাদের কলেজের কয়েকজন জুনিয়র।

আদির কথায় সবাই বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে আদির দিকে তাকায়। পুনরায় সিমথির দিকে তাকায়। সিমথি এখনো আগের ন্যায় মাথা গুঁজে বসে আছে।

আদি : আ আসলে তুই যখন আ আমাকে বলতিস ভালোবাসিস ত তখন আমি বিশ্বাস করিনি। কারণ তখন তুই অনেক ছোট ছিলি। ভেবেছিলাম তুই আমার মোহে পড়েছিস। কিছুদিন পরই এই মোহ ভুলে যাবি আর আমাকে ও ভুলে যাবি। তাই আমি তোর কোনো কিছুতেই পাত্তা দিইনি ৷ তুই যখন বার বার আমার কাছে আসতিস তখন ইচ্ছে করেই তোকে অপমান করতাম। যেনো তুই নিজের মোহ টা বুঝতে পারিস। আর আমাকে ভুলে যাস। কিন্তু তুই প্রতিবার আমাকে ভুল প্রমাণ করে আবার ফিরে আসতি৷ এভাবে চলতে চলতে আমিও তোর উপর দুর্বল হয়ে যায়। তোর মনে আছে তুই কয়েকদিন আমার সাথে অভিমান করে টানা সাতদিন কথা বলিসনি। আমি প্রতিদিন তোদের বাড়ি যেতাম তোকে একপলক দেখার জন্য। কিন্তু তুই আমার আসার খবর শুনেই দরজা লাগিয়ে দিতিস । জানিস তখন নিজেকে বড্ড অসহায় লাগতো । আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কখন তোর পাগলামি গুলোতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি। তারপর সাতদিন পর তুই নিজেই এগিয়ে এসেছিলি ৷ তারপর হঠাৎ একদিন কথার ছলে সায়ন বলেছিলো সায়ন কখনো নিজের কোনো বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে তোর বিয়ে দেবে না। এমনকি কখনো কোনো রিলেশন ও মানবে না। সেদিন মিম সায়নের সাথে কোনো কারণ ছাড়াই রাগারাগি করেছিলো। সায়ন তখন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলো যদি কোনো দিন ও তুই ওর কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড কে ভালোবাসিস বা আমরা কেউ বাসি তাহলে সায়ন সেদিনই সেই ব্যক্তির সাথে ফ্রেন্ডশিপ ব্রেকআপ করবে। আর আমি খুব ভালো করেই জানতাম তুই আমার আর সায়নের মধ্যে সায়নকেই বেছে নিবি। তারজন্য নিজের মনের দুর্বলতা কে নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। আর আমার থেকে তোকে দূরে সরানোর জন্য সেদিন রাতের প্ল্যান টা সাজিয়েছিলাম। আমি জানতাম তোর আত্মসম্মান বোধ প্রখর। একবার যে তোর আত্মসম্মানবোধে আঘাত হানে তুই তাকে দ্বিতীয় বার মাফ করিস না৷

এতো টুকু বলে আদি থামে। সিমথির দিকে একপলক তাকায়। সিমথি এখনো আগের ন্যায় বসে আছে।

আদি : সেদিন রাতে ওখানে যা যা হয়েছে সবটাই আমার সাজানো ছিলো। আমি দূরত্ব বাড়াতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেই দূরত্বের আগুনে এভাবে পুড়তে হবে এটা জানতাম না। আমি ভেবেছিলাম দুজনের কারোরই কষ্ট হবে না। হলেও সাময়িক হবে৷ কিন্তু নিজের অজান্তেই ভেতরে ভেতরে অনেকটা জড়িয়ে গিয়েছিলাম তোর সাথে। এটা তোর শূন্যতায় আমি খুব ভালো ভাবে বুঝেছিলাম৷ তার জন্যই তোর কয়েকদিনের ইগনোর সহ্য করতে না পেরে সায়নের সব কথা ভুলে তোর কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই তুই হাজার হাজার দূরত্ব তৈরি করে চলে গিয়েছিলি।

আদি থামে। মেহেররা একে অপরের দিকে তাকায়। আদি তো এসব কিছু বলেনি। তাহলে সেদিনের বলা কথাগুলো অর্ধেক সত্যি আর অর্ধেক মিথ্যে ছিলো। আদি উঠে দাড়ায়। সিমথির পাশে গিয়ে দাঁড়ায় । সিমথির মাথায় নিজের হাত রেখে হাঁটু গেড়ে বসে।

