#রৌদ্র মেঘের আলাপণ
#পর্ব-১৬
#WriterঃMousumi Akter
“এই যে শ্যামসুন্দর পুরুষ এইদিকে আসবেন একটু।”
রৌদ্র সহসায় হেসে দিলো মেসেজ পেয়ে।মেঘের এমন মিষ্টি মেসেজ রৌদ্র ভাবতেই পারে নি।মেসেজ টা একটানা কয়েকবার পড়লো রৌদ্র।সাথে সাথে উত্তর দিলো।,
“উফফ এমন ভাবে ডেকো না মেঘবালিকা হার্টফেইল হবেতো আমার সুইটহার্ট। ”
মেসেজের উত্তর দিয়ে চুলের মধ্য হাত চালিয়ে দিয়ে নিঃশব্দে হাসছে রৌদ্র।এই হাসি প্রেমের হাসি,ভালো অনুভূতির হাসি,রৌদ্রের চোখ,মুখ হাসছে আনন্দে।জীবনের সর্বশ্রেষ্ট অনুভূতির মালিক এখন রৌদ্র।আবার মেসেজ এলো।
“অপেক্ষা করছি কিন্তু,না আসলে ভেগে যাবো পাহাড়ী কোনো যুবকের সাথে।”
রৌদ্র আবার হাসলো,হেসে মেসেজের উত্তর দিলো,
“এই মেয়ে কি আমাকে ভয় দেখিয়ে মে*রে ফেলতে চায় নাকি।এই কাঁলাচান কে কেনো এত ভয় দেখায় মেয়েটি।সে কি জানেনা তার জন্য কত পাগল আমি।”
“একবার আসুন খবর আছে আজ।আর
“একবার আসুন খবর আছে আজ।আর নিজেকে কালাচাঁন বললে না নিজেও কালিমেখে ঘুরবো।”
“পেছনে তাকাও মেঘ বালিকা।”
মেঘ পেছনে তাকিয়ে দেখে সাদা গেঞ্জি,আর ব্লু জিন্স পরে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র।গেঞ্জির হাতা দুটো গোটানো,সিল্কি চুল আনমনে কপালে পড়ে আছে যা সব সময় এমন থাকে।রৌদ্রর এক প্যান্টের পকেটে হাত গোজা, অন্য হাতে ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।রৌদ্রর এমন রুপ মেঘের মন হারানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো।মেঘ মুগ্ধ হয়ে দেখছে রৌদ্রকে। এই মানুষ টাকে তার আরো আট বছর আগে ভালবাসা উচিত ছিলো।মানুষ টা তো ভালবাসার জন্য একদম ই পারফেক্ট ছিলো।রৌদ্র ও মুগ্ধ বরাবরের মতো মেঘ কে দেখে।দুটো মানুষের মাঝে প্রেমের সমান অনুভূতি।
রৌদ্র এগিয়ে এসে দ্রুত চোখ বন্ধ করে আবার চোখ খুললো।কয়েকবার ঘনঘন চোখ বন্ধ করলো আর খুললো।বার বার এমন করতে দেখে মেঘ বলছে,
“কি হয়েছে চোখ অফ করলেন যে।কিছু কি গিয়েছে চোখে বারবার চোখ অফ করছেন আর খুলছেন।”
“মানুষ নাকি পরী দেখছি সেটাই ভাবছি।সে কি সত্যি আমায় ডেকেছে।এ কি স্বপ্ন নাকি কল্পনা।”
“ভেবে কি পেলেন।”
“বউরুপি পরী আমার সামনে।”
“জিজ্ঞেস করবেন না কেনো ডেকেছি।”
“না।”
“কেনো?”
