লীলাবালি পর্ব-১+২+৩

0
1497

#লীলাবালি🌺
#সূচনা_পর্ব
আফনান লারা
.
বাংলা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল ঠিক নয়টা থেকে।অথচ স্যাররা এখনও আসেননি।ছাত্রছাত্রীরাও ধীরে সুস্থে এক একজন করে আসছে।একজন আরেকজনকে দেখে আনন্দে হট্টগোল লাগিয়ে দিচ্ছে।আগে থেকেই একে অপরকে চেনা তাদের।কারণটা হলো অনলাইনে তারা সবাই একই গ্রুপের সদস্য ছিল।তাই এখন শুধু হাসি মুখে কেমন আছিস বলা বাকি।তোমার নাম কি,বাসা কই এসব আর জিজ্ঞেস করার প্রসঙ্গ এখন আসেনা।সময় করে সকলে তাদের আসন গ্রহণ করলো।ছেলে পঞ্চাশ আর মেয়ে পঞ্চাশজন।অবশ্য আরও আছে।রিলিজ স্লিপের কাজ শেষ হলেই মোট সংখ্যার চার্ট হাতে আসবে।
এতদিন পর ক্লাসটা যেন হইহুল্লড়ে বিধে গেছে।ঠিক দশটার সময়ে তিনজন স্যার আর দুজন ম্যাম আসলেন ক্লাসে।হাসিমুখে এক এক করে তাদের পরিচয় বলে দিলেন।একজন স্যার জানালেন তিনি ট্রেনিং এ যাবেন।তার বদলে গেস্ট স্যার ক্লাস করাবেন আজ থেকে।সেসময়ে তার ফোনে একটা কল আসায় তাকে রুম ছেড়ে চলে যেতে হলো।তার পরপরই সানগ্লাস পরে স্টুডেন্টের মাঝ থেকে এক তরুণী স্যারের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,’শোনো সকলে!!আমি হলাম তোমাদের গেস্ট টিচার।আমার কথা মনযোগ দিয়ে শুনবে।আচ্ছা ওসব পরে বলছি..
আগে শোনো আমার বাসার মরিচের গুড়া শেষ,হলুদ ও শেষ।ওগুলো কিনতে হবে বুঝলে??বাজারের যে অবস্থা।নতুন বাজেট করলো কিনা!!’

সবাই হাসতে হাসতে শেষ।যে স্যার মাত্র চলে গেলেন উনি এমন করে কথা বলেন সবসময়।তাকেই কপি করছে মেয়েটা।অফলাইনে ক্লাস হবার আগে তাদের কিছুদিন অনলাইনে ক্লাস হয়েছিল।তাই স্যার ম্যামদের সাথে আগের থেকেই সবার পরিচয় আছে।
মেয়েটা কোমড়ে হাত দিয়ে বললো,’আবার শোনো!!আচ্ছা ওসব পরে হবে।আগে শোনো আমার সংসার আর বাচ্চাকাচ্চার কথা’

এবার কেউ হাসলো না।সবার চোখ দরজার দিকে।হাসির কথা তাও কেউ হাসলো না বলে আশ্চর্য হয়ে মেয়েটা কোমড়ে হাত রাখা অবস্থায় সেদিকে তাকালো।একটা ছেলেকে দেখে কোমড় থেকে হাত নিচে ঝুলে গেছে মেয়েটার।ঢোক গিলে এক দৌড়ে সে তার আগের জায়গায় ফিরে গেছে।
ছাই রঙের পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা এগিয়ে এসে স্যার যেখানে দাঁড়ায় সেখানে দাঁড়ালো।সবাইকে সালাম দিয়ে ইশারা করলো বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটো তরুণকে।তারা ধরাধরি করে এক বালতি গোলাপ নিয়ে হাজির হয়েছে।আরেকবার বেরিয়ে আরেক বালতি গোলাপ নিয়ে আসলো।
ছেলেটি হেসে দিয়ে বললো,’এই ফুলগুলো আপনাদের জন্য।
আজকে প্রথম ক্লাস তো তাই’

একটা মেয়ে আরেকটা মেয়ের কানে ফিসফিস করে বললো,’ দেখলি!কি হ্যান্ডসাম ছেলেটা তাই না রে?’