আদি : সিয়াজান আম সরি। মাফ করবি না৷ লাস্ট একটা সুযোগ দিবি না।

সিমথি মাথা তুলে আদির দিকে তাকায়। চোখ মুখ স্বাভাবিক।

সিমথি : তন্ময় আর তুহিন এসব কিছু জানতো তাই না।

সিমথির কথায় আদি হাসে। কপালের ছোট চুলগুলো সিমথির কানের পেছনপ গুঁজে দেয়।

আদি : তোকে যখন ওদের কাছে রেখে চলে এসেছিলাম তখন ও আমি নিশ্চিত ছিলাম না। যদিও জানতাম ছেলেগুলো তোকে কিছুই করবে না। কারণ ওরা আমার ভীষণ বিশ্বস্ত। কিন্তু তারপরই কোনো রিস্ক নেয়নি। তন্ময় আর তুহিন কে আগেই সবটা জানিয়ে রেখেছিলাম৷ ওখান থেকে সরে এসে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে তন্ময়কে ফোন দিতেই পাঁচ মিনিট পর ওরা চলে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আমার ভেজা বিড়াল প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলো। পাশ থেকে ইট নিয়ে একজনের মাথায় বারি মেরে ছিলেন মনে আছে আপনার মহারাণী৷

সিমথি মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। আদি হাসে।

আদি : বারি মারার পরই পেছনে সরতে গিয়ে চশমা খুলে ওখানেই ফেলে দেন। ততক্ষণে তুহিন আর তন্ময় চলে আসে। তন্ময় আপনাকে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলো। আর এদিকে তুহিন আর আমি ছেলেটাকে নিয়ে হসপিটালে যায়। ওতোটুকু বয়স হলেও কি হবে গায়ে তোর জোর ছিলো। ছেলেটাকে পাঁচ দিন সেন্সলেস করে বেডে শুইয়ে রেখেছিলি।

সিমথি : আপনার সবগুলো কথা সত্যি এটা বিশ্বাস করবো কিভাবে।

সিমথির কথায় আদি হাসে। পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ফোন করে।

আদি : প্রচন্ড সন্দেহ করো তুমি। জানতাম প্রমাণ চাইবি।

_ আসসালামু আলাইকুম ভাবী

আচমকা কয়েকজনের ভয়েজ শুনে সিমথি দরজার দিকে তাকায়। সেদিন রাতের ছেলেগুলোকে দেখে অবাক হয় কিন্তু সেটা ভেতরে ভেতরে রাখে। কি আজব গেটআপ সম্পূর্ণ চেঞ্জ। এদের দেখলে কেউ বলবে সেদিন রাতে গাঁ’জা’খো’রের মতো ছিলো। আর আজ একেকজন কে দেখে মনে হচ্ছে ভদ্রলোক। সিমথি ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে।

আদি : তোদের ভাবী বিশ্বাস করছিলো না। তোরা কিছু বল।

ছেলেগুলোর মধ্যে রাদিফ নামে একজন ছেলে বলে উঠে,,,

রাদিফ : ভাবী ভাই সব সত্যি কথাই বলছে। আমরা কোনো গাঁ’জা খোর নয়। ভাই কে ভুল বুঝবেন না৷

সিমথি : আমার থেকে বড় হবেন। সো নাম ধরেই বলতে পারেন। ভাবী ডাকবেন না প্লিজ।

তুষার : আপনাকে নাম ধরে ডাকলে আমাদের কপালে বাঁশ আছে ভাবী।

প্রতিত্তোরে সিমথি কিছু বলে না।

সিমথি : ওরা ঠিক বলছে এটা কিভাবে বিশ্বাস করবো। আপনার সাজানো হতেই পারে৷

সিমথির কথায় আদি চোখ পাকিয়ে সিমথির দিকে তাকায়।

আদি : বড্ড জ্বালাচ্ছিস। এর শোধ গুণে গুণে তুলবো৷

আদি পুনরায় কাউকে ফোন করে তবে এখন ভিডিও কল।

আদি : মহারাণী সরুন একটু। আপনার হিটলার ভাইজান আমার সাথে আপনাকে দেখলে আমার গর্দান যাবে৷

আদির কথায় সিমথি চুপচাপ সরে দাড়ায়। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একবার সময় দেখে নেয়।

