#রৌদ্র মেঘের আলাপন
#পর্ব-১৭
#WriterঃMousumi Akter
মেঘ কথা ঘুরাতে রাজন কে বললো,
‘ মনে করো তোমার নামের অক্ষর।’
তৃধা একটা ঝামা তুলে হাতের অক্ষর টা তোলার চেষ্টা করে বললো এসব মুছে ফেলতে চাই আমি।এসব অভিশাপ আমার জীবনের।ঘৃনা লাগছে তৃধার।তৃধাকে পাগলামো করতে দেখে রাজন বললো,
‘মনে করোনা ওটা আমি তোমার হাতে।নিজেকে কষ্ট দিওনা প্লিজ।’
‘কিভাবে মনে করবো আমি রাজন।ওট তো তোমার জন্য ছিলো না।জোর করে কি মনকে মানানো যায়।আই হেট দিস লেটার।আই হেট দিস লেটার রাজন।’
‘তৃধা রাজনের প্রথম লেটার ও কিন্তু আর দিয়ে।তাহলে কি আমাকেও ঘৃণাতে রাখবে।’
‘প্লিজ রাজন এভাবে বলে আর আমাকে কষ্ট দিওনা।তোমার মতো মানুষকে ঘৃণা করার যোগ্যতা আমার নেই।’
‘আবার যোগ্যতা এলো কোথা থেকে।’
তৃধার মন ভালো করতে মেঘ বললো,
“রাজন ভাইয়া তুমি কিন্তু তৃধাকে প্রপোজ করোনি।”
রাজন হাঁটু গেড়ে তৃধার সামনে বসে বললো,
“তৃধা আমার জীবনে এসো প্লিজ।ভালবাসো আমায়।আমাকে সুন্দর একটা জীবন দাও,তোমার জীবনের আলোয় রাঙাও আমায়।জীবনের একটায় চাওয়া আমার তোমার সাথে জীবন কাটানো।”
তৃধার মুখে হাসি ভীষণ হাসি।জীবনের সব অন্ধকার কেটে গিয়ে নতুন সূর্যদ্বয় দেখলো।
তখন রাত।মেঘ তৃধাকে বলছে,
“তৃধা তোমার কি এতটুকুও মনে আছে ওর চেহারা।কি হয়েছিলো তৃধা।ওকে তো খুজে বের করতে হবে।ওর শাস্তি দিতে হবে।”
তাহলে শোনো ভাবি,
“রায়হান নামের একটা ছেলের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় আমার।ছেলেটি প্রথনে ফ্রেন্ডশীপ করে।সারাক্ষণ আইডিতে রেপ এর বিরুদ্ধে পোস্ট করে।নারীদের সম্মান নিয়ে পোস্ট করে।আমার কাছে তাকে ভালো মনে হয়।সারাক্ষণ ভিডিও কল, অডিও কল এ কথা হতো।আমাদের রিলেশন ও হয়ে যায়।অনেক গিফট পাঠাতো সে।আমি একটু কথা না বললে ভীষণ কাঁদতো।এতটায় ভালবাসা দেখাতো।সেদিন আমাদের প্রথম মিট ছিলো।আমাকে বলেছিলো সে একটা গাড়ি পাঠাবে আমি যেনো ওই গাড়িতে উঠে যায়।সে নাকি গাড়িতে করে ঘুরবে আমাকে নিয়ে।আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলামপাঠাবে আমি যেনো ওই গাড়িতে উঠে যায়।সে নাকি গাড়িতে করে ঘুরবে আমাকে নিয়ে।আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।গাড়ি এলো উঠে গেলাম।তার পাঠানো গাড়ি আমাকে অচেনা কোথায় নিয়ে যায় আমি বুঝতেও পারিনি।গাড়িতে উঠতেই আমার নাকে কিছু স্প্রে করা হয়।আর আমি অজ্ঞান হয়ে যায়।জ্ঞান ফিরতেই দেখি কয়েকটা ছেলে নেশা গ্রস্হ।রায়হান কে আমি জড়িয়ে ধরে বললাম আমার খুব ভয় করছে দেখো না এরা কারা।