-“এটা স্যার?হতেই পারেনা।আমি বিশ্বাস করিনা’

-‘তোকে বিশ্বাস করতে কে বলেছে?এটা আমি মানি নিশ্চয় আমাদের গেস্ট স্যার হবেন।স্টুডেন্টের মতন তো লাগেনা।
আহা আমি তো এখনই ফিদা।দাঁড়া কয়েকটা ছবি তুলি’

করচ করচ করে দু চারকানা ছবি তুলে নিলো মেয়েটা।আর যে তরুণী এতক্ষণ মজা করছিল সে মুখের মাস্ক টেনে চোরের মতন বসে রইলো।মনে মনে দোয়া করছিল যেন এটা স্যার না হয়।স্যার হলে কাঁচা চিবিয়ে খাবে তাকে।আরেক স্যারকে নিয়ে বেয়াদবি করা অন্য স্যার তো ভালো চোখে দেখবেননা নিশ্চয়।
ছেলেটা ঐ ছেলেগুলোকে বলছে সবার হাতে হাতে গোলাপ দিয়ে আসতে।
একটা মেয়ে দুষ্টুমি করে বললো,’স্যার আপনি নিজের হাতে ফুল দিয়ে দিন না আমাদের’

মেয়েটির কথা শুনে ছেলেটি হাসলো।তার সাথের দুজনও হেসে ফেললো।হাসি থামিয়ে ছেলেটি এবার টেবিলে হাত রেখে বললো,’আমি স্যার নই।আপনাদের মতনই স্টুডেন্ট। তবে আমি ফাইনাল ইয়ারের।তার মানে আপনাদের সিনিয়র ভাইয়া।আমার এখানে আসার অন্য কারণ হলো আমি আপনাদের একটা সাবজেক্ট পরাবো আজ থেকে।যতদিন না এনামুল স্যার তার ট্রেনিং শেষ করে ফিরে আসেন।
আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন অথবা স্যার।যেটা খুশি।’

সেই দুষ্টু মেয়েটা বললো,’ভাইয়া বলার চেয়ে স্যার বলা হাজারগুণ ভালো।অন্তত কলিজায় লাগবেনা’

ছেলেটা ঠোঁট গুটিয়ে হাসি আটকালো কোনো রকমে।তার সাথের গুলো হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
হালকা করে কাশি দিয়ে ছেলেটা একটা গোলাপ হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে টেবিলে রেখে বললো,’তো আমার পরিচয়টা দিয়ে দিই।তারপর আপনাদের সবার পরিচয়টা নিয়ে নেবো।প্রথম দিন আবার কিসের পড়া!!
আমি হলাম অর্ণব হাসান।বাংলা বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।আমাদের পরীক্ষা তো আর এক মাস পরেই।শুধু এই মাসটা আমি আপনাদের পড়াতে পারবো।আমার বাসা আই মিন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা।আমি এখানে মেসে থাকি।পড়াশুনা ইন্টার থেকে ঢাকাতেই।এবার আপনারা একটা করে গোলাপ নিন আর পরিচয়টা দিয়ে দিন।আমাকে আমার নিজের ক্লাসেও যেতে হবে আজ।
তার আগে এই দুই ভাইয়ার সাথেও পরিচয় হয়ে নিবেন।তারা অবশ্য আমার ক্লাসমেট না।একজন সেকেন্ড ইয়ার,আরেকজন থার্ড ইয়ার।সম্পর্কে বড় ভাইয়া আমরা তিনজন।’

বাকি দুজন দাঁত কেলিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো।
অর্ণব যে ফুলটা টেবিলে রেখেছিল সেটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিলো সেই দুষ্টু মেয়েটা।

-‘আমি হলাম তপন কুমার।সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি।’

-‘আর আমি হলাম মৃদুল রহিম।আমি আর অর্ণব সেম ইয়ার।সে সবসময় আমাকে জুনিয়র প্রমাণ করতে চায়।তাকে ক্লাস শেষে ধরা দিবো।এখন আপনারা পরিচয় পর্ব শুরু করুন’

অর্ণব হাসতে হাসতে গোলাপের বালতিটা তুলে ধরলো

প্রথম বেঞ্চ শেষ করে দ্বিতীয় বেঞ্চে এসে কিছুক্ষন আগে স্যারকে কপি করা মেয়েটাকে দেখে হাতের বালতিটা নিচে রেখে হাত ভাঁজ করে দাঁড়ালো।মেয়েটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মাস্ক টেনে মুখটা আরও ঢাকার চেষ্টা করছে।

-‘মাস্ক খুলে বলুন।কানে কম শুনি তো।কিছু বুঝিনা’

মেয়েটা বিড়বিড় করে কিসব বলে মাস্ক সরালো।চুলগুলোকে কানের কাছে গুজে দিয়ে আস্তে করে বললো,’আমার নাম জুথিকা মৃন্ময়ী।আদর করে সবাই জুথী ডাকে।ইন্টারে পড়েছি চট্টগ্রামে’

-‘আমরা আদর করে জুথি ডাকবোনা।মৃন্ময়ী ডাকবো আপনাকে।স্যারকে নকল করা বেয়াদবি ছাড়া আর কিছুইনা। এনামুল স্যার যদি দেখতেন মনে কষ্ট পেতেন।জানেন আপনি?স্যারকে সম্মান দেয়না আমাদের আর কতটুকু দেবে হায়রে!!!’