সায়ন : হঠাৎ ভিডিও কল করলি কেনো।

আদি : এই তো তোর সাথে কয়েকজন দেখা করতে চাইছে।

সায়ন : কারা।

রাদিফ : আসসালামু আলাইকুম বড় ভাই।

সায়ন : আরে রাদিফ তুষার তোরা। এতোদিন পর কি খবর বল।

রাদিফ : মাফ করবেন ভাই। ব্যস্ততার জন্য সময় হয়ে উঠে না। আজ হঠাৎ আদি ভাইয়ার সাথে দেখা হলো। তাই।

সায়ন : তা ঠিক আছে আজ বরং তোরা রাত আটটায় চায়ের দোকানের সামনে থাকিস আমি আসবো। অনেকদিন আড্ডা দেয়না। এখন একটু ব্যস্ত আছি৷ মাইন্ড করিস না রাখছি।

তুষার : না না বড় ভাই রাগ করবো কেনো রাতে দখা হচ্ছে। আল্লাহ হাফেজ।

অতঃপর সায়ন ফোন কেটে দেয়। আদি ভ্রু নাচিয়ে সিমথির দিকে তাকায়। সিমথি জোরে একটা শ্বাস ছাড়ে ।

সিমথি : টাইম আপ। বাই।

আদি খপ করে সিমথির হাত ধরে।

আদি : ওয়াট রাবিস ৷ এন্সার দিয়ে যা।

সিমথি : কথায় কথায় টাচ করতে নিষেধ করেছি না হুমম৷ ছাড়ুন। আর কিসের এন্সার। কোনো কুইয়েশ্চন করেছেন। আশ্চর্য

আদি : ওকে করছি। একটা লাস্ট চান্স দিবি। সবকিছুর জন্য সরি। এবার দূরত্ব টা কমা প্লিজ৷ আর সহ্য হচ্ছে না৷

সিমথি আদিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

সিমথি : দূরত্ব চেয়েছেন সেটা দিয়েছি৷ দূরত্ব কমাতে আমি পারবো না। আর আপনি ভুলে যাচ্ছেন ভাইয়া কখনো মানবে না। আর ভাইয়াকে কষ্ট আমি দিতে পারবো না আর তাছাড়া,,

আদি : কি হলো থেমে গেলি কেনো

সিমথি কিছু না বলে আদিকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।

সিমথি : এই ছেলে দাঁড়াও।

সিমথির ডাক অনুসরণ করে সবাই দরজার দিকে তাকায়। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে সিমথির দিকে তাকায়।

সিমথি : এদিকে আসো

সিমথির কথায় ছেলেটা সিমথির কাছে এসে দাঁড়ায়।

সিমথি : কিছু বলবে। অনেকক্ষণ ধরে তোমাকে খেয়াল করছি।

ছেলেটা এবার ভয়েভয়ে চারপাশে তাকায়।

_ ম ম্যাম সাবধানে থাকবেন। আ আপনার বি বিপদ সা সামনে। ও ওরা আ আপনাকে মে’রে ফেলবে। আ আপনার মা- বাবা

কথাটা বলেই ছেলেটা থেমে যায়। সবাই একবার সিমথির দিকে তো একবার ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছে।

সিমথি : কথাটা শেষ করো।

_ আপনার মা- বাবা বে

আচমকা ছেলেটা সিমথি ধাক্কা দেয়। তখনই একটা গুলি এসে ছেলেটার বুক বরাবর লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই নিশ্চুপ হয়ে যায়। সিমথি দৌড়ে ছেলেটার কাছে আসে আবার দরজার দিকে তাকায়।

সিমথি : এই ছেলে চোখ খোলো বলছি এই ছেলে চোখ খোলো

_ আপনার মা- ব বাবা বে বেচে আ আ আছে।

কথাটা বলেই ছেলেটার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। সিমথি ধপ করে বসে পড়ে। আদিরা একে অপরের দিকে তাকায়। নিজেদের কানকেই যেনো কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। সিমথির মা-বাবা বেঁচে আছে এটা কি সত্যি।

চলবে,,,,,

#মিশেছো_আলো_ছায়াতে
#Writer_Sintiha_Eva
#part : 19

🍁🍁🍁

আদি সিমথির হাত ধরে নিচ থেকে টেনে তুলে। একটা চেয়ার টান দিয়ে সিমথি কে বসায়। নিজে সিমথির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। অতঃপর সিমথির গালে হাত রেখে নিজের দিকে মুখ ফেরায়।