রায়হান বললো ওরা আমাদের ভালবাসার সাক্ষী হতে এসছে।আমার কাছে তখন ই সব সন্দেহের লাগছিলো।আমি কোথায় ছিলাম জানিনা।রায়হান এর আচরণ খুব সন্দেহের লাগছিলো।নেশাক্ত অবস্থায় রায়হান আমাকে জোর জবরদস্হি ধ★র্ষ★ন করে।ব্যাপার টা রায়হান পর্যন্ত থাকলে আমি এতটা ভেঙে পড়তাম না।রায়হান ওর ফ্রেন্ডদের পাঠিয়ে বলে জোস জিনিস যা তোরা টেস্ট কর। সারারাত ওর সামনেই আরো পাঁচটা ছেলে আমি আর বলতে পারবো না ভাবি।ওই ভয়ানক ঘটনা আমি মনে করতে চাই না।ও খুব চালাক।কখনো আমাকে ছবি দিতো না।সব আইডেন্টি ডিলিট করে দিতো।আমাকে ফেইক ঠিকানা দিয়েছিলো,সব ভুল তথ্য দিয়েছিলো।মানুষ এত খারাপ কিভাবে হতে পারে।আমার ফোনের সব ডিলিট করে দিয়েছিলো।কোনো ক্লু নেই,কিচ্ছু নেই আমার কাছে।একবার ছেলেটাকে পেলে প্রশ্ন করতাম অমানবিক অমানুষরা মানুষ রুপে কেনো জন্মগ্রহন করেছে।”
“তৃধা কেউ অপরাধ করে পালাতে পারেনা।কোন না কোনভাবে তার শাস্তি হবেই।দেখো সে যেদিন ধরা পড়বে বুঝতেই পারবে না কিভাবে ধরা পড়লো।পাপ কাউকে ছাড়ে না।”
“হ্যাঁ ভাবি আমি যেনো একবার ওদের মুখোমুখি হতে পারি।জাস্ট একবার।”
রাজন আর তৃধাকে গল্প করার সুযোগ দিয়ে মেঘ বেরিয়ে গেলো হাসতে হাসতে।সে রৌদ্রর কথা ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে গেলো।আজ রৌদ্রকে সে এত ভালবাসবে রৌদ্র জাস্ট চমকে গিয়ে বলবে মেঘ বালিকা এটা সত্যি তুমি।এমন সময় মেঘের সামনে এসে একটা ছেলে দাঁড়ালো।মেঘ এক চিৎকারে বেঁহুশ হয়ে পড়ে গেলো।যখন জ্ঞান ফিরলো মেঘ তাকিয়ে দেখলো মেঘের পাশে রৌদ্র তৃধা আর রাজন।
–রাজন বললো ভাবি কি হয়েছিলো।
তৃধা বললো ভাবি কি হয়েছিলো।
মেঘ কোনো উত্তর দিলোনা।রৌদ্রর মুখের দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে রইলো।মেঘ ভয়ে কাঁপছে। রৌদ্র মেঘ কে জড়িয়ে ধরে বললো কোনো ভয় নেই।মেঘ আমাকে বলো কি দেখেছিলে।কেনো ভয় পেয়েছিলো।মেঘ শুধু কেঁদেই যাচ্ছে।তৃধা আর রাজন অনেক বার জিজ্ঞেস করলো মেঘ কিছুই বলতে পারলো না।তৃধা আর রাজন বেরিয়ে গেলো।তারা বুঝতে পারলো মেঘ প্রচন্ড ভয় পেতেছে।যাওয়ার সময় দরজা টা লাগিয়ে দিয়ে গেলো।
রৌদ্র মেঘকে শক্ত ভাবে জড়িয়ে ধরে বললো, কি হয়েছে মেঘ আমাকে বলো।কি দেখে ভয় পেয়েছো তুমি।কেউ কিছু বলেছে।
মেঘ শুধু কাঁপছে আর কাঁদছে।অনেকক্ষণ পরে মেঘ বললো,
‘রৌদ্র মাহিম।’
‘কোথায় মাহিম?মাহিম কে স্বপ্ন দেখেছো।’
‘মেঘ কাঁদতে কাঁদতে বললো,না ও সত্যি এসেছিলো।আমি কোনো স্বপ্ন দেখিনি।’
‘ও হো মেঘ মাহিম কি আর বেঁচে আছে?’