জুথী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।অর্ণব ওর পাশের মেয়েটার সামনে গোলাপ রেখে বললো,’আপনাকে গোলাপ দিচ্ছিনা।এটা আপনার শাস্তি।

-‘(আমি মনে হয় কাঁদি)

অর্ণব অন্য বেঞ্চে যেতে যেতে বললো,’হ্যাঁ আপনি কাঁদেন না।আমিও আপনার কান্না দেখতে যাচ্ছিনা।আপনার গোলাপ আমি একজন পথশিশুকে দিব’

জুথী রাগে আর বসলোইনা। তাকিয়ে রইলো অর্ণবের দিকে।অর্ণবও আর তাকায়নি।

জুথী বসে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,’যেন আমি তার বাপরে নিয়ে এক্টিং করছিলাম।’
—–
-‘তো আপনারা এবার রুটিনটা লিখে নিন।সবাই খাতা কলম বের করুন।
প্রথম ক্লাস এনামুল স্যারের বদলে আমি নেবো,এরপরের ক্লাস রোজিনা ম্যাম আর নেক্সট ক্লাস সজীব স্যারের।
এমন করে বাকি দিনগুলো হবে।’

জুথী খাতায় লিখে রাখলো প্রথম ক্লাস কোনোদিন হবেনা।

——
-‘আজ ৩টা বছর হয়ে গেছে তোমার ছেলে বাড়ি ফেরেনা।এরকম রাগ করে থাকলে চলে?একবার বলোনা আসতে।তুমি বললে ঠিক আসবে’

-‘বাপ কেন ছেলের কাছে নিচু হবে??তোমার ছেলে পারেনা নিজ থেকে আসতে??বাড়ি সে নিজের ইচ্ছায় ছেড়েছে।আমি তাকে ছাড়তে বলিনি’

-‘ছাড়তে বাধ্য করেছিলে।আমি কিছু জানিনা।এবার ঈদে তুমি ওকে আসতে বলবে’

-‘সাবিনা তুমি ভেবে বলছো তো??আমি কিন্তু তোমার ছেলেকে আসতে বললে সে যদি আসে তবে সেই কথা আবারও উঠাবো যেটার কারণে সে তিনটা বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিল’

চলবে♥
#লীলাবালি🌺
#পর্ব_২
আফনান লারা
.
-‘আমার মেয়েটার বিয়েতে তো আর কোনো কিছু বাদ রাখোনি।ইচ্ছামত আনন্দ করেছিলে,তা ওরা যে বাড়ির মুরব্বীদের কত সুন্দর শাড়ী দিলো সেটা দেখতে আসছো না কেন?আমি সকাল থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম কখন বুবু আসবে।তুমি আসছোনা দেখে আমিই চলে এসেছি।তিনটা শাড়ী এনেছি সঙ্গে করে।তোমার যেটা ভালো লাগে রেখে দাও।সানিমের আম্মা দিছেন এগুলো আমাকে।আমি রিমির দাদিকে একটা দিছি।বাকিগুলো নিয়ে তোমার কাছে চলে এলাম’

অর্ণবের আম্মা ভাত বসাচ্ছিলেন।তার বোন রুবাইতার কথা এতক্ষণ শুনছিলেন তিনি।ভাত বসানোর কাজ সেরে হাত মুছতে মুছতে সোফায় বসলেন উনার সামনে।শাড়ীগুলোতে হাত বুলিয়ে আশ্চর্য হয়ে গালে হাত রেখে বললেন,’ওমা এসব তো দেখি আজকালকার যুগের মেয়েদের শাড়ী।পরলে তো শরীরেই থাকবেনা’

-‘বুবু কি যে কও!!সানিমের আম্মার পছন্দে কেনা।তুমি তো জানোই তিনি সব মর্ডান পছন্দ করেন’

-‘আচ্ছা আমি এই লালটা রাখি,আমার কুসুমের জন্য’

-‘তোমার কুসুম মানে?ওহহ মনে পড়েছে।ঐ কুসুম??এখনও মনে রেখেছো তার কথা?আমি তো ভুলেই গেছিলাম প্রায়’