“ভয় করে”
“কিসের ভয়।”
“যদি নেগেটিভ কিছু বলো।”
“কি নেগেটিভ বলবো।”
“যা কিছু।”
“উহু পজিটিভ কিছু বলবো।”
“প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত বলো।”
“আগে পাহাড়ের উপরে চলুন তারপর বলবো।”
“পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে যদি হৃদয়ভাঙা কিছু বলো কে জানে ওখানেই অক্কা গেলাম।”
“যদি বলি ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাতে চাই।”
“আমি ধন্য হবো মেঘ।সত্যি বলছি।”
কয়েক সিঁড়ি উঠে কষ্ট হলো মেঘের।রৌদ্র কোলে তুলে মেঘ কে পাহাড়ে নিয়ে গেলো।মেঘ কে কোলে তুলে কোনো হুঁশ নেই রৌদ্রের।মেঘের ভুবনভোলানো রূপ দেখে দেখে উপরে উঠছে।মেঘ বললো,
“কষ্ট হয়েছে তাইনা?”
“একটু ও না।কি বলবে আগে বলো।”
“হাত দিন।”
মেঘ রৌদ্রের হাত ধরে বললো,
“আই লাভ ইউ।”
রৌদ্রর পৃথিবী যেনো থমকে গেলো।থমকে গেলো ঝরনার ধারা।অবাক হয়ে মেঘের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“সত্যি,এটা সত্যি।”
মেঘ এবার পাখির মতো ডানা মেলে বললো,
“আই লায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াভ ইউ রৌদ্র।
আই লায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াভ ইউ। ”
খোলা আকাশের নিচে মেঘের কথা ফিরে এসে বারবার রৌদ্রের কানে বাজছে।বিশেষ কিছু যাদু আছে এই ভালবাসায়।বিশেষ কিছু আছেই।রৌদ্র নিচে বসে পড়ে বললো,
“মে মারজাওয়া মেঘ।”
মেঘ হেসে বললো,
“কেনো?”
“আই ডোন্ট নো।”
“এই পাহাড় পর্বত আকাশ সাক্ষী রেখে বলছি এই পবিত্র ভালবাসার যত্ন করবো আমি।যে ভালবাসার মূল্য আমি আগে দিতে পারিনি সেটা এখন থেকে দিবো।আমার মন বুঝে গিয়েছে রৌদ্র ভালবাসা কাকে বলে।আমি ভালবাসি আপনাকে।”
রৌদ্র মেঘকে জড়িয়ে ধরে বললো,
আমি তোমাকে কি বলবো জানিনা মেঘ।কিছুই বলতে পারছিনা।আমার হৃদয়ের স্পন্দন বেড়ে গিয়েছে,শরীর কাঁপছে,জীবনে এতটা খুশী আর আনন্দ এর আগে আমি পাই নি।
একটা চিরকুট মেঘের হাতে গুজে দিলো,
“তুমি না হয় বৃষ্টি হয়েই প্রেম নামাও মেঘ।সেই প্রেমে আমি ভিজবো,প্রেমে ভেজা সিক্ত নয়নে মুগ্ধ হয়ে দেখবো তোমাকে।সেই ভেজা চোখে ভুলেও তাকিও না সর্বনাশ হবে তোমার।তুমিও প্রেমে পড়বে আমার।
–রৌদ্রুপ সাইফ রৌদ্র”
মেঘ চিরকুট টা পড়ে হাসছে,যে হাসি এই ঝরনার বহমান ধারার থেকেও সুন্দর।মেঘ হেসে হেসে বললো,
“আপনার ওই চোখে তাকিয়েছি সর্বনাশ হয়েছে আমার।প্রেমের সর্বনাশ আমার হয়ে গিয়েছে রৌদ্র।”
জানো মেঘ মনে হচ্ছে জীবন টা কত সুন্দর, আগে কেনো পাইনি এই সুন্দর জীবন।ভালবাসাহীন জীবন মরুভূমির মতো।
——————————————————–
তৃধা আর রাজন ও এসেছে মেঘ-রৌদ্রর সাথে।রাজনের মতো উদার মনের মানুষ আর এমন নিঁখুত ভালবাসার মানুষ এই যুগে খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
একটা মেয়ে কিছু পাহাড়ী ফুল নিয়ে যাচ্ছে।রাজন ফুল গুলো কিনে তৃধার সামনে বসে পড়লো আর বললো,
“তৃধা উইল ইউ ম্যারি মি!জানি তোমার জন্য এখনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।তবুও যদি মন চাই আমায় ডেকো।আমি আসবো তোমার কাছে।”
তৃধা দেখছে রাজন চলে যাবে। রেডি ও হয়ে গিয়েছে।ফুল গুলো হাতে নিয়ে বললো,
“চলে যাচ্ছেন?রাজন ভাই।”
“হ্যাঁ, একটা কেস আছে।তাই যেতে হবে।”
“না গেলে হয় না?”