আদি : সিয়াজান উড়ো কথায় কান দিতে নেই। এতে প্রতিপক্ষ তোমার দুর্বলতা বুঝতে পারবে। ছেলেটার কথা সত্যতা কতটুকু সেটা তুমি আমি কেউ জানি না। সো বি স্ট্রং।

আদির কথায় সিমথি ফোঁস একটা শ্বাস ছাড়ে। আচমকায় টেবিলে থাকা সিমথির ফোনটা বেজে উঠে। নিস্তব্ধ জায়গায় ফোনের বিকট আওয়াজে সবাই কিছুটা কেঁপে ওঠে। সিমথি উঠে দাঁড়ায়। ফোন হাতে নিয়ে ” ভাইয়া ” নাম টা দেখে চোখ বন্ধ করে শুকনো ঢোক গিলে। নিজেকে সামলে ফোন কানে নেয়।

সিমথি : হুমম ভাইয়া বল।

সায়ন : কোথায় তুই।

সিমথি : আ আমি আসলে আমি রেস্টুরেন্টে আ আসছি। ( তোতলিয়ে)

সায়ন : তোতলাচ্ছিস কেনো।

সিমথি : তোতলাচ্ছি কোথায়। আসলে প্রচন্ড টায়ার্ড লাগছে ভাইয়া। এখন রাখছি। বাই।

সায়ন কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দেয়। অতঃপর ফ্লোরে পড়ে থাকা নির্জীব শরীর টার দিকে তাকায়। ফোন করে কাউকে এড্রেস জানিয়ে দেয়। বেশ কিছুক্ষণ পর ওখানে দুজন গার্ড এসে উপস্থিত হয়। সিমথি ওদের মধ্যে একজনকে উদ্দেশ্য করে বলে,,,,

সিমথি : একে নিয়ে যাও আর ওর ডিটেইলস বের করে বাড়ির লোকদের ইনফর্ম করো।

সিমথির কথায় প্রথম গার্ড টা মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। সিমথি অপর গার্ড কে উদ্দেশ্য করে বলে,,,,

সিমথি : আর তুমি রেস্টুরেন্টের বাইরে সিসি ক্যামেরা থাকলে এর ফুটেজ নাও কিংবা আশেপাশে কোনো শপে সিসি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ কালেক্ট করে আমাকে জানিও।

সিমথির কথায় গার্ড দুজন নিজেদের কাজে লেগে যায়। সিমথি আদিদের দিকে তাকায়। সবার দৃষ্টি দেখে সিমথি হাসে।

সিমথি : একটু আগে এখানে যা যা হয়েছে সব ভুলে যান । ভাইয়া যেন কিছু জানতে না পারে। এটা আমার রিকোয়েস্ট।

মেহের : সিমথি তুমি ঠিক আছো তো।

সিমথি : আমার আবার কি হবে। আপনারা নিজেদের ঠিক করুন। এসব দেখে আমি অভ্যস্ত। সামান্য এতোটুকুতেই তোমাদের চোখ-মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে আবার আমাকে নিজেদের বাড়ির বউ বানাতে চাইছো লাইক সিরিয়াসলি। এসব চিন্তা বাদ দাও৷ নিজেদের লাইফে ফোকাস দাও। গুড বাই।

সিমথি কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে যায়। আদিবারা একে অপরের দিকে তাকায়। আদি ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে।

আদি : এতোবছর আমার জন্য জ্বলেছে এখন আমাকে পুড়াবে। ভাই-বোন দুইটাই এক। ধ্যাত ভাল্লাগে নাহ।

আদির ফেস রিয়াকশন দেখে সবাই হেসে দেয়।

__________________

সিমথি সোজা বাড়িতে এসে ঘুম দেয়। বাইরে বৃষ্টির দাপটে অবস্থা কাহিল। সায়ন ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরে।

মিম : কি অবস্থা ভিজলে কিভাবে। গাড়ি ছিলো তো।

সায়ন : আরে বলো না আদিদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। বিকাল থেকেই তো বৃষ্টির বেগ বাড়লো। তো সবাই ভাবলাম ভিজে বাড়ি ফিরি। তাই ফিরলাম৷