-‘ভুলবো কিরে?মেয়েটা কি ভোলার মতন??তোর দুলাভাই সেই মেয়ের কথা আবার লাটে উঠাবে দেখিস’
——
পরিষ্কার নদীর পানি।ছোট ছোট ঢেউ বেয়ে চলেছে সেকেন্ডের সঙ্গে পালা দিয়ে।কিণারায় বসে হাত দিলে নিচ থেকে শ্যাওলা ছোঁয়া যায় সহজেই।নদীর দুপাশ খালি।বিশাল জায়গা জুড়ে খোলা মাঠ।সেই মাঠে গরু আছে, ছাগল আছে।তারা তাদের নিত্যদিনের কাজ করতে ব্যস্ত।ঘাস খাওয়া আর প্রকৃতিকে উপভোগ করা।তাদের আর কাজ কি?
মাঝে মাঝে নদীতে নেমে মালিকের সাহায্যে গোসল করা।
খোলা মাঠটার মধ্যিখানে একটা বটগাছ আছে।বয়স অনেক বেশি।এই ধরুন ১৪০বছর।দোলনা লাগানো একেবারেই কঠিন কাজ।ঢালগুলো অনেক উপরে।তাই কেউ চাইলেও এত সুন্দর একটা জায়গায় দোলনার ব্যবস্থা করতে পারেনা।
বাতাস অনেক আজ ভোর থেকে।আকাশে মেঘ জমেছে।হয়ত এখনই হালকা ঝড় শেষে বৃষ্টির পালা শুরু হবে।বট গাছটায় দোলনা লাগানোর চেষ্টা সবাই করেছে ঠিক কিন্তু তাদের দলের একজন আছে যে কিনা হাজারবার ব্যর্থ হবার পরেও দোলনা লাগাতে প্রতিদিন আসে।একদিন ঠিক সে দোলনা লাগাতে পারবে।আজও সে এসেছে তার সেই আত্নবিশ্বাস নিয়ে।হাতে মোটা দড়ি।গাছটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল বলে ঘাঁড় ব্যাথা হয়ে গেছে।দড়ি ফেলে ঘাঁড় ডলতে ডলতে গাছটার চারিদিকে একবার ঘুরে আসলো মেয়েটা।তারপর দড়িটা নিচ থেকে তুলে গাছে উঠতে চেষ্টা করলো।কিন্তু তার কপাল।সে তো গাছে উঠতে জানেনা।উঁচুতে গেলে তার শরীর খারাপ হয়।মাথা ঘোরে।দড়িটার শেষ প্রান্তে একটা পাথর গিট্টু দিয়ে লাগিয়ে ছুঁড়ে মারলো ঢালের দিকে।ঢালটা এত উঁচু যে দড়িটা সেখান পর্যন্ত পৌঁছালোই না।দশ পনেরো মিনিট ধরে চেষ্টা করেও না পেরে সে দড়ি নিয়ে আবার চললো বাড়ির দিকে।

-‘কুসুম বোন!দাঁড়াও আমার জন্য’

-‘হ্যাঁ??কলি এসেছিস?’

-‘পারলেনা তো!!আমি জানতাম তুমি পারবেনা।’

-‘ইস্কুলের ছুটি হয়েছে তোর?আজ এত তাত্তারি?’

-‘আজ বৃহস্পতিবার তো।ভুলে গেলে?’

কুসুম মাথা চুলকে দড়িটা কলির হাতে দিয়ে চলতে চলতে বললো,,’আমার ছোট মাথায় ওতো সব থাকে নাকি?আজ বিসকুট দেয়নি?’

-‘না দেয়নি।চলোনা আমি সহ চেষ্টা করি।দোলনাটা যদি একবার লাগাতে পারি তাহলে কেল্লা পথে’

-‘নাহ।আমি এতক্ষণ বহুত কষ্ট করেছি পারিনি।কাল আবার চেষ্টা করবো।তোকে তাই তো বলি গাছে ওঠা শেখ।তুই যেদিন গাছে ওটা শিখবি সেদিন দোলনাটা লাগাতে পারবো আমি।’

দুজনে পথ চলতে চলতে মেইন রোডে এসে থেমে উল্টো পথে দূরের দিকে যতদূর চোখ গেলো ততদূর পর্যন্ত তাকিয়ে থাকলো কুসুম।কলি ও তাকালো বোনের দেখাদেখি। তারপর কুসুমের হাত টানতে টানতে বললো,’দেখবে এই ঈদেই আসবে’

-“প্রত্যেক বছর বলিস,কিন্তু আসেনা তো।আচ্ছা একটা কথা বল তো কলি,সবসময় ঈদ আসলেই কেন বলিস যে উনি আসবেন?’

-‘আমি শুনেছি,চাচি বলছিল।তিনি নাকি শুধু ঈদের সময় বাড়ি ফেরেন।’

-‘অথচ কতগুলো ঈদ কেটে গেলো তাইনা?
আমার কিছু মনে থাকেনা।আচ্ছা তাঁর নাম কি ছিল যেন?’