‘হ্যাঁ আছে।আমি দেখেছি।’
‘তুমি ভুল দেখেছো।ওর মতো কাউকে দেখেছো।না হলে ওর আত্মা দেখেছো রাইট।’
‘ওর আত্মা নয় রৌদ্র।ও আমার হাত ধরে টানছিলো আর বলছিলো আমার সাথে চলো মেঘ।তোমাকে খুজতে অনেক কষ্ট হয়েছে আমার।’
‘আহা!পাগলি। এমন আবার হয় নাকি।সব ই তোমার ভ্রম ছিলো,স্বপ্ন ছিলো।’
‘মেঘ কাঁদতে কাঁদতে বললো,না রৌদ্র।ও আমার সামনে এসেছিলো।কিন্তু ও ফিরে এলো কিভাবে।কিভাবে এলো।আমি কি করবো এখন।’
‘কি আর করবে।ওর কাছে ফিরে যেও।’
‘না আমি কোথাও যাবো না।আমাকে কোথাও যেতে দিও না প্লিজ।না রৌদ্র না।আমি তুমি ছাড়া আর কারো সাথে যাবো না আমি।কিছুতেই যাবো না।’
‘আরে পাগলি মজা করলাম।মাহিম আসবে কোথা থেকে।’
‘আমি জানিনা।কিন্তু ও এসেছিলো।তুমি দেখো বাইরে কোথাও আছে ও।’
‘আমি কিভাবে চিনবো।আমি তো আগে দেখি নি তাকে।’
‘ওয়েট ছবি দেখাচ্ছি।তুমি ওর ছবি নিয়ে বাইরে যাও ঠিক ই খুজে পাবে।’
মেঘ ব্যাগ থেকে ছবি নিয়ে এলো।একটা ছবি ছিলো মেঘের কাছে।
রৌদ্র ছবি দেখেই এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালো।রৌদ্র যেনো চমকে গেলো।যেনো কোনো আশ্চর্যজনক কিছু দেখেছে।মেঘ বললো ‘কি হলো রৌদ্র তুমি এমন চমকে গেলে কেনো?’
‘এই ছবির ছেলেটি মাহিম কিভাবে হবে মেঘ।তোমার ভুল হচ্ছে।এ মাহিম নয়।’
‘ও মাহিম নয় তো কে মাহিম।ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছিলো আমি কি মজা করছি।’
‘রৌদ্র ছবি দেখে বললো ওহ মাই গড।এ মাহিম।আমি তো এক বছর আগেই একে দেখেছি।’
‘হোয়াট কোথায়?’
‘মালায়েশিয়াতে।এ মাহিম হলে তো সত্যি বেঁচে আছে।আমাদের সেল্ফি ও আছে এক সাথে।দেখো এই দেখো ছবি।রৌদ্র ছবি বের করে দেখালো রৌদ্র আর মাহিমের।’
এমন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পন মেঘের জীবনে আর আগে দেখেনি।মেঘ যেনো চোখের সামনে দেখছে মাটি উলটে পালটে যাচ্ছে,আকাশ ভেঙে পড়ছে।সব কিছু এলো মেলো লাগছে মেঘের।মস্তিষ্কে কি বিচরণ করছে মেঘ কিছুই বুঝছে না।
মেঘের মাথা চক্কর দিচ্ছে।তার মানে মাহিম বেঁচে আছে।বেঁচে থাকলে ওই র*ক্তাক্ত লা*শ কি মিথ্যা ছিলো।ও কিভাবে বেঁচে থাকতে পারে।বেঁচে থেকে কেনো এত নাটক করছে।বেঁচে যদি আছে এতদিন কেনো কিছু বলেনি।একটা বার কেনো কোনো খোজ নেই নি।আরেকবার শুরু হলো অশান্তি মেঘের জীবনে।সুখ নামক জিনিস তার জীবনে নেই হয়তো।
মেঘ রৌদ্রকে বললো,ও কেনো এসেছে রৌদ্র।এতদিন পরে কেনো এসছে ও।কোথায় ছিলো এতদিন।
রৌদ্রর একটা অজানা কষ্ট হচ্ছে, ভয় হচ্ছে মেঘ কে হারানোর।একটা মৃত মানুষ ফিরে এসেছে এতে রৌদ্রের খুশি হওয়ার কথা কিন্তু না স্বার্থপরের মতো কষ্ট হচ্ছে রৌদ্রের।এবার কি তাহলে মেঘ আবার হারিয়ে যাবে তার জীবন থেকে।মেঘ কি ফিরে যাবে মাহিমের কাছে।মেঘ ছাড়া কিভাবে বাঁচবে রৌদ্র।
চলবে,,