স্ত্রীর অধিকার পর্ব-১১

0
2775

#স্ত্রীর_অধিকার
#লেখিকাঃফারহানা_ইসলাম
#পর্বঃ১১

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি অাটটা বেজে গেছে।আমি তাড়াতাড়ি করে নিচে চলে গেলাম।নিচে গিয়ে দেখলাম সবাই বসে আছে।আর পাড়ার কিছু মহিলা ও আছে।হঠাৎ আমার মনে হলো আজ তো অর্নবের গায় হলুদ।
,

,
আমি নিচে নামতে ই আমার শ্বাশুড়ি আমাকে বললো অনু আমি চাই অর্নবের বিয়ের সব দায়িত্ব আজ থেকে তুমি আর রিয়া দুজনে ই সামলাও।
আবার উনি রিয়াকে ও বললেন রিয়া আশা করি তোমার আর কোনো আপত্তি ই থাকবে না।

আমার শ্বাশুড়ির কথা শোনে তো আমি অবাক।উনি কী করে আজ আমার সাথে এত ভালো করে কথা বলছেন।যে মহিলা আমাকে সহ্য ই করতে পারতো না;;সে কী না আজ আমাকে ই নিজের ছেলের বিয়ের সব দায়িত্ব দিলেন।জানি না উনার মনের এত বড় পরিবর্তনের কারন কী!!হয়তো আল্লাহ সব সময় মানুষকে এক রকম রাখেন না।কখনো কখনো মানুষের দিলে রহমত দান করেন।যাতে সেই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে আর নিজেকে শুধরাতে পারে।এইটা হয়তো তার ই প্রমাণ।

আমি উনাকে বললাম আম্মা আপনি কোনো চিন্তা করবেন না।আমি আর রিয়া সবকিছু সামলে নিবো।
আমার কথা শোনে উনি বললেন আমি তোমাদের ওপর ভরসা করলাম।আশা করি তোমরা আমাকে হতাশ করবা না।

অর্নবের গায় হলুদের সকল দায়িত্ব আমি আর রিয়া নিজ হাতে সামলেছি।
,

,
এইদিকে সন্ধ্যার পর আমি যখন অভ্র র কাছে গেলাম।তখন দেখলাম অভ্র বিছানায় ওদিক করে শুয়ে আছে।অনেক বার ডাকাডাকি করলাম।কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছে না।আমার মনের ভেতর কেমন জানি করে উঠলো অভ্র র কী হয়েছে।
তারপর আস্তে আস্তে করে অভ্রকে ধরে জাগানোর চেষ্টা করলাম।তখন অভ্র উঠলো।আমি অভ্রকে বললাম,,,,,,,,,,,,,

তুমি তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে!!!(আমি)

কেনো অনু??আমি আবার কী করলাম??(অভ্র)

তোমাকে এত ডাকার পরও তুমি উঠছো না কেনো??(আমি)

ঘুমের জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।আর এতে এতো ভয় পাওয়ার কী আছে!!(অভ্র)

অভ্রের কথা শোনে আমার খুব রাগ হলো।আমি আর অভ্রকে কিছু ই বললাম না।মুখ গোমড়া করে বসে রইলাম।
আমাকে এইভাবে বসে থাকতে দেখে অভ্র জিজ্ঞেস করলো অনুতোমার কী হয়েছে??এইভাবে বসে আছো কেনো??
অভ্রের কথা শোনে আমি বললাম শোন আমার এইভাবে বসে থাকার কারন তোমাকে জানতে হবে না।আমি তেমার কেউ না!!
এই কথা শোনে অভ্র আমার হাতে হাত রেখে বললো অভিমান করেছো বুঝি!!
আমি তখন ভ্যাংচি কেটে বললাম সেটা আপনার না জানলে ও হবে!!আমি তো আপনার কেউ ই না।।
অভ্র একটু হেসে বললো আচ্ছা আমার ভুল হয়েছে।এই আমি কান ধরছি।তুমি দেখো!!

আমি অভ্রের দিকে তাকাচ্ছি না।আমি অন্য দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছি।
অভ্র আমাকে আবার বললো এই অনু কী হলো।এই দিকে তাকাও না।বলছি তো আমার ভুল হয়েছে।আর আমি কানও ধরেছি।প্লীজ লক্ষী বউ আমার।একবার আমার দিকে তাকাও।

অভ্র র কথা শোনে অভ্র র দিকে তাকাতে দেখি সত্যি ই অভ্র কান ধরে বসে আছে।এইটা দেখে আমি হা!হা! করে হাসতে শুরু করলাম।

আমাকে এইভাবে হাসতে দেখে অভ্র বললো এখন মজা লাগছে না।এই বলে কান ছেড়ে দিয়ে আমার হাত জোড়া শক্ত করে ধরে ফেললো।আর বললো আমার যদি আজ পায়ের ক্ষমতা থাকতো তাহলে দেখতে আমি কী করতাম।

অভ্র র কথা শোনে আমার খুব খারাপ লাগলো।কিন্তু ওকে বললাম প্লীজ তুমি এই রকম করো না।আমি তো তোমার পাশে আছি।
শোন কয়েকদিনের মধ্যে আমেরিকা থেকে ডাক্তার নীলিমা চৌধুরী যুথি আসছে।আমি ভাবছি উনাকে দিয়ে ই তোমার চিকিৎসা করবো।

আমার কথা শোনে অভ্র বললো কী নাম বললে তুমি??

আমি বললাম নীলিমা চৌধুরী যুথি।কেনো কী হয়েছে??

তখন অভ্র বললো নামটা কেমন জানি চেনা চেনা লাগছে।কিন্তু নিশ্চত ভাবে বলতে পারছি না।ইশঃ মনে ই পড়ছে না।

তখন আমি বললাম যেহেতু মনে পড়ছে না।তাহলে আর জোর করে মনে করো না।দেখবে এমনিতে ই মনে পড়ে যাবে।
অভ্র বললো আচ্ছা ঠিক আছে।

তখন আমি অভ্রকে বললাম অভ্র আমি এখন যাচ্ছি।আমার অনেক কাজ আছে।
অভ্র বললো কী কাজ??

তখন আমি অভ্রকে বললাম জানো অভ্র আজ আম্মা আমাকে আর রিয়াকে অর্নবের বিয়ের সব দায়িত্ব দিয়েছেন।

আমার কথা শোনে অভ্র হেসে বললো কী বলছো ছোটো মা দিয়েছেন তোমাকে সব দায়িত্ব।ভাবতে ই অবাক লাগছে।।

তখন আমি বললাম অবাক লাগলে ও এটাই সত্যি।আচ্ছা এখন যাই।পরে দেখা হবে।আল্লাহ হাফেজ।
,

,

অভ্রের সাথে কথা বলে আমি রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।তখন রিয়া আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকলো।আমি কিছু না বুঝে ই ওর দিকে গেলাম।তখন আমাকে রিয়া,,,,,,,,,,

চলবে