-‘হইছে আর ফুটানি করতে হবেনা।সব ভুলতে পারো,কিন্তু তার নাম তুমি ভুলতে পারবেনা তা আমার জানা আছে।আম্মার কাছে বলবো তোমার এমন ফুটানির কথা’

কুসুম জিভে কামড় দিয়ে দৌড় দিলো।কলি পিছু পিছু যেতে যেতে বললো,’আল্লাহ যেন আমার বোনের মুখে এমন হাসি চিরকাল রাখেন।’

——
ক্লাস শেষ হবার পর জুথি যখন বান্ধুবীদের সাথে চলে যাচ্ছিলো সেসময়ে একটা ইন্টার পড়ুয়া ছেলে ছুটে এসে জুথির সামনে দাঁড়ালো পথ আটকে।ছেলেটা একটা গোলাপ এগিয়ে ধরতেই তার বাকি ক্লাসমেটরা হাততালি দেওয়া শুরু করে দিলো।ছেলেটা ওদের ধমকিয়ে বললো,’আরে আমি প্রোপোজ করতে আসিনি।অর্ণব ভাইয়া বলছে আপুটাকে দিতে’

এবার বাকিরা আরও জোরে হাততালি দেওয়া শুরু করে দিলো।ছেলেটা আবার ধমকিয়ে ওদের থামিয়ে বললো,’ফুলটা নাকি আপুকে দেয়নি রাগ করে।এখন দিতে বলেছে আর আপনাকে বলতে বলছে ভাইয়া আপনাকে ক্ষমা করে দিছেন’

জুথি ফুলটা ঐ ছেলের হাতে আবার ধরিয়ে দিয়ে বললো,’তোমার ভাইয়াকে বলিও আমি তার কাছে ক্ষমা চাইনি।তাহলে কিসের মাফ করলেন উনি?কাঁটা সহ গোলাপ উনার মুখে পুরে দিও যাও!!’

কথাটা বলে জুথি চলে গেলো বাসার দিকে।একটা মেয়ে এসে ফুলটা ছেলেটার হাত থেকে নিয়ে বললো,’ধন্যবাদ ভাইয়া এই নিয়ে আজকে আমি ফুল তিনটা পেলাম’

ছেলেটা মেয়েটার পিছন পিছন ছুটে গিয়ে ফুল কেড়ে নিয়ে বললো,’গোলাপের দাম জানেন?স্যারের কাছে নালিশ করবো একদম।কি আজব ডিপার্টমেন্ট!! কেউ গোলাপ একটার জায়গায় তিনটা নিচ্ছে,কেউ নিচ্ছেই না।কেউ দিচ্ছেনা,আবার দিচ্ছে তাও আমাকে বাহন বানিয়ে।উহ!! আমি পাগল হয়ে যাবো নির্ঘাত’

অর্ণব ক্লাসে এসে বসেছে।এবার তাদের ক্লাস।বইয়ের পাতা উল্টে একটা কবিতা পড়ছে বিড়বিড় করে।মৃদুল বাউল গীতি শুরু করেছে।স্যার এখনও আসেননি।হঠাৎ আদিল ছুটে এসে গোলাপটা অর্ণবের সামনে রেখে বললো,’ভাইয়া ঐ আপু তো গোলাপ নিলোনা’

অর্ণব বইটা বন্ধ করে মৃদুলের হাসি শুনে ওর মুখের দিকে তাকালো।
মৃদুল ফুলটা নিয়ে হাত দিয়ে মুছতে মুছতে বললো,’এই অর্ণবের হাতের ফুল নিতে মেয়েরা অপেক্ষা করে আর ঐ মেয়েটা কিনা ইগনর করলো?ভাবা যায়??’

অর্ণব ফুলটা নিয়ে বললো,’আগে ইগনর আমি করেছি,পরে সে ইগনর করলো।নেক্সট বার ইগনর করার সময় আমার আসবে।ফুলটা আমার কাছেই থাকুক।মরা হলেও এই ফুল আমি ঐ মৃন্ময়ীর ব্যাগে পৌঁছাবো।’

মৃদুল হাসতে হাসতে বললো,’কি যেন বলছিল?আদর করে জুথি ডাকতে।হাহাহা’

অর্ণব ফুলটাকে বইয়ের পাতায় রেখে বইটা বন্ধ করে বললো,’আমি আদর করে তাহাকে বরং ক্ষতি ডাকবো।’