সিমথি : ভাবীপু তোমার বরকে জ্বরের মেডিসিন দাও নয়তো আজ রাতে জ্বালিয়ে মারবে।

সিমথির ভয়েজ শুনে সায়ন সোফার দিকে তাকায়। সিমথি সোফায় বসে কোলে ল্যাপটব নিয়ে কিছু করছে। হাতে কাঁচা আম। পাশের সোফায় রোজ আর ইফাজ ও বসা। সায়ন ভেজা শরীর নিয়েই সিমথির পাশে বসে পড়ে। সিমথি ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

সায়ন : কিরে আজ এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি কি করিস৷

সিমথি : তোর কি। আমি কি তোর রুমে গিয়ে বসে আছি নাকি৷

সায়ন : চুপ ফাজিল। কাঁচা আম কে মেখেছে।

রোজ : তোমার বউ ৷

সায়ন বাটি থেকে আম নিতে গেলে সিমথি বাটি সরিয়ে নেয়। সায়ন ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

সিমথি : সর সামনে থেকে এটা আমাদের। তুই না তোর বন্ধু দের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলি। না খেয়েই এসে পরেছিস নাকি।

সায়ন : কাঁচা আম খাচ্ছিলাম না তো। দে।

রোজ : নাহহহ।

ইফাজ : এই দুই ছা/গ/ ল দেবে না রে ভাই। আমারে ও দেয় নাই।

সায়ন : দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছিস তোরা। বড় ভাইয়ের সাথে এমন করে। ছিহ গুনাহ হবে তো।

সিমথি : আমের সাথে নো কম্প্রোমাইজ। পাকা আম হলে তোর দিকে অনেক আগেই ফিক্কা মারতাম।

সায়ন : ওকে দিস না। ভেবেছিলাম তোদের আজ নিজের হাতে বিরিয়ানি করে খাওয়াবো। ওকে নো চাপ ব্রো। বেঁচে গেলাম।

সায়নের কথায় সিমথি আর রোজ মুখের আম দ্রুত গিলে ফেলে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে আচমকায় চেচিয়ে উঠে। ইফাজ, সায়ন, মিম কানে হাত দেয়।

সায়ন : বইনেরা আমার দুর্বল হার্টের মানুষ আমি। হুটহাট এমন চিৎকার মারিস না ভয় লাগে।

মিম : তোমরা কথা বলো। রাতে কি রান্না হবে বলে আসি।

মিমের কথায় সিমথি দ্রুত উঠে গিয়ে মিম কে আটকায়৷

সিমথি : আরেহহহ ভাবীপু দাঁড়াও দাঁড়াও। আজ কেউ রাঁধবে না৷ ভাইয়া রাঁধবে।

মিম : কিন্তু

সায়ন : কে রাঁধবে আমি হুহহ। তোদের খাইয়ে লাভ নেই। একটু আমের ভর্তা দিতে পারিস না আবার আমি হাত পুড়িয়ে রাঁধবো। নাইচ জোকস অব দ্য ইয়ার।

সিমথি : মেলোড্রামা অফ কর৷ ওই যে বাটি আছে রাখা। যত খুশি খা। তারপর চেঞ্জ করে রান্নাঘরে যাবি৷ যা যা।

রোজ : আহ তাড়াতাড়ি কর। আমার তো এখনই খিদে পাচ্ছে। ভাইয়ার হাতের বিরিয়ানি ওরেহহহ আমি তরী আপু কে ডেকে নিয়ে আসি।

রোজ আর সিমথির কান্ড দেখে সায়ন আর ইফাজ হেসে উঠে। সিমথি ভেংচি কেটে রুমে চলে যায়।

সিমথি রুমে এসে ল্যাপটব বিছানায় রেখে চার্জ থেকে ফোন হাতে নেয়। গার্ডের মেসেজ পেতেই সিমথির ঠোঁটের কোণায় বাঁকা হাসি ফুটে উঠে। পুনরায় ল্যাপটবে বসে পড়ে।