“কেউ তো আটকাচ্ছে না।কার জন্য থাকবো।”
“সব কথা কি বলে দিতে হয় কিছু বুঝেও নিতে হয়।”
“বুঝতে গেলে তো ভুল ও হতে পারে।তাই ক্লিয়ার বলাটায় বেটার।”
তৃধা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
“আসলে রাজন তোমাকে ভালবাসি বলতে বিবেক এ বাধে আমার।তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম আমি।আজ কোন মুখে ভালবাসি বলি।আমার বিবেক আমাকে বাঁধা দেয়।তোমার মতো ভাল মনের ছেলেকে আমার মতো কলঙ্কে ভরা জীবনে জড়াতে ভীষণ বিবেকে বাঁধে আমার।আজ আমি এমন জায়গা দাঁড়িয়ে আছি কাউকে ভালবাসি বলতে গেলে থমকে যায় আমি।আমি ভুল করেছিলাম রাজন।ভালবাসার মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম।আমি আবেগে ভুল করেছিলাম।আমি ঠকেছি রাজন।জানো রাজন আমার মতো সহজ সরল মেয়ের জন্য এ দুনিয়া অনেক কঠিন।মেয়েরা সব সময় ঠকবাজ দের আগে বিশ্বাস করে এ কথা সত্য।যারা প্রকৃত ভালবাসে তারা আসলে ছলাকলা দিয়ে মানুষ পটাতে জানেনা।এক বাক্য ভালবাসি বলে।আর যারা অভিনয় করতে আসে তারা অনেক ছলাকলা দিয়ে মানুষের মন জিতে যায় আর ঠকে যায় আমার মতো সহজ সরজ মেয়েরা।জানো রাজন তোমাদের মতো ছেলেরা ভীষণ ভালো যারা ভালবাসতে জানে।কিন্তু আমরা মেয়েরা যে নিরব ভালবাসা বুঝতে অক্ষম। আমরা মনে করি যে খুব বেশী ভালবাসার কথা বলছে সে হয়তো বেশী ভালবাসে।আসলে এমন টা নয় যার প্রকাশ যত কম তার ভালবাসা তত গভীর।আমি ভুল করেছি রাজন।আমি রিয়েলাইজ করেছি তুমি আমার জন্য সঠিক আর আজ আমিও অসহায় দিনে তোমাকে পাশে পেয়ে ভীষণ ভালবেসে ফেলেছি।কিন্তু আমার সে মুখ নেই রাজন ভালবাসি বলার।এই অন লাইন জগতে প্রেম ভালবাসা না করার অনুরোধ করবো আমি সবাইকে।এখানে সবাই মিথ্যা বলে দু’একজন বাদে।প্লে বয় দের জন্য উত্তম জায়গা ইন্টারনেট।ভাল মানুষ নেট দুনিয়াতেও ভালো,রিয়েল লাইফেও ভালো।”
রাজন তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো,
“জাস্ট এটুকু বলো ভালবাসো আমায় তৃধা।”
“হ্যাঁ বাসি রাজন।তোমার মতো ছেলেকে ভালবাসার যোগ্যতা আমার নেই।তবুও বলছি তোমাকে ভালবাসি আমি।
তৃধার চোখের পানি মুছে রাজন বললো,
“এই অমূল্য পানি আমি ঝরতে দিবো না তৃধা।আমাদের নতুন পৃথিবী শুরু হবে তৃধা।তোমার আমার স্বপ্নের পৃথিবী।”
সেদিন সন্ধ্যায় তৃধা, রাজন আর মেঘ বসে তৃধা আর রাজনের বিয়ের প্লান করছে।এমন সময় তৃধার হাতের অক্ষর টা রাজনের চোখে পড়লো।রাজন বললো,
“এই অক্ষর টা কি আমার নামে।”
“না।”
চলবে,,