চলবে♥

#লীলাবালি🌺
#পর্ব_৩
আফনান লারা
.
আজ প্রায় একটা বছর পর অর্ণবের বাবা মা কুসুমদের বাড়ি যাচ্ছেন।
অর্ণবের সাথে তাদের কোনো কথা হয়নি।হলে পরেরটা পরে দেখা যাবে।এখন যাচ্ছে কুসুমকে একবার সাথে করে তাদের বাড়ি নিয়ে আসতে।এরপর অর্ণবকে জোর করে হলেও বাড়ি এনে ছাড়বেন।অর্ণব আজ পর্যন্ত কুসুমের মুখ দেখেনি।দেখলে সে কিছুতেই না করতে পারবেনা,যেমন রুপ তেমন সে রুপের মায়া।এইসব ভেবে রেখে নিশ্চিত হয়ে তারা কুসুমদের বাড়িতে আসছেন।আজ আসার সময় তাকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন।
বাড়িতে যাবার আগে কুসুমের বাবাকে বলেই তারা রওনা হয়েছেন।অর্ণবদের বাড়ি থেকে কুসুমদের বাড়ি তেমন একটা দূরেনা।ঘন্টা দুয়েক লাগে।কিংবা তার ও কম।
.
কুসুম বাড়িতে আসার পরই দেখলো মা আর কলি হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।কারণটা সে একেবারে ভাবতেও পারেনি।
মা ওর মুখ টিপে ধরে পাউডার লাগিয়ে দিতে দিতে বললেন,’সারাদিন ইতরের মন ঘুরে বেড়াস।তোর মতন যুবতী মেয়েদের ঘরের কাজের বাহিরে যদি কোনো কাজ থাকে তো সেটা হলো সাজনগোজন।সেটা তো তোকে দিয়ে জীবনে করাইতে পারিনা’

-‘তা তো শুনতে শুনতে কান পেকে গেছে।তো এই ভরদুপুরে আমাকে ধরে সাজাইতাছো ক্যান?’

কলি ফিক করে হেসে চোখ মেরে বললো,’তোমার জামাই আসবে তাই’

কুসুম আশ্চর্য হয়ে নিজেই উঠে চলে গেলো ঘর থেকে।মা পিছু পিছু এসে বললেন,’আরে যাস না। সে আসবেনা।তোর চাচি আম্মা আর চাচা আসবেন’

কুসুম থেমে গেলো।ভীষণ মন খারাপ হলো তার।হাতে কয়েকটা ইটের ভাঙ্গা টুকরো নিয়ে চললো নদীর দিকে।সেখানে মাটিতে বসে একটা একটা করে ইটের কণা ছুঁড়ে মারতে মারতে বললো,’আমার সাথে তাঁর কিসের শত্রুতা?কেন আমায় তিনি একবার স্বচোক্ষে দেখতে চাননা?তাঁর নামের সাথে আমার নাম জুড়েছে এতবছর হলো।আমি কি দেখতে এতটাই বিশ্রী??
ওহ আচ্ছা।আমি মূর্খ বলে??সে কি জানেনা আমি ছোট থেকে ভারতে ছিলাম নানার বাড়ি।সেখানে এমন জায়গায় ছিলাম যেখানে পড়াশুনার বালাই ও ছিলনা।বাবা মা বাধ্য হয়ে আমাকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন সে কারণ টাও কি তিনি জানেন না?
জীবনে পড়াশুনাই সব??তাহলে মানা করে দিলেই তো পারেন।আজ কেন তাঁর বাবা মা আসছেন আমাদের বাড়িতে?
কেন আসেন আর আমাকে দামি উপহার দেন?এরপর বলে যান একদিন তিনি ঠিক আসবেন।আর কবে আসবেন??
আমি এতটাই তুচ্ছ?
যদি কখনও আমার সাথে তার দেখা হয় আমি তাকে বলে দিব, পছন্দ না করলে যেন বিয়ের পিঁড়িতে না বসে।’

—–
-‘কুসুম কি ভাবিস এতো?আয় আমার সঙ্গে।তোর চাচি আম্মা এসে গেছেন।তোর জন্য কত কি এনেছে দেখবি আয়’

আম্মা কুসুমের হাত ধরে জোর করে নিয়ে গেলেন বাড়ির দিকে।কুসুম মন খারাপ করে তার সাথে চললো।অর্ণবের আম্মাকে দেখে সালাম দিয়ে তার পাশে ঘেঁষে দাঁড়ালো সে।

-‘মেয়ের মুখে পাউডার লাগালেই হইবোনা পাপিয়া!কানের পেছনে কালো টিকাও লাগাইতে হবে।আমাদের কারোর নজর যেন না লাগে’

পাপিয়া এসে কুসুমের হাত ধরে বললো,’আপন মানুষের নজর লাগেনা গো আপা’

-‘এই শাড়ীটা আমি কুসুমের জন্য এনেছিলাম।অর্ণব এই ঈদে আসবেই।আর আমরা তো কুসুমকে সাথ করে……’

-‘আপা শোনেন একটা কথা বলি।অর্ণব সেই কোন বছর যে ঢাকা চলে গেছে।আর কি আসে নাই?আমার তো মনে হয় তার বিয়েতে কোনো মত নাই।মত থাকারও কথানা।আমার মেয়েটা ওর মত শিক্ষিত না।শিক্ষিত কি বলছি, ও তো পড়ালেখাই জানেনা।আপনার ওমন ছেলে কি আমার এমন মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়!!হওয়ার কথা?’