রোজ : উহুমমমম গন্ধ টা নাসারন্ধ্র ছিদ্র করে ফেলছে। সায়ন ভাইয়া ইউ আর জিও

রোজের কথায় সায়ন হেসে দেয়।

ইফাজ : এই যাহ তো এখন। কাজের সময় ডিস্টার্ব করিস কেনো৷

রোজ : হুহহ।

তরী : আজ কিন্তু তোমরাই সার্ভ করবে ওক্কে।

ইফাজ : পারবো না। নিজেরা নিয়ে খাবি। বাপ রে বাপ কি অর্ডার কি অর্ডার।

রোজ : আব্বু বাড়িতে আসলে বলে দেবো তুই ভাবীর সাথে ঝগড়া করেছিস।

সিমথি : আবার ঝগড়া করেছো।

ইফাজ : হ্যাঁ আমিই শুধু ঝগড়া করি আর তোদের ভাবী তো আমাকে আদর করে তাই না।

সায়ন : বস গিয়ে তোরা। ভালো মা তরী কে নিয়ে আয়। দাদিমা তো খাবে না। মিম এগুলো টেবিলে নিয়ে যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। তারপর সার্ভ করে দেবো।

বেশ কিছুক্ষণ পর সায়ন এসে দেখে সবাই বসে আছে। সায়ন মুচকি হেসে এগিয়ে যায়।

রোজ : উফফস কিহা সিন হে। সায়ন ভাইয়া ভাবীপুকে সার্ভ করে দিচ্ছে। এই ভাইয়া তুই একটা পিক তুল প্লিজ।

রোজের কথায় ইফাজ বিরবির করতে করতে উঠে দাঁড়ায়। সায়ন মিম কে দেওয়ার সময় টা ক্যামেরা বন্দি করে আবারো বসে পড়ে।

সিমথি : ইফাজ ভাইয়া এক কাজ করো

ইফাজ : কি?

সিমথি : রোদ কে ফোন দিয়ে আসতে বলো দ্যান ওকে তুমি সার্ভ করে দিও। আফটার অল একটা মাত্র বউ তোমার।

তরী : এনগেজড হয়ে গেছে তবুও বউ ছাড়া থাকতে হচ্ছে ভাই। তোমার এ কষ্ট আমাদের সহ্য হয় না।

রোজ : বউ না বউ না হাফ বউ ৷

ইফাজ : চুপচাপ খা। সবগুলো পেকে যাচ্ছে অল্প বয়সে।

ইফাজের কথায় সবাই হেসে দেয়।

___________________

শাওন : এতো কিছু মিস করে গেলাম আমি আজ।

আদিবা : তাহলে আর বলছি কি। আজ যে কত সিন হলো।

শাওন : সেসব বাদ। সিমথি রাজি হয়েছে তো।

তুহা : হাহ। সিমথি যেমন তেমন মেয়ে নাকি। এতো সহজে জীবনেও মানবে না দেখিস।

ইশান : আমাূের তো ডিরেক্ট বলে দিয়েছে যেনো ওকে এ বাড়ির বউ করার স্বপ্ন না দেখি৷

শাওন : বেশ হয়েছে। এটাই দরকার আদির জন্য। বন্ধুত্বের জন্য ভালোবাসা ছেড়েছে এখন বুঝুক। মহারাজ কোথায় বসে আছে এখন।

আদিবা : রুমে কি করছে কে জানে।

শাওন : ডিনারের সময় খাবার টেবিলে আজ তুফান তুলবো। গেট রেডি গাইস।

কথাটা বলে শাওন হেঁসে আদির রুমের দিকে অগ্রসর হয়। পেছনে কয়েক জোড়া চোখ শাওনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।

শাওন : আরেহ ভাই আমার খেতে আয়। মেঝো মা কখন থেকে ডাকছে।

আদি : তুই কখন আসলি।

শাওন : অনেকক্ষণ। চল চল তাড়াতাড়ি।

শাওন আদিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আদিকে টেনে নিয়ে যায়। মেহের দের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চোখের চমশা হালকা নামিয়ে চোখ টিপ দেয়।

আদির বাবা : এতো গুজুর গুজুর কিসের তোদের ছয় মাথার গড নোজ।

শাওনের বাবা : ছয় মাথা না সাত মাথা বল। আমার ছোট্ট নাতনী টা কে ও সাথে নিয়েছে।

ইশান : তোমার নাতনী কে নিতে হয় না এমনি এড হতে পারে।

তিন্নি : ছোট কাকাই ( গাল ফুলিয়ে)