অর্ণবের বাবা নড়েচড়ে বসলেন।অর্ণবের মাকে কথা বলতে মানা করে তিনি বললেন,’অর্ণবকে আমরা যা বলবো তাই শুনবে।আর আমার ইচ্ছা হয়েছে আমি আমার ছোট ছেলের বউ করলে এই কুসুম মাকেই করবো।অর্ণব আমার কথা ফেলতেই পারবেনা।কুসুমের চেয়ে ভালো মেয়ে আমার অর্ণবের জন্য আমি পাবোনা।একমাত্র কুসুমই ওর মন জুগিয়ে চলতে পারবে।আর পড়াশুনা শিখতে কদিন লাগে??অর্ণব অল্প কদিনেই লেখাপড়া সব শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে পারবে।এটা নিয়ে ভাববার কিছু নেই’

কুসুমের মনটা আবারও খারাপ হয়ে গেলো।যতদূর বোঝা গেলো উনার মনে হয় বিয়েতে মত নেই।জোর করে বিয়ে দেওয়ার কথা হচ্ছে বলেই কি উনি বাড়ি ফিরছেন না?’

-‘তো আপা আমি আজ আসার আরেকটা কারণ আছে।এই ঈদে আমি অর্ণবকে বাড়িতে এনেই ছাড়বো।তো চাচ্ছি কুসুমকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে।অর্ণব একবার এসেই চোখের দেখা দেখুক।আপনি আমার কথা মাথায় নিয়ে রাখেন অর্ণব সেদিনই বিয়েতে রাজি হয়ে যাবে।’

কুসুমের মা বাবা দুজনেই সন্তুষ্ট হলেন উনাদের কথা শুনে।কিন্তু কুসুমের মন সাঁই দিলোনা কিছুতেই।
——–
পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব
সন্ধে হলে বসবো দু’জন।
একটা দুটো খসবে তারা
হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল গড়াবে,
কান্ত কবির গান গাইবে
তখন আমি চুপটি ক’রে দুচোখ ভ’রে থাকবো চেয়ে…
মনে থাকবে?
-আরণ্যক বসু

-‘হ্যাঁ রে অর্ণব?? ষোল বছর শুনে মনে পড়লো।তোর হবু বউয়ের কি খবর?তার তো এখন ষোল হলো মনে হয়।
তিন বছর আগে তেরো বলছিলি না?’

অর্ণবের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।ধপ করে বিছানায় বসে বললো,’ঐ মেয়েটার জন্য বাবা আমাকে ফোন দেয়না তিন বছর ধরে’

-‘তুই ও তো দেসনা’

-“আমি কেন দিব?আমি দেওয়া মানে ঐ মেয়েটার সাথে বিয়েতে হ্যাঁ বলে দেওয়া।যেটা আমি কখনওই করবোনা।’

-“ঠিক।পড়ালেখা না জানা একটা মেয়ের সাথে তোর বাবা কি হিসেব করে বিয়ে ঠিক করলেন আমার মাথায় ধরেনা।এটা অন্যায়।তোর মা কি এ ব্যাপারে তোর বাবাকে বোঝাননি?’

-‘মা কি বোঝাবে?মা নিজেই রাজি।জানিনা ঐ পরিবার বাবার কোন কালে কোন উপকার করেছিল যেটার ঋণ হিসেবে এখন আমার সাথে ঐ মেয়েটার বিয়ে দিতে চাচ্ছে।পড়ালেখা ম্যাটার করেনা আমার কাছে।ম্যাটার করে বয়স!!মেয়েটা আমার চেয়ে অনেক ছোট।হয়ত এখন ১৬হয়েছে কিন্তু তারপরেও সে যথেষ্ট ছোট।বাল্যবিবাহ ছাড়া আর কিছুনা।এত ছোট একটা মেয়েকে আমি বিয়ে করতে পারবোনা’

-‘হায়রে!মানুষ বিয়ের জন্য ছোট কচি মেয়ে খোঁজে আর তুই প্রাপ্ত্যবয়স্ক খুঁজিস??’

-‘আমি কিছু খুঁজিনা।মোট কথা এখন বিয়ে করতে চাইনা।ক্লাসের বাইরে পার্ট টাইম একটা জব করি।নিজের খরচ নিজে চালাই।এখনও সেভাবে ভালো একটা চাকরি পাইনি, কি করে আমি ঐ মেয়েটার দায়িত্ব নেবো?ভাব!!তিনবছর আগে আমার কোনো চাকরিই ছিলনা,মেয়েটা আরও পুচকে ছিল।বাবার চিন্তাধারা সব আহেলি যুগের।’

মৃদুল বইয়ের পাতায় মুখ গুজে বললো,’আমায় দিয়ে দে।আমার অনেক শখ পুচকে একটা মেয়ে বিয়ে করবো।না থাক!তোর ঐ পুচকে হবু বউ পড়াশুনা জানেনা।আমি নিজের পড়াশুনা শেষ করতে আধপাগল হয়ে গেছি।বিয়ের পর বউকে পড়াতে পারবোনা’

অর্ণব ফোনের দিকে তাকিয়ে বসে ছিল।বিকাল পাঁচটা বাজে তখন।ফোন হাত থেকে রাখতেই দেখলো বাবার নাম্বার থেকে কল।আজ তিনটা বছর পর বাবা কল করেছে।প্রথম কয়েক সেকেন্ড অর্ণব তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলনা।হাত কেঁপে উঠেছিল।পরে খুশি হয়ে রিসিভ করে সালাম দিলো বাবাকে।

-‘কেমন আছো অর্ণব?’

-‘আলহামদুলিল্লাহ্‌। আপনি কেমন আছেন বাবা?’

-‘ভাল থাকার কারণ রেখে গিয়েছো?’

-‘ভাইয়া টাকা পাঠায়না?’

-‘তোমার ভাইয়া তো আর আমার সুখের মূল না।আমার সুখের মূল দুই ভাগ হয়েছে।যার বেশিরভাগ আজ তিনটা বছর ধরে নিরুদ্দেশ ‘

অর্ণব এদিক ওদিক তাকিয়ে দম ফেললো।বাবা আবার বললেন,’ঈদে আসছো?’

-“আসতে পারি যদি….’

-“যদি??’

-‘ঐ আগের বিষয় যেন না ওঠে।আমি এসবে নাই আগেও বলেছি এখনও বলছি।’

বাবা লাইন কেটে দিছেন।অর্নব দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে চুপ করে থাকলো।এরপর নেট অন করে ফেসবুকে ঢুকতেই মেজাজ যা খারাপ ছিল তার দ্বিগুণ আকারে খারাপ হয়ে গেলো।সকালের সেই জুথি মেয়েটা কি করে ওর আইডি পেলো কে জানে।কোনো পোস্ট বাকি রাখে নাই সবগুলোতে হাহা রিয়েক্ট দিয়ে যমুনা নদী বানিয়ে দিয়েছে।
অর্ণব রাগে ক্ষোভে নিজেও গেলো হাহা দেবে বলে।ওমা আইডি লক করে রেখেছে তাই আর পারলোনা।সোজা মেসেজ দিয়ে বললো,’আপনার সমস্যা কি?’

জুথি এক্টিভ ছিল।মুচকি হেসে মেসেজটা সিন করে কিছুক্ষণ বসে থাকলো তারপর রিপ্লাই করলো,’আপনি কে?ঠিক চিনলাম না তো’

-‘আমি অর্ণব হাসান।আপনাদের সিনিয়র।চিনতে পারেননি বুঝি?’

-‘ওহ হো!!আমাদের গেস্ট টিচার।গোলাপ দেননি তারপর আবার দিতে চাইছিলেন সেই ভাইয়া।চিনছি এবার’

-‘হাহা দেওয়ার সময় চোখ আকাশে তুলে হাহা দিচ্ছিলেন?না চিনে হাহা দিছেন?’

-‘আসলে রিয়েলে আপনাকে যেমন লাগে আর ফেসবুকে কার মতন লাগে থাক বললাম না।আমি ভাবলাম আইডিটা আপনার হতেই পারেনা।বিশ্বাস করুন’

-‘হাহা রিয়েক্ট সরান।এত তর্ক করার মন মানসিকতা আমার অন্তত এই মূহুর্তে নেই।”

-“সরাবোনা।বরং আরও দেবো।কি করবেন?’

ফোন রেখে অর্ণব বসে বসে রাগে ফুঁসতেছে।ছোট থেকেই তার রাগ নাকের ডগায় থাকে।মাঝে মাঝে প্রকাশ করতে পারে আর মাঝে মাঝে একেবারেই পারেনা।এখনও হয়েছে তাই।
——
-‘কি বললো সে?’

-“কুসুম তো কাল আসবে তাই না?আমাদের সাথে তো আসেনি।বাপের সাথে কাল আসবে।কি যে উত্তর দেবো।তোমার ছেলে ওর কথা শুনতেই চায়না।কি করি একটু বুদ্ধি দাও আমায়’

-‘আচ্ছা আমি ফোন করে দেখবো।’
চলবে♥