ইশানের মা : ইশান মা’র বো টেনে একটা। কেনো বাচ্চা টার পেছনে লাগছিস।

ইশানের মায়ের কথায় ইশান ঠোঁট উল্টে তিন্নির দিকে তাকায়।

আদির মা : হয়েছে এবার খাওয়া শুরু কর। কম রাত হয়নি।

আদির মায়ের কথায় সবাই খেতে শুরু করে।

শাওন : আচ্ছা মেঝো আব্বু তোমার মনে হয় না এবার বাড়িতে আরেকটা বউ আসা দরকার।

খাওয়ার মাঝে হঠাৎ শাওনের কথায় মেহেররা বিষম খায়। আদির বাবা খাওয়া থামিয়ে শাওনের দিকে তাকায়।

আদির বাবা : বুঝলাম না।

শাওন : আসলে মেহের অনেকদিন ধরেই বলছে ওর একটা জা এর দরকার।

শাওনের বাবা : হেয়ালি না করে স্পষ্ট করে বল।

শাওন : ওকেহ। আমি বলতে চাইছি আদির তো বিয়ের বয়স হয়েছে এবার অন্তত বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করো। কিছুদিন পর তো বুড়ো হয়ে যাবে। তখন কে বিয়ে করবে তোমাদের ছেলে কে।

শাওনের কথায় আদি বিষম খায়। আদিবারা ঠোঁট চেপে হাসে। আদিবা আদির পিঠ চাপড়ে দিতে দিতে হেয়ালির স্বরে বলে,,,,

আদিবা : আহারে ভাই আমার কে তোকে স্মরণ করছে। ভাবী নাকি।

শেষ কথা মিনমিনিয়ে বলায় আদি ব্যতিত কেউই শুনতে পাইনি। আদি ভ্রু কুঁচকে আদিবার দিকে তাকায়।

আদির বাবা : তোর ভাইকে কি আজ থেকে বিয়ের কথা বলছি। তোর ভাইয়ের সেই বিষয়ে কোনো খেয়াল আছে। সারাদিন চিরকুমার থাকার ব্রত গ্রহণ করে বসে আছে।

আদির মা : আদি বিয়ে করতে রাজি থাকলে আমরা কালই মেয়ে দেখা শুরু করবো।

আদির মায়ের কথায় আদি পুনরায় কেশে উঠে।

শাওন : আহা মেয়ে তো আছেই।

আদির মা : কে?

শাওন কিছু বলার আগেই মেহের ফট করে বলে উঠে,,,

মেহের : সিমথি কে তোমাদের কেমন লাগে।

মেহেরের কথায় আদির বাবা, চাচ্চুরা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মস্তিষ্কে চাপ দিয়ে ও সিমথি নাম টা স্মরণ করতে পারলো না।

শাওনের বাবা : সিমথি কে?

শাওনের বাবার কথায় আদি সহ মেহের রা আকাশ থেকে পড়ে। আদি চেয়ারে হেলান দিয়ে দেবদাসের মতো সবার দিকে তাকায়। যাকে বাড়ির বউ করার স্বপ্ন দেখছে তাকেই তার মা-বাবা সহ পরিবারের লোকজন রা কেউই চিনে না। কি আশ্চর্য।

ইশান : আরে ওইদিন যে তিন্নি কে নিয়ে একটা মেয়ে এসেছিলো।

আদির মা : সায়নের বোনের কথা বলছিস। ওই যে যেই মেয়েটা তিন্নিকে র/ক্ত দিয়েছিলো।

আদির মায়ের কথায় আদিবারা একসাথে হুমমম বলে উঠে।

শাওন : বলো কেমন লাগে।

শাওনের মা : প্রথম দিন দেখলাম ভালোই মনে হয়েছে। পোশাক-আশাকে শালীনতা, ব্যবহার ও মার্জিত। বিদেশে ছিলো শুনেছি ব্যবহারে মনে হয়নি।

ইশানের মা : সী অনেক কিউট। ভেরী ভেরী সুইট। বাট কেনো ইউরা তার টকিং টুকিং।

ইশান : তোমাদের জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগে।

আদির বাবা : হুমম ভালো। আমার তো ভালোই লেগেছে। কিন্তু কি ব্যাপার বল তো। হঠাৎ ওর কথা কেনো তুলছিস। আদির বিয়ের সাথে ওর কি সম্পর্ক।

শাওন : না এমনি জিজ্ঞেস করলাম। খাও খাও। অনেক রাত হয়েছে।

শাওনের বাবা, চাচ্চুরা কিছুক্ষণ শাওনের দিকে তাকিয়ে থেকে খাওয়ায় মন দেয়। কারণ এরা জানে এই বাড়িতে ছয়জন পা’গ’ল বসবাস করেন। কখন কি করে কি বলে তার ঠিক নেই।

সিমথি : ওয়াট এতো রাতে বখাটে দের মতো ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করছেন কেনো।

আদি : সারাক্ষণ শুধু খ্যাট খ্যাট। মুখে মধু দেয়নি শ্বাশুমা।

সিমথি : একদম চুপ। এসব বলার জন্য ফোন দিয়েছেন।

আদি : না তো। আমি তো প্রেম করতে ফোন দিয়েছি।

সিমথি : Wrong নাম্বার ভাই। এখানে আপনার কোনো প্রেমিকা নেই।

আদি : প্রেমিকা থাকবে কেনো। হবু বউ।

সিমথি : ফোন কাটবেন আপনি।

আদি : আমার ফোন আমার ইচ্ছে তোমার কি।

সিমথি : আমার কি হবে।

আদি : সিয়াজান আজকের ওয়েদার টা দেখেছিস।

সিমথি : আপাতত বেলকনিতে তাই ওয়েদার না দেখার কি আছে।

আদি : একদম বউ নিয়ে রোমান্স করবার ওয়েদার তাই না।

সিমথি : কিহহহ ( হালকা চেঁচিয়ে)

আদি : কিছু ফিল আসছে।

সিমথি : কিসের ফিল।

আদি : তুমি শুধু নিমপাতা না সাথে একটা আনরোমান্টিকের গোডাউন।

আদির কথায় সিমথি ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসে। হাতে থাকা কফির মগ টা রেলিঙের উপর রেখে আকাশের দিকে তাকায়। এখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় অনেক টায় কম। তবে শীতল বাতাস টা দারুন লাগছে। বৃষ্টির ওয়েদার সিমথির সবচেয়ে প্রিয়। কোনো কারণ ছাড়াই এই ওয়েদারে মন ভালো থাকে।

আদি : আকাশের দিকে তাকিয়ে কাকে ভাবো।

সিমথি : আপনি কিভাবে বুঝলেন।

আদি : হার্ট কানেকশন বউজান।

সিমথি : হাহ। রাখেন তো। ঘুমান রাত হয়েছে অনেক।

আদি : সিয়াজান।

আচমকা আদির আদর মেশানো ডাকে সিমথি কেঁপে ওঠে। ফোন শক্ত করে চেপে ধরে। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে। এতো সহজে ধরা দিলে চলবে না। সবকিছু কি এতোই সহজ।

সিমথি : আদি ভাইয়া রাখছি।

আদিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সিমথি ফোন কেটে দেয়। অতঃপর রুমে এসে বেলকনির দরজা আটকে বিছানায় শুয়ে পড়ে। চোখ বন্ধ করতেই নোটিফিকেশনের শব্দের চোখ খুলে ফোন হাতে নিতেই আদির বার্তা ভেসে উঠে।

” বার বার ভাইয়া বলার অপরাধে তোমাকে পস্তাতে হবে সিয়াজান। একবার সামনে পাই বুঝাবো ভাইয়া কাকে বলে। বিয়ের পর বাচ্চাদের সামনে কি আমাকে মামা উপাধি দেওয়াবি গা/ধী। এটা আমি মানবো না। আমি এর চরম প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভালোবাসার আইন অনুযায়ী ৬০২ ধারা মোতাবেক আমি তোমাকে কঠিন শাস্তি দেবো। তোমার শাস্তি হচ্ছে থাক সেটা সামনা সামনি বলবো। এখন বললে লজ্জায় পড়ে যাবে। আর তোমার লজ্জা মিশ্রিত মুখশ্রী আমি ব্যতিত রুমের আসবাবপত্র দেখবে এটা আমি কিছুতেই মানবো না।
আমি তারার তারার রটিয়ে দেবো তুমি শুধু আমার। তাই যেকোনো অবস্থায় তোমাকে দেখার অধিকার ও শুধু আমার। ”

ভালোবাসি সিয়াজান। শাস্তির জন্য রেডি থাকিস। গুড নাইট। উম্মাহহহ।

সিমথি মেসেজ টা পড়ে কোনো রিপ্লাই না করেই ফোন পাশে রেখে দেয়। ঠোঁটের কোণায় ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

চলবে,,,,,

( ভুলক্রটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ। )